18

প্রকাশক কথা

প্রকাশকের কথা

বর্তমান সমাজের দীন সচেতন যে কেউ লা-মাযহাবী সম্প্রদায় ও তাদের বিভ্রান্তিমূলক কর্মকা- সম্পর্কে অনবগত নয়। তাকওয়া অর্জন ও সংযমের মাস রমযানের গুরুত্বপূর্ণ আমল ‘কিয়ামুল লায়ল’ তথা তারাবীর নামায তাদের সে সকল কর্ম-কান্ডের একটি অন্যতম বিষয়।

তারাবীর নামায শুধু আট রাক‘আত পড়া যথেষ্ট, বিশ রাক‘আত পড়ার কোন প্রয়োজন নেই অথবা আট রাক‘আত থেকে বেশি পড়া বেদআত এমন বক্তব্য ছড়িয়ে তারা সাধারণ মুসলমানদেরকে এ বিষয়ে বিভ্রান্ত করছে এবং মুসলিম সমাজের একতা, সৌহার্দ ও সম্প্রীতিকে চুরমার করছে।

ভারতবর্ষের পর আরব জাহানের যার রচনার মাধ্যমে এই ফেতনা ব্যাপক প্রসার লাভ করে তিনি হচ্ছেন শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহ.। তার এ বিষয়ক রচনাটির নাম ‘সালাতুত তরাবীহ’। বহু ভ্রান্তি ও বিচ্যুতি থাকার পরও আমাদের দেশের লা-মাযহাবী বন্ধুরা আলবানী সাহেবের এ বইটিরই তাকলীদ করে আসছেন। বাংলা ভাষায় তারাবীহ সম্পর্কে তাদের রচনাবলীতে এর প্রমাণ সুস্পষ্ট। তাই প্রয়োজন ছিল বাংলা ভাষায় আলবানী সাহেবের এ বইটির স্বরূপ উন্মোচন করার।

আলবানী সাহেবের জীবদ্দশাতেই খোদ আরব জাহানের অনেক আলেম তার এ রচনার ত্রুটি-বিচ্যুতি উম্মাহর সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁদের মধ্যে সৌদি কেন্দ্রীয় ফাতওয়া বিভাগের সাবেক গবেষক ও মুফতী মুহম্মদ বিন ইসমাঈল আনসারী রহ. অন্যতম। তিনি সালাফী হওয়া সত্ত্বেও আলবানী সাহেবের অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ও বিচ্যুত মতের বিরুদ্ধে রচনা করেছেন এবং এ সংক্রান্ত আলবানী সাহেবের রচনাবলীর স্বরূপ উম্মোচন করেছেন। তার এ সকল রচনাবলীর একটি হচ্ছে ‘তাসহীহু হাদীসি সালাতিত তারাবীহ ইশরীনা রাকআতান ওয়ার রাদ্দু আলাল আলবানী ফি তাযঈফিহি’। আমাদের এ পুস্তিকা ‘২০ রাক‘আত তারাবীর হাদীস সহীহ’ তার এ রচনার একটি সরল অনুবাদ। সঙ্গত কারণেই আমরা আলবানী সাহেবের ‘সালাতুত তারাবীহ’ এর স্বতন্ত্র খণ্ড না লিখে ইসমাঈল আনসারী রহ. এর এ খণ্ডনমূলক রচনার অনুবাদ করাকেই প্রাধান্য দিয়েছি।

অনুবাদের এ কাজটি সম্পন্ন করেছেন মগবাজার দিলুরোড মাদরাসার মুহাদ্দিস বন্ধুবর মাওলানা আবু সায়েম। সম্পাদনা করে ধন্য করেছেন জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়ার সনামধন্য উস্তাযুল হাদীস মাওলানা তাহমীদুল মাওলা। আমি তাদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

বিষেশকরে হাদীস গবেষণার প্রাজ্ঞ ও বরেণ্য সাধক জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস এবং ‘দলীলসহ নামাযের মাসাইল’ বইয়ের সুযোগ্য লেখক মাওলানা আব্দুল মতীন সাহেব অনুবাদটি দেখে দিয়ে আমাদের চিরঋণী করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা হযরতকে জাযায়ে খাইর দান করুন এবং সুস্থতাপূর্ণ নেক হায়াত দান করুন। আমীন।

বিনীত
ওবায়দুল্লাহ

মধ্য বাড্ডা, ঢাকা