মালফুযাতে মুজাদ্দিদে দীন
باسمه تعالى
হামদ্ ও মাজদ্ আল্লাহ তা‘আলার জন্য, সালাত ও সালাম আখেরী নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য। মুজাদ্দিদে দ্বীন মুহিউসসুন্নাহ হযরত শাহ্ সায়্যিদ হাফিয ক্বারী শাইখুল হাদীস মাওলানা মুফতী আবরারুল হক রহ. (মৃত ১৭ মে, ২০০৫ ইং) এর ব্যক্তিত্ব দ্বীনদার ও উলামায়ে কিরামের মহলে অতি প্রসিদ্ধ, নতুন করে পরিচয় দেয়ার প্রয়োজন নেই।
১৯৮১ ইং তিনি হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহ. এর দাওয়াতে সর্ব প্রথম বাংলাদেশে তাশরীফ আনেন। অতঃপর ২০০৪ ইং পর্যন্ত বাংলাদেশে তাঁর আগমন অব্যাহত ছিল। এ ওসীলায় হাজার উলামা-তোলাবা তাঁর সুহবতে গিয়ে ধন্য হয়েছেন। আত্মশুদ্ধি ও ইত্তিবায়ে সুন্নাতের মাধ্যমে তারা জান্নাতের রাস্তায় বহুদূর অগ্রসর হয়েছেন এবং অসংখ্য মসজিদ মাদরাসা তাঁর তা‘লীম ও তরবিয়্যাতের বদৌলতে সুন্নাতে নববীর মারকাজে পরিণত হয়েছে। যেখান থেকে সমগ্র বাংলাদেশে সুন্নাতের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার হচ্ছে। এ দেশের অনেক বড় বড় আলেম তাঁর সান্নিধ্যে তাঁর সংস্কারমূলক কাজ শিক্ষা লাভ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় শিরক্-বিদ‘আত উৎখাত করে সুন্নাতে নবী প্রতিষ্ঠা করেছেন।
সেই মহান বুযুর্গের বাস্তব অবস্থার পরিমাপ এবং তা যথাযথ ভাবে উম্মতের সামনে তুলে ধরা আমার মত নগণ্য খাদিমের জন্য কঠিন বিষয়। কারণ তাঁর ব্যক্তিত্বকে অনেক বুযুর্গ হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ.- এর সাথে তুলনা করেছেন। কুতুবুল আলম শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা যাকারিয়া রহ. নিজ শাগরিদ সম্পর্কে তাঁর ছাত্রজীবনে মন্তব্য করেছেন যে, তিনি গুনাহের কল্পনাও করেন না। দাওয়াত ও তাবলীগের আমীর হযরত মাওলানা ইন‘আমুল হাসান রহ. যাকে মুসলিহুল উলামা বলে সম্বোধন করতেন। তাঁর ব্যাপারে আমার মত অধমের প্রশংসাবাণী উচ্চারণের সুযোগ কোথায়? তাছাড়া এত উচ্চস্তরের ব্যক্তিত্বের কথা বুঝার মত যোগ্যতা আমার মত অনেকের নেই। তবে আল্লাহ তা‘আলার মেহেরবানী যে, তাঁর প্রতি অগাধ ভালবাসা অন্তরে আছে এবং ভারতের হারদুঈ জেলা শহরে তাঁর খানকায় অনেকবার হাজির হওয়ার তাওফীক হয়েছে। এ দেশেও হযরতওয়ালা যতবার তাশরীফ এনেছেন তাঁর সুহবতে বসার সৌভাগ্য লাভ হয়েছে। এ সব কারণে তাঁর মূল্যবান কথাগুলি মুসলিম মিল্লাতের কাছে পৌঁছে দেয়ার এক অদম্য আগ্রহ অন্তরে বিরাজমান, যাতে বান্দা নিজে এবং সর্বস্তরের মুসলমান উপকৃত হতে পারেন। সে লক্ষ্যে হযরতওয়ালার সুহবতে সরাসরি যে সব কথা শুনার তাওফীক হয়েছে তার থেকে কিছু কথা সংক্ষেপ করার লক্ষ্যে পৃথকভাবে নোট করেছিলাম এবং মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে সব কিতাব-পত্র প্রকাশ করা হয়েছে সেখান থেকেও কিছু কথা নির্বাচন করে তার সাথে যোগ করে “মালফূযাতে মুজাদ্দিদে দ্বীন” নামে প্রকাশ করার ইচ্ছা করেছি। আল্লাহ তা‘আলা পূর্ণতা দেয়ার মালিক।
কোথাও কোন ভুল-ভ্রান্তি দৃষ্টিগোচর হলে জানিয়ে বাধিত করার অনুরোধ রইল। আল্লাহ তা‘আলা কিতাবটি কবুল করে মুসলমান ভাইদের উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করেন এবং এ বান্দাকে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইখলাসের সাথে ইহইয়ায়ে সুন্নাতের কাজের সাথে জুড়ে থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন।
মনসূরুল হক
২০ রজব-১৪২৭ হিজরী