الصافات
আস-সাফফাত
আয়াত ১৮২ · মক্কী · পারা ২৩
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
وَالصّٰٓفّٰتِ صَفًّا ۙ
শপথ তাদের, যারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়।
فَالزّٰجِرٰتِ زَجۡرًا ۙ
তারপর তাদের, যারা কঠোরভাবে বাধা প্রদান করে।
فَالتّٰلِیٰتِ ذِکۡرًا ۙ
তারপর তাদের, যারা ‘যিকর’-এর তেলাওয়াত করে।
اِنَّ اِلٰـہَکُمۡ لَوَاحِدٌ ؕ
নিশ্চয়ই তোমাদের মাবুদ একই।
رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا وَرَبُّ الۡمَشَارِقِ ؕ
যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর মালিক এবং তিনি মালিক নক্ষত্ররাজি উদয়স্থলেরও।
اِنَّا زَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡیَا بِزِیۡنَۃِۣ الۡکَوَاکِبِ ۙ
নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী আকাশকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছি (বিভিন্ন) নকশা দ্বারা অর্থাৎ নক্ষত্রমণ্ডলী দ্বারা।
وَحِفۡظًا مِّنۡ کُلِّ شَیۡطٰنٍ مَّارِدٍ ۚ
এবং প্রত্যেক দুষ্ট (শয়তান) থেকে হেফাজতের মাধ্যম বানিয়েছি।
لَا یَسَّمَّعُوۡنَ اِلَی الۡمَلَاِ الۡاَعۡلٰی وَیُقۡذَفُوۡنَ مِنۡ کُلِّ جَانِبٍ ٭ۖ
তারা ঊর্ধ্ব জগতের কথাবার্তা শুনতে পারে না এবং সকল দিক থেকে তাদের উপর মার আসে।
دُحُوۡرًا وَّلَہُمۡ عَذَابٌ وَّاصِبٌ ۙ
তাদেরকে করা হয় বিতাড়িত এবং (আখেরাতে) তাদের জন্য আছে স্থায়ী শাস্তি।
اِلَّا مَنۡ خَطِفَ الۡخَطۡفَۃَ فَاَتۡبَعَہٗ شِہَابٌ ثَاقِبٌ
তবে কেউ কোন কিছু ছোঁ মেরে নিয়ে যেতে চাইলে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
فَاسۡتَفۡتِہِمۡ اَہُمۡ اَشَدُّ خَلۡقًا اَمۡ مَّنۡ خَلَقۡنَا ؕ اِنَّا خَلَقۡنٰہُمۡ مِّنۡ طِیۡنٍ لَّازِبٍ
সুতরাং তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) জিজ্ঞেস কর, তাদেরকে সৃষ্টি করা বেশি কঠিন, না আমার অন্যান্য মাখলুককে? আমি তো তাদেরকে সৃষ্টি করেছি আঠাল কাদা হতে।
بَلۡ عَجِبۡتَ وَیَسۡخَرُوۡنَ ۪
(হে রাসূল!) তুমি তো (তাদের কথায়) বিস্ময়বোধ করছ, কিন্তু তারা করছে বিদ্রূপ।
وَاِذَا ذُکِّرُوۡا لَا یَذۡکُرُوۡنَ ۪
তাদেরকে যখন উপদেশ দেওয়া হয়, তখন তারা উপদেশ গ্রহণ করে না।
وَاِذَا رَاَوۡا اٰیَۃً یَّسۡتَسۡخِرُوۡنَ ۪
আর যখন কোন নিদর্শন দেখে, তখন ব্যঙ্গ করে।
وَقَالُوۡۤا اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ۚۖ
তারা বলে, এটা এক প্রকাশ্য যাদু ছাড়া কিছুই নয়।
ءَاِذَا مِتۡنَا وَکُنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا ءَاِنَّا لَمَبۡعُوۡثُوۡنَ ۙ
তবে কি আমরা মরে মাটি ও অস্থিতে পরিণত হয়ে যাওয়ার পরও আমাদেরকে পুনরায় জীবিত করা হবে?
اَوَاٰبَآؤُنَا الۡاَوَّلُوۡنَ ؕ
এমন কি পূর্বেকার আমাদের বাপ-দাদাদেরকেও?
