يوسف
ইউসুফ
আয়াত ১১১ · মক্কী · পারা ১২
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
الٓرٰ ۟ تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡکِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ ۟
আলিফ-লাম-রা। এগুলো সত্যকে পরিস্ফুটনকারী কিতাবের আয়াত।
اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰہُ قُرۡءٰنًا عَرَبِیًّا لَّعَلَّکُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ
আমি একে আরবী ভাষার কুরআনরূপে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার।
نَحۡنُ نَقُصُّ عَلَیۡکَ اَحۡسَنَ الۡقَصَصِ بِمَاۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنَ ٭ۖ وَاِنۡ کُنۡتَ مِنۡ قَبۡلِہٖ لَمِنَ الۡغٰفِلِیۡنَ
(হে নবী!) আমি ওহী মারফত এই যে কুরআন তোমার কাছে পাঠিয়েছি, এর মাধ্যমে তোমাকে এক উৎকৃষ্টতম ঘটনা শোনাচ্ছি, যদিও তুমি এর আগে এ সম্পর্কে (অর্থাৎ এ ঘটনা সম্পর্কে) বিলকুল অনবহিত ছিলে।
اِذۡ قَالَ یُوۡسُفُ لِاَبِیۡہِ یٰۤاَبَتِ اِنِّیۡ رَاَیۡتُ اَحَدَ عَشَرَ کَوۡکَبًا وَّالشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ رَاَیۡتُہُمۡ لِیۡ سٰجِدِیۡنَ
(এটা সেই সময়ের কথা,) যখন ইউসুফ নিজ পিতা (ইয়াকুব আলাইহিস সালাম) কে বলেছিল, আব্বাজী! আমি (স্বপ্নযোগে) এগারটি নক্ষত্র এবং সূর্য ও চন্দ্রকে দেখেছি। আমি দেখেছি তারা সকলে আমাকে সিজদা করছে।
قَالَ یٰبُنَیَّ لَا تَقۡصُصۡ رُءۡیَاکَ عَلٰۤی اِخۡوَتِکَ فَیَکِیۡدُوۡا لَکَ کَیۡدًا ؕ اِنَّ الشَّیۡطٰنَ لِلۡاِنۡسَانِ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ
সে বলল, বাছা! নিজের এ স্বপ্ন তোমার ভাইদের কাছে বর্ণনা করো না, পাছে তারা তোমার বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র করে। কেননা শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
وَکَذٰلِکَ یَجۡتَبِیۡکَ رَبُّکَ وَیُعَلِّمُکَ مِنۡ تَاۡوِیۡلِ الۡاَحَادِیۡثِ وَیُتِمُّ نِعۡمَتَہٗ عَلَیۡکَ وَعَلٰۤی اٰلِ یَعۡقُوۡبَ کَمَاۤ اَتَمَّہَا عَلٰۤی اَبَوَیۡکَ مِنۡ قَبۡلُ اِبۡرٰہِیۡمَ وَاِسۡحٰقَ ؕ اِنَّ رَبَّکَ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ٪
আর এভাবেই তোমার প্রতিপালক তোমাকে (নবুওয়াতের জন্য) মনোনীত করবেন এবং তোমাকে সকল কথার সঠিক মর্মোদ্ধার শিক্ষা দেবেন (স্বপ্নের তাবীর জানাও তার অন্তর্ভুক্ত) এবং তোমার প্রতি ও ইয়াকুবের সন্তানদের প্রতি নিজ অনুগ্রহ পূর্ণ করবেন, যেভাবে ইতঃপূর্বে তিনি পূর্ণ করেছিলেন তোমার পিতৃদ্বয়- ইবরাহীম ও ইসহাকের প্রতি। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
لَقَدۡ کَانَ فِیۡ یُوۡسُفَ وَاِخۡوَتِہٖۤ اٰیٰتٌ لِّلسَّآئِلِیۡنَ
প্রকৃতপক্ষে যারা (তোমার কাছে এ ঘটনা) জিজ্ঞেস করছে, তাদের জন্য ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের ঘটনায় আছে বহু নিদর্শন।
اِذۡ قَالُوۡا لَیُوۡسُفُ وَاَخُوۡہُ اَحَبُّ اِلٰۤی اَبِیۡنَا مِنَّا وَنَحۡنُ عُصۡبَۃٌ ؕ اِنَّ اَبَانَا لَفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنِۣ ۚۖ
(এটা সেই সময়ের ঘটনা) যখন ইউসুফের (সৎ) ভাইগণ (পরস্পরে) বলেছিল, নিশ্চয়ই আমাদের পিতার কাছে আমাদের তুলনায় ইউসুফ ও তার (সহোদর) ভাই (বিনইয়ামীনই) বেশি প্রিয়, অথচ আমরা (তার পক্ষে) একটি সুসংহত দল। #%৪ #%আমাদের বিশ্বাস যে, আমাদের পিতা সুস্পষ্ট কোনও বিভ্রান্তিতে নিপতিত।
اقۡتُلُوۡا یُوۡسُفَ اَوِ اطۡرَحُوۡہُ اَرۡضًا یَّخۡلُ لَکُمۡ وَجۡہُ اَبِیۡکُمۡ وَتَکُوۡنُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِہٖ قَوۡمًا صٰلِحِیۡنَ
(সুতরাং এর সমাধান এই যে,) তোমরা ইউসুফকে হত্যা করে ফেল অথবা তাকে অন্য কোনও স্থানে ফেলে আস, যাতে তোমাদের পিতার সবটা মনোযোগ কেবল তোমাদেরই দিকে চলে আসে। আর এসব করার পর তোমরা (তাওবা করে) ভালো লোক হয়ে যাবে।
قَالَ قَآئِلٌ مِّنۡہُمۡ لَا تَقۡتُلُوۡا یُوۡسُفَ وَاَلۡقُوۡہُ فِیۡ غَیٰبَتِ الۡجُبِّ یَلۡتَقِطۡہُ بَعۡضُ السَّیَّارَۃِ اِنۡ کُنۡتُمۡ فٰعِلِیۡنَ
তাদের মধ্যে একজন বলল, ইউসুফকে হত্যা করো না। বরং তোমরা যদি কিছু করতেই চাও, তবে তাকে কোনও গভীর কুয়ায় ফেলে দাও, যাতে কোন কাফেলা তাকে তুলে নিয়ে যায়।
قَالُوۡا یٰۤاَبَانَا مَا لَکَ لَا تَاۡمَنَّا عَلٰی یُوۡسُفَ وَاِنَّا لَہٗ لَنٰصِحُوۡنَ
(সুতরাং) তারা (তাদের পিতাকে) বলল, আব্বা! আপনার কী হল যে, আপনি ইউসুফের ব্যাপারে আমাদের উপর বিশ্বাস রাখেন না? অথচ এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, আমরা তার পরম শুভাকাঙ্খী?
اَرۡسِلۡہُ مَعَنَا غَدًا یَّرۡتَعۡ وَیَلۡعَبۡ وَاِنَّا لَہٗ لَحٰفِظُوۡنَ
আগামীকাল তাকে আমাদের সাথে (বেড়াতে) পাঠান। সে খাবে-দাবে এবং ক্ষাণিকটা খেলাধুলা করবে। বিশ্বাস করুন, আমরা তাকে হেফাজত করব।
قَالَ اِنِّیۡ لَیَحۡزُنُنِیۡۤ اَنۡ تَذۡہَبُوۡا بِہٖ وَاَخَافُ اَنۡ یَّاۡکُلَہُ الذِّئۡبُ وَاَنۡتُمۡ عَنۡہُ غٰفِلُوۡنَ
ইয়াকুব বলল, তোমরা তাকে নিয়ে গেলে আমার (বিরহজনিত) কষ্ট হবে এবং আমার এই ভয়ও আছে যে, কখনও তার প্রতি তোমরা অমনোযোগী হলে নেকড়ে বাঘ তাকে খেয়ে ফেলবে।
قَالُوۡا لَئِنۡ اَکَلَہُ الذِّئۡبُ وَنَحۡنُ عُصۡبَۃٌ اِنَّاۤ اِذًا لَّخٰسِرُوۡنَ
তারা বলল, আমরা একটি সুসংহত দল হওয়া সত্ত্বেও যদি নেকড়ে বাঘ তাকে খেয়ে ফেলে, তবে তো আমরা বিলকুল শেষ হয়ে গেছি।
فَلَمَّا ذَہَبُوۡا بِہٖ وَاَجۡمَعُوۡۤا اَنۡ یَّجۡعَلُوۡہُ فِیۡ غَیٰبَتِ الۡجُبِّ ۚ وَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡہِ لَتُنَبِّئَنَّہُمۡ بِاَمۡرِہِمۡ ہٰذَا وَہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ
