المؤمنون

المؤمنون

আল-মুমিনুন

আয়াত ১১৮ · মক্কী · পারা ১৮

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

قَدۡ اَفۡلَحَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ۙ

নিশ্চয়ই সফলতা অর্জন করেছে মুমিনগণ

الَّذِیۡنَ ہُمۡ فِیۡ صَلَاتِہِمۡ خٰشِعُوۡنَ ۙ

যারা তাদের নামাযে আন্তরিকভাবে বিনীত।

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ عَنِ اللَّغۡوِ مُعۡرِضُوۡنَ ۙ

যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে।

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِلزَّکٰوۃِ فٰعِلُوۡنَ ۙ

যারা যাকাত সম্পাদানকারী

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِفُرُوۡجِہِمۡ حٰفِظُوۡنَ ۙ

যারা নিজ লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে

اِلَّا عَلٰۤی اَزۡوَاجِہِمۡ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُمۡ فَاِنَّہُمۡ غَیۡرُ مَلُوۡمِیۡنَ ۚ

নিজেদের স্ত্রী ও তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ছাড়া অন্য সকলের থেকে, কেননা এতে তারা নিন্দনীয় হবে না।

فَمَنِ ابۡتَغٰی وَرَآءَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡعٰدُوۡنَ ۚ

তবে কেউ এ ছাড়া অন্য কিছু কামনা করলে তারাই হবে সীমালঙ্ঘনকারী।

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِاَمٰنٰتِہِمۡ وَعَہۡدِہِمۡ رٰعُوۡنَ ۙ

এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে।

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ عَلٰی صَلَوٰتِہِمۡ یُحَافِظُوۡنَ ۘ

এবং যারা নিজেদের নামাযের পরিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করে

اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡوٰرِثُوۡنَ ۙ

এরাই হল সেই ওয়ারিশ,

الَّذِیۡنَ یَرِثُوۡنَ الۡفِرۡدَوۡسَ ؕ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ

যারা জান্নাতুল ফিরদাউসের মীরাস লাভ করবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।

وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنۡ سُلٰلَۃٍ مِّنۡ طِیۡنٍ ۚ

আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির সারাংশ দ্বারা।

ثُمَّ جَعَلۡنٰہُ نُطۡفَۃً فِیۡ قَرَارٍ مَّکِیۡنٍ ۪

তারপর তাকে স্খলিত বিন্দুরূপে এক সংরক্ষিত স্থানে রাখি।

ثُمَّ خَلَقۡنَا النُّطۡفَۃَ عَلَقَۃً فَخَلَقۡنَا الۡعَلَقَۃَ مُضۡغَۃً فَخَلَقۡنَا الۡمُضۡغَۃَ عِظٰمًا فَکَسَوۡنَا الۡعِظٰمَ لَحۡمًا ٭  ثُمَّ اَنۡشَاۡنٰہُ خَلۡقًا اٰخَرَ ؕ  فَتَبٰرَکَ اللّٰہُ اَحۡسَنُ الۡخٰلِقِیۡنَ ؕ

তারপর আমি সেই বিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করি। তারপর সেই জমাট রক্তকে গোশতপিণ্ড বানিয়ে দেই। তারপর সেই গোশতপিণ্ডকে অস্থিতে রূপান্তরিত করি। তারপর অস্থিরাজিতে গোশতের আচ্ছাদন লাগিয়ে দেই। তারপর তাকে অন্য এক সৃষ্টিরূপে গড়ে তুলি। বস্তুত সকল কারিগরের শ্রেষ্ঠ কারিগর আল্লাহ কত মহান!

ثُمَّ اِنَّکُمۡ بَعۡدَ ذٰلِکَ لَمَیِّتُوۡنَ ؕ

অতঃপর এসবের পর অবশ্যই তোমাদের মৃত্যু ঘটবে।

ثُمَّ اِنَّکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ تُبۡعَثُوۡنَ

তারপর কিয়ামতের দিন অবশ্যই তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে।

وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا فَوۡقَکُمۡ سَبۡعَ طَرَآئِقَ ٭ۖ وَمَا کُنَّا عَنِ الۡخَلۡقِ غٰفِلِیۡنَ

আমি তোমাদের উপর সৃষ্টি করেছি সাত স্তরবিশিষ্ট পথ। আর সৃষ্টি সম্বন্ধে আমি উদাসীন নই।

وَاَنۡزَلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ فَاَسۡکَنّٰہُ فِی الۡاَرۡضِ ٭ۖ  وَاِنَّا عَلٰی ذَہَابٍۭ بِہٖ لَقٰدِرُوۡنَ ۚ

আমি আকাশ থেকে পরিমিতভাবে বারি বর্ষণ করি, তারপর তা ভূমিতে সংরক্ষণ করি। নিশ্চয়ই আমি তা অপসারণ করতেও সক্ষম।

فَاَنۡشَاۡنَا لَکُمۡ بِہٖ جَنّٰتٍ مِّنۡ نَّخِیۡلٍ وَّاَعۡنَابٍ ۘ  لَکُمۡ فِیۡہَا فَوَاکِہُ کَثِیۡرَۃٌ وَّمِنۡہَا تَاۡکُلُوۡنَ ۙ

তারপর আমি তা দ্বারা তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান উৎপন্ন করি, যা দ্বারা তোমাদের প্রচুর ফল অর্জিত হয় এবং তা থেকেই তোমরা খাও।

