الفرقان
আল-ফুরকান
আয়াত ৭৭ · মক্কী · পারা ১৮
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
تَبٰرَکَ الَّذِیۡ نَزَّلَ الۡفُرۡقَانَ عَلٰی عَبۡدِہٖ لِیَکُوۡنَ لِلۡعٰلَمِیۡنَ نَذِیۡرَا ۙ
মহিমময় সেই সত্তা, যিনি নিজ বান্দার প্রতি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে মীমাংসাকারী কিতাব নাযিল করেছেন, যাতে তা বিশ্ববাসীর জন্য হয় সতর্ককারী।
ۣالَّذِیۡ لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَلَمۡ یَتَّخِذۡ وَلَدًا وَّلَمۡ یَکُنۡ لَّہٗ شَرِیۡکٌ فِی الۡمُلۡکِ وَخَلَقَ کُلَّ شَیۡءٍ فَقَدَّرَہٗ تَقۡدِیۡرًا
সেই সত্তা, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের একমাত্র মালিক। যিনি কোন পুত্র গ্রহণ করেননি এবং রাজত্বে নেই তাঁর কোন অংশীদার। আর যিনি প্রতিটি বস্তুকে সৃষ্টি করে তাকে দান করেছেন এক সুনির্দিষ্ট পরিমিতি।
وَاتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اٰلِہَۃً لَّا یَخۡلُقُوۡنَ شَیۡئًا وَّہُمۡ یُخۡلَقُوۡنَ وَلَا یَمۡلِکُوۡنَ لِاَنۡفُسِہِمۡ ضَرًّا وَّلَا نَفۡعًا وَّلَا یَمۡلِکُوۡنَ مَوۡتًا وَّلَا حَیٰوۃً وَّلَا نُشُوۡرًا
আর মানুষ তাকে ছেড়ে এমন সব মাবুদ গ্রহণ করে নিয়েছে, যারা কোন কিছু সৃষ্টি করতে পারে না; বরং খোদ তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়। তাদের নেই খোদ নিজেদেরও কোন ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা। আর না আছে কারও মৃত্যু ও জীবন দান কিংবা কাউকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতা।
وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اِفۡکُۨ افۡتَرٰىہُ وَاَعَانَہٗ عَلَیۡہِ قَوۡمٌ اٰخَرُوۡنَ ۚۛ فَقَدۡ جَآءُوۡ ظُلۡمًا وَّزُوۡرًا ۚۛ
যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা বলে, এটা (অর্থাৎ কুরআন) এক মনগড়া জিনিস ছাড়া কিছুই নয়, যা সে নিজে রচনা করেছে এবং অপর এক গোষ্ঠী তাকে এ কাজে সাহায্য করেছে। এভাবে (এ মন্তব্য করে) তারা ঘোর জুলুম ও প্রকাশ্য মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে।
وَقَالُوۡۤا اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ اکۡتَتَبَہَا فَہِیَ تُمۡلٰی عَلَیۡہِ بُکۡرَۃً وَّاَصِیۡلًا
এবং তারা বলে, এটা তো পূর্ববর্তী লোকদের লেখা আখ্যান, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে। সকাল-সন্ধ্যায় সেটাই তার সামনে পড়ে শোনানো হয়।
قُلۡ اَنۡزَلَہُ الَّذِیۡ یَعۡلَمُ السِّرَّ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ اِنَّہٗ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا
বলে দাও, এটা (এই বাণী) তো নাযিল করেছেন সেই সত্তা, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর যাবতীয় গুপ্ত রহস্য জানেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَقَالُوۡا مَالِ ہٰذَا الرَّسُوۡلِ یَاۡکُلُ الطَّعَامَ وَیَمۡشِیۡ فِی الۡاَسۡوَاقِ ؕ لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡہِ مَلَکٌ فَیَکُوۡنَ مَعَہٗ نَذِیۡرًا ۙ
এবং তারা বলে, এ কেমন রাসূল, যে খাবার খায় এবং হাটে-বাজারেও চলাফেরা করে? তার কাছে কোন ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হল না কেন, যে তার সঙ্গে থাকত একজন সতর্ককারীরূপে?
