كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة

৮২- কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে গ্রহণ ও অনুসরণের বর্ণনা

অধ্যায় ৮২ · ৯৬ টি হাদীস

৩০৭৪. কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা।

كِتَابُ الِاعْتِصَامِ بِالكِتَابِ وَالسُّنَّةِ

৬৭৭২

7268 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ الحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مِسْعَرٍ وَغَيْرِهِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ مِنَ اليَهُودِ لِعُمَرَ: يَا أَمِيرَ المُؤْمِنِينَ، لَوْ أَنَّ عَلَيْنَا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ: {اليَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا} [المائدة: 3] ، لاَتَّخَذْنَا ذَلِكَ اليَوْمَ عِيدًا، فَقَالَ عُمَرُ: «إِنِّي لَأَعْلَمُ أَيَّ يَوْمٍ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ، نَزَلَتْ يَوْمَ عَرَفَةَ، فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ» سَمِعَ سُفْيَانُ مِنْ مِسْعَرٍ، وَمِسْعَرٌ قَيْسًا، وَقَيْسٌ طَارِقًا "

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৭৭২। হুমায়দী (রাহঃ) ......... তারিক ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইহুদী উমর (রাযিঃ)- কে বলল, হে আমীরুল মু'মিনীন! আমাদের উপর যদি এই আয়াত “আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সস্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম″ (৫ঃ ৩) অবতীর্ণ হত, তাহলে সে দিনটিকে আমরা ঈদ (উৎসবের) দিন হিসাবে গণ্য করতাম। উমর (রাযিঃ) বললেন, আমি অবশ্যই জানি এ আয়াতটি কোন দিন অবতীর্ণ হয়েছিল। আরাফার দিন জুম'আ দিবসে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল।
হাদীসটি সুফিয়ান (রাহঃ) মিসআর (রাহঃ) থেকে, মিসআর কায়স থেকে, কায়স (রাহঃ) তারিক থেকে শুনেছেন।
৬৭৭৩

7269 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ، الغَدَ حِينَ بَايَعَ المُسْلِمُونَ أَبَا بَكْرٍ، وَاسْتَوَى عَلَى مِنْبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، تَشَهَّدَ قَبْلَ أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ: «أَمَّا بَعْدُ، فَاخْتَارَ اللَّهُ لِرَسُولِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِي عِنْدَهُ عَلَى الَّذِي عِنْدَكُمْ، وَهَذَا الكِتَابُ الَّذِي هَدَى اللَّهُ بِهِ رَسُولَكُمْ، فَخُذُوا بِهِ تَهْتَدُوا وَإِنَّمَا هَدَى اللَّهُ بِهِ رَسُولَهُ»

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৭৭৩। ইয়াহয়া ইবনে বুকায়র (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, দ্বিতীয় দিবসে যখন মুসলিমরা আবু বকর (রাযিঃ) এর বায়আত গ্রহণ করেছিল এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মিম্বরের উপর উপবিষ্ট ছিলেন। উমর (রাযিঃ) কে আবু বকর (রাযিঃ) এর পূর্বে হামদ ও ছানা ও কালেমা শাহাদাত পাঠ করতে তিনি (আনাস) শুনেছেন। তিনি বললেন, এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের জন্য তোমাদের কাছে যা ছিল তার চেয়ে তার নিকট যা আছে সেটাকেই পছন্দ করেছেন। আর এই সে কিতাব যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের রাসুল (ﷺ) কে হেদায়েত করেছেন। সুতরাং একে তোমরা আকড়িয়ে ধর। তাহলে এর দ্বারা আল্লাহ তাঁর রাসুল (ﷺ) কে যে হেদায়েত দান করেছিলেন তোমরাও সেই হেদায়েত লাভ করবে।

৬৭৭৪

7270 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: ضَمَّنِي إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَالَ: «اللَّهُمَّ عَلِّمْهُ الكِتَابَ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৭৭৪। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) (তাঁর দেহের সাথে) আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহ! একে কিতাবের জ্ঞান দান কর।

৬৭৭৫

7271 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَبَّاحٍ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ: سَمِعْتُ عَوْفًا، أَنَّ أَبَا المِنْهَالِ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا بَرْزَةَ، قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ يُغْنِيكُمْ - أَوْ نَعَشَكُمْ - بِالإِسْلاَمِ وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» ، قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: «وَقَعَ هَاهُنَا يُغْنِيكُمْ، وَإِنَّمَا هُوَ نَعَشَكُمْ يُنْظَرُ فِي أَصْلِ كِتَابِ الِاعْتِصَامِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৬৭৭৫। আব্দুল্লাহ ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) ......... আবু বারযা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে ইসলাম ও মুহাম্মাদ (ﷺ) এর দ্বারা অমুখাপেক্ষী করেছেন কিংবা বলেছেন, পরিপূর্ণ করেছেন।

৬৭৭৬

7272 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، " كَتَبَ إِلَى عَبْدِ المَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ يُبَايِعُهُ: وَأُقِرُّ لَكَ بِذَلِكَ بِالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ عَلَى سُنَّةِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ فِيمَا اسْتَطَعْتُ "

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৭৭৬। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের বায়আত গ্রহণ প্রসঙ্গে লিখলেনঃ আল্লাহ ও তার রাসূল (ﷺ) এর সুন্নতের ভিত্তিতে আমার সাধ্যানুসারে (আপনার নির্দেশ) শোনা ও মানার অঙ্গীকার করছি।

৩০৭৫. নবী (ﷺ) এর বাণীঃ আমি 'জাওয়ামিউল কালিম' (ব্যাপক মর্মজ্ঞাপক সংক্ষিপ্ত বাক্য) সহ প্রেরিত হয়েছি।

باب قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بُعِثْتُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ

৬৭৭৭

7273 - حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ المُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:92]، قَالَ: «بُعِثْتُ بِجَوَامِعِ الكَلِمِ، وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ، وَبَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي أُتِيتُ بِمَفَاتِيحِ خَزَائِنِ الأَرْضِ فَوُضِعَتْ فِي يَدِي» ، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَقَدْ ذَهَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنْتُمْ تَلْغَثُونَهَا، أَوْ تَرْغَثُونَهَا، أَوْ كَلِمَةً تُشْبِهُهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭৭৭। আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ’জাওয়ামিউল কালিম’ (ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য) সহ প্রেরিত হয়েছি এবং আমাকে প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। একবার আমি ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পেলাম, পৃথিবীর ভাণ্ডারসমুহের চাবি আমাকে দান করা হয়েছে এবং তা আমার হাতে রেখে দেওয়া হয়েছে।
আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্‌তিকাল করে গেছেন। আর তোমরা তা ব্যবহার করছ কিংবা বলেছিলেন, তোমরা তা থেকে উপকৃত হচ্ছ কিংবা তিনি অনুরূপ কোন বাক্য বলেছিলেন।
৬৭৭৮

7274 - حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَا مِنَ الأَنْبِيَاءِ نَبِيٌّ إِلَّا أُعْطِيَ مِنَ الآيَاتِ مَا مِثْلُهُ أُومِنَ، أَوْ آمَنَ، عَلَيْهِ البَشَرُ، وَإِنَّمَا كَانَ الَّذِي أُوتِيتُ وَحْيًا أَوْحَاهُ اللَّهُ إِلَيَّ، فَأَرْجُو أَنِّي أَكْثَرُهُمْ تَابِعًا يَوْمَ القِيَامَةِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭৭৮। আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক নবীকেই কোন-না-কোন বিশেষ নিদর্শন প্রদান করা হয়েছে। যার অনুরূপ তাঁর উপর ঈমান আনা হয়েছে, কিংবা লোকেরা তার উপর ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা দেওয়া হয়েছে, সে হল ওহী, যা আল্লাহ তাআলা আমার উপর অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং আমি আশা করি যে, কিয়ামতের দিন আমার অনুসারীর সংখ্যা তাদের তুলনায় সর্বাধিক হবে।

৩০৭৬. নবী (ﷺ) এর সুন্নতের অনুসরণ বাঞ্ছনীয়।
আর আল্লাহ তাআলার বাণীঃ আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শস্বরূপ কর (২৫ঃ ৭৪)।
জনৈক বর্ণনাকারী বলেছেন, এরূপ ইমাম যে আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করব, আর আমাদের পরবর্তীরা আমাদের অনুসরণ করবে।
ইবনে আউন (রাহঃ) বলেন, তিনটি জিনিস আমি আমার নিজের জন্য ও আমার ভাইদের জন্য পছন্দ করি। (তার একটি হল) এই সুন্নত, যা শিখবে এবং জানবার জন্য এর সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। (দ্বিতীয়টি হল) কুরআন, যা তারা ভালভাবে বুঝতে চেষ্টা করবে এবং জানবার জন্য এর সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। এবং কল্যাণ ব্যতীত লোকদের থেকে পৃথক থাকবে (অর্থাৎ কল্যাণের প্রতি আহবান করবে)।

بَابُ الِاقْتِدَاءِ بِسُنَنِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا} [الفرقان: 74] " قَالَ: أَيِمَّةً نَقْتَدِي بِمَنْ قَبْلَنَا، وَيَقْتَدِي بِنَا مَنْ بَعْدَنَا " وَقَالَ ابْنُ عَوْنٍ: " ثَلاَثٌ أُحِبُّهُنَّ لِنَفْسِي وَلِإِخْوَانِي: هَذِهِ السُّنَّةُ أَنْ يَتَعَلَّمُوهَا وَيَسْأَلُوا عَنْهَا، وَالقُرْآنُ أَنْ يَتَفَهَّمُوهُ وَيَسْأَلُوا عَنْهُ، وَيَدَعُوا النَّاسَ إِلَّا مِنْ خَيْرٍ "

৬৭৭৯

7275 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَبَّاسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ وَاصِلٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ: جَلَسْتُ إِلَى شَيْبَةَ فِي هَذَا المَسْجِدِ، قَالَ: جَلَسَ إِلَيَّ عُمَرُ فِي مَجْلِسِكَ هَذَا، فَقَالَ: «لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ لاَ أَدَعَ فِيهَا صَفْرَاءَ وَلاَ بَيْضَاءَ إِلَّا قَسَمْتُهَا بَيْنَ المُسْلِمِينَ» ، قُلْتُ: مَا أَنْتَ بِفَاعِلٍ، قَالَ: «لِمَ؟» ، قُلْتُ: لَمْ يَفْعَلْهُ صَاحِبَاكَ، قَالَ: «هُمَا المَرْءَانِ يُقْتَدَى بِهِمَا»

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৬৭৭৯। আমর ইবনে আব্বাস (রাহঃ) ......... আবু ওয়ায়েল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এই মসজিদে শায়বার (রাহঃ) এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি বললেন, তুমি যেরূপ (আমার কাছে) বসে আছ, উমর (রাযিঃ) অনুরূপভাবে এ জায়গায় বসা ছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, আমি ইচ্ছা করছি যে, এতে সোনা ও রূপার কোন কিছুই অবশিষ্ট রাখব না বরং সবকিছু মুসলমানদের মাঝে বণ্টন করে দিয়ে দিব। আমি বললাম, আপনার জন্য এটা করা ঠিক হবে না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কেন? আমি বললাম, আপনার সঙ্গীদ্বয় [অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ)] এটা করেননি। তিনি বললেন, তাঁরা দু’জন অনুসরণ করার মত ব্যক্তিই ছিলেন।

৩০৭৬. নবী (ﷺ) এর সুন্নতের অনুসরণ বাঞ্ছনীয়।

باب الاِقْتِدَاءِ بِسُنَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

৬৭৮০

7276 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: سَأَلْتُ الأَعْمَشَ، فَقَالَ: عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، سَمِعْتُ حُذَيْفَةَ، يَقُولُ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّ الأَمَانَةَ نَزَلَتْ مِنَ السَّمَاءِ فِي جَذْرِ قُلُوبِ الرِّجَالِ، وَنَزَلَ القُرْآنُ فَقَرَءُوا القُرْآنَ، وَعَلِمُوا مِنَ السُّنَّةِ»

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৬৭৮০। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, আমানত আসমান থেকে মানুষের অন্তর্মুলে অবগামী হয়েছে, তারপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং মানুষ তা পাঠ করেছে এবং সুন্নত শিক্ষা করেছে।

৬৭৮১

7277 - حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ، سَمِعْتُ مُرَّةَ الهَمْدَانِيَّ، يَقُولُ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: «إِنَّ أَحْسَنَ الحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ، وَأَحْسَنَ الهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَشَرَّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَإِنَّ مَا تُوعَدُونَ لَآتٍ، وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৭৮১। আদম ইবনে আবু ইয়াস (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, সর্বোত্তম কালাম হল আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম আদর্শ হল মুহাম্মাদ (ﷺ) এর আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম বিষয় হল কুসংস্কারসমুহ। তোমাদের কাছে যা ঘোষণা করা হচ্ছে তা বাস্তবায়িত হবেই, তোমরা ব্যর্থ করতে পারবে না (৬ঃ ১৩৪)।

৬৭৮২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ، قَالاَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ ".

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭৮২। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) ও যায়দ ইবনে খালিদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। (এ সময়) তিনি বললেনঃ অবশ্যই আমি আল্লাহ তাআলার কিতাব অনুযায়ী তোমাদের মাঝে ফায়সালা করব।

৬৭৮৩

7280 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، حَدَّثَنَا هِلاَلُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَى» ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَنْ يَأْبَى؟ قَالَ: «مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الجَنَّةَ [ص:93]، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭৮৩। মুহাম্মাদ ইবনে সিনান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার সকল উম্মতই জান্নাতে প্রবেশ করবে, কিন্তু যে অস্বীকার করে। তারা বললেন, কে অস্বীকার করে। তিনি বললেনঃ যারা আমার অনুসরণ করে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হবে সে-ই অস্বীকার করল।

৬৭৮৪

7281 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَادَةَ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ، حَدَّثَنَا سَلِيمُ بْنُ حَيَّانَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مِينَاءَ، حَدَّثَنَا - أَوْ سَمِعْتُ - جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: " جَاءَتْ مَلاَئِكَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ نَائِمٌ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّهُ نَائِمٌ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّ العَيْنَ نَائِمَةٌ، وَالقَلْبَ يَقْظَانُ، فَقَالُوا: إِنَّ لِصَاحِبِكُمْ هَذَا مَثَلًا، فَاضْرِبُوا لَهُ مَثَلًا، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّهُ نَائِمٌ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّ العَيْنَ نَائِمَةٌ، وَالقَلْبَ يَقْظَانُ، فَقَالُوا: مَثَلُهُ كَمَثَلِ رَجُلٍ بَنَى دَارًا، وَجَعَلَ فِيهَا مَأْدُبَةً وَبَعَثَ دَاعِيًا، فَمَنْ أَجَابَ الدَّاعِيَ دَخَلَ الدَّارَ وَأَكَلَ مِنَ المَأْدُبَةِ، وَمَنْ لَمْ يُجِبِ الدَّاعِيَ لَمْ يَدْخُلِ الدَّارَ وَلَمْ يَأْكُلْ مِنَ المَأْدُبَةِ، فَقَالُوا: أَوِّلُوهَا لَهُ يَفْقَهْهَا، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّهُ نَائِمٌ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّ العَيْنَ نَائِمَةٌ، وَالقَلْبَ يَقْظَانُ، فَقَالُوا: فَالدَّارُ الجَنَّةُ، وَالدَّاعِي مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمَنْ أَطَاعَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ، وَمَنْ عَصَى مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ، وَمُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرْقٌ بَيْنَ النَّاسِ " تَابَعَهُ قُتَيْبَةُ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ جَابِرٍ، خَرَجَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬৭৮৪। মুহাম্মাদ ইবনে আবাদা (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদল ফিরিশতা নবী (ﷺ) এর কাছে আগমন করলেন। তিনি তখন ঘুমন্ত ছিলেন। একজন ফিরিশতা বললেন, তিনি (নবী (ﷺ)) নিদ্রিত। অপর একজন বললেন, চক্ষু নিদ্রিত বটে, কিন্তু অন্তর জাগ্রত। তখন তারা বললেন, তোমাদের এ সাথীর একটি উপমা আছে সুতরাং তার উপমাটি তোমরা বর্ণনা কর। তখন তাদের কেউ বলল- তিনি তো নিদ্রিত, আর কেউ বলল, চক্ষু নিদ্রিত তবে অন্তরাত্মা জাগ্রত। তখন তারা বলল, তাঁর উপমা হল সেই ব্যক্তির মত, যে একটি গৃহ নির্মাণ করল। তারপর সেখানে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করল এবং একজন আহবানকারীকে (লোকদের ডাকতে) পাঠাল। যারা আহবানকারীর আহবানে সাড়া দিল, তারা গৃহে প্রবেশ করে খানা খাওয়ার সুযোগ লাভ করল। আর যারা আহবানকারীর আহবানে সাড়া দিল না, তারা গৃহেও প্রবেশ করতে পারল না এবং খানাও খেতে পারল না। তখন তারা বললেনঃ উপমাটির ব্যাখ্যা করুন, যাতে তিনি বুঝতে পারেন। তখন কেউ বলল, তিনি তো নিদ্রিত, আর কেউ বলল, চক্ষু নিদ্রিত, তবে অন্তরাত্মা জাগ্রত। তখন তারা বললেন, গৃহটি হল জান্নাত, আহবানকারী হলেন মুহাম্মাদ(ﷺ)। যারা মুহাম্মাদ (ﷺ) এর অনুসরণ করল, তারা আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যারা মুহাম্মাদ (ﷺ) এর অবাধ্যতা করল, তারা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহরই অবাধ্যতা করল। মুহাম্মাদ (ﷺ) হলেন মানুষের মাঝে পার্থক্যের মানদণ্ড।
কুতায়বা জাবির (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি ″নবী (ﷺ) আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন″ এই বাক্যটি বলছেন।
৬৭৮৫

7282 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: «يَا مَعْشَرَ القُرَّاءِ اسْتَقِيمُوا فَقَدْ سَبَقْتُمْ سَبْقًا بَعِيدًا، فَإِنْ أَخَذْتُمْ يَمِينًا وَشِمَالًا، لَقَدْ ضَلَلْتُمْ ضَلاَلًا بَعِيدًا»

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৬৭৮৫। আবু নুআয়ম (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে কুরআন পাঠকারী সমাজ! তোমরা (কুরআন ও সুন্নাহর উপর) সুদৃঢ় থাক। নিশ্চয়ই তোমরা অনেক পিছনে পড়ে আছ। আর যদি তোমরা (সিরাতে মুস্তাকীম থেকে সরে গিয়ে) ডান কিংবা বামের পথ অনুসরণ কর, তাহলে তোমরা (হেদায়েত থেকে) অনেক দূরে সরে যাবে।

৬৭৮৬

7283 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " إِنَّمَا مَثَلِي وَمَثَلُ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ، كَمَثَلِ رَجُلٍ أَتَى قَوْمًا فَقَالَ: يَا قَوْمِ، إِنِّي رَأَيْتُ الجَيْشَ بِعَيْنَيَّ، وَإِنِّي أَنَا النَّذِيرُ العُرْيَانُ، فَالنَّجَاءَ، فَأَطَاعَهُ طَائِفَةٌ مِنْ قَوْمِهِ، فَأَدْلَجُوا، فَانْطَلَقُوا عَلَى مَهَلِهِمْ فَنَجَوْا، وَكَذَّبَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ، فَأَصْبَحُوا مَكَانَهُمْ، فَصَبَّحَهُمُ الجَيْشُ فَأَهْلَكَهُمْ وَاجْتَاحَهُمْ، فَذَلِكَ مَثَلُ مَنْ أَطَاعَنِي فَاتَّبَعَ مَا جِئْتُ بِهِ، وَمَثَلُ مَنْ عَصَانِي وَكَذَّبَ بِمَا جِئْتُ بِهِ مِنَ الحَقِّ "

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬৭৮৬। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার ও আমাকে আল্লাহ যা কিছু দিয়ে প্রেরণ করেছেন তার উপমা হল এমন যে, এক ব্যক্তি কোন এক সম্প্রদায়ের নিকট এসে বলল, হে কওম! আমি নিজের চোখে সেনাবাহিনীকে দেখে এসেছি। আমি সুস্পষ্ট সতর্ককারী। সুতরাং তোমরা আত্মরক্ষার চেষ্টা কর। কওমের কিছু লোক তার কথা মেনে নিল, সুতরাং রাতের প্রথম ভাগে তারা সে স্থান ছেড়ে রওয়ানা হল এবং একটি নিরাপদ স্থানে গিয়ে পৌছল। ফলে তারা রক্ষা পেল। তাদের থেকে আর একদল লোক তার কথা অবিশ্বাস করল, ফলে তারা নিজেদের আবাসস্থলেই রয়ে গেল। প্রভাতে শক্রবাহিনী তাদের উপর আক্রমণ করল, তাদেরকে ধ্বংস করে দিল এবং তাদেরকে নির্মূল করে দিল। এটাই হল তাদের উপমা, যারা আমার আনুগত্য করে এবং আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসরণ করে। আর যারা আমার নাফরমানী করে এবং আমি যে সত্য নিয়ে এসেছি তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।

৬৭৮৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ، وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ قَالَ عُمَرُ لأَبِي بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ. فَمَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ. عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ، إِلاَّ بِحَقِّهِ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ ". فَقَالَ وَاللَّهِ لأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ، فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ، وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عِقَالاً كَانُوا يُؤَدُّونَهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهِ. فَقَالَ عُمَرُ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ رَأَيْتُ اللَّهَ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ. قَالَ ابْنُ بُكَيْرٍ وَعَبْدُ اللَّهِ عَنِ اللَّيْثِ عَنَاقًا. وَهْوَ أَصَحُّ.