وَشَجَرَۃً تَخۡرُجُ مِنۡ طُوۡرِ سَیۡنَآءَ تَنۡۢبُتُ بِالدُّہۡنِ وَصِبۡغٍ لِّلۡاٰکِلِیۡنَ

এবং সৃষ্টি করি সেই বৃক্ষও, যা সিনাই পর্বতে জন্ম নেয় এবং যা আহারকারীদের জন্য তেল ও ব্যঞ্জনসহ উৎপন্ন হয়।

وَاِنَّ لَکُمۡ فِی الۡاَنۡعَامِ لَعِبۡرَۃً ؕ  نُسۡقِیۡکُمۡ مِّمَّا فِیۡ بُطُوۡنِہَا وَلَکُمۡ فِیۡہَا مَنَافِعُ کَثِیۡرَۃٌ وَّمِنۡہَا تَاۡکُلُوۡنَ ۙ

নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য গবাদি পশুতে আছে শিক্ষা। তার উদরে যা আছে তা (অর্থাৎ দুধ) থেকে আমি তোমাদেরকে পান করাই এবং তার মধ্যে তোমাদের জন্য আছে বহু উপকারিতা আর তা থেকে তোমরা খাদ্য গ্রহণ কর।

وَعَلَیۡہَا وَعَلَی الۡفُلۡکِ تُحۡمَلُوۡنَ ٪

এবং তাতে ও নৌযানে তোমাদেরকে সওয়ারও করানো হয়ে থাকে।

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰی قَوۡمِہٖ فَقَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ

আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম। সুতরাং সে (তার সম্প্রদায়কে) বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ নেই। তবুও কি তোমরা ভয় করবে না?

فَقَالَ الۡمَلَؤُا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِہٖ مَا ہٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ ۙ  یُرِیۡدُ اَنۡ یَّتَفَضَّلَ عَلَیۡکُمۡ ؕ  وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ لَاَنۡزَلَ مَلٰٓئِکَۃً ۚۖ  مَّا سَمِعۡنَا بِہٰذَا فِیۡۤ اٰبَآئِنَا الۡاَوَّلِیۡنَ ۚ

তখন তার সম্প্রদায়ের কাফের প্রধানগণ (একে অপরকে) বলল, এই ব্যক্তি তোমাদেরই মত একজন মানুষ ছাড়া তো কিছু নয়। সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চায়। আল্লাহ চাইলে কোন ফেরেশতাই নাযিল করতেন। আমরা তো এমন কথা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে কখনও শুনিনি।

اِنۡ ہُوَ اِلَّا رَجُلٌۢ بِہٖ جِنَّۃٌ فَتَرَبَّصُوۡا بِہٖ حَتّٰی حِیۡنٍ

(প্রকৃতপক্ষে এ লোকটির ব্যাপার এই যে,) সে এমনই এক লোক, যার উন্মত্ততা দেখা দিয়েছে। সুতরাং তার ব্যাপারে তোমরা কিছুকাল অপেক্ষা করে দেখ (হয়ত তার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে)।

قَالَ رَبِّ انۡصُرۡنِیۡ بِمَا کَذَّبُوۡنِ

নূহ বলল, হে আমার প্রতিপালক! তারা যে আমাকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করেছে, তাতে তুমিই আমাকে সাহায্য কর।

فَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡہِ اَنِ اصۡنَعِ الۡفُلۡکَ بِاَعۡیُنِنَا وَوَحۡیِنَا فَاِذَا جَآءَ اَمۡرُنَا وَفَارَ التَّنُّوۡرُ ۙ فَاسۡلُکۡ فِیۡہَا مِنۡ کُلٍّ زَوۡجَیۡنِ اثۡنَیۡنِ وَاَہۡلَکَ اِلَّا مَنۡ سَبَقَ عَلَیۡہِ الۡقَوۡلُ مِنۡہُمۡ ۚ وَلَا تُخَاطِبۡنِیۡ فِی الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ۚ اِنَّہُمۡ مُّغۡرَقُوۡنَ

সুতরাং আমি তার কাছে ওহী পাঠালাম, তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওহী অনুসারে নৌযান নির্মাণ কর। তারপর যখন আমার হুকুম আসবে এবং তান্নুর উথলে উঠবে তখন প্রত্যেক জীব থেকে এক-এক জোড়া নিয়ে তা সেই নৌযানে তুলে নিও এবং নিজ পরিবারবর্গকেও, তবে যাদের বিরুদ্ধে আগেই সিদ্ধান্ত স্থির হয়ে গেছে তাদেরকে নয়। আর সে জালেমদের সম্বন্ধে আমার সঙ্গে কোন কথা বলবে না। নিশ্চয়ই তাদেরকে নিমজ্জিত করা হবে।

فَاِذَا اسۡتَوَیۡتَ اَنۡتَ وَمَنۡ مَّعَکَ عَلَی الۡفُلۡکِ فَقُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ نَجّٰنَا مِنَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ

তারপর যখন তুমি এবং তোমার সঙ্গীগণ নৌযানে ঠিকঠাক হয়ে বসে যাবে, তখন বলবে, শুকর আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

وَقُلۡ رَّبِّ اَنۡزِلۡنِیۡ مُنۡزَلًا مُّبٰرَکًا وَّاَنۡتَ خَیۡرُ الۡمُنۡزِلِیۡنَ

এবং বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে অবতরণ করাও বরকতময় অবতারণে। আর তুমিই শ্রেষ্ঠ অবতারণকারী।

اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ وَّاِنۡ کُنَّا لَمُبۡتَلِیۡنَ

নিশ্চয়ই এতে আছে বহু নিদর্শন। আর আমি তো তোমাদেরকে পরীক্ষা করারই ছিলাম।

ثُمَّ اَنۡشَاۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ قَرۡنًا اٰخَرِیۡنَ ۚ

অতঃপর আমি তাদের পর অন্য মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করলাম।

فَاَرۡسَلۡنَا فِیۡہِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡہُمۡ اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ  اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ ٪

এবং তাদের মধ্যে তাদেরই একজনকে রাসূল করে পাঠালাম, সে বলেছিল, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ নেই। তবুও কি তোমরা ভয় করবে না?

