النحل
আন-নাহল
আয়াত ১২৮ · মক্কী · পারা ১৪
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
اَتٰۤی اَمۡرُ اللّٰہِ فَلَا تَسۡتَعۡجِلُوۡہُ ؕ سُبۡحٰنَہٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ
আল্লাহর হুকুম এসে গেছে। কাজেই তার জন্য তাড়াহুড়া করো না। তারা যে শিরক করছে, তিনি তা থেকে পবিত্র ও সমুচ্চ।
یُنَزِّلُ الۡمَلٰٓئِکَۃَ بِالرُّوۡحِ مِنۡ اَمۡرِہٖ عَلٰی مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖۤ اَنۡ اَنۡذِرُوۡۤا اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنَا فَاتَّقُوۡنِ
তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা নিজ হুকুমে রূহ (অর্থাৎ প্রাণ সঞ্চারক ওহী) সহ ফিরিশতা অবতীর্ণ করেন, এই মর্মে সতর্ক করার জন্য যে, আমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় কর (অন্য কাউকে নয়)।
خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ؕ تَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ
তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে যথার্থ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। তারা যে শিরক করে তা থেকে তিনি বহু উর্ধ্বে।
خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ فَاِذَا ہُوَ خَصِیۡمٌ مُّبِیۡنٌ
তিনি মানুষকে শুক্রবিন্দু হতে সৃষ্টি করেছেন। তারপর সহসা সে প্রকাশ্য বিতণ্ডার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে।
وَالۡاَنۡعَامَ خَلَقَہَا ۚ لَکُمۡ فِیۡہَا دِفۡءٌ وَّمَنَافِعُ وَمِنۡہَا تَاۡکُلُوۡنَ ۪
তিনিই চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যার মধ্যে তোমাদের জন্য শীত থেকে বাঁচার উপকরণ এবং তা ছাড়া আরও বহু উপকার রয়েছে এবং তা থেকেই তোমরা খেয়েও থাক।
وَلَکُمۡ فِیۡہَا جَمَالٌ حِیۡنَ تُرِیۡحُوۡنَ وَحِیۡنَ تَسۡرَحُوۡنَ ۪
তোমরা সন্ধ্যাকালে যখন সেগুলোকে বাড়িতে ফিরিয়ে আন এবং ভোরবেলা যখন সেগুলোকে চারণভূমিতে নিয়ে যাও, তখন তার ভেতর তোমাদের জন্য দৃষ্টিনন্দন শোভাও রয়েছে।
وَتَحۡمِلُ اَثۡقَالَکُمۡ اِلٰی بَلَدٍ لَّمۡ تَکُوۡنُوۡا بٰلِغِیۡہِ اِلَّا بِشِقِّ الۡاَنۡفُسِ ؕ اِنَّ رَبَّکُمۡ لَرَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ ۙ
এবং তারা তোমাদের ভার বয়ে নিয়ে যায় এমন নগরে, যেখানে প্রাণান্তকর কষ্ট ছাড়া তোমরা পৌঁছতে পারতে না। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের প্রতিপালক অতি মমতাময়, পরম দয়ালু।
وَّالۡخَیۡلَ وَالۡبِغَالَ وَالۡحَمِیۡرَ لِتَرۡکَبُوۡہَا وَزِیۡنَۃً ؕ وَیَخۡلُقُ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ
এবং ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা তিনিই সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাতে আরোহণ করতে পার এবং তা তোমাদের শোভা হয়। তিনি সৃষ্টি করেন এমন বহু জিনিস, যা তোমরা জান না।
وَعَلَی اللّٰہِ قَصۡدُ السَّبِیۡلِ وَمِنۡہَا جَآئِرٌ ؕ وَلَوۡ شَآءَ لَہَدٰىکُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ٪
সরল পথ দেখানোর দায়িত্ব আল্লাহ তাআলার। আর আছে বহু বাঁকা পথ। তিনি চাইলে তোমাদের সকলকে সরল পথে পরিচালিত করতেন।
ہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً لَّکُمۡ مِّنۡہُ شَرَابٌ وَّمِنۡہُ شَجَرٌ فِیۡہِ تُسِیۡمُوۡنَ
তিনিই সেই সত্তা, যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, যা থেকে তোমাদের পানীয় লাভ হয় এবং তা থেকেই জন্মায় উদ্ভিদ, যাতে তোমরা পশু চরাও।
یُنۡۢبِتُ لَکُمۡ بِہِ الزَّرۡعَ وَالزَّیۡتُوۡنَ وَالنَّخِیۡلَ وَالۡاَعۡنَابَ وَمِنۡ کُلِّ الثَّمَرٰتِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ
তা দ্বারাই তিনি তোমাদের জন্য ফসল, যায়তুন, খেজুর গাছ, আঙ্গুর ও সর্বপ্রকার ফল উৎপাদন করেন। নিশ্চয়ই যারা চিন্তা করে, তাদের জন্য এসব বিষয়ের মধ্যে নিদর্শন আছে।
وَسَخَّرَ لَکُمُ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ ۙ وَالشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ ؕ وَالنُّجُوۡمُ مُسَخَّرٰتٌۢ بِاَمۡرِہٖ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ ۙ
তিনি দিন-রাত ও চন্দ্র-সূর্যকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। নক্ষত্ররাজিও তাঁর নির্দেশে কর্মরত রয়েছে। নিশ্চয়ই এর ভেতর বহু নিদর্শন আছে সেই সকল লোকের জন্য, যারা বুদ্ধি কাজে লাগায়।
وَمَا ذَرَاَ لَکُمۡ فِی الۡاَرۡضِ مُخۡتَلِفًا اَلۡوَانُہٗ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّذَّکَّرُوۡنَ
এমনিভাবে তিনি তোমাদের জন্য রঙ-বেরঙের যে বস্তুরাজি পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তাও তাঁর নির্দেশে কর্মরত আছে। নিশ্চয়ই যারা শিক্ষাগ্রহণ করে, সেই সব লোকের জন্য এর মধ্যে নিদর্শন আছে।
وَہُوَ الَّذِیۡ سَخَّرَ الۡبَحۡرَ لِتَاۡکُلُوۡا مِنۡہُ لَحۡمًا طَرِیًّا وَّتَسۡتَخۡرِجُوۡا مِنۡہُ حِلۡیَۃً تَلۡبَسُوۡنَہَا ۚ وَتَرَی الۡفُلۡکَ مَوَاخِرَ فِیۡہِ وَلِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِہٖ وَلَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ
তিনিই সেই সত্তা, যিনি সমুদ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন, যাতে তোমরা তা থেকে তাজা গোশত খেতে পার এবং তা থেকে আহরণ করতে পার অলংকার, যা তোমরা পরিধান কর এবং তোমরা দেখতে পাও তাতে পানি কেটে কেটে নৌযান চলাচল করে, যাতে তোমরা সন্ধান করতে পার আল্লাহর অনুগ্রহ এবং যাতে তোমরা শোকর গোজার হয়ে যাও।
وَاَلۡقٰی فِی الۡاَرۡضِ رَوَاسِیَ اَنۡ تَمِیۡدَ بِکُمۡ وَاَنۡہٰرًا وَّسُبُلًا لَّعَلَّکُمۡ تَہۡتَدُوۡنَ ۙ
এবং তিনি পৃথিবীতে পাহাড়ের ভার স্থাপন করেছেন, যাতে তা তোমাদের নিয়ে দোল না খায় এবং নদ-নদী ও পথ তৈরি করেছেন, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।
وَعَلٰمٰتٍ ؕ وَبِالنَّجۡمِ ہُمۡ یَہۡتَدُوۡنَ
এবং (পথ চেনার সুবিধার্থে) বহু আলামত তৈরি করেছেন, তাছাড়া মানুষ নক্ষত্র দ্বারা পথ চিনে নেয়।
اَفَمَنۡ یَّخۡلُقُ کَمَنۡ لَّا یَخۡلُقُ ؕ اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ
সুতরাং বল, যেই সত্তা (এতসব বস্তু) সৃষ্টি করেন, তিনি কি তার সমান হতে পারেন, যে কিছুই সৃষ্টি করে না? তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?
