إبراهيم

إبراهيم

ইবরাহীম

আয়াত ৫২ · মক্কী · পারা ১৩

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الٓرٰ ۟  کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰہُ اِلَیۡکَ لِتُخۡرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ ۬ۙ  بِاِذۡنِ رَبِّہِمۡ اِلٰی صِرَاطِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَمِیۡدِ ۙ

আলিফ, লাম, রা (হে নবী!) এটি এক কিতাব, যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তুমি মানুষকে তাদের প্রতিপালকের নির্দেশক্রমে অন্ধকার হতে বের করে আলোর ভেতর নিয়ে আসতে পার। অর্থাৎ, সেই সত্তার পথে, যার ক্ষমতা সকলের উপর প্রবল এবং যিনি সমস্ত প্রশংসার উপযুক্ত।

اللّٰہِ الَّذِیۡ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ  وَوَیۡلٌ لِّلۡکٰفِرِیۡنَ مِنۡ عَذَابٍ شَدِیۡدِۣ ۙ

সেই আল্লাহ, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর ভেতর যা-কিছু আছে সবই যার মালিকানায়। বড়ই দুর্গতি কাফেরদের জন্য অর্থাৎ শাস্তি।

الَّذِیۡنَ یَسۡتَحِبُّوۡنَ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا عَلَی الۡاٰخِرَۃِ وَیَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَیَبۡغُوۡنَہَا عِوَجًا ؕ اُولٰٓئِکَ فِیۡ ضَلٰلٍۭ بَعِیۡدٍ

যারা আখেরাতের বিপরীতে দুনিয়ার জীবনকেই পছন্দ করে, অন্যদেরকে আল্লাহর পথে আসতে বাধা দেয় এবং সে পথে বক্রতা সন্ধান করে, তারা চরম বিভ্রান্তিতে লিপ্ত।

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا بِلِسَانِ قَوۡمِہٖ لِیُبَیِّنَ لَہُمۡ ؕ فَیُضِلُّ اللّٰہُ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ

আমি যখনই কোন রাসূল পাঠিয়েছি, তাকে তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যাতে সে তাদের সামনে সত্যকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারে। তারপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন, যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰی بِاٰیٰتِنَاۤ اَنۡ اَخۡرِجۡ قَوۡمَکَ مِنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ ۬ۙ وَذَکِّرۡہُمۡ بِاَیّٰىمِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّکُلِّ صَبَّارٍ شَکُوۡرٍ

আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী দিয়ে পাঠিয়েছিলাম। বলেছিলাম যে, নিজ সম্প্রদায়কে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে এসো এবং আল্লাহ (বিভিন্ন মানুষকে ভালো অবস্থা ও মন্দ অবস্থার) যে দিনসমূহ দেখিয়েছেন, তার কথা বলে তাদেরকে উপদেশ দাও। বস্তুত যে-কেউ সবর ও শোকরে অভ্যস্ত, তার জন্য এসব ঘটনার ভেতর বহু নিদর্শন আছে।

وَاِذۡ قَالَ مُوۡسٰی لِقَوۡمِہِ اذۡکُرُوۡا نِعۡمَۃَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ اِذۡ اَنۡجٰکُمۡ مِّنۡ اٰلِ فِرۡعَوۡنَ یَسُوۡمُوۡنَکُمۡ سُوۡٓءَ الۡعَذَابِ وَیُذَبِّحُوۡنَ اَبۡنَآءَکُمۡ وَیَسۡتَحۡیُوۡنَ نِسَآءَکُمۡ ؕ  وَفِیۡ ذٰلِکُمۡ بَلَآءٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ عَظِیۡمٌ ٪

সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল। আল্লাহ তোমাদের প্রতি যেসব অনুগ্রহ করেছেন তা স্মরণ কর যখন তিনি ফির‘আউনের লোকদের কবল থেকে তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছিলেন, যারা তোমাদেরকে নিকৃষ্টতম শাস্তি দিত, তোমাদের পুত্রদেরকে যবাহ করত ও তোমাদের নারীদেরকে জীবিত রাখত। আর এসব ঘটনার ভেতর তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা ছিল।