وَقَالَ الۡمَلَاُ مِنۡ قَوۡمِہِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَکَذَّبُوۡا بِلِقَآءِ الۡاٰخِرَۃِ وَاَتۡرَفۡنٰہُمۡ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۙ  مَا ہٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ ۙ  یَاۡکُلُ مِمَّا تَاۡکُلُوۡنَ مِنۡہُ وَیَشۡرَبُ مِمَّا تَشۡرَبُوۡنَ ۪ۙ

তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ, যারা কুফর অবলম্বন করেছিল ও আখেরাতের সাক্ষাৎকারকে অস্বীকার করেছিল এবং যাদেরকে আমি পার্থিব জীবনে প্রচুর ভোগ-সামগ্রী দিয়েছিলাম, তারা একে অন্যকে) বলল, এই ব্যক্তি তো তোমাদেরই মত একজন মানুষ। তোমরা যা খাও সে তাই খায় এবং তোমরা যা পান কর সেও তাই পান করে।

وَلَئِنۡ اَطَعۡتُمۡ بَشَرًا مِّثۡلَکُمۡ اِنَّکُمۡ اِذًا لَّخٰسِرُوۡنَ ۙ

তোমরা যদি তোমাদেরই মত একজন মানুষের আনুগত্য করে বস, তবে তোমরা নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

اَیَعِدُکُمۡ اَنَّکُمۡ اِذَا مِتُّمۡ وَکُنۡتُمۡ تُرَابًا وَّعِظَامًا اَنَّکُمۡ مُّخۡرَجُوۡنَ ۪ۙ

সে কি তোমাদেরকে এই ভয় দেখায় যে, তোমরা যখন মারা যাবে এবং মাটি ও অস্থিতে পরিণত হবে, তখন তোমাদেরকে পুনরায় (মাটি থেকে) বের করা হবে?

ہَیۡہَاتَ ہَیۡہَاتَ لِمَا تُوۡعَدُوۡنَ ۪ۙ

তোমাদেরকে যে বিষয়ের ভয় দেখান হচ্ছে, সেটা তো সম্পূর্ণ অসম্ভব ও অকল্পনীয় ব্যাপার।

اِنۡ ہِیَ اِلَّا حَیَاتُنَا الدُّنۡیَا نَمُوۡتُ وَنَحۡیَا وَمَا نَحۡنُ بِمَبۡعُوۡثِیۡنَ ۪ۙ

জীবন তো এই ইহজীবনই, আর কিছু নয়। (এখানেই) আমরা মরি ও বাঁচি। আমাদেরকে ফের জীবিত করা যাবে না।

اِنۡ ہُوَ اِلَّا رَجُلُۨ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا وَّمَا نَحۡنُ لَہٗ بِمُؤۡمِنِیۡنَ

(আর এই যে ব্যক্তি) এ তো এমনই এক লোক, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। আমরা এর প্রতি ঈমান আনার নই।

قَالَ رَبِّ انۡصُرۡنِیۡ بِمَا کَذَّبُوۡنِ

নবী বলল, হে আমার প্রতিপালক! তারা যে আমাকে মিথ্যুক ঠাওরিয়েছে, সে ব্যাপারে তুমিই আমাকে সাহায্য কর।

قَالَ عَمَّا قَلِیۡلٍ لَّیُصۡبِحُنَّ نٰدِمِیۡنَ ۚ

আল্লাহ বললেন, অল্পকালের ভেতরই তারা নিশ্চিত অনুতপ্ত হবে।

فَاَخَذَتۡہُمُ الصَّیۡحَۃُ بِالۡحَقِّ فَجَعَلۡنٰہُمۡ غُثَآءً ۚ فَبُعۡدًا لِّلۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ

সুতরাং সত্যিই তাদেরকে এক মহানাদ আক্রান্ত করে এবং আমি তাদেরকে আবর্জনায় পরিণত করি। সুতরাং এরূপ জালেম সম্প্রদায়ের প্রতি অভিশাপ।

ثُمَّ اَنۡشَاۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ قُرُوۡنًا اٰخَرِیۡنَ ؕ

অতঃপর আমি তাদের পর অন্যান্য মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করি।

مَا تَسۡبِقُ مِنۡ اُمَّۃٍ اَجَلَہَا وَمَا یَسۡتَاۡخِرُوۡنَ ؕ

কোন জাতিই তার নির্ধারিত কালের আগেও যেতে পারে না এবং তার পরেও থাকতে পারে না।

ثُمَّ اَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا تَتۡرَا ؕ کُلَّ مَا جَآءَ اُمَّۃً رَّسُوۡلُہَا کَذَّبُوۡہُ فَاَتۡبَعۡنَا بَعۡضَہُمۡ بَعۡضًا وَّجَعَلۡنٰہُمۡ اَحَادِیۡثَ ۚ فَبُعۡدًا لِّقَوۡمٍ لَّا یُؤۡمِنُوۡنَ

