الزمر

الزمر

আয-যুমার

আয়াত ৭৫ · মক্কী · পারা ২৩

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ مِنَ اللّٰہِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَکِیۡمِ

এ কিতাব নাযিল করা হয়েছে আল্লাহর পক্ষ হতে, যিনি মহা ক্ষমতাবান, হেকমতওয়ালা।

اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکَ الۡکِتٰبَ بِالۡحَقِّ فَاعۡبُدِ اللّٰہَ مُخۡلِصًا لَّہُ الدِّیۡنَ ؕ

(হে রাসূল!) নিশ্চয়ই আমিই এ কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করেছি সত্যসহ। সুতরাং তুমি আল্লাহর ইবাদত কর তাঁর জন্য আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।

اَلَا لِلّٰہِ الدِّیۡنُ الۡخَالِصُ ؕ وَالَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ ۘ مَا نَعۡبُدُہُمۡ اِلَّا لِیُقَرِّبُوۡنَاۤ اِلَی اللّٰہِ زُلۡفٰی ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَحۡکُمُ بَیۡنَہُمۡ فِیۡ مَا ہُمۡ فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ۬ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِیۡ مَنۡ ہُوَ کٰذِبٌ کَفَّارٌ

স্মরণ রেখ, খালেস আনুগত্য তাঁরই প্রাপ্য। যারা তাঁকে ছাড়া অন্যসব অভিভাবক বানিয়ে নিয়েছে (এই কথা বলে যে,) আমরা তাদের উপাসনা করি কেবল এজন্য যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে, আল্লাহ তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে মীমাংসা করে দেবেন যার মাঝে তারা মতবিরোধ করছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন কোন ব্যক্তিকে পথে আনেন না, যে চরম মিথ্যুক, ঘোর কাফের।

لَوۡ اَرَادَ اللّٰہُ اَنۡ یَّتَّخِذَ وَلَدًا لَّاصۡطَفٰی مِمَّا یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ۙ سُبۡحٰنَہٗ ؕ ہُوَ اللّٰہُ الۡوَاحِدُ الۡقَہَّارُ

আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করতে চাইলে নিজ সৃষ্টির মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা বেছে নিতে পারতেন, (কিন্তু) তিনি (এ বিষয় হতে) পবিত্র (যে, তার কোন সন্তান থাকবে)। তিনি তো আল্লাহ, এক এবং প্রচণ্ড ক্ষমতার অধিকারী।

خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ۚ یُکَوِّرُ الَّیۡلَ عَلَی النَّہَارِ وَیُکَوِّرُ النَّہَارَ عَلَی الَّیۡلِ وَسَخَّرَ الشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ ؕ کُلٌّ یَّجۡرِیۡ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ اَلَا ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡغَفَّارُ

তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাতকে দিনের উপর বিছিয়ে দেন এবং দিনকে রাতের উপর বিছিয়ে দেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রতিটি নির্দিষ্ট এক মেয়াদ পর্যন্ত সঞ্চরণ করছে। স্মরণ রেখ, তিনি অশেষ ক্ষমতার মালিক, পরম ক্ষমাশীল।

خَلَقَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنۡہَا زَوۡجَہَا وَاَنۡزَلَ لَکُمۡ مِّنَ الۡاَنۡعَامِ ثَمٰنِیَۃَ اَزۡوَاجٍ ؕ یَخۡلُقُکُمۡ فِیۡ بُطُوۡنِ اُمَّہٰتِکُمۡ خَلۡقًا مِّنۡۢ بَعۡدِ خَلۡقٍ فِیۡ ظُلُمٰتٍ ثَلٰثٍ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ لَہُ الۡمُلۡکُ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ فَاَنّٰی تُصۡرَفُوۡنَ

তিনি তোমাদের সকলকে সৃষ্টি করেছেন একই ব্যক্তি হতে, আর তার জোড়া বানিয়েছেন তারই থেকে। আর তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হতে আটটি জোড়া সৃষ্টি করেছেন। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভে এভাবে সৃষ্টি করেন যে, তিন অন্ধকারের মধ্যে তোমরা একের পর এক সৃজন স্তর অতিক্রম কর। তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের প্রতিপালক। সমস্ত রাজত্ব তাঁরই। তিনি ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কেউ নেই, তারপরও কে কোথা হতে তোমাদের মুখ ফিরিয়ে দিচ্ছে?

