18

ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে আশরাফুল মাখলুকাত করে সৃজন করেছেন। যিনি আমাদেরকে উম্মতে মুহাম্মাদী তথা শ্রেষ্ঠ উম্মত হওয়ার সৌভাগ্য দান করেছেন। অসংখ্য দরূদ ও সালাম সেই নাবীয়ে রহমত সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর যার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা একদিকে যেমন নবুওয়াতের ধারাকে চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে, অপরদিকে উম্মতে মুহাম্মাদীকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছিয়েছেন। কিয়ামত তক আর কেহ উম্মতে মুহাম্মাদীর চেয়ে উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারবে না । কেননা  আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন-

وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ‌ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَ‌ةِ مِنَ الْخَاسِرِ‌ينَ ﴿٨٥﴾

‘যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম বেছে নিবে সে কস্মিনকালেও সফলকাম হতে পারবে না এবং সে হবে চরম ক্ষতি গ্রন্থদের অন্তর্ভুক্ত’। (সূরা আল ইমরান, আয়াত-৮৫)

পথতো দু’টিই- সত্য ও অসত্য। তৃতীয় কোন পথতো নেই। কাজেই প্রতিটি মানুষ প্রকৃত অর্থে সফলকাম হতে হলে তাকে সর্বশেষ সত্য ধর্ম ইসলামে দীক্ষিত হতেই হবে।

* ইসলাম যে একমাত্র আল্লাহর মনোনীত ধর্ম এবং ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী সেটা শুধু মহাগ্রন্থ কুরআনে কারীমই বলেনি; বরং পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মগ্রন্থেই এর বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়। সহজে বলা যায়, ইসলামপূর্ব যত নবী-রাসূল পৃথিবীর বুকে আগমন করেছেন তাদের প্রত্যেকেই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শ্রেষ্ঠত্বকে একবাক্যে স্বীকার করেছেন এবং নিজ নিজ উম্মতদের বলেছেন- যদি তোমারা প্রকৃত অর্থে আমার অনুসারী হয়ে থাক তবে শেষ নবী ﷺ যখন আগমন করবেন তখন তোমরা তার আনুগত্যে নিজেদেরকে একাকার করে দেবে। বুঝা গেল ইসলাম ছাড়া বাকী সকল ধর্মাবলম্বীরা যদি সত্যিকারার্থে তাদেরই নবী ও কিতাবের অনুসরণ করতে চায় তাহলে মুসলমান হওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।

* কিন্তু আমরা যারা মুসলমান আছি এ ব্যাপারে আমাদের দায়িত্ব কি? অমুসলিম ভাইদের প্রতি ইসলাম ধর্মের দাওয়াত পৌঁছানো কি আমাদের উপর জরুরী? কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানব-দানবের হেদায়েতের জন্য কি বিশ্বনবী দুনিয়াতে প্রেরিত হন নি? ইসলামের দাওয়াত ও পরিচয় না পেয়ে ঈমান হারা হয়ে যারা মারা যাচ্ছে তারা কি মুসলমানদেরকে দায়ী করবে না?

এ ব্যাপারে অবশ্যই আল্লাহর দরবারে আমাদের জবাবদিহী করতে হবে।

আমাদের দায়িত্ব হলো- নিজেদের ঈমানকে মুকাম্মাল করার প্রচেষ্টার পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলামরে সভ্যতা-আদর্শ ও সত্যতার উপর অনুপ্রাণিত করে ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা। তবে নিশ্চয় সেটার মূল পুঁজি হবে আখলাকিয়্যাত। সেই সাথে মুসলমানদের এটা অবশ্যই প্রমাণিত করতে হবে যে, ‘ইসলাম যিন্দা হোয়া হ্যায় আখলাক ছে, না তলওয়ার ছে।’

অধুনা সাধারণ শিক্ষিতদের অনেকে বাংলা কুরআন পড়ে বিজ্ঞের মত বলে থাকেন আল্লাহ কি বলেন নি-

   لَكُمْ دِيْنُكُمْ وَلِيَ دِيْن

অর্থ: ‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের কাছে আমাদের ধর্ম আমাদের কাছে।’ তবে অন্য ধর্মাবলম্বীদের আমাদের ধর্মের প্রতি দাওয়াত দেওয়ার কি প্রয়োজন?

জবাবে আমরা এ কথা বলব না যে আপনি ভুল বলেছেন, বলব আপনি এর মর্মার্থ বুঝতে সক্ষম হননি, কেননা এর মর্মার্থ হল- কাউকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা যাবে না।

আর যদি মেনেও নেয়া হয় তবে সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন জাগে, আল্লাহতো এটাও বলেছেন যে,

بَلِّغْ مَا اُنْزِلَ اِلَيْكَ مِنْ رَّبَّك

অর্থ: “ তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে যা তোমার কাছে পৌঁছানো হয়েছে তুমি তা মানুষের কাছে পৌঁছে দাও।” তাহলে এ কথার কি অর্থ? কাজেই আমাদের আরও শিখতে হবে, জানতে হবে আরও অনেক কিছু। আর এর জন্য দীনী কিতাবাদী পড়ার কোন বিকল্প নেই।

* আমাদের স্মরণ রাখতে হবে যে, আজ অমুসলিমদের ইসলাম কবূল করার পথে প্রধান অন্তরায় মুসলমানরা। কেননা কিতাবের ইসলামের সাথে তাদের চরিত্রের কোন মিল নাই। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হচ্ছে-

لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَ‌سُولِ اللَّـهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْ‌جُو اللَّـهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ‌ وَذَكَرَ‌ اللَّـهَ كَثِيرً‌ا ﴿٢١﴾

অর্থ: ‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ। (সূরা আহযাব-২১)

হযরত সাহাবায়ে কিরাম রাযি., সেই আদর্শে আদর্শবান হয়েছিলেন বলেই সারা বিশ্বের আনাচে-কানাচে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। চীন, আফ্রিকা সহ বিশ্বের অনেক জায়গায় তাদের কবর পাওয়া যায়। আজ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ থেকে অনেক দূরে ছিটকে পড়েছি। নবীর অনুপম আদর্শকে আমরাই জবাই করে দাফন করছি, এবং তদস্থলে অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট লোকদের চাল-চলনকে আধুনিকতার নামে অন্ধ ভাবে গ্রহণ করছি এবং তাতেই ইযযত, শান্তি ও সফলতা খুঁজছি। আমাদের হীনমন্যতা আজ চরম সীমায় পৌঁছেছে। আমাদেরকে সারা বিশ্বের মানবমন্ডলীর কল্যাণার্থে সৃষ্টি করা হয়েছিল,

كُنتُمْ خَيْرَ‌ أُمَّةٍ أُخْرِ‌جَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُ‌ونَ بِالْمَعْرُ‌وفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ‌ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّـهِ ۗ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرً‌ا لَّهُم ۚ مِّنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُ‌هُمُ الْفَاسِقُونَ ١١٠)

(সূরা আলে ইমরান-১১০)

অথচ সে কথাও আজ আমরা ভুলে গেছি। আর এ সব কিছুর কারণ, আমরা কুরআন ও হাদীসের ইল্‌ম থেকে উদাসীন। তাই আমাদের কর্তব্য, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শে আদর্শবান হওয়া। আর তখনই আমাদের দেখে অসংখ্য অমুসলিম ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে উভয় জগতে ধন্য হবে।

মনসূরুল হক

২২-১২-২০০৬ ইং