অতঃপর আমি আমার রাসূলগণকে পাঠাতে থাকি একের পর এক। যখনই কোন সম্প্রদায়ের কাছে তাদের রাসূল এসেছে, তারা অবশ্যই তাকে মিথ্যাবাদী বলেছে। সুতরাং আমিও তাদের একের পর এককে ধ্বংস করে দেই এবং তাদেরকে পরিণত করি কিস্সা-কাহিনীতে। অতএব অভিশাপ সেই সম্প্রদায়ের প্রতি, যারা ঈমান আনে না।

ثُمَّ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰی وَاَخَاہُ ہٰرُوۡنَ ۬ۙ  بِاٰیٰتِنَا وَسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ ۙ

অতঃপর আমি মূসা ও তার ভাই হারূনকে আমার নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ

اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۠ئِہٖ فَاسۡتَکۡبَرُوۡا وَکَانُوۡا قَوۡمًا عَالِیۡنَ ۚ

ফির‘আউন ও তার সরদারদের কাছে পাঠালাম। কিন্তু তারা অহংকার প্রদর্শন করল। বস্তুত তারা ছিল এক দাম্ভিক সম্প্রদায়।

فَقَالُوۡۤا اَنُؤۡمِنُ لِبَشَرَیۡنِ مِثۡلِنَا وَقَوۡمُہُمَا لَنَا عٰبِدُوۡنَ ۚ

অতঃপর তারা বলল, আমরা কি আমাদেরই মত দু’জন মানুষের প্রতি ঈমান আনব, অথচ তাদের সম্প্রদায় আমাদের দাসত্ব করছে?

فَکَذَّبُوۡہُمَا فَکَانُوۡا مِنَ الۡمُہۡلَکِیۡنَ

এভাবে তারা তাদেরকে অস্বীকার করল এবং শেষ পর্যন্ত তারাও ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হল।

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ لَعَلَّہُمۡ یَہۡتَدُوۡنَ

আর আমি মূসাকে দিয়েছিলাম কিতাব, যাতে তারা হেদায়াত লাভ করে।

وَجَعَلۡنَا ابۡنَ مَرۡیَمَ وَاُمَّہٗۤ اٰیَۃً وَّاٰوَیۡنٰہُمَاۤ اِلٰی رَبۡوَۃٍ ذَاتِ قَرَارٍ وَّمَعِیۡنٍ ٪

এবং আমি মারয়ামের পুত্র ও তার মাকে (অর্থাৎ হযরত ঈসা ও মারয়াম আলাইহিমাস সালামকে) বানিয়েছিলাম এক নিদর্শন এবং তাদেরকে এমন এক উচ্চভূমিতে আশ্রয় দিয়েছিলাম, যা ছিল শান্তিপূর্ণ এবং যেখানে প্রবাহিত ছিল স্বচ্ছ পানি।

یٰۤاَیُّہَا الرُّسُلُ کُلُوۡا مِنَ الطَّیِّبٰتِ وَاعۡمَلُوۡا صَالِحًا ؕ  اِنِّیۡ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ عَلِیۡمٌ ؕ

হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তুসমূহ হতে (যা ইচ্ছা) খাও ও সৎকর্ম কর। তোমরা যা কর নিশ্চয়ই আমি সে সম্পর্কে পূর্ণ অবগত।

وَاِنَّ ہٰذِہٖۤ اُمَّتُکُمۡ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً وَّاَنَا رَبُّکُمۡ فَاتَّقُوۡنِ

বস্তুত এটাই তোমাদের দীন, (সকলের জন্য) একই দীন! আর আমি তোমাদের প্রতিপালক। সুতরাং আমাকে ভয় কর।

فَتَقَطَّعُوۡۤا اَمۡرَہُمۡ بَیۡنَہُمۡ زُبُرًا ؕ کُلُّ حِزۡبٍۭ بِمَا لَدَیۡہِمۡ فَرِحُوۡنَ

কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে (বিবাদ-বিসম্বাদে লিপ্ত হয়ে) তাদের দীনকে বহু খণ্ডে বিভক্ত করে ফেলল। প্রতিটি দল নিজেদের ভাবনা মতে যে পন্থা অবলম্বন করেছে তা নিয়েই উৎফুল্ল।

فَذَرۡہُمۡ فِیۡ غَمۡرَتِہِمۡ حَتّٰی حِیۡنٍ

সুতরাং (হে রাসূল!) তাদেরকে নির্দিষ্ট এক কাল পর্যন্ত নিজেদের অজ্ঞতার ভেতর নিমজ্জিত থাকতে দাও।

اَیَحۡسَبُوۡنَ اَنَّمَا نُمِدُّہُمۡ بِہٖ مِنۡ مَّالٍ وَّبَنِیۡنَ ۙ

তারা কি মনে করে আমি তাদেরকে যে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে যাচ্ছি

نُسَارِعُ لَہُمۡ فِی الۡخَیۡرٰتِ ؕ بَلۡ لَّا یَشۡعُرُوۡنَ

তা দ্বারা তাদের কল্যাণ সাধনে ত্বরা দেখাচ্ছি? না, বরং (প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে) তাদের কোন অনুভূতি নেই।