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭৮৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্‌তিকাল করলেন। আর তার পরে আবু বকর (রাযিঃ) কে খলীফা নির্বাচন করা হল এবং আরবের যারা কাফের হওয়ার তারা কাফের হরে গিয়েছিল। তখন উমর (রাযিঃ) আবু বকর (রাযিঃ) কে বললেন, আপনি কি করে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি মানুষের সাথে ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করে যাওয়ার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। অতএব যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে ফেলল সে তার জান ও মাল আমার থেকে নিরাপদ ও সংরক্ষিত করে ফেলল। তবে ইসলামী বিধানের আওতায় পড়ে গেলে সে ভিন্নকথা। তাদের প্রকৃত হিসাব আল্লাহর কাছে হবে। আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, যারা নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে, আমি অবশ্যই তাদের সাথে যুদ্ধ করব। কেননা, যাকাত হল সম্পদের হক (অবশ্য পালনীয় বিধান)। আল্লাহর শপথ! যদি তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট যা আদায় করত, এখন তা (সেভাবে) দিতে অস্বীকার করে, তাহলেও আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করব। উমর (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি দেখছিলাম যে, যুদ্ধ করার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আবু বকরের সিনা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। সুতরাং আমি বুঝতে পারলাম এ সিদ্ধান্তই সঠিক।
(ইমাম বুখারী (রাহঃ) বলেন) ইবনে বুকায়র ও আব্দুল্লাহ (রাহঃ) লাঈস এর সূত্রে উকায়ল থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে لو منعوني كذا (যদি তারা এই পরিমাণ দিতে অস্বীকার করে) এর স্থলে لو منعوني عناقا (যদি তারা একটি ছোট উটের বাচ্চাও দিতে অস্বীকার করে) উল্লেখ করেছেন। আর এটাই বিশুদ্ধতম। আর এটিকে লোকেরা عناقا বর্ণনা করেছেন। عز وجل বস্তুত এ স্থানে عقالا পড়া বৈধ নয়। আর عقالا শব্দটি শাবী এর হাদীসে মুরসাল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে কুতায়বা (রাহঃ) عقالا বলেছেন।
৬৭৮৮

7286 - حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَدِمَ عُيَيْنَةُ بْنُ حِصْنِ بْنِ حُذَيْفَةَ بْنِ بَدْرٍ، فَنَزَلَ عَلَى ابْنِ أَخِيهِ الحُرِّ بْنِ قَيْسِ بْنِ حِصْنٍ، وَكَانَ مِنَ النَّفَرِ الَّذِينَ يُدْنِيهِمْ عُمَرُ، وَكَانَ القُرَّاءُ أَصْحَابَ مَجْلِسِ عُمَرَ وَمُشَاوَرَتِهِ، كُهُولًا كَانُوا أَوْ شُبَّانًا، فَقَالَ عُيَيْنَةُ لِابْنِ أَخِيهِ: يَا ابْنَ أَخِي، هَلْ لَكَ وَجْهٌ عِنْدَ هَذَا الأَمِيرِ فَتَسْتَأْذِنَ لِي عَلَيْهِ؟ قَالَ: سَأَسْتَأْذِنُ لَكَ عَلَيْهِ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَاسْتَأْذَنَ لِعُيَيْنَةَ، فَلَمَّا دَخَلَ، قَالَ: يَا ابْنَ الخَطَّابِ، وَاللَّهِ مَا تُعْطِينَا الجَزْلَ، وَمَا تَحْكُمُ بَيْنَنَا بِالعَدْلِ، فَغَضِبَ عُمَرُ، حَتَّى هَمَّ بِأَنْ يَقَعَ بِهِ، فَقَالَ الحُرُّ: يَا أَمِيرَ المُؤْمِنِينَ، إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ لِنَبِيِّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: {خُذِ العَفْوَ وَأْمُرْ بِالعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الجَاهِلِينَ} [الأعراف: 199] ، وَإِنَّ هَذَا مِنَ الجَاهِلِينَ، «فَوَاللَّهِ مَا جَاوَزَهَا عُمَرُ حِينَ تَلاَهَا عَلَيْهِ، وَكَانَ وَقَّافًا عِنْدَ كِتَابِ اللَّهِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৭৮৮। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উয়াইনা ইবনে হিসন ইবনে হুযাইফা ইবনে বদর তাঁর ভ্রাতূষ্পুত্র হুর ইবনে কায়স ইবনে হিসন এর নিকট এলেন। উমর (রাযিঃ) যাদের নিজের সান্নিধ্যে রাখতেন, হুর ইবনে কায়স (রাহঃ) ছিলেন তাদেরই একজন। যুবক হোক কিংবা বৃদ্ধ কারী (আলিম) ব্যক্তিরাই উমর (রাযিঃ) এর মজলিসের সভাসদ ও পরামর্শদাতা ছিলেন। উয়াইনা তার ভাতিজাকে বললেন, হে ভাতিজা! তোমার কি আমীরের নিকট এতটুকু প্রভাব আছে যে, আমার জন্য সাক্ষাতের অনুমতি গ্রহণ করতে পারবে? সে বলল, আমি আপনার ব্যাপারে তাঁর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ তিনি (হুর) উয়াইনার জন্য অনুমতি চাইলেন। তারপর যখন উয়াইনা উমর (রাযিঃ) এর নিকট গেল, তখন সে বলল, হে ইবনে খাত্তাব! আপনি আমাদের (প্রচুর পরিমাণে) মাল দিচ্ছেন না, আবার ইনসাফের ভিত্তিতে আমাদের মাঝে ফায়সালাও করছেন না। তখন উমর (রাযিঃ) রাগান্বিত হলেন, এমন কি তিনি তাকে প্রহার করতে উদ্যত হলেন। তখন হুর বললেন, হে আমীরুল মু'মিনীন। আল্লাহ তাঁর নবী (ﷺ) কে বলেছেন, তুমি ক্ষমাপরায়ণতা অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দাও, আর অজ্ঞদেরকে উপেক্ষা কর (৭ঃ ১৯৯)। এ লোকটি নিঃসন্দেহে একজন মুর্খ। আল্লাহর শপথ! উমর (রাযিঃ) এর সামনে এই আয়াতটি পাঠ করা হলে তিনি মোটেও তা লঙ্ঘন করলেন না। বস্তুত তিনি মহান আল্লাহ তাআলার কিতাবের বড়ই অনুগত ছিলেন।

৬৭৮৯

7287 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ المُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّهَا قَالَتْ: أَتَيْتُ عَائِشَةَ حِينَ خَسَفَتِ الشَّمْسُ وَالنَّاسُ قِيَامٌ، وَهِيَ قَائِمَةٌ تُصَلِّي، فَقُلْتُ: مَا لِلنَّاسِ؟ فَأَشَارَتْ بِيَدِهَا نَحْوَ السَّمَاءِ، فَقَالَتْ: سُبْحَانَ اللَّهِ، فَقُلْتُ: آيَةٌ؟ قَالَتْ بِرَأْسِهَا: أَنْ نَعَمْ، فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: " مَا مِنْ شَيْءٍ لَمْ أَرَهُ إِلَّا وَقَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا، حَتَّى الجَنَّةَ وَالنَّارَ، وَأُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي القُبُورِ قَرِيبًا مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ، فَأَمَّا المُؤْمِنُ - أَوِ المُسْلِمُ لاَ أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ - فَيَقُولُ: مُحَمَّدٌ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ، فَأَجَبْنَاهُ وَآمَنَّا، فَيُقَالُ: نَمْ صَالِحًا عَلِمْنَا أَنَّكَ مُوقِنٌ، وَأَمَّا المُنَافِقُ - أَوِ المُرْتَابُ لاَ أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ - فَيَقُولُ: لاَ أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُهُ "

বর্ণনাকারী: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

৬৭৮৯। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ......... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার সুর্যগ্রহণের সময় আমি আয়েশা (রাযিঃ) এর নিকট এলাম। লোকেরা তখন (নামাযে) দাঁড়িয়েছিল এবং তিনিও দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, লোকদের কি হল? তিনি হাত দিয়ে আসমানের দিকে ইশারা করলেন এবং বললেন, সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, এটা কি কোন নিদর্শন? তখন তিনি মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ বললেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নামায শেষ করলেন, তখন (প্রথমে) তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানা পাঠ করলেন। তারপর বললেনঃ আমি যা দেখিনি তার সবকিছুই আজকের এই স্থানে দেখেছি। এমন কি জান্নাত ও জাহান্নামও দেখেছি। আর আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, কবরে তোমাদের পরীক্ষায় ফেলা হবে, যা প্রায় দাজ্জালের পরীক্ষার ন্যায়ই (কঠিন) হবে। তবে যারা মুমিন হবে, অথবা (বলেছিলেন) মুসলিম হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আসমা (রাযিঃ) ’মুমিন’ বলেছিলেন, না ’মুসলিম’ বলেছিলেন তা আমার স্মরণ নেই। তারা বলবে, মুহাম্মাদ আমাদের কাছে সূস্পষ্ট দলীল নিয়ে এসেছিলেন, আমরা তার আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং ঈমান এনেছি। তখন তাকে বলা হবে, তুমি আরামে ঘুমিয়ে থাক, আমরা জানি তুমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী ছিলে। আর যারা মুনাফিক হবে অথবা (বলেছিলেন) সন্দেহকারী হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আসমা ’মুনাফিক’ বলেছিলেন না ’সন্দেহকারী’ বলেছিলেন তা আমার মনে নেই। তারা বলবে, আমি কিছুই জানিনা, আমি মানুষকে কিছু কথা বলতে শুনেছি, আমিও তাই বলেছি।

৬৭৯০

7288 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «دَعُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِسُؤَالِهِمْ وَاخْتِلاَفِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَاجْتَنِبُوهُ، وَإِذَا [ص:95] أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭৯০। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, তোমরা আমাকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাক, যতক্ষণ না আমি তোমাদের কিছু বলি। কেননা, তোমাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা তাদের নবীদের অধিক প্রশ্ন করা ও নবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। তাই আমি যখন তোমাদের কোন বিষয়ে নিষেধ করি তখন তা থেকে বেঁচে থাক। আর যদি কোন বিষয়ে আদেশ করি তাহলে সাধ্যমত পালন কর।

৩০৭৭. অধিক প্রশ্ন করা এবং অনর্থক কষ্ট করা নিন্দনীয়। এবং আল্লাহ তাআলার বাণীঃ তোমরা সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে (৫ঃ ১০১)।

بَابُ مَا يُكْرَهُ مِنْ كَثْرَةِ السُّؤَالِ وَتَكَلُّفِ مَا لاَ يَعْنِيهِ وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ} [المائدة: 101]

৬৭৯১

7289 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ المُقْرِئُ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَعْظَمَ المُسْلِمِينَ جُرْمًا، مَنْ سَأَلَ عَنْ شَيْءٍ لَمْ يُحَرَّمْ، فَحُرِّمَ مِنْ أَجْلِ مَسْأَلَتِهِ»

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬৭৯১। আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ মুকরী (রাহঃ) ......... সা'দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিমদের সবচেয়ে বড় অপরাধী সেই ব্যক্তি, যে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করে যা পূর্বে হারাম ছিল না। কিন্তু তার প্রশ্নের কারণে তা হারাম হয়ে গেছে।

৬৭৯২

7290 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، سَمِعْتُ أَبَا النَّضْرِ، يُحَدِّثُ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اتَّخَذَ حُجْرَةً فِي المَسْجِدِ مِنْ حَصِيرٍ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا لَيَالِيَ حَتَّى اجْتَمَعَ إِلَيْهِ نَاسٌ، ثُمَّ فَقَدُوا صَوْتَهُ لَيْلَةً، فَظَنُّوا أَنَّهُ قَدْ نَامَ، فَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يَتَنَحْنَحُ لِيَخْرُجَ إِلَيْهِمْ، فَقَالَ: «مَا زَالَ بِكُمُ الَّذِي رَأَيْتُ مِنْ صَنِيعِكُمْ، حَتَّى خَشِيتُ أَنْ يُكْتَبَ عَلَيْكُمْ، وَلَوْ كُتِبَ عَلَيْكُمْ مَا قُمْتُمْ بِهِ، فَصَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ، فَإِنَّ أَفْضَلَ صَلاَةِ المَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلَّا الصَّلاَةَ المَكْتُوبَةَ»

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৬৭৯২। ইসহাক (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) চাটাই দিয়ে মসজিদে একটি কামরা তৈরী করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাতে কয়েক রাত নামায আদায় করলেন। এতে লোকেরা তার সঙ্গে সমবেত হত। তারপর এক রাতে তারা তার আওয়াজ শুনতে পেল না এবং তারা মনে করল, তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। তাদের কেউ কেউ গলা খাকার দিতে শুরু করল, যেন তিনি তাদের কাছে বেরিয়ে আসেন। তখন তিনি (নবী (ﷺ)) বললেনঃ তোমাদের নিত্য দিনের কার্যকলাপ আমি লক্ষ্য করছি, তাতে আমার ভয় হচ্ছে যে, তোমাদের উপর তা ফরয করে দেওয়া হয়। কিন্তু যদি তোমাদের উপর ফরয করে দেওয়া হয় তাহলে তোমরা তা কায়েম করবে না। অতএব হে লোকেরা! তোমরা নিজ নিজ ঘরে নামায আদায় করো। কেননা, ফরয নামায ছাড়া একজন লোকের সবচেয়ে উত্তম নামায হল যা সে তার ঘরে আদায় করে।

৬৭৯৩

7291 - حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَشْيَاءَ كَرِهَهَا، فَلَمَّا أَكْثَرُوا عَلَيْهِ المَسْأَلَةَ غَضِبَ وَقَالَ: «سَلُونِي» ، فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَبِي؟ قَالَ: «أَبُوكَ حُذَافَةُ» ، ثُمَّ قَامَ آخَرُ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَبِي؟ فَقَالَ: «أَبُوكَ سَالِمٌ مَوْلَى شَيْبَةَ» ، فَلَمَّا رَأَى عُمَرُ مَا بِوَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الغَضَبِ قَالَ: إِنَّا نَتُوبُ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬৭৯৩। ইউসুফ ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এমন কতিপয় বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হল যা তিনি অপছন্দ করেন। কিন্তু লোকেরা যখন তাকে বেশী বেশী প্রশ্ন করতে শুরু করল, তিনি রাগাম্বিত হলেন এবং বললেনঃ আমাকে প্রশ্ন কর। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পিতা কে? ডিনি বললেনঃ তোমার পিতা হল হুযাফা। এরপর আর একজন দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা শায়বার আযাদকৃত গোলাম সালিম। উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারায় রাগের লক্ষণ দেখতে পেয়ে বললেনঃ আমরা আল্লাহর নিকট তাওবা করছি।

৬৭৯৪

7292 - حَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ المَلِكِ، عَنْ وَرَّادٍ، كَاتِبِ المُغِيرَةِ، قَالَ: كَتَبَ مُعَاوِيَةُ إِلَى المُغِيرَةِ: اكْتُبْ إِلَيَّ مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ: إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ: «لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ، وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الجَدِّ مِنْكَ الجَدُّ» وَكَتَبَ إِلَيْهِ إِنَّهُ «كَانَ يَنْهَى عَنْ قِيلَ وَقَالَ، وَكَثْرَةِ السُّؤَالِ، وَإِضَاعَةِ المَالِ، وَكَانَ يَنْهَى عَنْ عُقُوقِ الأُمَّهَاتِ، وَوَأْدِ البَنَاتِ، وَمَنْعٍ وَهَاتِ»

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৬৭৯৪। মুসা (রাহঃ) ......... মুগীরা ইবনে শুবা (রাযিঃ) এর কাতিব (কেরানী) ওয়াররাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআবিয়া (রাযিঃ) মুগীরা (রাযিঃ) এর নিকট এ মর্মে লিখে পাঠালেন যে, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা কিছু শুনেছ তা আমাকে লিখে পাঠাও। তিনি বলেন, তিনি তাকে লিখলেন যে, আল্লাহর নবী (ﷺ) প্রতি নামাযের পর বলতেনঃ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই। তিনি একক, তার কোন শরীক নেই, সাম্রাজ্য কেবলমাত্র তারই, আর সকল প্রশংসা একমাত্র তারই জন্য, তিনি সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দান করবে তাকে ঠেকাবার মত কেউ নেই, আর তুমি যে বিষয়ে বাধা প্রদান করবে তা দেওয়ার মত কেউ নেই। ধন-প্রাচুর্য তোমার দরবারে প্রাচুর্যধারীদের কোনই উপকারে আসবে না। তিনি আরো লিখেছিলেন যে, নবী (ﷺ) তর্ক-বিতর্কে প্রবৃত্ত হওয়া, অধিক প্রশ্ন করা ও ধন-সস্পদ অনর্থক বিনষ্ট করা থেকে নিষেধ করতেন। আর তিনি মায়েদের অবাধ্যতা, কন্যা সন্তানদের জীবন্ত প্রোথিত করা ও প্রাপকের প্রাপ্য দিতে হাত গুটিয়ে নেয়া এবং আদায়ের ব্যাপারে হাত বাড়িয়ে দেওয়া থেকে নিষেধ করতেন। আবু আব্দুল্লাহ (বুখারী) (রাহঃ) বলেন, তারা (কাফের) জাহিলীয়াতের যুগে স্বীয়-কন্যাদেরকে হত্যা করত। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তা হারাম করে দেন।

৬৭৯৫

7293 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ عُمَرَ فَقَالَ: «نُهِينَا عَنِ التَّكَلُّفِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৭৯৫। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উমর (রাযিঃ) এর কাছে (উপবিষ্ট) ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ আমাদের কৃত্রিমতা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।

৬৭৯৬

7294 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، ح وحَدَّثَنِي مَحْمُودٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:96] خَرَجَ حِينَ زَاغَتِ الشَّمْسُ فَصَلَّى الظُّهْرَ، فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ عَلَى المِنْبَرِ، فَذَكَرَ السَّاعَةَ، وَذَكَرَ أَنَّ بَيْنَ يَدَيْهَا أُمُورًا عِظَامًا، ثُمَّ قَالَ: «مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَسْأَلَ عَنْ شَيْءٍ فَلْيَسْأَلْ عَنْهُ، فَوَاللَّهِ لاَ تَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلَّا أَخْبَرْتُكُمْ بِهِ مَا دُمْتُ فِي مَقَامِي هَذَا» ، قَالَ أَنَسٌ: فَأَكْثَرَ النَّاسُ البُكَاءَ، وَأَكْثَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَقُولَ: «سَلُونِي» ، فَقَالَ أَنَسٌ: فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ فَقَالَ: أَيْنَ مَدْخَلِي يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «النَّارُ» ، فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حُذَافَةَ فَقَالَ: مَنْ أَبِي يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «أَبُوكَ حُذَافَةُ» ، قَالَ: ثُمَّ أَكْثَرَ أَنْ يَقُولَ: «سَلُونِي سَلُونِي» ، فَبَرَكَ عُمَرُ عَلَى رُكْبَتَيْهِ فَقَالَ: رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَسُولًا، قَالَ: فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ قَالَ عُمَرُ ذَلِكَ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ عُرِضَتْ عَلَيَّ الجَنَّةُ وَالنَّارُ آنِفًا، فِي عُرْضِ هَذَا الحَائِطِ، وَأَنَا أُصَلِّي، فَلَمْ أَرَ كَاليَوْمِ فِي الخَيْرِ وَالشَّرِّ»

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৭৯৬। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) ও মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। দ্বিপ্রহরের পর নবী (ﷺ) বেরিয়ে আসলেন এবং যুহরের নামায আদায় করলেন। সালাম ফিরানোর পর তিনি মিম্বরে উঠে দাঁড়ালেন এবং কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি উল্লেখ করলেন যে, কিয়ামতের পূর্বে অনেক বড় বড় ঘটনা সংঘটিত হবে। তারপর তিনি বললেনঃ কেউ যদি আমাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে ভাল মনে করে, তাহলে সে তা করতে পারবে। আল্লাহর শপথ! আমি এখানে অবস্থান করা পর্যন্ত তোমরা আমাকে যে বিষয়েই জিজ্ঞাসা করবে, আমি তা তোমাদের অবহিত করব।
আনাস (রাযিঃ) বলেন, এতে লোকেরা খুব কাঁদতে থাকল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুব বলতে থাকলেন। তোমরা আমার কাছে প্রশ্ন কর। আনাস (রাযিঃ) বলেন, তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার আশ্রয়স্থল কোথায়? তিনি বললেনঃ জাহান্নাম। তারপর আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা হুযাফা। আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ তারপর তিনি বার বার বলতে থাকলেনঃ তোমরা আমার কাছে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা কর। তোমরা আমার কাছে প্রশ্ন কর। এতে উমর (রাযিঃ) হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন এবং বললেন, আমরা আল্লাহকে রব হিসাবে মেনে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে গ্রহণ করে এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) কে রাসুল হিসাবে বিশ্বাস করে সন্তুষ্ট আছি।
আনাস (রাযিঃ) বলেন, উমর (রাযিঃ) যখন এ কথা বললেন তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নীরব হয়ে গেলেন। তারপর নবী (ﷺ) বললেনঃ উত্তম! যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম করে বলছি, এইমাত্র আমি যখন নামাযে ছিলাম তখন এই দেওয়ালের প্রস্থে জান্নাত ও জাহান্নাম আমার সন্মুখে পেশ করা হয়েছিল। আজকের ন্যায় এমন কল্যাণ ও অকল্যাণ আমি আর দেখিনি।
৬৭৯৭

7295 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، أَخْبَرَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ أَنَسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَنْ أَبِي؟ قَالَ: «أَبُوكَ فُلاَنٌ» ، وَنَزَلَتْ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ} [المائدة: 101] الآيَةَ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৭৯৭। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহীম (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর নবী! কে আমার পিতা? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা অমুক। তারপর এই আয়াত অবতীর্ণ হলঃ (আল্লাহর বাণী) হে মুমিনরা! তোমরা সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করবে না, যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে ......... (৫ঃ ১০১)।

৬৭৯৮

7296 - حَدَّثَنَا الحَسَنُ بْنُ صَبَّاحٍ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَنْ يَبْرَحَ النَّاسُ يَتَسَاءَلُونَ حَتَّى يَقُولُوا: هَذَا اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ، فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ "

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৭৯৮। হাসান ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লোকেরা পরস্পরে প্রশ্ন করতে থাকবে, একপর্যায়ে এরকম বলে উঠবে যে, ইনি (আল্লাহ) সবকিছুরই স্রষ্টা, তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করলেন?

৬৭৯৯

7297 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَرْثٍ بِالْمَدِينَةِ، وَهُوَ يَتَوَكَّأُ عَلَى عَسِيبٍ، فَمَرَّ بِنَفَرٍ مِنَ اليَهُودِ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: سَلُوهُ عَنِ الرُّوحِ؟ وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لاَ تَسْأَلُوهُ، لاَ يُسْمِعُكُمْ مَا تَكْرَهُونَ، فَقَامُوا إِلَيْهِ فَقَالُوا: يَا أَبَا القَاسِمِ حَدِّثْنَا عَنِ الرُّوحِ، فَقَامَ سَاعَةً يَنْظُرُ، فَعَرَفْتُ أَنَّهُ يُوحَى إِلَيْهِ، فَتَأَخَّرْتُ عَنْهُ حَتَّى صَعِدَ الوَحْيُ، ثُمَّ قَالَ: " {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي} [الإسراء: 85] "

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৭৯৯। মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ ইবনে মায়মুন (রাহঃ) ......... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর সঙ্গে মদীনার এক শস্যক্ষেত্রে ছিলাম। তিনি একটি খেজুরের ডালে ভর দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় ইহুদীদের একটি দলের নিকট দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন। তাদের কেউ বলল, তাকে রূহ (আত্মা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কর। আর কেউ বলল তাকে জিজ্ঞাসা করো না, এতে তোমাদের অপছন্দনীয় উত্তর শুনতে হতে পারে। তারপর তারা তার কাছে উঠে গিয়ে বলল, হে আবুল কাসিম! আমাদের রূহ সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইলেন। আমি বুঝতে পারলাম, তাঁর কাছে ওহী নাযিল হচ্ছে , আমি তার থেকে একটু পিছনে সরে দাঁড়ালাম। ওহী অবতরণ শেষ হল। তারপর তিনি বললেনঃ (মহান আল্লাহর বাণীঃ) তোমাকে তারা রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ (১৭ঃ ৮৫)।

৩০৭৮. নবী (ﷺ) এর কাজকর্মের অনুসরণ।

باب الاِقْتِدَاءِ بِأَفْعَالِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

৬৮০০

7298 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: اتَّخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ، فَاتَّخَذَ النَّاسُ خَوَاتِيمَ مِنْ ذَهَبٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي اتَّخَذْتُ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ» فَنَبَذَهُ، وَقَالَ: «إِنِّي لَنْ أَلْبَسَهُ أَبَدًا» ، فَنَبَذَ النَّاسُ خَوَاتِيمَهُمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৮০০। আবু নুআয়ম (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একটি স্বর্ণের আংটি বানিয়ে ছিলেন। (তার দেখাদেখি) লোকেরাও স্বর্ণের আংটি বানিয়েছিল। এরপর (একদিন) নবী (ﷺ) বললেনঃ আমি অবশ্য স্বর্ণের আংটি বানিয়েছিলাম, তারপর তিনি তা ছুড়ে ফেলে দিলেন এবং বললেনঃ আমি আর কোন দিনই তা পরিধান করব না। ফলে লোকেরা তাদের আংটিগুলো ছুড়ে ফেলে দিল।

৩০৭৯. দ্বীনের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত কঠোরতা অবলম্বন, তর্ক-বিতর্কে প্রবৃত্ত হওয়া, বাড়াবাড়ি করা এবং বিদআত অপছন্দীয়। কেননা, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ হে কিতাবীরা! তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ব্যতীত বলো না ....... (৪ঃ ১৭১)।

بَابُ مَا يُكْرَهُ مِنَ التَّعَمُّقِ وَالتَّنَازُعِ فِي العِلْمِ، وَالغُلُوِّ فِي الدِّينِ وَالبِدَعِ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {يَا أَهْلَ الكِتَابِ لاَ تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلاَ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الحَقَّ} [النساء: 171]

