প্রবন্ধ
লেখক
শ্রেণীবিভাগ
প্রবন্ধ
ইসলামী হুকুমত কায়েম করার পদ্ধতি
হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব
Printer
ডাউনলোড
file

(জুমু‘আর বয়ান: ২১শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৫: শেষ অংশ)

বর্তমানের মেহনত

মুসলমান মাত্রই জানে যে ইসলামই একমাত্র শান্তির ধর্ম। ইসলামের মাধ্যমেই পরিবারে, দেশে, প্ৃথিবীতে শান্তি কায়েম হবে। কিন্তু এটাতো শুধু জানা মাত্র। ঈমানী দূর্বলতা, একীনি কমজোরী তার এই জানাকে আমলে আসতে দেয় না। গণতন্ত্রের চর্চা খুব বেশী হয়। আর গণতান্ত্রীক নিয়মে দেশের শাসক নির্বাচন করার কারণে বরাররই জালেম আর অত্যাচারী শাসকই দেশে নির্বাচিত হয়। কেউ কম আর কেউ বেশী জুলুম করে। পার্থক্য শুধু একুটুকুই। আর প্রতিবারই এক জালেম শাসকের পতনের পর দেশের সকলে আশা করে যে এবার নিশ্চয়ই দেশে ইসলাম কায়েম হবে বা ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হবে। কিন্তু এই বিষয় আমাদের জানা জরুরী যে আমরা যে পদ্ধতিতে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে চাচ্ছি, এটা কি সঠিক পদ্ধতি? এইভাবে মেহনত করে কী ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করা সম্ভব? কুরআন হাদীসে কী, এভাবে গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে বলা হয়েছে? মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে, মিটিং মিছিল, সভা-সমিতি করে আর মাইকের মাধ্যমে চিৎকার দিয়ে কথা বলে কিছু মানুষকে উত্তেজিত করে আর কিছু মানুষের বিরক্তির কারণ হয়ে ইসলাম কায়েম করার কথা কী আল্লাহ বলেছেন, আমাদের নবী শিখিয়ে গেছেন?

বিলকূল না। এসবই গণতন্ত্রের শিক্ষা। এগুলো তৈরী করেছে ব্রিটিশ-ইংরেজরা। আব্রাহাম লিংকন নামীয় কাফেররা। যাদের মধ্যে দীনী ইলমের লেষমাত্র নাই। তবে যা আছে তা হলো, দীন ধ্বংসের শয়তানী জ্ঞান।

ইসলামী হুকুমতের মূলতন্ত্র

আমাদের অনেকের ধারনা চোরের হাত কেটে ফেলা, ডাকাতকে কতল করা, অবিবাহিত জিনাকারীকে বেত/পাথর মারা ইত্যাদি ক্রিমিনাল লো বা ফৌজদারী আইনকে ইসলামী রাষ্ট্র বলে। কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের মূলমন্ত্র হলো: ন্যায় বিচার।

اِنَّ اللهَ یَاْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْاِحْسَانِ وَ اِیْتَآیِٔ ذِی الْقُرْبٰی وَیَنْهٰی عَنِ الْفَحْشَآءِ وَالْمُنْکَرِ وَ الْبَغْیِ ۚ یَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَکَّرُوْنَ ﴿۹۰﴾

অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফ, দয়া এবং আত্মীয়-স্বজনকে (তাদের হক) প্রদানের হুকুম দেন আর অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও জুলুম করতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।

আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে আদেশ করছেন, তোমরা ন্যায় বিচার করো। ন্যায় বিচারের প্রথম ময়দান হলো, নিজের ক্বলব। নিজের উপর ন্যায় বিচার করতে হবে। তরীকা হলো, আল্লাহর আদেশ মানতে হবে। আল্লাহ যা করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকতে হবে। পিতা মাতার উপর ন্যায় বিচার করতে হবে। পিতা-মাতার হক আদায় করতে হবে। জীবিত অবস্থায় ৭টি, মারা গেলে ৭টি হক রয়েছে, তা আদায় করতে হবে। স্ত্রীর সাথে ন্যায় বিচার করতে হবে। স্ত্রীর হক আদায় করতে হবে। স্ত্রীকে দীন শিখাতে হবে। তাকে দিয়ে দীনের খেদমত নিতে হবে। সন্তানের উপর ন্যায় বিচার করতে হবে। সন্তানকে সুসন্তান বানাতে হবে। মানুষ বানাতে হবে। দীনদার বানাতে হবে। এভাবে সন্তানের হক আদায় করে সন্তানের উপর ন্যায় বিচার করতে হবে। বোনের উপর ন্যায় বিচার করতে হবে। পিতা-মাতার ইন্তেকালের পর পিতা-মাতা থেকে সম্পত্তির যতটুকু অংশ তাদের পাওনা রয়েছে তা বুঝিয়ে দেয়া। এভাবে কাফের মুশরিক, জীব-জন্তু সব কিছুর উপর ন্যায় বিচার করা।