قُلۡ نَعَمۡ وَاَنۡتُمۡ دَاخِرُوۡنَ ۚ
বলে দাও, হ্যাঁ এবং তোমরা লাঞ্ছিতও হবে।
فَاِنَّمَا ہِیَ زَجۡرَۃٌ وَّاحِدَۃٌ فَاِذَا ہُمۡ یَنۡظُرُوۡنَ
ব্যস, তা তো একটি মাত্র মহানাদ হবে, আর অমনি তারা (যত সব বীভৎস দৃশ্য) দেখতে শুরু করবে।
وَقَالُوۡا یٰوَیۡلَنَا ہٰذَا یَوۡمُ الدِّیۡنِ
এবং বলবে, হায়, আমাদের দুর্ভোগ! এটা তো হিসাব-নিকাশের দিন।
ہٰذَا یَوۡمُ الۡفَصۡلِ الَّذِیۡ کُنۡتُمۡ بِہٖ تُکَذِّبُوۡنَ ٪
(জী হ্যাঁ!) এটাই সেই মীমাংসার দিন, যাকে তোমরা অবিশ্বাস করতে।
اُحۡشُرُوا الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا وَاَزۡوَاجَہُمۡ وَمَا کَانُوۡا یَعۡبُدُوۡنَ ۙ
(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে,) যারা জুলুম করেছিল, তাদেরকে ঘেরাও করে নিয়ে এসো এবং তাদের সঙ্গীদেরকেও এবং তারা যাদের ইবাদত করত তাদেরকেও।
مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ فَاہۡدُوۡہُمۡ اِلٰی صِرَاطِ الۡجَحِیۡمِ ٙ
আল্লাহকে ছেড়ে, তারপর তাদেরকে জাহান্নামের পথ দেখাও।
وَقِفُوۡہُمۡ اِنَّہُمۡ مَّسۡئُوۡلُوۡنَ ۙ
এবং তাদেরকে একটু দাঁড় করাও। কেননা তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে।
مَا لَکُمۡ لَا تَنَاصَرُوۡنَ
তোমাদের কী হল যে, একে অন্যকে সাহায্য করছ না?
بَلۡ ہُمُ الۡیَوۡمَ مُسۡتَسۡلِمُوۡنَ
বরং আজ তারা সকলে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে আছে।
وَاَقۡبَلَ بَعۡضُہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ یَّتَسَآءَلُوۡنَ
তারা একে অন্যের অভিমুখী হয়ে পরস্পরে সওয়াল-জওয়াব করবে।
قَالُوۡۤا اِنَّکُمۡ کُنۡتُمۡ تَاۡتُوۡنَنَا عَنِ الۡیَمِیۡنِ
(অধীনস্থরা তাদের নেতৃবর্গকে) বলবে, তোমরাই তো অত্যন্ত শক্তিমানরূপে আমাদের কাছে আসতে।
قَالُوۡا بَلۡ لَّمۡ تَکُوۡنُوۡا مُؤۡمِنِیۡنَ ۚ
তারা বলবে, না, বরং তোমরা নিজেরাই ঈমান আনার ছিলে না।
وَمَا کَانَ لَنَا عَلَیۡکُمۡ مِّنۡ سُلۡطٰنٍ ۚ بَلۡ کُنۡتُمۡ قَوۡمًا طٰغِیۡنَ
আর তোমাদের উপর আমাদের কোন আধিপত্যও ছিল না। বস্তুত তোমরা নিজেরাই ছিলে এক অবাধ্য সম্প্রদায়।
فَحَقَّ عَلَیۡنَا قَوۡلُ رَبِّنَاۤ ٭ۖ اِنَّا لَذَآئِقُوۡنَ
ফলে আমাদের উপর আমাদের প্রতিপালকের একথা সাব্যস্ত হয়ে গেছে যে, আমাদের সকলকেই শাস্তিভোগ করতে হবে।
فَاَغۡوَیۡنٰکُمۡ اِنَّا کُنَّا غٰوِیۡنَ
ফলে আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছি আর আমরা নিজেরাও ছিলাম বিভ্রান্ত।
فَاِنَّہُمۡ یَوۡمَئِذٍ فِی الۡعَذَابِ مُشۡتَرِکُوۡنَ
মোটকথা সে দিন শাস্তিতে তারা সকলে একে অন্যের শরীক হবে।
اِنَّا کَذٰلِکَ نَفۡعَلُ بِالۡمُجۡرِمِیۡنَ
আমরা অপরাধীদের সাথে এ রকমই করে থাকি।
اِنَّہُمۡ کَانُوۡۤا اِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا اللّٰہُ ۙ یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ ۙ
তাদের অবস্থা তো ছিল এই যে, তাদেরকে যখন বলা হত, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তখন তারা অহমিকা প্রদর্শন করত।
وَیَقُوۡلُوۡنَ اَئِنَّا لَتَارِکُوۡۤا اٰلِہَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجۡنُوۡنٍ ؕ
এবং বলত, আমরা কি এমন নাকি যে, এক উন্মাদ কবির কারণে আপন উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব?