اَوۡ یُلۡقٰۤی اِلَیۡہِ کَنۡزٌ اَوۡ تَکُوۡنُ لَہٗ جَنَّۃٌ یَّاۡکُلُ مِنۡہَا ؕ وَقَالَ الظّٰلِمُوۡنَ اِنۡ تَتَّبِعُوۡنَ اِلَّا رَجُلًا مَّسۡحُوۡرًا
অথবা তাকে কোন ধনভাণ্ডারই দেওয়া হত কিংবা তার থাকত কোন বাগান, যা থেকে সে খেতে পারত? জালেমগণ (মুসলিমদেরকে) আরও বলে, তোমরা তো একজন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ।
اُنۡظُرۡ کَیۡفَ ضَرَبُوۡا لَکَ الۡاَمۡثَالَ فَضَلُّوۡا فَلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ سَبِیۡلًا ٪
(হে নবী!) দেখ, তারা তোমার সম্পর্কে কেমন সব উপমা পেশ করছে! ফলে তারা এমনই বিভ্রান্ত হয়েছে যে, সঠিক পথে আসা তাদের পক্ষে সম্ভবই নয়।
تَبٰرَکَ الَّذِیۡۤ اِنۡ شَآءَ جَعَلَ لَکَ خَیۡرًا مِّنۡ ذٰلِکَ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ۙ وَیَجۡعَلۡ لَّکَ قُصُوۡرًا
মহিমময় সেই সত্তা, যিনি ইচ্ছা করলে তোমাকে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট জিনিস দিতে পারেন। (কেবল একটি নয়) দিতে পারেন এমন বহু বাগান, যার নিচে বহমান থাকবে নদ-নদী এবং তোমাকে বানাতে পারেন বহু অট্টালিকার মালিক।
بَلۡ کَذَّبُوۡا بِالسَّاعَۃِ ۟ وَاَعۡتَدۡنَا لِمَنۡ کَذَّبَ بِالسَّاعَۃِ سَعِیۡرًا ۚ
প্রকৃত ব্যাপার হল, তারা কিয়ামতকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে, আর যে-কেউ কিয়ামতকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে আমি তার জন্য প্রজ্বলিত আগুন তৈরি করে রেখেছি।
اِذَا رَاَتۡہُمۡ مِّنۡ مَّکَانٍۭ بَعِیۡدٍ سَمِعُوۡا لَہَا تَغَیُّظًا وَّزَفِیۡرًا
তা যখন দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা শুনতে পাবে তার ফোঁস-ফোঁসানি ও গর্জনধ্বনি।
وَاِذَاۤ اُلۡقُوۡا مِنۡہَا مَکَانًا ضَیِّقًا مُّقَرَّنِیۡنَ دَعَوۡا ہُنَالِکَ ثُبُوۡرًا ؕ
যখন তাদেরকে ভালোভাবে বেঁধে তার কোন এক সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা মৃত্যুকে ডাকবে।
لَا تَدۡعُوا الۡیَوۡمَ ثُبُوۡرًا وَّاحِدًا وَّادۡعُوۡا ثُبُوۡرًا کَثِیۡرًا
(তখন তাদেরকে বলা হবে,) আজ তোমরা মৃত্যুকে কেবল একবার ডেক না; বরং মৃত্যুকে ডাকতে থাক বারবার।
قُلۡ اَذٰلِکَ خَیۡرٌ اَمۡ جَنَّۃُ الۡخُلۡدِ الَّتِیۡ وُعِدَ الۡمُتَّقُوۡنَ ؕ کَانَتۡ لَہُمۡ جَزَآءً وَّمَصِیۡرًا
বল, এই পরিণাম শ্রেয়, না স্থায়ীভাবে থাকার জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি মুত্তাকীদেরকে দেওয়া হয়েছে? তা হবে তাদের পুরস্কার ও তাদের শেষ পরিণাম।
لَہُمۡ فِیۡہَا مَا یَشَآءُوۡنَ خٰلِدِیۡنَ ؕ کَانَ عَلٰی رَبِّکَ وَعۡدًا مَّسۡـُٔوۡلًا
তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসরত থেকে যা চাবে তাই পাবে। এটা এমন এক দায়িত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি, যা তোমার প্রতিপালক নিজের প্রতি অবধারিত করেছেন।
وَیَوۡمَ یَحۡشُرُہُمۡ وَمَا یَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ فَیَقُوۡلُ ءَاَنۡتُمۡ اَضۡلَلۡتُمۡ عِبَادِیۡ ہٰۤؤُلَآءِ اَمۡ ہُمۡ ضَلُّوا السَّبِیۡلَ ؕ
এবং (তাদেরকে সেই দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দাও) যে দিন আল্লাহ (হাশরের ময়দানে) একত্র করবেন তাদেরকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করত তাদেরকেও। তারপর তিনি তাদের (সেই মাবুদদেরকে) বলবেন, তোমরাই কি আমার ওই বান্দাদেরকে বিপথগামী করেছিলে, না তারা নিজেরাই বিপথগামী হয়েছিল?