৬৮০১

7299 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «لاَ تُوَاصِلُوا» ، قَالُوا: إِنَّكَ تُوَاصِلُ، قَالَ: «إِنِّي لَسْتُ مِثْلَكُمْ، إِنِّي أَبِيتُ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِي» ، فَلَمْ يَنْتَهُوا عَنِ الوِصَالِ، قَالَ: فَوَاصَلَ بِهِمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَيْنِ أَوْ لَيْلَتَيْنِ، ثُمَّ رَأَوُا الْهِلَالَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ تَأَخَّرَ الهِلاَلُ لَزِدْتُكُمْ» كَالْمُنَكِّلِ لَهُمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮০১। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা (ইফতার না করে) লাগাতার রোযা পালন করো না। সাহাবীরা বললেন, আপনি তো (ইফতার না করে) লাগাতার রোযা পালন করেন। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের মতো নই। আমি এভাবে রাত যাপন করি যে, আমার প্রভু আমাকে পানাহার করান। কিন্তু তাঁরা লাগাতার রোযা পালন করা থেকে বিরত হল না। ফলে তাদের সঙ্গে নবী (ﷺ)ও দুই দিন অথবা (বর্ণনাকারী বলেছিলেন) দু’রাত লাগাতার রোযা পালন করেন। এরপর তারা (ঈদের) চাঁদ দেখতে পেলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ যদি চাঁদ (আরও কয়েক দিন) দেরী করে উদিত হত, তাহলে আমিও (লাগাতার রোযা পালন করে) তোমাদের রোযার সময়কে দীর্ঘায়িত করতাম, যেন তিনি তাঁদের কাজকে পছন্দ করলেন না।

৩০৭৯. দ্বীনের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত কঠোরতা অবলম্বন, তর্ক-বিতর্কে প্রবৃত্ত হওয়া, বাড়াবাড়ি করা এবং বিদআত অপছন্দীয়।

باب مَا يُكْرَهُ مِنَ التَّعَمُّقِ وَالتَّنَازُعِ فِي الْعِلْمِ وَالْغُلُوِّ فِي الدِّينِ وَالْبِدَعِ

৬৮০২

7300 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ التَّيْمِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: خَطَبَنَا عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَلَى مِنْبَرٍ مِنْ آجُرٍّ وَعَلَيْهِ سَيْفٌ فِيهِ صَحِيفَةٌ مُعَلَّقَةٌ، فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا عِنْدَنَا مِنْ كِتَابٍ يُقْرَأُ إِلَّا كِتَابُ اللَّهِ، وَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ فَنَشَرَهَا، فَإِذَا فِيهَا أَسْنَانُ الإِبِلِ، وَإِذَا فِيهَا: «المَدِينَةُ حَرَمٌ مِنْ عَيْرٍ إِلَى كَذَا، فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلًا» ، وَإِذَا فِيهِ: «ذِمَّةُ المُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ، يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ، فَمَنْ أَخْفَرَ مُسْلِمًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلًا» ، وَإِذَا فِيهَا: «مَنْ وَالَى قَوْمًا بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلًا»

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬৮০২। উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস (রাহঃ) ......... ইবরাহীম তায়মী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন যে, একবার আলী (রাযিঃ) পাকা ইটে নির্মিত একটি মিম্বরে আরোহণ করে আমাদের খুতবা পাঠ করলেন। তাঁর সঙ্গে একটি তরবারী ছিল, যার মাঝে একটি সহীফা ঝুলন্ত ছিল। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমাদের নিকট আল্লাহর কিতাব এবং যা এই সহীফাতে লিপিবদ্ধ আছে এ ছাড়া অন্য এমন কোন কিতাব নেই যা পাঠ করা যেতে পারে। তারপর তিনি তা খুললেন। তাতে উটের বয়স সম্পর্কে লেখা ছিল এবং লেখা ছিল যে, ″আয়র″ (পর্বত) থেকে অমুক স্থান পর্যন্ত মদীনা হারাম (পবিত্র এলাকা) বলে বিবেচিত হবে। যে কেউ এখানে কোন অন্যায় করবে তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতাকুল ও সমস্ত মানব সম্প্রদায়ের অভিসস্পাত। আর আল্লাহ তা'আলা তার ফরয ও নফল কোন ইবাদতই কবুল করবেন না এবং তাতে আরও ছিল যে, এখানকার সকল মুসলমানের নিরাপত্তা একই পর্যায়ের। একজন-নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তিও (অন্য কাউকে) নিরাপত্তা দান করতে পারবে। যদি কোন ব্যক্তি অপর একজন মুসলমানের প্রদত্ত নিরাপত্তাকে লংঘন করে, তাহলে তার উপর আল্লাহর, ফিরিশতাকুলের ও সমস্ত মানব সম্প্রদায়ের লানত (অভিসস্পাত)। আল্লাহ তাআলা তার ফরয ও নফল কোন ইবাদতই কবুল করবেন না। তাতে আরও ছিল, যদি কোন ব্যক্তি তার (আযাদকারী) মনিবের অনুমতি ছাড়া অন্য কাউকে নিজের (গোলাম থাকাকালীন সময়ের) মনিব বলে উল্লেখ করে, তাহলে তার উপর আল্লাহর, ফিরিশতাকুলের ও সমস্ত মানব সম্প্রদায়ের অভিসম্পাত। আর আল্লাহ তাআলা তার ফরয, নফল কোন ইবাদতই গ্রহণ করবেন না।

৬৮০৩

7301 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: صَنَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا تَرَخَّصَ فِيهِ، وَتَنَزَّهَ عَنْهُ قَوْمٌ، فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: «مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَتَنَزَّهُونَ عَنِ الشَّيْءِ أَصْنَعُهُ، فَوَاللَّهِ إِنِّي أَعْلَمُهُمْ بِاللَّهِ وَأَشَدُّهُمْ لَهُ خَشْيَةً»

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৮০৩। উমর ইবনে হাফস (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) নিজে একটি কাজ করলেন এবং তাতে তিনি অবকাশ দিলেন। তবে কিছু লোক এর থেকে বিরত রইল। নবী (ﷺ) এর কাছে এ সংবাদ পৌছল। তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানা পাঠ করলেন, তারপর বললেনঃ লোকদের কি হল যে, তারা এমন কাজ থেকে বিরত থাকে যা আমি নিজে করি। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহ সম্পর্কে তাদের থেকে অধিক জানি এবং আমি তাদের তুলনায় আল্লাহকে অধিক ভয় করি।

৬৮০৪

7302 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ: كَادَ الخَيِّرَانِ أَنْ يَهْلِكَا أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ، لَمَّا قَدِمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفْدُ بَنِي تَمِيمٍ، أَشَارَ أَحَدُهُمَا بِالأَقْرَعِ بْنِ حَابِسٍ التَّمِيمِيِّ الحَنْظَلِيِّ أَخِي بَنِي مُجَاشِعٍ، وَأَشَارَ الآخَرُ بِغَيْرِهِ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ لِعُمَرَ: إِنَّمَا أَرَدْتَ خِلاَفِي، فَقَالَ عُمَرُ: مَا أَرَدْتُ خِلاَفَكَ، فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَزَلَتْ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ} [الحجرات: 2] إِلَى قَوْلِهِ {عَظِيمٌ} [الحجرات: 3] ، قَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ، فَكَانَ عُمَرُ بَعْدُ، وَلَمْ يَذْكُرْ [ص:98] ذَلِكَ عَنْ أَبِيهِ يَعْنِي أَبَا بَكْرٍ، إِذَا حَدَّثَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَدِيثٍ حَدَّثَهُ كَأَخِي السِّرَارِ لَمْ يُسْمِعْهُ حَتَّى يَسْتَفْهِمَهُ

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলায়কা (রহঃ)

৬৮০৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুকাতিল (রাহঃ) ......... ইবনে আবু মুলায়কা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুইজন অতি ভাল লোক ধ্বংসের কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিলেন। তারা হলেন আবু বকর (রাযিঃ) ও উমর (রাযিঃ)। বনী তামীমের প্রতিনিধি দল যখন নবী (ﷺ) এর কাছে আসল, তখন তাদের একজন [উমর (রাযিঃ)] আকরা ইবনে হাবিস হানযালী নামে বনী মুজাশে গোত্রের ভ্রাতা জনৈক ব্যক্তির দিকে ইশারা করলেন, অপরজন [আবু বকর (রাযিঃ)] অন্য আর একজনের প্রতি ইশারা করলেন। এতে আবু বকর (রাযিঃ) উমর (রাযিঃ) কে বললেন, আপনার ইচ্ছা হল আমার বিরোধিতা করা। উমর (রাযিঃ) বললেন, আমি আপনার বিরোধিতার ইচ্ছা করিনি। নবী (ﷺ) এর সামনে তাঁদের দু’জনেরই আওয়াজ বুলন্দ হয়ে যায়। ফলে (নিন্নোক্ত আয়াতটি) নাযিল হয়ঃ হে মুমিনগন! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উচু করবে না ......... (৪৯ঃ ২)। ইবনে আবু মুলায়কা বলেনঃ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, এরপরে উমর (রাযিঃ) যখন নবী (ﷺ) এর সাথে কোন কথা বলতেন, তখন গোপন বিষয়ের আলাপকারীর ন্যায় চুপেচুপে বলতেন, এমন কি তা শোনা যেত না, যতক্ষণ নবী (ﷺ) তার থেকে পুনরায় জিজ্ঞাসা না করতেন।
এ হাদীসের রাবী ইবনে যুবাইর তার পিতা অর্থাৎ নানা আবু বকর (রাযিঃ) থেকে উল্লেখ করেননি।
৬৮০৫

7303 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أُمِّ المُؤْمِنِينَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي مَرَضِهِ: «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ» ، قَالَتْ عَائِشَةُ: قُلْتُ: إِنَّ أَبَا بَكْرٍ إِذَا قَامَ فِي مَقَامِكَ لَمْ يُسْمِعِ النَّاسَ مِنَ البُكَاءِ، فَمُرْ عُمَرَ فَلْيُصَلِّ لِلنَّاسِ، فَقَالَ: «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ» ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: فَقُلْتُ لِحَفْصَةَ: قُولِي إِنَّ أَبَا بَكْرٍ إِذَا قَامَ فِي مَقَامِكَ لَمْ يُسْمِعِ النَّاسَ مِنَ البُكَاءِ، فَمُرْ عُمَرَ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ، فَفَعَلَتْ حَفْصَةُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّكُنَّ لَأَنْتُنَّ صَوَاحِبُ يُوسُفَ، مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ لِلنَّاسِ» ، فَقَالَتْ حَفْصَةُ لِعَائِشَةَ: مَا كُنْتُ لِأُصِيبَ مِنْكِ خَيْرًا

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৮০৫। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর অসুস্থতার সময় বললেনঃ তোমরা আবু বকরকে বল, লোকদের নিয়ে যেন নামায আদায় করে নেন। আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম যে, আবু বকর (রাযিঃ) যদি আপনার স্থানে দাঁড়ান তাহলে কান্নার কারণে মানুষকে তার আওয়াজ শুনতে পারবেন না। সুতরাং আপনি উমর (রাযিঃ) কে নির্দেশ দিন, তিনি যেন লোকদের নিয়ে নামায আদায় করেন। তিনি পুনরায় বললেনঃ তোমরা আবু বকরকে বল, যেন তিনি লোকদের নিয়ে নামায আদায় করেন। আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, আমি হাফসা (রাযিঃ) কে বললাম, তুমি বল যে, আবু বকর আপনার জায়গায় দাঁড়ালে কান্নার কারণে লোকদের তার আওয়াজ শোনাতে পারবেন না। সুতরাং আপনি উমর (রাযিঃ) কে নির্দেশ দিন। তিনি যেন লোকদের নিয়ে নামায আদায় করেন। হাফসা (রাযিঃ) তাই করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তো ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর (বিভ্রান্তকারিণী) মহিলাদের ন্যায়। আবু বকরকে বল, তিনি যেন লোকদের নিয়ে নামায আদায় করেন। হাফসা (রাযিঃ) আয়েশা (রাযিঃ) কে বললেন, আমি আপনার কাছ থেকে কখনই ভাল কিছু পাওয়ার মত নই।

৬৮০৬

7304 - حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذِئْبٍ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ: جَاءَ عُوَيْمِرٌ العَجْلاَنِيُّ، إِلَى عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ، فَقَالَ: أَرَأَيْتَ رَجُلًا وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا فَيَقْتُلُهُ، أَتَقْتُلُونَهُ بِهِ، سَلْ لِي يَا عَاصِمُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَأَلَهُ، فَكَرِهَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المَسَائِلَ، وَعَابَهَا، فَرَجَعَ عَاصِمٌ، فَأَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَرِهَ المَسَائِلَ، فَقَالَ عُوَيْمِرٌ: وَاللَّهِ لَآتِيَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَاءَ وَقَدْ أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى القُرْآنَ خَلْفَ عَاصِمٍ، فَقَالَ لَهُ: «قَدْ أَنْزَلَ اللَّهُ فِيكُمْ قُرْآنًا» فَدَعَا بِهِمَا، فَتَقَدَّمَا، فَتَلاَعَنَا، ثُمَّ قَالَ عُوَيْمِرٌ: كَذَبْتُ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنْ أَمْسَكْتُهَا، فَفَارَقَهَا وَلَمْ يَأْمُرْهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِفِرَاقِهَا، فَجَرَتِ السُّنَّةُ فِي المُتَلاَعِنَيْنِ، وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «انْظُرُوهَا، فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَحْمَرَ قَصِيرًا مِثْلَ وَحَرَةٍ، فَلاَ أُرَاهُ إِلَّا قَدْ كَذَبَ، وَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَسْحَمَ أَعْيَنَ ذَا أَلْيَتَيْنِ، فَلاَ أَحْسِبُ إِلَّا قَدْ صَدَقَ عَلَيْهَا» فَجَاءَتْ بِهِ عَلَى الأَمْرِ المَكْرُوهِ

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৬৮০৬। আদম (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে সা’দ সাঈদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উওয়ায়মির (রাযিঃ) আসিম ইবনে আদীর কাছে এসে বলল, আচ্ছা বলুন তো, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অন্য কাউকে পায় এবং তাকে হত্যা করে ফেলে, তাহলে এর জন্য (কিসাস হিসাবে) আপনারা কি তাকে হত্যা করবেন? হে আসিম! আপনি আমার জন্য এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করুন। তিনি জিজ্ঞাসা করলে নবী (ﷺ) এহেন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করাকে অপছন্দ করলেন এবং দূষণীয় মনে করলেন। আসিম (রাযিঃ) ফিরে এসে তাকে জানাল যে, নবী (ﷺ) বিষয়টিকে খারাপ মনে করেছেন। উওয়ায়মির (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি নিজেই নবী (ﷺ) এর নিকট যাব। তারপর তিনি আসলেন। আসিম (রাযিঃ) চলে যাওয়ার পরেই আল্লাহ তাআলা কুরআন নাযিল করেছেন। নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা কুরআনের আয়াত নাযিল করেছেন। তিনি তাদের দু’জনকেই (সে ও তার স্ত্রী) ডাকলেন। তারা উপস্থিত হল এবং লিআন করল। তারপর উওয়ায়মির (রাযিঃ) বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি আমি তাকে আটকিয়ে রাখি তাহলে তো আমি তার উপর মিথ্যা আরোপ করেছি, এ বলে তিনি তার সাথে বিবাহ বন্ধনকে ছিন্ন করলেন। অবশ্য নবী (ﷺ) তাকে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করতে বলেননি। পরে লিআন কারীদের মাঝে (বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করার) এ প্রথাই প্রচলিত হয়ে পড়ে। নবী (ﷺ) (মহিলাটি সম্পর্কে) বললেনঃ একে লক্ষ্য রেখ, যদি সে খাটো ওয়াহারার (এক জাতীয় পোকা) ন্যায় লালচে সন্তান প্রসব করে, তাহলে আমি মনে করব উওয়ায়মির মিথ্যাই বলেছে। আর যদি সে কাল চোখবিশিষ্ট ও অপেক্ষাকৃত বৃহৎ নিতম্বধারী সন্তান প্রসব করে, তাহলে মনে করব উওয়ায়মির তার সম্পর্কে সত্যই বলেছে। পরে সে অবাঞ্ছিত সন্তানই প্রসব করে।

৬৮০৭

7305 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَوْسٍ النَّصْرِيُّ، وَكَانَ مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ ذَكَرَ لِي ذِكْرًا مِنْ ذَلِكَ، فَدَخَلْتُ عَلَى مَالِكٍ فَسَأَلْتُهُ، فَقَالَ: انْطَلَقْتُ حَتَّى أَدْخُلَ عَلَى عُمَرَ أَتَاهُ حَاجِبُهُ يَرْفَا، فَقَالَ: هَلْ لَكَ فِي عُثْمَانَ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَالزُّبَيْرِ، وَسَعْدٍ يَسْتَأْذِنُونَ، قَالَ: نَعَمْ، فَدَخَلُوا فَسَلَّمُوا وَجَلَسُوا، فَقَالَ: هَلْ لَكَ فِي عَلِيٍّ، وَعَبَّاسٍ، فَأَذِنَ لَهُمَا، قَالَ العَبَّاسُ: يَا أَمِيرَ المُؤْمِنِينَ، اقْضِ بَيْنِي وَبَيْنَ الظَّالِمِ اسْتَبَّا، فَقَالَ الرَّهْطُ: - عُثْمَانُ وَأَصْحَابُهُ -: يَا أَمِيرَ المُؤْمِنِينَ اقْضِ بَيْنَهُمَا، وَأَرِحْ أَحَدَهُمَا [ص:99] مِنَ الآخَرِ، فَقَالَ: اتَّئِدُوا، أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ» يُرِيدُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَفْسَهُ؟ قَالَ الرَّهْطُ: قَدْ قَالَ ذَلِكَ، فَأَقْبَلَ عُمَرُ عَلَى عَلِيٍّ، وَعَبَّاسٍ فَقَالَ: أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ هَلْ تَعْلَمَانِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ذَلِكَ؟ قَالاَ: نَعَمْ، قَالَ عُمَرُ: فَإِنِّي مُحَدِّثُكُمْ عَنْ هَذَا الأَمْرِ، إِنَّ اللَّهَ كَانَ خَصَّ رَسُولَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا المَالِ بِشَيْءٍ لَمْ يُعْطِهِ أَحَدًا غَيْرَهُ، فَإِنَّ اللَّهَ يَقُولُ: {مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ} [الحشر: 6] الآيَةَ، فَكَانَتْ هَذِهِ خَالِصَةً لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ وَاللَّهِ مَا احْتَازَهَا دُونَكُمْ، وَلاَ اسْتَأْثَرَ بِهَا عَلَيْكُمْ، وَقَدْ أَعْطَاكُمُوهَا وَبَثَّهَا فِيكُمْ حَتَّى بَقِيَ مِنْهَا هَذَا المَالُ، وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ نَفَقَةَ سَنَتِهِمْ مِنْ هَذَا المَالِ، ثُمَّ يَأْخُذُ مَا بَقِيَ فَيَجْعَلُهُ مَجْعَلَ مَالِ اللَّهِ، فَعَمِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَلِكَ حَيَاتَهُ، أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ: هَلْ تَعْلَمُونَ ذَلِكَ؟ فَقَالُوا: نَعَمْ، ثُمَّ قَالَ لِعَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ: أَنْشُدُكُمَا اللَّهَ، هَلْ تَعْلَمَانِ ذَلِكَ؟ قَالاَ: نَعَمْ، ثُمَّ تَوَفَّى اللَّهُ نَبِيَّهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَبَضَهَا أَبُو بَكْرٍ فَعَمِلَ فِيهَا بِمَا عَمِلَ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَنْتُمَا حِينَئِذٍ - وَأَقْبَلَ عَلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ - تَزْعُمَانِ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ فِيهَا كَذَا، وَاللَّهُ يَعْلَمُ أَنَّهُ فِيهَا صَادِقٌ بَارٌّ رَاشِدٌ تَابِعٌ لِلْحَقِّ، ثُمَّ تَوَفَّى اللَّهُ أَبَا بَكْرٍ، فَقُلْتُ: أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبِي بَكْرٍ، فَقَبَضْتُهَا سَنَتَيْنِ أَعْمَلُ فِيهَا بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ جِئْتُمَانِي وَكَلِمَتُكُمَا عَلَى كَلِمَةٍ وَاحِدَةٍ، وَأَمْرُكُمَا جَمِيعٌ، جِئْتَنِي تَسْأَلُنِي نَصِيبَكَ مِنَ ابْنِ أَخِيكِ، وَأَتَانِي هَذَا يَسْأَلُنِي نَصِيبَ امْرَأَتِهِ مِنْ أَبِيهَا، فَقُلْتُ: إِنْ شِئْتُمَا دَفَعْتُهَا إِلَيْكُمَا عَلَى أَنَّ عَلَيْكُمَا عَهْدَ اللَّهِ وَمِيثَاقَهُ، لَتَعْمَلاَنِ فِيهَا بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَبِمَا عَمِلَ فِيهَا أَبُو بَكْرٍ، وَبِمَا عَمِلْتُ فِيهَا مُنْذُ وَلِيتُهَا، وَإِلَّا فَلاَ تُكَلِّمَانِي فِيهَا، فَقُلْتُمَا: ادْفَعْهَا إِلَيْنَا بِذَلِكَ، فَدَفَعْتُهَا إِلَيْكُمَا بِذَلِكَ، أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ، هَلْ دَفَعْتُهَا إِلَيْهِمَا بِذَلِكَ؟ قَالَ الرَّهْطُ: نَعَمْ، فَأَقْبَلَ عَلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ، فَقَالَ: أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ، هَلْ دَفَعْتُهَا إِلَيْكُمَا بِذَلِكَ؟ قَالاَ: نَعَمْ، قَالَ: أَفَتَلْتَمِسَانِ مِنِّي قَضَاءً غَيْرَ ذَلِكَ، فَوَالَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ، لاَ أَقْضِي فِيهَا قَضَاءً غَيْرَ ذَلِكَ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ، فَإِنْ عَجَزْتُمَا عَنْهَا فَادْفَعَاهَا [ص:100] إِلَيَّ، فَأَنَا أَكْفِيكُمَاهَا