وَاِذۡ تَاَذَّنَ رَبُّکُمۡ لَئِنۡ شَکَرۡتُمۡ لَاَزِیۡدَنَّکُمۡ وَلَئِنۡ کَفَرۡتُمۡ اِنَّ عَذَابِیۡ لَشَدِیۡدٌ

এবং সেই সময়টাও স্মরণ কর, যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেছিলেন, তোমরা সত্যিকারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আমি তোমাদেরকে আরও বেশি দেব, আর যদি অকৃতজ্ঞতা কর, তবে জেনে রেখ আমার শাস্তি অতি কঠিন।

وَقَالَ مُوۡسٰۤی اِنۡ تَکۡفُرُوۡۤا اَنۡتُمۡ وَمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا ۙ فَاِنَّ اللّٰہَ لَغَنِیٌّ حَمِیۡدٌ

এবং মূসা বলেছিল, তোমরা এবং পৃথিবীতে বসবাসকারী সকলেই যদি অকৃতজ্ঞতা কর, তবে (আল্লাহর কোনও ক্ষতি নেই। কেননা) আল্লাহ অতি বেনিয়ায, তিনি আপনিই প্রশংসার উপযুক্ত।

اَلَمۡ یَاۡتِکُمۡ نَبَؤُا الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ قَوۡمِ نُوۡحٍ وَّعَادٍ وَّثَمُوۡدَ ۬ؕۛ وَالَّذِیۡنَ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ ؕۛ لَا یَعۡلَمُہُمۡ اِلَّا اللّٰہُ ؕ جَآءَتۡہُمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ فَرَدُّوۡۤا اَیۡدِیَہُمۡ فِیۡۤ اَفۡوَاہِہِمۡ وَقَالُوۡۤا اِنَّا کَفَرۡنَا بِمَاۤ اُرۡسِلۡتُمۡ بِہٖ وَاِنَّا لَفِیۡ شَکٍّ مِّمَّا تَدۡعُوۡنَنَاۤ اِلَیۡہِ مُرِیۡبٍ

(হে মক্কার কাফেরগণ!) তোমাদের কাছে কি তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের সংবাদ পৌঁছেনি নূহের সম্প্রদায়ের এবং আদ, ছামুদ ও তাদের পরবর্তী সম্প্রদায়সমূহের, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না? তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা তাদের মুখে হাত রেখে দিয়েছিল এবং বলেছিল, যে বার্তা দিয়ে তোমাদেরকে পাঠানো হয়েছে, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি আর তোমরা যে বিষয়ের দাওয়াত দিচ্ছ, সে সম্পর্কে আমাদের গভীর সন্দেহ আছে।

قَالَتۡ رُسُلُہُمۡ اَفِی اللّٰہِ شَکٌّ فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ یَدۡعُوۡکُمۡ لِیَغۡفِرَ لَکُمۡ مِّنۡ ذُنُوۡبِکُمۡ وَیُؤَخِّرَکُمۡ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ قَالُوۡۤا اِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُنَا ؕ تُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ تَصُدُّوۡنَا عَمَّا کَانَ یَعۡبُدُ اٰبَآؤُنَا فَاۡتُوۡنَا بِسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ

তাদের রাসূলগণ তাদেরকে বলেছিল, আল্লাহ সম্বন্ধেই কি তোমাদের সন্দেহ, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা? তিনি তোমাদেরকে ডাকছেন তোমাদের খাতিরে তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করার এবং স্থিরীকৃত এক মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদেরকে অবকাশ দেওয়ার জন্য। তারা বলেছিল, তোমরা তো আমাদেরই মত মানুষ মাত্র। তোমরা চাচ্ছ আমাদের বাপ-দাদাগণ যাদের ইবাদত করত, তাদের থেকে আমাদেরকে বিরত রাখতে। তাহলে তোমরা আমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোন মুজিযা উপস্থিত কর।

قَالَتۡ لَہُمۡ رُسُلُہُمۡ اِنۡ نَّحۡنُ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ وَلٰکِنَّ اللّٰہَ یَمُنُّ عَلٰی مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖ ؕ وَمَا کَانَ لَنَاۤ اَنۡ نَّاۡتِیَکُمۡ بِسُلۡطٰنٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ وَعَلَی اللّٰہِ فَلۡیَتَوَکَّلِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ

তাদের নবীগণ তাদেরকে বলেছিল, বাস্তবিকই আমরা তোমাদের মত মানুষ। কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা বিশেষ অনুগ্রহ করেন। আর আল্লাহর হুকুম ছাড়া তোমাদেরকে কোন মুজিযা দেখানোর এখতিয়ার আমাদের নেই। মুমিনদের তো কেবল আল্লাহর উপর নির্ভর করা উচিত।

وَمَا لَنَاۤ اَلَّا نَتَوَکَّلَ عَلَی اللّٰہِ وَقَدۡ ہَدٰىنَا سُبُلَنَا ؕ  وَلَنَصۡبِرَنَّ عَلٰی مَاۤ اٰذَیۡتُمُوۡنَا ؕ  وَعَلَی اللّٰہِ فَلۡیَتَوَکَّلِ الۡمُتَوَکِّلُوۡنَ ٪

কেনইবা আমরা আল্লাহর উপর নির্ভর করব না, যখন তিনি আমাদের সেই পথ প্রদর্শন করেছেন, যে পথে আমাদের চলা উচিত? তোমরা আমাদেরকে যে কষ্ট দিচ্ছ আমরা তাতে অবশ্যই সবর করব। যারা নির্ভর করতে চায়, তারা যেন আল্লাহরই উপর নির্ভর করে।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِرُسُلِہِمۡ لَنُخۡرِجَنَّکُمۡ مِّنۡ اَرۡضِنَاۤ اَوۡ لَتَعُوۡدُنَّ فِیۡ مِلَّتِنَا ؕ  فَاَوۡحٰۤی اِلَیۡہِمۡ رَبُّہُمۡ لَنُہۡلِکَنَّ الظّٰلِمِیۡنَ ۙ

যারা কুফর অবলম্বন করেছিল, তারা তাদের নবীগণকে বলেছিল, আমরা তোমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে ছাড়ব। অথবা তোমাদেরকে আমাদের দীনে ফিরে আসতে হবে। অতঃপর তাদের প্রতিপালক তাদের প্রতি ওহী পাঠালেন, আমি অবশ্যই এ জালেমদেরকে ধ্বংস করব।

وَلَنُسۡکِنَنَّـکُمُ الۡاَرۡضَ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ ؕ ذٰلِکَ لِمَنۡ خَافَ مَقَامِیۡ وَخَافَ وَعِیۡدِ

এবং তাদের পর যমীনে তোমাদেরকেই প্রতিষ্ঠিত করব। এটা প্রত্যেক ওই ব্যক্তির পুরস্কার, যে আমার সামনে দাঁড়ানোর ভয় রাখে এবং ভয় রাখে আমার সতর্কবাণীর।

وَاسۡتَفۡتَحُوۡا وَخَابَ کُلُّ جَبَّارٍ عَنِیۡدٍ ۙ

এবং কাফেরগণ নিজেরাই মীমাংসা প্রার্থনা করেছিল, (আর তার পরিণাম হয়েছিল এই যে,) প্রত্যেক উদ্ধ্যত হঠকারী অকৃতকার্য হয়ে গেল।

مِّنۡ وَّرَآئِہٖ جَہَنَّمُ وَیُسۡقٰی مِنۡ مَّآءٍ صَدِیۡدٍ ۙ

তার সামনে রয়েছে জাহান্নাম এবং (সেখানে) তাকে পান করানো হবে গলিত পুঁজ।

یَّتَجَرَّعُہٗ وَلَا یَکَادُ یُسِیۡغُہٗ وَیَاۡتِیۡہِ الۡمَوۡتُ مِنۡ کُلِّ مَکَانٍ وَّمَا ہُوَ بِمَیِّتٍ ؕ وَمِنۡ وَّرَآئِہٖ عَذَابٌ غَلِیۡظٌ

সে তা ঢোক গিলে গিলে পান করবে, মনে হবে যেন সে তা গলা থেকে নামাতে পারছে না। মৃত্যু তার দিকে চারদিক থেকে এসে পড়বে, কিন্তু সে মরবে না এবং তার সামনে (সর্বদা) থাকবে এক কঠিন শাস্তি।

مَثَلُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِرَبِّہِمۡ اَعۡمَالُہُمۡ کَرَمَادِۣ اشۡتَدَّتۡ بِہِ الرِّیۡحُ فِیۡ یَوۡمٍ عَاصِفٍ ؕ لَا یَقۡدِرُوۡنَ مِمَّا کَسَبُوۡا عَلٰی شَیۡءٍ ؕ ذٰلِکَ ہُوَ الضَّلٰلُ الۡبَعِیۡدُ