قَالُوۡا سُبۡحٰنَکَ مَا کَانَ یَنۡۢبَغِیۡ لَنَاۤ اَنۡ نَّتَّخِذَ مِنۡ دُوۡنِکَ مِنۡ اَوۡلِیَآءَ وَلٰکِنۡ مَّتَّعۡتَہُمۡ وَاٰبَآءَہُمۡ حَتّٰی نَسُوا الذِّکۡرَ ۚ وَکَانُوۡا قَوۡمًۢا بُوۡرًا
তারা বলবে, আপনার সত্তা সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র! আমরা আপনার পরিবর্তে অন্যান্য অভিভাবক গ্রহণ করতে পারি না। কিন্তু ব্যাপার হল, আপনি তাদেরকে ও তাদের বাপ-দাদাদেরকে দুনিয়ার ভোগ-সম্ভার দিয়েছিলেন, পরিণামে তারা উপদেশ ভুলে গিয়েছিল। আর (এভাবে) তারা হয়ে গিয়েছিল এক ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি।
فَقَدۡ کَذَّبُوۡکُمۡ بِمَا تَقُوۡلُوۡنَ ۙ فَمَا تَسۡتَطِیۡعُوۡنَ صَرۡفًا وَّلَا نَصۡرًا ۚ وَمَنۡ یَّظۡلِمۡ مِّنۡکُمۡ نُذِقۡہُ عَذَابًا کَبِیۡرًا
দেখ, (হে কাফেরগণ!) তোমরা যা বলছ, সে ব্যাপারে তো তারা তোমাদেরকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করল। সুতরাং (শাস্তি) টলানোর বা সাহায্য লাভের সাধ্য তোমাদের নেই। তোমাদের মধ্যে যে-কেউ জুলুমের কাজে জড়িত, তাকে আমি কঠিন শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাব।
وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا قَبۡلَکَ مِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ اِلَّاۤ اِنَّہُمۡ لَیَاۡکُلُوۡنَ الطَّعَامَ وَیَمۡشُوۡنَ فِی الۡاَسۡوَاقِ ؕ وَجَعَلۡنَا بَعۡضَکُمۡ لِبَعۡضٍ فِتۡنَۃً ؕ اَتَصۡبِرُوۡنَ ۚ وَکَانَ رَبُّکَ بَصِیۡرًا ٪
(হে নবী!) তোমার পূর্বে যত রাসূলই পাঠিয়েছি, তারা সকলে খাবার খেত ও বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের একজনকে অন্যজনের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। বল, তোমরা কি সবর করবে? তোমার প্রতিপালক সবকিছুই দেখছেন।
وَقَالَ الَّذِیۡنَ لَا یَرۡجُوۡنَ لِقَآءَنَا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡنَا الۡمَلٰٓئِکَۃُ اَوۡ نَرٰی رَبَّنَا ؕ لَقَدِ اسۡتَکۡبَرُوۡا فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ وَعَتَوۡ عُتُوًّا کَبِیۡرًا
যারা আমার সঙ্গে সাক্ষাতের আশাই করে না, তারা বলে, আমাদের প্রতি ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হয় না কেন? কিংবা আমরা আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাই না কেন? বস্তুত তারা আপন মনে নিজেদেরকে অনেক বড় গণ্য করে এবং তারা গুরুতর অবাধ্যতায় লিপ্ত রয়েছে।
یَوۡمَ یَرَوۡنَ الۡمَلٰٓئِکَۃَ لَا بُشۡرٰی یَوۡمَئِذٍ لِّلۡمُجۡرِمِیۡنَ وَیَقُوۡلُوۡنَ حِجۡرًا مَّحۡجُوۡرًا
যে দিন তারা ফিরিশতাদের দেখতে পাবে, সে দিন অপরাধীদের আনন্দ করার কোন সুযোগ থাকবে না। বরং তারা বলতে থাকবে, (হে আল্লাহ!) আমাদেরকে দাও, ‘এক অলঙ্ঘনীয় অন্তরায়’।
وَقَدِمۡنَاۤ اِلٰی مَا عَمِلُوۡا مِنۡ عَمَلٍ فَجَعَلۡنٰہُ ہَبَآءً مَّنۡثُوۡرًا
তারা (দুনিয়ায়) যা-কিছু আমল করেছে, আমি তার ফায়সালা করতে আসব এবং সেগুলোকে শূন্যে বিক্ষিপ্ত ধুলোবালি (-এর মত মূল্যহীন) করে দেব।
اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ یَوۡمَئِذٍ خَیۡرٌ مُّسۡتَقَرًّا وَّاَحۡسَنُ مَقِیۡلًا
সে দিন জান্নাতবাসীদের বাসস্থান হবে উৎকৃষ্ট এবং বিশ্রামস্থল হবে মনোরম।
وَیَوۡمَ تَشَقَّقُ السَّمَآءُ بِالۡغَمَامِ وَنُزِّلَ الۡمَلٰٓئِکَۃُ تَنۡزِیۡلًا
যে দিন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে এক মেঘকে পথ করে দেবে এবং ফিরিশতাদেরকে অবতীর্ণ করা হবে লাগাতার।
اَلۡمُلۡکُ یَوۡمَئِذِۣ الۡحَقُّ لِلرَّحۡمٰنِ ؕ وَکَانَ یَوۡمًا عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ عَسِیۡرًا
সে দিন সত্যিকারের রাজত্ব হবে দয়াময় (আল্লাহ)-এর আর সে দিনটি কাফেরদের জন্য হবে অতি কঠিন।
وَیَوۡمَ یَعَضُّ الظَّالِمُ عَلٰی یَدَیۡہِ یَقُوۡلُ یٰلَیۡتَنِی اتَّخَذۡتُ مَعَ الرَّسُوۡلِ سَبِیۡلًا
এবং যে দিন জালেম ব্যক্তি (মনস্তাপে) নিজের হাত কামড়াবে এবং বলবে, হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে পথ ধরতাম!