وَاِنۡ تَعُدُّوۡا نِعۡمَۃَ اللّٰہِ لَا تُحۡصُوۡہَا ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
তোমরা যদি আল্লাহর নি‘আমতসমূহ গুণতে শুরু কর, তবে তা গুণে শেষ করতে পারবে না। বস্তুত আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ مَا تُسِرُّوۡنَ وَمَا تُعۡلِنُوۡنَ
তোমরা যা গোপনে কর তা আল্লাহ জানেন এবং তোমরা যা প্রকাশ্যে কর তাও।
وَالَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ لَا یَخۡلُقُوۡنَ شَیۡئًا وَّہُمۡ یُخۡلَقُوۡنَ ؕ
তারা আল্লাহকে ছেড়ে যাদেরকে (অর্থাৎ যে সব দেব-দেবীকে) ডাকে, তারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না। তাদের নিজেদেরই তো সৃষ্টি করা হয়।
اَمۡوَاتٌ غَیۡرُ اَحۡیَآءٍ ۚ وَمَا یَشۡعُرُوۡنَ ۙ اَیَّانَ یُبۡعَثُوۡنَ ٪
তারা নিষ্প্রাণ। তাদের ভেতর জীবন নেই। তাদেরকে কখন জীবিত করে উঠানো হবে সে বিষয়েও তাদের কোন চেতনা নেই।
اِلٰـہُکُمۡ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ۚ فَالَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ قُلُوۡبُہُمۡ مُّنۡکِرَۃٌ وَّہُمۡ مُّسۡتَکۡبِرُوۡنَ
তোমাদের মাবুদ একই মাবুদ। সুতরাং যারা আখেরাতে ঈমান রাখে না তাদের অন্তরে অবিশ্বাস বদ্ধমূল হয়ে গেছে এবং তারা অহমিকায় লিপ্ত।
لَا جَرَمَ اَنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ مَا یُسِرُّوۡنَ وَمَا یُعۡلِنُوۡنَ ؕ اِنَّہٗ لَا یُحِبُّ الۡمُسۡتَکۡبِرِیۡنَ
এটা সুনিশ্চিত যে, তারা যা গোপনে করে তা আল্লাহ জানেন এবং তারা যা প্রকাশ্যে করে তাও। নিশ্চয়ই তিনি অহংকারীকে পছন্দ করেন না।
وَاِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ مَّاذَاۤ اَنۡزَلَ رَبُّکُمۡ ۙ قَالُوۡۤا اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ ۙ
যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের প্রতিপালক কী বিষয় অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে বিগতদের গল্প!
لِیَحۡمِلُوۡۤا اَوۡزَارَہُمۡ کَامِلَۃً یَّوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ۙ وَمِنۡ اَوۡزَارِ الَّذِیۡنَ یُضِلُّوۡنَہُمۡ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ اَلَا سَآءَ مَا یَزِرُوۡنَ ٪
(এসবের) পরিণাম হল এই যে, কিয়ামতের দিন তারা নিজেদের (কৃত গুনাহের) পরিপূর্ণ ভারও বহন করবে এবং তাদেরও ভারের একটা অংশ, যাদেরকে তারা কোনরূপ জ্ঞান ব্যতিরেকে বিপথগামী করছে। স্মরণ রেখ, তারা যা বহন করছে তা অতি মন্দ।
قَدۡ مَکَرَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ فَاَتَی اللّٰہُ بُنۡیَانَہُمۡ مِّنَ الۡقَوَاعِدِ فَخَرَّ عَلَیۡہِمُ السَّقۡفُ مِنۡ فَوۡقِہِمۡ وَاَتٰىہُمُ الۡعَذَابُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَشۡعُرُوۡنَ
তাদের পূর্ববর্তী লোকেও চক্রান্ত করেছিল। পরিণামে তারা যে (ষড়যন্ত্রের) ইমারত নির্মাণ করেছিল, আল্লাহ তার ভিত্তিমূল উপড়ে ফেললেন ফলে উপর থেকে ছাদও তাদের উপর ধ্বসে পড়ল। আর এমন স্থান থেকে তাদের উপর আযাব আপতিত হল, যা তারা টের করতেই পারছিল না।
ثُمَّ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ یُخۡزِیۡہِمۡ وَیَقُوۡلُ اَیۡنَ شُرَکَآءِیَ الَّذِیۡنَ کُنۡتُمۡ تُشَآقُّوۡنَ فِیۡہِمۡ ؕ قَالَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ اِنَّ الۡخِزۡیَ الۡیَوۡمَ وَالسُّوۡٓءَ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ ۙ
তারপর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন, আমার সেই শরীকগণ কোথায়, যাদেরকে নিয়ে তোমরা (মুসলিমদের সাথে) বিতণ্ডা করতে? যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা (সে দিন) বলবে, আজ বড় লাঞ্ছনা ও দুর্দশা চেপেছে সেই কাফেরদের উপর
الَّذِیۡنَ تَتَوَفّٰىہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ ظَالِمِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ ۪ فَاَلۡقَوُا السَّلَمَ مَا کُنَّا نَعۡمَلُ مِنۡ سُوۡٓءٍ ؕ بَلٰۤی اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌۢ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ
ফিরিশতাগণ যাদের রূহ এই অবস্থায় সংহার করেছে, যখন তারা (কুফরীতে লিপ্ত থেকে) নিজ সত্তার উপর জুলুম করছিল। এ সময় কাফেরগণ আত্মসমর্পণ করে বলবে যে, আমরা তো কোন মন্দ কাজ করতাম না। (তাদের বলা হবে) আলবৎ করতে! তোমরা যা-কিছু করতে সব আল্লাহ জানেন।
فَادۡخُلُوۡۤا اَبۡوَابَ جَہَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ فَلَبِئۡسَ مَثۡوَی الۡمُتَکَبِّرِیۡنَ
সুতরাং এখন স্থায়ীভাবে জাহান্নাম বাসের জন্য তার দরজা দিয়ে প্রবেশ কর। অহংকারীদের এ ঠিকানা কতই না মন্দ!
وَقِیۡلَ لِلَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا مَاذَاۤ اَنۡزَلَ رَبُّکُمۡ ؕ قَالُوۡا خَیۡرًا ؕ لِلَّذِیۡنَ اَحۡسَنُوۡا فِیۡ ہٰذِہِ الدُّنۡیَا حَسَنَۃٌ ؕ وَلَدَارُ الۡاٰخِرَۃِ خَیۡرٌ ؕ وَلَنِعۡمَ دَارُ الۡمُتَّقِیۡنَ ۙ
(অন্য দিকে) মুত্তাকীদের জিজ্ঞেস করা হল, তোমাদের প্রতিপালক কী নাযিল করেছেন? তারা বলল, সমূহ কল্যাণই নাযিল করেছেন। (এভাবে) যারা পুণ্যের কর্মপন্থা অবলম্বন করেছে তাদের জন্য ইহকালেও মঙ্গল আছে, আর আখেরাতের নিবাস তো আগাগোড়া মঙ্গলই। মুত্তাকীদের নিবাস কতই না উত্তম
جَنّٰتُ عَدۡنٍ یَّدۡخُلُوۡنَہَا تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ لَہُمۡ فِیۡہَا مَا یَشَآءُوۡنَ ؕ کَذٰلِکَ یَجۡزِی اللّٰہُ الۡمُتَّقِیۡنَ ۙ
স্থায়ী বসবাসের সেই উদ্যান, যাতে তারা প্রবেশ করবে, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে এবং তারা সেখানে যা-কিছু চাবে তাই পাবে। আল্লাহ এ রকমই পুরস্কার দিয়ে থাকেন মুত্তাকীদেরকে
الَّذِیۡنَ تَتَوَفّٰىہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ طَیِّبِیۡنَ ۙ یَقُوۡلُوۡنَ سَلٰمٌ عَلَیۡکُمُ ۙ ادۡخُلُوا الۡجَنَّۃَ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ
তারা ওই সকল লোক, ফিরিশতাগণ যাদের রূহ কবজ করে তাদের পাক-পবিত্র থাকা অবস্থায়। তারা (তাদেরকে) বলে, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। তোমরা যে আমল করতে, তার ফলে জান্নাতে প্রবেশ কর।
ہَلۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡ تَاۡتِیَہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ اَوۡ یَاۡتِیَ اَمۡرُ رَبِّکَ ؕ کَذٰلِکَ فَعَلَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ وَمَا ظَلَمَہُمُ اللّٰہُ وَلٰکِنۡ کَانُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ یَظۡلِمُوۡنَ
তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ ঈমান আনার ব্যাপারে) কি কেবল এরই প্রতীক্ষায় আছে যে, তাদের কাছে ফিরিশতা এসে উপস্থিত হবে অথবা তোমার প্রতিপালকের হুকুম (আযাব বা কিয়ামতরূপে) এসে পড়বে? যেসব জাতি তাদের পূর্বে গত হয়েছে, তারাও এরূপই করেছিল। আল্লাহ তাদের প্রতি কোন জুলুম করেননি, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করছিল।
فَاَصَابَہُمۡ سَیِّاٰتُ مَا عَمِلُوۡا وَحَاقَ بِہِمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٪
সুতরাং তাদের উপর তাদের মন্দ কাজের কুফল আপতিত হয়েছিল এবং তারা যে জিনিস নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তাই এসে তাদেরকে পরিবেষ্টন করেছিল।
وَقَالَ الَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡا لَوۡ شَآءَ اللّٰہُ مَا عَبَدۡنَا مِنۡ دُوۡنِہٖ مِنۡ شَیۡءٍ نَّحۡنُ وَلَاۤ اٰبَآؤُنَا وَلَا حَرَّمۡنَا مِنۡ دُوۡنِہٖ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ کَذٰلِکَ فَعَلَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ۚ فَہَلۡ عَلَی الرُّسُلِ اِلَّا الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ
যারা শিরক অবলম্বন করেছে, তারা বলে, আল্লাহ চাইলে আমরা তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করতাম না না আমরা এবং না আমাদের বাপ-দাদাগণ এবং আমরা তার হুকুম ছাড়া কোন জিনিস হারামও সাব্যস্ত করতাম না। তাদের পূর্বে যে সকল জাতি গত হয়েছে তারাও এ রকমই করেছিল। কিন্তু স্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছানো ছাড়া রাসূলগণের আর কোন দায়িত্ব নেই।
وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِیۡ کُلِّ اُمَّۃٍ رَّسُوۡلًا اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ وَاجۡتَنِبُوا الطَّاغُوۡتَ ۚ فَمِنۡہُمۡ مَّنۡ ہَدَی اللّٰہُ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ حَقَّتۡ عَلَیۡہِ الضَّلٰلَۃُ ؕ فَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَانۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُکَذِّبِیۡنَ
নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক উম্মতের ভেতর কোনও না কোনও রাসূল পাঠিয়েছি এই পথনির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগূতকে পরিহার কর। তারপর তাদের মধ্যে কতক তো এমন ছিল, যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দান করেছেন আর কতক ছিল এমন, যাদের উপর বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে একটু পরিভ্রমণ করে দেখ, (নবীদেরকে) অস্বীকারকারীদের পরিণতি কী হয়েছে?