অতঃপর তারা যখন তাকে সাথে নিয়ে গেল আর তারা তো সিদ্ধান্ত স্থির করেছিল তাকে গভীর কুয়ায় নিক্ষেপ করবে (সেমতে তারা নিক্ষেপও করল), তখন আমি ইউসুফের কাছে ওহী পাঠালাম, (একটা সময় আসবে, যখন) তুমি তাদেরকে অবশ্যই জানাবে যে, তারা এই কাজ করেছিল আর তখন তারা বুঝতেই পারবে না (যে, তুমি কে?)।
وَجَآءُوۡۤ اَبَاہُمۡ عِشَآءً یَّبۡکُوۡنَ ؕ
রাতে তারা কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার কাছে আসল।
قَالُوۡا یٰۤاَبَانَاۤ اِنَّا ذَہَبۡنَا نَسۡتَبِقُ وَتَرَکۡنَا یُوۡسُفَ عِنۡدَ مَتَاعِنَا فَاَکَلَہُ الذِّئۡبُ ۚ وَمَاۤ اَنۡتَ بِمُؤۡمِنٍ لَّنَا وَلَوۡ کُنَّا صٰدِقِیۡنَ
বলতে লাগল, আব্বাজী! বিশ্বাস করুন, আমরা দৌড়-প্রতিযোগিতায় চলে গিয়েছিলাম আর ইউসুফকে আমাদের মালপত্রের কাছে রেখে গিয়েছিলাম। এই অবকাশে নেকড়ে বাঘ তাকে খেয়ে ফেলেছে। কিন্তু আপনি তো আমাদের কথা বিশ্বাস করবেন না, তাতে আমরা যতই সত্যবাদী হই।
وَجَآءُوۡ عَلٰی قَمِیۡصِہٖ بِدَمٍ کَذِبٍ ؕ قَالَ بَلۡ سَوَّلَتۡ لَکُمۡ اَنۡفُسُکُمۡ اَمۡرًا ؕ فَصَبۡرٌ جَمِیۡلٌ ؕ وَاللّٰہُ الۡمُسۡتَعَانُ عَلٰی مَا تَصِفُوۡنَ
আর তারা ইউসুফের জামায় মেকি রক্তও মাখিয়ে এনেছিল। তাদের পিতা বলল, (এটা সত্য নয়) বরং তোমাদের মন নিজের পক্ষ থেকে একটা গল্প বানিয়ে নিয়েছে। সুতরাং আমার জন্য ধৈর্যই শ্রেয়। আর তোমরা যেসব কথা তৈরি করছ সে ব্যাপারে আল্লাহরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
وَجَآءَتۡ سَیَّارَۃٌ فَاَرۡسَلُوۡا وَارِدَہُمۡ فَاَدۡلٰی دَلۡوَہٗ ؕ قَالَ یٰبُشۡرٰی ہٰذَا غُلٰمٌ ؕ وَاَسَرُّوۡہُ بِضَاعَۃً ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌۢ بِمَا یَعۡمَلُوۡنَ
এবং (অন্য দিকে তারা ইউসুফকে যেখানে কুয়ায় ফেলেছিল, সেখানে) একটি যাত্রীদল আসল। তারা তাদের একজন লোককে পানি আনতে পাঠাল। সে (কুয়ায়) নিজ বালতি ফেলল। (তার ভেতর ইউসুফ আলাইহিস সালামকে দেখে) সে বলে উঠল, তোমরা সুসংবাদ শোন, এ যে একটি বালক। অতঃপর যাত্রীদলের লোক তাকে একটি পণ্য মনে করে লুকিয়ে রাখল। আর তারা যা-কিছু করছিল সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত ছিলেন।
وَشَرَوۡہُ بِثَمَنٍۭ بَخۡسٍ دَرَاہِمَ مَعۡدُوۡدَۃٍ ۚ وَکَانُوۡا فِیۡہِ مِنَ الزَّاہِدِیۡنَ ٪
এবং (তারপর) তারা ইউসুফকে অতি অল্প দামে বিক্রি করে দিল- যা ছিল মাত্র কয়েক দিরহাম। বস্তুত ইউসুফের প্রতি তাদের বিশেষ আগ্রহ ছিল না।
وَقَالَ الَّذِی اشۡتَرٰىہُ مِنۡ مِّصۡرَ لِامۡرَاَتِہٖۤ اَکۡرِمِیۡ مَثۡوٰىہُ عَسٰۤی اَنۡ یَّنۡفَعَنَاۤ اَوۡ نَتَّخِذَہٗ وَلَدًا ؕ وَکَذٰلِکَ مَکَّنَّا لِیُوۡسُفَ فِی الۡاَرۡضِ ۫ وَلِنُعَلِّمَہٗ مِنۡ تَاۡوِیۡلِ الۡاَحَادِیۡثِ ؕ وَاللّٰہُ غَالِبٌ عَلٰۤی اَمۡرِہٖ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ
মিসরের যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করেছিল, সে তার স্ত্রীকে বলল, একে সম্মানজনকভাবে রাখবে। আমার মনে হয় সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা একে পুত্র বানিয়ে নেব। এভাবে আমি ইউসুফকে সে দেশে প্রতিষ্ঠা দান করলাম, তাকে কথাবার্তার সঠিক মর্ম শেখানোর জন্য। নিজ কাজে আল্লাহ পূর্ণ ক্ষমতাবান, কিন্তু বহু লোক জানে না।
وَلَمَّا بَلَغَ اَشُدَّہٗۤ اٰتَیۡنٰہُ حُکۡمًا وَّعِلۡمًا ؕ وَکَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ
ইউসুফ যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হল, তখন আমি তাকে হিকমত ও ইলম দান করলাম। যারা সৎকর্ম করে, এভাবেই আমি তাদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
وَرَاوَدَتۡہُ الَّتِیۡ ہُوَ فِیۡ بَیۡتِہَا عَنۡ نَّفۡسِہٖ وَغَلَّقَتِ الۡاَبۡوَابَ وَقَالَتۡ ہَیۡتَ لَکَ ؕ قَالَ مَعَاذَ اللّٰہِ اِنَّہٗ رَبِّیۡۤ اَحۡسَنَ مَثۡوَایَ ؕ اِنَّہٗ لَا یُفۡلِحُ الظّٰلِمُوۡنَ
যে নারীর ঘরে সে থাকত, সে তাকে ফুসলানোর চেষ্টা করল এবং সবগুলো দরজা বন্ধ করে দিল ও বলল, এসে পড়। ইউসুফ বলল, আল্লাহ পানাহ! তিনি আমার মনিব। তিনি আমাকে ভালোভাবে রেখেছেন। সত্য কথা হচ্ছে, যারা জুলুম করে তারা কৃতকার্য হয় না।
وَلَقَدۡ ہَمَّتۡ بِہٖ ۚ وَہَمَّ بِہَا لَوۡلَاۤ اَنۡ رَّاٰ بُرۡہَانَ رَبِّہٖ ؕ کَذٰلِکَ لِنَصۡرِفَ عَنۡہُ السُّوۡٓءَ وَالۡفَحۡشَآءَ ؕ اِنَّہٗ مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُخۡلَصِیۡنَ
স্ত্রীলোকটি তো স্পষ্টভাবেই ইউসুফের সাথে (অসৎ কর্ম) কামনা করেছিল আর ইউসুফের মনেও স্ত্রীলোকটির প্রতি ইচ্ছা জাগ্রত হয়েই যাচ্ছিল যদি না সে নিজ প্রতিপালকের প্রমাণ দেখতে পেত। আমি তার থেকে অসৎ কর্ম ও অশ্লীলতাকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই এরূপ করেছিলাম। নিশ্চয়ই সে আমার মনোনীত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
وَاسۡتَبَقَا الۡبَابَ وَقَدَّتۡ قَمِیۡصَہٗ مِنۡ دُبُرٍ وَّاَلۡفَیَا سَیِّدَہَا لَدَا الۡبَابِ ؕ قَالَتۡ مَا جَزَآءُ مَنۡ اَرَادَ بِاَہۡلِکَ سُوۡٓءًا اِلَّاۤ اَنۡ یُّسۡجَنَ اَوۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ
এবং তারা একজনের পেছনে আরেকজন দৌড়ে দরজার দিকে গেল এবং (এই টানা-হেঁচড়ার ভেতর) স্ত্রীলোকটি তার জামা পেছন দিক থেকে ছিঁড়ে ফেলল। এ অবস্থায় তারা স্ত্রীলোকটির স্বামীকে দরজায় দাঁড়ানো পেল। স্ত্রীলোকটি তৎক্ষণাৎ (কেচ্ছা ফাঁদার লক্ষ্যে স্বামীকে) বলল, যে ব্যক্তি তোমার স্ত্রীর সাথে মন্দ কাজের ইচ্ছা করে, তার শাস্তি কারারুদ্ধ করা বা অন্য কোন কঠিন শাস্তি দেওয়া ছাড়া আর কী হতে পারে?