ঈসা আ.-এর সময় ইসলামী হুকুমত

ঈসা আ. যখন দুনিয়াতে আসবেন তখন তাঁর মাধ্যমে ন্যায় বিচার দিয়ে দুনিয়াকে প্রতিষ্টিত করবেন।

قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم : والله لينزلن ابن مريم حكما عادلا ، فليكسرن الصليب ، وليقتلن الخنزير ، وليضعن الجزية ، وليتركن القلاص ، فلا يسعى عليها ، ولتذهبن الشحناء والتباغض والتحاسد ، وليدعون إلى المال فلا يقبله أحد

আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন, “আল্লাহর কসম, মরিয়মের পুত্র ন্যায়বিচারক হিসেবে অবতরণ করবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিজিয়া বাতিল করবেন, উটগুলিকে একা ছেড়ে দেবেন যাতে কেউ তাদের পিছনে না ছুটে, এবং ঘৃণা, হিংসা এবং বিদ্বেষ চলে যায়। তিনি অর্থের জন্য ডাকবেন কিন্তু কেউ তা গ্রহণ করবে না। (মিশকাতুল মাসাবীহ ৫৫০৬: কিতাবুল ফিতান)

কোন একটি প্রানীও জুলুমের শিকার হবেন না। কেউ কাউকে ক্ষতি করবে না। শিশুরা সাপ নিয়ে খেলবে। কিন্তু সাপ শিশুকে ক্ষতি করবে না। এর নাম ন্যায় বিচার। আর এর নাম হলো ইসলামী হুকুমত।

ইসলামী হুকুমত কায়েমের তরীকা

ইসলামী হুকুমত কায়েম করতে হলে মুসলমানকে ঈমান আমলের লাইনে খুব মেহনত করতে হবে। যদিও বর্তমানে তাবলীগ ও দাওয়াতুল হকের মাধ্যমে সামান্য কিছু হচ্ছে। । এখন যে বা যারা এই মেহনত করছেন শুধু তারাই এই কাজ করবে, এমন না। ঈমান আমলের মেহনত সব মুসলমানকে করতে হবে। এ কাজ যখন ব্যপক হয়ে যাবে তখন ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমরা তা করছি না। আমাদের মধ্যে অধিকাংশই তাদের সন্তানদের কুরআন-হাদীসের ইলম শিক্ষা দেয়ার জন্য মাদরাসায় ভর্তি করাচ্ছে না। পিতা বা পিতা-মাতার কেউ মারা যাওয়ার পর সাথে সাথে তাদের বোনদেরকে সম্পত্তির অংশ বন্টন করে দিচ্ছে না। স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করছে না। নিজেদেরকে গুনাহ থেকে বাঁচার কোন চেষ্টা বা ফিকির করছে না। উদাহরণ সরূপ আমাদের দীনী দূর্বলতা কিছু বলা হলো। আরো অনেক রয়েছে। ঈমান-আমলের মেহনত না করার কারণে শরী‘আত তথা ইসলামের কিছুই পালন করা হচ্ছে না।

এখন চিন্তা করলে বুঝে আসবে, আল্লাহ যে ইনসাফ প্রতিষ্টা করার জন্য মেহনত করতে বলেছেন, তা কী আমরা করছি? তাহলে কিভাবে আমরা ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা করতে পারবো? এজন্য আল্লাহ কখনো আমাদেরকে দেশের দায়িত্ব দিবেন না। ইসলামী লেবাস নিয়ে, ইসলামের ব্যানারে যারা দেশে ইসলামী হুকুমতের নামে মিটিং মিছিল করছি আল্লাহ কখনো তাদেরকে দেশের ক্ষমতা দিবেন না। আল্লাহ না করুন কখনো যদি দিয়ে ফেলেন তাহলে যতটুকু ইসলাম বাকী রয়েছে ঐ অংশটুকুও শেষ হয়ে যাবে।

ইসলামী নেতার গুণ

ইসলামে কোন ইলেকশন নাই। সিলেকশন আছে। কাকে সিলেকশন করতে হবে তার ব্যপারে কিতাবে বলা আছে যে, তার কমপক্ষে ১০টি গুণ থাকতে হবে। যেমন, পাক্কা দীনদার হওয়া (কোন মহিলা হতে পারবে না), পরিচালনার যোগ্যতা থাকতে হবে। সত্যবাদী হতে হবে। কোন ধরণের দূর্নীতির সাথে জরিত নেই এমন হতে হবে, ইত্যাদি।

