তাকমিলুস সুন্নাহ
হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. উলামায়ে কেরাম ও মুসলমান জনসাধারণের আখলাক ও মু‘আমালাতের সংশোধন এবং তা’লীম-তারবিয়ত ও আত্মশুদ্ধির ময়দানে যে মুজাদ্দিদানা (সংস্কারমূলক) খেদমত উম্মতের সামনে পেশ করে গিয়েছিলেন, তার সুযোগ্য খোলাফাদের মাধ্যমে বিশেষত আমার পীর ও মুরশিদ শাহ সাইয়্যেদ আবরারুল হক হারদুঈ রহ.-এর মাধ্যমে সে বরকতের ধারা নিরবিচ্ছিন্নভাবে জারি ছিলো। হযরত ছিলেন আপন পীর ও মুরশিদের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। মুফতীয়ে আযম মুফতী শফী সাহেব রহ. হযরতের বয়ান শুনে মন্তব্য করেছিলেন,
آج کانوں میں ان باتوں کی آواز آرہی ہےجو ہم تھانہ بھون میں سنا کرتے تھے!
অর্থাৎ ‘আজ তো আমাদের কর্ণকুহরে সে আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, যা আমরা ‘থানাভবনে’ (হযরত থানভী রহ.-এর মজলিসে) শ্রবণ করতাম।’ (মাজালিসে আবরার; ভূমিকা)
আল্লাহ তা‘আলা হযরতকে ‘ইসলাহ’ তথা উম্মতের দীনী সংশোধনের এমন মহান দৌলতে ভূষিত করেছিলেন যে, এ ময়দানে তার দিলের দরদ ও মুহাব্বাত এবং লিল্লাহিয়্যাতের দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! ‘নাহী আনিল মুনকার’ (অসৎ ও ভুল কাজে বাঁধাপ্রদান) -এর ‘শরঈ দায়িত্ব’ আদায়ের স্থির সংকল্প ও সুদৃঢ় পদক্ষেপে সকল বাধা হযরতের সামনে ছিলো তুচ্ছ! এর পাশাপাশি প্রিয় নবীজী ﷺ -এর প্রিয় সুন্নাতের অনুসরণে হযরতের হৃদয়ের জযবা ও অন্তরের আবেগ তাঁকে ‘মুহিউস সুন্নাহ’ (সুন্নাহ’র পুনর্জীবনদানকারী) উপাধিতে ভূষিত করেছিলো!
হযরতের সে ফূয়ূয ও বারাক‘আতের ধারা অব্যাহত রাখতে হযরতের নিসবাতে ‘সুন্নাহ’ শিরোনামে কয়েকটি গ্রন্থ রচনার সৌভাগ্য মহান আল্লাহ তা‘আলা আমাকে দান করেছেন। যথা, ‘আমালুস সুন্নাহ’, ‘ইশা‘আতুস সুন্নাহ’, ‘ইকমালুস সুন্নাহ’। বক্ষমান গ্রন্থ ‘তাকমীলুস সুন্নাহ’ সে ধারাবাহিক গ্রন্থসমূহের একটি ‘মূল্যবান দানা’ মাত্র!
এ গ্রন্থ প্রণয়নে, অঙ্গসজ্জায় ও প্রকাশে আমার অনেক শাগরিদ ও সুহৃদ আমার সহযোগিতা করেছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের সবাইকে ‘তাফাক্কুহ ফিদ দীন’, ‘হাসানায়ে দুনিয়া ও আখেরাহ’ এবং হিদায়াতের উপর ইস্তেকামাতের দৌলত নসীব করুন এবং এ গ্রন্থটিকে ভরপুর কবুল করে হযরতের ফূয়ূয ও বারাক‘আত দ্বারা আমাদেরকে উপকৃত করুন!
سیکڑوں کو تو کریگا جنتی-ایک یہ نا اہل بھی ان میں سہی- (مجذوب)
ربنا تقبل منا إنك أنت السميع العليم و تب علينا إنك أنت التواب الرحيم