قَالَ ہِیَ رَاوَدَتۡنِیۡ عَنۡ نَّفۡسِیۡ وَشَہِدَ شَاہِدٌ مِّنۡ اَہۡلِہَا ۚ اِنۡ کَانَ قَمِیۡصُہٗ قُدَّ مِنۡ قُبُلٍ فَصَدَقَتۡ وَہُوَ مِنَ الۡکٰذِبِیۡنَ
ইউসুফ বলল, সে নিজেই তো আমাকে ফুসলাচ্ছিল। স্ত্রীলোকটির পরিবারের একজন সাক্ষ্য দিল, ইউসুফের জামার সম্মুখ দিক থেকে ছিঁড়ে থাকলে স্ত্রীলোকটিই সত্য বলেছে আর সে মিথ্যাবাদী।
وَاِنۡ کَانَ قَمِیۡصُہٗ قُدَّ مِنۡ دُبُرٍ فَکَذَبَتۡ وَہُوَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ
আর যদি তার জামা পেছন দিক থেকে ছিঁড়ে থাকে, তবে স্ত্রীলোকটি মিথ্যা বলেছে এবং সে সত্যবাদী।
فَلَمَّا رَاٰ قَمِیۡصَہٗ قُدَّ مِنۡ دُبُرٍ قَالَ اِنَّہٗ مِنۡ کَیۡدِکُنَّ ؕ اِنَّ کَیۡدَکُنَّ عَظِیۡمٌ
অতঃপর স্বামী যখন দেখল তার জামা পেছন থেকে ছিঁড়েছে, তখন সে বলল, এটা তোমাদের নারীদের ছলনা, বস্তুত তোমাদের ছলনা বড়ই কঠিন।
یُوۡسُفُ اَعۡرِضۡ عَنۡ ہٰذَا ٜ وَاسۡتَغۡفِرِیۡ لِذَنۡۢبِکِ ۚۖ اِنَّکِ کُنۡتِ مِنَ الۡخٰطِئِیۡنَ ٪
ইউসুফ! তুমি এ বিষয়টাকে একদম পাত্তা দিও না। আর হে নারী! তুমি নিজ অপরাধের জন্য ক্ষমা চাও। নিশ্চয় তুমিই অপরাধী ছিলে।
وَقَالَ نِسۡوَۃٌ فِی الۡمَدِیۡنَۃِ امۡرَاَتُ الۡعَزِیۡزِ تُرَاوِدُ فَتٰىہَا عَنۡ نَّفۡسِہٖ ۚ قَدۡ شَغَفَہَا حُبًّا ؕ اِنَّا لَنَرٰىہَا فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ
নগরে কতিপয় নারী বলাবলি করল, ‘আযীযের স্ত্রী তার তরুণ গোলামকে ফুসলাচ্ছে। তরুণটির ভালোবাসা তাকে বিভোর করে ফেলেছে। আমাদের ধারণা সে নিশ্চয়ই সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত রয়েছে।
فَلَمَّا سَمِعَتۡ بِمَکۡرِہِنَّ اَرۡسَلَتۡ اِلَیۡہِنَّ وَاَعۡتَدَتۡ لَہُنَّ مُتَّکَاً وَّاٰتَتۡ کُلَّ وَاحِدَۃٍ مِّنۡہُنَّ سِکِّیۡنًا وَّقَالَتِ اخۡرُجۡ عَلَیۡہِنَّ ۚ فَلَمَّا رَاَیۡنَہٗۤ اَکۡبَرۡنَہٗ وَقَطَّعۡنَ اَیۡدِیَہُنَّ وَقُلۡنَ حَاشَ لِلّٰہِ مَا ہٰذَا بَشَرًا ؕ اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا مَلَکٌ کَرِیۡمٌ
সুতরাং যখন সে (অর্থাৎ, আযীযের স্ত্রী) সেই নারীদের ষড়যন্ত্রের কথা শুনল, তখন সে বার্তা পাঠিয়ে তাদেরকে (নিজ গৃহে) ডেকে আনল এবং তাদের জন্য তাকিয়া-বিশিষ্ট একটি জলসার ব্যবস্থা করল এবং তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে ছুরি দিল এবং (ইউসুফকে) বলল, একটু বের হয়ে তাদের সামনে আস। অতঃপর সেই নারীরা যেই না ইউসুফকে দেখল, তাকে বিস্ময়কর (রকমের রূপবান) পেল এবং (তারা তার অপরূপ রূপে হতভম্ব হয়ে) নিজ-নিজ হাত কেটে ফেলল। আর তারা বলে উঠল, আল্লাহ পানাহ! এ ব্যক্তি কোন মানুষ নয়। এ সম্মানিত ফেরেশতা ছাড়া কিছুই হতে পারে না।
قَالَتۡ فَذٰلِکُنَّ الَّذِیۡ لُمۡتُنَّنِیۡ فِیۡہِ ؕ وَلَقَدۡ رَاوَدۡتُّہٗ عَنۡ نَّفۡسِہٖ فَاسۡتَعۡصَمَ ؕ وَلَئِنۡ لَّمۡ یَفۡعَلۡ مَاۤ اٰمُرُہٗ لَیُسۡجَنَنَّ وَلَیَکُوۡنًا مِّنَ الصّٰغِرِیۡنَ
সে (অর্থাৎ) আযীযের স্ত্রী বলল, এবার দেখ, এই হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যার ব্যাপারে তোমরা আমার নিন্দা করেছ। একথা সত্যই যে, আমি আমার উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য তাকে ফুসলানি দিয়েছিলাম, কিন্তু সে নিজেকে রক্ষা করেছে। সে যদি আমার কথা না শোনে, তবে তাকে অবশ্যই কারারুদ্ধ করা হবে এবং সে নির্ঘাত লাঞ্ছিত হবে।
قَالَ رَبِّ السِّجۡنُ اَحَبُّ اِلَیَّ مِمَّا یَدۡعُوۡنَنِیۡۤ اِلَیۡہِ ۚ وَاِلَّا تَصۡرِفۡ عَنِّیۡ کَیۡدَہُنَّ اَصۡبُ اِلَیۡہِنَّ وَاَکُنۡ مِّنَ الۡجٰہِلِیۡنَ
ইউসুফ দু‘আ করল, হে প্রতিপালক! এই নারীগণ আমাকে যে কাজের দিকে ডাকছে, তা অপেক্ষা কারাগারই আমার বেশি পছন্দ। তুমি যদি আমাকে তাদের ছলনা থেকে রক্ষা না কর, তবে আমার অন্তর তাদের দিকে আকৃষ্ট হবে এবং যারা অজ্ঞতাসুলভ কাজ করে আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।
فَاسۡتَجَابَ لَہٗ رَبُّہٗ فَصَرَفَ عَنۡہُ کَیۡدَہُنَّ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ
সুতরাং ইউসুফের প্রতিপালক তাঁর দু‘আ কবুল করলেন এবং সেই নারীদের ছলনা থেকে তাকে রক্ষা করলেন। নিশ্চয় তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
ثُمَّ بَدَا لَہُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ مَا رَاَوُا الۡاٰیٰتِ لَیَسۡجُنُنَّہٗ حَتّٰی حِیۡنٍ ٪
অতঃপর (ইউসুফের পবিত্রতার) বহু নিদর্শন দেখা সত্ত্বেও তারা এটাই সমীচীন মনে করল যে, তাকে কিছু কালের জন্য কারাগারে পাঠাবেই।
وَدَخَلَ مَعَہُ السِّجۡنَ فَتَیٰنِ ؕ قَالَ اَحَدُہُمَاۤ اِنِّیۡۤ اَرٰىنِیۡۤ اَعۡصِرُ خَمۡرًا ۚ وَقَالَ الۡاٰخَرُ اِنِّیۡۤ اَرٰىنِیۡۤ اَحۡمِلُ فَوۡقَ رَاۡسِیۡ خُبۡزًا تَاۡکُلُ الطَّیۡرُ مِنۡہُ ؕ نَبِّئۡنَا بِتَاۡوِیۡلِہٖ ۚ اِنَّا نَرٰىکَ مِنَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ
ইউসুফের সাথে আরও দু’জন যুবক কারাগারে প্রবেশ করল। তাদের একজন (একদিন ইউসুফকে) বলল, আমি (স্বপ্নে) নিজেকে দেখলাম, মদ নিংড়াচ্ছি। আর দ্বিতীয়জন বলল, আমি (স্বপ্নে) দেখলাম যে, নিজ মাথায় রুটি বহন করছি এবং পাখি তা থেকে খাচ্ছে। তুমি আমাদেরকে এর ব্যাখ্যা বলে দাও। আমরা তোমাকে একজন ভালো মানুষ দেখছি।
قَالَ لَا یَاۡتِیۡکُمَا طَعَامٌ تُرۡزَقٰنِہٖۤ اِلَّا نَبَّاۡتُکُمَا بِتَاۡوِیۡلِہٖ قَبۡلَ اَنۡ یَّاۡتِیَکُمَا ؕ ذٰلِکُمَا مِمَّا عَلَّمَنِیۡ رَبِّیۡ ؕ اِنِّیۡ تَرَکۡتُ مِلَّۃَ قَوۡمٍ لَّا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَہُمۡ بِالۡاٰخِرَۃِ ہُمۡ کٰفِرُوۡنَ
ইউসুফ বলল, (কারাগারে) তোমাদেরকে যে খাবার দেওয়া হয়, তা আসার আগেই আমি তোমাদেরকে এর রহস্য বলে দেব। এটা সেই জ্ঞানের অংশ, যা আমার প্রতিপালক আমাকে দান করেছেন। (কিন্তু তার আগে তোমরা আমার একটা কথা শোন)। ব্যাপার এই যে, যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে না ও যারা আখেরাতে অবিশ্বাসী, আমি তাদের দীন পরিত্যাগ করেছি।
وَاتَّبَعۡتُ مِلَّۃَ اٰبَآءِیۡۤ اِبۡرٰہِیۡمَ وَاِسۡحٰقَ وَیَعۡقُوۡبَ ؕ مَا کَانَ لَنَاۤ اَنۡ نُّشۡرِکَ بِاللّٰہِ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ ذٰلِکَ مِنۡ فَضۡلِ اللّٰہِ عَلَیۡنَا وَعَلَی النَّاسِ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَشۡکُرُوۡنَ
আমি আমার বাপ-দাদা ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবের দীন অনুসরণ করেছি। আমাদের এ অধিকার নেই যে, আল্লাহর সঙ্গে কোনও জিনিসকে শরীক করব। এটা (অর্থাৎ তাওহীদের আকীদা) আমাদের প্রতি ও সমস্ত মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহেরই অংশ। কিন্তু অধিকাংশ লোক (এ নি‘আমতের) শোকর আদায় করে না।
یٰصَاحِبَیِ السِّجۡنِ ءَاَرۡبَابٌ مُّتَفَرِّقُوۡنَ خَیۡرٌ اَمِ اللّٰہُ الۡوَاحِدُ الۡقَہَّارُ ؕ
হে আমার কারা-সংগীদ্বয়! ভিন্ন-ভিন্ন বহু প্রতিপালক শ্রেয়, না সেই এক আল্লাহ, যার ক্ষমতা সর্বব্যাপী?