بَلۡ جَآءَ بِالۡحَقِّ وَصَدَّقَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ
অথচ সে (অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্য নিয়ে এসেছিল এবং সে অন্যান্য রাসূলগণেরও সমর্থন করেছিল।
اِنَّکُمۡ لَذَآئِقُوا الۡعَذَابِ الۡاَلِیۡمِ ۚ
সুতরাং (তাদেরকে বলা হবে), তোমাদের সকলকে মর্মন্তুদ শাস্তির মজা ভোগ করতেই হবে।
وَمَا تُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ۙ
আর তোমাদেরকে কেবল তোমাদের কৃতকর্মেরই প্রতিফল দেওয়া হবে।
اِلَّا عِبَادَ اللّٰہِ الۡمُخۡلَصِیۡنَ
তবে আল্লাহর মনোনীত বান্দাগণ ব্যতিক্রম।
اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ رِزۡقٌ مَّعۡلُوۡمٌ ۙ
তাদের জন্য আছে স্থিরীকৃত রিযক
فَوَاکِہُ ۚ وَہُمۡ مُّکۡرَمُوۡنَ ۙ
ফলমূল আর তাদেরকে করা হবে সম্মানিত।
فِیۡ جَنّٰتِ النَّعِیۡمِ ۙ
নি‘আমতপূর্ণ উদ্যানে
عَلٰی سُرُرٍ مُّتَقٰبِلِیۡنَ
তারা উঁচু আসনে সামনা-সামনি বসা থাকবে।
یُطَافُ عَلَیۡہِمۡ بِکَاۡسٍ مِّنۡ مَّعِیۡنٍۭ ۙ
তাদেরকে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে এমন স্বচ্ছ সুরাপাত্র
بَیۡضَآءَ لَذَّۃٍ لِّلشّٰرِبِیۡنَ ۚۖ
যা হবে সাদা রংয়ের, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।
لَا فِیۡہَا غَوۡلٌ وَّلَا ہُمۡ عَنۡہَا یُنۡزَفُوۡنَ
তাতে মাথা ঘুরবে না এবং তাতে তারা হবে না মাতাল।
وَعِنۡدَہُمۡ قٰصِرٰتُ الطَّرۡفِ عِیۡنٌ ۙ
তাদের কাছে থাকবে ডাগর চোখের নারী, যাদের দৃষ্টি (আপন-আপন স্বামীতে) থাকবে নিবদ্ধ।
کَاَنَّہُنَّ بَیۡضٌ مَّکۡنُوۡنٌ
(তাদের নিখুঁত অস্তিত্ব এমন) যেন তারা (ধুলোবালি হতে) লুকিয়ে রাখা ডিম।
فَاَقۡبَلَ بَعۡضُہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ یَّتَسَآءَلُوۡنَ
অতঃপর জান্নাতবাসীগণ একে অন্যের সামনা-সামনি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
قَالَ قَآئِلٌ مِّنۡہُمۡ اِنِّیۡ کَانَ لِیۡ قَرِیۡنٌ ۙ
তাদের এক বক্তা বলবে, আমার ছিল এক সাথী,
یَّقُوۡلُ اَئِنَّکَ لَمِنَ الۡمُصَدِّقِیۡنَ
সে (আমাকে) বলত, সত্যিই কি তুমি তাদের একজন, যারা (আখেরাতের জীবনকে) সত্য মনে করে?
ءَاِذَا مِتۡنَا وَکُنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا ءَاِنَّا لَمَدِیۡنُوۡنَ
আমরা যখন মরে মাটি ও অস্থিতে পরিণত হবো, তখন কি বাস্তবিকই আমাদেরকে (আমাদের কৃতকর্মের) প্রতিফল দেওয়া হবে?
قَالَ ہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّطَّلِعُوۡنَ
সেই জান্নাতী (অন্য জান্নাতীদেরকে) বলবে, তোমরা কি উকি মেরে (আমার সেই সাথীকে) দেখতে চাও?
فَاطَّلَعَ فَرَاٰہُ فِیۡ سَوَآءِ الۡجَحِیۡمِ
তারপর সে নিজে (জাহান্নামে) উঁকি মারবে, তখন সে তাকে দেখতে পাবে জাহান্নামের মাঝখানে।
قَالَ تَاللّٰہِ اِنۡ کِدۡتَّ لَتُرۡدِیۡنِ ۙ
সে (তাকে) বলবে, আল্লাহর কসম! তুমি তো আমাকে একেবারেই বরবাদ করে দিচ্ছিলে!
وَلَوۡلَا نِعۡمَۃُ رَبِّیۡ لَکُنۡتُ مِنَ الۡمُحۡضَرِیۡنَ
আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ না থাকলে অন্যদের সাথে আমিও ধৃত হতাম।
اَفَمَا نَحۡنُ بِمَیِّتِیۡنَ ۙ
(তারপর সে আনন্দাতিশয্যে তার জান্নাতী সঙ্গীদেরকে বলবে) আচ্ছা, আমাদের কি আর মৃত্যু নেই,
اِلَّا مَوۡتَتَنَا الۡاُوۡلٰی وَمَا نَحۡنُ بِمُعَذَّبِیۡنَ
আমাদের প্রথমে যে মৃত্যু এসেছিল সেটি ছাড়া? এবং আমাদের শাস্তিও হবে না?
اِنَّ ہٰذَا لَہُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ
প্রকৃতপক্ষে এটাই মহা সাফল্য।
لِمِثۡلِ ہٰذَا فَلۡیَعۡمَلِ الۡعٰمِلُوۡنَ
এ রকম সাফল্যের জন্যই আমলকারীদের আমল করা উচিত।
اَذٰلِکَ خَیۡرٌ نُّزُلًا اَمۡ شَجَرَۃُ الزَّقُّوۡمِ
বল তো, এই আতিথেয়তা উত্তম, না যাক্কুম গাছ?