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৬৮০৭। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালিক ইবনে আওস নযরী (রাহঃ) আমাকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অবশ্য মুহাম্মাদ ইবনে জুবাইর ইবনে মুতঈম এ সম্পর্কে কিছু কথা বলেছিলেন। পরে আমি মালিকের নিকট যাই এবং তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তখন তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে তার নিকটে উপস্থিত হলাম। এমন সময় তার দাররক্ষক ইয়ারফা এসে বলল, উসমান, আব্দুর রহমান, যুবাইর এবং সা’দ (রাযিঃ) আসতে চাচ্ছেন। আপনার পক্ষ থেকে অনুমতি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর তাঁরা প্রবেশ করলেন এবং সালাম দিয়ে আসন গ্রহণ করলেন। দাররক্ষক (পুনরায় এসে) বলল, আলী এবং আব্বাসের ব্যাপারে আপনার অনুমতি আছে কি? তিনি তাদের উভয়কে অনুমতি দিলেন। আব্বাস (রাযিঃ) এসে বললেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! আমার ও সীমালংঘননকারীর মাঝে ফায়সালা করে দিন। এবং তারা পরস্পরে গালমন্দ করলেন। তখন দলটি বললেন, উসমান ও তার সঙ্গীরা, হে আমীরুল মু'মিনীন! এ দু’জনের মাঝে ফায়সালা করে দিয়ে একজনকে অপরজন থেকে শান্তি দিন। উমর (রাযিঃ) বললেন, আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন। আমি আপনাদেরকে সেই আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি যার নামে আসমান ও যমীন স্বস্থানে বিদ্যমান, আপনারা কি এ কথা জানেন? যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেনঃ আমাদের সস্পদ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টন হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সাদ্‌কা হিসাবে গণ্য হয়। এ কথা দ্বারা নবী (ﷺ) নিজেকেই উদ্দেশ্য করেছিলেন। (আগত) দলের সকলেই বললেন, হ্যাঁ তিনি এ কথা বলেছিলেন। তারপর উমর (রাযিঃ) আলী ও আব্বাস (রাযিঃ) এর দিকে ফিরে বললেন, আপনাদের দু’জনকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথা বলেছিলেন? তাঁরা দু’জনেই বললেনঃ হ্যাঁ। উমর (রাযিঃ) বললেন, আমি আপনাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা এই সম্পদের একাংশ তাঁর রাসূল (ﷺ) এর জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছিলেন, অপর কারো জন্য দেওয়া হয়নি। এ মর্মে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহ ইহুদীদের কাছ থেকে তার রাসূলকে যে ফায় দিয়েছেন তার জন্য তোমরা ঘোড়া কিংবা উটে আরোহণ করে যুদ্ধ করনি (৫৯ঃ ৬)। সুতরাং এ সম্পদ একমাত্র রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্যই নির্দিষ্ট ছিল। তারপর আল্লাহর কসম! তিনি আপনাদেরকে বাদ দিয়ে এককভাবে নিজের জন্য তা সষ্ণিত করে রাখেননি, কিংবা এককভাবে আপনাদেরকেও দিয়ে দেননি। বরং তিনি আপনাদের সকলকেই তা থেকে প্রদান করেছেন এবং সকলের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন। অবশেষে তা থেকে এই পরিমাণ সস্পদ অবশিষ্ট রয়েছে। নবী (ﷺ) এই সস্পদ থেকে তার পরিবার-পরিজনের জন্য তাদের বছরের খরচ দিতেন। এরপর যা অবশিষ্ট থাকত তা আল্লাহর মাল যে পথে ব্যয় হয় সে পথে ব্যয়ের জন্য রেখে দিতেন।
নবী (ﷺ) তাঁর জীবদ্দশায় এরূপ করতেন। আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনারা কি এ সম্পর্কে অবগত আছেন? সকলেই বললেন, হ্যাঁ। তারপর আলী (রাযিঃ) ও আব্বাস (রাযিঃ) কে লক্ষ্য করে বললেন, আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাদের দু’জনকে জিজ্ঞাসা করছি, আপনারা কি এ সম্পর্কে জানেন? তারা দু’জনেই বললেন, হ্যাঁ। এরপর আল্লাহ তার নবী (ﷺ) কে ওফাত দান করলেন। তখন আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্থলাভিষিক্ত। অতএব তিনি সে সম্পদ অধিগ্রহণ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে খাতে এ সম্পদ খরচ করতেন তিনিও হুবহু সেভাবেই খরচ করতেন। আপনারা তখন ছিলেন। তারপর আলী (রাযিঃ) ও আব্বাস (রাযিঃ) এর দিকে ফিরে বললেন, আপনারা দু’জন তখনও মনে করতেন যে আবু বকর (রাযিঃ) এ ব্যাপারে এরূপ ছিলেন। আল্লাহ জানেন তিনি এ ব্যাপারে সত্যবাদী, সৎপরায়ণ, ন্যায়নিষ্ঠ ও হকের অনুসারী ছিলেন। তারপর আল্লাহ তাআ’লা আবু বকর (রাযিঃ) কেও ওফাত দিলেন। তখন আমি বললাম, এখন আমি আবু বকর ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং দু’বছর আমি তা আমার তত্ত্বাবধানে রাখলাম এবং আবু বকর (রাযিঃ) ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা যে খাতে ব্যয় করতেন, আমিও অনুরূপ করতে লাগলাম। তারপর আপনারা দু’জন আমার কাছে এলেন। আপনাদের দু’জনের একই কথা ছিল, দাবিও ছিল অভিন্ন। আপনি এসেছিলেন স্বীয় ভ্রাতুষ্পুত্র থেকে নিজের অংশ আদায় করে নেয়ার দাবি নিয়ে, আর ইনি (আলী) এসেছিলেন তাঁর স্ত্রীর পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত অংশ আদায় করে নেয়ার দাবি নিয়ে। আমি বললাম, যদি আপনারা চান তাহলে আমি আপনাদেরকে তা দিয়ে দিতে পারি, তবে এ শর্তে যে, আপনারা আল্লাহর নামে এই অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হবেন যে, এ সস্পদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) যে ভাবে ব্যয় করতেন এবং আমি এর দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর যেভাবে তা ব্যয় করেছি, আপনারাও অনুরূপভাবে ব্যয় করবেন। তখন আপনারা দু’জনে বলেছিলেন, এ শর্তেই আপনি তা আমাদের হাতে অর্পণ করুন। ফলে আমি তা আপনাদের কাছে সোপর্দ করে দিয়েছিলাম। আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাদেরকে জিজ্ঞাসা করছি, আমি কি সেই শর্তের উপর এদের কাছে সে সম্পদ দিয়ে দেইনি? সকলেই বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি আলী (রাযিঃ) ও আব্বাস (রাযিঃ) এর দিকে ফিরে বললেন, আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাদের দু’জনকে জিজ্ঞাসা করছি, আমি কি ঐ শর্তে আপনাদেরকে সে সস্পদ দিয়ে দেইনি? তারা দু’জন বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ আপনারা কি আমার কাছ থেকে এর ভিন্ন কোন মিমাংসা পেতে চান? সে সত্তার কসম করে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ ও যমীন স্বস্থানে বিদ্যমান, কিয়ামতের পূর্বে আমি এ ব্যাপারে নতুন কোন মিমাংসা করব না। যদি আপনারা এর তত্ত্বাবধানে অক্ষম হন, তাহলে তা আমার নিকট দিয়ে দিন। আপনাদের দু’জনের স্থলে আমি একাই এর তত্ত্বাবধায়ের জন্য যথেষ্ট।

৩০৮০. বিদআতের প্রবর্তকদের আশ্রয়দানকারীর অপরাধ। আলী (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে এ মর্মে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।

باب إِثْمِ مَنْ آوَى مُحْدِثًا رَوَاهُ عَلِيٌّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

৬৮০৮

7306 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، قَالَ: قُلْتُ لِأَنَسٍ: أَحَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المَدِينَةَ؟ قَالَ: «نَعَمْ، مَا بَيْنَ كَذَا إِلَى كَذَا، لاَ يُقْطَعُ شَجَرُهَا، مَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ» ، قَالَ عَاصِمٌ: فَأَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ أَنَسٍ أَنَّهُ قَالَ: «أَوْ آوَى مُحْدِثًا»

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৮০৮। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আসিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবী (ﷺ) কি মদীনাকে হারাম (সংরক্ষিত এলাকা) হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন। উত্তরে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, অমুক স্থান থেকে অমুক স্থান পর্যন্ত। এ এলাকার কোন গাছ কাটা যাবে না, আর যে ব্যক্তি এখানে বিদআত সৃষ্টি করবে তার উপর আল্লাহ তাআলা, ফিরিশতা ও সকল মানব সম্প্রদায়ের লানত।
আসিম বলেনঃ আমাকে মুসা ইবনে আনাস বলেছেন, বর্ণনাকারী أَوْ آوَى مُحْدِثًا 'কিংবা বিদআত সৃষ্টিকারীকে আশ্রয় দেয়' বলেছেন।

৩০৮১. মনগড়া মত ও ভিত্তিহীন কিয়াস নিন্দনীয়। আর আল্লাহ তাআলার বাণীঃ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না....... (১৭ঃ ৩৬)।

بَابُ مَا يُذْكَرُ مِنْ ذَمِّ الرَّأْيِ وَتَكَلُّفِ القِيَاسِ{وَلاَ تَقْفُ} [الإسراء: 36] «لاَ تَقُلْ» {مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} [هود: 46]

৬৮০৯

7307 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ تَلِيدٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُرَيْحٍ، وَغَيْرُهُ عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ: حَجَّ عَلَيْنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ لاَ يَنْزِعُ العِلْمَ بَعْدَ أَنْ أَعْطَاكُمُوهُ انْتِزَاعًا، وَلَكِنْ يَنْتَزِعُهُ مِنْهُمْ مَعَ قَبْضِ العُلَمَاءِ بِعِلْمِهِمْ، فَيَبْقَى نَاسٌ جُهَّالٌ، يُسْتَفْتَوْنَ فَيُفْتُونَ بِرَأْيِهِمْ، فَيُضِلُّونَ وَيَضِلُّونَ» ، فَحَدَّثْتُ بِهِ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو حَجَّ بَعْدُ فَقَالَتْ: يَا ابْنَ أُخْتِي انْطَلِقْ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ فَاسْتَثْبِتْ لِي مِنْهُ الَّذِي حَدَّثْتَنِي عَنْهُ، فَجِئْتُهُ فَسَأَلْتُهُ فَحَدَّثَنِي بِهِ كَنَحْوِ مَا حَدَّثَنِي، فَأَتَيْتُ عَائِشَةَ فَأَخْبَرْتُهَا فَعَجِبَتْ فَقَالَتْ: وَاللَّهِ لَقَدْ حَفِظَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৬৮০৯। সাঈদ ইবনে তালীদ (রাহঃ) ......... উরওয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) আমাদের এ দিক দিয়ে হজ্জে যাচ্ছিলেন। আমি শুনতে পেলাম, তিনি বলছেন যে, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে যে ইলম দান করেছেন, তা হঠাৎ করে ছিনিয়ে নেবেন না বরং ইলমের বাহক উলামায়ে কিরামকে তাদের ইলমসহ ক্রমশ তুলে নেবেন। তখন শুধুমাত্র মূর্খ লোকেরা অবশিষ্ট থাকবে। তাদের কাছে ফাতওয়া চাওয়া হবে। তারা মনগড়া ফাতওয়া দেবে। ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে। উরওয়া বলেন, আমি এ হাদীসটি নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) কে বললাম। তারপর আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) পুনরায় হজ্জ করতে এলেন। তখন আয়েশা (রাযিঃ) আমাকে বললেন, হে ভাগ্নে! তুমি আব্দুল্লাহর কাছে যাও এবং তার থেকে যে হাদীসটি তুমি আমাকে বর্ণনা করেছিলে, তার সত্যতা পুনরায় তাঁর নিকট থেকে যাচাই করে আস। আমি তার নিকট গেলাম এবং জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে ঠিক সেরূপই বর্ণনা করলেন, যেরূপ পূর্বে বর্ণনা করেছিলেন। আমি আয়েশা (রাযিঃ) এর কাছে ফিরে এসে এ কথা জানালাম। তিনি আশ্চর্য হয়ে গেলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম! আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) ঠিকই স্মরণ রেখেছে।

৬৮১০

7308 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا أَبُو حَمْزَةَ، سَمِعْتُ الأَعْمَشَ، قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا وَائِلٍ، هَلْ شَهِدْتَ صِفِّينَ؟ قَالَ: نَعَمْ فَسَمِعْتُ سَهْلَ بْنَ حُنَيْفٍ، يَقُولُ ح وحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ: قَالَ سَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّهِمُوا رَأْيَكُمْ عَلَى دِينِكُمْ، لَقَدْ رَأَيْتُنِي يَوْمَ أَبِي جَنْدَلٍ، وَلَوْ أَسْتَطِيعُ أَنْ أَرُدَّ أَمْرَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ لَرَدَدْتُهُ، وَمَا وَضَعْنَا سُيُوفَنَا عَلَى عَوَاتِقِنَا إِلَى أَمْرٍ يُفْظِعُنَا، إِلَّا أَسْهَلْنَ بِنَا إِلَى أَمْرٍ نَعْرِفُهُ، غَيْرَ هَذَا الأَمْرِ» ، قَالَ: وَقَالَ أَبُو وَائِلٍ «شَهِدْتُ صِفِّينَ وَبِئْسَتْ صِفُّونَ»

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে হুনায়ফ রাযি.

৬৮১০। আবদান (রাহঃ) ......... আমাশ (রাহঃ) বলেন। আমি আবু ওয়ায়েলকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি সিফফীনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। মুসা ইবনে ইসমাঈল সাহল ইবনে হুনায়ফ (রাযিঃ) বলেন, হে লোকেরা! দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের মনগড়া মতামতকে নির্ভরযোগ্য মনে করো না। কেননা আবু জানদাল দিবসে (হুদায়বিয়ার দিবসে) আমার এমন মনে হচ্ছিল যে, যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করতে পারতাম, তাহলে অবশ্যই আমি তা প্রত্যাখ্যান করতাম। যে কোন ভয়ষ্কর যুদ্ধের জন্য আমরা যখনই তরবারী কাঁধে ধারণ করেছি, তখনই তরবারী আমাদের কাঙ্ক্ষিত লড়ার দিকে পথ সুগম করে দিয়েছে। বর্তমান বিষয়টি স্বতস্ত্র। রাবী বলেন, আবু ওয়ায়েল (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমি সিফফীনের যুদ্ধে শরীক ছিলাম; বড়ই মন্দ ছিল সিফফীনের লড়াই।

৩০৮২. ওহী অবতীর্ণ হয়নি এমন কোন বিষয়ে নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলতেনঃ আমি জানি না কিংবা সে ব্যাপারে ওহী অবতীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোন জবাব দিতেন না এবং তিনি ব্যক্তিগত মতের উপর ভিত্তি করে কিংবা অনুমান করে কিছু বলতেন না। কেননা, আল্লাহ তাআলার বাণীঃ আল্লাহ আপনাকে যা কিছু জানিয়ে দিয়েছেন তার দ্বারা (ফয়সালা করুন) (নিসাঃ১০৫)।
ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) কে রূহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ওহী অবতীর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি চুপ ছিলেন।

بَابُ مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسْأَلُ مِمَّا لَمْ يُنْزَلْ عَلَيْهِ الوَحْيُ، فَيَقُولُ: «لاَ أَدْرِي» ، أَوْ لَمْ يُجِبْ حَتَّى يُنْزَلَ عَلَيْهِ الوَحْيُ، وَلَمْ يَقُلْ بِرَأْيٍ وَلاَ بِقِيَاسٍ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ} [النساء: 105] وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الرُّوحِ فَسَكَتَ حَتَّى نَزَلَتِ الآيَةُ

৬৮১১

7309 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ المُنْكَدِرِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: مَرِضْتُ فَجَاءَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي [ص:101]، وَأَبُو بَكْرٍ، وَهُمَا مَاشِيَانِ فَأَتَانِي وَقَدْ أُغْمِيَ عَلَيَّ، فَتَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ صَبَّ وَضُوءَهُ عَلَيَّ، فَأَفَقْتُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، - وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ فَقُلْتُ: أَيْ رَسُولَ اللَّهِ - كَيْفَ أَقْضِي فِي مَالِي؟ - كَيْفَ أَصْنَعُ فِي مَالِي؟ - قَالَ: فَمَا أَجَابَنِي بِشَيْءٍ حَتَّى نَزَلَتْ: «آيَةُ المِيرَاثِ»

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬৮১১। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) আমাকে দেখতে এলেন। তাঁরা দু’জনেই হেঁটে এসেছিলেন। তারা যখন আমার কাছে আসলেন, তখন আমি বেহুশ অবস্থায় ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওযু করলেন এবং ওযুর পানি আমার উপর ঢেলে দিলেন। ফলে আমি হুশ ফিরে পেলাম। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! বর্ণনাকারী সুফিয়ান কোন কোন সময় বলতেন হে আল্লাহর রাসুল! আমার সম্পদের ব্যাপারে কি ফায়সালা করব? আমার সম্পদগুলো কি করব? তিনি আমাকে কোন জবাব দিলেন না, অবশেষে মীরাসের আয়াত নাযিল হল।

৩০৮৩. নবী (ﷺ) নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তাঁর উম্মতদেরকে সে বিষয়েরই শিক্ষা দিতেন, যা আল্লাহ তাঁকে শিখিয়ে দিতেন, ব্যক্তিগত মত বা দৃষ্টান্তের উপর ভিত্তি করে নয়।

باب تَعْلِيمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُمَّتَهُ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ، مِمَّا عَلَّمَهُ اللَّهُ، لَيْسَ بِرَأْيٍ وَلاَ تَمْثِيلٍ

৬৮১২

7310 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَصْبَهَانِيِّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ ذَكْوَانَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ذَهَبَ الرِّجَالُ بِحَدِيثِكَ، فَاجْعَلْ لَنَا مِنْ نَفْسِكَ يَوْمًا نَأْتِيكَ فِيهِ تُعَلِّمُنَا مِمَّا عَلَّمَكَ اللَّهُ، فَقَالَ: «اجْتَمِعْنَ فِي يَوْمِ كَذَا وَكَذَا فِي مَكَانِ كَذَا وَكَذَا» ، فَاجْتَمَعْنَ، فَأَتَاهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَعَلَّمَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَهُ اللَّهُ، ثُمَّ قَالَ: «مَا مِنْكُنَّ امْرَأَةٌ تُقَدِّمُ بَيْنَ يَدَيْهَا مِنْ وَلَدِهَا ثَلاَثَةً، إِلَّا كَانَ لَهَا حِجَابًا مِنَ النَّارِ» ، فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَوِ اثْنَيْنِ؟ قَالَ: فَأَعَادَتْهَا مَرَّتَيْنِ، ثُمَّ قَالَ: «وَاثْنَيْنِ وَاثْنَيْنِ وَاثْنَيْنِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৮১২। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার হাদীস তো কেবলমাত্র পুরুষ শুনতে পায়। সুতরাং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করে দিন, যে দিন আমরা আপনার নিকট আসব, আল্লাহ আপনাকে যা কিছু শিক্ষা দিয়েছেন তা থেকে আপনি আমাদের শিক্ষা দিবেন। তিনি বললেনঃ তোমরা অমুক অমুক দিন অমুক অমুক স্থানে সমবেত হবে। তারপর (নির্দিষ্ট দিনে) তাঁরা সমবেত হলেন এবং নবী (ﷺ) তাদের কাছে এলেন এবং আল্লাহ তাকে যা কিছু শিক্ষা দিয়েছেন তা থেকে তাদের শিক্ষা দিলেন এবং বললেনঃ তোমাদের কেউ যদি সন্তানদের থেকে তিনটি সন্তান আগে পাঠিয়ে দেয় (মৃত্যুবরণ করে) তাহলে এ সন্তানরা তার জন্য জাহান্নামের পথে অন্তরায় হয়ে যাবে। তাদের মাঝ থেকে একজন মহিলা জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি দু’জন হয়? বর্ণনাকারী বলেনঃ মহিলা কথাটি পরপর দুইবার জিজ্ঞাসা করলেন। তারপর নবী (ﷺ) বললেনঃ দু’জন হলেও, দু’জন হলেও, দু’জন হলেও।

৩০৮৪. নবী (ﷺ) এর বাণীঃ আমার উম্মতের মাঝে এক জামাআত সর্বদাই হকের উপর বিজয়ী থাকবেন। আর তারা হলেন আহলে ইলম (দ্বীনি ইলমে বিশেষজ্ঞ)।

بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ‘لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ يُقَاتِلُونَ’. وَهُمْ أَهْلُ الْعِلْمِ

৬৮১৩

7311 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، عَنِ المُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لاَ يَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ، حَتَّى يَأْتِيَهُمْ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ ظَاهِرُونَ»

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৬৮১৩। উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... মুগীরা ইবনে শুবা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর হুকুম অর্থাৎ কিয়ামত আসা পর্যন্ত আমার উম্মতের এক জামাআত সর্বদাই বিজয়ী থাকবে। আর তাঁরা হলেন (সেই দল যারা প্রতিপক্ষের উপর) প্রভাবশালী।

৬৮১৪

7312 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ، قَالَ: سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ يَخْطُبُ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ، وَإِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ وَيُعْطِي اللَّهُ، وَلَنْ يَزَالَ أَمْرُ هَذِهِ الأُمَّةِ مُسْتَقِيمًا حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ، أَوْ: حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ "

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

৬৮১৪। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন। আমি তো (ইলমের) বন্টনকারী মাত্র; আল্লাহ তা প্রদান করে থাকেন। এ উম্মতের কর্মকাণ্ড কিয়ামত পর্যন্ত কিংবা বলেছিলেন, মহান আল্লাহ তাআলার হুকুম আসা পর্যন্ত (সত্যের উপর) সুদৃঢ় থাকবে।

৩০৮৫. আল্লাহ তাআলার বাণীঃ অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে ......... (৬ঃ ৬৫)।

بَابُ فِي قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا} [الأنعام: 65]

৬৮১৫

7313 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ عَمْرٌو: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، يَقُولُ: لَمَّا نَزَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: {قُلْ هُوَ القَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ} [الأنعام: 65] ، قَالَ: «أَعُوذُ بِوَجْهِكَ» ، {أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ} [الأنعام: 65] قَالَ: «أَعُوذُ بِوَجْهِكَ» ، فَلَمَّا نَزَلَتْ: {أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ} [الأنعام: 65] قَالَ: «هَاتَانِ أَهْوَنُ، - أَوْ أَيْسَرُ -»

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬৮১৫। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর এই আয়াতঃ বল, তিনি সক্ষম তোমাদের উর্ধ্বদেশ থেকে শাস্তি প্রেরণ করতে ...... নাযিল হল, তখন তিনি বললেনঃ (হে আল্লাহ!) আমি আপনার কাছে (এহেন আযাব থেকে) আশ্রয় প্রার্থনা করি (তারপর যখন নাযিল হল) অথবা তোমাদের পায়ের নীচে থেকে। তখনও তিনি বললেনঃ (হে আল্লাহ!) আমি আপনার নিকট (এহেন আযাব থেকে) আশ্রয় প্রার্থনা করি। এরপর যখন অবতীর্ণ হলঃ অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে এবং একদলকে অপর দলের সংঘর্ষের স্বাদ গ্রহণ করাতে তখন তিনি বললেনঃ এ দুটি অপেক্ষাকৃত নরম অথবা বলেছেনঃ সহজ।

৩০৮৬. কোন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্নকারীকে সুষ্পষ্টরূপে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সুষ্পষ্ট হুকুম বর্ণিত আছে এরূপ কোন বিষয়ের সাথে অন্য আর একটি বিষয়ের নিয়ম মোতাবেক তুলনা করা।

بَابُ مَنْ شَبَّهَ أَصْلاً مَعْلُومًا بِأَصْلٍ مُبَيَّنٍ قَدْ بَيَّنَ اللَّهُ حُكْمَهُمَا، لِيُفْهِمَ السَّائِلَ

৬৮১৬

7314 - حَدَّثَنَا أَصْبَغُ بْنُ الفَرَجِ [ص:102]، حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ أَعْرَابِيًّا أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنَّ امْرَأَتِي وَلَدَتْ غُلاَمًا أَسْوَدَ، وَإِنِّي أَنْكَرْتُهُ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ لَكَ مِنْ إِبِلٍ؟» ، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «فَمَا أَلْوَانُهَا؟» ، قَالَ: حُمْرٌ، قَالَ: «هَلْ فِيهَا مِنْ أَوْرَقَ؟» ، قَالَ: إِنَّ فِيهَا لَوُرْقًا، قَالَ: «فَأَنَّى تُرَى ذَلِكَ جَاءَهَا» ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، عِرْقٌ نَزَعَهَا، قَالَ: «وَلَعَلَّ هَذَا عِرْقٌ نَزَعَهُ» ، وَلَمْ يُرَخِّصْ لَهُ فِي الِانْتِفَاءِ مِنْهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮১৬। আসবাগ ইবনে ফারজ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, আমার স্ত্রী একটি কালো সন্তান প্রসব করেছে। আর আমি তাকে (আমার সন্তান হিসাবে) অস্বীকার করছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার কি উট আছে? সে বলল হ্যাঁ আছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সেগুলোর কি রং? সে বলল, লাল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সেগুলোর মাঝে সাদা কালো মিশ্রিত রঙের কোন উট আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ, সাদা কালো মিশ্রিত রঙের অনেকগুলোই আছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন এ রং কি করে এল বলে তুমি মনে কর? সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! বংশের পূর্ব সূত্রের প্রভাবে এরূপ হয়েছে। তিনি বললেনঃ সম্ভবত তোমার সন্তানও বংশের পূর্ব সূত্রের প্রভাবে এরূপ হয়েছে (অর্থাৎ পূর্বপুরুষের কারো বর্ণ কালো ছিল বলে এ সন্তান কালো হয়েছে) এবং তিনি এ সন্তানকে অস্বীকার করার অনুমতি তাকে দিলেন না।

৬৮১৭

7315 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: إِنَّ أُمِّي نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ فَمَاتَتْ قَبْلَ أَنْ تَحُجَّ، أَفَأَحُجَّ عَنْهَا؟ قَالَ: «نَعَمْ، حُجِّي عَنْهَا، أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ أَكُنْتِ قَاضِيَتَهُ؟» ، قَالَتْ: نَعَمْ، فَقَالَ: «اقْضُوا اللَّهَ الَّذِي لَهُ، فَإِنَّ اللَّهَ أَحَقُّ بِالوَفَاءِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৮১৭। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈকা মহিলা নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, আমার মাতা হজ্জ করার মান্নত করেছিলেন। এরপর তিনি হজ্জ করার পূর্বেই মৃত্যু বরণ করেন। এখন আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করে দেব? উত্তরে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করে দাও। মনে কর যদি তার উপর ঋণ থাকত তাহলে কি তুমি তা আদায় করতে? সে বলল, নিশ্চয়ই। তিনি বললেনঃ অতএব তার উপর যে মান্নত রয়েছে তা তুমি আদায় করে দাও। আল্লাহ তাআলা অধিক হকদার, তার মান্নত পূর্ণ করার।

৩০৮৭. আল্লাহ তাআলা যা অবতীর্ণ করেছেন, তার আলোকে ফায়সালার মধ্যে ইজতিহাদ করা। কেননা, আল্লাহ তাআলার বাণীঃ আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না তারাই যালিম ...... (৫ঃ ৪৫)।
যারা হিকমতের সাথে বিচার করেন ও হিকমতের তা'লীম দেন এবং মনগড়া কোন ফায়সালা করেন না, তাদের (এরূপ হিকমতের অধিকারী ব্যক্তির) নবী (ﷺ) প্রশংসা করেছেন। খলীফাদের সাথে পরামর্শ করা এবং বিচারকদের আহলে ইলমদের কাছে জিজ্ঞাসা করা।

بَابُ مَا جَاءَ فِي اجْتِهَادِ الْقُضَاةِ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى لِقَوْلِهِ: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ}. وَمَدَحَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَاحِبَ الْحِكْمَةِ حِينَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا، لاَ يَتَكَلَّفُ مِنْ قِبَلِهِ، وَمُشَاوَرَةِ الْخُلَفَاءِ وَسُؤَالِهِمْ أَهْلَ الْعِلْمِ

৬৮১৮

7316 - حَدَّثَنَا شِهَابُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لاَ حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَسُلِّطَ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الحَقِّ، وَآخَرُ آتَاهُ اللَّهُ حِكْمَةً، فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا "

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৮১৮। শিহাব ইবনে আব্বাদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ দু’রকম লোক ছাড়া কারো প্রতি ঈর্ষা করা বৈধ নয়। (এক) যাকে আল্লাহ তাআলা সম্পদ দিয়েছেন এবং ন্যায়পথে ব্যয় করার ক্ষমতা দান করেছেন। (দুই) যাকে আল্লাহ তাআলা হিকমাত (শরয়ী বিচক্ষণতা) দান করেছেন, আর সে এর আলোকে বিচার করে এবং তা অপরকে শিক্ষা দেয়।

৩০৮৭. আল্লাহ তাআলা যা অবতীর্ণ করেছেন, তার আলোকে ফায়সালার মধ্যে ইজতিহাদ করা। খলীফাদের সাথে পরামর্শ করা এবং বিচারকদের আহলে ইলমদের কাছে জিজ্ঞাসা করা।

بَابُ مَا جَاءَ فِي اجْتِهَادِ الْقُضَاةِ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى لِقَوْلِهِ: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ}.