اِنۡ تَکۡفُرُوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ غَنِیٌّ عَنۡکُمۡ ۟ وَلَا یَرۡضٰی لِعِبَادِہِ الۡکُفۡرَ ۚ وَاِنۡ تَشۡکُرُوۡا یَرۡضَہُ لَکُمۡ ؕ وَلَا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی ؕ ثُمَّ اِلٰی رَبِّکُمۡ مَّرۡجِعُکُمۡ فَیُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ

তোমরা কুফর অবলম্বন করলে নিশ্চিত জেনে রেখ আল্লাহ তোমাদের কারও মুখাপেক্ষী নন। তিনি নিজ বান্দাদের জন্য কুফর পছন্দ করেন না। আর তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে, তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করবেন। কোনও বোঝা বহনকারী অন্য কারও বোঝা বহন করবে না। তারপর তোমাদের সকলকে তোমাদের প্রতিপালকের কাছেই ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের কথাও ভালোভাবে জানেন।

وَاِذَا مَسَّ الۡاِنۡسَانَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّہٗ مُنِیۡبًا اِلَیۡہِ ثُمَّ اِذَا خَوَّلَہٗ نِعۡمَۃً مِّنۡہُ نَسِیَ مَا کَانَ یَدۡعُوۡۤا اِلَیۡہِ مِنۡ قَبۡلُ وَجَعَلَ لِلّٰہِ اَنۡدَادًا لِّیُضِلَّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ؕ قُلۡ تَمَتَّعۡ بِکُفۡرِکَ قَلِیۡلًا ٭ۖ اِنَّکَ مِنۡ اَصۡحٰبِ النَّارِ

মানুষকে যখন কোন কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে নিজ প্রতিপালককে তাঁরই অভিমুখী হয়ে ডাকে। অতঃপর তিনি মানুষকে যখন নিজের পক্ষ থেকে কোন নি‘আমত দান করেন, তখন সে তা (অর্থাৎ সেই কষ্টের কথা) ভুলে যায়, যে জন্য সে ইতঃপূর্বে আল্লাহকে ডাকছিল। আর তখন সে আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করে, যার ফলে সে অন্যকেও আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে। বল, কিছুদিন নিজ কুফরের মজা ভোগ করে নাও। নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।

اَمَّنۡ ہُوَ قَانِتٌ اٰنَآءَ الَّیۡلِ سَاجِدًا وَّقَآئِمًا یَّحۡذَرُ الۡاٰخِرَۃَ وَیَرۡجُوۡا رَحۡمَۃَ رَبِّہٖ ؕ  قُلۡ ہَلۡ یَسۡتَوِی الَّذِیۡنَ یَعۡلَمُوۡنَ وَالَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ؕ  اِنَّمَا یَتَذَکَّرُ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ ٪

তবে কি (এরূপ ব্যক্তি সেই ব্যক্তির সমতুল্য হতে পারে,) যে রাতের মুহূর্তগুলোতে ইবাদত করে, কখনও সিজদাবস্থায়, কখনও দাঁড়িয়ে, যে আখেরাতকে ভয় করে এবং নিজ প্রতিপালকের রহমতের আশা করে? বল, যারা জানে আর যারা জানে না উভয়ে কি সমান? (কিন্তু) উপদেশ গ্রহণ তো কেবল বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই করে।

قُلۡ یٰعِبَادِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوۡا رَبَّکُمۡ ؕ لِلَّذِیۡنَ اَحۡسَنُوۡا فِیۡ ہٰذِہِ الدُّنۡیَا حَسَنَۃٌ ؕ وَاَرۡضُ اللّٰہِ وَاسِعَۃٌ ؕ اِنَّمَا یُوَفَّی الصّٰبِرُوۡنَ اَجۡرَہُمۡ بِغَیۡرِ حِسَابٍ

বল, হে আমার মুমিন বান্দাগণ! অন্তরে তোমাদের প্রতিপালকের ভয় রাখ। যারা এ দুনিয়াতে ভালো কাজ করে তাদের জন্য আছে কল্যাণ। আল্লাহর যমীন প্রশস্ত। যারা সবর অবলম্বন করে তাদেরকে তাদের সওয়াব দেওয়া হবে অপরিমিত।