কাফেররা ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়ার জন্য গণতন্ত্র বানিয়েছে। আর আমাদের দেশের সাধারণ জনগণ থেকে নিয়ে ইসলামের নামে রাজনৈতিক নেতারাও গণতন্ত্র দিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার মেহনত করছে, যা কষ্মিনকালেও সম্ভব না। তাদের ভাষ্য হলো, এটা ইসলামী গণতন্ত্র। অথচ আশ্চর্য হলো এটা সম্পূর্ণ তাদের নিজের বানানো একটি শব্দ। ইসলামী মদ, ইসলামী পতিতালয় ইত্যাদি যেমন হয় না, ঠিক তেমনি ইসলামী গণতন্ত্রও হয় না। গণতন্ত্র হলো ইসলামী নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত একটি নীতি। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতিয়তাবাদ, পুঁজিবাদ ইত্যাদি সবগুলোই ইসলামী হুকুমত কায়েমের ক্ষেত্রে এক একটি প্রাচীর বা বড় বাধা। এইগুলো কাফেররা বানিয়েছে, যেন ইসলাম আল্লাহর জমীনে কায়েম না হতে পারে।

আল্লাহর দেয়া তরীকা

আল্লাহ ঈমান-আমলের মেহনত করার জন্য বলেছেন। সবার ঈমান পাকা করার জন্য আর আমল সুন্দর করার জন্য বলেছেন।

وَعَدَ اللهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مِنْكُمْ وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَیَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِی الْاَرْضِ کَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ۪ وَ لَیُمَکِّنَنَّ لَهُمْ دِیْنَهُمُ الَّذِی ارْتَضٰی لَهُمْ وَ لَیُبَدِّلَنَّهُمْ مِّنْۢ بَعْدِ خَوْفِهِمْ اَمْنًا ؕ یَعْبُدُوْنَنِیْ لَا یُشْرِكُوْنَ بِیْ شَیْئًا ؕ وَ مَنْ کَفَرَ بَعْدَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ ﴿۵۵﴾

অর্থ: তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে নিজ খলীফা বানাবেন, যেমন খলীফা বানিয়েছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তাদের জন্য তিনি সেই দীনকে অবশ্যই প্রতিষ্ঠা দান করবেন, যে দীনকে তাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তারা যে ভয়-ভীতির মধ্যে আছে, তার পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে। আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। এরপরও যারা অকৃতজ্ঞতা করবে, তারাই অবাধ্য সাব্যস্ত হবে। সূরা নূর ৫৫।

আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদেরকে মেহনতের তরীকা বলে দিয়েছেন। ঈমান বানানো, আমল সুন্দর করা, মহিলাদের জন্য পর্দার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। এইভাবে মেহনত করলে আল্লাহ তা‘আলা ওয়াদা করেছেন তিনি আমাদেরকে জমীনের মধ্যে খেলাফত দান করবেন। এবং এভাবে মেহনত করার কারণে আমাদের আমল নামায় আল্লাহ অনেক নেকী লিখে দিবেন। আল্লাহ যদি আমাদের খেলাফত নাও দেন তবু নেকী পাওয়া যাবে এটা নিশ্চিত। আল্লাহ নেকী দিবেন।