مَا تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اِلَّاۤ اَسۡمَآءً سَمَّیۡتُمُوۡہَاۤ اَنۡتُمۡ وَاٰبَآؤُکُمۡ مَّاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ بِہَا مِنۡ سُلۡطٰنٍ ؕ اِنِ الۡحُکۡمُ اِلَّا لِلّٰہِ ؕ اَمَرَ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّاۤ اِیَّاہُ ؕ ذٰلِکَ الدِّیۡنُ الۡقَیِّمُ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ
তাঁকে ছেড়ে তোমরা যার ইবাদত করছ, তার সারবত্তা কতগুলো নামের বেশি কিছু নয়, যা তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদাগণ রেখে দিয়েছ। আল্লাহ তার পক্ষে কোনও দলীল নাযিল করেননি। হুকুম দানের ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নেই। তিনিই এ হুকুম দিয়েছেন যে, তোমরা তার ভিন্ন অন্য কারও ইবাদত করো না। এটাই সরল-সোজা পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না।
یٰصَاحِبَیِ السِّجۡنِ اَمَّاۤ اَحَدُکُمَا فَیَسۡقِیۡ رَبَّہٗ خَمۡرًا ۚ وَاَمَّا الۡاٰخَرُ فَیُصۡلَبُ فَتَاۡکُلُ الطَّیۡرُ مِنۡ رَّاۡسِہٖ ؕ قُضِیَ الۡاَمۡرُ الَّذِیۡ فِیۡہِ تَسۡتَفۡتِیٰنِ ؕ
হে আমার কারা সঙ্গীদ্বয়! (এখন তোমাদের স্বপ্নের ব্যাখ্যা শুনে নাও) তোমাদের একজনের ব্যাপার এই যে, (বন্দী দশা থেকে মুক্তি পেয়ে) সে নিজ মনিবকে মদ পান করাবে। আর থাকল অপরজন। তা তাকে শূলে চড়ানো হবে। ফলে পাখিরা তার মাথা (ঠুকরে ঠুকরে) খাবে। তোমরা যে বিষয়ে জিজ্ঞেস করছিলে তার ফায়সালা (এভাবে) হয়ে গেছে।
وَقَالَ لِلَّذِیۡ ظَنَّ اَنَّہٗ نَاجٍ مِّنۡہُمَا اذۡکُرۡنِیۡ عِنۡدَ رَبِّکَ ۫ فَاَنۡسٰہُ الشَّیۡطٰنُ ذِکۡرَ رَبِّہٖ فَلَبِثَ فِی السِّجۡنِ بِضۡعَ سِنِیۡنَ ؕ٪
সেই দু’জনের মধ্যে যার সম্পর্কে তার ধারণা ছিল যে, সে মুক্তি পাবে, ইউসুফ তাকে বলল, নিজ প্রভুর কাছে আমার কথাও বলো। কিন্তু শয়তান তাকে নিজ প্রভুর কাছে ইউসুফের বিষয়ে বলার কথা ভুলিয়ে দিল। সুতরাং সে কয়েক বছর কারাগারে থাকল।
وَقَالَ الۡمَلِکُ اِنِّیۡۤ اَرٰی سَبۡعَ بَقَرٰتٍ سِمَانٍ یَّاۡکُلُہُنَّ سَبۡعٌ عِجَافٌ وَّسَبۡعَ سُنۡۢبُلٰتٍ خُضۡرٍ وَّاُخَرَ یٰبِسٰتٍ ؕ یٰۤاَیُّہَا الۡمَلَاُ اَفۡتُوۡنِیۡ فِیۡ رُءۡیَایَ اِنۡ کُنۡتُمۡ لِلرُّءۡیَا تَعۡبُرُوۡنَ
(কয়েক বছর পর মিসরের) বাদশাহ (তার পারিষদবর্গকে) বলল, আমি (স্বপ্নে) দেখলাম সাতটি মোটাতাজা গাভী, যাদেরকে সাতটি রোগা-পটকা গাভী খেয়ে ফেলছে। আরও দেখলাম সাতটি সবুজ-সজীব শীষ এবং আরও সাতটি শুকনো। হে পারিষদবর্গ! তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানলে আমার এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দাও।
قَالُوۡۤا اَضۡغَاثُ اَحۡلَامٍ ۚ وَمَا نَحۡنُ بِتَاۡوِیۡلِ الۡاَحۡلَامِ بِعٰلِمِیۡنَ
তারা বলল, (মনে হচ্ছে) এটা দুশ্চিন্তাপ্রসূত কল্পনা। আর আমরা স্বপ্ন-ব্যাখ্যার ইলমদার (-ও) নই।
وَقَالَ الَّذِیۡ نَجَا مِنۡہُمَا وَادَّکَرَ بَعۡدَ اُمَّۃٍ اَنَا اُنَبِّئُکُمۡ بِتَاۡوِیۡلِہٖ فَاَرۡسِلُوۡنِ
সেই দুই কয়েদীর মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পর যার (ইউসুফের কথা) স্মরণ হয়েছিল, সে বলল, আমি আপনাদেরকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানিয়ে দিচ্ছি। সুতরাং আপনারা আমাকে (কারাগারে ইউসুফের কাছে) পাঠিয়ে দিন।
یُوۡسُفُ اَیُّہَا الصِّدِّیۡقُ اَفۡتِنَا فِیۡ سَبۡعِ بَقَرٰتٍ سِمَانٍ یَّاۡکُلُہُنَّ سَبۡعٌ عِجَافٌ وَّسَبۡعِ سُنۡۢبُلٰتٍ خُضۡرٍ وَّاُخَرَ یٰبِسٰتٍ ۙ لَّعَلِّیۡۤ اَرۡجِعُ اِلَی النَّاسِ لَعَلَّہُمۡ یَعۡلَمُوۡنَ
(সুতরাং সে কারাগারে গিয়ে ইউসুফকে বলল) ইউসুফ! ওহে সেই ব্যক্তি, যার সব কথা সত্য হয়! তুমি আমাদেরকে এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দাও যে, সাতটি মোটাতাজা গাভী, যাদেরকে সাতটি রোগা-পটকা গাভী খেয়ে ফেলছে আর সাতটি সবুজ-সজীব শীষ এবং আরও সাতটি আছে, যা শুকনো, যাতে আমি লোকদের কাছে ফিরে যেতে পারি এবং (তাদেরকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানাতে পারি) যাতে তারা প্রকৃত বিষয় অবগত হতে পারে।
قَالَ تَزۡرَعُوۡنَ سَبۡعَ سِنِیۡنَ دَاَبًا ۚ فَمَا حَصَدۡتُّمۡ فَذَرُوۡہُ فِیۡ سُنۡۢبُلِہٖۤ اِلَّا قَلِیۡلًا مِّمَّا تَاۡکُلُوۡنَ
ইউসুফ বলল, তোমরা একাধারে সাত বছর শস্য উৎপন্ন করবে। এ সময়ের ভেতর তোমরা যে শস্য সংগ্রহ করবে তা তার শীষসহ রেখে দিও, অবশ্য যে সামান্য পরিমাণ তোমাদের খাওয়ার কাজে লাগবে (তার কথা আলাদা)।
ثُمَّ یَاۡتِیۡ مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ سَبۡعٌ شِدَادٌ یَّاۡکُلۡنَ مَا قَدَّمۡتُمۡ لَہُنَّ اِلَّا قَلِیۡلًا مِّمَّا تُحۡصِنُوۡنَ
এরপর তোমাদের সামনে আসবে এমন সাতটি বছর, যা অত্যন্ত কঠিন হবে। তোমরা এই সাত বছরের জন্য যা সঞ্চয় করে রাখবে, তা খেতে থাকবে, অবশ্য যে সামান্য পরিমাণ তোমরা সংরক্ষণ করবে (কেবল তাই অবশিষ্ট থাকবে)।
ثُمَّ یَاۡتِیۡ مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ عَامٌ فِیۡہِ یُغَاثُ النَّاسُ وَفِیۡہِ یَعۡصِرُوۡنَ ٪
তারপর আসবে এমন একটি বছর যখন মানুষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে এবং তখন তারা আঙ্গুরের রস নিংড়াবে।
وَقَالَ الۡمَلِکُ ائۡتُوۡنِیۡ بِہٖ ۚ فَلَمَّا جَآءَہُ الرَّسُوۡلُ قَالَ ارۡجِعۡ اِلٰی رَبِّکَ فَسۡـَٔلۡہُ مَا بَالُ النِّسۡوَۃِ الّٰتِیۡ قَطَّعۡنَ اَیۡدِیَہُنَّ ؕ اِنَّ رَبِّیۡ بِکَیۡدِہِنَّ عَلِیۡمٌ
বাদশাহ বলল, তাকে (অর্থাৎ ইউসুফকে) আমার কাছে নিয়ে এসো। সেমতে যখন তার কাছে দূত উপস্থিত হল, সে বলল, নিজ প্রভুর কাছে ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, যে নারীগণ নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল তাদের অবস্থা কী? আমার প্রতিপালক তাদের ছলনা সম্পর্কে বেশ অবগত।
قَالَ مَا خَطۡبُکُنَّ اِذۡ رَاوَدۡتُّنَّ یُوۡسُفَ عَنۡ نَّفۡسِہٖ ؕ قُلۡنَ حَاشَ لِلّٰہِ مَا عَلِمۡنَا عَلَیۡہِ مِنۡ سُوۡٓءٍ ؕ قَالَتِ امۡرَاَتُ الۡعَزِیۡزِ الۡـٰٔنَ حَصۡحَصَ الۡحَقُّ ۫ اَنَا رَاوَدۡتُّہٗ عَنۡ نَّفۡسِہٖ وَاِنَّہٗ لَمِنَ الصّٰدِقِیۡنَ
বাদশাহ (সেই নারীদের ডাকিয়ে এনে তাদেরকে) বলল, তোমরা যখন ইউসুফকে ফুসলাচ্ছিলে তখন তোমাদের অবস্থা কী হয়েছিল? তারা বলল, আল্লাহ পানাহ! আমরা তার মধ্যে বিন্দুমাত্রও দোষ পাইনি। আযীযের স্ত্রী বলল, এবার সত্য কথা সকলের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। আমিই তাকে ফুসলানোর চেষ্টা করেছিলাম। প্রকৃতপক্ষে সে সম্পূর্ণ সত্যবাদী।
ذٰلِکَ لِیَعۡلَمَ اَنِّیۡ لَمۡ اَخُنۡہُ بِالۡغَیۡبِ وَاَنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِیۡ کَیۡدَ الۡخَآئِنِیۡنَ