اِنَّ الَّذِیۡنَ ہُمۡ مِّنۡ خَشۡیَۃِ رَبِّہِمۡ مُّشۡفِقُوۡنَ ۙ

নিশ্চয়ই যারা নিজ প্রতিপালকের ভয়ে ভীত

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ بِاٰیٰتِ رَبِّہِمۡ یُؤۡمِنُوۡنَ ۙ

এবং যারা নিজ প্রতিপালকের আয়াতসমূহে ঈমান রাখে

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ بِرَبِّہِمۡ لَا یُشۡرِکُوۡنَ ۙ

এবং যারা নিজ প্রতিপালকের সাথে কাউকে শরীক করে না

وَالَّذِیۡنَ یُؤۡتُوۡنَ مَاۤ اٰتَوۡا وَّقُلُوۡبُہُمۡ وَجِلَۃٌ اَنَّہُمۡ اِلٰی رَبِّہِمۡ رٰجِعُوۡنَ ۙ

এবং যারা যে-কোন কাজই করে, তা করার সময় তাদের অন্তর এই ভয়ে ভীত থাকে যে, তাদেরকে নিজ প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে,

اُولٰٓئِکَ یُسٰرِعُوۡنَ فِی الۡخَیۡرٰتِ وَہُمۡ لَہَا سٰبِقُوۡنَ

তারাই কল্যাণার্জনে তৎপরতা প্রদর্শন করছে এবং তারাই সে দিকে অগ্রসর হচ্ছে দ্রুতগতিতে।

وَلَا نُکَلِّفُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَہَا وَلَدَیۡنَا کِتٰبٌ یَّنۡطِقُ بِالۡحَقِّ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ

আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত কাজের দায়িত্ব দেই না। আমার কাছে আছে এক কিতাব, যা (সকলের অবস্থা) যথাযথভাবে বলে দেবে এবং তাদের প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।

بَلۡ قُلُوۡبُہُمۡ فِیۡ غَمۡرَۃٍ مِّنۡ ہٰذَا وَلَہُمۡ اَعۡمَالٌ مِّنۡ دُوۡنِ ذٰلِکَ ہُمۡ لَہَا عٰمِلُوۡنَ

কিন্তু তাদের অন্তর এ বিষয়ে উদাসীনতায় নিমজ্জিত। এছাড়া তাদের আরও বহু দুষ্কর্ম আছে, যা তারা করে থাকে।

حَتّٰۤی اِذَاۤ اَخَذۡنَا مُتۡرَفِیۡہِمۡ بِالۡعَذَابِ اِذَا ہُمۡ یَجۡـَٔرُوۡنَ ؕ

অবশেষে আমি যখন তাদের ঐশ্বর্যশালী ব্যক্তিদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করব, তখন তারা আর্তনাদ করে উঠবে।

لَا تَجۡـَٔرُوا الۡیَوۡمَ ۟ اِنَّکُمۡ مِّنَّا لَا تُنۡصَرُوۡنَ

এখন আর্তনাদ করো না। আমার পক্ষ হতে তোমরা কোন সাহায্য পাবে না।

قَدۡ کَانَتۡ اٰیٰتِیۡ تُتۡلٰی عَلَیۡکُمۡ فَکُنۡتُمۡ عَلٰۤی اَعۡقَابِکُمۡ تَنۡکِصُوۡنَ ۙ

আমার আয়াতসমূহ তোমাদেরকে পড়ে শোনানো হত। কিন্তু তোমরা পিছন ফিরে সরে পড়তে

مُسۡتَکۡبِرِیۡنَ ٭ۖ بِہٖ سٰمِرًا تَہۡجُرُوۡنَ

অত্যন্ত অহমিকার সাথে এ সম্পর্কে (অর্থাৎ কুরআন সম্পর্কে) রাতের বেলা বেহুদা গল্প-গুজব করতে।

اَفَلَمۡ یَدَّبَّرُوا الۡقَوۡلَ اَمۡ جَآءَہُمۡ مَّا لَمۡ یَاۡتِ اٰبَآءَہُمُ الۡاَوَّلِیۡنَ ۫

তবে কি তারা এ বাণীর ভেতর চিন্তা করেনি নাকি তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে, যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?

اَمۡ لَمۡ یَعۡرِفُوۡا رَسُوۡلَہُمۡ فَہُمۡ لَہٗ مُنۡکِرُوۡنَ ۫

নাকি তারা তাদের রাসূলকে (আগে থেকে) চিনত না, ফলে তাকে অস্বীকার করছে?

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ بِہٖ جِنَّۃٌ ؕ بَلۡ جَآءَہُمۡ بِالۡحَقِّ وَاَکۡثَرُہُمۡ لِلۡحَقِّ کٰرِہُوۡنَ

নাকি তারা বলে, সে (অর্থাৎ রাসূল) উন্মাদগ্রস্ত? না, বরং (প্রকৃত ব্যাপার হল) সে তাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছে এবং তাদের অধিকাংশ সত্য পছন্দ করে না।

وَلَوِ اتَّبَعَ الۡحَقُّ اَہۡوَآءَہُمۡ لَفَسَدَتِ السَّمٰوٰتُ وَالۡاَرۡضُ وَمَنۡ فِیۡہِنَّ ؕ  بَلۡ اَتَیۡنٰہُمۡ بِذِکۡرِہِمۡ فَہُمۡ عَنۡ ذِکۡرِہِمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ ؕ