قُلۡ اِنِّیۡۤ اُمِرۡتُ اَنۡ اَعۡبُدَ اللّٰہَ مُخۡلِصًا لَّہُ الدِّیۡنَ ۙ

বলে দাও, আমাকে তো আদেশ করা হয়েছে, যেন আল্লাহর ইবাদত করি তার জন্য আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।

وَاُمِرۡتُ لِاَنۡ اَکُوۡنَ اَوَّلَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ

এবং আমাকে আদেশ করা হয়েছে যে, যেন আমি হই সর্বপ্রথম আত্মসমর্পণকারী।

قُلۡ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اِنۡ عَصَیۡتُ رَبِّیۡ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ

বলে দাও, আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করি, তবে আমার ভয় রয়েছে এক মহা দিবসের শাস্তির।

قُلِ اللّٰہَ اَعۡبُدُ مُخۡلِصًا لَّہٗ دِیۡنِیۡ ۙ

বলে দাও, আমি তো আল্লাহর ইবাদত করি নিজ আনুগত্যকে তারই জন্য খালেস করে।

فَاعۡبُدُوۡا مَا شِئۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ ؕ قُلۡ اِنَّ الۡخٰسِرِیۡنَ الَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ وَاَہۡلِیۡہِمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اَلَا ذٰلِکَ ہُوَ الۡخُسۡرَانُ الۡمُبِیۡنُ

অতএব, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইচ্ছা ইবাদত কর। বলে দাও, (ব্যবসায়ে) ক্ষতিগ্রস্ত তো তারাই, যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের প্রাণ ও নিজেদের পরিবারবর্গের সবই হারাবে। মনে রেখ, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।

لَہُمۡ مِّنۡ فَوۡقِہِمۡ ظُلَلٌ مِّنَ النَّارِ وَمِنۡ تَحۡتِہِمۡ ظُلَلٌ ؕ ذٰلِکَ یُخَوِّفُ اللّٰہُ بِہٖ عِبَادَہٗ ؕ یٰعِبَادِ فَاتَّقُوۡنِ

তাদের জন্য তাদের উপর দিক থেকেও থাকবে আগুনের মেঘ এবং তাদের নিচের দিকেও থাকবে অনুরূপ মেঘ। এটাই সেই জিনিস যা দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। সুতরাং হে আমার বান্দাগণ অন্তরে আমার ভয় রাখ।

وَالَّذِیۡنَ اجۡتَنَبُوا الطَّاغُوۡتَ اَنۡ یَّعۡبُدُوۡہَا وَاَنَابُوۡۤا اِلَی اللّٰہِ لَہُمُ الۡبُشۡرٰی ۚ  فَبَشِّرۡ عِبَادِ ۙ

যারা তাগুতের পূজা পরিহার করেছে ও আল্লাহর অভিমুখী হয়েছে, সুসংবাদ তাদেরই জন্য। সুতরাং আমার সেই বান্দাদেরকে সুসংবাদ শোনাও।

الَّذِیۡنَ یَسۡتَمِعُوۡنَ الۡقَوۡلَ فَیَتَّبِعُوۡنَ اَحۡسَنَہٗ ؕ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ ہَدٰىہُمُ اللّٰہُ وَاُولٰٓئِکَ ہُمۡ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ

যারা কথা শোনে মনোযোগ দিয়ে, অতঃপর তার মধ্যে যা-কিছু উত্তম তার অনুসরণ করে, তারাই এমন লোক, যাদেরকে আল্লাহ হেদায়াত দান করেছেন এবং তারাই বোধশক্তিসম্পন্ন।

اَفَمَنۡ حَقَّ عَلَیۡہِ کَلِمَۃُ الۡعَذَابِ ؕ  اَفَاَنۡتَ تُنۡقِذُ مَنۡ فِی النَّارِ ۚ

তবে কি যার উপর শাস্তি-বাণী অবধারিত হয়ে গেছে, তুমি রক্ষা করতে পারবে তাকে, যে আগুনের ভেতর পৌঁছে গেছে?