یٰوَیۡلَتٰی لَیۡتَنِیۡ لَمۡ اَتَّخِذۡ فُلَانًا خَلِیۡلًا
হায় আমার দুর্ভোগ! আমি যদি অমুক ব্যক্তিকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম!
لَقَدۡ اَضَلَّنِیۡ عَنِ الذِّکۡرِ بَعۡدَ اِذۡ جَآءَنِیۡ ؕ وَکَانَ الشَّیۡطٰنُ لِلۡاِنۡسَانِ خَذُوۡلًا
আমার কাছে তো উপদেশ এসে গিয়েছিল, কিন্তু সে (ওই বন্ধু) আমাকে তা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। আর শয়তান তো (এমনই চরিত্রের যে, সময়কালে সে) মানুষকে অসহায় অবস্থায় ফেলে চলে যায়।
وَقَالَ الرَّسُوۡلُ یٰرَبِّ اِنَّ قَوۡمِی اتَّخَذُوۡا ہٰذَا الۡقُرۡاٰنَ مَہۡجُوۡرًا
আর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় এ কুরআনকে বিলকুল পরিত্যাগ করেছিল।
وَکَذٰلِکَ جَعَلۡنَا لِکُلِّ نَبِیٍّ عَدُوًّا مِّنَ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ؕ وَکَفٰی بِرَبِّکَ ہَادِیًا وَّنَصِیۡرًا
এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর শত্রু বানিয়েছিলাম অপরাধীদেরকে। তোমার প্রতিপালকই হেদায়াতকারী ও সাহায্যকারী হিসেবে যথেষ্ট।
وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوۡلَا نُزِّلَ عَلَیۡہِ الۡقُرۡاٰنُ جُمۡلَۃً وَّاحِدَۃً ۚۛ کَذٰلِکَ ۚۛ لِنُثَبِّتَ بِہٖ فُؤَادَکَ وَرَتَّلۡنٰہُ تَرۡتِیۡلًا
কাফেরগণ বলে, তার প্রতি সম্পূর্ণ কুরআন একবারেই নাযিল করা হল না কেন? (হে নবী!) আমি এরূপ করেছি এর মাধ্যমে তোমার অন্তর মজবুত রাখার জন্য। আর আমি তো এটা পাঠ করিয়েছি থেমে থেমে।
وَلَا یَاۡتُوۡنَکَ بِمَثَلٍ اِلَّا جِئۡنٰکَ بِالۡحَقِّ وَاَحۡسَنَ تَفۡسِیۡرًا ؕ
যখনই তারা তোমার কাছে কোন সমস্যা নিয়ে হাজির হয়, আমি তোমাকে দান করি (তার) যথাযথ সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা।
اَلَّذِیۡنَ یُحۡشَرُوۡنَ عَلٰی وُجُوۡہِہِمۡ اِلٰی جَہَنَّمَ ۙ اُولٰٓئِکَ شَرٌّ مَّکَانًا وَّاَضَلُّ سَبِیۡلًا ٪
যাদেরকে একত্র করে মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায় জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, তাদেরই স্থান অতি নিকৃষ্ট এবং পথ সর্বাপেক্ষা ভ্রান্ত।
وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ وَجَعَلۡنَا مَعَہٗۤ اَخَاہُ ہٰرُوۡنَ وَزِیۡرًا ۚۖ
নিশ্চয়ই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং তার সাথে তার ভাই হারূনকে সহযোগী বানিয়েছিলাম।
فَقُلۡنَا اذۡہَبَاۤ اِلَی الۡقَوۡمِ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا ؕ فَدَمَّرۡنٰہُمۡ تَدۡمِیۡرًا ؕ
আমি বলেছিলাম, যে সম্প্রদায় আমার নিদর্শনাবলী প্রত্যাখ্যান করেছে, তোমরা তাদের কাছে যাও। পরিশেষে আমি তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ফেললাম।
وَقَوۡمَ نُوۡحٍ لَّمَّا کَذَّبُوا الرُّسُلَ اَغۡرَقۡنٰہُمۡ وَجَعَلۡنٰہُمۡ لِلنَّاسِ اٰیَۃً ؕ وَاَعۡتَدۡنَا لِلظّٰلِمِیۡنَ عَذَابًا اَلِیۡمًا ۚۖ
এবং নূহের সম্প্রদায় যখন রাসূলগণকে অস্বীকার করল, তখন আমি তাদেরকে নিমজ্জিত করলাম এবং তাদেরকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানিয়ে দিলাম। আমি সে জালেমদের জন্য যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি।