اِنۡ تَحۡرِصۡ عَلٰی ہُدٰىہُمۡ فَاِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِیۡ مَنۡ یُّضِلُّ وَمَا لَہُمۡ مِّنۡ نّٰصِرِیۡنَ
(হে নবী!) তাদের হিদায়াতপ্রাপ্তির লোভ যদি তোমার থাকে, তবে বাস্তবতা হল, আল্লাহ যাদেরকে (তাদের একরোখামির কারণে) পথভ্রষ্ট করেন তাদেরকে হিদায়াতে উপনীত করেন না এবং এরূপ লোকের কোন রকমের সাহায্যকারীও লাভ হয় না।
وَاَقۡسَمُوۡا بِاللّٰہِ جَہۡدَ اَیۡمَانِہِمۡ ۙ لَا یَبۡعَثُ اللّٰہُ مَنۡ یَّمُوۡتُ ؕ بَلٰی وَعۡدًا عَلَیۡہِ حَقًّا وَّلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ۙ
তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর নামে শপথ করে বলে, যারা মারা যায় আল্লাহ তাদেরকে পুনরায় জীবিত করবেন না। কেন করবেন না? এটা তো এক প্রতিশ্রুতি, যাকে সত্যে পরিণত করার দায়িত্ব আল্লাহর, কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না।
لِیُبَیِّنَ لَہُمُ الَّذِیۡ یَخۡتَلِفُوۡنَ فِیۡہِ وَلِیَعۡلَمَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنَّہُمۡ کَانُوۡا کٰذِبِیۡنَ
(আল্লাহ পুনর্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি করেছেন) মানুষ যে বিষয়ে মতবিরোধ করছে, তা তাদের সামনে স্পষ্ট করে দেওয়ার জন্য এবং যাতে কাফেরগণ জানতে পারে যে, তারা মিথ্যাবাদী ছিল।
اِنَّمَا قَوۡلُنَا لِشَیۡءٍ اِذَاۤ اَرَدۡنٰہُ اَنۡ نَّقُوۡلَ لَہٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ٪
আমি যখন কোন জিনিস সৃষ্টি করার ইচ্ছা করি, তখন আমার পক্ষ থেকে কেবল এতটুকু কথাই হয় যে, আমি তাকে বলি, ‘হয়ে যাও’, অমনি তা হয়ে যায়।
وَالَّذِیۡنَ ہَاجَرُوۡا فِی اللّٰہِ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا ظُلِمُوۡا لَـنُبَوِّئَنَّہُمۡ فِی الدُّنۡیَا حَسَنَۃً ؕ وَلَاَجۡرُ الۡاٰخِرَۃِ اَکۡبَرُ ۘ لَوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ ۙ
যারা নির্যাতিত হওয়ার পর আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষে হিজরত করেছে নিশ্চিত থেক আমি দুনিয়ায়ও তাদেরকে উত্তম নিবাস দান করব আর আখেরাতের প্রতিদান তো নিঃসন্দেহে সর্বশ্রেষ্ঠ। হায়! তারা যদি জানত।
الَّذِیۡنَ صَبَرُوۡا وَعَلٰی رَبِّہِمۡ یَتَوَکَّلُوۡنَ
তারা ওই সব লোক, যারা সবর অবলম্বন করে এবং নিজ প্রতিপালকের উপর ভরসা রাখে।
وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ اِلَّا رِجَالًا نُّوۡحِیۡۤ اِلَیۡہِمۡ فَسۡـَٔلُوۡۤا اَہۡلَ الذِّکۡرِ اِنۡ کُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ ۙ
(হে নবী!) তোমার পূর্বেও আমি অন্য কাউকে নয়, কেবল পুরুষ মানুষকেই রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছিলাম, যাদের প্রতি আমি ওহী নাযিল করতাম। (হে অবিশ্বাসীগণ!) যদি এ বিষয়ে তোমাদের জানা না থাকে, তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করে নাও।
بِالۡبَیِّنٰتِ وَالزُّبُرِ ؕ وَاَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکَ الذِّکۡرَ لِتُبَیِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ اِلَیۡہِمۡ وَلَعَلَّہُمۡ یَتَفَکَّرُوۡنَ
সে রাসূলদেরকে উজ্জ্বল নিদর্শন ও আসমানী কিতাব দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। (হে নবী!) আমি তোমার প্রতিও এই কিতাব নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষের সামনে সেই সব বিষয়ের ব্যাখ্যা করে দাও, যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা করে।
اَفَاَمِنَ الَّذِیۡنَ مَکَرُوا السَّیِّاٰتِ اَنۡ یَّخۡسِفَ اللّٰہُ بِہِمُ الۡاَرۡضَ اَوۡ یَاۡتِیَہُمُ الۡعَذَابُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَشۡعُرُوۡنَ ۙ
তবে কি যারা নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তারা এ বিষয় থেকে নিজেদেরকে নিরাপদ বোধ করছে যে, আল্লাহ তাদেরকে ভূগর্ভে ধসিয়ে দেবেন বা তাদের উপর এমন স্থান থেকে শাস্তি আসবে, যা তারা ধারণাই করতে পারবে না
اَوۡ یَاۡخُذَہُمۡ فِیۡ تَقَلُّبِہِمۡ فَمَا ہُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ ۙ
অথবা তাদেরকে চলাফেরা করা অবস্থায়ই ধৃত করবেন? তারা তো তাকে ব্যর্থ করতে পারবে না।
اَوۡ یَاۡخُذَہُمۡ عَلٰی تَخَوُّفٍ ؕ فَاِنَّ رَبَّکُمۡ لَرَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ
অথবা তিনি তাদেরকে এভাবে পাকড়াও করবেন যে, তারা ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকবে। কেননা তোমার প্রতিপালক অতি মমতাময়, পরম দয়ালু।
اَوَلَمۡ یَرَوۡا اِلٰی مَا خَلَقَ اللّٰہُ مِنۡ شَیۡءٍ یَّتَفَیَّؤُا ظِلٰلُہٗ عَنِ الۡیَمِیۡنِ وَالشَّمَآئِلِ سُجَّدًا لِّلّٰہِ وَہُمۡ دٰخِرُوۡنَ
তারা কি দেখেনি, আল্লাহ যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার ছায়া আল্লাহর প্রতি সিজদারত থেকে ডানে-বামে ঢলে পড়ে এবং তারা সকলে থাকে বিনয়াবনত?
وَلِلّٰہِ یَسۡجُدُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ مِنۡ دَآبَّۃٍ وَّالۡمَلٰٓئِکَۃُ وَہُمۡ لَا یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যত প্রাণী আছে তারা এবং সমস্ত ফেরেশতা আল্লাহকেই সিজদা করে এবং তারা মোটেই অহংকার করে না।
یَخَافُوۡنَ رَبَّہُمۡ مِّنۡ فَوۡقِہِمۡ وَیَفۡعَلُوۡنَ مَا یُؤۡمَرُوۡنَ ٪ٛ
তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, যিনি তাদের উপরে এবং তারা সেই কাজই করে, যার আদেশ তাদেরকে করা হয়।
وَقَالَ اللّٰہُ لَا تَتَّخِذُوۡۤا اِلٰـہَیۡنِ اثۡنَیۡنِ ۚ اِنَّمَا ہُوَ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ۚ فَاِیَّایَ فَارۡہَبُوۡنِ
আল্লাহ বলেন, তোমরা দু’-দু’জন মাবুদ গ্রহণ করো না। তিনি তো একই মাবুদ। সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় কর।
وَلَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَلَہُ الدِّیۡنُ وَاصِبًا ؕ اَفَغَیۡرَ اللّٰہِ تَتَّقُوۡنَ
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা তাঁরই। সর্বাবস্থায় তাঁরই আনুগত্য করা অপরিহার্য। তবুও কি তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ভয় করছ?