اِنَّا جَعَلۡنٰہَا فِتۡنَۃً لِّلظّٰلِمِیۡنَ
আমি সে গাছকে জালেমদের জন্য এক পরীক্ষার বিষয় বানিয়ে দিয়েছি।
اِنَّہَا شَجَرَۃٌ تَخۡرُجُ فِیۡۤ اَصۡلِ الۡجَحِیۡمِ ۙ
বস্তুত সেটি এমন গাছ, যা জাহান্নামের তলদেশ থেকে উদগত হয়।
طَلۡعُہَا کَاَنَّہٗ رُءُوۡسُ الشَّیٰطِیۡنِ
তার মোচা এমন, যেন তা শয়তানদের মাথা।
فَاِنَّہُمۡ لَاٰکِلُوۡنَ مِنۡہَا فَمَالِـُٔوۡنَ مِنۡہَا الۡبُطُوۡنَ ؕ
সুতরাং জাহান্নামবাসীগণ তা থেকেই খাবে এবং তা দ্বারাই পেট ভরবে।
ثُمَّ اِنَّ لَہُمۡ عَلَیۡہَا لَشَوۡبًا مِّنۡ حَمِیۡمٍ ۚ
তদুপরি তারা পাবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।
ثُمَّ اِنَّ مَرۡجِعَہُمۡ لَا۠اِلَی الۡجَحِیۡمِ
তারপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে সেই জাহান্নামেরই দিকে।
اِنَّہُمۡ اَلۡفَوۡا اٰبَآءَہُمۡ ضَآلِّیۡنَ ۙ
তারা তাদের বাপ-দাদাদেরকে পেয়েছিল বিপথগামীরূপে।
فَہُمۡ عَلٰۤی اٰثٰرِہِمۡ یُہۡرَعُوۡنَ
সুতরাং তারা লাফিয়ে লাফিয়ে তাদেরই পদছাপ ধরে চলতে থাকে।
وَلَقَدۡ ضَلَّ قَبۡلَہُمۡ اَکۡثَرُ الۡاَوَّلِیۡنَ ۙ
তাদের পূর্ববর্তীদের অধিকাংশও পথভ্রষ্ট হয়েছিল।
وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا فِیۡہِمۡ مُّنۡذِرِیۡنَ
আমি তো তাদের কাছে সতর্ককারী (রাসূল)দেরকে পাঠিয়েছিলাম।
فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُنۡذَرِیۡنَ ۙ
সুতরাং দেখে নাও, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে।
اِلَّا عِبَادَ اللّٰہِ الۡمُخۡلَصِیۡنَ ٪
তবে আল্লাহর মনোনীত বান্দাগণ (নিরাপদ ছিল)।
وَلَقَدۡ نَادٰىنَا نُوۡحٌ فَلَنِعۡمَ الۡمُجِیۡبُوۡنَ ۫ۖ
নূহ আমাকে ডেকেছিল (লক্ষ করে দেখ), আমি কত উত্তম সাড়াদানকারী।
وَنَجَّیۡنٰہُ وَاَہۡلَہٗ مِنَ الۡکَرۡبِ الۡعَظِیۡمِ ۫ۖ
আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গকে নাজাত দিয়েছিলাম মহাসংকট থেকে।
وَجَعَلۡنَا ذُرِّیَّتَہٗ ہُمُ الۡبٰقِیۡنَ ۫ۖ
আর আমি তার বংশধরকেই (দুনিয়ায়) বাকি রেখেছি।
وَتَرَکۡنَا عَلَیۡہِ فِی الۡاٰخِرِیۡنَ ۫ۖ
পরবর্তীদের মধ্যে তার সম্পর্কে এই ঐতিহ্য চালু করেছি
سَلٰمٌ عَلٰی نُوۡحٍ فِی الۡعٰلَمِیۡنَ
(যে, তারা বলবে), জগদ্বাসীদের মধ্যে নূহের প্রতি সালাম (শান্তি বর্ষিত হোক)।
اِنَّا کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ
আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।
اِنَّہٗ مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِیۡنَ
নিশ্চয়ই সে আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ثُمَّ اَغۡرَقۡنَا الۡاٰخَرِیۡنَ
অতঃপর আমি অন্যদেরকে পানিতে নিমজ্জিত করি।
وَاِنَّ مِنۡ شِیۡعَتِہٖ لَاِبۡرٰہِیۡمَ ۘ
এবং তারই অনুগামীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল ইবরাহীমও।
اِذۡ جَآءَ رَبَّہٗ بِقَلۡبٍ سَلِیۡمٍ
যখন সে তার প্রতিপালকের কাছে উপস্থিত হয়েছিল বিশুদ্ধ অন্তরে।
اِذۡ قَالَ لِاَبِیۡہِ وَقَوۡمِہٖ مَاذَا تَعۡبُدُوۡنَ ۚ
যখন সে তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা কোন জিনিসের ইবাদত করছ?
اَئِفۡکًا اٰلِہَۃً دُوۡنَ اللّٰہِ تُرِیۡدُوۡنَ ؕ
তোমরা কি আল্লাহকে ছেড়ে অলীক উপাস্যদেরকে কামনা করছ?
فَمَا ظَنُّکُمۡ بِرَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ
তো যেই সত্তা সমস্ত জগতের প্রতিপালক তার সম্পর্কে তোমাদের কী ধারণা?