সত্য যদি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুগামী হত, তবে আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এতে বসবাসকারী সবকিছুই বিপর্যস্ত হয়ে যেত। প্রকৃতপক্ষে আমি তাদের কাছে তাদের উপদেশবাণী নিয়ে এসেছি, কিন্তু তারা নিজেদের উপদেশবাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।

اَمۡ تَسۡـَٔلُہُمۡ خَرۡجًا فَخَرَاجُ رَبِّکَ خَیۡرٌ ٭ۖ وَّہُوَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ

নাকি (তাদের অস্বীকৃতির কারণ এই যে,) তুমি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও? কিন্তু (এটাও তো গলদ। কেননা) তোমার প্রতিপালক প্রদত্ত প্রতিদানই (তোমার পক্ষে) উৎকৃষ্ট। তিনি শ্রেষ্ঠতম রিযিকদাতা।

وَاِنَّکَ لَتَدۡعُوۡہُمۡ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ

বস্তুত তুমি তাদেরকে ডাকছ সরল পথের দিকে।

وَاِنَّ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ عَنِ الصِّرَاطِ لَنٰکِبُوۡنَ

যারা আখেরাতে বিশ্বাস রাখে না, তারা তো পথ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত।

وَلَوۡ رَحِمۡنٰہُمۡ وَکَشَفۡنَا مَا بِہِمۡ مِّنۡ ضُرٍّ لَّلَجُّوۡا فِیۡ طُغۡیَانِہِمۡ یَعۡمَہُوۡنَ

আমি যদি তাদের প্রতি দয়া করি এবং তারা যে দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত আছে তা দূর করে দেই, তবুও তারা বিভ্রান্ত হয়ে নিজেদের অবাধ্যতায় গোঁ ধরে থাকে।

وَلَقَدۡ اَخَذۡنٰہُمۡ بِالۡعَذَابِ فَمَا اسۡتَکَانُوۡا لِرَبِّہِمۡ وَمَا یَتَضَرَّعُوۡنَ

আমি তো তাদেরকে (একবার) শাস্তিতে ধৃত করেছিলাম। তখনও তারা নিজ প্রতিপালকের সামনে নত হয়নি এবং তারা তো কোন রকম অনুনয়-বিনয় করে না।

حَتّٰۤی اِذَا فَتَحۡنَا عَلَیۡہِمۡ بَابًا ذَا عَذَابٍ شَدِیۡدٍ اِذَا ہُمۡ فِیۡہِ مُبۡلِسُوۡنَ ٪

অবশেষে যখন আমি তাদের জন্য কঠিন শাস্তির দুয়ার খুলে দেব, তখন সহসা তারা তাতে হতাশ হয়ে পড়বে।

وَہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡشَاَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَۃَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَشۡکُرُوۡنَ

আল্লাহই তো সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তর সৃষ্টি করেছেন, (কিন্তু) তোমরা বড় কমই শুকর আদায় কর।

وَہُوَ الَّذِیۡ ذَرَاَکُمۡ فِی الۡاَرۡضِ وَاِلَیۡہِ تُحۡشَرُوۡنَ

তিনিই তো তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তারই কাছে তোমাদেরকে একত্র করা হবে।

وَہُوَ الَّذِیۡ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ وَلَہُ اخۡتِلَافُ الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ

তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। রাত ও দিনের পরিবর্তন তাঁরই নিয়ন্ত্রণে। তবুও কি তোমরা বুদ্ধি কাজে লাগাবে না?

بَلۡ قَالُوۡا مِثۡلَ مَا قَالَ الۡاَوَّلُوۡنَ

বরং তারাও সে রকম কথাই বলে, যেমন বলেছিল পূর্বেকার লোকে।

قَالُوۡۤا ءَاِذَا مِتۡنَا وَکُنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا ءَاِنَّا لَمَبۡعُوۡثُوۡنَ

তারা বলে, আমরা যখন মারা যাব এবং মাটি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখনও কি আমাদেরকে পুনর্জীবিত করে তোলা হবে?

لَقَدۡ وُعِدۡنَا نَحۡنُ وَاٰبَآؤُنَا ہٰذَا مِنۡ قَبۡلُ اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ

এই প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে আমাদেরকে এবং পূর্বে আমাদের বাপ-দাদাদেরকেও। বস্তুত এটা পূর্ববর্তীদের তৈরি করা উপকথা ছাড়া কিছুই নয়।

قُلۡ لِّمَنِ الۡاَرۡضُ وَمَنۡ فِیۡہَاۤ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ

(হে রাসূল! তাদেরকে) বল, এই পৃথিবী এবং এতে যারা বাস করছে তারা কার মালিকানায়, যদি তোমরা জান?

سَیَقُوۡلُوۡنَ لِلّٰہِ ؕ قُلۡ اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ

তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহর। বল, তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?

قُلۡ مَنۡ رَّبُّ السَّمٰوٰتِ السَّبۡعِ وَرَبُّ الۡعَرۡشِ الۡعَظِیۡمِ

বল, কে সাত আকাশের মালিক এবং মহা আরশের মালিক?

سَیَقُوۡلُوۡنَ لِلّٰہِ ؕ قُلۡ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ

তারা অবশ্যই বলবে, এসব আল্লাহর। বল, তবুও কি তোমরা (আল্লাহকে) ভয় করবে না?

قُلۡ مَنۡۢ بِیَدِہٖ مَلَکُوۡتُ کُلِّ شَیۡءٍ وَّہُوَ یُجِیۡرُ وَلَا یُجَارُ عَلَیۡہِ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ

বল, কে তিনি, যার হাতে সবকিছুর পূর্ণ কর্তৃত্ব এবং যিনি আশ্রয় দান করেন এবং তার বিপরীতে কেউ কাউকে আশ্রয় দিতে পারে না (বল) যদি জান?