وَمَا بِکُمۡ مِّنۡ نِّعۡمَۃٍ فَمِنَ اللّٰہِ ثُمَّ اِذَا مَسَّکُمُ الضُّرُّ فَاِلَیۡہِ تَجۡـَٔرُوۡنَ ۚ
তোমাদের যে নি‘আমতই অর্জিত হয়, আল্লাহরই পক্ষ হতে হয়। আবার যখন কোন দুঃখ-কষ্ট তোমাদেরকে স্পর্শ করে, তখন তোমরা তাঁরই কাছে সাহায্য চাও।
ثُمَّ اِذَا کَشَفَ الضُّرَّ عَنۡکُمۡ اِذَا فَرِیۡقٌ مِّنۡکُمۡ بِرَبِّہِمۡ یُشۡرِکُوۡنَ ۙ
তারপর তিনি যখন তোমাদের কষ্ট দূর করেন, অমনি তোমাদের মধ্য হতে একটি দল নিজ প্রতিপালকের সাথে শিরক শুরু করে দেয়
لِیَکۡفُرُوۡا بِمَاۤ اٰتَیۡنٰہُمۡ ؕ فَتَمَتَّعُوۡا ۟ فَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ
আমি তাদেরকে যে নি‘আমত দিয়েছি তার অকৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য। ঠিক আছে, কিছুটা ভোগ-বিলাস করে নাও। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে।
وَیَجۡعَلُوۡنَ لِمَا لَا یَعۡلَمُوۡنَ نَصِیۡبًا مِّمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ ؕ تَاللّٰہِ لَتُسۡـَٔلُنَّ عَمَّا کُنۡتُمۡ تَفۡتَرُوۡنَ
আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি, তাতে তারা একটা অংশ নির্ধারণ করে তাদের (অর্থাৎ প্রতিমাদের) জন্য, যাদের স্বরূপ তারা নিজেরাই জানে না। আল্লাহর কসম! তোমরা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করতে, সে সম্পর্কে তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
وَیَجۡعَلُوۡنَ لِلّٰہِ الۡبَنٰتِ سُبۡحٰنَہٗ ۙ وَلَہُمۡ مَّا یَشۡتَہُوۡنَ
তারা তো আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান স্থির করছে। সুবহানাল্লাহ! অথচ নিজেদের জন্য (প্রার্থনা করে) তাই (অর্থাৎ পুত্র সন্তান) যা তাদের অভিলাষ মোতাবেক হয়।
وَاِذَا بُشِّرَ اَحَدُہُمۡ بِالۡاُنۡثٰی ظَلَّ وَجۡہُہٗ مُسۡوَدًّا وَّہُوَ کَظِیۡمٌ ۚ
যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তান (জন্মগ্রহণ)-এর সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার চেহারা মলিন হয়ে যায় এবং সে মনে মনে দুঃখ-ক্লিষ্ট হয়।
یَتَوَارٰی مِنَ الۡقَوۡمِ مِنۡ سُوۡٓءِ مَا بُشِّرَ بِہٖ ؕ اَیُمۡسِکُہٗ عَلٰی ہُوۡنٍ اَمۡ یَدُسُّہٗ فِی التُّرَابِ ؕ اَلَا سَآءَ مَا یَحۡکُمُوۡنَ
সে এ সুসংবাদকে খারাপ মনে করে মানুষ থেকে লুকিয়ে বেড়ায় (এবং চিন্তা করে), হীনতা স্বীকার করে তাকে নিজের কাছে রেখে দেবে, নাকি তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে। জেনে রেখ, তারা যে সিদ্ধান্ত স্থির করে তা অতি মন্দ!
لِلَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ مَثَلُ السَّوۡءِ ۚ وَلِلّٰہِ الۡمَثَلُ الۡاَعۡلٰی ؕ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٪
যত সব মন্দ বিষয় তাদেরই মধ্যে, যারা আখেরাতে ঈমান রাখে না। আর সর্বোচ্চ পর্যায়ের গুণাবলী আল্লাহ তাআলারই আছে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
وَلَوۡ یُؤَاخِذُ اللّٰہُ النَّاسَ بِظُلۡمِہِمۡ مَّا تَرَکَ عَلَیۡہَا مِنۡ دَآبَّۃٍ وَّلٰکِنۡ یُّؤَخِّرُہُمۡ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ۚ فَاِذَا جَآءَ اَجَلُہُمۡ لَا یَسۡتَاۡخِرُوۡنَ سَاعَۃً وَّلَا یَسۡتَقۡدِمُوۡنَ
আল্লাহ মানুষকে তাদের জুলুমের কারণে (সহসা) ধৃত করলে ভূপৃষ্ঠে কোনও প্রাণীকে রেহাই দিতেন না। কিন্তু তিনি তাদেরকে একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত অবকাশ দেন। তারপর যখন তাদের নির্দিষ্ট কাল এসে পড়বে, তখন তারা মুহূর্তকালও পেছনে যেতে পারে না এবং সামনেও যেতে পারে না।
وَیَجۡعَلُوۡنَ لِلّٰہِ مَا یَکۡرَہُوۡنَ وَتَصِفُ اَلۡسِنَتُہُمُ الۡکَذِبَ اَنَّ لَہُمُ الۡحُسۡنٰی ؕ لَا جَرَمَ اَنَّ لَہُمُ النَّارَ وَاَنَّہُمۡ مُّفۡرَطُوۡنَ
তারা আল্লাহর জন্য এমন জিনিস নির্ধারণ করে, যা নিজেরা অপছন্দ করে। তারপরও তাদের জিহ্বা (নিজেদের) মিথ্যা প্রশংসা করে যে, সমস্ত মঙ্গল তাদেরই জন্য। এটা সুনিশ্চিত (এরূপ আচরণের কারণে) তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম এবং তাদেরকে তাতেই নিপতিত রাখা হবে।
تَاللّٰہِ لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلٰۤی اُمَمٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَزَیَّنَ لَہُمُ الشَّیۡطٰنُ اَعۡمَالَہُمۡ فَہُوَ وَلِیُّہُمُ الۡیَوۡمَ وَلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ
(হে নবী!) আল্লাহর কসম! তোমার পূর্বে যেসব জাতি গত হয়েছে, আমি তাদের কাছে রাসূল পাঠিয়েছিলাম। অতঃপর শয়তান তাদের কর্মকাণ্ডকে তাদের সামনে চমৎকার রূপে তুলে ধরেছিল। সুতরাং সে-ই (অর্থাৎ শয়তান) আজ তাদের অভিভাবক এবং (এ কারণে) তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাময় শাস্তি।
وَمَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکَ الۡکِتٰبَ اِلَّا لِتُبَیِّنَ لَہُمُ الَّذِی اخۡتَلَفُوۡا فِیۡہِ ۙ وَہُدًی وَّرَحۡمَۃً لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ
আমি তোমার উপর এ কিতাব এজন্যই নাযিল করেছি, যাতে তারা যে সব বিষয়ে বিভিন্ন পথ গ্রহণ করেছে, তাদের সামনে তা সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা কর এবং যাতে এটা ঈমান আনয়নকারীদের জন্য হিদায়াত ও রহমতের অবলম্বন হয়।
وَاللّٰہُ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَحۡیَا بِہِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِہَا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّسۡمَعُوۡنَ ٪
আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করলেন এবং ভূমির মৃত্যুর পর তাতে প্রাণ সঞ্চার করলেন। নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন আছে সেইসব লোকের জন্য, যারা কথা শোনে।
وَاِنَّ لَکُمۡ فِی الۡاَنۡعَامِ لَعِبۡرَۃً ؕ نُسۡقِیۡکُمۡ مِّمَّا فِیۡ بُطُوۡنِہٖ مِنۡۢ بَیۡنِ فَرۡثٍ وَّدَمٍ لَّبَنًا خَالِصًا سَآئِغًا لِّلشّٰرِبِیۡنَ
নিশ্চয়ই গবাদি পশুর ভেতর তোমাদের জন্য চিন্তা-ভাবনা করার উপকরণ আছে। তার পেটে যে গোবর ও রক্ত আছে, তার মাঝখান থেকে আমি তোমাদেরকে এমন বিশুদ্ধ দুধ পান করাই, যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু হয়ে থাকে।
وَمِنۡ ثَمَرٰتِ النَّخِیۡلِ وَالۡاَعۡنَابِ تَتَّخِذُوۡنَ مِنۡہُ سَکَرًا وَّرِزۡقًا حَسَنًا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ
এবং খেজুরের ফল ও আঙ্গুর থেকেও (আমি তোমাদেরকে পানীয় দান করি), যা দ্বারা তোমরা মদ বানাও এবং উত্তম খাদ্যও। নিশ্চয়ই এর ভেতরও সেই সব লোকের জন্য নিদর্শন আছে, যারা বুদ্ধিকে কাজে লাগায়।
وَاَوۡحٰی رَبُّکَ اِلَی النَّحۡلِ اَنِ اتَّخِذِیۡ مِنَ الۡجِبَالِ بُیُوۡتًا وَّمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا یَعۡرِشُوۡنَ ۙ
তোমার প্রতিপালক মৌমাছির অন্তরে এই নির্দেশ সঞ্চার করেন যে, পাহাড়ে, গাছে এবং মানুষ যে মাচান তৈরি করে তাতে নিজ ঘর তৈরি কর।
ثُمَّ کُلِیۡ مِنۡ کُلِّ الثَّمَرٰتِ فَاسۡلُکِیۡ سُبُلَ رَبِّکِ ذُلُلًا ؕ یَخۡرُجُ مِنۡۢ بُطُوۡنِہَا شَرَابٌ مُّخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہٗ فِیۡہِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ
তারপর সব রকম ফল থেকে নিজ খাদ্য আহরণ কর। তারপর তোমার প্রতিপালক তোমার জন্য যে পথ সহজ করে দিয়েছেন, সেই পথে চল। (এভাবে) তার পেট থেকে বিভিন্ন বর্ণের পানীয় বের হয়, যার ভেতর মানুষের জন্য আছে শেফা। নিশ্চয়ই এসবের মধ্যে নিদর্শন আছে সেই সকল লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে।
وَاللّٰہُ خَلَقَکُمۡ ثُمَّ یَتَوَفّٰىکُمۡ ۟ۙ وَمِنۡکُمۡ مَّنۡ یُّرَدُّ اِلٰۤی اَرۡذَلِ الۡعُمُرِ لِکَیۡ لَا یَعۡلَمَ بَعۡدَ عِلۡمٍ شَیۡئًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌ قَدِیۡرٌ ٪
আল্লাহই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি তোমাদের রূহ কবজ করেন। তোমাদের মধ্যে কতক এমন হয়, যাদেরকে বয়সের সর্বাপেক্ষা অকর্মণ্য স্তরে পৌঁছানো হয়, যেখানে পৌঁছার পর তারা সবকিছু জানার পরও কিছুই জানে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।
وَاللّٰہُ فَضَّلَ بَعۡضَکُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ فِی الرِّزۡقِ ۚ فَمَا الَّذِیۡنَ فُضِّلُوۡا بِرَآدِّیۡ رِزۡقِہِمۡ عَلٰی مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُمۡ فَہُمۡ فِیۡہِ سَوَآءٌ ؕ اَفَبِنِعۡمَۃِ اللّٰہِ یَجۡحَدُوۡنَ
আল্লাহ রিযকের ক্ষেত্রে তোমাদের কাউকে কারও উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের রিযক নিজ দাস-দাসীকে এভাবে দান করে না, যাতে তারা সকলে সমান হয়ে যায়। তবে কি তারা আল্লাহর নি‘আমতকে অস্বীকার করে?
وَاللّٰہُ جَعَلَ لَکُمۡ مِّنۡ اَنۡفُسِکُمۡ اَزۡوَاجًا وَّجَعَلَ لَکُمۡ مِّنۡ اَزۡوَاجِکُمۡ بَنِیۡنَ وَحَفَدَۃً وَّرَزَقَکُمۡ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ ؕ اَفَبِالۡبَاطِلِ یُؤۡمِنُوۡنَ وَبِنِعۡمَتِ اللّٰہِ ہُمۡ یَکۡفُرُوۡنَ ۙ
আল্লাহ তোমাদেরই মধ্য হতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের স্ত্রীদের থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন। আর ভালো-ভালো জিনিসের থেকে রিযকের ব্যবস্থা করেছেন। তবুও কি তারা ভিত্তিহীন জিনিসের প্রতি ঈমান রাখবে আর আল্লাহর নি‘আমতসমূহের অকৃতজ্ঞতা করবে?
وَیَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَمۡلِکُ لَہُمۡ رِزۡقًا مِّنَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ شَیۡئًا وَّلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ ۚ
তারা আল্লাহ ছাড়া এমন সব জিনিসের ইবাদত করে যারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী থেকে তাদেরকে কোনওভাবে রিযক দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না এবং তা রাখতে সক্ষমও নয়।
فَلَا تَضۡرِبُوۡا لِلّٰہِ الۡاَمۡثَالَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ وَاَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ
সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।
ضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا عَبۡدًا مَّمۡلُوۡکًا لَّا یَقۡدِرُ عَلٰی شَیۡءٍ وَّمَنۡ رَّزَقۡنٰہُ مِنَّا رِزۡقًا حَسَنًا فَہُوَ یُنۡفِقُ مِنۡہُ سِرًّا وَّجَہۡرًا ؕ ہَلۡ یَسۡتَوٗنَ ؕ اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ ؕ بَلۡ اَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ
আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন- একদিকে এক গোলাম, যে কারও মালিকানাধীন আছে। কোনও বস্তুর মধ্যে তার কিছুমাত্র ক্ষমতা নেই। আর অন্যদিকে এমন এক ব্যক্তি, যাকে আমি আমার পক্ষ হতে উৎকৃষ্ট রিযক দিয়েছি এবং সে তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে খরচ করে। এই দু’জন কি সমান হতে পারে? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। কিন্তু তাদের অধিকাংশেই (এমন পরিষ্কার কথাও) জানে না।
وَضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا رَّجُلَیۡنِ اَحَدُہُمَاۤ اَبۡکَمُ لَا یَقۡدِرُ عَلٰی شَیۡءٍ وَّہُوَ کَلٌّ عَلٰی مَوۡلٰىہُ ۙ اَیۡنَمَا یُوَجِّہۡہُّ لَا یَاۡتِ بِخَیۡرٍ ؕ ہَلۡ یَسۡتَوِیۡ ہُوَ ۙ وَمَنۡ یَّاۡمُرُ بِالۡعَدۡلِ ۙ وَہُوَ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ٪
আল্লাহ আরেকটি দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন- দু’জন লোক, তাদের একজন বোবা। সে কোনও কাজ করতে পারে না, বরং সে তার মনিবের জন্য একটা বোঝা। মনিব তাকে যেখানেই পাঠায়, সে ভালো কিছু করে আনে না। এরূপ ব্যক্তি কি ওই ব্যক্তির সমান হতে পারে, যে অন্যদেরকেও ন্যায়ের আদেশ দেয় এবং নিজেও সরল পথে প্রতিষ্ঠিত থাকে?
وَلِلّٰہِ غَیۡبُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَمَاۤ اَمۡرُ السَّاعَۃِ اِلَّا کَلَمۡحِ الۡبَصَرِ اَوۡ ہُوَ اَقۡرَبُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সকল রহস্য আল্লাহর মুঠোয়। কিয়ামতের বিষয়টি কেবল চোখের পলকতুল্য; বরং তার চেয়েও দ্রুত। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
وَاللّٰہُ اَخۡرَجَکُمۡ مِّنۡۢ بُطُوۡنِ اُمَّہٰتِکُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ شَیۡئًا ۙ وَّجَعَلَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَۃَ ۙ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ
আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে, তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তকরণ সৃষ্টি করেছেন। যাতে তোমরা শোকর আদায় কর।
اَلَمۡ یَرَوۡا اِلَی الطَّیۡرِ مُسَخَّرٰتٍ فِیۡ جَوِّ السَّمَآءِ ؕ مَا یُمۡسِکُہُنَّ اِلَّا اللّٰہُ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ
তারা কি পাখিদের প্রতি লক্ষ্য করেনি, যারা আকাশের শূন্যমণ্ডলে আল্লাহর আজ্ঞাধীন? তাদেরকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ স্থির রাখছে না। নিশ্চয়ই এতে বহু নিদর্শন আছে, তাদের জন্য যারা ঈমান রাখে।
وَاللّٰہُ جَعَلَ لَکُمۡ مِّنۡۢ بُیُوۡتِکُمۡ سَکَنًا وَّجَعَلَ لَکُمۡ مِّنۡ جُلُوۡدِ الۡاَنۡعَامِ بُیُوۡتًا تَسۡتَخِفُّوۡنَہَا یَوۡمَ ظَعۡنِکُمۡ وَیَوۡمَ اِقَامَتِکُمۡ ۙ وَمِنۡ اَصۡوَافِہَا وَاَوۡبَارِہَا وَاَشۡعَارِہَاۤ اَثَاثًا وَّمَتَاعًا اِلٰی حِیۡنٍ
তিনি তোমাদের গৃহকে তোমাদের জন্য আবাসস্থল বানিয়েছেন এবং পশুর চামড়া দ্বারা তোমাদের জন্য এমন ঘর বানিয়েছেন, যা ভ্রমণে যাওয়ার সময় এবং কোথাও অবস্থান গ্রহণকালে তোমাদের কাছে বেশ হালকা-পাতলা মনে হয়। আর তাদের পশম, লোম ও কেশ দ্বারা গৃহ-সামগ্রী ও এমন সব জিনিস তৈরি করেন, যা কিছু কাল তোমাদের উপকারে আসে।
وَاللّٰہُ جَعَلَ لَکُمۡ مِّمَّا خَلَقَ ظِلٰلًا وَّجَعَلَ لَکُمۡ مِّنَ الۡجِبَالِ اَکۡنَانًا وَّجَعَلَ لَکُمۡ سَرَابِیۡلَ تَقِیۡکُمُ الۡحَرَّ وَسَرَابِیۡلَ تَقِیۡکُمۡ بَاۡسَکُمۡ ؕ کَذٰلِکَ یُتِمُّ نِعۡمَتَہٗ عَلَیۡکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تُسۡلِمُوۡنَ