فَنَظَرَ نَظۡرَۃً فِی النُّجُوۡمِ ۙ
এর (কিছুকাল) পর সে তারকারাজির দিকে একবার তাকাল।
فَقَالَ اِنِّیۡ سَقِیۡمٌ
এবং বলল, আমি অসুস্থ।
فَتَوَلَّوۡا عَنۡہُ مُدۡبِرِیۡنَ
সুতরাং তারা পৃষ্ঠ ঘুরিয়ে তার কাছ থেকে চলে গেল।
فَرَاغَ اِلٰۤی اٰلِہَتِہِمۡ فَقَالَ اَلَا تَاۡکُلُوۡنَ ۚ
তারপর সে তাদের (হাতেগড়া) উপাস্যদের (অর্থাৎ মূর্তিদের) কাছে ঢুকে পড়ল এবং (তাদেরকে) বলল, তোমরা যে খাচ্ছ না?
مَا لَکُمۡ لَا تَنۡطِقُوۡنَ
কী ব্যাপার, তোমরা কথা বলছ না যে?
فَرَاغَ عَلَیۡہِمۡ ضَرۡبًۢا بِالۡیَمِیۡنِ
অতঃপর সবলে আঘাত হানতে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
فَاَقۡبَلُوۡۤا اِلَیۡہِ یَزِفُّوۡنَ
অনন্তর তারা (কওমের লোকজন) তার কাছে দৌড়ে আসল।
قَالَ اَتَعۡبُدُوۡنَ مَا تَنۡحِتُوۡنَ ۙ
ইবরাহীম বলল, তোমরা কি নিজেরা যা বানাও তার পূজা কর?
وَاللّٰہُ خَلَقَکُمۡ وَمَا تَعۡمَلُوۡنَ
অথচ আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এবং তোমরা যা-কিছু তৈরি কর তাদেরকেও।
قَالُوا ابۡنُوۡا لَہٗ بُنۡیَانًا فَاَلۡقُوۡہُ فِی الۡجَحِیۡمِ
তারা বলল, ইবরাহীমের জন্য একটি ইমারত বানাও এবং তাকে (তার ভেতর) জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ কর।
فَاَرَادُوۡا بِہٖ کَیۡدًا فَجَعَلۡنٰہُمُ الۡاَسۡفَلِیۡنَ
এভাবে তারা ইবরাহীমের বিরুদ্ধে এক দূরভিসন্ধি করতে চাইল। কিন্তু আমি তাদেরকে হেয় করে ছাড়লাম।
وَقَالَ اِنِّیۡ ذَاہِبٌ اِلٰی رَبِّیۡ سَیَہۡدِیۡنِ
ইবরাহীম বলল, আমি আমার প্রতিপালকের কাছে যাচ্ছি। তিনিই আমাকে পথ দেখাবেন।
رَبِّ ہَبۡ لِیۡ مِنَ الصّٰلِحِیۡنَ
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এমন পুত্র দান কর, যে হবে সৎলোকদের একজন।
فَبَشَّرۡنٰہُ بِغُلٰمٍ حَلِیۡمٍ
সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَہُ السَّعۡیَ قَالَ یٰبُنَیَّ اِنِّیۡۤ اَرٰی فِی الۡمَنَامِ اَنِّیۡۤ اَذۡبَحُکَ فَانۡظُرۡ مَاذَا تَرٰی ؕ قَالَ یٰۤاَبَتِ افۡعَلۡ مَا تُؤۡمَرُ ۫ سَتَجِدُنِیۡۤ اِنۡ شَآءَ اللّٰہُ مِنَ الصّٰبِرِیۡنَ
অতঃপর সে পুত্র যখন ইবরাহীমের সাথে চলাফেরা করার উপযুক্ত হল, তখন সে বলল, বাছা! আমি স্বপ্নে দেখছি যে, তোমাকে যবাহ করছি। এবার চিন্তা করে বল, তোমার অভিমত কী। পুত্র বলল, আব্বাজী! আপনাকে যার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে আপনি সেটাই করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে সবরকারীদের একজন পাবেন।
فَلَمَّاۤ اَسۡلَمَا وَتَلَّہٗ لِلۡجَبِیۡنِ ۚ
সুতরাং (সেটা ছিল এক বিস্ময়কর দৃশ্য) যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং পিতা পুত্রকে কাত করে শুইয়ে দিল।
وَنَادَیۡنٰہُ اَنۡ یّٰۤاِبۡرٰہِیۡمُ ۙ
আর আমি তাকে ডাক দিয়ে বললাম, হে ইবরাহীম!