(কারাগারে ইউসুফ যখন এসব কথা জানতে পারল তখন সে বলল) আমি এসব করেছি এজন্য, যাতে আযীয নিশ্চিতরূপে জানতে পারে আমি তার অনুপস্থিতিতে তার প্রতি কোন বিশ্বাসঘাতকতা করিনি এবং আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেন না।
وَمَاۤ اُبَرِّیٴُ نَفۡسِیۡ ۚ اِنَّ النَّفۡسَ لَاَمَّارَۃٌۢ بِالسُّوۡٓءِ اِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّیۡ ؕ اِنَّ رَبِّیۡ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
আমি এ দাবী করি না যে, আমার মন সম্পূর্ণ পাক পবিত্র। বস্তুত মন সর্বদা মন্দ কাজেরই আদেশ করে। অবশ্য আমার রব্ব যদি দয়া করেন সেটা ভিন্ন কথা (সে অবস্থায় মনের কোন চাতুর্য চলে না)। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَقَالَ الۡمَلِکُ ائۡتُوۡنِیۡ بِہٖۤ اَسۡتَخۡلِصۡہُ لِنَفۡسِیۡ ۚ فَلَمَّا کَلَّمَہٗ قَالَ اِنَّکَ الۡیَوۡمَ لَدَیۡنَا مَکِیۡنٌ اَمِیۡنٌ
বাদশাহ বলল, তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাকে আমার একান্ত (সহযোগী) বানাব। সুতরাং যখন (ইউসুফ বাদশাহর কাছে আসল এবং) বাদশাহ তার সাথে কথা বলল, তখন বাদশাহ বলল, আজ থেকে তুমি আমাদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাবান হলে, তোমার প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা রাখা হবে।
قَالَ اجۡعَلۡنِیۡ عَلٰی خَزَآئِنِ الۡاَرۡضِ ۚ اِنِّیۡ حَفِیۡظٌ عَلِیۡمٌ
ইউসুফ বলল, আপনি আমাকে দেশের অর্থ-সম্পদের (ব্যবস্থাপনা) কার্যে নিযুক্ত করুন। নিশ্চিত থাকুন আমি রক্ষণাবেক্ষণ বেশ ভালো পারি এবং আমি (এ কাজের) পূর্ণ জ্ঞান রাখি।
وَکَذٰلِکَ مَکَّنَّا لِیُوۡسُفَ فِی الۡاَرۡضِ ۚ یَتَبَوَّاُ مِنۡہَا حَیۡثُ یَشَآءُ ؕ نُصِیۡبُ بِرَحۡمَتِنَا مَنۡ نَّشَآءُ وَلَا نُضِیۡعُ اَجۡرَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ
এবং এভাবে আমি ইউসুফকে সে দেশে এমন ক্ষমতা দান করলাম যে, সে সে দেশের যেখানে ইচ্ছা অবস্থান করতে পারত। আমি যাকে চাই নিজ রহমত দান করি এবং আমি পুণ্যবানদের কর্মফল নষ্ট করি না।
وَلَاَجۡرُ الۡاٰخِرَۃِ خَیۡرٌ لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَکَانُوۡا یَتَّقُوۡنَ ٪
যারা ঈমান আনে ও তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আখেরাতের প্রতিদানই শ্রেয়।
وَجَآءَ اِخۡوَۃُ یُوۡسُفَ فَدَخَلُوۡا عَلَیۡہِ فَعَرَفَہُمۡ وَہُمۡ لَہٗ مُنۡکِرُوۡنَ
(যখন দুর্ভিক্ষ দেখা দিল) ইউসুফের ভাইয়েরা আসল এবং তারা তার কাছে উপস্থিত হল। ইউসুফ তো তাদেরকে চিনে ফেলল, কিন্তু তারা তাকে চিনল না।
وَلَمَّا جَہَّزَہُمۡ بِجَہَازِہِمۡ قَالَ ائۡتُوۡنِیۡ بِاَخٍ لَّکُمۡ مِّنۡ اَبِیۡکُمۡ ۚ اَلَا تَرَوۡنَ اَنِّیۡۤ اُوۡفِی الۡکَیۡلَ وَاَنَا خَیۡرُ الۡمُنۡزِلِیۡنَ
ইউসুফ যখন তাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল, তখন সে তাদেরকে বলল, (আগামীতে) তোমরা তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকেও আমার কাছে নিয়ে এসো। তোমরা কি দেখছ না আমি পরিমাপ-পাত্র ভরে ভরে দেই এবং আমি উত্তম অতিথিপরায়ণও বটে?
فَاِنۡ لَّمۡ تَاۡتُوۡنِیۡ بِہٖ فَلَا کَیۡلَ لَکُمۡ عِنۡدِیۡ وَلَا تَقۡرَبُوۡنِ
তোমরা যদি তাকে আমার কাছে নিয়ে না আস তবে আমার কাছে তোমাদের জন্য কোন রসদ থাকবে না। তখন তোমরা আমার কাছেও আসবে না।
قَالُوۡا سَنُرَاوِدُ عَنۡہُ اَبَاہُ وَاِنَّا لَفٰعِلُوۡنَ
তারা বলল, আমরা তার বিষয়ে তার পিতাকে সম্মত করার চেষ্টা করব, (যাতে তাকে আমাদের সাথে পাঠান) আর আমরা এটা অবশ্যই করব।
وَقَالَ لِفِتۡیٰنِہِ اجۡعَلُوۡا بِضَاعَتَہُمۡ فِیۡ رِحَالِہِمۡ لَعَلَّہُمۡ یَعۡرِفُوۡنَہَاۤ اِذَا انۡقَلَبُوۡۤا اِلٰۤی اَہۡلِہِمۡ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ
ইউসুফ তার ভৃত্যদেরকে বলে দিল, তারা যেন তাদের (অর্থাৎ ভাইদের) পণ্যমূল্য (যার বিনিময়ে তারা খাদ্য কিনেছে) তাদের মালপত্রের মধ্যে রেখে দেয়, যাতে তারা নিজেদের পরিবারবর্গের কাছে ফিরে যাওয়ার পর তাদের পণ্যমূল্য চিনতে পারে। হয়ত (এই অনুগ্রহের কারণে) তারা পুনরায় আসবে।
فَلَمَّا رَجَعُوۡۤا اِلٰۤی اَبِیۡہِمۡ قَالُوۡا یٰۤاَبَانَا مُنِعَ مِنَّا الۡکَیۡلُ فَاَرۡسِلۡ مَعَنَاۤ اَخَانَا نَکۡتَلۡ وَاِنَّا لَہٗ لَحٰفِظُوۡنَ
অতঃপর তারা যখন তাদের পিতার কাছে ফিরে আসল, তখন তারা বলল, আব্বাজী! আগামীতে আমাদেরকে খাদ্য দিতে অস্বীকার করা হয়েছে। সুতরাং আপনি আমাদের সাথে আমাদের ভাই (বিনইয়ামীন)কে পাঠান, যাতে আমরা খাদ্য আনতে পারি। নিশ্চিত থাকুন আমরা তার পরিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করব।
قَالَ ہَلۡ اٰمَنُکُمۡ عَلَیۡہِ اِلَّا کَمَاۤ اَمِنۡتُکُمۡ عَلٰۤی اَخِیۡہِ مِنۡ قَبۡلُ ؕ فَاللّٰہُ خَیۡرٌ حٰفِظًا ۪ وَّہُوَ اَرۡحَمُ الرّٰحِمِیۡنَ
পিতা বলল, আমি কি তার ব্যাপারে তোমাদের উপর সেই রকম নির্ভর করব, যে রকম নির্ভর ইতঃপূর্বে তার ভাই (ইউসুফ)-এর ব্যাপারে করেছিলাম? আচ্ছা! আল্লাহই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ রক্ষাকর্তা এবং তিনি সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
وَلَمَّا فَتَحُوۡا مَتَاعَہُمۡ وَجَدُوۡا بِضَاعَتَہُمۡ رُدَّتۡ اِلَیۡہِمۡ ؕ قَالُوۡا یٰۤاَبَانَا مَا نَبۡغِیۡ ؕ ہٰذِہٖ بِضَاعَتُنَا رُدَّتۡ اِلَیۡنَا ۚ وَنَمِیۡرُ اَہۡلَنَا وَنَحۡفَظُ اَخَانَا وَنَزۡدَادُ کَیۡلَ بَعِیۡرٍ ؕ ذٰلِکَ کَیۡلٌ یَّسِیۡرٌ
যখন তারা তাদের মালপত্র খুলল, তখন দেখল, তাদের পণ্যমূল্যও ফেরত দেওয়া হয়েছে। তারা বলে উঠল, আব্বাজী! আমাদের আর কী চাই? এই যে আমাদের পণ্যমূল্যও আমাদেরকে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং (এবার) আমরা আমাদের পরিবারবর্গের জন্য (আরও) খাদ্য-সামগ্রী নিয়ে আসব, আমাদের ভাইকে হেফাজত করব এবং অতিরিক্ত এক উটের বোঝাও নিয়ে আসব। (এভাবে) এই অতিরিক্ত খাদ্য অতি সহজ।
قَالَ لَنۡ اُرۡسِلَہٗ مَعَکُمۡ حَتّٰی تُؤۡتُوۡنِ مَوۡثِقًا مِّنَ اللّٰہِ لَتَاۡتُنَّنِیۡ بِہٖۤ اِلَّاۤ اَنۡ یُّحَاطَ بِکُمۡ ۚ فَلَمَّاۤ اٰتَوۡہُ مَوۡثِقَہُمۡ قَالَ اللّٰہُ عَلٰی مَا نَقُوۡلُ وَکِیۡلٌ
পিতা বলল, আমি তাকে (বিন ইয়ামীনকে) তোমাদের সঙ্গে কিছুতেই পাঠাব না, যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর নামে আমাকে প্রতিশ্রুতি দাও যে, তাকে অবশ্যই আমার কাছে ফিরিয়ে আনবে, তবে তোমরা যদি (বাস্তবিকই) নিরুপায় হয়ে যাও (সেটা ভিন্ন কথা)। অবশেষে তারা যখন পিতাকে সেই প্রতিশ্রুতি দিল, তখন পিতা বলল, আমরা যা বলছি আল্লাহ তার তত্ত্বাবধায়ক।