এবং আল্লাহই নিজ সৃষ্ট বস্তুসমূহ হতে তোমাদের জন্য ছায়ার ব্যবস্থা করেছেন, পাহাড়-পর্বতে তোমাদের জন্য আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন, আর তোমাদের জন্য বানিয়েছেন এমন পোশাক, যা তোমাদেরকে তাপ থেকে রক্ষা করে এবং এমন পোশাক, যা যুদ্ধকালে তোমাদেরকে রক্ষা করে। এভাবে তিনি তোমাদের প্রতি নিজ অনুগ্রহ পূর্ণ করেন, যাতে তোমরা অনুগত হয়ে যাও।
فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَاِنَّمَا عَلَیۡکَ الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ
তারপরও যদি তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে (হে নবী!) তোমার দায়িত্ব তো শুধু স্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছানো।
یَعۡرِفُوۡنَ نِعۡمَتَ اللّٰہِ ثُمَّ یُنۡکِرُوۡنَہَا وَاَکۡثَرُہُمُ الۡکٰفِرُوۡنَ ٪
তারা আল্লাহর নি‘আমতসমূহ চেনে, তবুও তা অস্বীকার করে এবং তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ।
وَیَوۡمَ نَبۡعَثُ مِنۡ کُلِّ اُمَّۃٍ شَہِیۡدًا ثُمَّ لَا یُؤۡذَنُ لِلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَلَا ہُمۡ یُسۡتَعۡتَبُوۡنَ
এবং সেই দিনকে স্মরণ রেখ, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী দাঁড় করাব, তারপর যারা কুফর অবলম্বন করেছিল, তাদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে তাওবা করার জন্যও ফরমায়েশ করা হবে না।
وَاِذَا رَاَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوا الۡعَذَابَ فَلَا یُخَفَّفُ عَنۡہُمۡ وَلَا ہُمۡ یُنۡظَرُوۡنَ
জালেমগণ যখন শাস্তি দেখতে পাবে, তখন তাদের শাস্তি হালকা করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না।
وَاِذَا رَاَ الَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡا شُرَکَآءَہُمۡ قَالُوۡا رَبَّنَا ہٰۤؤُلَآءِ شُرَکَآؤُنَا الَّذِیۡنَ کُنَّا نَدۡعُوۡا مِنۡ دُوۡنِکَ ۚ فَاَلۡقَوۡا اِلَیۡہِمُ الۡقَوۡلَ اِنَّکُمۡ لَکٰذِبُوۡنَ ۚ
যারা আল্লাহর সঙ্গে শরীক করেছিল, তারা যখন তাদের (নিজেদের গড়া) শরীকদেরকে দেখবে, তখন বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! এরাই সেই শরীক, তোমার পরিবর্তে যাদেরকে আমরা ডাকতাম। এ সময় তারা (অর্থাৎ মনগড়া শরীকগণ) তাদের দিকে কথা ছুঁড়ে মারবে যে, তোমরা বিলকুল মিথ্যুক!
وَاَلۡقَوۡا اِلَی اللّٰہِ یَوۡمَئِذِۣ السَّلَمَ وَضَلَّ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ
সে দিন আল্লাহর সামনে তারা আনুগত্যমূলক কথা বলবে। আর তারা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করত, সে দিন তার কোন হদিসই তারা পাবে না।
اَلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَصَدُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ زِدۡنٰہُمۡ عَذَابًا فَوۡقَ الۡعَذَابِ بِمَا کَانُوۡا یُفۡسِدُوۡنَ
যারা কুফর অবলম্বন করেছিল এবং আল্লাহর পথে অন্যদেরকে বাধা দিত, আমি তাদের শাস্তির উপর শাস্তি বৃদ্ধি করতে থাকব। কারণ তারা অশান্তি বিস্তার করত।
وَیَوۡمَ نَبۡعَثُ فِیۡ کُلِّ اُمَّۃٍ شَہِیۡدًا عَلَیۡہِمۡ مِّنۡ اَنۡفُسِہِمۡ وَجِئۡنَا بِکَ شَہِیۡدًا عَلٰی ہٰۤؤُلَآءِ ؕ وَنَزَّلۡنَا عَلَیۡکَ الۡکِتٰبَ تِبۡیَانًا لِّکُلِّ شَیۡءٍ وَّہُدًی وَّرَحۡمَۃً وَّبُشۡرٰی لِلۡمُسۡلِمِیۡنَ ٪
সেই দিনকেও স্মরণ রেখ, যেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে, তাদের নিজেদের থেকে, তাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী দাঁড় করাব আর (হে নবী!) আমি তোমাকে এদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থিত করব। আমি তোমার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি, যাতে এটা প্রতিটি বিষয় সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করে দেয় এবং মুসলিমদের জন্য হয় হিদায়াত, রহমত ও সুসংবাদ।
اِنَّ اللّٰہَ یَاۡمُرُ بِالۡعَدۡلِ وَالۡاِحۡسَانِ وَاِیۡتَآیِٔ ذِی الۡقُرۡبٰی وَیَنۡہٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَالۡمُنۡکَرِ وَالۡبَغۡیِ ۚ یَعِظُکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَذَکَّرُوۡنَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফ, দয়া এবং আত্মীয়-স্বজনকে (তাদের হক) প্রদানের হুকুম দেন আর অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও জুলুম করতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।
وَاَوۡفُوۡا بِعَہۡدِ اللّٰہِ اِذَا عٰہَدۡتُّمۡ وَلَا تَنۡقُضُوا الۡاَیۡمَانَ بَعۡدَ تَوۡکِیۡدِہَا وَقَدۡ جَعَلۡتُمُ اللّٰہَ عَلَیۡکُمۡ کَفِیۡلًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ مَا تَفۡعَلُوۡنَ
তোমরা যখন কোন অঙ্গীকার কর, তখন আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ কর। শপথকে দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করো না যখন তোমরা আল্লাহকে নিজেদের উপর সাক্ষী বানিয়ে নিয়েছ। তোমরা যা-কিছু কর, আল্লাহ নিশ্চয় তা জানেন।
وَلَا تَکُوۡنُوۡا کَالَّتِیۡ نَقَضَتۡ غَزۡلَہَا مِنۡۢ بَعۡدِ قُوَّۃٍ اَنۡکَاثًا ؕ تَتَّخِذُوۡنَ اَیۡمَانَکُمۡ دَخَلًۢا بَیۡنَکُمۡ اَنۡ تَکُوۡنَ اُمَّۃٌ ہِیَ اَرۡبٰی مِنۡ اُمَّۃٍ ؕ اِنَّمَا یَبۡلُوۡکُمُ اللّٰہُ بِہٖ ؕ وَلَیُبَیِّنَنَّ لَکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ مَا کُنۡتُمۡ فِیۡہِ تَخۡتَلِفُوۡنَ
যে নারী তার সূতা মজবুত করে পাকানোর পর পাক খুলে তা রোঁয়া-রোঁয়া করে ফেলেছিল, তোমরা তার মত হয়ো না। ফলে তোমরাও নিজেদের শপথকে (ভেঙ্গে) পরস্পরের মধ্যে অনর্থ সৃষ্টির মাধ্যম বানাবে, কেবল একদল অপর একদল অপেক্ষা বেশি লাভবান হওয়ার জন্য। আল্লাহ তো এর দ্বারা তোমাদের পরীক্ষা করে থাকেন। তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ কর, কিয়ামতের দিন তিনি তোমাদের সামনে তা স্পষ্ট করে দিবেন।
وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ لَجَعَلَکُمۡ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً وَّلٰکِنۡ یُّضِلُّ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَلَتُسۡـَٔلُنَّ عَمَّا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ
আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকে একই উম্মত (অর্থাৎ একই দীনের অনুসারী) বানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা (তার জেদী আচরণের কারণে) বিভ্রান্তিতে নিক্ষেপ করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। তোমরা যা-কিছু কর, সে সম্পর্কে তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
وَلَا تَتَّخِذُوۡۤا اَیۡمَانَکُمۡ دَخَلًۢا بَیۡنَکُمۡ فَتَزِلَّ قَدَمٌۢ بَعۡدَ ثُبُوۡتِہَا وَتَذُوۡقُوا السُّوۡٓءَ بِمَا صَدَدۡتُّمۡ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ۚ وَلَکُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ
তোমরা নিজেদের শপথকে পরস্পরের মধ্যে অনর্থ সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করো না। পরিণামে (কারও) পা স্থিত হওয়ার পর পিছলে যাবে। অতঃপর (তাকে) আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখার কারণে তোমাদেরকে কঠিন শাস্তির আস্বাদ গ্রহণ করতে হবে আর (সেক্ষেত্রে) তোমাদের জন্য থাকবে মহাশাস্তি।