৬৮১৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ سَأَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عَنْ إِمْلاَصِ الْمَرْأَةِ ـ هِيَ الَّتِي يُضْرَبُ بَطْنُهَا فَتُلْقِي جَنِينًا ـ فَقَالَ أَيُّكُمْ سَمِعَ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيهِ شَيْئًا فَقُلْتُ أَنَا. فَقَالَ مَا هُوَ قُلْتُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " فِيهِ غُرَّةٌ عَبْدٌ أَوْ أَمَةٌ ". فَقَالَ لاَ تَبْرَحْ حَتَّى تَجِيئَنِي بِالْمَخْرَجِ فِيمَا قُلْتَ.فَخَرَجْتُ فَوَجَدْتُ مُحَمَّدَ بْنَ مَسْلَمَةَ فَجِئْتُ بِهِ، فَشَهِدَ مَعِي أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " فِيهِ غُرَّةٌ عَبْدٌ أَوْ أَمَةٌ ". تَابَعَهُ ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُرْوَةَ عَنِ الْمُغِيرَةِ.

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৬৮১৯। মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... মুগীরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) মহিলাদের গর্ভপাত সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন অর্থাৎ তার পেটে আঘাত কবা হয় যার ফলে সন্তানের গর্ভপাত ঘটে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে কে নবী (ﷺ) থেকে এ ব্যাপারে কিছু শুনেছ? আমি বললাম আমি শুনেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি শুনেছ? আমি বললাম, নবী (ﷺ) কে এ ব্যাপারে আমি বলতে শুনেছি যে, এ কারণে গুররা অর্থাৎ একটি দাস কিংবা দাসী প্রদান করতে হবে। এ শুনে তিনি বললেন, তুমি যে হাদীস বর্ণনা করেছ এর প্রমাণ উপস্থিত না করা পর্যন্ত তুমি এখান থেকে যেও না। তারপর আমি বের হলাম এবং মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) কে পেলাম। আমি তাকে নিয়ে উপস্থিত হলাম, সে আমার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করল যে, তিনিও নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, এতে গুররা অর্থাৎ একটি গোলাম কিংবা বাঁদী প্রদান করতে হবে।
ইবনে আবু যিনাদ ......... মুগীরা (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৩০৮৮. নবী (ﷺ) এর বাণীঃ অবশ্যই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের আচার-আচরণের অনুকরণ করতে থাকবে।

باب قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لَتَتْبَعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ "

৬৮২০

7319 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ المَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَأْخُذَ أُمَّتِي بِأَخْذِ القُرُونِ قَبْلَهَا، شِبْرًا بِشِبْرٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ» [ص:103]، فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَفَارِسَ وَالرُّومِ؟ فَقَالَ: «وَمَنِ النَّاسُ إِلَّا أُولَئِكَ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮২০। আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ না আমার উম্মত পূর্বজুগিয়দের আচার-অভ্যাসকে বিঘতে বিঘতে, হাতে হাতে গ্রহণ না করবে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! পারস্য ও রোমকদের মত কি? তিনি বললেনঃ লোকদের মধ্যে আর কারা? এরাই তো।

৬৮২১

7320 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ العَزِيزِ، حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ الصَّنْعَانِيُّ، مِنَ اليَمَنِ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَتَتْبَعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، شِبْرًا شِبْرًا وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ، حَتَّى لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ تَبِعْتُمُوهُمْ» ، قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اليَهُودُ وَالنَّصَارَى؟ قَالَ: «فَمَنْ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৮২১। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, নিশ্চয় তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের আচার-আচরণকে বিঘতে বিঘতে, হাতে হাতে অনুকরণ করবে। এমনকি তারা যদি গুইসাপের গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তাহলে তোমরাও এতে তাদের অনুকরন করবে। আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এরা কি ইহুদি ও নাসারা? তিনি বললেনঃ আর কারা?

৩০৮৯. গোমরাহীর দিকে আহবান করা অথবা কোন খারাপ তরীকা প্রবর্তনের অপরাধ। কারণ আল্লাহ তাআলার বাণীঃ এবং পাপভার তাদেরও যাদের তারা অজ্ঞতাহেতু বিভ্রান্ত করেছে...... (১৬ঃ ২৫)।

بَابُ إِثْمِ مَنْ دَعَا إِلَى ضَلاَلَةٍ، أَوْ سَنَّ سُنَّةً سَيِّئَةً لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَمِنْ أَوْزَارِ الَّذِينَ يُضِلُّونَهُمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ} [النحل: 25] الآيَةَ

৬৮২২

7321 - حَدَّثَنَا الحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ مِنْ نَفْسٍ تُقْتَلُ ظُلْمًا، إِلَّا كَانَ عَلَى ابْنِ آدَمَ الأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْهَا - وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ مِنْ دَمِهَا - لِأَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ سَنَّ القَتْلَ أَوَّلًا»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৮২২। হুমায়দী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন ব্যক্তিকেই অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়, তার পাপের হিস্যা আদম (আলাইহিস সালাম) এর প্রথম (হত্যাকারী) পুত্রের উপরও বর্তাবে।
রাবী সুফিয়ান (রাহঃ)مِنْ دَمِهَا তার রক্তপাত ঘটানোর অপরাধ তার উপরেও বর্তাবে উল্লেখ করেছেন। কারণ সেই সর্বপ্রথম হত্যার রীতি প্রবর্তন করে।

৩০৯০. নবী (ﷺ) যা বলেছেন এবং আলেমদেরকে ঐক্যের প্রতি যে উৎসাহ প্রদান করেছেন। আর যেসব বিষয়ে হারামাঈন মক্কা ও মদীনার আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। মদীনায় নবী করীম (ﷺ), মুহাজিরীন ও আনসারদের স্মৃতিচিহ্ন এবং নবী (ﷺ) এর নামাযের স্থান, মিম্বর ও কবর সম্পর্কে।

باب مَا ذَكَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَحَضَّ عَلَى اتِّفَاقِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَمَا أَجْمَعَ عَلَيْهِ الْحَرَمَانِ مَكَّةُ وَالْمَدِينَةُ، وَمَا كَانَ بِهَا مِنْ مَشَاهِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ وَمُصَلَّى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْمِنْبَرِ وَالْقَبْرِ

৬৮২৩

7322 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ المُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السَّلَمِيِّ: أَنَّ أَعْرَابِيًّا بَايَعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الإِسْلاَمِ، فَأَصَابَ الأَعْرَابِيَّ وَعْكٌ بِالْمَدِينَةِ، فَجَاءَ الأَعْرَابِيُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَقِلْنِي بَيْعَتِي، فَأَبَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ جَاءَهُ فَقَالَ: أَقِلْنِي بَيْعَتِي، فَأَبَى، ثُمَّ جَاءَهُ فَقَالَ: أَقِلْنِي بَيْعَتِي، فَأَبَى، فَخَرَجَ الأَعْرَابِيُّ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا المَدِينَةُ كَالكِيرِ، تَنْفِي خَبَثَهَا، وَيَنْصَعُ طِيبُهَا»

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬৮২৩। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ সালামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ইসলামের উপর বায়’আত গ্রহণ করল। এরপর সে মদীনায় জ্বরে আক্রান্ত হল। বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে হাযির হয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার বায়আত প্রত্যাহার করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। পূনরায় সে এসে বলল, আমার বায়আত প্রত্যাহার করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অস্বীকৃতি জানালেন। এরপর সে আবার এসে বলল, আমার বায়আত প্রত্যাহার করুন। এবারও নবী (ﷺ) অস্বীকৃতি জানালে বেদুঈন বেরিয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ মদীনা হচ্ছে কামারের হাপরের মত। সে তার মধ্যকার-আবর্জনাকে বিদূরিত করে এবং খাঁটিটুকু ধরে রাখে।

৬৮২৪

7323 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: كُنْتُ أُقْرِئُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ، فَلَمَّا كَانَ آخِرُ حَجَّةٍ حَجَّهَا عُمَرُ، فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بِمِنًى: لَوْ شَهِدْتَ أَمِيرَ المُؤْمِنِينَ أَتَاهُ رَجُلٌ قَالَ: إِنَّ فُلاَنًا يَقُولُ: لَوْ مَاتَ أَمِيرُ المُؤْمِنِينَ لَبَايَعْنَا فُلاَنًا، فَقَالَ عُمَرُ: «لَأَقُومَنَّ العَشِيَّةَ، فَأُحَذِّرَ هَؤُلاَءِ الرَّهْطَ الَّذِينَ يُرِيدُونَ أَنْ يَغْصِبُوهُمْ» ، قُلْتُ: لاَ تَفْعَلْ، فَإِنَّ المَوْسِمَ يَجْمَعُ رَعَاعَ النَّاسِ، يَغْلِبُونَ عَلَى مَجْلِسِكَ، فَأَخَافُ أَنْ لاَ يُنْزِلُوهَا عَلَى وَجْهِهَا، فَيُطِيرُ بِهَا كُلُّ مُطِيرٍ، فَأَمْهِلْ حَتَّى تَقْدَمَ المَدِينَةَ دَارَ الهِجْرَةِ [ص:104] وَدَارَ السُّنَّةِ، فَتَخْلُصَ بِأَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ المُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ، فَيَحْفَظُوا مَقَالَتَكَ وَيُنْزِلُوهَا عَلَى وَجْهِهَا، فَقَالَ: «وَاللَّهِ لَأَقُومَنَّ بِهِ فِي أَوَّلِ مَقَامٍ أَقُومُهُ بِالْمَدِينَةِ» ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَقَدِمْنَا المَدِينَةَ، فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ بَعَثَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالحَقِّ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الكِتَابَ، فَكَانَ فِيمَا أُنْزِلَ آيَةُ الرَّجْمِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৮২৪। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) কে পবিত্র কুরআনের তালীম দিতাম। উমর (রাযিঃ) যখন জীবনের সর্বশেষ হজ্জ পালন করতে আসলেন, তখন আব্দুর রহমান (রাযিঃ) মিনায় আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি আজ আমীরুল মু'মিনীনদের নিকট থাকলে দেখতে পেতে যে, তার কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, জনৈক ব্যক্তি বলেছে, যদি আমীরুল মু’মিনীন মারা যেতেন, তাহলে আমরা অমুক ব্যক্তির হাতে বায়’আত নিতে পারতাম। উমর (রাযিঃ) বললেন, আজ বিকেলে দাঁড়িয়ে আমি তাদেরকে সতর্ক করব, যারা মুসলমানদের অধিকারকে ছিনিয়ে নিতে চায়। আমি বললাম, আপনি এটি করবেন না। কেননা, এখন হজ্জের মৌসুম। এখন সাধারণ লোকের উপস্থিতির সময়। তারা আপনার মজলিসকে ঘিরে ফেলবে। আমার ভয় হচ্ছে যে, তারা আপনার বক্তব্য যথাযথভাবে অনুধাবন করবে না। রদবদল করে চারদিকে ছড়িয়ে দেবে। বরং এখন আপনি হিজরত ও সুন্নতের আবাসগৃহ মদীনায় পৌছা পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করুন। এরপর একমাত্র রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুহাজির ও আনসার সাহাবাদের নিকট আপনার বক্তব্য পেশ করুন। তারা আপনার বক্তব্য সংরক্ষণ করবে এবং তার যথাযথ মর্যাদা প্রদান করবে। উমর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি মদীনায় পৌছলে সবচেয়ে আগে এটি করব। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমরা মদীনায় উপিস্থিত হলাম। তখন উমর (রাযিঃ) ভাষণ প্রসঙ্গে বললেন, আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ (ﷺ) কে সত্য বাণী দিয়ে প্রেরণ করেছেন, তাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। তন্মধ্যে ‘রজম’ (তথা পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা) এর আয়াতও রয়েছে।

৬৮২৫

7324 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَلَيْهِ ثَوْبَانِ مُمَشَّقَانِ مِنْ كَتَّانٍ، فَتَمَخَّطَ، فَقَالَ: «بَخْ بَخْ، أَبُو هُرَيْرَةَ يَتَمَخَّطُ فِي الكَتَّانِ، لَقَدْ رَأَيْتُنِي وَإِنِّي لَأَخِرُّ فِيمَا بَيْنَ مِنْبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى حُجْرَةِ عَائِشَةَ مَغْشِيًّا عَلَيَّ، فَيَجِيءُ الجَائِي فَيَضَعْ رِجْلَهُ عَلَى عُنُقِي، وَيُرَى أَنِّي مَجْنُونٌ، وَمَا بِي مِنْ جُنُونٍ مَا بِي إِلَّا الجُوعُ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮২৫। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর নিকটে ছিলাম। তিনি লাল রঙের দুটি কাতান পরিহিত ছিলেন। এরপর তিনি নাক পরিষ্কার করলেন এবং বললেনঃ বাহ! বাহ! আবু হুরায়রা আজ কাতান দ্বারা নাক পরিস্কার করছে। অথচ আমি এমন অবস্থায়ও ছিলাম, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মিম্বর ও আয়েশা (রাযিঃ) এর হুজরার মধ্যবর্তী স্থানে বেহুশ অবস্থায় পড়ে থাকতাম। আগন্তুক আসত, তার স্বীয় পা আমার গর্দানে রাখত! মনে হতো আমি যেন পাগল। অথচ আমার কিঞ্চিতও পাগলামী ছিল না। একমাত্র ক্ষুধার যন্ত্রণায় এমনটি হত।

৬৮২৬

7325 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، قَالَ: سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ: أَشَهِدْتَ العِيدَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: نَعَمْ، وَلَوْلاَ مَنْزِلَتِي مِنْهُ، مَا شَهِدْتُهُ مِنَ الصِّغَرِ، «فَأَتَى العَلَمَ الَّذِي عِنْدَ دَارِ كَثِيرِ بْنِ الصَّلْتِ، فَصَلَّى، ثُمَّ خَطَبَ وَلَمْ يَذْكُرْ أَذَانًا وَلاَ إِقَامَةً، ثُمَّ أَمَرَ بِالصَّدَقَةِ» فَجَعَلَ النِّسَاءُ يُشِرْنَ إِلَى آذَانِهِنَّ وَحُلُوقِهِنَّ، «فَأَمَرَ بِلاَلًا فَأَتَاهُنَّ» ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৮২৬। মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আবিস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনি কি নবী (ﷺ) এর সাথে কোন ঈদে অংশ গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। যদি তার নিকটে আমার বিশেষ একটা অবস্থান না থাকত তবে এত অল্প বয়সে তার সাথে যোগদানের সুযোগ পেতাম না। নবী (ﷺ) কাসীর ইবনে সালতের বাড়ির নিকটস্থ স্থানের পতাকার কাছে তশরীফ আনলেন। এরপর ঈদের নামায আদায় করলেন। তারপর তিনি ভাষণ প্রদান করলেন। রাবী আযান এবং ইকামত এর উল্লেখ করেননি। নবী (ﷺ) শ্রোতাদেরকে সাদ্‌কা আদায়ের হুকম করলেন। নারীরা স্বীয় কান ও গলার (অলংকার) দিকে ইঙ্গিত করলে নবী (ﷺ) বিলাল (রাযিঃ) কে (তাদের কাছে যাওয়ার জন্য) নির্দেশ দিলেন। বিলাল (রাযিঃ) (তাদের নিকট থেকে অলংকারাদি নিয়ে) নবী (ﷺ) এর কাছে ফিরে এলেন।

৬৮২৭

7326 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْتِي قُبَاءً مَاشِيًا وَرَاكِبًا»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৮২৭। আবু নুআয়ম (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কুবার মসজিদে কখনো পায়ে হেঁটে আবার কখনো সওয়ার হয়ে আসতেন।

৬৮২৮

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ ادْفِنِّي مَعَ صَوَاحِبِي وَلاَ تَدْفِنِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْبَيْتِ، فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ أُزَكَّى. وَعَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُمَرَ، أَرْسَلَ إِلَى عَائِشَةَ ائْذَنِي لِي أَنْ أُدْفَنَ مَعَ صَاحِبَىَّ فَقَالَتْ إِي وَاللَّهِ. قَالَ وَكَانَ الرَّجُلُ إِذَا أَرْسَلَ إِلَيْهَا مِنَ الصَّحَابَةِ قَالَتْ لاَ وَاللَّهِ لاَ أُوثِرُهُمْ بِأَحَدٍ أَبَدًا.

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৮২৮। উবাইদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে বললেনঃ আমার মৃত্যুর পর আমাকে আমার অন্যান্য সঙ্গিনী (উম্মুহাতুল মু'মিনীন) দের সাথে দাফন করবে। আমাকে নবী (ﷺ) এর সাথে হুজরায় দাফন করবে না। কেননা তাতে আমাকে প্রাধান্য দেয়া হবে, আমি তা পছন্দ করি না। বর্ণনাকারী হিশাম তার পিতা উরওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, উমর (রাযিঃ) আয়েশা (রাযিঃ) এর নিকট লোক পাঠালেন, আমাকে আমার দুই সঙ্গী তথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) এর সাথে দাফন হওয়ার অনুমতি দিন। আয়েশা (রাযিঃ) বললেন, হ্যাঁ। আল্লাহর কসম! বর্ণনাকারী আরো বলেন, আয়েশা (রাযিঃ) এর নিকট যখনই সাহাবাদের কেউ এই অনুমতির জন্য কাউকে পাঠাতেন, তখনি তিনি বলতেন, না। আল্লাহর কসম! আমি তাদের সঙ্গে কাউকে প্রাধান্য দেব না।

৬৮২৯

7329 - حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي العَصْرَ، فَيَأْتِي العَوَالِيَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ» ، وَزَادَ اللَّيْثُ، عَنْ يُونُسَ: وَبُعْدُ العَوَالِيَ أَرْبَعَةُ أَمْيَالٍ أَوْ ثَلاَثَةٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৮২৯। আইয়ুব ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের নামায আদায় করতেন। অতঃপর আমরা ’আওয়ালী’ (মদীনার পার্শ্বে উচ্চ টিলাবিশিষ্ট স্থান) যেতাম। তখন সূর্য উপরে থাকত।
বর্ণনাকারী লাঈস (রাহঃ) ইউনুস (রাহঃ) হতে আরো বর্ণনা করেছেন যে, ’আওয়ালী’ মদীনা হতে চার অথবা তিন মাইল দুরে অবস্থিত।
৬৮৩০

7330 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ، حَدَّثَنَا القَاسِمُ بْنُ مَالِكٍ، عَنِ الجُعَيْدِ، سَمِعْتُ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ، يَقُولُ: «كَانَ الصَّاعُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُدًّا وَثُلُثًا بِمُدِّكُمُ اليَوْمَ، وَقَدْ زِيدَ فِيهِ» سَمِعَ القَاسِمُ بْنُ مَالِكٍ الجُعَيْدَ

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

৬৮৩০। আমর ইবনে যুরারা (রাহঃ) ......... সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর যুগের সা’ তোমাদের বর্তমানের এক মুদ ও এক মুদের এক-তৃতীয়াংশের বরাবর ছিল। অবশ্য (পরবর্তীকালে) তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
(উক্ত হাদীসটি) কাসিম ইবনে মালিক (রাহঃ) যুআয়দ (রাহঃ) থেকে শুনেছেন।
৬৮৩১

7331 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ [ص:105] بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِي مِكْيَالِهِمْ، وَبَارِكْ لَهُمْ فِي صَاعِهِمْ وَمُدِّهِمْ» يَعْنِي أَهْلَ المَدِينَةِ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৮৩১। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই বলে দোয়া করেছেনঃ হে আল্লাহ! মদীনাবাসীদের পরিমাপে বরকত দান করুন, বরকত দান করুন তাদের সা’ এবং মুদে।

৬৮৩২

7332 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ المُنْذِرِ، حَدَّثَنَا أَبُو ضَمْرَةَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ «أَنَّ اليَهُودَ جَاءُوا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِرَجُلٍ وَامْرَأَةٍ زَنَيَا، فَأَمَرَ بِهِمَا فَرُجِمَا، قَرِيبًا مِنْ حَيْثُ تُوضَعُ الجَنَائِزُ عِنْدَ المَسْجِدِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৮৩২। ইবরাহীম ইবনে মুনযির (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইহুদীগণ নবী (ﷺ) এর খিদমতে এক ব্যভিচারী পুরুষ এবং এক ব্যভিচারিণী মহিলাকে নিয়ে উপস্থিত হল। তখন তিনি তাদের উভয়কে শাস্তি দানের হুকুম দিলে মসজিদে নববীর জানাযা রাখার নিকটবর্তী স্থানে তাদেরকে পাথর নিক্ষেপ (রজম) করে মারা হয়।

