হাদীসে রাসূল ﷺ
باسمه تعالى
আজ দেশের ধর্মীয় পরিস্থিতি খুবই অস্বস্তিকর, অস্থিতিশীল। ধর্মের লেবাস-ধারী ভণ্ডদের ব্যবসা আজ বড়ই রমরমা । বাতিল আর মিথ্যার তর্জন গর্জনে হক আর সত্য যেন আজ ভীত-সন্ত্রস্ত। বিষের বোতলে মধুর লেবেল লাগানোর প্রতিযোগিতা আজ সর্বত্র। সর্বসাধারণের ধর্মীয় দৈন্যতার সুযোগে তাদের দ্বীন ঈমান ধ্বংসের ষড়যন্ত্র আজ পাকা পোক্তা। ওদের দৌরাত্নে মাযহাবের অনুসারী তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের নিশানা আজ ঢাকা পড়ে যাওয়ার উপক্রম। দ্বীনের ছোট খাট মুবাহ, মুস্তাহাব সংক্রান্ত সংঘর্ষ পূর্ণ কিছু মাসাইলকে সম্বল করে ওদের পরিকল্পনা আজ বাস্তবায়নের পথে। আহলে হাদীস, সালাফী, মোহাম্মাদী ইত্যাদি মনোমুগ্ধকর লকব লাগিয়ে সাধারণ মুসলমানকে বিভ্রান্ত করণের আন্দোলন আজ তুঙ্গে। দেশের জনসংখ্যার এক বিরাট অংশ আজ ওদের বিভ্রান্তির শিকার। ইলমের ধারক বাহক উলামায়ে কিরামের বিষোদগার ও তাঁদের কুৎসা রটনা আজ ওদের রীতিমত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
অপর দিকে একটি গোষ্ঠী মুসলিম মিল্লাতের হিদায়াতের জন্য রেখে যাওয়া প্রিয় নবীজী ﷺ এর হাদীস ভাণ্ডারকে অস্বীকার করে চলছে। তাদের মতে আমলের জন্য কুরআনই যথেষ্ট, হাদীস মানার কোন প্রয়োজন নেই। অথচ হাদীস না মানা যে কুরআন না মানারই নামান্তর তা তাদের বোধগম্য নয়। সূরায়ে নিসার ৫০ নং আয়াতে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন “যে লোক রাসূলের হুকুম মান্য করল সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল আমি আপনাকে হে নবী! তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি”।
সূরা “আলে ইমরানের” ৩১ ও ৩২ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (হে নবী!) আপনি বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাসো তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, তবে আল্লাহও তোমাদিগকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের মাফ করে দিবেন। আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী, দয়ালু। (আপনি আরো) বলে দিন: তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর...........’’।
অনুরূপভাবে, সূরা আল হাশরের ৭নং আয়াতে বলেন: “রাসূল তোমাদেরকে যা করতে বলেন তা কর, এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক। এবং আল্লাহকে ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’’
কুরআনের এ সকল আয়াত এ কথার জ্বলন্ত প্রমাণ যে, কুরআনের সাথে সাথে হাদীসও মানা জরুরী। আর হাদীস অস্বীকার করা কুরআন অস্বীকার করার শামিল যা ঈমান বিধ্বংসী বিশ্বাস।
ওদিকে ইয়াহুদ খৃষ্টানদের ষড়যন্ত্রের স্বীকার সাধারণ মুসলমান ছিটকে পড়েছে সিরাতে মুস্তাকীম থেকে। চতুর্দিকে গুনাহের ছড়াছড়ি, পশ্চিমা সভ্যতার স্রোতে ভেসে চলছে মুসলমান। ওদের সরবরাহকৃত গুনাহের আসবাব আজ মুসলমানদের ঘরে ঘরে। পরকালের ভয়-ভীতি যেন ক্রমশঃই শূন্য হয়ে যাচ্ছে মুসলমানদের হৃদয় থেকে।
মুষ্টিমেয় সুন্নাতের আশেক ও সুন্নাত যিন্দাকারীরা আজ দিশেহারা। কোনটা সুন্নাত কোনটা বিদ‘আত তা নির্ণয় করতে তারা আজ দ্বিধাগ্রস্ত। আমলের জন্য প্রস্তুত হলেও ঐসব লকব ধারীদের প্রশ্ন বানে তারা হন জর্জরিত। বুখারী শরীফে আছে? মুসলিম শরীফে আছে? ইত্যাকার প্রশ্নবাণে তারা হন হতাশাগ্রস্ত। অথচ এ দুই কিতাবই সহীহ হাদীসের একমাত্র দলীল নয়, এর বাইরেও অনেক সহীহ হাদীস রয়ে গেছে। কাজেই, সর্বক্ষেত্রে বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ থেকে দলীল চাওয়ার দ্বারা অন্যান্য কিতাবের সহীহ হাদীসগুলো অস্বীকার করা হয়। যার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ, যার পরিণতি কুরআন অস্বীকার করার দরুন ঈমান ধ্বংস করা।
এমতাবস্থায় সকল মুমিনের আন্তরিক প্রত্যাশা ছিল এমন একটি গ্রন্থের যা কিনা হবে মুসলমানদের চাহিদার খোরাক, যা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিবে ঐসব মাযহাব বিদ্বেষীদের ষড়যন্ত্র। মজবুত করবে মুসলমানদের ঈমান-আক্বীদা। রক্ষা করবে তাদেরকে ঐ সব ভণ্ডদের খপ্পর থেকে। প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসাবে গাইড করবে সুন্নাত প্রেমীদেরকে। সরাসরি হাদীস থেকে ভীতি প্রদর্শন করবে গুনাহে অভ্যস্ত মুসলমানদেরকে।
আর মুসলমানদের এ চাহিদা পূরণে দীর্ঘদিন যাবৎ সরাসরি হাদীস ভিত্তিক প্রামাণ্য একটি গ্রন্থ প্রস্তুতের ইচ্ছা লালন করে আসছিলাম অন্তরে। সেমতে আজ থেকে প্রায় দু‘বছর আগে শুরুও করেছিলাম কাজটি। অবশেষে তা তৈরী হয়ে এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। গ্রন্থটি প্রকাশের এ শুভ মূহুর্তে স্মরণ করছি স্নেহাষ্পদ মাওলানা আব্দুল জলীল ও মাওলানা জহীরুল ইসলামকে তারা উভয়ে আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে। দু‘আ করছি, আল্লাহ তা‘আলা তাদের ইলম ও আমলে বরকত দান করুন।
পরিশেষে বলব, গ্রন্থটি নির্ভুল করার কোন প্রচেষ্টাতেই আমাদের কমতি ছিলনা। সবকিছু সত্বেও ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই, এর কোথাও কোন ত্রুটি দৃষ্টি গোচর হলে অবশ্যই তা অবহিত করার অনুরোধ রইল। ইনশা-আল্লাহ পরবর্তী সংস্করণে সংশোধনের প্রতিশ্রুতি থাকল।
সবশেষে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে বিনীত আরজী পেশ করছি, তিনি এই কিতাবটিকে যেন সর্বস্তরের মুসলমানদের জন্য উপকারী করেন এবং এটিকে কবুলিয়্যাতের মর্যাদায় ভূষিত করেন। আমীন।