وَلَا تَشۡتَرُوۡا بِعَہۡدِ اللّٰہِ ثَمَنًا قَلِیۡلًا ؕ اِنَّمَا عِنۡدَ اللّٰہِ ہُوَ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ
আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করো না। তোমরা যদি প্রকৃত সত্য উপলব্ধি কর, তবে আল্লাহর কাছে যে প্রতিদান আছে তোমাদের পক্ষে তাই শ্রেয়।
مَا عِنۡدَکُمۡ یَنۡفَدُ وَمَا عِنۡدَ اللّٰہِ بَاقٍ ؕ وَلَنَجۡزِیَنَّ الَّذِیۡنَ صَبَرُوۡۤا اَجۡرَہُمۡ بِاَحۡسَنِ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
তোমাদের কাছে যা-কিছু আছে তা নিঃশেষ হয়ে যাবে আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা স্থায়ী। যারা সবর করে, আমি তাদের উৎকৃষ্ট কাজ অনুযায়ী অবশ্যই তাদের প্রতিদান দেব।
مَنۡ عَمِلَ صَالِحًا مِّنۡ ذَکَرٍ اَوۡ اُنۡثٰی وَہُوَ مُؤۡمِنٌ فَلَنُحۡیِیَنَّہٗ حَیٰوۃً طَیِّبَۃً ۚ وَلَنَجۡزِیَنَّہُمۡ اَجۡرَہُمۡ بِاَحۡسَنِ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
যে ব্যক্তিই মুমিন থাকা অবস্থায় সৎকর্ম করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, আমি অবশ্যই তাকে উত্তম জীবন যাপন করাব এবং তাদেরকে তাদের উৎকৃষ্ট কর্ম অনুযায়ী তাদের প্রতিদান অবশ্যই প্রদান করব।
فَاِذَا قَرَاۡتَ الۡقُرۡاٰنَ فَاسۡتَعِذۡ بِاللّٰہِ مِنَ الشَّیۡطٰنِ الرَّجِیۡمِ
সুতরাং আপনি যখন কুরআন পড়বে, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করবেন।
اِنَّہٗ لَیۡسَ لَہٗ سُلۡطٰنٌ عَلَی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَلٰی رَبِّہِمۡ یَتَوَکَّلُوۡنَ
যারা ঈমান এনেছে এবং নিজ প্রতিপালকের উপর ভরসা রাখে, তাদের উপর তার কোন আধিপত্য চলে না।
اِنَّمَا سُلۡطٰنُہٗ عَلَی الَّذِیۡنَ یَتَوَلَّوۡنَہٗ وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ بِہٖ مُشۡرِکُوۡنَ ٪
তার আধিপত্য চলে কেবল এমন সব লোকের উপর যারা তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে এবং যারা আল্লাহর শরীক সাব্যস্তকারী।
وَاِذَا بَدَّلۡنَاۤ اٰیَۃً مَّکَانَ اٰیَۃٍ ۙ وَّاللّٰہُ اَعۡلَمُ بِمَا یُنَزِّلُ قَالُوۡۤا اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مُفۡتَرٍ ؕ بَلۡ اَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ
আমি যখন এক আয়াতকে অন্য আয়াত দ্বারা পরিবর্তন করি আর আল্লাহই ভালো জানে তিনি কী নাযিল করবেন, তখন তারা (কাফেরগণ) বলে, তুমি তো আল্লাহর প্রতি অপবাদ দিচ্ছ। অথচ তাদের অধিকাংশেই প্রকৃত বিষয় জানে না।
قُلۡ نَزَّلَہٗ رُوۡحُ الۡقُدُسِ مِنۡ رَّبِّکَ بِالۡحَقِّ لِیُـثَبِّتَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَہُدًی وَّبُشۡرٰی لِلۡمُسۡلِمِیۡنَ
বলে দাও, এটা (অর্থাৎ কুরআন মাজীদ) তো রূহুল কুদস (জিবরাঈল আলাইহিস সালাম) তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে নিয়ে এসেছে, ঈমানদারদেরকে দৃঢ়পদ রাখার জন্য এবং মুসলিমদের পক্ষে হিদায়াত ও সুসংবাদস্বরূপ।
وَلَقَدۡ نَعۡلَمُ اَنَّہُمۡ یَقُوۡلُوۡنَ اِنَّمَا یُعَلِّمُہٗ بَشَرٌ ؕ لِسَانُ الَّذِیۡ یُلۡحِدُوۡنَ اِلَیۡہِ اَعۡجَمِیٌّ وَّہٰذَا لِسَانٌ عَرَبِیٌّ مُّبِیۡنٌ
(হে নবী!) আমার জানা আছে যে, তারা (তোমার সম্পর্কে) বলে, তাকে তো একজন মানুষ শিক্ষা দেয়। (অথচ) তারা যার প্রতি এটা আরোপ করে তার ভাষা আরবী নয়। আর এটা (অর্থাৎ কুরআনের ভাষা) স্পষ্ট আরবী ভাষা।
اِنَّ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ ۙ لَا یَہۡدِیۡہِمُ اللّٰہُ وَلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ
যারা আল্লাহর আয়াতের উপর ঈমান রাখে না, আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত দান করেন না। তাদের জন্য আছে, যন্ত্রণাময় শাস্তি।
اِنَّمَا یَفۡتَرِی الۡکَذِبَ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ ۚ وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡکٰذِبُوۡنَ
আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ তো (নবী নয়, বরং) তারাই করে, যারা আল্লাহর আয়াতের উপর ঈমান রাখে না। প্রকৃতপক্ষে তারাই মিথ্যাবাদী।
مَنۡ کَفَرَ بِاللّٰہِ مِنۡۢ بَعۡدِ اِیۡمَانِہٖۤ اِلَّا مَنۡ اُکۡرِہَ وَقَلۡبُہٗ مُطۡمَئِنٌّۢ بِالۡاِیۡمَانِ وَلٰکِنۡ مَّنۡ شَرَحَ بِالۡکُفۡرِ صَدۡرًا فَعَلَیۡہِمۡ غَضَبٌ مِّنَ اللّٰہِ ۚ وَلَہُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ
যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পর তাঁর কুফরীতে লিপ্ত হয় অবশ্য যাকে (কুফরীর জন্য) বাধ্য করা হয়েছে, কিন্তু তার অন্তর ঈমানে স্থির সে নয়; বরং যে কুফরীর জন্য নিজ হৃদয় খুলে দিয়েছে, এরূপ লোকের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে গযব এবং তাদের জন্য আছে মহাশাস্তি।
ذٰلِکَ بِاَنَّہُمُ اسۡتَحَبُّوا الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا عَلَی الۡاٰخِرَۃِ ۙ وَاَنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡکٰفِرِیۡنَ
তা এজন্য যে, তারা আখেরাতের বিপরীতে দুনিয়ার জীবনকেই বেশি ভালোবেসেছে এবং এজন্য যে, আল্লাহ এরূপ অকৃতজ্ঞ লোকদেরকে হিদায়াতে উপনীত করেন না।
اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ طَبَعَ اللّٰہُ عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ وَسَمۡعِہِمۡ وَاَبۡصَارِہِمۡ ۚ وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡغٰفِلُوۡنَ
তারা এমন লোক, আল্লাহ যাদের অন্তর, কান ও চোখে মোহর করে দিয়েছেন এবং তারাই এমন লোক, যারা (নিজ পরিণাম সম্পর্কে) সম্পূর্ণ গাফেল।
لَا جَرَمَ اَنَّہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ
এটা সুনিশ্চিত যে, এরাই আখেরাতে সর্বাপেক্ষা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ثُمَّ اِنَّ رَبَّکَ لِلَّذِیۡنَ ہَاجَرُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا فُتِنُوۡا ثُمَّ جٰہَدُوۡا وَصَبَرُوۡۤا ۙ اِنَّ رَبَّکَ مِنۡۢ بَعۡدِہَا لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٪
যারা ফিতনায় আক্রান্ত হওয়ার পর হিজরত করেছে, তারপর জিহাদ করেছে ও সবর অবলম্বন করেছে, তোমার প্রতিপালক এসব বিষয়ের পর অবশ্যই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
یَوۡمَ تَاۡتِیۡ کُلُّ نَفۡسٍ تُجَادِلُ عَنۡ نَّفۡسِہَا وَتُوَفّٰی کُلُّ نَفۡسٍ مَّا عَمِلَتۡ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ
তা সেই দিন, যে দিন প্রত্যেক ব্যক্তি আত্মরক্ষামূলক কথা বলতে বলতে উপস্থিত হবে এবং প্রত্যেককে তার সমস্ত কর্মের পরিপূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।
وَضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا قَرۡیَۃً کَانَتۡ اٰمِنَۃً مُّطۡمَئِنَّۃً یَّاۡتِیۡہَا رِزۡقُہَا رَغَدًا مِّنۡ کُلِّ مَکَانٍ فَکَفَرَتۡ بِاَنۡعُمِ اللّٰہِ فَاَذَاقَہَا اللّٰہُ لِبَاسَ الۡجُوۡعِ وَالۡخَوۡفِ بِمَا کَانُوۡا یَصۡنَعُوۡنَ
আল্লাহ এক জনবসতির দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন, যা ছিল নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ। চতুর্দিক থেকে তার জীবিকা চলে আসত পর্যাপ্ত পরিমাণে। অতঃপর তা আল্লাহর নি‘আমতের অকৃতজ্ঞতা শুরু করে দিল। ফলে আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে ক্ষুধা ও ভীতির পোশাক আস্বাদন করালেন।