سَیَقُوۡلُوۡنَ لِلّٰہِ ؕ قُلۡ فَاَنّٰی تُسۡحَرُوۡنَ

তারা অবশ্যই বলবে, (সমস্ত কর্তৃত্ব) আল্লাহর। বল, তবে কোথা হতে তোমরা যাদুগ্রস্ত হচ্ছ?

بَلۡ اَتَیۡنٰہُمۡ بِالۡحَقِّ وَاِنَّہُمۡ لَکٰذِبُوۡنَ

না, (এটা উপকথা নয়); বরং আমি তাদের কাছে সত্য পৌঁছিয়েছি। কিন্তু তারা তো মিথ্যাবাদী।

مَا اتَّخَذَ اللّٰہُ مِنۡ وَّلَدٍ وَّمَا کَانَ مَعَہٗ مِنۡ اِلٰہٍ اِذًا لَّذَہَبَ کُلُّ اِلٰہٍۭ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعۡضُہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ ؕ  سُبۡحٰنَ اللّٰہِ عَمَّا یَصِفُوۡنَ ۙ

আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তার সঙ্গে নেই অন্য কোন মাবুদ। সে রকম হলে প্রত্যেক মাবুদ নিজ মাখলুক নিয়ে পৃথক হয়ে যেত, তারপর তারা একে অন্যের উপর আধিপত্য বিস্তার করত। তারা যা বলে, তা হতে আল্লাহ পবিত্র,

عٰلِمِ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ فَتَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ٪

(সেই আল্লাহ), যিনি যাবতীয় গুপ্ত ও প্রকাশ্য বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞাত। সুতরাং তিনি তাদের শিরক থেকে বহু উর্ধ্বে।

قُلۡ رَّبِّ اِمَّا تُرِیَنِّیۡ مَا یُوۡعَدُوۡنَ ۙ

(হে রাসূল!) বল, হে আমার প্রতিপালক! তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যে আযাবের ধমকি দেওয়া হচ্ছে, আপনি যদি আমার চোখের সামনেই তা নিয়ে আসেন

رَبِّ فَلَا تَجۡعَلۡنِیۡ فِی الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ

তবে হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে ওই জালেম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।

وَاِنَّا عَلٰۤی اَنۡ نُّرِیَکَ مَا نَعِدُہُمۡ لَقٰدِرُوۡنَ

আমি তাদেরকে যে বিষয়ে ধমক দিচ্ছি, তা তোমার চোখের সামনেই ঘটাতে আমি অবশ্যই সক্ষম।

اِدۡفَعۡ بِالَّتِیۡ ہِیَ اَحۡسَنُ السَّیِّئَۃَ ؕ نَحۡنُ اَعۡلَمُ بِمَا یَصِفُوۡنَ

(কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত সে সময় না আসছে) তুমি মন্দকে প্রতিহত করবে এমন পন্থায়, যা হবে উৎকৃষ্ট। তারা যেসব কথা বলছে, তা আমি ভালোভাবে জানি।

وَقُلۡ رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ ہَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ ۙ

এবং দোয়া কর, হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।

وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ

হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।

حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَحَدَہُمُ الۡمَوۡتُ قَالَ رَبِّ ارۡجِعُوۡنِ ۙ

পরিশেষে যখন তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন তারা বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ওয়াপস পাঠিয়ে দিন

لَعَلِّیۡۤ اَعۡمَلُ صَالِحًا فِیۡمَا تَرَکۡتُ کَلَّا ؕ اِنَّہَا کَلِمَۃٌ ہُوَ قَآئِلُہَا ؕ وَمِنۡ وَّرَآئِہِمۡ بَرۡزَخٌ اِلٰی یَوۡمِ یُبۡعَثُوۡنَ

যাতে আমি যা (অর্থাৎ যে দুনিয়া) ছেড়ে এসেছি সেখানে গিয়ে সৎকাজ করতে পারি। কখনও না। এটা একটা কথার কথা, যা সে মুখে বলছে মাত্র। তাদের (অর্থাৎ মৃতদের) সামনে রয়েছে ‘বরযখ’ যা তাদেরকে পুনরুত্থিত করার দিন পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে।

فَاِذَا نُفِخَ فِی الصُّوۡرِ فَلَاۤ اَنۡسَابَ بَیۡنَہُمۡ یَوۡمَئِذٍ وَّلَا یَتَسَآءَلُوۡنَ

অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, তখন তাদের মধ্যকার কোন আত্মীয়তা বাকি থাকবে না এবং কেউ কাউকে কিছু জিজ্ঞেসও করবে না।

فَمَنۡ ثَقُلَتۡ مَوَازِیۡنُہٗ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ

তখন যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলকাম হবে।

وَمَنۡ خَفَّتۡ مَوَازِیۡنُہٗ فَاُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ فِیۡ جَہَنَّمَ خٰلِدُوۡنَ ۚ

আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই এমন, যারা নিজেদের জন্য লোকসানের ব্যবসা করেছিল। তারা সদা-সর্বদা জাহান্নামে থাকবে।