وَّعَادًا وَّثَمُوۡدَا۠ وَاَصۡحٰبَ الرَّسِّ وَقُرُوۡنًۢا بَیۡنَ ذٰلِکَ کَثِیۡرًا
এভাবেই আমি আদ, ছামুদ ও আসহাবুর রাসস্ এবং তাদের মাঝখানে বহু সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি।
وَکُلًّا ضَرَبۡنَا لَہُ الۡاَمۡثَالَ ۫ وَکُلًّا تَبَّرۡنَا تَتۡبِیۡرًا
তাদের প্রত্যেককে বোঝানোর জন্য আমি দৃষ্টান্ত দিয়েছিলাম। আর (তারা যখন মানেনি তখন) প্রত্যেককেই আমি পিষ্ট করে ফেলি।
وَلَقَدۡ اَتَوۡا عَلَی الۡقَرۡیَۃِ الَّتِیۡۤ اُمۡطِرَتۡ مَطَرَ السَّوۡءِ ؕ اَفَلَمۡ یَکُوۡنُوۡا یَرَوۡنَہَا ۚ بَلۡ کَانُوۡا لَا یَرۡجُوۡنَ نُشُوۡرًا
তারা (অর্থাৎ মক্কার কাফেরগণ) সেই জনপদের উপর দিয়ে যাতায়াত করেছে, যার উপর বর্ষণ করা হয়েছিল মন্দ (পাথরের) বৃষ্টি। তারা কি সে জনপদটিকে দেখতে পেত না? (তা সত্ত্বেও তাদের শিক্ষালাভ হয়নি); বরং পুনরুত্থিত হওয়ার আশঙ্কাই তারা করত না।
وَاِذَا رَاَوۡکَ اِنۡ یَّتَّخِذُوۡنَکَ اِلَّا ہُزُوًا ؕ اَہٰذَا الَّذِیۡ بَعَثَ اللّٰہُ رَسُوۡلًا
(হে রাসূল!) তারা যখন তোমাকে দেখে তখন তারা কেবল তোমাকে ঠাট্টা-বিদ্রূপেরই পাত্র বানায়। তারা বলে, এই বুঝি সেই, যাকে আল্লাহ নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন?
اِنۡ کَادَ لَیُضِلُّنَا عَنۡ اٰلِہَتِنَا لَوۡلَاۤ اَنۡ صَبَرۡنَا عَلَیۡہَا ؕ وَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ حِیۡنَ یَرَوۡنَ الۡعَذَابَ مَنۡ اَضَلُّ سَبِیۡلًا
আমরা নিজ দেবতাদের প্রতি (ভক্তি-বিশ্বাসে) অবিচলিত না থাকলে সে তো আমাদেরকে প্রায় বিভ্রান্ত করে ফেলছিলই। (যারা এসব কথা বলে,) তারা যখন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা জানতে পারবে কে সঠিক পথ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত ছিল।
اَرَءَیۡتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰـہَہٗ ہَوٰىہُ ؕ اَفَاَنۡتَ تَکُوۡنُ عَلَیۡہِ وَکِیۡلًا ۙ
আচ্ছা বল তো যে ব্যক্তি নিজের কুপ্রবৃত্তিকে আপন মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে, (হে নবী!) তুমি কি তার দায়-দায়িত্ব নিতে পারবে।
اَمۡ تَحۡسَبُ اَنَّ اَکۡثَرَہُمۡ یَسۡمَعُوۡنَ اَوۡ یَعۡقِلُوۡنَ ؕ اِنۡ ہُمۡ اِلَّا کَالۡاَنۡعَامِ بَلۡ ہُمۡ اَضَلُّ سَبِیۡلًا ٪
নাকি তুমি মনে কর তাদের অধিকাংশে শোনে অথবা বোঝে? না, তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তারা তার চেয়েও বেশি বিপথগামী।
اَلَمۡ تَرَ اِلٰی رَبِّکَ کَیۡفَ مَدَّ الظِّلَّ ۚ وَلَوۡ شَآءَ لَجَعَلَہٗ سَاکِنًا ۚ ثُمَّ جَعَلۡنَا الشَّمۡسَ عَلَیۡہِ دَلِیۡلًا ۙ
তুমি কি নিজ প্রতিপালকের (কুদরতের) প্রতি লক্ষ করনি যে, তিনি কিভাবে ছায়াকে সম্প্রসারিত করেন? তিনি ইচ্ছা করলে তা স্থির রাখতে পারতেন। অতঃপর আমি সূর্যকে তার পথনির্দেশক বানিয়ে দিয়েছি।
ثُمَّ قَبَضۡنٰہُ اِلَیۡنَا قَبۡضًا یَّسِیۡرًا
অতঃপর আমি অল্প-অল্প করে তাকে নিজের দিকে গুটিয়ে আনি।
وَہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الَّیۡلَ لِبَاسًا وَّالنَّوۡمَ سُبَاتًا وَّجَعَلَ النَّہَارَ نُشُوۡرًا
