18

লেখকের কথা

আমাদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার সীমাহীন ইহসান ও অনুগ্রহ যে, তিনি আমাদেরকে ঈমানদার বানিয়েছেন। আমাদের জন্য দান করেছেন ইসলাম নামক একটি ধর্ম ও জীবন বিধান। আকীদা-বিশ্বাস থেকে নিয়ে খালেস ইবাদতসমূহের পাশাপাশি ব্যক্তিগত, ঘরোয়া, সমাজিক, রাষ্ট্রীয় সব ক্ষেত্রে এ বিধান মেনে চলাই মুমিনের কর্তব্য। মুসলমানের সব রকম কামিয়াবী এ ইসলামী যিন্দেগী যাপন করার মাঝেই। যুগে যুগে যেসব মুসলমান কামিয়াবির উচ্চ শিখরে আরোহন করেছেন তারা এ পদ্ধতিতে জীবন যাপন করেই তা করেছেন। কিন্তু বর্তমানে ইবলিসের প্ররোচনায় দুনিয়ার জীবনকে মুখ্য মনে করার কারণে বহু মুসলমান ভাই ইসলামী যিন্দেগী থেকে দুরে সরে গেছেন, কেউ কেউ এ যিন্দেগীর যেটুকু সহজ মনে হয় সেটুকু মেনেই মুসলমানের দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন বলে ভুলের মধ্যে পড়ে আছেন।

এভাবে তারা দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ই বরবাদ করছেন। অন্যদিকে অজ্ঞতা ও কমজ্ঞানের কারনে পূর্ণ দীনের উপর চলতে আগ্রহী বহু মুসলমানও নানা ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত্মির শিকার হচ্ছেন। এভাবে ঘরে বাইরে মুসলমানদের জীবনে একটি বড় রকম অবক্ষয় ও পেরেশানী শুরু হয়েছে। এ থেকে উত্তরণের পথ হচ্ছে সহীহ ইসলামী যিন্দেগীকে আপন করে নেওয়া। এ জন্য ইসলামী যিন্দেগী বা বিধানের দৈনন্দিন পালনযোগ্য বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা অতি জরুরী হয়েছে। ‘কুরআনও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী যিন্দেগী’ গ্রন্থটি সে লক্ষ্যেই সংকলিত।

আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তা‘আলার লাখো কোটি শোকর যে, এ গ্রন্থটি প্রকাশের সব আয়োজন প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। মানসম্পন্ন দীনীগ্রন্থের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘মাকতাবাতুল আশারাফ’-এর স্বত্বাধিকারী স্নেহাস্পদ মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান খান গ্রন্থটি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে এবং সেই এ কাজ সম্পন্ন করেছে। আমার তাফসীরুল কুরআনের বেশ কিছু মজলিসের আলোচনা যার অধিকাংশ মাসিক রাহমানী পয়গামে প্রকাশিত হয়েছিলো। এখন আমার কিছু দোস্ত-আহবাবের অনুরোধে কপি করে তারতীব দেওয়া হলে এ গ্রন্থের পান্ডুলিপি অবয়বে আসে। এরপর কম্পোজ প্রুফ ও নযরে সানী করা হয়। ঈমানিয়্যাত-ইবাদাত এবং মু‘আমালাত-মু‘আশারাত আখলাক তথা ইসলামী যিন্দেগীর সবকটি শাখায় একজন মুসলমানের করণীয় সম্পর্কে এ গ্রন্থে আলোচনা করা হয়েছে। এতে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সহজবোদ্ধ ভাষায় ইসলামী যিন্দেগীর একটি নমুনা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

গ্রন্থটি প্রকাশের পূর্বে আমার তত্ত্বাবধানে তরুন আলেম ও মুফতী, জামি‘আ রাহমানিয়ার সম্মানিত শিক্ষকদ্বয় স্নেহাস্পদ মুফতী মাওলানা সাঈদ আহমাদ ও মুফতী মাওলানা হাসান সিদ্দীকুর রহমান এবং সবেশেষ তরুন আলেম ও লেখক মাওলানা শরীফ মুহাম্মাদ এ গ্রন্থের প্রূফ দেখার কাজ করেছে। আমার জানা মতে প্রকাশক মাওলানা মুহম্মাদ হাবীবুর রহমান খানও এ বিষয় আরো মনোযোগ ব্যয় করেছে। এরপরও এক্ষেত্রে কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি কারো নযরে পড়লে তা আমাদের জানানোর অনুরোধ করছি। আল্লাহ না করুন, এ রকম কিছু ঘটে গেলে ইনশাআল্লাহ পরবর্তি সংস্করণে যথাযথ নিয়মে সংশোধন করানো হবে। বয়ান কপি, কম্পোজ, প্রূফ, সম্পাদনা ও প্রকাশনার নানা পর্যায়ে যারা খেদমত করেছেন আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রত্যককে জাযায়ে খায়ের দান করুন। আমীন।

গ্রন্থটি পাঠ করে আল্লাহর কোনো বান্দা ইসলামী যিন্দেগী যাপনের ক্ষেত্রে সামান্য উপকৃত হলেও আমি এ শ্রমের সার্থকতা অনুভব করবো। আমরা দু‘আ করি আল্লাহ তা‘আলা আমাদের প্রত্যককে ইসলামী যিন্দেগী খালেসভাবে যাপন করার তাওফীক দিন। আমাদের প্রত্যকের আমলগুলো কবুল করুন। এবং আমাদের ব্যাপারে নাজাতের ফয়সালা করে দিন।

আমীন!

বিনীত
মনসূরুল হক
জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া

মুহাম্মদপুর, ঢাকা।