قَدۡ صَدَّقۡتَ الرُّءۡیَا ۚ اِنَّا کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ
তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখিয়েছ। নিশ্চয়ই আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।
اِنَّ ہٰذَا لَہُوَ الۡبَلٰٓـؤُا الۡمُبِیۡنُ
নিশ্চয়ই এটা ছিল এক স্পষ্ট পরীক্ষা।
وَفَدَیۡنٰہُ بِذِبۡحٍ عَظِیۡمٍ
এবং আমি এক মহান কুরবানীর বিনিময়ে সে শিশুকে মুক্ত করলাম।
وَتَرَکۡنَا عَلَیۡہِ فِی الۡاٰخِرِیۡنَ ۖ
এবং পরবর্তীদের মধ্যে এই ঐতিহ্য চালু করলাম
سَلٰمٌ عَلٰۤی اِبۡرٰہِیۡمَ
যে, (তারা বলবে,) সালাম হোক ইবরাহীমের প্রতি,
کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ
আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।
اِنَّہٗ مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِیۡنَ
নিশ্চয়ই সে আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
وَبَشَّرۡنٰہُ بِاِسۡحٰقَ نَبِیًّا مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ
আর আমি তাকে সুসংবাদ দিলাম ইসহাকের, যে নেককারদের মধ্যে একজন নবী হবে।
وَبٰرَکۡنَا عَلَیۡہِ وَعَلٰۤی اِسۡحٰقَ ؕ وَمِنۡ ذُرِّیَّتِہِمَا مُحۡسِنٌ وَّظَالِمٌ لِّنَفۡسِہٖ مُبِیۡنٌ ٪
আমি তার প্রতি বরকত নাযিল করলাম এবং ইসহাকের প্রতিও। তাদের আওলাদের মধ্যে কিছু লোক সৎকর্মশীল এবং কিছু লোক নিজ সত্তার প্রতি প্রকাশ্য জুলুমকারী।
وَلَقَدۡ مَنَنَّا عَلٰی مُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ ۚ
নিশ্চয়ই আমি মূসা ও হারুনের প্রতিও অনুগ্রহ করেছিলাম।
وَنَجَّیۡنٰہُمَا وَقَوۡمَہُمَا مِنَ الۡکَرۡبِ الۡعَظِیۡمِ ۚ
আমি তাদেরকে ও তাদের কওমকে এক মহা সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম।
وَنَصَرۡنٰہُمۡ فَکَانُوۡا ہُمُ الۡغٰلِبِیۡنَ ۚ
আর তাদেরকে সাহায্য করেছিলাম, ফলে তারাই হয়েছিল বিজয়ী।
وَاٰتَیۡنٰہُمَا الۡکِتٰبَ الۡمُسۡتَبِیۡنَ ۚ
আর আমি তাদেরকে এক সুস্পষ্ট কিতাব দিয়েছিলাম।
وَہَدَیۡنٰہُمَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِیۡمَ ۚ
আর তাদেরকে প্রদর্শন করেছিলাম সরল পথ।
وَتَرَکۡنَا عَلَیۡہِمَا فِی الۡاٰخِرِیۡنَ ۙ
আর পরবর্তীদের মধ্যে এই ঐতিহ্য চালু করলাম
سَلٰمٌ عَلٰی مُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ
যে, (তারা বলবে) সালাম হোক মূসা ও হারুনের প্রতি।
اِنَّا کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ
নিশ্চয়ই আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করি।
اِنَّہُمَا مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِیۡنَ
নিশ্চয়ই তারা ছিল আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
وَاِنَّ اِلۡیَاسَ لَمِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ؕ
নিশ্চয়ই ইলিয়াসও রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
اِذۡ قَالَ لِقَوۡمِہٖۤ اَلَا تَتَّقُوۡنَ
যখন সে নিজ কওমকে বলেছিল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করো না?
اَتَدۡعُوۡنَ بَعۡلًا وَّتَذَرُوۡنَ اَحۡسَنَ الۡخَالِقِیۡنَ ۙ
তোমরা কি ‘বা‘ল’ (নামক মূর্তি)-এর পূজা করছ এবং পরিত্যাগ করছ শ্রেষ্ঠতম স্রষ্টাকে?
اللّٰہَ رَبَّکُمۡ وَرَبَّ اٰبَآئِکُمُ الۡاَوَّلِیۡنَ
সেই আল্লাহকে, যিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের বাপ-দাদাদেরও, যারা পূর্বে গত হয়েছে?
فَکَذَّبُوۡہُ فَاِنَّہُمۡ لَمُحۡضَرُوۡنَ ۙ
তারপর এই হল যে, তারা ইলিয়াসকে মিথ্যাবাদী বলল; এর ফলে তাদেরকে অবশ্যই শাস্তির সম্মুখীন করা হবে।
اِلَّا عِبَادَ اللّٰہِ الۡمُخۡلَصِیۡنَ
তবে আল্লাহর মনোনীত বান্দাগণ ছাড়া (তারা থাকবে নিরাপদ)।
وَتَرَکۡنَا عَلَیۡہِ فِی الۡاٰخِرِیۡنَ ۙ
আর পরবর্তীদের মধ্যে এই ঐতিহ্য চালু করলাম
سَلٰمٌ عَلٰۤی اِلۡ یَاسِیۡنَ
যে, (তারা বলবে) সালাম হোক ইলিয়াসীনের প্রতি।
اِنَّا کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ
নিশ্চয়ই আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।
اِنَّہٗ مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِیۡنَ
নিশ্চয়ই সে ছিল আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
وَاِنَّ لُوۡطًا لَّمِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ؕ
নিঃসন্দেহে লূত ছিল রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।
اِذۡ نَجَّیۡنٰہُ وَاَہۡلَہٗۤ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ
যখন আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গের সকলকে রক্ষা করেছিলাম (আযাব থেকে)।
اِلَّا عَجُوۡزًا فِی الۡغٰبِرِیۡنَ
এক বৃদ্ধাকে ছাড়া, যে পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ثُمَّ دَمَّرۡنَا الۡاٰخَرِیۡنَ
তারপর অন্যদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ফেললাম।
وَاِنَّکُمۡ لَتَمُرُّوۡنَ عَلَیۡہِمۡ مُّصۡبِحِیۡنَ
(হে মক্কাবাসীগণ!) তোমরা তো তাদের (বসতিসমূহের) উপর দিয়ে যাতায়াত করে থাক (কখনও) ভোর বেলা।
وَبِالَّیۡلِ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ٪
এবং (কখনও) রাতের বেলা। তা সত্ত্বেও কি তোমরা অনুধাবন করবে না?