যারা নিজ প্রতিপালকের সাথে কুফরী কর্মপন্থা অবলম্বন করেছে তাদের অবস্থা এই যে, তাদের কর্ম সেই ছাইয়ের মত, প্রচণ্ড ঝড়ের দিনে তীব্র বাতাস যা উড়িয়ে নিয়ে যায়। তারা যা কিছু উপার্জন করে, তার কিছুই তাদের হস্তগত হবে না। এটাই তো চরম বিভ্রান্তি।

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ؕ  اِنۡ یَّشَاۡ یُذۡہِبۡکُمۡ وَیَاۡتِ بِخَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ۙ

এটা কি তোমার দৃষ্টিগোচর হয় না যে, আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে যথাযথ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন? তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকে ধ্বংস করে দিতে পারেন এবং এক নতুন সৃষ্টি অস্তিত্বে আনতে পারেন।

وَّمَا ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ بِعَزِیۡزٍ

আর এটা আল্লাহর পক্ষে কিছু কঠিন নয়।

وَبَرَزُوۡا لِلّٰہِ جَمِیۡعًا فَقَالَ الضُّعَفٰٓؤُا لِلَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡۤا اِنَّا کُنَّا لَکُمۡ تَبَعًا فَہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّغۡنُوۡنَ عَنَّا مِنۡ عَذَابِ اللّٰہِ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ  قَالُوۡا لَوۡ ہَدٰىنَا اللّٰہُ لَہَدَیۡنٰکُمۡ ؕ  سَوَآءٌ عَلَیۡنَاۤ اَجَزِعۡنَاۤ اَمۡ صَبَرۡنَا مَا لَنَا مِنۡ مَّحِیۡصٍ ٪

এবং সমস্ত মানুষ আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। যারা (দুনিয়ায়) দুর্বল ছিল, তারা বড়ত্ব প্রদর্শনকারীদেরকে বলবে, আমরা তো তোমাদেরই অনুগামী ছিলাম। এখন কি তোমরা আমাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে একটু বাঁচাবে? তারা বলবে, আল্লাহ যদি আমাদেরকে হিদায়াত দান করে থাকতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে হিদায়াত দিতাম। এখন আমরা চিৎকার করি বা সবর করি উভয় অবস্থাই আমাদের জন্য সমান। আমাদের নিষ্কৃতি লাভের কোন উপায় নেই।

وَقَالَ الشَّیۡطٰنُ لَمَّا قُضِیَ الۡاَمۡرُ اِنَّ اللّٰہَ وَعَدَکُمۡ وَعۡدَ الۡحَقِّ وَوَعَدۡتُّکُمۡ فَاَخۡلَفۡتُکُمۡ ؕ وَمَا کَانَ لِیَ عَلَیۡکُمۡ مِّنۡ سُلۡطٰنٍ اِلَّاۤ اَنۡ دَعَوۡتُکُمۡ فَاسۡتَجَبۡتُمۡ لِیۡ ۚ فَلَا تَلُوۡمُوۡنِیۡ وَلُوۡمُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ مَاۤ اَنَا بِمُصۡرِخِکُمۡ وَمَاۤ اَنۡتُمۡ بِمُصۡرِخِیَّ ؕ اِنِّیۡ کَفَرۡتُ بِمَاۤ اَشۡرَکۡتُمُوۡنِ مِنۡ قَبۡلُ ؕ اِنَّ الظّٰلِمِیۡنَ لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ

যখন সবকিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে, তখন শয়তান (তার অনুসারীদেরকে) বলবে, বস্তুত আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তোমাদের সাথে তা রক্ষা করিনি। তোমাদের উপর আমার এর বেশি কিছু ক্ষমতা ছিল না যে, আমি তোমাদেরকে (আল্লাহর অবাধ্যতা করার) দাওয়াত দিয়েছিলাম আর তোমরা আমার কথা শুনেছিলে। সুতরাং এখন আমাকে দোষারোপ করো না, বরং নিজেদেরই দোষারোপ কর। না তোমাদের বিপদ মুক্তিতে আমি তোমাদের কোন সাহায্য করতে পারি আর না আমার বিপদ মুক্তিতে তোমরা আমার কোন সাহায্য করতে পার। এর আগে তোমরা যে আমাকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করেছিলে (আজ) আমি তা প্রত্যাখ্যান করলাম। যারা এ সীমালংঘন করেছিল আজ তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

وَاُدۡخِلَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا بِاِذۡنِ رَبِّہِمۡ ؕ تَحِیَّتُہُمۡ فِیۡہَا سَلٰمٌ

আর যারা ঈমান এনেছিল ও সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে এমন উদ্যানরাজিতে দাখিল করা হবে, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। নিজ প্রতিপালকের হুকুমে তারা সর্বদা তাতে (উদ্যানরাজিতে) থাকবে। তাতে তাদের পারস্পরিক অভিবাদন হবে সালাম।

اَلَمۡ تَرَ کَیۡفَ ضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا کَلِمَۃً طَیِّبَۃً کَشَجَرَۃٍ طَیِّبَۃٍ اَصۡلُہَا ثَابِتٌ وَّفَرۡعُہَا فِی السَّمَآءِ ۙ

তুমি কি দেখনি আল্লাহ কালেমা তায়্যিবার কেমন দৃষ্টান্ত দিয়েছেন? তা এক পবিত্র বৃক্ষের মত, যার মূল (ভূমিতে) সুদৃঢ়ভাবে স্থিত আর তার শাখা-প্রশাখা আকাশে বিস্তৃত।

تُؤۡتِیۡۤ اُکُلَہَا کُلَّ حِیۡنٍۭ بِاِذۡنِ رَبِّہَا ؕ وَیَضۡرِبُ اللّٰہُ الۡاَمۡثَالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّہُمۡ یَتَذَکَّرُوۡنَ

তা নিজ প্রতিপালকের নির্দেশে প্রতি মুহূর্তে ফল দেয়। আল্লাহ (এ জাতীয়) দৃষ্টান্ত দেন, যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে।

وَمَثَلُ کَلِمَۃٍ خَبِیۡثَۃٍ کَشَجَرَۃٍ خَبِیۡثَۃِۣ اجۡتُثَّتۡ مِنۡ فَوۡقِ الۡاَرۡضِ مَا لَہَا مِنۡ قَرَارٍ

আর অপবিত্র কালিমার দৃষ্টান্ত এক মন্দ বৃক্ষ, যা ভূমির উপরিভাগ থেকেই উপড়ে ফেলা যায়। তার একটুও স্থায়িত্ব নেই।

یُثَبِّتُ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِالۡقَوۡلِ الثَّابِتِ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَفِی الۡاٰخِرَۃِ ۚ  وَیُضِلُّ اللّٰہُ الظّٰلِمِیۡنَ ۟ۙ  وَیَفۡعَلُ اللّٰہُ مَا یَشَآءُ ٪

যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদেরকে এ সুদৃঢ় কথার উপর স্থিতি দান করেন দুনিয়ার জীবনেও এবং আখেরাতেও। আর আল্লাহ জালেমদেরকে করেন বিভ্রান্ত। আল্লাহ (নিজ হিকমত অনুযায়ী) যা চান, তাই করেন।

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ بَدَّلُوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ کُفۡرًا وَّاَحَلُّوۡا قَوۡمَہُمۡ دَارَ الۡبَوَارِ ۙ

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা আল্লাহর নি‘আমতকে কুফর দ্বারা পরিবর্তন করে ফেলেছে এবং নিজ সম্প্রদায়কে ধ্বংস-নিবাসে পৌঁছে দিয়েছে-

جَہَنَّمَ ۚ یَصۡلَوۡنَہَا ؕ وَبِئۡسَ الۡقَرَارُ

জাহান্নামে? তারা তাতে দগ্ধ হবে আর তা অতি মন্দ ঠিকানা।

وَجَعَلُوۡا لِلّٰہِ اَنۡدَادًا لِّیُضِلُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ؕ قُلۡ تَمَتَّعُوۡا فَاِنَّ مَصِیۡرَکُمۡ اِلَی النَّارِ

আর তারা আল্লাহর সাথে (তাঁর প্রভুত্বে) কতিপয় শরীক সাব্যস্ত করেছে, যাতে মানুষকে তার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। তাদেরকে বল, (অল্প কিছু) ভোগ করে নাও। শেষ পর্যন্ত তোমাদেরকে জাহান্নামেই যেতে হবে।