তিনিই রাতকে তোমাদের জন্য করেছেন পোশাক-স্বরূপ এবং ঘুমকে শান্তিময়। আর দিনকে ফের উঠে দাঁড়ানোর মাধ্যম বানিয়েছেন।
وَہُوَ الَّذِیۡۤ اَرۡسَلَ الرِّیٰحَ بُشۡرًۢا بَیۡنَ یَدَیۡ رَحۡمَتِہٖ ۚ وَاَنۡزَلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً طَہُوۡرًا ۙ
তিনিই নিজ রহমত (অর্থাৎ বৃষ্টি)-এর আগে বায়ু পাঠান (বৃষ্টির) সুসংবাদবাহীরূপে এবং আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি পবিত্র পানি
لِّنُحۡیِۦَ بِہٖ بَلۡدَۃً مَّیۡتًا وَّنُسۡقِیَہٗ مِمَّا خَلَقۡنَاۤ اَنۡعَامًا وَّاَنَاسِیَّ کَثِیۡرًا
তা দ্বারা মৃত ভূমিকে সঞ্জীবিত করা এবং আমার সৃষ্ট বহু জীবজন্তু ও মানুষকে তা পান করানোর জন্য।
وَلَقَدۡ صَرَّفۡنٰہُ بَیۡنَہُمۡ لِیَذَّکَّرُوۡا ۫ۖ فَاَبٰۤی اَکۡثَرُ النَّاسِ اِلَّا کُفُوۡرًا
আমি মানুষের কল্যাণার্থে তাকে (অর্থাৎ পানিকে) আবর্তমান করে রেখেছি, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে, কিন্তু অধিকাংশ লোক অকৃতজ্ঞতা ছাড়া কোন কিছুতে সম্মত নয়।
وَلَوۡ شِئۡنَا لَبَعَثۡنَا فِیۡ کُلِّ قَرۡیَۃٍ نَّذِیۡرًا ۫ۖ
আমি ইচ্ছা করলে প্রতিটি জনপদে এক স্বতন্ত্র সতর্ককারী (নবী) পাঠাতে পারতাম।
فَلَا تُطِعِ الۡکٰفِرِیۡنَ وَجَاہِدۡہُمۡ بِہٖ جِہَادًا کَبِیۡرًا
সুতরাং (হে নবী!) তুমি কাফেরদের কথা শুনো না; বরং এ কুরআনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে সর্বশক্তিতে সংগ্রাম চালিয়ে যাও।
وَہُوَ الَّذِیۡ مَرَجَ الۡبَحۡرَیۡنِ ہٰذَا عَذۡبٌ فُرَاتٌ وَّہٰذَا مِلۡحٌ اُجَاجٌ ۚ وَجَعَلَ بَیۡنَہُمَا بَرۡزَخًا وَّحِجۡرًا مَّحۡجُوۡرًا
তিনিই দুই নদীকে মিলিতভাবে প্রবাহিত করেছেন, যার একটি মিষ্টি, তৃপ্তিকর এবং একটি লোনা, অত্যন্ত কটু। উভয়ের মাঝখানে রেখে দিয়েছেন এক আড়াল ও অলংঘনীয় প্রতিবন্ধক।
وَہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ مِنَ الۡمَآءِ بَشَرًا فَجَعَلَہٗ نَسَبًا وَّصِہۡرًا ؕ وَکَانَ رَبُّکَ قَدِیۡرًا
তিনিই পানি দ্বারা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তাকে বংশগত ও বৈবাহিক আত্মীয়তা দান করেছেন। তোমার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান।
وَیَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَنۡفَعُہُمۡ وَلَا یَضُرُّہُمۡ ؕ وَکَانَ الۡکَافِرُ عَلٰی رَبِّہٖ ظَہِیۡرًا
তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন সব বস্তুর ইবাদত করছে, যা তাদের কোন উপকার করতে পারে না এবং অপকারও নয়। বস্তুত কাফের ব্যক্তি নিজ প্রতিপালকের ঘোর বিরোধি।
وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا مُبَشِّرًا وَّنَذِیۡرًا
(হে নবী!) আমি তো তোমাকে কেবল একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপেই পাঠিয়েছি।
قُلۡ مَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ اِلَّا مَنۡ شَآءَ اَنۡ یَّتَّخِذَ اِلٰی رَبِّہٖ سَبِیۡلًا
বলে দাও, আমি এ কাজের জন্য তোমাদের থেকে কোন পারিশ্রমিক চাই না। তবে যে ইচ্ছা করে, সে তার প্রতিপালকের কাছে পৌঁছার পথ অবলম্বন করুক (সেটাই হবে আমার প্রতিদান)।
