সন্তানের শ্রেষ্ট উপহার
ছেলে-মেয়ে, সন্তান-সন্ততি নিয়ে অনেক মা-বাবাই আজ পেরেশান। কেউ পেরেশান এজন্য যে, অজস্র টাকা-পয়সা খরচ করে সন্তানকে শিক্ষিত করে পিতা-মাতা তার কাছে আজ অবজ্ঞার শিকার। আবার অনেকে এজন্য পেরেশান যে, সন্তান বিপথে চলে যাচ্ছে, চরিত্রহীন আর বখাটে হয়ে যাচ্ছে, বংশের মুখে কালিমা লেপন করছে। অবশ্য এমন দীনদার মা-বাবাও আছেন যারা চান তাদের সন্তান নামাযী হোক, দীনদার হোক, দীনের পথে চলুক, জান্নাতের আমল করুক। কিন্তু ছেলে-মেয়েরা মা-বাপের এ আকাঙ্খা পূরণ না করে বরং প্রগতির উল্টো স্রোতে গা-ভাসিয়ে দিয়ে জাহান্নামের পথে অগ্রসর হচ্ছে। এজন্য তারা সন্তানের ব্যাপারে পেরেশান।
কিন্তু ছেলে-মেয়েরা কেন পিতা-মাতাকে অবজ্ঞা করছে, কেন তারা বিপথে কুপথে চলছে, পিতা-মাতার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কেন সন্তানরা নামাযী হচ্ছে না, দীনদার হচ্ছে না, তা তলিয়ে দেখা দরকার। অবশ্য আমাদের সমাজ আজ ভিন্ন চিত্রও দৃষ্টিগোচর হয়, তা হল সন্তান অবাধ্য হওয়ার কারণে, বিপথগামী হওয়ার কারণে, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন যতটুকু মনঃক্ষুন্ন হন, সন্তান ধর্ম বিমুখ হয়ে গেলে, আল্লাহ ও তার রাসূলের শিক্ষা থেকে দুরে সরে গেলে বা নাস্তিক-মুরতাদদের পথে চললে কিন্তু পিতা-মাতা ততটুকু নাখোশ হন না। এমন কি অনেক পিতা-মাতা জানেনই না যে, সন্তানের জন্য তার কি করণীয় রয়েছে।
তাই সন্তানদেরকে সুপথে আনতে হলে, তাদেরকে আদর্শ সন্তানরূপে গড়তে হলে, পিতা-মাতার কি করণীয় ও যিম্মাদারী তা জানা অত্যাবশ্যক। এ সকল যিম্মাদারী ঠিকমত আদায় করলেই সন্তানরা কাঙ্খিত সুসন্তানরূপে পিতা-মাতার মুখ উজ্জ্বল করবে। আর এ সন্তানই দুনিয়া ও আখিরাতে পিতা-মাতার শান্তি ও সুখের মাধ্যম হবে। সন্তানের উসীলায় কিয়ামতের দিন পিতা-মাতা নাজাত পাবে। বস্তুতঃ সন্তান-সন্ততি পিতা-মাতার জন্য যবরদস্ত নিয়ামত, যা তাঁর দুনিয়া, কবর ও আখিরাতের সকল ঘাটিতে কাজে আসবে- যদি নাকি তারা সন্তানকে সুশিক্ষা তথা দীনী শিক্ষা ও কুরআনী তালীম দিয়ে থাকেন। নতুবা এসব সন্তানরাই প্রতিটি ঘাঁটিতে তাদের জন্য বিপদ ও আযাবের কারন হয়ে দাঁড়াবে। কারণ সন্তানরা পিতা-মাতার হাতে আমানত। তারা আল্লাহ তা’আলার এ আমানতের যথাযথ কদর না করলে পরকালে নিঃসন্দেহে জবাবদিহীর সম্মুখীন হবে। তাই প্রত্যেক পিতা-মাতারই এ ব্যাপারে যত্নবান হওয়া একান্ত কর্তব্য।
দীনের ইলম না থাকার কারণে অসংখ্য পিতা-মাতা নিজেদের এবং সন্তানদের কল্যাণ কামনায় ভুল পথে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু এর দ্বারা প্রকৃত কল্যাণ কেউ হাসিল করতে পারছে না, বরং সমস্যা দিন দিন আরো ঘোরতর হচ্ছে। অতএব, মূল সমস্যা কি তা জেনে সঠিক পথে সন্তানদের পরিচালনা করতে হবে। সময় ও সুযোগ থাকতেই এ নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা অতি আবশ্যক।
এদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা সন্তানের কল্যাণ কামনার প্রকৃত স্বরূপ কি হবে, কোন পথে তাদেরকে পরিচালিত করলে তারা আমাদের উভয় জাহানের সফলতার প্রতীক হবে, পিতা-মাতার উপরে সন্তানের হক কি, এসব বিষয়গুলো বিশদভাবে অত্র পুস্তকে আলোচনা করতে সচেষ্ট হয়েছি। আশা করি- এ পুস্তক সকল পিতা-মাতার জন্য সন্তানদের মানুষ করার ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দিবে। আল্লাহ পাক আমাদের এ মেহনতকে কবুল করুন এবং সকল পিতা-মাতাকে কল্যাণের সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন ।(আমীন)
শাইখুল হাদীস মুফতী মনসূরুল হক
জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া
মুহাম্মদপুর, ঢাকা