لٰکِنِ الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا رَبَّہُمۡ لَہُمۡ غُرَفٌ مِّنۡ فَوۡقِہَا غُرَفٌ مَّبۡنِیَّۃٌ ۙ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ۬ؕ وَعۡدَ اللّٰہِ ؕ لَا یُخۡلِفُ اللّٰہُ الۡمِیۡعَادَ

তবে যারা অন্তরে নিজ প্রতিপালকের ভয় রাখে, তাদের জন্য আছে বহু প্রাসাদ, যেগুলোর উপরে নির্মিত বহু প্রাসাদ, যার নিচে বয়ে চলে নদ-নদী। এটা আল্লাহর ওয়াদা। আল্লাহ কখনও ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَلَکَہٗ یَنَابِیۡعَ فِی الۡاَرۡضِ ثُمَّ یُخۡرِجُ بِہٖ زَرۡعًا مُّخۡتَلِفًا اَلۡوَانُہٗ ثُمَّ یَہِیۡجُ فَتَرٰىہُ مُصۡفَرًّا ثُمَّ یَجۡعَلُہٗ حُطَامًا ؕ  اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَذِکۡرٰی لِاُولِی الۡاَلۡبَابِ ٪

তুমি কি দেখনি আল্লাহ আকাশ থেকে বারিপাত করেছেন, তারপর তা ভূমির নির্ঝরে প্রবাহিত করেছেন? তারপর তা দ্বারা বিভিন্ন রংয়ের ফসল উৎপন্ন করেন। তারপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তুমি দেখতে পাও তা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। তারপর তিনি তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য উপদেশ আছে।

اَفَمَنۡ شَرَحَ اللّٰہُ صَدۡرَہٗ لِلۡاِسۡلَامِ فَہُوَ عَلٰی نُوۡرٍ مِّنۡ رَّبِّہٖ ؕ فَوَیۡلٌ لِّلۡقٰسِیَۃِ قُلُوۡبُہُمۡ مِّنۡ ذِکۡرِ اللّٰہِ ؕ اُولٰٓئِکَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ

আল্লাহ ইসলামের জন্য যার বক্ষ খুলে দিয়েছেন, ফলে সে তার প্রতিপালকের দেওয়া আলোতে এসে গেছে (সে কি কঠোর হৃদয় ব্যক্তিদের সমতুল্য হতে পারে?) সুতরাং ধ্বংস সেই কঠোরপ্রাণদের জন্য, যারা আল্লাহর যিকির থেকে বিমুখ। তারা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিপতিত।

اَللّٰہُ نَزَّلَ اَحۡسَنَ الۡحَدِیۡثِ کِتٰبًا مُّتَشَابِہًا مَّثَانِیَ ٭ۖ تَقۡشَعِرُّ مِنۡہُ جُلُوۡدُ الَّذِیۡنَ یَخۡشَوۡنَ رَبَّہُمۡ ۚ ثُمَّ تَلِیۡنُ جُلُوۡدُہُمۡ وَقُلُوۡبُہُمۡ اِلٰی ذِکۡرِ اللّٰہِ ؕ ذٰلِکَ ہُدَی اللّٰہِ یَہۡدِیۡ بِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَمَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ ہَادٍ

আল্লাহ নাযিল করেছেন উত্তম বাণী এমন এক কিতাব যার বিষয়বস্তুসমূহ পরস্পর সুসামঞ্জস্য, (যার বক্তব্যসমূহ) পুনরাবৃত্তিকৃত, যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে এর দ্বারা তাদের শরীর রোমাঞ্চিত হয়। তারপর তাদের দেহ-মন বিগলিত হয়ে আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকে পড়ে। এটা আল্লাহর হেদায়াত, যার মাধ্যমে তিনি যাকে চান সঠিক পথে নিয়ে আসেন আর আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন, তাকে সঠিক পথে আনার কেউ নেই।

اَفَمَنۡ یَّتَّقِیۡ بِوَجۡہِہٖ سُوۡٓءَ الۡعَذَابِ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ وَقِیۡلَ لِلظّٰلِمِیۡنَ ذُوۡقُوۡا مَا کُنۡتُمۡ تَکۡسِبُوۡنَ

(সেই ব্যক্তির অবস্থা কতই না মন্দ হবে) যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার চেহারা দ্বারা নিকৃষ্ট শাস্তি ঠেকাতে চাবে? জালেমদেরকে বলা হবে, তোমরা যা অর্জন করতে তার স্বাদ গ্রহণ কর।

کَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ فَاَتٰىہُمُ الۡعَذَابُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَشۡعُرُوۡنَ

তাদের পূর্ববর্তী লোকেরাও (তাদের নবীগণকে) অস্বীকার করেছিল। পরিণামে এমন দিক থেকে শাস্তি তাদের কাছে আসল যা তারা ধারণাও করতে পারছিল না।

فَاَذَاقَہُمُ اللّٰہُ الۡخِزۡیَ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۚ وَلَعَذَابُ الۡاٰخِرَۃِ اَکۡبَرُ ۘ لَوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ

আল্লাহ তাদেরকে পার্থিব জীবনেই লাঞ্ছনা ভোগ করালেন আর আখেরাতের শাস্তি তো আরও বড় যদি তারা জানত।

وَلَقَدۡ ضَرَبۡنَا لِلنَّاسِ فِیۡ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنِ مِنۡ کُلِّ مَثَلٍ لَّعَلَّہُمۡ یَتَذَکَّرُوۡنَ ۚ

বস্তুত আমি এ কুরআনে মানুষের জন্য সব রকমের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি, যাতে মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করে।

قُرۡاٰنًا عَرَبِیًّا غَیۡرَ ذِیۡ عِوَجٍ لَّعَلَّہُمۡ یَتَّقُوۡنَ

এটা আরবী কুরআন, নয় বক্রতাপূর্ণ, যাতে মানুষ তাকওয়া অবলম্বন করে।

ضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا رَّجُلًا فِیۡہِ شُرَکَآءُ مُتَشٰکِسُوۡنَ وَرَجُلًا سَلَمًا لِّرَجُلٍ ؕ ہَلۡ یَسۡتَوِیٰنِ مَثَلًا ؕ اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ ۚ بَلۡ اَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন এই যে, এক ব্যক্তি (অর্থাৎ এক গোলাম) এমন, যার মধ্যে কয়েক ব্যক্তি অংশীদার; যারা পরস্পর বিরুদ্ধ ভাবাপন্ন আর অপর ব্যক্তি (অন্য গোলাম) এমন, যে সম্পূর্ণরূপে একই ব্যক্তির মালিকানায়। এ উভয় ব্যক্তির অবস্থা একই রকম হতে পারে? আলহামদুলিল্লাহ! (এ দৃষ্টান্ত দ্বারা বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেছে), কিন্তু তাদের অধিকাংশেই বোঝে না।

اِنَّکَ مَیِّتٌ وَّاِنَّہُمۡ مَّیِّتُوۡنَ ۫

(হে রাসূল!) নিশ্চয় তুমি মরণশীল এবং তারাও অবশ্যই মরণশীল।

ثُمَّ اِنَّکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ عِنۡدَ رَبِّکُمۡ تَخۡتَصِمُوۡنَ ٪

অবশেষে তোমরা সকলে কিয়ামতের দিন তোমাদের প্রতিপালকের সামনে বাদানুবাদ করবে।

فَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنۡ کَذَبَ عَلَی اللّٰہِ وَکَذَّبَ بِالصِّدۡقِ اِذۡ جَآءَہٗ ؕ اَلَیۡسَ فِیۡ جَہَنَّمَ مَثۡوًی لِّلۡکٰفِرِیۡنَ

সুতরাং বল, সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে আর যখন তার কাছে সত্য কথা আসে তা প্রত্যাখ্যান করে? কাফেরদের ঠিকানা কি জাহান্নামে নয়?

وَالَّذِیۡ جَآءَ بِالصِّدۡقِ وَصَدَّقَ بِہٖۤ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُتَّقُوۡنَ

আর যে ব্যক্তি সত্য কথা নিয়ে আসে এবং নিজেও তা বিশ্বাস করে, এরূপ লোকই মুত্তাকী।

لَہُمۡ مَّا یَشَآءُوۡنَ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ؕ  ذٰلِکَ جَزٰٓوٴُا الۡمُحۡسِنِیۡنَ ۚۖ

তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে পাবে বাঞ্ছিত সবকিছু- এটাই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।

لِیُکَفِّرَ اللّٰہُ عَنۡہُمۡ اَسۡوَاَ الَّذِیۡ عَمِلُوۡا وَیَجۡزِیَہُمۡ اَجۡرَہُمۡ بِاَحۡسَنِ الَّذِیۡ کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ

তা এজন্য যে, তারা যে মন্দকাজ করেছিল আল্লাহ তা ক্ষমা করে দিবেন আর যেসব উৎকৃষ্ট কাজে রত ছিল তাদেরকে তার পুরস্কার দান করবেন।

