শরী‘আত ও তরীক্বত
بسم الله الرحمان الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلوة والسلام على خاتم الانبياء والمرسلين- اما بعد.
বর্তমান ফেতনার যুগে অন্যান্য অসংখ্য ভ্রান্তিসমূহের মধ্যে একটি মারাত্মক এবং বিরাট ভ্রান্তি ইলমে তাসাওউফের মর্ম উপলদ্ধির মধ্যে দেখা দিয়েছে। কেউ তো কথা ও কর্মে বল্গাহীন হয়ে যাওয়াকে তাসাওউফের নাম দিয়েছে, কেউ কেউ কিছু বাহ্যিক প্রথাকে তাসাওউফ নামে অভিহিত করেছে। আবার কেউ কেউ শুধু বেশী পরিমাণে ওযীফা আদায়কেই তাসাউফ মনে করে নিয়াছে। এইভাবে তাসাউফের মাসআলাসমূহ উপলদ্ধি করার ক্ষেত্রে লোকেরা শত শত ভুল করেছে। যদ্দকরুন একদিকে তো তাদের আক্বীদা-বিশ্বাস সঠিক থাকে নাই, বরং অনেকেই শিরক-এর মত গুনাহে লিপ্ত হয়ে গেছে। অপরদিকে কিছুসংখ্যক লোক এই ব্যাপারে এতটুকু সীমালংঘন করেছে যে, মূল তাসাউফকেই অস্বীকার করে বসেছে এবং আউলিয়ায়ে কেরামের শানে বে-আদবী ও দৃষ্টতা দেখাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। চৌদ্দশত বছর যাবত স্বীকৃত তাসাওউফের বিষয়সমূহকে কুরআন হাদীস বহির্ভূত ও শরী‘আত বিরোধী মনে করে তাসাওউফের নাম শুনেই শত শত মাইল দূরে পালাতে শুরু করেছে। এই সমস্ত লোক বুযুর্গানে দীনের ফয়েয ও কল্যাণ হতেই কেবল বঞ্চিত থাকে নাই বরং তাদের অন্তরে পাষাণত্ব সৃষ্টি হয়ে গেছে। তাছাড়া কিছু লোক এমন আছেন যারা তাসাউফকে শরী‘আতের বাহিরে একটি পৃথক বিদ্যা মনে করেন এবং তাসাওউফের বিষয়সমূহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়- এমন জ্ঞান করেন।
এই সব বিষয়ে প্রতি লক্ষ্য করে “শরী‘আত ও তরীক্বত” নামক কিতাবটি প্রণয়ন করা হয়েছে-যার সমস্ত বিষয়বস্তু হযরত হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত শাহ মাওলানা মুহাম্মাদ আশরাফ আলী থানবী রহ.-এর বাণী ও রচনাসমূহের চয়ন। হযরত হাকীমূল উম্মত থানবী রহ.-এর বিশিষ্ট খলিফা হযরত শাইখুল মাশায়েখ মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ হাসান রহ. এর নাম “আশরাফুত তরীক্বত ফিশ শরী‘আত ওয়াত তরীক্বত” প্রস্তাব করেছেন। হযরত মুফতী সাহেব ছাড়াও হযরত থানবী রহ.-এর খলিফা হযরত মাওলানা জলীল আহমদ সাহেব আলীগড়ী এবং হাকীমুল উম্মত হযরত থানবী রহ.-এর দৌহিত্র মাওলানা নাজমুল হাসান সাহেব থানবী রহ.-এর মূল্যবান পরামর্শ ও নির্দেশ পালনার্থে কিতাবটি প্রকাশ করে জনসমক্ষে আনা হয়েছে। এতে শরী‘আত, তরীক্বত, হাক্বীক্বত, মারেফাত, বাই‘আত, আখলাক, মুজাহাদা, যিকর, শোগল, মোরাকাবা, হাল, তাউজীহ, তালীম ও মাস‘আলা দলীল ও তত্ত্বসহ সালেকের কর্মপদ্ধতি এবং এতদসংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। কিতাবটি কুরআন হাদীস এবং তত্ত্ব জ্ঞানী উলামা ও আউলিয়ায়ে কেরামের রচনা সমূহের আলোকে ফিকাহর কিতাব সমূহের রচনানীতি অনুযায়ী বিভিন্ন অধ্যায় ও অনুচ্ছেদে বিভক্ত করে সংকলন করা হয়েছে। এইভাবে এই গ্রন্থটি ইসলামী তাসাওউফ ও সুলূকের মৌলিক ও প্রশাখামূলক বিষয় সমূহের এক পূর্ণাঙ্গ ও প্রামাণ্য সম্পদে পরিণত হয়েছে। সম্ভবত তাসাওউফের এমন কোন বিষয় নাই-যার আলোচনা এই গ্রন্থে করা হয় নাই। এটা পাঠে তাসাওউফ ও সুলূক সম্পর্কে সকল ভ্রান্তি ও ভুল বুঝাবুঝির অবসান হবে। আত্মশুদ্ধি; উত্তম চরিত্র গঠন ও আমল সংশোধনের পন্থা খুবই স্পষ্ট ও সহজ হয়ে যাবে এবং এই বিষয়টি খুবই স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়বে যে, শরী‘আত ও তরীক্বতের মধ্যে কোন বিরোধ ও বৈপরীত্ব নাই।
সকল তরীক্বত পন্থী ও তাসাওউফের ব্যাপারে উৎসাহী ভাইগণের বিশেষভাবে ও সাধারণ মুসলমানদের সাধারণভাবে এই কিতাবটি অধ্যয়ন করা বরং সবকের ন্যায় পাঠ করা খুবই প্রয়োজন।
পাঠকদের নিকট নিবেদন যে, কিতাবের কোন যায়গায় যদি বিষয়বস্তুতে ভুল-ত্রুটি নজরে আসে তা হলে তা এই অধম সংকলকের উদ্বৃতির অথবা জ্ঞানে ত্রুটি মনে করে নিবেন। আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করুন! কোন অবস্থাতেই ঐ ত্রুটিকে হযরত হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদুল মিল্লাত থানবী রহ.-এর দিকে সম্পৃক্ত করবেন না। কেননা, “আনকা পাখীর নীড়ও অনেক উঁচুতে।”
পরিশেষে দু‘আর আবেদন যে, আল্লাহ তা‘আলা যেন আমাকে অহংকার ও আত্মগর্ব হতে হেফাজত করেন।
(অত্র কিতাবের সংকলক)