18

সংকলকের কথা

আল্লাহ পাক তাঁর দীনের প্রচার-প্রসার ও খেদমতের জন্য প্রতি যুগে এমন কিছু মানুষকে নির্বাচন করেন, যাদের ফয়েয ও বরকতে কেবলমাত্র সে যুগের মানুষই উপকৃত হয় তা নয়, বরং পরবর্তী যুগের লোকেরাও তাদের মাধ্যমে উপকৃত হয়, তাদের ইলমের আলোতে আলোকিত হয়।

ইসলামের অতীত ইতিহাস এ ধরনের বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের আলোচনায় পূর্ণ। আমাদের নিকট অতীতে এ উপমহাদেশে হযরত হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদুল মিল্লাত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. ও তার খুলাফায়ে কেরাম এ কাফেলারই অগ্রপথিক ছিলেন।  এ সকল ব্যক্তি বর্গের মধ্যে সর্বশেষ যিনি বিদায় নিয়েছেন তিনি হলেন, মুহিউস সুন্নাহ্ হযরত মাওলানা শাহ্ আবরারুল হক সাহেব রহ.। তিনি কেবলমাত্র উলামায়ে কেরামের জন্যই দীনী মুরুব্বী ছিলেন এমন নয় বরং তিনি উলামা, তলাবা, বিশেষ ও সাধারণ সকল শ্রেণীর মুসলমানের জন্যই বিরাট নিয়ামত ছিলেন।

হযরত মুহিউস সুন্নাহ্ রহ. দীনের বিভিন্ন শাখায় যে সংস্কারমূলক অপূর্ব খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন তা কারো অজানা নয়। তাঁর দীনী সংস্কারের প্রভাবেই আজ এ উপমহাদেশের মসজিদ-মাদরাসা মাহফিল-মহল্লায় সুন্নতের চর্চা হচ্ছে। সকল ওয়ায়েজ ও খতিবের আলোচনায় সুন্নাহ প্রসঙ্গে আবশ্যিক অনুষঙ্গ হয়েছে।

আমাদের বর্তমান গ্রন্থ “মুহিউস সুন্নাহ রহ. এর দীনী সংস্কার আ‘মালুস সুন্নাহ”। হযরত রহ.-এর সংস্কারমূলক দীনী খেদমতের আলোকে রচিত সমাজের প্রয়োজনীয় প্রায় অর্ধশতাধিক বিষয়ে শর‘ই দিক নির্দেশনা। এটাই হযরতের সংস্কারমূলক দীনী কর্মকাণ্ডের সামগ্রিক চিত্র নয়, বরং অতি সামান্য ও আংশিক চিত্র মাত্র। কেননা হযরতের দীনী সংস্কারমূলক কর্মের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। আরেকটি বিষয়ও অনস্বীকার্য বাস্তবতা। আর তা হলো হযরত রহ. ইলম-আমল, তাক্বওয়া-পরহেযগারী, দীনী বুঝ ও অনুভূতি সকল দিক দিয়েই অনেক ঊর্ধ্বের মানুষ ছিলেন। তাই অধম একথা নি:সঙ্কোচে বলছি যে, হযরত রহ.-এর তা‘লীমের আলোকে যদিও এ সকল পারচা সংকলিত হয়েছে, হতে পারে সকল ক্ষেত্রে হযরত রহ. এর উদ্দেশ্য অনুধাবনে আমি সামর্থ্য হইনি। অতএব এর উত্তম ও সঠিক বিষয়গুলো হযরতের দিকেই সম্পৃক্ত হবে। আর আল্লাহ্ না করুন কোন ধরনের ত্রুটি হয়ে থাকলে সেটা আমার ভুল মনে করে আমাকে অবগত করলে ইনশা-আল্লাহ তা শুধরে নিবো এবং কৃতজ্ঞ থাকবো।

এ পুস্তকখানা প্রকাশের উদ্যোগ ঐ হিতাকাঙ্খী ব্যক্তিবর্গের অনুরোধে নেয়া হয়েছে যাদের হাতে আমাদের এ সকল পারচা পৌঁছার পর তারা এর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন এবং গ্রন্থাকারে প্রকাশ করলে উপকারিতা ব্যাপক হবে বলে মনে করেছেন। প্রকাশের উদ্যোগ অনেক আগে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যেক জিনিসের জন্য আল্লাহ পাক সময় নির্ধারণ করে রেখেছেন। সে সময়ের অগ্র-পশ্চাত হওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। যাই হোক আমার অন্যান্য গ্রন্থের ন্যায় এ গ্রন্থের প্রকাশক আমার স্নেহাষ্পদ শাগরিদ মাওলানা মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান খান (আল্লাহ পাক তাকে ও তার প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল আশরাফকে আকাবিরের ফয়েয ও বরকত পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার তাওফীক দান করুন।) ইদানিং অতিব্যস্ত জীবন কাটাচ্ছে। (যদিও তার সকল ব্যস্ততা দীনী কাজের জন্যই।) কিতাবখানা প্রকাশনা ছাড়াও সংশোধন ও অঙ্গসজ্জার কাজ তার উপরই ন্যস্ত ছিলো। যার দরুন একটু বেশী সময়ই আগ্রহী পাঠকের ধৈর্য্য ধরতে হয়েছে। এজন্য আমরা দুঃখিত।

কিতাব সংকলনের বিভিন্ন পর্যায়ে আমার কয়েকজন শাগরিদ ও সহকর্মী আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন, আল্লাহপাক তাঁদের সবাইকে জাযায়ে খায়র দান করুন।

মানুষের কর্মে ভুল থাকাটাই স্বাভাবিক। অনেকগুলো প্রুফ দেখা ও বার বার সংশোধন করার পরও হয়তো কিছু ভুল-ত্রুটি থেকে গেছে। সুধী পাঠক সে সকল ক্ষেত্র চিহ্নিত করে দিলে আমরা পরবর্তীতে তা সংশোধন করে নিবো। ইনশা-আল্লাহ।

এ কিতাব যেন আমাদের সকলকে দীনের সঠিক মাসআলা জানা ও মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নতের আমল করার ব্যাপারে রাহনুমায়ী করতে পারে এ মর্মে সকলের নিকট দু‘আর আবেদন করছি।

আল্লাহপাক আমাদের এ সামান্য খেদমতটুকু কবুল করে আমাদের জন্য নাজাতের উছীলা বানান। আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন।

বিনীত

মুফতী মনসূরুল হক

প্রধান মুফতী, জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া