৬৮৩৩

7333 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَمْرٍو، مَوْلَى المُطَّلِبِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَلَعَ لَهُ أُحُدٌ، فَقَالَ: «هَذَا جَبَلٌ يُحِبُّنَا وَنُحِبُّهُ، اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ حَرَّمَ مَكَّةَ، وَإِنِّي أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا» تَابَعَهُ سَهْلٌ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أُحُدٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৮৩৩। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা (পথিমধ্যে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদ পাহাড় দেখতে পেয়ে বললেনঃ এই পাহাড় আমাদেরকে ভালবাসে আর আমরাও এই পাহাড়কে ভালবাসি। হে আল্লাহ! ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) মক্কাকে হারামের মর্যাদা প্রদান করেছেন, আর আমি এই মদীনার দু’টি প্রস্তরময় প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থানকে সেই মর্যাদা প্রদান করছি।
উহুদের বিষয়ে নবী (ﷺ) থেকে এই হাদীস বর্ণনায় সাহল (রাঃ) আনাস (রাযিঃ) এর অনুসরণ করেছেন।
৬৮৩৪

7334 - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ، حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلٍ: «أَنَّهُ كَانَ بَيْنَ جِدَارِ المَسْجِدِ مِمَّا يَلِي القِبْلَةَ وَبَيْنَ المِنْبَرِ مَمَرُّ الشَّاةِ»

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৬৮৩৪। ইবনে আবু মারিয়াম (রাহঃ) ......... সাহল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, মসজিদে নববীর কিবলার দিকের প্রাচীর ও মিম্বরের মধ্যে মাত্র একটি বকরী যাতায়াতের স্থান ছিল।

৬৮৩৫

7335 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الجَنَّةِ، وَمِنْبَرِي عَلَى حَوْضِي»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮৩৫। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার গৃহ ও আমার মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান বেহেশতের বাগানগুলোর থেকে একটি বাগান। আর আমার মিম্বর আমার হাওযের উপর।

৬৮৩৬

7336 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ «سَابَقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ الخَيْلِ، فَأُرْسِلَتِ الَّتِي ضُمِّرَتْ مِنْهَا، وَأَمَدُهَا إِلَى الحَفْيَاءِ إِلَى ثَنِيَّةِ الوَدَاعِ، وَالَّتِي لَمْ تُضَمَّرْ أَمَدُهَا ثَنِيَّةُ الوَدَاعِ إِلَى مَسْجِدِ بَنِي زُرَيْقٍ» وَأَنَّ عَبْدَ اللَّهِ كَانَ فِيمَنْ سَابَقَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৮৩৬। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। তীব্র গমনের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়াগুলোর প্রতিযোগিতার স্থান ছিল হাফয়া হতে সানীয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত। আর প্রশিক্ষণ বিহীনগুলোর স্থান ছিল সানীয়্যাতূল বিদা হতে বনী যুরায়ক এর মসজিদ-পর্যন্ত। আব্দুল্লাহও প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

৬৮৩৭

7337 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، ح وحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، وَابْنُ إِدْرِيسَ، وَابْنُ أَبِي غَنِيَّةَ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «سَمِعْتُ عُمَرَ عَلَى مِنْبَرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৮৩৭। কুতায়বা ও ইসহাক (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মিম্বরে দাঁড়িয়ে (খুতবা দিতে) শুনেছি।

৬৮৩৮

7338 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ، «سَمِعَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ خَطَبَنَا عَلَى مِنْبَرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

৬৮৩৮। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) ......... সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে শুনেছি।

৬৮৩৯

7339 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، أَنَّ هِشَامَ بْنَ عُرْوَةَ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَدْ «كَانَ يُوضَعُ لِي وَلِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذَا المِرْكَنُ، فَنَشْرَعُ فِيهِ جَمِيعًا»

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৮৩৯। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গোসল করার জন্য এই পাত্রটি রাখা হত। আমরা সকলে এর থেকে গোসল করতাম।

৬৮৪০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ حَالَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ الأَنْصَارِ وَقُرَيْشٍ فِي دَارِي الَّتِي بِالْمَدِينَةِ. وَقَنَتَ شَهْرًا يَدْعُو عَلَى أَحْيَاءٍ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৮৪০। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) আনসার ও মুহাজিরদেরকে আমার মদীনার বাড়িতে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন এবং বনী সুলায়মের গোত্রের জন্য বদদু'আ করার নিমিত্ত এক মাস কাল যাবত তিনি (ফজরের নামাযে) কুনূত (নাযিলা) পড়েছেন।

৬৮৪১

حَدَّثَنِي أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا بُرَيْدٌ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَلَقِيَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ فَقَالَ لِي انْطَلِقْ إِلَى الْمَنْزِلِ فَأَسْقِيَكَ فِي قَدَحٍ شَرِبَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَتُصَلِّي فِي مَسْجِدٍ صَلَّى فِيهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم. فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ، فَسَقَانِي سَوِيقًا، وَأَطْعَمَنِي تَمْرًا، وَصَلَّيْتُ فِي مَسْجِدِهِ.

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ)

৬৮৪১। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু বুরদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনায় আগমন করলে আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) আমার সাথে সাক্ষাত করেন। তিনি আমাকে বললেনঃ চলুন ঘরে যাই। আমি আপনাকে এমন একটি পাত্রে পান করাবো, যেটিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পান করেছেন। আপনি ঐ নামাযের জায়গাটিতে নামায আদায় করতে পারবেন, যেখানে নবী (ﷺ) তার নামায আদায় করেছিলেন। এরপর আমি তার সঙ্গে গেলাম। তিনি আমাকে ছাতুর শরবত পান করালেন এবং খেজুর খাওয়ালেন। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায আদায়ের স্থানটিতে নামায আদায় করে নিলাম।

৬৮৪২

7343 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ المُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ، أَنَّ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، حَدَّثَهُ قَالَ: حَدَّثَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " أَتَانِي اللَّيْلَةَ آتٍ مِنْ رَبِّي، وَهُوَ بِالعَقِيقِ، أَنْ صَلِّ فِي هَذَا الوَادِي المُبَارَكِ، وَقُلْ: عُمْرَةٌ وَحَجَّةٌ " وَقَالَ هَارُونُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَلِيٌّ: «عُمْرَةٌ فِي حَجَّةٍ»

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৬৮৪২। সাঈদ ইবনে রাবী (রাহঃ) ......... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে বলেছেনঃ আকীক নামক স্থানে অবস্থানকালে এক রাতে আমার পরওয়ারদিগারের নিকট থেকে একজন আগন্তুক (ফিরিশতা) আমার কাছে এলেন। তিনি বললেন, এই বরকতময় প্রান্তরে নামায আদায় করুন এবং বলুন উমরা ও হজ্জের নিয়ত করছি।
এদিকে হারুন ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) বলেন, আলী (রাযিঃ) আমার কাছে 'হজ্জের সাথে উমরার নিয়ত করুন' শব্দ বর্ণনা করেছেন।
৬৮৪৩

7344 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: وَقَّتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَرْنًا لِأَهْلِ نَجْدٍ، وَالجُحْفَةَ لِأَهْلِ الشَّأْمِ، وَذَا الحُلَيْفَةِ لِأَهْلِ المَدِينَةِ» ، قَالَ: سَمِعْتُ هَذَا مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَبَلَغَنِي أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «وَلِأَهْلِ اليَمَنِ يَلَمْلَمُ» ، وَذُكِرَ العِرَاقُ فَقَالَ: لَمْ يَكُنْ عِرَاقٌ يَوْمَئِذٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৮৪৩। মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মীকাত নির্ধারণ করেছেন নজদবাসীদের জন্য কারণকে, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফাকে এবং মদীনাবাসীদের জন্য যুল হুলাইফাকে। ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আমি এগুলো (স্বয়ং) নবী (ﷺ) থেকে শুনেছি। আমার কাছে আরো সংবাদ পৌছেছে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়ামানবাসীদের মীকাত হচ্ছে ইয়ালামলাম এবং ইরাকের কথা উল্লেখ করা হলে ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, তখন তো ইরাক ছিল না।

৬৮৪৪

7345 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ المُبَارَكِ، حَدَّثَنَا الفُضَيْلُ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، حَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَنَّهُ أُرِيَ وَهُوَ فِي مُعَرَّسِهِ بِذِي الحُلَيْفَةِ، فَقِيلَ لَهُ: إِنَّكَ بِبَطْحَاءَ مُبَارَكَةٍ "

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৮৪৪। আব্দুর রহমান ইবনে মুবারাক (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি যুল হুলাইফা নামক স্থানে রাতের শেষ প্রহরে অবস্থানকালে তাকে বলা হলো আপনি একটি বরকতময় স্থানে রয়েছেন।

৩০৯১. মহান আল্লাহর বাণীঃ (হে আমার হাবীব!) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব আপনার নয়।

بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ} [آل عمران: 128]

৬৮৪৫

7346 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ فِي صَلاَةِ الفَجْرِ وَرَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ: «اللَّهُمَّ رَبَّنَا، وَلَكَ الحَمْدُ فِي الأَخِيرَةِ» ، ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ العَنْ فُلاَنًا وَفُلاَنًا» ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: {لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ} [آل عمران: 128]

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৮৪৫। আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) কে ফজরের নামায এর শেষে রুকু থেকে মাথা উঠানোর সময় বলতে শুনেছেন,اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ الخ (হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আপনারই জন্য। তিনি আরো বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি অমুক অমুক ব্যক্তির প্রতি লানত করুন। এরপর আল্লাহ নিম্নোক্ত আয়াতখানা অবতীর্ণ করেনঃ (হে নবী) চূড়ান্তভাবে কোন কিছুর সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব আপনার হাতে নেই। আল্লাহ হয়ত তাদেরকে তাওবার তাওফীক দিবেন নয়ত তাদেরকে শান্তি দিবেন। কেননা তারা সীমালংঘনকারী।

৩০৯২. মহান আল্লাহর বাণীঃ মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্কপ্রিয় (১৮ঃ ৫৪)।
মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা কিতাবীদের সাথে বিতর্ক করবে না.......... (২৯ঃ ৪৬)।

بَابُ قَوْلِهِ تَعَالَى {وَكَانَ الإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا} [الكهف: 54] وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَلاَ تُجَادِلُوا أَهْلَ الكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [العنكبوت: 46]

৬৮৪৬

7347 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، ح حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، أَخْبَرَنَا عَتَّابُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، أَنَّ حُسَيْنَ بْنَ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَخْبَرَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَرَقَهُ وَفَاطِمَةَ - [ص:107] عَلَيْهَا السَّلاَمُ - بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ لَهُمْ: «أَلاَ تُصَلُّونَ؟» ، فَقَالَ عَلِيٌّ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّمَا أَنْفُسُنَا بِيَدِ اللَّهِ، فَإِذَا شَاءَ أَنْ يَبْعَثَنَا بَعَثَنَا، فَانْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ قَالَ لَهُ ذَلِكَ، وَلَمْ يَرْجِعْ إِلَيْهِ شَيْئًا، ثُمَّ سَمِعَهُ وَهُوَ مُدْبِرٌ، يَضْرِبُ فَخِذَهُ وَهُوَ يَقُولُ: {وَكَانَ الإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا} [الكهف: 54] ، قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: " يُقَالُ: مَا أَتَاكَ لَيْلًا فَهُوَ طَارِقٌ "، وَيُقَالُ {الطَّارِقُ} [الطارق: 2] : «النَّجْمُ» ، وَ {الثَّاقِبُ} [الطارق: 3] : «المُضِيءُ» ، يُقَالُ: «أَثْقِبْ نَارَكَ لِلْمُوقِدِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬৮৪৬। আবুল ইয়ামান ও মুহাম্মাদ ইবনে সালাম (রাহঃ) ......... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর এবং রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর কন্যা ফাতিমা (রাযিঃ) এর নিকট আসলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা নামায আদায় করেছ কি? আলী (রাযিঃ) বলেনঃ আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের জীবন তো আল্লাহর কুদরতের হাতে। তিনি আমাদেরকে যখন (নামায এর জন্য ঘুম থেকে) জাগিয়ে দিতে চান, জাগিয়ে দেন। আলী (রাযিঃ) এর এ কথা বলার সাথে সাথেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চলে গেলেন, আলীর কথার কোন প্রতিউত্তর তিনি আর দিলেন না। আলী (রাযিঃ) বলেন, আমি শুনতে পেলাম, তিনি চলে যাচ্ছে, আর উরুতে হাত মেরে মেরে বললেনঃ মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্ক প্রিয়।
আবু আব্দুল্লাহ (বুখারী) (রাহঃ) বলেনঃ তোমার কাছে রাতে যে আগন্তুক আসে তাকে ’তারিক’ বা নৈশ অতিথি বলে। ’তারিক’ একটি নক্ষত্রকেও বলা হয়। আর ’ছাকিব’ অর্থ হল জ্যোতিষ্মান। এইজন্যই আগুন যে জালায় তাকে লক্ষ্য করে সাধারণত বলা হয়ে থাকে, তুমি আগুন জ্বালিয়ে তোল।
৬৮৪৭

7348 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ فِي المَسْجِدِ، خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «انْطَلِقُوا إِلَى يَهُودَ» ، فَخَرَجْنَا مَعَهُ حَتَّى جِئْنَا بَيْتَ المِدْرَاسِ، فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَادَاهُمْ فَقَالَ: «يَا مَعْشَرَ يَهُودَ، أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا» ، فَقَالُوا: قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا القَاسِمِ، قَالَ: فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ذَلِكَ أُرِيدُ، أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا» ، فَقَالُوا: قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا القَاسِمِ، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ذَلِكَ أُرِيدُ» ، ثُمَّ قَالَهَا الثَّالِثَةَ، فَقَالَ: «اعْلَمُوا أَنَّمَا الأَرْضُ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ، وَأَنِّي أُرِيدُ أَنْ أُجْلِيَكُمْ مِنْ هَذِهِ الأَرْضِ، فَمَنْ وَجَدَ مِنْكُمْ بِمَالِهِ شَيْئًا فَلْيَبِعْهُ، وَإِلَّا فَاعْلَمُوا أَنَّمَا الأَرْضُ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮৪৭। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মসজিদে নববীতে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদ থেকে বের হয়ে আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা চলো ইহুদীদের সেখানে যাই। আমরা তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে এলাম। অবশেষে আমরা বায়তুল মিদরাসে (তাদের শিক্ষাগারে) পৌছলাম। তারপর নবী (ﷺ) সেখানে দাঁড়িয়ে তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে ইহুদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবুল কর, এতে তোমরা নিরাপদে থাকবে। ইহুদীরা বলল, হে আবুল কাসিম! আপনার পৌছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। এরপর তিনি বললেনঃ আমার ইচ্ছা তোমরা ইসলাম কবুল কর এবং শান্তিতে থাক। তারাও আবার বলল, হে আবুল কাসিম! আপনার পৌছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেনঃ আমি এরূপই ইচ্ছা রাখি। তৃতীয়বারেও তিনি তাই বললেন। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ জেনে রেখো, যমীন একমাত্র আল্লাহ ও তার রাসুলের। আমি তোমাদেরকে এই এলাকা থেকে উচ্ছেদ করে দিতে চাই। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যাদের অস্থাবর সম্পত্তি আছে, তা যেন সে বিক্রি করে দেয়। অন্যথায় জেনে রেখো যমীন আল্লাহ ও তার রাসুলের।

৩০৯৩. মহান আল্লাহর বাণীঃ এভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি, যাতে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ হবে (২ঃ ১৪৩)। নবী (ﷺ) জামাআতকে আঁকড়ে ধরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আর জামাআত বলতে আলেমদের জামাআতকেই বলা হয়েছে।

بَابُ قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} [البقرة: 143] وَمَا أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلُزُومِ الجَمَاعَةِ، وَهُمْ أَهْلُ العِلْمِ

৬৮৪৮

7349 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " يُجَاءُ بِنُوحٍ يَوْمَ القِيَامَةِ، فَيُقَالُ لَهُ: هَلْ بَلَّغْتَ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ، يَا رَبِّ، فَتُسْأَلُ أُمَّتُهُ: هَلْ بَلَّغَكُمْ؟ فَيَقُولُونَ: مَا جَاءَنَا مِنْ نَذِيرٍ، فَيَقُولُ: مَنْ شُهُودُكَ؟ فَيَقُولُ: مُحَمَّدٌ وَأُمَّتُهُ، فَيُجَاءُ بِكُمْ، فَتَشْهَدُونَ "، ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} [البقرة: 143]- قَالَ: عَدْلًا - {لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ، وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة: 143] ، وَعَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৮৪৮। ইসহাক ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন নূহ (আলাইহিস সালাম) কে (আল্লাহর সমীপে) হাযির করে জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কি (দ্বীনের দাওয়াত) পৌছে দিয়েছ? তখন তিনি বলবেন, হ্যাঁ। হে আমার পরওয়ারদিগার। এরপর তাঁর উম্মতকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের কাছে নূহ (দাওয়াত) পৌছিয়েছে কি? তারা সবাই বলে উঠবে, আমাদের কাছে কোন ভীতি প্রদর্শকই (নবী ও রাসুল) আসেনি। তখন নূহ (আলাইহিস সালাম) কে বলা হবে, তোমার (দাবির পক্ষে) কোন সাক্ষী আছে কি? তিনি বলবেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর উম্মতগণই (আমার সাক্ষী)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদেরকে তখন নিসে আসা হবে এবং তোমরা নূহ (আলাইহিস সালাম) এব পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহ পাকের নিম্নোক্ত বাণী পাঠ করলেনঃ এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মতে নির্ধারণ করেছেন। (وَسَطً অর্থ ভারসাম্যপূর্ণ) তাহলে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষী হতে পারবে আর রাসুল তোমাদের জন্য সাক্ষী হবেন।
জাফর ইবনে আউন (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) নবী (ﷺ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩০৯৪. কোন কর্মকর্তা কিংবা বিচারক অজ্ঞতাবশত ইজতিহাদে ভূল করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মতের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিলে তা অগ্রাহ্য হবে। কেননা, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যদি এমন কাজ করে, যার আমি নির্দেশ করিনি তা অগ্রাহ্য।

باب إِذَا اجْتَهَدَ الْعَامِلُ أَوِ الْحَاكِمُ فَأَخْطَأَ خِلاَفَ الرَّسُولِ مِنْ غَيْرِ عِلْمٍ، فَحُكْمُهُ مَرْدُودٌ لِقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ‘مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا، فَهْوَ رَدٌّ

৬৮৪৯

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَخِيهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَجِيدِ بْنِ سُهَيْلِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، يُحَدِّثُ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، وَأَبَا، هُرَيْرَةَ حَدَّثَاهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ أَخَا بَنِي عَدِيٍّ الأَنْصَارِيَّ وَاسْتَعْمَلَهُ عَلَى خَيْبَرَ، فَقَدِمَ بِتَمْرٍ جَنِيبٍ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَكُلُّ تَمْرِ خَيْبَرَ هَكَذَا ". قَالَ لاَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا لَنَشْتَرِي الصَّاعَ بِالصَّاعَيْنِ مِنَ الْجَمْعِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَفْعَلُوا، وَلَكِنْ مِثْلاً بِمِثْلٍ، أَوْ بِيعُوا هَذَا وَاشْتَرُوا بِثَمَنِهِ مِنْ هَذَا وَكَذَلِكَ الْمِيزَانُ ".

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৮৪৯। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনী আদী আনসারী গোত্রের অনেক ব্যক্তিকে খায়বরের কর্মকর্তা নিয়োগ করে পাঠালেন। এরপর সে প্রত্যাবর্তন করল উন্নতমানের খেজুর নিয়ে। তখন নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, খায়বরের সব খেজুরই কি এত উন্নতমানের হয়? তিনি বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর কসম! সব খেজুরই এমন নয়। আমরা দুই সা’ মন্দ খেজুরের বিনিময়ে এরূপ এক সা’ ভাল খেজুর খরিদ করেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এমনটি করো না। বরং সমানে সমানে ক্রয়-বিক্রয় করো। কিংবা এগুলো বিক্রয় করে এর মূল্য দ্বারা সেগুলো খরিদ করো। যেসব জিনিস ওজন করে কেনাবেচা হয়, সেসব ক্ষেত্রেও এই আদেশ সমভাবে প্রযোজ্য।

৩০৯৫. বিচারক ইজতিহাদে সঠিক কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত নিলেও তার প্রতিদান রয়েছে।

باب أَجْرِ الْحَاكِمِ إِذَا اجْتَهَدَ فَأَصَابَ أَوْ أَخْطَأَ

৬৮৫০

7352 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ المُقْرِئُ المَكِّيُّ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الحَارِثِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، مَوْلَى عَمْرِو بْنِ العَاصِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ العَاصِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا حَكَمَ الحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ، وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ» ، قَالَ: فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الحَدِيثِ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، فَقَالَ: هَكَذَا حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَقَالَ عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ المُطَّلِبِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আমর ইবনুল আস রাযি.

৬৮৫০। আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এই কথা বলতে শুনেছেন, কোন বিচারক ইজতিহাদে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে তার জন্য রয়েছে দু’টি পুরস্কার। আর যদি কোন বিচারক ইজতিহাদে ভুল করেন তার জন্যও রয়েছে একটি পুরস্কার। রাবী বলেন, আমি হাদীসটি আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে হাযম (রাহঃ) এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন এবং আব্দুল আযীয ইবনে মুত্তালিব......... আবু সালামা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩০৯৬. প্রমাণ তাদের উক্তির বিরুদ্ধে, যারা বলে নবী (ﷺ) এর সব কাজই সুষ্পষ্ট ছিল। কোন কোন সাহাবী নবী (ﷺ) এর দরবার থেকে অনুপস্থিত থাকা যে স্বাভাবিক ছিল যদ্দরুন তাঁদের জন্য ইসলামের বিধিবিধান থেকে লাওয়াকিফ থাকাও স্বাভাবিক ছিল এর প্রমাণ।

بَابُ الْحُجَّةِ عَلَى مَنْ قَالَ إِنَّ أَحْكَامَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَتْ ظَاهِرَةً وَمَا كَانَ يَغِيبُ بَعْضُهُمْ مِنْ مَشَاهِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأُمُورِ الإِسْلاَمِ

৬৮৫১

7353 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي عَطَاءٌ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ: اسْتَأْذَنَ أَبُو مُوسَى عَلَى عُمَرَ فَكَأَنَّهُ وَجَدَهُ مَشْغُولًا فَرَجَعَ، فَقَالَ عُمَرُ: أَلَمْ أَسْمَعْ صَوْتَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ، ائْذَنُوا لَهُ، فَدُعِيَ لَهُ، فَقَالَ: مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ؟ فَقَالَ: «إِنَّا كُنَّا نُؤْمَرُ بِهَذَا» ، قَالَ: فَأْتِنِي عَلَى هَذَا بِبَيِّنَةٍ أَوْ لَأَفْعَلَنَّ بِكَ، فَانْطَلَقَ إِلَى مَجْلِسٍ مِنَ الأَنْصَارِ، فَقَالُوا: لاَ يَشْهَدُ إِلَّا أَصَاغِرُنَا، فَقَامَ أَبُو سَعِيدٍ الخُدْرِيُّ فَقَالَ: «قَدْ كُنَّا نُؤْمَرُ بِهَذَا» ، فَقَالَ عُمَرُ خَفِيَ عَلَيَّ هَذَا مِنْ أَمْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَلْهَانِي الصَّفْقُ بِالأَسْوَاقِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৮৫১। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... উবাইদ ইবনে উমায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মুসা (রাযিঃ) উমর (রাযিঃ)-এর কাছে আসার অনুমতি চাইলেন। আবু মুসা (রাযিঃ) তাকে যেন কোন কাজে ব্যস্ত ভেবে চলে যাচ্ছিলেন। উমর (রাযিঃ) বললেন, আমি কি আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স এর আওয়াজ শুনিনি? তাকে এখানে আসার অনুমতি দাও। এরপর তাকে ডেকে আনা হলে উমর (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, কি জিনিস আপনাকে ফিরে যেতে বাধ্য করল? আবু মুসা (রাযিঃ) বললেন, আমাদেরকে এরূপই করার নির্দেশ দেয়া হত। উমর (রাযিঃ) বললেন, আপনার উক্তির সপক্ষে প্রমাণ পেশ করুন, অন্যথায় আপনার সাথে মোকাবেলা করব। এরপর তিনি আনসারদের এক মজলিসে চলে গেলেন। তারা বলে উঠল আমাদের বালকরাই এর পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। এরপর আবু সাঈদ (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হ্যাঁ, আমাদেরকে এরূপ করারই নির্দেশ দেওয়া হত। এরপর উমর (রাযিঃ) বললেন, নবী (ﷺ) এর এমন আদেশটি আমার অজানা রয়ে গেল। বাজারের বেচাকেনার ব্যস্ততা আমাকে এ কথা জানা থেকে বঞ্চিত রেখেছে।