وَاِنَّ یُوۡنُسَ لَمِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ؕ
নিশ্চয়ই ইউনুসও ছিল রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।
اِذۡ اَبَقَ اِلَی الۡفُلۡکِ الۡمَشۡحُوۡنِ ۙ
যখন পালিয়ে একটি বোঝাই নৌকায় পৌঁছল।
فَسَاہَمَ فَکَانَ مِنَ الۡمُدۡحَضِیۡنَ ۚ
অতঃপর সে লটারিতে শরীক হল এবং তাতে পরাভূত হল।
فَالۡتَقَمَہُ الۡحُوۡتُ وَہُوَ مُلِیۡمٌ
তারপর মাছ তাকে গিলে ফেলল, যখন সে নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছিল।
فَلَوۡلَاۤ اَنَّہٗ کَانَ مِنَ الۡمُسَبِّحِیۡنَ ۙ
সুতরাং সে যদি তাসবীহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত
لَلَبِثَ فِیۡ بَطۡنِہٖۤ اِلٰی یَوۡمِ یُبۡعَثُوۡنَ ۚؒ
তবে মৃতদেরকে পুনর্জীবিত করার দিন পর্যন্ত সে সেই মাছেরই পেটে থাকত।
فَنَبَذۡنٰہُ بِالۡعَرَآءِ وَہُوَ سَقِیۡمٌ ۚ
অতঃপর আমি তাকে পীড়িত অবস্থায় একটি উন্মুক্ত প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম।
وَاَنۡۢبَتۡنَا عَلَیۡہِ شَجَرَۃً مِّنۡ یَّقۡطِیۡنٍ ۚ
এবং তার উপর উদগত করলাম একটি লতাযুক্ত গাছ।
وَاَرۡسَلۡنٰہُ اِلٰی مِائَۃِ اَلۡفٍ اَوۡ یَزِیۡدُوۡنَ ۚ
তাকে রাসূল করে পাঠিয়েছিলাম এক লাখ, বরং তারও কিছু বেশি লোকের কাছে।
فَاٰمَنُوۡا فَمَتَّعۡنٰہُمۡ اِلٰی حِیۡنٍ ؕ
অতঃপর তারা ঈমান এনেছিল। ফলে আমি তাদেরকে একটা কাল পর্যন্ত জীবন ভোগ করতে দেই।
فَاسۡتَفۡتِہِمۡ اَلِرَبِّکَ الۡبَنَاتُ وَلَہُمُ الۡبَنُوۡنَ ۙ
সুতরাং তাদেরকে (মক্কার মুশরিকদেরকে) জিজ্ঞেস কর, তোমার প্রতিপালকের জন্যই কি রয়েছে কন্যা সন্তান আর তাদের জন্য পুত্র সন্তান?
اَمۡ خَلَقۡنَا الۡمَلٰٓئِکَۃَ اِنَاثًا وَّہُمۡ شٰہِدُوۡنَ
নাকি আমি যখন ফেরেশতাদেরকে নারী বানিয়েছিলাম, তখন তারা তা প্রত্যক্ষ করছিল?
اَلَاۤ اِنَّہُمۡ مِّنۡ اِفۡکِہِمۡ لَیَقُوۡلُوۡنَ ۙ
মনে রেখ, তারা তাদের মনগড়া কথার কারণে বলে
وَلَدَ اللّٰہُ ۙ وَاِنَّہُمۡ لَکٰذِبُوۡنَ
আল্লাহর কোন সন্তান আছে। বস্তুত তারা নিশ্চিতভাবেই মিথ্যাবাদী।
اَصۡطَفَی الۡبَنَاتِ عَلَی الۡبَنِیۡنَ ؕ
আল্লাহ কি পুত্রের পরিবর্তে কন্যাদেরই বেছে নিয়েছেন?
مَا لَکُمۡ ۟ کَیۡفَ تَحۡکُمُوۡنَ
তোমাদের হল কী? তোমরা কেমন বিচার করছ?
اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ ۚ
তোমরা কি এতটুকুও অনুধাবন কর না?
اَمۡ لَکُمۡ سُلۡطٰنٌ مُّبِیۡنٌ ۙ
না কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ আছে?