وَقَالَ یٰبَنِیَّ لَا تَدۡخُلُوۡا مِنۡۢ بَابٍ وَّاحِدٍ وَّادۡخُلُوۡا مِنۡ اَبۡوَابٍ مُّتَفَرِّقَۃٍ ؕ وَمَاۤ اُغۡنِیۡ عَنۡکُمۡ مِّنَ اللّٰہِ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ اِنِ الۡحُکۡمُ اِلَّا لِلّٰہِ ؕ عَلَیۡہِ تَوَکَّلۡتُ ۚ وَعَلَیۡہِ فَلۡیَتَوَکَّلِ الۡمُتَوَکِّلُوۡنَ
এবং (সেই সঙ্গে একথাও) বলল যে, হে আমার পুত্রগণ! তোমরা (নগরে) সকলে এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না; বরং ভিন্ন-ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। আমি তোমাদেরকে আল্লাহর ইচ্ছা হতে রক্ষা করতে পারব না। আল্লাহ ছাড়া কারও হুকুম কার্যকর হয় না, আমি তাঁরই উপর নির্ভর করেছি। আর যারা নির্ভর করতে চায় তাদের উচিত তাঁরই উপর নির্ভর করা।
وَلَمَّا دَخَلُوۡا مِنۡ حَیۡثُ اَمَرَہُمۡ اَبُوۡہُمۡ ؕ مَا کَانَ یُغۡنِیۡ عَنۡہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ مِنۡ شَیۡءٍ اِلَّا حَاجَۃً فِیۡ نَفۡسِ یَعۡقُوۡبَ قَضٰہَا ؕ وَاِنَّہٗ لَذُوۡ عِلۡمٍ لِّمَا عَلَّمۡنٰہُ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٪
তারা (ভাইগণ!) যখন তাদের পিতার আদেশ মত (নগরে) প্রবেশ করল, তখন তাদের সে কৌশল আল্লাহর ইচ্ছা হতে তাদেরকে আদৌ রক্ষা করার ছিল না। তবে ইয়াকুবের অন্তরে একটা অভিপ্রায় ছিল, যা সে পূর্ণ করল। নিশ্চয়ই সে আমার শেখানো জ্ঞানের ধারক ছিল। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ (প্রকৃত বিষয়) জানে না।
وَلَمَّا دَخَلُوۡا عَلٰی یُوۡسُفَ اٰوٰۤی اِلَیۡہِ اَخَاہُ قَالَ اِنِّیۡۤ اَنَا اَخُوۡکَ فَلَا تَبۡتَئِسۡ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
যখন তারা ইউসুফের নিকট উপস্থিত হল, তখন সে তার (সহোদর) ভাই (বিনইয়ামীন)কে নিজের কাছে বিশেষ স্থান দিল। (এবং তাকে) বলল, আমি তোমার ভাই। অতএব তারা (অন্য ভাইয়েরা) যা করত তার জন্য দুঃখ করো না।
فَلَمَّا جَہَّزَہُمۡ بِجَہَازِہِمۡ جَعَلَ السِّقَایَۃَ فِیۡ رَحۡلِ اَخِیۡہِ ثُمَّ اَذَّنَ مُؤَذِّنٌ اَیَّتُہَا الۡعِیۡرُ اِنَّکُمۡ لَسٰرِقُوۡنَ
অতঃপর ইউসুফ যখন তাদের রসদের ব্যবস্থা করে দিল, তখন পানি পান করার পেয়ালা নিজ (সহোদর) ভাইয়ের মালপত্রের মধ্যে রেখে দিল। তারপর এক ঘোষক চীৎকার করে বলল, ওহে যাত্রীদল! তোমরা নিশ্চয়ই চোর।
قَالُوۡا وَاَقۡبَلُوۡا عَلَیۡہِمۡ مَّاذَا تَفۡقِدُوۡنَ
তারা তাদের দিকে ঘুরে জিজ্ঞেস করল, তোমরা কী বস্তু হারিয়েছ?
قَالُوۡا نَفۡقِدُ صُوَاعَ الۡمَلِکِ وَلِمَنۡ جَآءَ بِہٖ حِمۡلُ بَعِیۡرٍ وَّاَنَا بِہٖ زَعِیۡمٌ
তারা বলল, আমরা বাদশাহর পানপাত্র পাচ্ছি না। যে ব্যক্তি সেটি এনে দেবে, সে এক উটের বোঝা (পুরস্কার) পাবে। আমি তার (পুরস্কার প্রাপ্তির) জামিন।
قَالُوۡا تَاللّٰہِ لَقَدۡ عَلِمۡتُمۡ مَّا جِئۡنَا لِنُفۡسِدَ فِی الۡاَرۡضِ وَمَا کُنَّا سٰرِقِیۡنَ
তারা (ভাইয়েরা) বলল, আল্লাহর কসম! আপনারা জানেন, আমরা দেশে ফাসাদ বিস্তার করার জন্য আসিনি এবং আমরা চোরও নই।
قَالُوۡا فَمَا جَزَآؤُہٗۤ اِنۡ کُنۡتُمۡ کٰذِبِیۡنَ
তারা বলল, তোমরা যদি মিথ্যাবাদী (প্রমাণিত) হও, তবে তার শাস্তি কী হবে?
قَالُوۡا جَزَآؤُہٗ مَنۡ وُّجِدَ فِیۡ رَحۡلِہٖ فَہُوَ جَزَآؤُہٗ ؕ کَذٰلِکَ نَجۡزِی الظّٰلِمِیۡنَ
তারা বলল, তার শাস্তি এই যে, যার মালপত্রের মধ্যে সেটি (পেয়ালাটি) পাওয়া যাবে শাস্তি স্বরূপ সেই ধৃত হবে। যারা জুলুম করে, আমরা তাদেরকে এ রকমই শাস্তি দিয়ে থাকি।
فَبَدَاَ بِاَوۡعِیَتِہِمۡ قَبۡلَ وِعَآءِ اَخِیۡہِ ثُمَّ اسۡتَخۡرَجَہَا مِنۡ وِّعَآءِ اَخِیۡہِ ؕ کَذٰلِکَ کِدۡنَا لِیُوۡسُفَ ؕ مَا کَانَ لِیَاۡخُذَ اَخَاہُ فِیۡ دِیۡنِ الۡمَلِکِ اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ اللّٰہُ ؕ نَرۡفَعُ دَرَجٰتٍ مَّنۡ نَّشَآءُ ؕ وَفَوۡقَ کُلِّ ذِیۡ عِلۡمٍ عَلِیۡمٌ
তারপর ইউসুফ তার (সহোদর) ভাইয়ের থলি তল্লাশির আগে অন্য ভাইদের থলি তল্লাশি শুরু করল। তারপর পেয়ালাটি নিজ (সহোদর) ভাইয়ের থলি থেকে বের করে আনল। এভাবে আমি ইউসুফের জন্য কৌশল করলাম। আল্লাহর এই ইচ্ছা না হলে বাদশাহর আইন অনুযায়ী ইউসুফের পক্ষে তার ভাইকে নিজের কাছে রাখা সম্ভব ছিল না। আমি যাকে ইচ্ছা করি তার মর্যাদা উঁচু করি। আর যত জ্ঞানী আছে, তাদের সকলের উপর আছেন একজন সর্বজ্ঞানী।
قَالُوۡۤا اِنۡ یَّسۡرِقۡ فَقَدۡ سَرَقَ اَخٌ لَّہٗ مِنۡ قَبۡلُ ۚ فَاَسَرَّہَا یُوۡسُفُ فِیۡ نَفۡسِہٖ وَلَمۡ یُبۡدِہَا لَہُمۡ ۚ قَالَ اَنۡتُمۡ شَرٌّ مَّکَانًا ۚ وَاللّٰہُ اَعۡلَمُ بِمَا تَصِفُوۡنَ
ভাইয়েরা বলল, যদি সে (বিন ইয়ামীন) চুরি করে তবে (আশ্চর্যের কিছু নেই। কেননা) এর আগে তার ভাইও চুরি করেছিল। তখন ইউসুফ তাদের কাছে প্রকাশ না করে চুপিসারে (মনে মনে) বলল, এ ব্যাপারে তোমরা তো ঢের বেশি মন্দ আর তোমরা যা বলছ তার প্রকৃত অবস্থা আল্লাহ সম্যক জ্ঞাত।
قَالُوۡا یٰۤاَیُّہَا الۡعَزِیۡزُ اِنَّ لَہٗۤ اَبًا شَیۡخًا کَبِیۡرًا فَخُذۡ اَحَدَنَا مَکَانَہٗ ۚ اِنَّا نَرٰىکَ مِنَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ
(এবার) তারা বলতে লাগল, হে আযীয! এর অতিশয় বৃদ্ধ এক পিতা আছেন। কাজেই তার পরিবর্তে আমাদের মধ্য হতে কাউকে আপনার কাছে রেখে দিন। যারা সদয় আচরণ করে আমরা আপনাকে তাদের একজন মনে করি।
قَالَ مَعَاذَ اللّٰہِ اَنۡ نَّاۡخُذَ اِلَّا مَنۡ وَّجَدۡنَا مَتَاعَنَا عِنۡدَہٗۤ ۙ اِنَّاۤ اِذًا لَّظٰلِمُوۡنَ ٪
ইউসুফ বলল, এর থেকে (অর্থাৎ এই বে-ইনসাফী থেকে) আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি যে, যে ব্যক্তির কাছে আমাদের মাল পাওয়া গেছে তার পরিবর্তে অন্য কাউকে পাকড়াও করব। আমরা এরূপ করলে নিশ্চিতভাবেই আমরা জালিম হয়ে যাব।
فَلَمَّا اسۡتَیۡـَٔسُوۡا مِنۡہُ خَلَصُوۡا نَجِیًّا ؕ قَالَ کَبِیۡرُہُمۡ اَلَمۡ تَعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اَبَاکُمۡ قَدۡ اَخَذَ عَلَیۡکُمۡ مَّوۡثِقًا مِّنَ اللّٰہِ وَمِنۡ قَبۡلُ مَا فَرَّطۡتُّمۡ فِیۡ یُوۡسُفَ ۚ فَلَنۡ اَبۡرَحَ الۡاَرۡضَ حَتّٰی یَاۡذَنَ لِیۡۤ اَبِیۡۤ اَوۡ یَحۡکُمَ اللّٰہُ لِیۡ ۚ وَہُوَ خَیۡرُ الۡحٰکِمِیۡنَ
তারা যখন ইউসুফের দিক থেকে সম্পূর্ণ হতাশ হয়ে গেল, তখন নির্জনে গিয়ে চুপিসারে পরামর্শ করতে লাগল। তাদের মধ্যে যে সকলের বড় ছিল সে বলল, তোমাদের কি জানা নেই তোমাদের পিতা তোমাদের থেকে আল্লাহর নামে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন? এবং এর আগে ইউসুফের ব্যাপারে তোমরা যে ত্রুটি করেছিলে (তাও তোমাদের জানা আছে)। সুতরাং আমি তো এ দেশ ত্যাগ করব না, যাবৎ না আমার পিতা আমাকে অনুমতি দেন কিংবা আল্লাহই আমার ব্যাপারে কোনও ফায়সালা করে দেন। তিনিই সর্বাপেক্ষা উত্তম ফায়সালাকারী।