৬৮৫২

7354 - حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنَ الأَعْرَجِ، يَقُولُ: أَخْبَرَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ: إِنَّكُمْ تَزْعُمُونَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ يُكْثِرُ الحَدِيثَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاللَّهُ المَوْعِدُ إِنِّي كُنْتُ امْرَأً مِسْكِينًا، أَلْزَمُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى مِلْءِ بَطْنِي، وَكَانَ المُهَاجِرُونَ يَشْغَلُهُمُ الصَّفْقُ بِالأَسْوَاقِ، وَكَانَتِ الأَنْصَارُ يَشْغَلُهُمُ القِيَامُ عَلَى أَمْوَالِهِمْ، فَشَهِدْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ، وَقَالَ: «مَنْ يَبْسُطْ رِدَاءَهُ حَتَّى أَقْضِيَ مَقَالَتِي، ثُمَّ [ص:109] يَقْبِضْهُ، فَلَنْ يَنْسَى شَيْئًا سَمِعَهُ مِنِّي» فَبَسَطْتُ بُرْدَةً كَانَتْ عَلَيَّ، فَوَالَّذِي بَعَثَهُ بِالحَقِّ مَا نَسِيتُ شَيْئًا سَمِعْتُهُ مِنْهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮৫২। আলী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের ধারণা আবু হুরায়রা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণনায় বাড়াবাড়ি করছে। আল্লাহর কাছে একদিন আমাদেরকে হাযির হতে হবে। আমি ছিলাম একজন মিসকীন। খেয়ে না খেয়েই আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সান্নিধ্যে লেগে থাকতাম। মুহাজিরদেরকে বাজারের বেচাকেনা লিপ্ত রাখত। আর আনসারগণকে ব্যস্ত রাখত তাদের ধন দৌলতের ব্যবস্থাপনা। একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত যে ব্যক্তি স্বীয় চাঁদর বিছিয়ে তারপর তা গুটিয়ে নেবে, সে আমার কাছ থেকে শ্রুত বাণী কোন দিন ভুলবে না। তখন আমি আমার গায়ের চাদরখানা বিছিয়ে দিলাম। সে সত্তার কসম, যিনি তাঁকে হকের সাথে প্রেরণ করেছেন। এরপর থেকে আমি তার কাছে যা শুনেছি, তা আর ভুলিনি।

৩০৯৭. কোন বিষয় নবী (ﷺ) কর্তৃক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন না করাই তা বৈধ হওয়ার প্রমাণ। অন্য কারো অস্বীকৃতি বৈধতার প্রমাণ নয়।

باب مَنْ رَأَى تَرْكَ النَّكِيرِ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حُجَّةً لاَ مِنْ غَيْرِ الرَّسُولِ

৬৮৫৩

7355 - حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ المُنْكَدِرِ، قَالَ: رَأَيْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَحْلِفُ بِاللَّهِ: أَنَّ ابْنَ الصَّائِدِ الدَّجَّالُ، قُلْتُ: تَحْلِفُ بِاللَّهِ؟ قَالَ: «إِنِّي سَمِعْتُ عُمَرَ يَحْلِفُ عَلَى ذَلِكَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمْ يُنْكِرْهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬৮৫৩। হাম্মাদ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) কে আল্লাহর কসম খেয়ে বলতে শুনেছি যে, ইবনে সায়িদ অবশ্যই (একটা) দাজ্জাল। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর কসম খেয়ে বলছেন? তিনি উত্তরে বললেনঃ আমি উমর (রাযিঃ) কে নবী (ﷺ) এর উপস্থিতিতে কসম খেয়ে এ কথা বলতে শুনেছি। তখন নবী (ﷺ) এ কথা অস্বীকার করেননি।

৩০৯৮. দলীল-প্রমাণাদির দ্বারা যেসব বিধিবিধান সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। দলীল প্রমাণাদির অর্থ ও বিশ্লেষণ কিভাবে করা যায়? নবী (ﷺ) ঘোড়া ইত্যাদির হুকুম বলে দিয়েছেন। এরপর তাঁকে গাধার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীর দিকে ইশারা করেনঃ কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলেও তা দেখতে পাবে (৯৯ঃ ৭)।
নবী (ﷺ) কে 'দব্ব' (গুঁইসাপ জাতীয়) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ আমি এটি খাই না, তবে হারামও বলি না। নবী (ﷺ) এর দস্তরখানে 'দব্ব' খাওয়া হয়েছে। এর দ্বারা ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) প্রমাণ করেছেন যে, 'দব্ব' হারাম নয়।

باب الأَحْكَامِ الَّتِي تُعْرَفُ بِالدَّلاَئِلِ، وَكَيْفَ مَعْنَى الدِّلاَلَةِ وَتَفْسِيرِهَا وَقَدْ أَخْبَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمْرَ الْخَيْلِ وَغَيْرِهَا، ثُمَّ سُئِلَ عَنِ الْحُمُرِ فَدَلَّهُمْ عَلَى قَوْلِهِ تَعَالَى: {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ}. وَسُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الضَّبِّ فَقَالَ: ‘لاَ آكُلُهُ وَلاَ أُحَرِّمُهُ’. وَأُكِلَ عَلَى مَائِدَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الضَّبُّ، فَاسْتَدَلَّ ابْنُ عَبَّاسٍ بِأَنَّهُ لَيْسَ بِحَرَامٍ

৬৮৫৪
7356 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " الخَيْلُ لِثَلاَثَةٍ: لِرَجُلٍ أَجْرٌ، وَلِرَجُلٍ سِتْرٌ، وَعَلَى رَجُلٍ وِزْرٌ، فَأَمَّا الَّذِي لَهُ أَجْرٌ: فَرَجُلٌ رَبَطَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَأَطَالَ لَهَا فِي مَرْجٍ أَوْ رَوْضَةٍ، فَمَا أَصَابَتْ فِي طِيَلِهَا ذَلِكَ مِنَ المَرْجِ أَوِ الرَّوْضَةِ كَانَ لَهُ حَسَنَاتٍ، وَلَوْ أَنَّهَا قَطَعَتْ طِيَلَهَا، فَاسْتَنَّتْ شَرَفًا أَوْ شَرَفَيْنِ، كَانَتْ آثَارُهَا وَأَرْوَاثُهَا حَسَنَاتٍ لَهُ، وَلَوْ أَنَّهَا مَرَّتْ بِنَهَرٍ فَشَرِبَتْ مِنْهُ وَلَمْ يُرِدْ أَنْ يَسْقِيَ بِهِ كَانَ ذَلِكَ حَسَنَاتٍ لَهُ، وَهِيَ لِذَلِكَ الرَّجُلِ أَجْرٌ، وَرَجُلٌ رَبَطَهَا تَغَنِّيًا وَتَعَفُّفًا، وَلَمْ يَنْسَ حَقَّ اللَّهِ فِي رِقَابِهَا وَلاَ ظُهُورِهَا، فَهِيَ لَهُ سِتْرٌ، وَرَجُلٌ رَبَطَهَا فَخْرًا وَرِيَاءً، فَهِيَ عَلَى ذَلِكَ وِزْرٌ "
وَسُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الحُمُرِ، قَالَ: «مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيَّ فِيهَا إِلَّا هَذِهِ الآيَةَ الفَاذَّةَ الجَامِعَةَ» {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ، وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ} [الزلزلة: 8]

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮৫৪। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ঘোড়া ব্যবহারের দিক দিয়ে মানুষ তিন প্রকার। এক প্রকার লোকের জন্য ঘোড়া সওয়ারের মাধ্যম আর এক প্রকার লোকের জন্য তা গুনাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার অবলম্বন এবং আর এক প্রকার লোকের জন্য তা শাস্তির কারণ। যার জন্য ঘোড়া সওয়ারের মাধ্যম, সে এমন ব্যক্তি যে ঘোড়াকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখে এবং চারণভূমি বা বাগানে প্রশস্ত রশিতে বেধে বিচরণ করতে দেয়। এই রশি যত প্রশস্ত এবং যত দুরত্বে ঘোড়া বিচরণ করতে পারে, সে তত বেশী প্রতিদান পায়। যদি ঘোড়া এ রশি ছিড়ে এক চক্কর অথবা দু’টি চক্কর দেয়। তবে ঐ ঘোড়ার প্রতিটি পদক্ষেপ এবং মালের বিনিময়ে তাকে প্রতিদান দেওয়া হয়। ঘোড়া যদি কোন নদী বা নালায় গিয়ে পানি পান করে ফেলে অথচ মালিক পানি পান করানোর নিয়ত করেনি। এগুলো খুবই নেক কাজ। এর জন্য এ ব্যক্তির সাওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি ঘোড়া পালন করে একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং সুনির্ভরতা বজায় বাখার জন্য, এর সাথে সাথে ঘোড়ার ঘাড় ও পিঠে বর্তানো আল্লাহর হক সমূহও আদায় করতেও সে ভুলে যায় না। এ ক্ষেত্রে ঘোড়া তার জন্য শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হবে। আর যে ব্যক্তি অহংকার ও আত্মগৌরব প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ঘোড়া পোষে, তার জন্য এই ঘোড়া শাস্তির কারণ হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করা হল গাধা সম্পর্কে। তখন তিনি বললেনঃ এ সম্পর্কে আমার প্রতি ব্যাপক অর্থবোধক একটি আয়াত ছাড়া আল্লাহ আর কিছু নাযিল করেননি। (তা হল এই) যে অণু পরিমাণ ভাল কাজও করবে, সে তাও দেখতে পাবে এবং যে অনু পরিমাণ খারাপ কাজ করবে, সেও তা দেখতে পাবে।

৩০৯৮. দলীল-প্রমাণাদির দ্বারা যেসব বিধিবিধান সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। দলীল প্রমাণাদির অর্থ ও বিশ্লেষণ কিভাবে করা যায়?

باب الأَحْكَامِ الَّتِي تُعْرَفُ بِالدَّلاَئِلِ، وَكَيْفَ مَعْنَى الدِّلاَلَةِ وَتَفْسِيرِهَا

৬৮৫৫

7357 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ صَفِيَّةَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ امْرَأَةً سَأَلَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ح وحَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ عُقْبَةَ، حَدَّثَنَا الفُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ النُّمَيْرِيُّ البَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنُ شَيْبَةَ، حَدَّثَتْنِي أُمِّي، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ امْرَأَةً سَأَلَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الحَيْضِ، كَيْفَ تَغْتَسِلُ [ص:110] مِنْهُ؟ قَالَ: «تَأْخُذِينَ فِرْصَةً مُمَسَّكَةً فَتَوَضَّئِينَ بِهَا» ، قَالَتْ: كَيْفَ أَتَوَضَّأُ بِهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَوَضَّئِي» ، قَالَتْ: كَيْفَ أَتَوَضَّأُ بِهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَوَضَّئِينَ بِهَا» ، قَالَتْ عَائِشَةُ: فَعَرَفْتُ الَّذِي يُرِيدُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَذَبْتُهَا إِلَيَّ فَعَلَّمْتُهَا

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৮৫৫। ইয়াহয়া ও মুহাম্মাদ ইবনে উকবা (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করল, হায়য থেকে গোসল (পবিত্রতা অর্জন) কিভাবে করতে হয়? তিনি বললেনঃ তুমি সুগন্ধিযুক্ত এক টুকরা কাপড় হাতে নেবে। তারপর এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করে নেবে। মহিলা বলে উঠল, আমি এর দ্বারা কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করে নেব? নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করে নেবে। মহিলা আবার বলে উঠল, এর দ্বারা কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করে নেব? নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করে নেবে। আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি বুঝতে পারলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দ্বারা কি বোঝাতে চাচ্ছেন। এরপর মহিলাটিকে আমার দিকে টেনে আনলাম এবং বিষয়টি তাকে জানিয়ে দিলাম।

৬৮৫৬

7358 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ أُمَّ حُفَيْدٍ بِنْتَ الحَارِثِ بْنِ حَزْنٍ «أَهْدَتْ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمْنًا وَأَقِطًا وَأَضُبًّا، فَدَعَا بِهِنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأُكِلْنَ عَلَى مَائِدَتِهِ، فَتَرَكَهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَالْمُتَقَذِّرِ لَهُنَّ» ، وَلَوْ كُنَّ حَرَامًا مَا أُكِلْنَ عَلَى مَائِدَتِهِ، وَلاَ أَمَرَ بِأَكْلِهِنَّ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৮৫৬। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হারিস ইবনে হাযনের কন্যা উম্মে হুফায়দ (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর উদ্দেশ্যে ঘি, পনির এবং কতগুলো দব্ব (গুইসাপ) হাদিয়া পাঠালেন। নবী (ﷺ) এগুলো চেয়ে নিলেন এবং এগুলো তাঁর দস্তরখানে বসে খাওয়া হল। নবী (ﷺ) নিজে এগুলো ঘৃণার কারণে খেতে অপছন্দ করলেন। যদি এগুলো হারাম হত, তবে তাঁর দস্তরখানে তা খাওয়া যেত না এবং তিনিও এগুলো খাওয়ার অনুমতি দিতেন না।

৬৮৫৭

7359 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَكَلَ ثُومًا أَوْ بَصَلًا فَلْيَعْتَزِلْنَا، أَوْ لِيَعْتَزِلْ مَسْجِدَنَا، وَلْيَقْعُدْ فِي بَيْتِهِ» ، وَإِنَّهُ أُتِيَ بِبَدْرٍ، قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: يَعْنِي طَبَقًا، فِيهِ خَضِرَاتٌ مِنْ بُقُولٍ، فَوَجَدَ لَهَا رِيحًا، فَسَأَلَ عَنْهَا فَأُخْبِرَ بِمَا فِيهَا مِنَ البُقُولِ، فَقَالَ: «قَرِّبُوهَا» ، فَقَرَّبُوهَا إِلَى بَعْضِ أَصْحَابِهِ كَانَ مَعَهُ، فَلَمَّا رَآهُ كَرِهَ أَكْلَهَا قَالَ: «كُلْ فَإِنِّي أُنَاجِي مَنْ لاَ تُنَاجِي» ، وَقَالَ ابْنُ عُفَيْرٍ، عَنْ ابْنِ وَهْبٍ: بِقِدْرٍ فِيهِ خَضِرَاتٌ، وَلَمْ يَذْكُرِ اللَّيْثُ، وَأَبُو صَفْوَانَ، عَنْ يُونُسَ قِصَّةَ القِدْرِ فَلاَ أَدْرِي هُوَ مِنْ قَوْلِ الزُّهْرِيِّ أَوْ فِي الحَدِيثِ

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬৮৫৭। আহমাদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রসুন কিংবা পেঁয়াজ কাঁচা খায়, সে ব্যক্তি যেন আমাদের থেকে কিংবা আমাদের মসজিদ থেকে পৃথক থাকে। আর সে যেন তার ঘরে বসে খাকে। এরপর তার খেদমতে একটি পাত্র আনা হল। বর্ণনাকারী ইবনে ওয়াহব (রাযিঃ) বলেন, অর্থাৎ শাক-সবজির একটি বড় পাত্র। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেই পাত্রে এক প্রকার গন্ধ অনুভব করলে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তাঁকে পাত্রের মধ্যকার শাক-সবজি সম্পর্কে অবগত করা হল। তিনি তা জনৈক সাহাবীকে খেতে দিতে বললেন যিনি তার সাথে উপস্থিত রয়েছেন। এরপর তিনি যখন অনুভব করলেন, সে তা খেতে অপছন্দ করছে তখন তিনি বললেনঃ খাও। কারণ আমি যার সাথে গোপনে কথোপকথন করি, তুমি তাঁর সাথে তা কর না।
ইবনে উফায়র (রাহঃ) ......... ইবনে ওয়াহব (রাহঃ) طَبَقًا فِيهِ خَضِرَاتٌ এর স্থলে بِقِدْرٍ فِيهِ خَضِرَاتٌ (শাক-সজির একটি হাড়ি) বর্ণনা করেছেন। পক্ষান্তরে লাঈস ও আবু সাফওয়ান (রাহঃ) ইউনুস (রাহঃ) থেকে হাড়ির ঘটনা উল্লেখ করেননি। এটি কি হাদীস বর্ণিত না যুহরী (রাহঃ) এর উক্তি এ সম্পর্কে আমার জানা নেই।
৬৮৫৮

7360 - حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، وَعَمِّي، قَالاَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرٍ، أَنَّ أَبَاهُ جُبَيْرَ بْنَ مُطْعِمٍ أَخْبَرَهُ: أَنَّ امْرَأَةً أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَلَّمَتْهُ فِي شَيْءٍ، فَأَمَرَهَا بِأَمْرٍ، فَقَالَتْ: أَرَأَيْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنْ لَمْ أَجِدْكَ؟ قَالَ: «إِنْ لَمْ تَجِدِينِي، فَأْتِي أَبَا بَكْرٍ» زَادَ لَنَا الحُمَيْدِيُّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ كَأَنَّهَا تَعْنِي المَوْتَ

বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

৬৮৫৮। উবাইদুল্লাহ ইবনে সা’দ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... জুবাইর ইবনে মুতঈম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে হাযির হল এবং তার সাথে কিছু বিষয়ে কথাবার্তা বলল। নবী (ﷺ) তাঁকে কোন এক বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে দিলেন। এরপর মহিলা আবেদন করল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনাকে যখন পাব না তখন কি করব? তিনি উত্তর দিলেনঃ যখন আমাকে পাবে না, তখন আসবে আবু বকর (রাযিঃ) এর কাছে।
আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম বুখারী (রাহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী হুমায়দী (রাহঃ) ইবরাহীম ইবনে সা’দ (রাহঃ) থেকে আরো অতিরিক্ত বলেছেন, মহিলাটি সম্ভবত সেই আবেদন দ্বারা নবী (ﷺ) এর ওফাতের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
৩০৯৯. রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর বাণীঃ আহলে কিতাবদের কাছে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো না।
আবুল ইয়ামান (রাহঃ) বলেন, শুআইব (রাহঃ), ইমাম যুহরী (রাহঃ) থেকে হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুআবিয়া (রাযিঃ) কে মদীনায় বসবাসরত কুরাইশ বংশীয় কতিপয় লোকের সাথে আলাপ-আলোচনা করতে শুনেছেন। তখন কা’ব আহবারের কথা এসে যায়। মুআবিয়া (রাযিঃ) বললেন, যারা পূর্ববর্তী কিতাব সম্পর্কে আলোচনা করেন, তাদের মধ্যে তিনি অধিকতর সত্যবাদী, যদিও বর্ণিত বিষয়সমূহ ভিত্তিহীন।

باب قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَسْأَلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ عَنْ شَىْءٍ " وَقَالَ أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، سَمِعَ مُعَاوِيَةَ، يُحَدِّثُ رَهْطًا مِنْ قُرَيْشٍ بِالْمَدِينَةِ، وَذَكَرَ كَعْبَ الأَحْبَارِ فَقَالَ إِنْ كَانَ مِنْ أَصْدَقِ هَؤُلاَءِ الْمُحَدِّثِينَ الَّذِينَ يُحَدِّثُونَ عَنْ أَهْلِ الْكِتَابِ، وَإِنْ كُنَّا مَعَ ذَلِكَ لَنَبْلُو عَلَيْهِ الْكَذِبَ

৬৮৫৯

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ أَهْلُ الْكِتَابِ يَقْرَءُونَ التَّوْرَاةَ بِالْعِبْرَانِيَّةِ وَيُفَسِّرُونَهَا بِالْعَرَبِيَّةِ لأَهْلِ الإِسْلاَمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُصَدِّقُوا أَهْلَ الْكِتَابِ، وَلاَ تُكَذِّبُوهُمْ وَقُولُوا (آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ) ". الآيَةَ.

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮৫৯। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাব হিব্রু ভাষায় তাওরাত পাঠ করে মুসলমানদের সামনে তা আরবী ভাষায় ব্যাখ্যা করত। (এই প্রেক্ষিতে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আহলে কিতাবকে তোমরা সত্যবাদী মনে করো না এবং তাদেরকে মিথ্যাবাদীও ভেবো না। তোমরা বলে দাও, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি .... শেষ পর্যন্ত।

৩০৯৯. রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর বাণীঃ আহলে কিতাবদের কাছে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো না।

باب قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَسْأَلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ عَنْ شَىْءٍ "

৬৮৬০

7363 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: " كَيْفَ تَسْأَلُونَ أَهْلَ الكِتَابِ عَنْ شَيْءٍ وَكِتَابُكُمُ الَّذِي أُنْزِلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْدَثُ، تَقْرَءُونَهُ مَحْضًا لَمْ يُشَبْ، وَقَدْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ أَهْلَ الكِتَابِ بَدَّلُوا كِتَابَ اللَّهِ وَغَيَّرُوهُ، وَكَتَبُوا بِأَيْدِيهِمُ الكِتَابَ، وَقَالُوا: هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا؟ أَلاَ يَنْهَاكُمْ مَا جَاءَكُمْ مِنَ العِلْمِ عَنْ مَسْأَلَتِهِمْ؟ لاَ وَاللَّهِ مَا رَأَيْنَا مِنْهُمْ رَجُلًا يَسْأَلُكُمْ عَنِ الَّذِي أُنْزِلَ عَلَيْكُمْ "

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৮৬০। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, তোমরা কিভাবে আহলে কিতাবদেরকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা কর? অথচ তোমাদের কিতাব (আল-কুরআন) তাঁর রাসূলের উপর সদ্য নাযিল হয়েছে, তা তোমরা পড়ছ। যা পূত-পবিত্র ও নির্ভেজাল। এই কিতাব তোমাদেরকে বলে দিচ্ছে, আহলে কিতাবগণ আল্লাহর কিতাবকে পরিবর্তন ও বিকৃত করে দিয়েছে। তারা স্বহস্তে কিতাব লিখে তা আল্লাহর কিতাব বলে ঘোষণা দিয়েছে, যাতে তার দ্বারা সামান্য সুবিধা লাভ করতে পারে। তোমাদের কাছে যে (কিতাব ও সুন্নাহর) ইলম রয়েছে তা কি তোমাদেরকে তাদের কাছে কোন মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে নিষেধ করছে না? আল্লাহর কসম! আমরা তো তাদের কাউকে দেখিনি কখনো তোমাদের উপর অবতীর্ণ কিতাবের বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করতে।

৩১০০. নবী (ﷺ) এর নিষেধাজ্ঞা দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয়। তবে অন্য দলীলের দ্বারা যা মুবাহ্ হওয়া প্রমাণিত তা ব্যতীত। অনুরূপ তাঁর নির্দেশ দ্বারা ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়। তবে অন্য দলীল দ্বারা তা মুবাহ্ হওয়া প্রমাণিত হলে ভিন্ন কথা। যেমন নবী (ﷺ) এর বাণীঃ যখন তোমরা (ইহরাম থেকে) হালাল হয়ে যাও, নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করবে। জাবির (রাযিঃ) বলেন, এ কাজ তাদের জন্য ওয়াজিব করা হয়নি। বরং তাদের জন্য (স্ত্রী স্পর্শ-সহবাস) হালাল করা হয়েছে। উম্মে আতীয়্যা (রাযিঃ) বলেছেন, আমাদেরকে (মহিলাদের) জানাযার সাথে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা আমাদের উপর বাধ্যতামূলক নয়।

بَابُ نَهْيِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى التَّحْرِيمِ إِلاَّ مَا تُعْرَفُ إِبَاحَتُهُ وَكَذَلِكَ أَمْرُهُ نَحْوَ قَوْلِهِ حِينَ أَحَلُّوا: ‘أَصِيبُوا مِنَ النِّسَاءِ’. وَقَالَ جَابِرٌ: وَلَمْ يَعْزِمْ عَلَيْهِمْ، وَلَكِنْ أَحَلَّهُنَّ لَهُمْ. وَقَالَتْ أُمُّ عَطِيَّةَ: نُهِينَا عَنِ اتِّبَاعِ الْجَنَازَةِ وَلَمْ يُعْزَمْ عَلَيْنَا

