18

ভূমিকা

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

اَلْحَمْدُ للهِ الَّذِىْ يَجْلِبُ النِّعَمَ بِطَا عَتِه وَالنِّقَمَ بِمَعْصِيَتِه وَالصَّلوةُ وَالسَّلَامُ الْاَتَمَّان وَالأ كْمَلاَن عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ نَبِيِّهِ الَّذِىْ جَعَلَ العِزَّ لِمَنْ وَالاَهُ وَالذُّلَّ وَالْهَوَانَ عَلى مَنْ عَادَاهُ وَعَلى الِه وَاَصْحَابِهِ الَّذِيْنَ اتَّبَعُوْهُ في الْمَنْشَطِ وَالْمَكْرَهِ وَالْيُسْرِ وَالْعُسْرِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمْ وَوَفَّقَنَا لِلتَّاسِي بِهِمْ

সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর, যাঁর ইবাদতের ফলে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য হাসিল হয় এবং নাফরমানীর কারণে আযাব আসে। পরিপূর্ণ ও সর্বাত্মক দরূদ ও সালাম আমাদের নেতা মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি; তাঁর সাথে যারা বন্ধুত্ব স্থাপন করবে তাদের জন্য রয়েছে সম্মান এবং যারা তার বিরোধিতা করে তাদের জন্য রয়েছে অপমান ও অসম্মান। তাঁর সেই সব পরিজন ও সাহাবার প্রতিও, যাঁরা সুখে, দুঃখে, আনন্দে কষ্টে সর্বাবস্থায় তাঁর অনুসরণ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন এবং আমাদেরকে তাদের অনুসরণ করার তৌফিক দিন।

অতঃপর দ্বীনি ভাইদের খেদমতে অধমের বিনীত নিবেদন এই যে, বর্তমানে আমাদের যে অবস্থা চলছে (অর্থাৎ ইবাদত বন্দেগীতে আলসেমী ও অবহেলা এবং গুনাহের কাজে মনোযোগ ও নির্ভয়) তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেক চিন্তা ভাবনা করার পর মনে হয়েছে, এর একটি বড় কারণ হলো এই যে, নেক কাজ ও বদ কাজের ফল শুধুমাত্র আখেরাতে হয় বলে মানুষ মনে কর। কিন্তু, তারা জানেই না যে, এসব কাজের অনেক ফল দুনিয়াতেও হয়ে থাকে এবং মানবীয় গুণাবলীর কারণে দুনিয়াবী জীবনের সুখ-দুঃখ প্রভাবিত হয়। এখানকার সবকিছু যেহেতু সরাসরি ঘটতে দেখা যায়, তাই এর প্রতিই বেশী লক্ষ্য থাকে। তাছাড়া যদিও এ বিশ্বাস রয়েছে যে, আখেরাতের পুরষ্কার ও শান্তি হলো দুনিয়ার কাজের ফল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কারণ ও কাজের মধ্যে যেরূপ গভীর সম্পর্ক থাকার কথা বিশ্বাস করা উচিত এবং দুনিয়াবী ব্যাপারে কার্যকারণ সম্পর্কের যেরূপ বিশ্বাস রাখা হয়, দুনিয়ার কাজের সাথে আখেরাতের ফলের সম্পর্ক এত ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয় না। বরং প্রায় অনেকটা এরূপ ধারণা করা হয় যে, সে জগতের বিষয়াদি সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের হবে। যাকে ইচ্ছা ধরে নিয়ে শাস্তি দেয়া হবে। আর যাকে ইচ্ছা খুশী হয়ে বেহেশতের অসীম সুখের মালিক বানিয়ে দেয়া হবে। তার সাথে যেন ইহজীবনের কাজের কোনই সম্পর্ক নেই। অথচ এই ধারণা অসংখ্য আয়াত ও সহীহ হাদীসের বিপরীত। ইনশাআল্লাহ অচিরেই এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। তাই এই ব্যাধি দূর করার জন্য দুইটি বিষয় জরুরী বলে মনে হয়েছে।

প্রথমত, কুরআন হাদীস ও বুযুর্গানে দ্বীনের উক্তি দ্বারা প্রমাণ করতে হবে যে, আখেরাতের সুখ-দুঃখ যেমন ইহজীবনের আমলের কারণে হবে, তেমনি দুনিয়াতেও তার কিছু প্রতিফল দেখা যাবে।

দ্বিতীয়ত, প্রমাণ করতে হবে যে, ইহজীবনের আমলের সাথে আখেরাতের ফলের সাথে এমনই গভীর সম্পর্ক যেমন সম্পর্ক আগুন জ্বালানোর সাথে রান্নার, আহার করার সাথে পেট ভরার এবং পানি ছিটানোর সাথে আগুন নিভে যাওয়ার।

এ দুটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেলে আল্লাহর মেহেরবানীতে দৃঢ় আশা করা যায় যে, কাজের ফলাফল দুনিয়াতে হবার বিশ্বাস এবং দুনিয়াবী কাজের ফল আখেরাতে হবার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাবার ফলে ইবাদতের প্রতি আগ্রহ আসবে। আর গুনাহের কাজের প্রতি মনে ঘৃণা সৃষ্টি করা সহজ হবে। বাকী আল্লাহর তাওফীক ও সাহায্য। এই উদ্দেশ্যেই এ ক্ষুদ্র পুস্তিকাখানা সহজ সরলভাষায় লেখা হয়েছে। নাম রাখা হয়েছে জাযাউল আমাল (কর্ম গুণেই সুখ দুঃখ)

আশরাফ আলী