اِرۡجِعُوۡۤا اِلٰۤی اَبِیۡکُمۡ فَقُوۡلُوۡا یٰۤاَبَانَاۤ اِنَّ ابۡنَکَ سَرَقَ ۚ وَمَا شَہِدۡنَاۤ اِلَّا بِمَا عَلِمۡنَا وَمَا کُنَّا لِلۡغَیۡبِ حٰفِظِیۡنَ
তোমরা তোমাদের পিতার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বল, আব্বাজী! আপনার পুত্র চুরি করেছিল আর আমরা সে কথাই বললাম, যা আমরা জানতে পেরেছি। গায়েবের খবর রাখা তো আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
وَسۡـَٔلِ الۡقَرۡیَۃَ الَّتِیۡ کُنَّا فِیۡہَا وَالۡعِیۡرَ الَّتِیۡۤ اَقۡبَلۡنَا فِیۡہَا ؕ وَاِنَّا لَصٰدِقُوۡنَ
আমরা যে জনপদে ছিলাম তাকে জিজ্ঞেস করুন এবং আমরা যে যাত্রী দলের সাথে এসেছি তাদের থেকে যাচাই করে নিন। নিশ্চয়ই আমরা সত্যবাদী।
قَالَ بَلۡ سَوَّلَتۡ لَکُمۡ اَنۡفُسُکُمۡ اَمۡرًا ؕ فَصَبۡرٌ جَمِیۡلٌ ؕ عَسَی اللّٰہُ اَنۡ یَّاۡتِـیَنِیۡ بِہِمۡ جَمِیۡعًا ؕ اِنَّہٗ ہُوَ الۡعَلِیۡمُ الۡحَکِیۡمُ
(সুতরাং ভাইয়েরা ইয়াকুব আলাইহিস সালামের কাছে গেল এবং বড় ভাই যা শিখিয়ে দিয়েছিল সে কথাই তাকে বলল)। ইয়াকুব (তা শুনে) বলল, না, বরং তোমাদের মন নিজের তরফ থেকে একটি কথা বানিয়ে নিয়েছে। সুতরাং আমার পক্ষে সবরই শ্রেয়। কিছু অসম্ভব নয় যে, আল্লাহ তাদের সকলকে আমার কাছে এনে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
وَتَوَلّٰی عَنۡہُمۡ وَقَالَ یٰۤاَسَفٰی عَلٰی یُوۡسُفَ وَابۡیَضَّتۡ عَیۡنٰہُ مِنَ الۡحُزۡنِ فَہُوَ کَظِیۡمٌ
এবং (একথা বলে) সে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলতে লাগল, আহা ইউসুফ! আর তার চোখ দু’টি দুঃখে (কাঁদতে কাঁদতে) সাদা হয়ে গিয়েছিল এবং তার হৃদয় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছিল।
قَالُوۡا تَاللّٰہِ تَفۡتَؤُا تَذۡکُرُ یُوۡسُفَ حَتّٰی تَکُوۡنَ حَرَضًا اَوۡ تَکُوۡنَ مِنَ الۡہٰلِکِیۡنَ
তার পুত্রগণ বলতে লাগল, আল্লাহর কসম! আপনি তো ইউসুফকে ভুলবেন না, যতক্ষণ না আপনি সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ হবেন কিংবা মারাই যাবেন।
قَالَ اِنَّمَاۤ اَشۡکُوۡا بَثِّیۡ وَحُزۡنِیۡۤ اِلَی اللّٰہِ وَاَعۡلَمُ مِنَ اللّٰہِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ
ইয়াকুব বলল, আমি আমার দুঃখ ও বেদনার অভিযোগ (তোমাদের কাছে নয়) কেবল আল্লাহরই কাছে করছি। আর আল্লাহ সম্পর্কে আমি যতটা জানি, তোমরা জান না।
یٰبَنِیَّ اذۡہَبُوۡا فَتَحَسَّسُوۡا مِنۡ یُّوۡسُفَ وَاَخِیۡہِ وَلَا تَایۡـَٔسُوۡا مِنۡ رَّوۡحِ اللّٰہِ ؕ اِنَّہٗ لَا یَایۡـَٔسُ مِنۡ رَّوۡحِ اللّٰہِ اِلَّا الۡقَوۡمُ الۡکٰفِرُوۡنَ
ওহে আমার পুত্রগণ! তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সন্ধান চালাও। তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, জেনে রেখ আল্লাহর রহমত থেকে কেবল তারাই নিরাশ হয়, যারা কাফের।
فَلَمَّا دَخَلُوۡا عَلَیۡہِ قَالُوۡا یٰۤاَیُّہَا الۡعَزِیۡزُ مَسَّنَا وَاَہۡلَنَا الضُّرُّ وَجِئۡنَا بِبِضَاعَۃٍ مُّزۡجٰىۃٍ فَاَوۡفِ لَنَا الۡکَیۡلَ وَتَصَدَّقۡ عَلَیۡنَا ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَجۡزِی الۡمُتَصَدِّقِیۡنَ
সুতরাং তারা যখন ইউসুফের কাছে পৌঁছল, তখন তারা (ইউসুফকে) বলল, হে আযীয! আমরা ও আমাদের পরিবারবর্গ কঠিন মুসিবতে আক্রান্ত হয়েছি। আমরা সামান্য কিছু পুঁজি নিয়ে এসেছি। আপনি আমাদেরকে পরিপূর্ণ রসদ দান করুন এবং আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্যে অনুগ্রহকারীদেরকে মহা পুরস্কার দিয়ে থাকেন।
قَالَ ہَلۡ عَلِمۡتُمۡ مَّا فَعَلۡتُمۡ بِیُوۡسُفَ وَاَخِیۡہِ اِذۡ اَنۡتُمۡ جٰہِلُوۡنَ
ইউসুফ বলল, তোমাদের কি খবর আছে তোমরা যখন অজ্ঞতার শিকার ছিলে তখন ইউসুফ ও তার ভায়ের সাথে কী আচরণ করেছিলে?
قَالُوۡۤا ءَاِنَّکَ لَاَنۡتَ یُوۡسُفُ ؕ قَالَ اَنَا یُوۡسُفُ وَہٰذَاۤ اَخِیۡ ۫ قَدۡ مَنَّ اللّٰہُ عَلَیۡنَا ؕ اِنَّہٗ مَنۡ یَّـتَّقِ وَیَصۡبِرۡ فَاِنَّ اللّٰہَ لَا یُضِیۡعُ اَجۡرَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ
(একথা শুনে) তারা বলে উঠল, তবে কি তুমিই ইউসুফ? ইউসুফ বলল, আমি ইউসুফ এবং এই আমার ভাই। আল্লাহ আমাদের প্রতি বড়ই অনুগ্রহ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন ও ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ সেরূপ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।
قَالُوۡا تَاللّٰہِ لَقَدۡ اٰثَرَکَ اللّٰہُ عَلَیۡنَا وَاِنۡ کُنَّا لَخٰطِئِیۡنَ
তারা বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাদের উপর তোমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং আমরা নিশ্চয়ই অপরাধী ছিলাম।
قَالَ لَا تَثۡرِیۡبَ عَلَیۡکُمُ الۡیَوۡمَ ؕ یَغۡفِرُ اللّٰہُ لَکُمۡ ۫ وَہُوَ اَرۡحَمُ الرّٰحِمِیۡنَ
ইউসুফ বলল, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনা হবে না। আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। তিনি সকল দয়ালু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
اِذۡہَبُوۡا بِقَمِیۡصِیۡ ہٰذَا فَاَلۡقُوۡہُ عَلٰی وَجۡہِ اَبِیۡ یَاۡتِ بَصِیۡرًا ۚ وَاۡتُوۡنِیۡ بِاَہۡلِکُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ٪
আমার এই জামা নিয়ে যাও এবং এটা আমার পিতার চেহারার উপর রেখে দিও। এর ফলে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসবে। আর তোমাদের পরিবারের সকলকে আমার কাছে নিয়ে এসো।
وَلَمَّا فَصَلَتِ الۡعِیۡرُ قَالَ اَبُوۡہُمۡ اِنِّیۡ لَاَجِدُ رِیۡحَ یُوۡسُفَ لَوۡلَاۤ اَنۡ تُفَنِّدُوۡنِ
যখন এ যাত্রীদল (মিসর থেকে কিনআনের দিকে) রওয়ানা হল, তখন (কিনআনে) তাদের পিতা (আশেপাশের লোকদেরকে) বলল, তোমরা যদি আমাকে না বল যে, বুড়ো অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়েছে, তবে বলি, আমি ইউসুফের ঘ্রাণ পাচ্ছি।
قَالُوۡا تَاللّٰہِ اِنَّکَ لَفِیۡ ضَلٰلِکَ الۡقَدِیۡمِ ٙ
তারা (উপস্থিত লোকজন) বলল, আল্লাহর কসম! আপনি এখনও পর্যন্ত আপনার পুরানো ভুল ধারণার মধ্যেই আছেন।
فَلَمَّاۤ اَنۡ جَآءَ الۡبَشِیۡرُ اَلۡقٰىہُ عَلٰی وَجۡہِہٖ فَارۡتَدَّ بَصِیۡرًا ۚ قَالَ اَلَمۡ اَقُلۡ لَّکُمۡ ۚۙ اِنِّیۡۤ اَعۡلَمُ مِنَ اللّٰہِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ
তারপর যখন সুসংবাদবাহী এসে সে (ইউসুফের) জামা তার চেহারার উপর ফেলে দিল, অমনি তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসল। সে (তার পুত্রদেরকে) বলল, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি, আল্লাহ সম্পর্কে আমি যতটা জানি তোমরা জান না?