৬৮৬১

7367 - حَدَّثَنَا المَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ عَطَاءٌ: قَالَ جَابِرٌ: قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ البُرْسَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فِي أُنَاسٍ مَعَهُ قَالَ: أَهْلَلْنَا أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الحَجِّ خَالِصًا لَيْسَ مَعَهُ عُمْرَةٌ، قَالَ عَطَاءٌ: قَالَ جَابِرٌ: فَقَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صُبْحَ رَابِعَةٍ مَضَتْ مِنْ ذِي الحِجَّةِ، فَلَمَّا قَدِمْنَا أَمَرَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَحِلَّ، وَقَالَ: «أَحِلُّوا وَأَصِيبُوا مِنَ النِّسَاءِ» ، قَالَ عَطَاءٌ: قَالَ جَابِرٌ: وَلَمْ يَعْزِمْ عَلَيْهِمْ، وَلَكِنْ أَحَلَّهُنَّ لَهُمْ، فَبَلَغَهُ أَنَّا نَقُولُ: لَمَّا لَمْ يَكُنْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ عَرَفَةَ إِلَّا خَمْسٌ، أَمَرَنَا أَنْ نَحِلَّ إِلَى نِسَائِنَا، فَنَأْتِي عَرَفَةَ تَقْطُرُ مَذَاكِيرُنَا المَذْيَ، قَالَ: وَيَقُولُ جَابِرٌ بِيَدِهِ هَكَذَا وَحَرَّكَهَا، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «قَدْ عَلِمْتُمْ أَنِّي أَتْقَاكُمْ لِلَّهِ وَأَصْدَقُكُمْ وَأَبَرُّكُمْ، وَلَوْلاَ هَدْيِي لَحَلَلْتُ كَمَا تَحِلُّونَ، فَحِلُّوا، فَلَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا أَهْدَيْتُ» ، فَحَلَلْنَا وَسَمِعْنَا وَأَطَعْنَا

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬৮৬১। মক্কী ইবনে ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনে বকর (রাহঃ) ......... আতা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে এই কথা বলতে শুনেছি যে, তার সাথে তখন আরো কিছু লোক ছিল। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণ হজ্জের নিয়তে ইহরাম বেধেছিলাম। এর সাথে উমরার নিয়ত ছিল না। বর্ণনাকারী আতা (রাহঃ) বলেন, জাবির (রাযিঃ) বলেছেন, নবী (ﷺ) যিলহজ্জ মাসের চার তারিখ সকাল বেলায় (মক্কায়) আগমন করলেন। এরপর আমরাও যখন আগমন করলাম, তখন নবী (ﷺ) আমাদেরকে ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন।* তিনি বললেনঃ তোমরা ইহরাম খুলে ফেল এবং স্ত্রীদের সাথে মিলিত হও। (রাবী) আতা (রাহঃ) বর্ণনা করেন, জাবির (রাযিঃ) বলেছেনঃ (স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা) তিনি তাদের উপর বাধ্যতামূলক করেননি বরং মুবাহ করে দিয়েছেন। এরপর তিনি অবহিত হন যে, আমরা বলাবলি করছি আমাদের ও আরাফার দিনের মাঝখানে মাত্র পাঁচদিন বাকি। তিনি আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা ইহরাম খুলে স্ত্রীদের সাথে মিলিত হই। তখন তো আমরা পৌছব আরাফায় আর আমাদের পুরুষাঙ্গ থেকে মযী ঝরতে থাকবে। আতা বলেনঃ জাবির (রাযিঃ) এ কথা বোঝানোর জন্য হাত দিয়ে ইঙ্গিত করেছিলেন কিংবা হাত নেড়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে বললেনঃ তোমরা জানো, আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে অধিক ভয় করি, তোমাদের তুলনায় আমি বেশী সত্যবাদী ও নিষ্ঠাবান। আমার সাথে যদি কুরবানীর পশু না থাকত আমিও তোমাদের মত ইহরাম খুলে ফেলতাম। সুতরাং তোমরা ইহরাম খুলে ফেল। আমি যদি আমার কাজের পরিণাম আগে জানতাম যা পরে অবগত হয়েছি তবে আমি কুরবানীর পশু সঙ্গে আনতাম না। অতএব আমরা ইহরাম খুলে ফেললাম। নবী (ﷺ) এর নির্দেশ শোনলাম এবং তাঁর আনুগত্য করলাম।

*মহানবী (ﷺ)-এর সাথে হজ্জ আদায় করার বছর সাহাবীগণের মধ্যে যারা শুধু হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন তাদেরকে তিনি তা উমরায় পরিণত করে ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দেন এবং তা শুধু ঐ বছরের জন্যই প্রযোজ্য ছিল।

৩১০০. নবী (ﷺ) এর নিষেধাজ্ঞা দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয়। তবে অন্য দলীলের দ্বারা যা মুবাহ্ হওয়া প্রমাণিত তা ব্যতীত। অনুরূপ তাঁর নির্দেশ দ্বারা ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়। তবে অন্য দলীল দ্বারা তা মুবাহ্ হওয়া প্রমাণিত হলে ভিন্ন কথা।

بَابُ نَهْيِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى التَّحْرِيمِ إِلاَّ مَا تُعْرَفُ إِبَاحَتُهُ وَكَذَلِكَ أَمْرُهُ

৬৮৬২

7368 - حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، عَنِ الحُسَيْنِ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ المُزَنِيُّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «صَلُّوا قَبْلَ صَلاَةِ المَغْرِبِ» ، قَالَ فِي الثَّالِثَةِ: «لِمَنْ شَاءَ» ، كَرَاهِيَةَ أَنْ يَتَّخِذَهَا النَّاسُ سُنَّةً

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ মুযানী (রাঃ)

৬৮৬২। আবু মা’মার (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ মুযানী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ মাগরিবের নামাযের পূর্বে তোমরা নামায আদায় করবে। তবে তৃতীয়বারে তিনি বললেনঃ যার ইচ্ছা সে তা আদায় করতে পারে। লোকেরা (সাহাবীগণ) এটাকে সুন্নত বলে ধরে নিক এটা তিনি পছন্দ করলেন না।*

*মাগরিবের পূর্বে রাসূল (ﷺ) প্রথমত নামায পড়ার অনুমোদন দিলেও পরবর্তীকালে যাতে এটাকে সুন্নত হিসাবে মানুষ সাব্যস্ত না করে নেয়, সেজন্য বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক বলে উল্লেখ করেছেন। এ কারণেই ইমাম আবু হানিফা (রাহঃ) মাগরিবের পূর্বে কোন নামায পড়াকে মাকরূহ বলেছেন।

৩১০১. মতবিরোধ অপছন্দনীয়।

باب كَرَاهِيَةِ الْخِلاَفِ

৬৮৬৩

7364 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سَلَّامِ بْنِ أَبِي مُطِيعٍ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الجَوْنِيِّ، عَنْ جُنْدَبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ البَجَلِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اقْرَءُوا القُرْآنَ مَا ائْتَلَفَتْ قُلُوبُكُمْ، فَإِذَا اخْتَلَفْتُمْ فَقُومُوا عَنْهُ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: «سَمِعَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ سَلَّامًا»

বর্ণনাকারী: হযরত জুনদুব ইবন আব্দুল্লাহ রাযি

৬৮৬৩। ইসহাক (রাহঃ) ......... জুনদাব ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক, যাবত এর প্রতি তোমাদের হৃদয়ের আকর্যণ অব্যাহত থাকে। আর যখন তোমাদের মধ্যে কোন প্রকার মতবিরোধ দেখা দেয় তখন তা থেকে উঠে যাও।
আবু আব্দুল্লাহ (বুখারী) (রাহঃ) বলেন, আব্দুর রহমান (রাহঃ) সাল্লাম (রাহঃ) থেকে (উক্ত হাদীসটি) শুনেছেন।
৬৮৬৪

7365 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الجَوْنِيُّ، عَنْ جُنْدَبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «اقْرَءُوا القُرْآنَ مَا ائْتَلَفَتْ عَلَيْهِ قُلُوبُكُمْ، فَإِذَا اخْتَلَفْتُمْ فَقُومُوا عَنْهُ» ، قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَقَالَ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ هَارُونَ الأَعْوَرِ، حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ، عَنْ جُنْدَبٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

বর্ণনাকারী: হযরত জুনদুব ইবন আব্দুল্লাহ রাযি

৬৮৬৪। ইসহাক (রাহঃ) ......... জুনদাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ততক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক, যতক্ষণ এর প্রতি তোমাদের হৃদয়ের আকর্যণ অব্যাহত থাকে। আর যখন বিরাগ মনা হয়ে যাও, তখন তা থেকে উঠে দাঁড়াও।
ইয়াযিদ ইবনে হারুন (রাহঃ) জুনদাব (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
৬৮৬৫

7366 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَمَّا حُضِرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ، وَفِي البَيْتِ رِجَالٌ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ، قَالَ: «هَلُمَّ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ» ، قَالَ عُمَرُ: إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَلَبَهُ الوَجَعُ وَعِنْدَكُمُ القُرْآنُ فَحَسْبُنَا كِتَابُ اللَّهِ، وَاخْتَلَفَ أَهْلُ البَيْتِ وَاخْتَصَمُوا، فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: قَرِّبُوا يَكْتُبْ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ مَا قَالَ عُمَرُ، فَلَمَّا أَكْثَرُوا اللَّغَطَ وَالِاخْتِلاَفَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «قُومُوا عَنِّي» ، قَالَ [ص:112] عُبَيْدُ اللَّهِ، فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ: «إِنَّ الرَّزِيَّةَ كُلَّ الرَّزِيَّةِ مَا حَالَ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ أَنْ يَكْتُبَ لَهُمْ ذَلِكَ الكِتَابَ مِنَ اخْتِلاَفِهِمْ وَلَغَطِهِمْ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৮৬৫। ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) এর ওফাতের সময় ঘনিয়ে এল। রাবী বলেন, ঘরের মধ্যে তখন বহু লোক ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)। তিনি (নবী (ﷺ)) বললেনঃ তোমরা লেখার সামগ্রী নিয়ে এসো, আমি তোমাদের জন্য লিখে যাব এমন জিনিস, যা দ্বারা তার পরে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। উমর (রাযিঃ) মন্তব্য করলেন, নবী (ﷺ) খুবই কষ্টে রয়েছেন। তোমাদের কাছে তো কুরআন রয়েছেই, আল্লাহর এই কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এ সময় গৃহে অবস্থানকারীদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হল। এবং তারা বিতর্কে লিপ্ত হয়ে গেল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, লেখার সামগ্রী তোমরা নিয়ে এসো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের জন্য লিখে দিবেন এমন জিনিস যা দ্বারা তার পরে তোমরা পথহারা হবে না। আবার কারো কারো মন্তব্য ছিল উমর (রাযিঃ)-এর কথারই অনুরূপ।
যখন নবী (ﷺ) এর সামনে তাদের কথা কাটাকাটি এবং মতপার্থক্য বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও। বর্ণনাকারী উবাইদুল্লাহ বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলতেন, সমস্ত জটিলতার মূল উৎস ছিল তা-ই, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার লেখার মাঝখানে অন্তরায় সৃষ্টি হয়েছিল। অর্থাৎ তা ছিল তাদের মতবিরোধ ও কথা কাটাকাটি।
৩১০২. মহান আল্লাহর বাণীঃ তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শের মাধ্যমে নিজেদের কর্ম সম্পাদন করে (৪০ঃ ৩৮)। এবং পরামর্শ করো তাঁদের সাথে (দ্বীনী) কর্মের ব্যাপারে।
পরামর্শ হলো স্থির সিদ্ধান্ত ও লক্ষ্য নির্ধারণের পূর্বে। যেমন, মহান আল্লাহর বাণীঃ এরপর যখন তুমি দৃঢ়সংকল্প হও, তখন আল্লাহর উপর ভরসা কর।
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন কোন বিষয়ে দৃঢ়সংকল্প হন, তখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মতের পরিপন্থী অগ্রসর হওয়ার ব্যাপারে কারো কোন অধিকার থাকে না। উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের সাথে এ পরামর্শ করেন যে, যুদ্ধ কি মদীনায় অবস্থান করেই চালাবেন, না বাইরে গিয়ে? সাহাবাগণ মদীনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করাকে রায় দিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যুদ্ধের পোশাক পরিধান করলেন এবং যখন যুদ্ধের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলেন, তখন সাহাবাগণ আরয করলেন, মদীনায়ই অবস্থান করুন। কিন্তু তিনি দৃঢ়সংকল্প হওয়ার পর তাঁদের এই মতামতের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করলেন না। তিনি মন্তব্য করলেনঃ কোন নবীর সামরিক পোশাক পরিধান করার পর আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তা খুলে ফেলা সমীচীন নয়।
তিনি আলী (রাযিঃ) ও উসামা (রাযিঃ) এর সাথে আয়িশার উপর যিনার মিথ্যা অপবাদ লাগানোর ব্যাপারে পরামর্শ করেন। তাদের কথা তিনি শোনেন। এরপর কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়। মিথ্যা অপবাদকারীদেরকে তিনি বেত্রাঘাত করেন। তাঁদের পরস্পর মতান্তরের দিকে লক্ষ্য না করে আল্লাহর নির্দেশানুসারেই সিদ্ধান্ত নেন।
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর পরে ইমামগণ মুবাহ্ বিষয়াদিতে বিশ্বস্ত আলেমদের কাছে পরামর্শ চাইতেন, যেন তুলনামূলক সহজ পথ তারা গ্রহণ করতে পারেন। হ্যাঁ, যদি কিতাব কিংবা সুন্নাহে আলোচ্যবিষয়ে কোন পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যেত, তখন তারা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কথারই অনুসরণ করতেন, অন্য কারো কথার প্রতি ভ্রক্ষেপ করতেন না।
(নবী (ﷺ) এর অনুসরণেই) যাকাত যারা বন্ধ করে দিয়েছিল, আবু বকর (রাযিঃ) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। উমর (রাযিঃ) তখন বললেন, আপনি কিভাবে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা বলবে ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’। তারা যখন ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলবে তখন তারা আমার কাছ থেকে তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা লাভ করবে। তবে ইসলামের হকের ব্যাপার ভিন্নতর। আর সে ব্যাপারে তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর উপর। আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অবশ্যই করব, যারা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সুসংহত বিষয়ের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে। পরিশেষে উমর (রাযিঃ) তাঁর সিদ্ধান্তই মেনে নিলেন। আবু বকর (রাযিঃ) এ ব্যাপারে (কারো সাথে) পরামর্শ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। কেননা, যারা নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে এবং ইসলামের নির্দেশাবলী পরিবর্তন ও বিকৃতি সাধনের অপচেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সিদ্ধান্ত তাঁর সামনে বিদ্যমান ছিল। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের দ্বীনকে পরিবর্তন করে তাকে হত্যা কর।
উমর (রাযিঃ) এর পরামর্শ পরিষদের সদস্যগণ কুরআন বিশেষজ্ঞ ছিলেন। চাই তারা বয়োবৃদ্ধ হোক কিংবা যুবক। আল্লাহর কিতাবের (সিদ্ধান্তের) প্রতি উমর (রাযিঃ) ছিলেন অধিক অবহিত।

بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ} [الشورى: 38] ، {وَشَاوِرْهُمْ فِي الأَمْرِ} [آل عمران: 159] «وَأَنَّ المُشَاوَرَةَ قَبْلَ العَزْمِ وَالتَّبَيُّنِ لِقَوْلِهِ» : {فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ} [آل عمران: 159] «فَإِذَا عَزَمَ الرَّسُولُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ لِبَشَرٍ التَّقَدُّمُ عَلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ»وَشَاوَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصْحَابَهُ يَوْمَ أُحُدٍ فِي المُقَامِ وَالخُرُوجِ، فَرَأَوْا لَهُ الخُرُوجَ، فَلَمَّا لَبِسَ لَأْمَتَهُ وَعَزَمَ قَالُوا: أَقِمْ، فَلَمْ يَمِلْ إِلَيْهِمْ بَعْدَ العَزْمِ، وَقَالَ: «لاَ يَنْبَغِي لِنَبِيٍّ يَلْبَسُ لَأْمَتَهُ فَيَضَعُهَا حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ» وَشَاوَرَ عَلِيًّا، وَأُسَامَةَ فِيمَا رَمَى بِهِ أَهْلُ الإِفْكِ عَائِشَةَ فَسَمِعَ مِنْهُمَا حَتَّى [ص:113] نَزَلَ القُرْآنُ، فَجَلَدَ الرَّامِينَ، وَلَمْ يَلْتَفِتْ إِلَى تَنَازُعِهِمْ، وَلَكِنْ حَكَمَ بِمَا أَمَرَهُ اللَّهُ وَكَانَتِ الأَئِمَّةُ بَعْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَشِيرُونَ الأُمَنَاءَ مِنْ أَهْلِ العِلْمِ فِي الأُمُورِ المُبَاحَةِ لِيَأْخُذُوا بِأَسْهَلِهَا، فَإِذَا وَضَحَ الكِتَابُ أَوِ السُّنَّةُ لَمْ يَتَعَدَّوْهُ إِلَى غَيْرِهِ، اقْتِدَاءً بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَأَى أَبُو بَكْرٍ قِتَالَ مَنْ مَنَعَ الزَّكَاةَ، فَقَالَ عُمَرُ: كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِذَا قَالُوا: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ " فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَاللَّهِ لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ مَا جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «ثُمَّ تَابَعَهُ بَعْدُ عُمَرُ فَلَمْ يَلْتَفِتْ أَبُو بَكْرٍ إِلَى مَشُورَةٍ إِذْ كَانَ عِنْدَهُ حُكْمُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الَّذِينَ فَرَّقُوا بَيْنَ الصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ وَأَرَادُوا تَبْدِيلَ الدِّينِ وَأَحْكَامِهِ» وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ» وَكَانَ القُرَّاءُ أَصْحَابَ مَشُورَةِ عُمَرَ كُهُولًا كَانُوا أَوْ شُبَّانًا، وَكَانَ وَقَّافًا عِنْدَ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

৬৮৬৬
7369 - حَدَّثَنَا الأُوَيْسِيُّ عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ، وَابْنُ المُسَيِّبِ، وَعَلْقَمَةُ بْنُ وَقَّاصٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، حِينَ قَالَ لَهَا أَهْلُ الإِفْكِ مَا قَالُوا، قَالَتْ: وَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، وَأُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ، حِينَ اسْتَلْبَثَ الوَحْيُ، يَسْأَلُهُمَا وَهُوَ يَسْتَشِيرُهُمَا فِي فِرَاقِ أَهْلِهِ، فَأَمَّا أُسَامَةُ: فَأَشَارَ بِالَّذِي يَعْلَمُ مِنْ بَرَاءَةِ أَهْلِهِ، وَأَمَّا عَلِيٌّ فَقَالَ: لَمْ يُضَيِّقِ اللَّهُ عَلَيْكَ، وَالنِّسَاءُ سِوَاهَا كَثِيرٌ، وَسَلِ الجَارِيَةَ تَصْدُقْكَ. فَقَالَ: «هَلْ رَأَيْتِ مِنْ شَيْءٍ يَرِيبُكِ؟» ، قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ أَمْرًا أَكْثَرَ مِنْ أَنَّهَا جَارِيَةٌ حَدِيثَةُ السِّنِّ، تَنَامُ عَنْ عَجِينِ أَهْلِهَا، فَتَأْتِي الدَّاجِنُ فَتَأْكُلُهُ، فَقَامَ عَلَى المِنْبَرِ فَقَالَ: «يَا مَعْشَرَ المُسْلِمِينَ، مَنْ يَعْذِرُنِي مِنْ رَجُلٍ بَلَغَنِي أَذَاهُ فِي أَهْلِي، وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ عَلَى أَهْلِي إِلَّا خَيْرًا» فَذَكَرَ بَرَاءَةَ عَائِشَةَ،
وَقَالَ أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৮৬৬। আল উওয়ায়সী (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যখন মিথ্যা অপবাদকারীরা তাঁর (আয়েশার) বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন (যিনার) অপবাদ রটিয়েছিল। তিনি বলেন, ওহী আসতে বিলম্ব হচ্ছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী ইবনে আবু তালিব ও উসামা ইবনে যায়দের কাছে কিছু পরামর্শ করার জন্য তাদেরকে ডাকলেন এবং তার সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) কে পৃথক করে দেওয়া সম্পর্কে পরামর্শ চাইলেন। উসামা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর পরিবারের পবিত্রতা সম্পর্কে তার যা জানা ছিল তা উল্লেখ করলেন। আর আলী (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ আপনার জন্য তো কোন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেননি। মহিলা তো তিনি ব্যতীত আরও অনেক আছেন। আপনি বাদীটির কাছে জিজ্ঞাসা করুন, সে আপনাকে সত্য যা, তাই বলবে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বারীরাকে ডাকলেন। তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি সন্দেহের কিছু অবলোকন করেছ? তিনি বললেন, আমি এ ছাড়া আর অধিক কিছুই জানিনা যে, আয়েশা (রাযিঃ) হচ্ছে অল্পবয়স্কা মেয়ে। তিনি নিজের ঘরের আটা পিষে ঘুমিয়ে পড়েন, এমতাবস্থায় বকরী এসে তা খেয়ে ফেলে। এরপর নবী (ﷺ) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে মুসলিমগণ! যে ব্যক্তি আমার পরিবারের অপবাদ রটিয়ে আমাকে কষ্ট দিয়েছে তার প্রতিকার করতে আমাকে সাহায্য করার মত কেউ আছ কি? আল্লাহর কসম! আমি আমার পরিবার সম্পর্কে ভালো ছাড়া মন্দ কিছুই জানিনা এবং তিনি আয়েশা (রাযিঃ) এর পবিত্রতার কথা বর্ণনা করলেন।

৩১০২. মহান আল্লাহর বাণীঃ তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শের মাধ্যমে নিজেদের কর্ম সম্পাদন করে (৪০ঃ ৩৮)। এবং পরামর্শ করো তাঁদের সাথে (দ্বীনী) কর্মের ব্যাপারে।

بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ} [الشورى: 38] ، {وَشَاوِرْهُمْ فِي الأَمْرِ} [آل عمران: 159]

৬৮৬৭

7370 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَكَرِيَّاءَ الغَسَّانِيُّ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ: " أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَ النَّاسَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَقَالَ: مَا تُشِيرُونَ عَلَيَّ فِي قَوْمٍ يَسُبُّونَ أَهْلِي، مَا عَلِمْتُ عَلَيْهِمْ مِنْ سُوءٍ قَطُّ "، وَعَنْ عُرْوَةَ قَالَ: لَمَّا أُخْبِرَتْ عَائِشَةُ بِالأَمْرِ، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أَنْطَلِقَ [ص:114] إِلَى أَهْلِي؟ فَأَذِنَ لَهَا، وَأَرْسَلَ مَعَهَا الغُلاَمَ، وَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ: سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لَنَا أَنْ نَتَكَلَّمَ بِهَذَا، سُبْحَانَكَ هَذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৮৬৭। আবু উসামা ও মুহাম্মাদ ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের (সামনে) খুতবা দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করলেন। এরপর তিনি বললেনঃ যারা আমার স্ত্রীর অপবাদ রটিয়ে ফিরছে, তাদের সম্পর্কে তোমরা আমাকে কি পরামর্শ দাও। আমি আমার পরিবারের কারো মধ্যে কোন প্রকার অশ্লীলতা বিন্দুমাত্র অনুভব করিনি। উরওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়েশাকে সেই অপবাদ সম্পর্কে অবহিত করা হলে তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে আমার পরিজনের (বাবা-মার) কাছে যাওয়ার অনুমতি দিবেন কি? তখন নবী (ﷺ) তাকে অনুমতি দিলেন এবং তার সাথে একজন গোলামও পাঠালেন। জনৈক আনসারী বললেন, তুমিই পবিত্র হে আল্লাহ! এ ধরনের কথা আমাদের মুখে শোভা পায় না। এটা ভিত্তিহীন ঘৃণ্য মিথ্যা অপবাদ। তোমারই পবিত্রতা হে আল্লাহ!