اَلَیۡسَ اللّٰہُ بِکَافٍ عَبۡدَہٗ ؕ  وَیُخَوِّفُوۡنَکَ بِالَّذِیۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖ ؕ  وَمَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ ہَادٍ ۚ

(হে রাসূল!) আল্লাহ কি তার বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? তারা তোমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যদের ভয় দেখায়। আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন তাকে পথে আনার কেউ নেই।

وَمَنۡ یَّہۡدِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ مُّضِلٍّ ؕ اَلَیۡسَ اللّٰہُ بِعَزِیۡزٍ ذِی انۡتِقَامٍ

আর আল্লাহ যাকে সুপথে আনেন, তাকে বিপথগামী করারও কেউ নেই। আল্লাহ কি পরাক্রান্ত, শাস্তিদাতা নন?

وَلَئِنۡ سَاَلۡتَہُمۡ مَّنۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ لَیَقُوۡلُنَّ اللّٰہُ ؕ قُلۡ اَفَرَءَیۡتُمۡ مَّا تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اِنۡ اَرَادَنِیَ اللّٰہُ بِضُرٍّ ہَلۡ ہُنَّ کٰشِفٰتُ ضُرِّہٖۤ اَوۡ اَرَادَنِیۡ بِرَحۡمَۃٍ ہَلۡ ہُنَّ مُمۡسِکٰتُ رَحۡمَتِہٖ ؕ قُلۡ حَسۡبِیَ اللّٰہُ ؕ عَلَیۡہِ یَتَوَکَّلُ الۡمُتَوَکِّلُوۡنَ

তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছে? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ! (তাদেরকে) বল, তোমরা বল তো, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের (অর্থাৎ যেই প্রতিমাদের)কে ডাক, আল্লাহ আমার কোন ক্ষতি করতে চাইলে তারা কি সেই ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা আল্লাহ যদি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চান, তবে তারা কি তাঁর সেই রহমত ঠেকাতে পারবে? বল, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। ভরসাকারীগণ তো তাঁরই উপর ভরসা করে।

قُلۡ یٰقَوۡمِ اعۡمَلُوۡا عَلٰی مَکَانَتِکُمۡ اِنِّیۡ عَامِلٌ ۚ  فَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ۙ

বলে দাও, হে আমার কওম! তোমরা আপন নিয়ম অনুসারে কাজ করতে থাক, আমিও (আমার নিয়মে) কাজ করছি। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে

مَنۡ یَّاۡتِیۡہِ عَذَابٌ یُّخۡزِیۡہِ وَیَحِلُّ عَلَیۡہِ عَذَابٌ مُّقِیۡمٌ

কার প্রতি আসে এমন শাস্তি, যা তাকে লাঞ্ছিত করে ছাড়বে এবং কার প্রতি অবতীর্ণ হয় স্থায়ী শাস্তি।

اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکَ الۡکِتٰبَ لِلنَّاسِ بِالۡحَقِّ ۚ  فَمَنِ اہۡتَدٰی فَلِنَفۡسِہٖ ۚ  وَمَنۡ ضَلَّ فَاِنَّمَا یَضِلُّ عَلَیۡہَا ۚ  وَمَاۤ اَنۡتَ عَلَیۡہِمۡ بِوَکِیۡلٍ ٪

(হে রাসূল!) আমি মানুষের কল্যাণার্থে তোমার প্রতি সত্যসহ এ কিতাব নাযিল করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি সঠিক পথে এসে যাবে সে আসবে নিজেরই কল্যাণার্থে আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতা অবলম্বন করবে, সে তার পথভ্রষ্টতা দ্বারা নিজেরই ক্ষতি করবে। তুমি তাদের তত্ত্বাবধায়ক নও।

اَللّٰہُ یَتَوَفَّی الۡاَنۡفُسَ حِیۡنَ مَوۡتِہَا وَالَّتِیۡ لَمۡ تَمُتۡ فِیۡ مَنَامِہَا ۚ فَیُمۡسِکُ الَّتِیۡ قَضٰی عَلَیۡہَا الۡمَوۡتَ وَیُرۡسِلُ الۡاُخۡرٰۤی اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ

আল্লাহ রূহসমূহকে কবয করেন তাদের মৃত্যুকালে আর এখনও যার মৃত্যু আসেনি তাকেও (কবয করেন) তার নিদ্রাকালে। অতঃপর যার সম্পর্কে তিনি মৃত্যুর ফায়সালা করেছেন, তাকে রেখে দেন আর অন্যান্য রূহকে এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত ছেড়ে দেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে বহু নিদর্শন আছে সেই সকল লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে।

اَمِ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ شُفَعَآءَ ؕ قُلۡ اَوَلَوۡ کَانُوۡا لَا یَمۡلِکُوۡنَ شَیۡئًا وَّلَا یَعۡقِلُوۡنَ

তবে কি তারা আল্লাহ (-এর অনুমতি) ছাড়া সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে। (তাদেরকে) বল, তাদের (অর্থাৎ সেই সুপারিশকারীদের) কোন ক্ষমতা না থাকলেও এবং তারা কোন বোধবুদ্ধি না রাখলেও (তাদেরকে সুপারিশকারী মানতে থাকবে)?

قُلۡ لِّلّٰہِ الشَّفَاعَۃُ جَمِیۡعًا ؕ لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ ثُمَّ اِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ

বল, সমস্ত সুপারিশ তো আল্লাহরই এখতিয়ারে। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁরই হাতে। পরিশেষে তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

وَاِذَا ذُکِرَ اللّٰہُ وَحۡدَہُ اشۡمَاَزَّتۡ قُلُوۡبُ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ ۚ وَاِذَا ذُکِرَ الَّذِیۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اِذَا ہُمۡ یَسۡتَبۡشِرُوۡنَ

যখন এক আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, তখন যারা আখেরাতে ঈমান রাখে না তাদের অন্তর বিরক্ত হয় আর যখন তাঁকে ছাড়া অন্যের কথা বলা হয়, অমনি তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে।

قُلِ اللّٰہُمَّ فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ عٰلِمَ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ اَنۡتَ تَحۡکُمُ بَیۡنَ عِبَادِکَ فِیۡ مَا کَانُوۡا فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ

বল, হে আল্লাহ! হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা! সমস্ত অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞাতা! তুমিই তোমার বান্দাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবে সেই বিষয়ে যা নিয়ে তারা মতবিরোধে লিপ্ত।

وَلَوۡ اَنَّ لِلَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مَا فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا وَّمِثۡلَہٗ مَعَہٗ لَافۡتَدَوۡا بِہٖ مِنۡ سُوۡٓءِ الۡعَذَابِ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ وَبَدَا لَہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ مَا لَمۡ یَکُوۡنُوۡا یَحۡتَسِبُوۡنَ

যারা জুলুমে লিপ্ত হয়েছে, যদি দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ তাদের থাকে এবং তার সমপরিমাণ আরও, তবে কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম শাস্তি হতে বাঁচার জন্য তা সবই মুক্তিপণ স্বরূপ দিয়ে দেবে। আর আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের সামনে এমন কিছু প্রকাশ পাবে, যা তারা কল্পনাও করেনি।

وَبَدَا لَہُمۡ سَیِّاٰتُ مَا کَسَبُوۡا وَحَاقَ بِہِمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ

তারা যা-কিছু অর্জন করেছিল, তার মন্দ ফল তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে যাবে এবং তারা যে বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তা তাদেরকে চারদিক থেকে বেষ্টন করে ফেলবে।

فَاِذَا مَسَّ الۡاِنۡسَانَ ضُرٌّ دَعَانَا ۫ ثُمَّ اِذَا خَوَّلۡنٰہُ نِعۡمَۃً مِّنَّا ۙ قَالَ اِنَّمَاۤ اُوۡتِیۡتُہٗ عَلٰی عِلۡمٍ ؕ بَلۡ ہِیَ فِتۡنَۃٌ وَّلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

মানুষকে যখন কোন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে আমাকে ডাকে তারপর যখন আমি আমার পক্ষ হতে তাকে কোন নি‘আমত দান করি, তখন সে বলে, এটা তো আমি লাভ করেছি (আমার) জ্ঞানবলে। না, বরং এটা একটা পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশেই জানে না।

قَدۡ قَالَہَا الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ فَمَاۤ اَغۡنٰی عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ

একথাই বলেছিল তাদের পূর্ববর্তী (কিছু) লোক। ফলে, তারা যা অর্জন করত, তা তাদের কোন কাজে আসল না।