وَلَقَدۡ جَآءَہُمۡ رَسُوۡلٌ مِّنۡہُمۡ فَکَذَّبُوۡہُ فَاَخَذَہُمُ الۡعَذَابُ وَہُمۡ ظٰلِمُوۡنَ
তাদের কাছে তাদেরই মধ্য হতে একজন রাসূল এসেছিল, কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করল। সুতরাং তারা যখন জুলুমে লিপ্ত হল তখন শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করল।
فَکُلُوۡا مِمَّا رَزَقَکُمُ اللّٰہُ حَلٰلًا طَیِّبًا ۪ وَّاشۡکُرُوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ اِنۡ کُنۡتُمۡ اِیَّاہُ تَعۡبُدُوۡنَ
আল্লাহ তোমাদেরকে রিযক হিসেবে যে হালাল, পবিত্র বস্তু দিয়েছেন, তা খাও এবং আল্লাহর নি‘আমতসমূহের শোকর আদায় কর যদি তোমরা সত্যিই তাঁর ইবাদত করে থাক।
اِنَّمَا حَرَّمَ عَلَیۡکُمُ الۡمَیۡتَۃَ وَالدَّمَ وَلَحۡمَ الۡخِنۡزِیۡرِ وَمَاۤ اُہِلَّ لِغَیۡرِ اللّٰہِ بِہٖ ۚ فَمَنِ اضۡطُرَّ غَیۡرَ بَاغٍ وَّلَا عَادٍ فَاِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
তিনি তো তোমাদের জন্য কেবল মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশত এবং সেই পশু হারাম করেছেন, যাতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নাম নেওয়া হয়েছে। তবে যে ক্ষুধায় অতিষ্ঠ হয়ে যাবে এবং মজা লুটার জন্য না খাবে আর (প্রয়োজনের) সীমা অতিক্রমও না করবে, (তার পক্ষে) তো আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَلَا تَقُوۡلُوۡا لِمَا تَصِفُ اَلۡسِنَتُکُمُ الۡکَذِبَ ہٰذَا حَلٰلٌ وَّہٰذَا حَرَامٌ لِّتَفۡتَرُوۡا عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَفۡتَرُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ لَا یُفۡلِحُوۡنَ ؕ
যে সব বস্তু সম্পর্কে তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা রচনা করে, সে সম্পর্কে বলো না- এটা হালাল এবং এটা হারাম। কেননা তার অর্থ হবে তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছ। জেনে রেখ, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়, তারা সফলকাম হয় না।
مَتَاعٌ قَلِیۡلٌ ۪ وَّلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ
(দুনিয়ায়) তাদের আরাম-আয়েশ অতি সামান্য। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাময় শাস্তি।
وَعَلَی الَّذِیۡنَ ہَادُوۡا حَرَّمۡنَا مَا قَصَصۡنَا عَلَیۡکَ مِنۡ قَبۡلُ ۚ وَمَا ظَلَمۡنٰہُمۡ وَلٰکِنۡ کَانُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ یَظۡلِمُوۡنَ
ইয়াহুদীদের জন্য আমি হারাম করেছিলাম সেই সব জিনিস, যা আমি পূর্বেই তোমার নিকট উল্লেখ করেছি। আমি তাদের উপর কোন জুলুম করিনি; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করছিল।
ثُمَّ اِنَّ رَبَّکَ لِلَّذِیۡنَ عَمِلُوا السُّوۡٓءَ بِجَہَالَۃٍ ثُمَّ تَابُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ وَاَصۡلَحُوۡۤا ۙ اِنَّ رَبَّکَ مِنۡۢ بَعۡدِہَا لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٪
তা সত্ত্বেও তোমার প্রতিপালক এমন যে, যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে এবং তারপর তাওবা করে ও নিজেদেরকে শুধরিয়ে নেয়, তোমার প্রতিপালক তারপরও তাদের জন্য অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
اِنَّ اِبۡرٰہِیۡمَ کَانَ اُمَّۃً قَانِتًا لِّلّٰہِ حَنِیۡفًا ؕ وَلَمۡ یَکُ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ۙ
নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিল এক আদর্শপুরুষ আল্লাহর অনুগত, একনিষ্ঠ এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
شَاکِرًا لِّاَنۡعُمِہٖ ؕ اِجۡتَبٰہُ وَہَدٰىہُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ
সে আল্লাহর নি‘আমতের কৃতজ্ঞতা আদায়কারী ছিল। আল্লাহ তাকে মনোনীত করেছিলেন এবং তাকে সরল পথে পরিচালিত করেছিলেন।
وَاٰتَیۡنٰہُ فِی الدُّنۡیَا حَسَنَۃً ؕ وَاِنَّہٗ فِی الۡاٰخِرَۃِ لَمِنَ الصّٰلِحِیۡنَ ؕ
আমি তাকে দুনিয়ায়ও কল্যাণ দিয়েছিলাম এবং আখেরাতেও সে নিশ্চয়ই সালেহীনের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ثُمَّ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ اَنِ اتَّبِعۡ مِلَّۃَ اِبۡرٰہِیۡمَ حَنِیۡفًا ؕ وَمَا کَانَ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ
অতঃপর (হে নবী!) আমি ওহীর মাধ্যমে তোমার প্রতিও এই হুকুম নাযিল করেছি যে, তুমি ইবরাহীমের দীন অনুসরণ কর, যে নিজেকে আল্লাহরই অভিমুখী করে রেখেছিল এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
اِنَّمَا جُعِلَ السَّبۡتُ عَلَی الَّذِیۡنَ اخۡتَلَفُوۡا فِیۡہِ ؕ وَاِنَّ رَبَّکَ لَیَحۡکُمُ بَیۡنَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فِیۡمَا کَانُوۡا فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ
শনিবার সম্পর্কিত বিধান তো কেবল তাদের উপরই বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, যারা এ সম্পর্কে মতভেদ করত। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তারা যেসব বিষয়ে মতভেদ করে কিয়ামতের দিন সে সম্পর্কে মীমাংসা করবেন।
اُدۡعُ اِلٰی سَبِیۡلِ رَبِّکَ بِالۡحِکۡمَۃِ وَالۡمَوۡعِظَۃِ الۡحَسَنَۃِ وَجَادِلۡہُمۡ بِالَّتِیۡ ہِیَ اَحۡسَنُ ؕ اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ اَعۡلَمُ بِمَنۡ ضَلَّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ وَہُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُہۡتَدِیۡنَ
তুমি নিজ প্রতিপালকের পথে মানুষকে ডাকবে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে আর (যদি কখনও বিতর্কের দরকার পড়ে, তবে) তাদের সাথে বিতর্ক করবে উৎকৃষ্ট পন্থায়। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক যারা তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তাদের সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন এবং তিনি তাদের সম্পর্কেও পরিপূর্ণ জ্ঞাত, যারা সৎপথে প্রতিষ্ঠিত।
وَاِنۡ عَاقَبۡتُمۡ فَعَاقِبُوۡا بِمِثۡلِ مَا عُوۡقِبۡتُمۡ بِہٖ ؕ وَلَئِنۡ صَبَرۡتُمۡ لَہُوَ خَیۡرٌ لِّلصّٰبِرِیۡنَ
তোমরা যদি (কোন জুলুমের) প্রতিশোধ নাও, তবে ঠিক ততটুকুই নেবে, যতটুকু জুলুম তোমাদের উপর করা হয়েছে আর যদি সবর কর, তবে নিশ্চয়ই সবর অবলম্বনকারীদের পক্ষে তাই শ্রেয়।
وَاصۡبِرۡ وَمَا صَبۡرُکَ اِلَّا بِاللّٰہِ وَلَا تَحۡزَنۡ عَلَیۡہِمۡ وَلَا تَکُ فِیۡ ضَیۡقٍ مِّمَّا یَمۡکُرُوۡنَ
এবং (হে নবী!) তুমি সবর অবলম্বন কর। তোমার সবর তো আল্লাহরই সাহায্যে হবে। তুমি কাফেরদের জন্য দুঃখ করো না এবং তারা যে ষড়যন্ত্র করে তার কারণে কুণ্ঠিত হয়ো না।
اِنَّ اللّٰہَ مَعَ الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا وَّالَّذِیۡنَ ہُمۡ مُّحۡسِنُوۡنَ ٪
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরই সাথী, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা ইহসানের অধিকারী হয়।