قَالُوۡا یٰۤاَبَانَا اسۡتَغۡفِرۡ لَنَا ذُنُوۡبَنَاۤ اِنَّا کُنَّا خٰطِئِیۡنَ
তারা বলল, আব্বাজী! আপনি আমাদের পাপরাশির ক্ষমার জন্য দু‘আ করুন। আমরা নিশ্চয়ই গুরুতর অপরাধী ছিলাম।
قَالَ سَوۡفَ اَسۡتَغۡفِرُ لَکُمۡ رَبِّیۡ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ
ইয়াকুব বলল, আমি সত্ত্বর আমার প্রতিপালকের কাছে তোমাদের ক্ষমার জন্য দু‘আ করব। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
فَلَمَّا دَخَلُوۡا عَلٰی یُوۡسُفَ اٰوٰۤی اِلَیۡہِ اَبَوَیۡہِ وَقَالَ ادۡخُلُوۡا مِصۡرَ اِنۡ شَآءَ اللّٰہُ اٰمِنِیۡنَ ؕ
তারপর তারা সকলে যখন ইউসুফের কাছে উপস্থিত হল, সে তার পিতা-মাতাকে নিজের কাছে স্থান দিল এবং সকলকে বলল, আপনারা সকলে মিসরে প্রবেশ করুন ইনশাআল্লাহ আপনারা এখানে স্বস্তিতে থাকবেন।
وَرَفَعَ اَبَوَیۡہِ عَلَی الۡعَرۡشِ وَخَرُّوۡا لَہٗ سُجَّدًا ۚ وَقَالَ یٰۤاَبَتِ ہٰذَا تَاۡوِیۡلُ رُءۡیَایَ مِنۡ قَبۡلُ ۫ قَدۡ جَعَلَہَا رَبِّیۡ حَقًّا ؕ وَقَدۡ اَحۡسَنَ بِیۡۤ اِذۡ اَخۡرَجَنِیۡ مِنَ السِّجۡنِ وَجَآءَ بِکُمۡ مِّنَ الۡبَدۡوِ مِنۡۢ بَعۡدِ اَنۡ نَّزَغَ الشَّیۡطٰنُ بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَ اِخۡوَتِیۡ ؕ اِنَّ رَبِّیۡ لَطِیۡفٌ لِّمَا یَشَآءُ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ الۡعَلِیۡمُ الۡحَکِیۡمُ
সে তার পিতা-মাতাকে সিংহাসনে বসাল আর তারা সকলে তার সামনে সিজদায় পড়ে গেল। ইউসুফ বলল, আব্বাজী! এই হল আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা, যা আমার প্রতিপালক সত্যে পরিণত করেছেন। তিনি আমার প্রতি বড়ই অনুগ্রহ করেছেন যে, আমাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং আপনাদেরকে দেহাত থেকে এখানে নিয়ে এসেছেন। অথচ ইতঃপূর্বে আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে শয়তান অনর্থ সৃষ্টি করেছিল। বস্তুত আমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন, তার জন্য অতি সূক্ষ্ম ব্যবস্থা করেন। নিশ্চয়ই তিনিই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
رَبِّ قَدۡ اٰتَیۡتَنِیۡ مِنَ الۡمُلۡکِ وَعَلَّمۡتَنِیۡ مِنۡ تَاۡوِیۡلِ الۡاَحَادِیۡثِ ۚ فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۟ اَنۡتَ وَلِیّٖ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ۚ تَوَفَّنِیۡ مُسۡلِمًا وَّاَلۡحِقۡنِیۡ بِالصّٰلِحِیۡنَ
হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে রাজত্বেও অংশ দিয়েছ এবং দান করেছ স্বপ্ন-ব্যাখ্যার জ্ঞান। হে আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর স্রষ্টা! দুনিয়া ও আখেরাতে তুমিই আমার অভিভাবক। তুমি দুনিয়া থেকে আমাকে এমন অবস্থায় তুলে নিও, যখন আমি থাকি তোমার অনুগত। আর আমাকে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করো।
ذٰلِکَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الۡغَیۡبِ نُوۡحِیۡہِ اِلَیۡکَ ۚ وَمَا کُنۡتَ لَدَیۡہِمۡ اِذۡ اَجۡمَعُوۡۤا اَمۡرَہُمۡ وَہُمۡ یَمۡکُرُوۡنَ
(হে নবী!) এসব ঘটনা গায়েবের সংবাদরাজির একটা অংশ, যা ওহীর মাধ্যমে আমি তোমাকে জানাচ্ছি। তুমি সেই সময় তাদের (অর্থাৎ ইউসুফের ভাইদের) কাছে উপস্থিত ছিলে না, যখন তারা ষড়যন্ত্র করে নিজেদের সিদ্ধান্ত স্থির করে ফেলেছিল (যে, তারা ইউসুফকে কুয়ায় ফেলে দেবে)।
وَمَاۤ اَکۡثَرُ النَّاسِ وَلَوۡ حَرَصۡتَ بِمُؤۡمِنِیۡنَ
এতদসত্ত্বেও অধিকাংশ লোক ঈমান আনার নয়, তাতে তোমার অন্তর যতই কামনা করুক না কেন।
وَمَا تَسۡـَٔلُہُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ ؕ اِنۡ ہُوَ اِلَّا ذِکۡرٌ لِّلۡعٰلَمِیۡنَ ٪
অথচ এর বিনিময়ে (অর্থাৎ প্রচার কার্যের বিনিময়ে) তুমি তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাও না। এটা তো নিখিল বিশ্বের সকলের জন্য এক উপদেশ-বার্তা।
وَکَاَیِّنۡ مِّنۡ اٰیَۃٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ یَمُرُّوۡنَ عَلَیۡہَا وَہُمۡ عَنۡہَا مُعۡرِضُوۡنَ
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে কত নিদর্শন রয়েছে, যার উপর দিয়ে তাদের বিচরণ হয়, কিন্তু তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
وَمَا یُؤۡمِنُ اَکۡثَرُہُمۡ بِاللّٰہِ اِلَّا وَہُمۡ مُّشۡرِکُوۡنَ
তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই এমন যে, তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখলেও তা এভাবে যে, তাঁর সঙ্গে শরীক করে।
اَفَاَمِنُوۡۤا اَنۡ تَاۡتِیَہُمۡ غَاشِیَۃٌ مِّنۡ عَذَابِ اللّٰہِ اَوۡ تَاۡتِیَہُمُ السَّاعَۃُ بَغۡتَۃً وَّہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ
তবে কি তারা এ বিষয়ের একটুও ভয় রাখে না যে, তাদের উপর আল্লাহর আযাবের কোন মুসিবত এসে পড়বে অথবা সহসা তাদের উপর তাদের অজ্ঞাতসারে কিয়ামত আপতিত হবে?
قُلۡ ہٰذِہٖ سَبِیۡلِیۡۤ اَدۡعُوۡۤا اِلَی اللّٰہِ ۟ؔ عَلٰی بَصِیۡرَۃٍ اَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِیۡ ؕ وَسُبۡحٰنَ اللّٰہِ وَمَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ
(হে নবী!) বলে দাও, এই আমার পথ, আমি পরিপূর্ণ উপলব্ধির সাথে আল্লাহর দিকে ডাকি এবং যারা আমার অনুসরণ করে তারাও। আল্লাহ (সব রকম) শিরক থেকে পবিত্র। যারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করে, আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই।
وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ اِلَّا رِجَالًا نُّوۡحِیۡۤ اِلَیۡہِمۡ مِّنۡ اَہۡلِ الۡقُرٰی ؕ اَفَلَمۡ یَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَیَنۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ وَلَدَارُ الۡاٰخِرَۃِ خَیۡرٌ لِّلَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ
আমি তোমার আগে যত রাসূল পাঠিয়েছি, তারা সকলে বিভিন্ন জনপদে বসবাসকারী মানুষই ছিল, যাদের প্রতি আমি ওহী নাযিল করতাম তারা কি পৃথিবীতে বিচরণ করে দেখেনি তাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের পরিণাম কী হয়েছে? যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের জন্য আখেরাতের নিবাস কতই না শ্রেয়! তবুও কি তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগাবে না?
حَتّٰۤی اِذَا اسۡتَیۡـَٔسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوۡۤا اَنَّہُمۡ قَدۡ کُذِبُوۡا جَآءَہُمۡ نَصۡرُنَا ۙ فَنُجِّیَ مَنۡ نَّشَآءُ ؕ وَلَا یُرَدُّ بَاۡسُنَا عَنِ الۡقَوۡمِ الۡمُجۡرِمِیۡنَ
(পূর্ববর্তী নবীদের ক্ষেত্রেও এমনই হয়েছিল যে, তাদের সম্প্রদায়ের উপর আযাব আসতে কিছুটা সময় লেগেছিল) পরিশেষে যখন নবীগণ মানুষের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেল এবং কাফেরগণ মনে করতে লাগল তাদেরকে মিথ্যা হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তখন নবীদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছল (অর্থাৎ কাফেরদের উপর আযাব আসে) এবং আমি যাকে ইচ্ছা করেছিলাম তাকে রক্ষা করলাম। অপরাধী সম্প্রদায় হতে আমার শাস্তি টলানো যায় না।
لَقَدۡ کَانَ فِیۡ قَصَصِہِمۡ عِبۡرَۃٌ لِّاُولِی الۡاَلۡبَابِ ؕ مَا کَانَ حَدِیۡثًا یُّفۡتَرٰی وَلٰکِنۡ تَصۡدِیۡقَ الَّذِیۡ بَیۡنَ یَدَیۡہِ وَتَفۡصِیۡلَ کُلِّ شَیۡءٍ وَّہُدًی وَّرَحۡمَۃً لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ ٪
নিশ্চয়ই তাদের ঘটনায় বোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষা গ্রহণের উপাদান আছে। এটা এমন কোনও বাণী নয়, যা মিছামিছি গড়ে নেওয়া হয়েছে। বরং এটা এর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সমর্থক, সবকিছুর বিশদ বিবরণ এবং যারা ঈমান আনে তাদের জন্য হিদায়াত ও রহমতের উপকরণ।