18

প্রারম্ভিক কথা

মানব জাতি আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা সুস্পষ্টভাবে ইরশাদ করেছেন-“আমি মানব জাতিকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল আয়াত-৭০) শুধু তাই নয়; বরং তারা সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতও। এতদসম্পর্কে পরম করুণাময় আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন- “তোমরা সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত, তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের জন্য । তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অসৎ কাজে বাধা দিবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করবে ।” (সূরাহ আলে ইমরান, আয়াত-১১০)

উপরোক্ত আয়াতে মানব জাতিকে শ্রেষ্ঠ উম্মত ঘোষণা করার সাথে সাথে তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের কারণও উল্লেখ করা হয়েছে। আর তা হচ্ছে মানুষকে সৎকাজের আদেশ করা ও অসৎ কাজের নিষেধ করা ।

মূলতঃ এ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল আম্বিয়া কিরামের উপর। গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট মানুষকে দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য আল্লাহ তা‌‌’আলা যুগে যুগে প্রেরণ করেছেন লক্ষাধিক নবী-রাসূলগণকে। নবী প্রেরণ পরম্পরায় সর্বশেষে প্রেরিত হয়েছেন আমাদের নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাঁর পর আর কোন নবীর আগমন ঘটবে না বিধায় এ সুমহান দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে তাঁর উম্মতের উপর ফলে তারা লাভ করেছে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতের মর্যাদা।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, উম্মতে মুহাম্মাদী তাদের এ গৌরবময় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ার কারণে পৃথিবী জুড়েই চলছে অন্যায় অবিচার, হত্যা-লুন্ঠন, ছিনতাই-রাহাজানি, খুন-খারাবী সহ আরো নানা প্রকার মানবতা বিধ্বংসী কার্যকলাপ । উম্মাতে মুহাম্মাদী যদি পুনরায় তাদের এ দায়িত্ব যথাযথ রূপে পালনে সক্রিয় না হয়, তাহলে এ থেকে মুক্তি পাওয়া কোন ক্রমেই সম্ভব নয় । শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মুফতী মাওলানা মনসূরুল হক সাহেবের এতদসম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রবন্ধ ও প্রশ্নোত্তর বিভিন্ন সময়ে রাহমানী পয়গামে প্রকাশিত হয়েছিল। বিষয়গুলির গুরুত্ব অনুধাবন করে হযরতের দু‘আ ও ইজাযত নিয়ে বিক্ষিপ্ত লেখাগুলি একত্রিত করে পুস্তিকাকারে প্রকাশ করতে পেরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। যারা দাওয়াতের কাজের সাথে জড়িত এবং যারা জড়িত না, আশা করি তাদের সকলের জন্যই এটি সমান উপকারী হবে ।

দূ‘আ প্রার্থী

মীযানুর রহমান কাসেমী

জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া

মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।