قُلۡ لِّعِبَادِیَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا یُقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَیُنۡفِقُوۡا مِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ سِرًّا وَّعَلَانِیَۃً مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَ یَوۡمٌ لَّا بَیۡعٌ فِیۡہِ وَلَا خِلٰلٌ

আমার যে বান্দাগণ ঈমান এনেছে তাদেরকে বল, যেন নামায কায়েম করে, আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে (সৎকাজে) ব্যয় করে (এবং এ কাজ) সেই দিন আসার আগে-আগেই (করে), যে দিন কোন বেচাকেনা থাকবে না এবং কোন বন্ধুত্বও কাজে আসবে না।

اَللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَاَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَخۡرَجَ بِہٖ مِنَ الثَّمَرٰتِ رِزۡقًا لَّکُمۡ ۚ  وَسَخَّرَ لَکُمُ الۡفُلۡکَ لِتَجۡرِیَ فِی الۡبَحۡرِ بِاَمۡرِہٖ ۚ  وَسَخَّرَ لَکُمُ الۡاَنۡہٰرَ ۚ

আল্লাহ তিনি, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, তারপর তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফল উৎপাদন করেছেন এবং জলযানসমূহকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তা তাঁর নির্দেশে সাগরে চলাচল করে আর নদ-নদীকেও তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন।

وَسَخَّرَ لَکُمُ الشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ دَآئِبَیۡنِ ۚ  وَسَخَّرَ لَکُمُ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ ۚ

সূর্য ও চন্দ্রকে তোমাদের কাজে নিয়োজিত করেছেন, যা অবিরাম পরিভ্রমণরত রয়েছে। আর তোমাদের জন্য রাত ও দিনকেও কাজে লাগিয়ে রেখেছেন।

وَاٰتٰىکُمۡ مِّنۡ کُلِّ مَا سَاَلۡتُمُوۡہُ ؕ  وَاِنۡ تَعُدُّوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ لَا تُحۡصُوۡہَا ؕ  اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَظَلُوۡمٌ کَفَّارٌ ٪

তোমরা যা-কিছু চেয়েছ, তিনি তার মধ্য হতে (যা তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক তা) তোমাদেরকে দান করেছেন। তোমরা আল্লাহর নি‘আমতসমূহ গুণতে শুরু করলে, তা গুণতে সক্ষম হবে না। বস্তুত মানুষ অতি অন্যায়াচারী, ঘোর অকৃতজ্ঞ।

وَاِذۡ قَالَ اِبۡرٰہِیۡمُ رَبِّ اجۡعَلۡ ہٰذَا الۡبَلَدَ اٰمِنًا وَّاجۡنُبۡنِیۡ وَبَنِیَّ اَنۡ نَّعۡبُدَ الۡاَصۡنَامَ ؕ

এবং সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম (আল্লাহ তাআলার কাছে দু‘আ করছিল আর তাতে) বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! এ নগরকে শান্তিপূর্ণ বানিয়ে দিন এবং আমাকে ও আমার পুত্রকে মূর্তিপূজা করা হতে রক্ষা করুন।

رَبِّ اِنَّہُنَّ اَضۡلَلۡنَ کَثِیۡرًا مِّنَ النَّاسِ ۚ فَمَنۡ تَبِعَنِیۡ فَاِنَّہٗ مِنِّیۡ ۚ وَمَنۡ عَصَانِیۡ فَاِنَّکَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ

হে আমার প্রতিপালক! ওইসব প্রতিমা বিপুল সংখ্যক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে। সুতরাং যে-কেউ আমার অনুসরণ করবে, সে আমার দলভুক্ত আর কেউ আমাকে অমান্য করলে (তার বিষয়টা আমি আপনার উপর ছেড়ে দিচ্ছি), আপনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

رَبَّنَاۤ اِنِّیۡۤ اَسۡکَنۡتُ مِنۡ ذُرِّیَّتِیۡ بِوَادٍ غَیۡرِ ذِیۡ زَرۡعٍ عِنۡدَ بَیۡتِکَ الۡمُحَرَّمِ ۙ رَبَّنَا لِیُـقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ فَاجۡعَلۡ اَفۡئِدَۃً مِّنَ النَّاسِ تَہۡوِیۡۤ اِلَیۡہِمۡ وَارۡزُقۡہُمۡ مِّنَ الثَّمَرٰتِ لَعَلَّہُمۡ یَشۡکُرُوۡنَ

হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার কতিপয় সন্তানকে আপনার সম্মানিত ঘরের আশেপাশে এমন এক উপত্যকায় এনে বসবাস করিয়েছি, যেখানে কোন ক্ষেত-খামার নেই। হে আমাদের প্রতিপালক! (এটা আমি এজন্য করেছি) যাতে তারা নামায কায়েম করে। সুতরাং মানুষের অন্তরে তাদের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করে দিন এবং তাদেরকে ফলমূলের জীবিকা দান করুন, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে।

رَبَّنَاۤ اِنَّکَ تَعۡلَمُ مَا نُخۡفِیۡ وَمَا نُعۡلِنُ ؕ وَمَا یَخۡفٰی عَلَی اللّٰہِ مِنۡ شَیۡءٍ فِی الۡاَرۡضِ وَلَا فِی السَّمَآءِ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যে কাজ লুকিয়ে করি তাও আপনি জানেন এবং যে কাজ প্রকাশ্যে করি তাও। পৃথিবীতে যা আছে তার কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না এবং আকাশে যা কিছু আছে তাও না।

اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ وَہَبَ لِیۡ عَلَی الۡکِبَرِ اِسۡمٰعِیۡلَ وَاِسۡحٰقَ ؕ اِنَّ رَبِّیۡ لَسَمِیۡعُ الدُّعَآءِ

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে বৃদ্ধ বয়সে ইসমাঈল ও ইসহাক (-এর মত পুত্র) দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অত্যধিক দু‘আ শ্রবণকারী।

رَبِّ اجۡعَلۡنِیۡ مُقِیۡمَ الصَّلٰوۃِ وَمِنۡ ذُرِّیَّتِیۡ ٭ۖ رَبَّنَا وَتَقَبَّلۡ دُعَآءِ

হে আমার প্রতিপালক! আমাকেও নামায কায়েমকারী বানিয়ে দিন এবং আমার আওলাদের মধ্য হতেও (এমন লোক সৃষ্টি করুন, যারা নামায কায়েম করবে)। হে আমার প্রতিপালক! এবং আমার দু‘আ কবুল করে নিন।

رَبَّنَا اغۡفِرۡ لِیۡ وَلِوَالِدَیَّ وَلِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ یَوۡمَ یَقُوۡمُ الۡحِسَابُ ٪

হে আমার প্রতিপালক! যে দিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে, সে দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল ঈমানদারকে ক্ষমা করুন।

وَلَا تَحۡسَبَنَّ اللّٰہَ غَافِلًا عَمَّا یَعۡمَلُ الظّٰلِمُوۡنَ ۬ؕ  اِنَّمَا یُؤَخِّرُہُمۡ لِیَوۡمٍ تَشۡخَصُ فِیۡہِ الۡاَبۡصَارُ ۙ

তুমি কিছুতেই মনে করো না জালিমগণ যা-কিছু করছে আল্লাহ সে সম্পর্কে বেখবর। তিনি তো তাদেরকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিচ্ছেন, যে দিন চক্ষুসমূহ থাকবে বিস্ফারিত।

مُہۡطِعِیۡنَ مُقۡنِعِیۡ رُءُوۡسِہِمۡ لَا یَرۡتَدُّ اِلَیۡہِمۡ طَرۡفُہُمۡ ۚ  وَاَفۡـِٕدَتُہُمۡ ہَوَآءٌ ؕ

তারা মাথা উপর দিকে তুলে দৌড়াতে থাকবে। তাদের দৃষ্টি পলক ফেলার জন্য ফিরে আসবে না। আর (ভীতি বিহ্বলতার কারণে) তাদের প্রাণ উড়ে যাওয়ার উপক্রম করবে।

وَاَنۡذِرِ النَّاسَ یَوۡمَ یَاۡتِیۡہِمُ الۡعَذَابُ فَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا رَبَّنَاۤ اَخِّرۡنَاۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیۡبٍ ۙ  نُّجِبۡ دَعۡوَتَکَ وَنَتَّبِعِ الرُّسُلَ ؕ  اَوَلَمۡ تَکُوۡنُوۡۤا اَقۡسَمۡتُمۡ مِّنۡ قَبۡلُ مَا لَکُمۡ مِّنۡ زَوَالٍ ۙ