আমরা জানি, সকল নবী আ.-কে আল্লাহ তা‘আলা রাজত্ব দেন নি। সোয়া লক্ষ নবীর মধ্যে মাত্র ১০ জনের মতো রাজত্ব পেয়েছিলেন। প্রশ্ন হলো, বাবী নবীরা কী দীন কায়েম করেন নি? তাঁরা কী আল্লাহর দেয়া হুকুম পুরো করেন নি। সুতরাং এই কথা ভালোভাবে বুঝতে হবে, ইসলামী হুকুমত কায়েমের জন্য আল্লাহ যে তরীকার কথা উল্লেখ করেছেন, যদি ঐভাবে না করা হয় তাহলে কোনদিন ইসলামী হুকুমত আসবে না। ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হবে না। বরং ভুল তরীকায় মেহনত করার কারণে আল্লাহ তাদের শাস্তি দিবেন। তাদের গুনাহ হবে। আর অপর দিকে আল্লাহর বলে দেয়া নিয়ম অনুযায়ী মেহনত করলে, আল্লাহ প্রতিনিয়ত আমাদের আমল নামায় নেকী লিখতে থাকবেন। আমাদেরকে সাওয়াব দিতে থাকবেন। আবার আল্লাহ চাহেন তো ইসলামী হুকুমত দিতে পারেন। নেকী হলো আমাদের মেহনতের বদলা আর ইসলামী হুকুমত হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের পুরষ্কার। আমরা যদি আল্লাহর চাওয়া মতো ঈমান আমলের মেহনত করতে পারি তখন আল্লাহ আমাদেরকে সাওয়াবতো দিবেনই সাথে সাথে পুরষ্কার স্বরূপ ইসলামী হুকুমতও দিবেন। আল্লাহ ইসলামী হুকুমত দিলেও সাওয়াব, না দিলেও সাওয়াব। যদি আল্লাহ ইসলামী হুকুমত পুরষ্কার স্বরূপ দেন তখন ইসলাম কায়েমের জন্য তা কাজে লাগাতে হবে। হুকুমত ছাড়া সব কাজ করা সম্ভব হয় না। যেমন, ক্রিমিনাল লো বা ফৌজদারী আইন জারি করতে হলে হুকুমত দরকার হয়।

প্রচলিত ইসলামী নেতাদের প্রতি আবেদন

ভুল তরীকায় মেহনত করলে সাওয়াবও পাওয়া যাবে না এবং ইসলামী হুকুমতও পাবে না। তাই, যারা ইসলামের নামে ইসলামী হুকুমত কায়েমের জন্য মেহনত করছেন তাদের নিকট বিনীত অনুরোধ আপনারা ঈমান-আমল পাকা ও সুন্দর করার মেহনত করুন। যেন প্রতিটি মানুষের ঈমান-আমল সহী ও সুন্দর হয়ে যায়। এই মেহনত করুন, যেন ইনসাফ করতে শিখে। কেননা ইসলামী হুকুমত দেয়া আল্লাহর দায়িত্ব। এটা আমাদের দায়িত্ব না। আমাদের দায়িত্ব ঈমান-আমলের মেহনত করা।

যেমন, কোন পিতা তার ছেলেকে বললো, যদি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করো তাহলে একটি নতুন সাইকেল দিবো। এখন ছেলে যদি লেখাপড়া বাদ দিয়ে সাইকেলের দোকানে দোকানে ঘুরে তাহলে কী সাইকেল পাবে? কখনো না। ছেলের দায়িত্ব ছিল লেখা-পড়া করা। লেখা-পড়া করে সময় কাজে লাগিয়ে ভালো ফলাফল করলে পিতা নিজেই দোকান থেকে সাইকেল এনে দিতো।

যোগ্য হলে আল্লাহ ইসলামী হুকুমত দিবেন

ঠিক তেমনি আমরা যখন ঈমান-আমলের মেহনত করে যোগ্য হবো আল্লাহ তখন আমাদেরকে ইসলামী হুকুমত দিবেন। ঈমান-আমলের মেহনত করতে থাকলে আল্লাহ একদিকে নেকী দিতে থাকবেন আবার আমাদের মধ্যে যোগ্যতাও আসতে থাকবে। যখন ইসলামী হুকুমত পাওয়ার যোগ্য হয়ে যাবো তখন আল্লাহ আমাদেরকে ইসলামী হুকুমত দিবেন। আর যতদিন যোগ্য না হবো ততদিন নেকী পেতে থাকবো।

যেমন: চা-পাতা তার ফুয়ূয ও বারাকাত পানিকে দিতে চায়। কিন্তু শর্ত হলো, পানির মধ্যে একটা যোগ্যতা থাকতে হবে। সেই যোগ্যতাটি হলো, পানিকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ গরম হতে হবে। যদি পানি ঐ পরিমাণ গরম হতে পারে তাহলে চা-পাতা তার ফুয়ূয ও বারাকাত পানিকে দেয়। ঠিক তেমনি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে ইসলামী খেলাফত দিবেন বলেছেন। কিন্তু এর জন্য আল্লাহ তা‘আলা ঈমান-আমলের মেহনত করে যোগ্য হতে বলেছেন। আমরা যখন আল্লাহর নজরে যোগ্য হবো তখন আল্লাহ আমাদেরকে ইসলামী খেলাফত দান করবেন। কিন্তু যোগ্য না হলে ইসলামী হুকুমত না পেলেও ঈমান-আমলের মেহনতের কারণে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে সাওয়াব দান করবেন। আমরা বঞ্চিত হবো না।

আল্লাহ পাক আমাদেরকে বুঝে আমল করার তৌফিক দান করেন, আমীন।