فَاۡتُوۡا بِکِتٰبِکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ
তবে নিয়ে এসো তোমাদের সেই কিতাব যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
وَجَعَلُوۡا بَیۡنَہٗ وَبَیۡنَ الۡجِنَّۃِ نَسَبًا ؕ وَلَقَدۡ عَلِمَتِ الۡجِنَّۃُ اِنَّہُمۡ لَمُحۡضَرُوۡنَ ۙ
তারা আল্লাহ ও জিনদের মধ্যেও বংশীয় সম্পর্ক স্থির করেছে। অথচ স্বয়ং জিনরোও জানে, তাদেরকে অপরাধীরূপে হাজির করা হবে।
سُبۡحٰنَ اللّٰہِ عَمَّا یَصِفُوۡنَ ۙ
(কেননা) তারা যা-কিছু বলে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র।
اِلَّا عِبَادَ اللّٰہِ الۡمُخۡلَصِیۡنَ
তবে আল্লাহর মনোনীত বান্দাগণ (নিরাপদ থাকবে)।
فَاِنَّکُمۡ وَمَا تَعۡبُدُوۡنَ ۙ
কেননা তোমরা এবং তোমরা যাদের ইবাদত কর তারা
مَاۤ اَنۡتُمۡ عَلَیۡہِ بِفٰتِنِیۡنَ ۙ
তোমরা কেউ আল্লাহ সম্পর্কে কাউকে বিভ্রান্ত করতে পার না
اِلَّا مَنۡ ہُوَ صَالِ الۡجَحِیۡمِ
সেই ব্যক্তিকে ছাড়া, যে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
وَمَا مِنَّاۤ اِلَّا لَہٗ مَقَامٌ مَّعۡلُوۡمٌ ۙ
আর (ফেরেশতাগণ তো বলে) আমাদের প্রত্যেকেরই আছে এক নির্দিষ্ট স্থান।
وَّاِنَّا لَنَحۡنُ الصَّآفُّوۡنَ ۚ
আর আমরা তো (আল্লাহ তাআলার আনুগত্যে) সারিবদ্ধ হয়ে থাকি।
وَاِنَّا لَنَحۡنُ الۡمُسَبِّحُوۡنَ
এবং আমরা তো তাঁর পবিত্রতা বর্ণনায় রত থাকি।
وَاِنۡ کَانُوۡا لَیَقُوۡلُوۡنَ ۙ
তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) পূর্বে তো বলত
لَوۡ اَنَّ عِنۡدَنَا ذِکۡرًا مِّنَ الۡاَوَّلِیۡنَ ۙ
আমাদের কাছে যদি পূর্ববর্তী লোকদের মত উপদেশবাণী থাকত
لَکُنَّا عِبَادَ اللّٰہِ الۡمُخۡلَصِیۡنَ
তবে আমরাও আল্লাহর মনোনীত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।
فَکَفَرُوۡا بِہٖ فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ
তা সত্ত্বেও তারা তার কুফরীতে লিপ্ত হল। সুতরাং তারা অচিরেই জানতে পারবে।
وَلَقَدۡ سَبَقَتۡ کَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۚۖ
আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে পূর্বেই আমার একথা স্থিরীকৃত রয়েছে
اِنَّہُمۡ لَہُمُ الۡمَنۡصُوۡرُوۡنَ ۪
যে, নিশ্চিতভাবেই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
وَاِنَّ جُنۡدَنَا لَہُمُ الۡغٰلِبُوۡنَ
এবং নিশ্চয়ই আমার বাহিনীই হবে জয়যুক্ত।
فَتَوَلَّ عَنۡہُمۡ حَتّٰی حِیۡنٍ ۙ
সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি কিছু কাল পর্যন্ত তাদেরকে উপেক্ষা করে চল।
وَّاَبۡصِرۡہُمۡ فَسَوۡفَ یُبۡصِرُوۡنَ
এবং তাদেরকে দেখতে থাক। অচিরেই তারা নিজেরাও দেখতে পাবে।
اَفَبِعَذَابِنَا یَسۡتَعۡجِلُوۡنَ
তবে কি তারা আমার শাস্তির জন্য তাড়াহুড়া করছে?
فَاِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِہِمۡ فَسَآءَ صَبَاحُ الۡمُنۡذَرِیۡنَ
তাদের আঙ্গিনায় যখন শাস্তি নেমে আসবে, তখন যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, তাদের প্রভাত হবে অতি মন্দ।
وَتَوَلَّ عَنۡہُمۡ حَتّٰی حِیۡنٍ ۙ
তুমি কিছু কালের জন্য তাদেরকে উপেক্ষা কর।
وَّاَبۡصِرۡ فَسَوۡفَ یُبۡصِرُوۡنَ
এবং দেখতে থাক, অচিরেই তারা নিজেরাও দেখতে পাবে।
سُبۡحٰنَ رَبِّکَ رَبِّ الۡعِزَّۃِ عَمَّا یَصِفُوۡنَ ۚ
তোমার প্রতিপালক, যিনি ক্ষমতার মালিক, তারা যা বলছে, তা হতে পবিত্র।
وَسَلٰمٌ عَلَی الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۚ
আর সালাম রাসূলদের প্রতি।
وَالۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٪
এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।