এবং (হে নবী!) তুমি মানুষকে সেই দিন সম্পর্কে সতর্ক কর, যেদিন তাদের উপর আযাব আপতিত হবে আর তখন জালেমগণ বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে অল্পকালের জন্য সুযোগ দিন, তাহলে আমরা আপনার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলগণের অনুসরণ করব। (তখন তাদেরকে বলা হবে) আরে, তোমরা কি কসম করে বলনি তোমাদের কোন লয় নেই?

وَّسَکَنۡتُمۡ فِیۡ مَسٰکِنِ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ وَتَبَیَّنَ لَکُمۡ کَیۡفَ فَعَلۡنَا بِہِمۡ وَضَرَبۡنَا لَکُمُ الۡاَمۡثَالَ

যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তাদের বাসভূমিতে তোমরা থেকেছিলে এবং তাদের সঙ্গে আমি কি আচরণ করেছি তাও তোমাদের কাছে প্রকাশ পেয়েছিল আর তোমাদের সামনে দৃষ্টান্তও পেশ করেছিলাম।

وَقَدۡ مَکَرُوۡا مَکۡرَہُمۡ وَعِنۡدَ اللّٰہِ مَکۡرُہُمۡ ؕ وَاِنۡ کَانَ مَکۡرُہُمۡ لِتَزُوۡلَ مِنۡہُ الۡجِبَالُ

তারা তাদের সব রকম চাল চেলেছিল, কিন্তু আল্লাহর কাছে তাদের সমস্ত চাল ব্যর্থ করারও ব্যবস্থা ছিল, হোক না তাদের চালসমূহ এমন (শক্তিশালী), যাতে পাহাড়ও টলে যায়।

فَلَا تَحۡسَبَنَّ اللّٰہَ مُخۡلِفَ وَعۡدِہٖ رُسُلَہٗ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ عَزِیۡزٌ ذُو انۡتِقَامٍ ؕ

সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে কখনও এমন ধারণা মনে আসতে দেবে না যে, তিনি নিজ রাসূলদেরকে দেওয়া ওয়াদার বিপরীত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, (এবং) শাস্তিদাতা।

یَوۡمَ تُبَدَّلُ الۡاَرۡضُ غَیۡرَ الۡاَرۡضِ وَالسَّمٰوٰتُ وَبَرَزُوۡا لِلّٰہِ الۡوَاحِدِ الۡقَہَّارِ

সেই দিন, যে দিন এ পৃথিবীকে অন্য এক পৃথিবী দ্বারা বদলে দেওয়া হবে এবং আকাশমণ্ডলীকেও (বদলে দেওয়া হবে) এবং সকলেই এক পরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে।

وَتَـرَی الۡمُجۡرِمِیۡنَ یَوۡمَئِذٍ مُّقَرَّنِیۡنَ فِی الۡاَصۡفَادِ ۚ

এবং সে দিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে কষে বাঁধা অবস্থায় দেখবে।

سَرَابِیۡلُہُمۡ مِّنۡ قَطِرَانٍ وَّتَغۡشٰی وُجُوۡہَہُمُ النَّارُ ۙ

তাদের জামা হবে আলকাতরার এবং আগুন তাদের মুখমণ্ডল আচ্ছন্ন করবে-

لِیَجۡزِیَ اللّٰہُ کُلَّ نَفۡسٍ مَّا کَسَبَتۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَرِیۡعُ الۡحِسَابِ

এইজন্য যে, আল্লাহ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিফল দেবেন। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

ہٰذَا بَلٰغٌ لِّلنَّاسِ وَلِیُنۡذَرُوۡا بِہٖ وَلِیَعۡلَمُوۡۤا اَنَّمَا ہُوَ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ وَّلِیَذَّکَّرَ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ ٪

এটা সমস্ত মানুষের জন্য এক বার্তা এবং এটা এই জন্য দেওয়া হচ্ছে, যাতে এর মাধ্যমে তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং যাতে তারা জানতে পারে সত্য মাবুদ কেবল একজনই এবং যাতে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ উপদেশ গ্রহণ করে।