وَتَوَکَّلۡ عَلَی الۡحَیِّ الَّذِیۡ لَا یَمُوۡتُ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِہٖ ؕ وَکَفٰی بِہٖ بِذُنُوۡبِ عِبَادِہٖ خَبِیۡرَا ۚۛۙ
তুমি নির্ভর কর সেই সত্তার উপর, যিনি চিরঞ্জীব যার মৃত্যু নেই এবং তাঁরই প্রশংসার সাথে তাসবীহ আদায় করতে থাক। নিজ বান্দাদের গুনাহের খবর রাখার জন্য তিনিই যথেষ্ট।
ۣالَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَا فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ ۚۛ اَلرَّحۡمٰنُ فَسۡـَٔلۡ بِہٖ خَبِیۡرًا
যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, তারপর তিনি আরশে ‘ইসতিওয়া’ গ্রহণ করেছেন। তিনি ‘রহমান’। তাঁর (মহিমা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর কোন জ্ঞাতজনকে।
وَاِذَا قِیۡلَ لَہُمُ اسۡجُدُوۡا لِلرَّحۡمٰنِ قَالُوۡا وَمَا الرَّحۡمٰنُ ٭ اَنَسۡجُدُ لِمَا تَاۡمُرُنَا وَزَادَہُمۡ نُفُوۡرًا ٪ٛ
তাদেরকে যখন বলা হয়, ‘রহমান’কে সিজদা কর, তারা বলে রহমান কী? তুমি যে-কাউকে সিজদা করতে বললেই কি আমরা তাকে সিজদা করব? এতে তারা আরও বেশি বিমুখ হয়ে পড়ে।
تَبٰرَکَ الَّذِیۡ جَعَلَ فِی السَّمَآءِ بُرُوۡجًا وَّجَعَلَ فِیۡہَا سِرٰجًا وَّقَمَرًا مُّنِیۡرًا
মহিমময় সেই সত্তা, যিনি আকাশে ‘বুরূজ’ বানিয়েছেন এবং তাতে এক উজ্জ্বল প্রদীপ ও আলো বিস্তারকারী চাঁদ সৃষ্টি করেছেন।
وَہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ خِلۡفَۃً لِّمَنۡ اَرَادَ اَنۡ یَّذَّکَّرَ اَوۡ اَرَادَ شُکُوۡرًا
এবং তিনিই সেই সত্তা, যিনি রাত ও দিনকে পরস্পরের অনুগামী করে সৃষ্টি করেছেন (কিন্তু এসব বিষয় উপকারে আসে কেবল) সেই ব্যক্তির জন্য, যে উপদেশ গ্রহণের ইচ্ছা রাখে কিংবা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চায়।
وَعِبَادُ الرَّحۡمٰنِ الَّذِیۡنَ یَمۡشُوۡنَ عَلَی الۡاَرۡضِ ہَوۡنًا وَّاِذَا خَاطَبَہُمُ الۡجٰہِلُوۡنَ قَالُوۡا سَلٰمًا
রহমানের বান্দা তারা, যারা ভূমিতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞলোক যখন তাদেরকে লক্ষ্য করে (অজ্ঞতাসুলভ) কথা বলে, তখন তারা শান্তিপূর্ণ কথা বলে।
وَالَّذِیۡنَ یَبِیۡتُوۡنَ لِرَبِّہِمۡ سُجَّدًا وَّقِیَامًا
এবং যারা রাত অতিবাহিত করে নিজ প্রতিপালকের সামনে (কখনও) সিজদারত অবস্থায় এবং (কখনও) দণ্ডায়মান অবস্থায়।
وَالَّذِیۡنَ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا اصۡرِفۡ عَنَّا عَذَابَ جَہَنَّمَ ٭ۖ اِنَّ عَذَابَہَا کَانَ غَرَامًا ٭ۖ
এবং যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! জাহান্নামের আযাব আমাদের থেকে দূরে রাখুন। নিশ্চয়ই তার আযাব সদা সংলগ্ন হয়ে থাকে।
اِنَّہَا سَآءَتۡ مُسۡتَقَرًّا وَّمُقَامًا
নিশ্চয়ই অবস্থানস্থল ও বাসস্থান হিসেবে তা অতি নিকৃষ্ট।
وَالَّذِیۡنَ اِذَاۤ اَنۡفَقُوۡا لَمۡ یُسۡرِفُوۡا وَلَمۡ یَقۡتُرُوۡا وَکَانَ بَیۡنَ ذٰلِکَ قَوَامًا
এবং যারা ব্যয় করার সময় না করে অপব্যয় এবং না করে কার্পণ্য; বরং তা হয় উভয়ের মাঝখানে ভারসাম্যমান।
وَالَّذِیۡنَ لَا یَدۡعُوۡنَ مَعَ اللّٰہِ اِلٰـہًا اٰخَرَ وَلَا یَقۡتُلُوۡنَ النَّفۡسَ الَّتِیۡ حَرَّمَ اللّٰہُ اِلَّا بِالۡحَقِّ وَلَا یَزۡنُوۡنَ ۚ وَمَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ یَلۡقَ اَثَامًا ۙ
এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন মাবুদের ইবাদত করে না এবং আল্লাহ যে প্রাণকে মর্যাদা দান করেছেন, তাকে অন্যায়ভাবে বধ করে না এবং তারা ব্যভিচার করে না। যে ব্যক্তিই এরূপ করবে তাকে তার গুনাহের (শাস্তির) সম্মুখীন হতে হবে।
یُّضٰعَفۡ لَہُ الۡعَذَابُ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ وَیَخۡلُدۡ فِیۡہٖ مُہَانًا ٭ۖ
কিয়ামতের দিন তার শাস্তি বৃদ্ধি করে দ্বিগুণ করা হবে এবং সে লাঞ্ছিত অবস্থায় তাতে সদা-সর্বদা থাকবে।
اِلَّا مَنۡ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَاُولٰٓئِکَ یُبَدِّلُ اللّٰہُ سَیِّاٰتِہِمۡ حَسَنٰتٍ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا
তবে কেউ তাওবা করলে, ঈমান আনলে এবং সৎকর্ম করলে, আল্লাহ এরূপ লোকদের পাপরাশিকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে দেবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَمَنۡ تَابَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَاِنَّہٗ یَتُوۡبُ اِلَی اللّٰہِ مَتَابًا
এবং যে ব্যক্তি তাওবা করে ও সৎকর্ম করে, সে মূলত আল্লাহর দিকে যথাযথভাবে ফিরে আসে।
وَالَّذِیۡنَ لَا یَشۡہَدُوۡنَ الزُّوۡرَ ۙ وَاِذَا مَرُّوۡا بِاللَّغۡوِ مَرُّوۡا کِرَامًا
এবং (রহমানের বান্দা তারা) যারা অন্যায় কাজে শামিল হয় না এবং যখন কোন বেহুদা কার্যকলাপের নিকট দিয়ে যায়, তখন আত্মসম্মান বাঁচিয়ে যায়।
وَالَّذِیۡنَ اِذَا ذُکِّرُوۡا بِاٰیٰتِ رَبِّہِمۡ لَمۡ یَخِرُّوۡا عَلَیۡہَا صُمًّا وَّعُمۡیَانًا
এবং যখন তাদের প্রতিপালকের আয়াত দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয়, তখন তারা বধির ও অন্ধরূপে তার উপর পতিত হয় না।
وَالَّذِیۡنَ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا ہَبۡ لَنَا مِنۡ اَزۡوَاجِنَا وَذُرِّیّٰتِنَا قُرَّۃَ اَعۡیُنٍ وَّاجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِیۡنَ اِمَامًا
এবং যারা (এই) বলে (দোয়া করে যে), হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ হতে দান কর নয়নপ্রীতি এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানাও।
اُولٰٓئِکَ یُجۡزَوۡنَ الۡغُرۡفَۃَ بِمَا صَبَرُوۡا وَیُلَقَّوۡنَ فِیۡہَا تَحِیَّۃً وَّسَلٰمًا ۙ
এরাই তারা, যাদেরকে তাদের সবরের প্রতিদানে জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদ দেওয়া হবে এবং সেখানে শুভেচ্ছা ও সালামের সাথে তাদের অভ্যর্থনা করা হবে।
خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ حَسُنَتۡ مُسۡتَقَرًّا وَّمُقَامًا
তারা তাতে স্থায়ী জীবন লাভ করবে। অবস্থানস্থল ও বাসস্থান হিসেবে তা অতি উত্তম।
قُلۡ مَا یَعۡبَؤُا بِکُمۡ رَبِّیۡ لَوۡلَا دُعَآؤُکُمۡ ۚ فَقَدۡ کَذَّبۡتُمۡ فَسَوۡفَ یَکُوۡنُ لِزَامًا ٪
(হে রাসূল! মানুষকে) বলে দাও, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে না ডাকলে তার কিছুই আসে যায় না। আর (হে কাফেরগণ!) তোমরা তো সত্য প্রত্যাখ্যান করেছ। অচিরেই এ প্রত্যাখ্যান তোমাদের গললগ্ন হয়ে যাবে।