تَلۡفَحُ وُجُوۡہَہُمُ النَّارُ وَہُمۡ فِیۡہَا کٰلِحُوۡنَ

আগুন তাদের চেহারা ঝলসে দেবে এবং তাতে তাদের আকৃতি বিকৃত হয়ে যাবে।

اَلَمۡ تَکُنۡ اٰیٰتِیۡ تُتۡلٰی عَلَیۡکُمۡ فَکُنۡتُمۡ بِہَا تُکَذِّبُوۡنَ

(তাদেরকে বলা হবে) তোমাদেরকে কি আমার আয়াতসমূহ পড়ে শোনানো হত না? কিন্তু তোমরা তা অবিশ্বাস করতে।

قَالُوۡا رَبَّنَا غَلَبَتۡ عَلَیۡنَا شِقۡوَتُنَا وَکُنَّا قَوۡمًا ضَآلِّیۡنَ

তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উপর আমাদের দুর্ভাগ্য ছেয়ে গিয়েছিল এবং আমরা ছিলাম বিপথগামী সম্প্রদায়।

رَبَّنَاۤ اَخۡرِجۡنَا مِنۡہَا فَاِنۡ عُدۡنَا فَاِنَّا ظٰلِمُوۡنَ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এখান থেকে উদ্ধার করুন। অতঃপর পুনরায় যদি আমরা সেই কাজই করি, তবে অবশ্যই আমরা জালেম হব।

قَالَ اخۡسَـُٔوۡا فِیۡہَا وَلَا تُکَلِّمُوۡنِ

আল্লাহ বলবেন, এরই মধ্যে তোমরা হীন অবস্থায় পড়ে থাক এবং আমার সাথে কথা বলো না।

اِنَّہٗ کَانَ فَرِیۡقٌ مِّنۡ عِبَادِیۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغۡفِرۡ لَنَا وَارۡحَمۡنَا وَاَنۡتَ خَیۡرُ الرّٰحِمِیۡنَ ۚۖ

আমার বান্দাদের একটি দল দোয়া করত, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।

فَاتَّخَذۡتُمُوۡہُمۡ سِخۡرِیًّا حَتّٰۤی اَنۡسَوۡکُمۡ ذِکۡرِیۡ وَکُنۡتُمۡ مِّنۡہُمۡ تَضۡحَکُوۡنَ

তোমরা তখন তাদেরকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছিলে। এমনকি তা (অর্থাৎ তাদেরকে উত্ত্যক্তকরণ) তোমাদেরকে আমার স্মরণ পর্যন্ত ভুলিয়ে দিয়েছিল। আর তোমরা তাদেরকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টায় লিপ্ত থাকতে।

اِنِّیۡ جَزَیۡتُہُمُ الۡیَوۡمَ بِمَا صَبَرُوۡۤا ۙ اَنَّہُمۡ ہُمُ الۡفَآئِزُوۡنَ

তারা যে সবর করেছিল সে কারণে আজ আমি তাদেরকে এমন প্রতিদান দিলাম যে, তারাই হয়ে গেল কৃতকার্য।

قٰلَ کَمۡ لَبِثۡتُمۡ فِی الۡاَرۡضِ عَدَدَ سِنِیۡنَ

(তারপর) আল্লাহ (জাহান্নামীদেরকে) বলবেন, তোমরা পৃথিবীতে বছরের গণনায় কত কাল থেকেছ?

قَالُوۡا لَبِثۡنَا یَوۡمًا اَوۡ بَعۡضَ یَوۡمٍ فَسۡـَٔلِ الۡعَآدِّیۡنَ

তারা বলবে, আমরা এক দিন বা এক দিনেরও কম থেকেছি। (আমাদের ভালো মনে নেই) কাজেই যারা (সময়) গুনেছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন।

قٰلَ اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا قَلِیۡلًا لَّوۡ اَنَّکُمۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ

আল্লাহ বলবেন, তোমরা অল্পকালই থেকেছিলে। কতই না ভালো হত যদি এ বিষয়টা তোমরা (আগেই) বুঝতে!

اَفَحَسِبۡتُمۡ اَنَّمَا خَلَقۡنٰکُمۡ عَبَثًا وَّاَنَّکُمۡ اِلَیۡنَا لَا تُرۡجَعُوۡنَ

তবে কি তোমরা মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অহেতুক সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না?

فَتَعٰلَی اللّٰہُ الۡمَلِکُ الۡحَقُّ ۚ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ رَبُّ الۡعَرۡشِ الۡکَرِیۡمِ

অতি মহিমময় আল্লাহ, যিনি প্রকৃত বাদশাহ। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক।

وَمَنۡ یَّدۡعُ مَعَ اللّٰہِ اِلٰـہًا اٰخَرَ ۙ لَا بُرۡہَانَ لَہٗ بِہٖ ۙ فَاِنَّمَا حِسَابُہٗ عِنۡدَ رَبِّہٖ ؕ اِنَّہٗ لَا یُفۡلِحُ الۡکٰفِرُوۡنَ

যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদকে ডাকে, যে সম্পর্কে তার কাছে কোন রকম দলীল-প্রমাণ নেই, তার হিসাব তার প্রতিপালকের নিকট আছে। জেনে রেখ, কাফেরগণ সফলকাম হতে পারে না।

وَقُلۡ رَّبِّ اغۡفِرۡ وَارۡحَمۡ وَاَنۡتَ خَیۡرُ الرّٰحِمِیۡنَ ٪

(হে রাসূল!) বল, হে আমার প্রতিপালক, আমার ত্রুটিসমূহ ক্ষমা কর ও দয়া কর। তুমি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।