فَاَصَابَہُمۡ سَیِّاٰتُ مَا کَسَبُوۡا ؕ وَالَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مِنۡ ہٰۤؤُلَآءِ سَیُصِیۡبُہُمۡ سَیِّاٰتُ مَا کَسَبُوۡا ۙ وَمَا ہُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ

এবং তারা যা অর্জন করেছিল তার মন্দ ফল তাদের উপর আপতিত হয়েছে এবং তাদের (অর্থাৎ আরবদের) মধ্যে যারা জুলুম করেছে তাদের কৃতকর্মের মন্দফলও অচিরে তাদের উপর আপতিত হবে এবং তারা (আল্লাহকে) ব্যর্থ করতে পারবে না।

اَوَلَمۡ یَعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیَقۡدِرُ ؕ  اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ ٪

তারা কি জানে না আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা রিযক প্রশস্ত করে দেন এবং তিনিই সঙ্কুচিতও করেন? নিশ্চয়ই এর মধ্যে বহু নিদর্শন আছে সেই সব লোকের জন্য, যারা ঈমান আনে।

قُلۡ یٰعِبَادِیَ الَّذِیۡنَ اَسۡرَفُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ لَا تَقۡنَطُوۡا مِنۡ رَّحۡمَۃِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَغۡفِرُ الذُّنُوۡبَ جَمِیۡعًا ؕ اِنَّہٗ ہُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ

বলে দাও, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজ সত্তার উপর সীমালংঘন করেছে, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

وَاَنِیۡبُوۡۤا اِلٰی رَبِّکُمۡ وَاَسۡلِمُوۡا لَہٗ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَکُمُ الۡعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنۡصَرُوۡنَ

তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হয়ে যাও এবং তাঁর সমীপে আনুগত্য প্রকাশ কর তোমাদের নিকট শাস্তি আসার আগে, যার পর আর তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।

وَاتَّبِعُوۡۤا اَحۡسَنَ مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکُمۡ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَکُمُ الۡعَذَابُ بَغۡتَۃً وَّاَنۡتُمۡ لَا تَشۡعُرُوۡنَ ۙ

এবং তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের উপর উত্তম যা-কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে তার অনুসরণ কর তোমাদের কাছে অতর্কিতভাবে শাস্তি আসার আগে, অথচ তোমরা তা জানতেও পারবে না।

اَنۡ تَقُوۡلَ نَفۡسٌ یّٰحَسۡرَتٰی عَلٰی مَا فَرَّطۡتُّ فِیۡ جَنۡۢبِ اللّٰہِ وَاِنۡ کُنۡتُ لَمِنَ السّٰخِرِیۡنَ ۙ

যাতে কাউকে বলতে না হয় যে, হায়! আল্লাহর ব্যাপারে আমি যে অবহেলা করেছি তার জন্য আফসোস! প্রকৃতপক্ষে আমি (আল্লাহ তাআলার বিধি-বিধান নিয়ে) ঠাট্টাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিলাম।

اَوۡ تَقُوۡلَ لَوۡ اَنَّ اللّٰہَ ہَدٰىنِیۡ لَکُنۡتُ مِنَ الۡمُتَّقِیۡنَ ۙ

অথবা কাউকে বলতে না হয় যে, আল্লাহ যদি আমাকে হেদায়াত দিতেন তবে আমিও মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।

اَوۡ تَقُوۡلَ حِیۡنَ تَرَی الۡعَذَابَ لَوۡ اَنَّ لِیۡ کَرَّۃً فَاَکُوۡنَ مِنَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ

অথবা শাস্তি চাক্ষুষ দেখার পর যেন কাউকে বলতে না হয়, আহা! আমার যদি একটিবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ হত, তবে আমি সৎকর্মশীলদের একজন হয়ে যেতাম।

بَلٰی قَدۡ جَآءَتۡکَ اٰیٰتِیۡ فَکَذَّبۡتَ بِہَا وَاسۡتَکۡبَرۡتَ وَکُنۡتَ مِنَ الۡکٰفِرِیۡنَ

অবশ্যই (তোমাকে হেদায়াত দেওয়া হয়েছিল)। আমার নিদর্শনাবলী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তাকে মিথ্যা বলেছিলে এবং অহমিকা দেখিয়েছিলে আর তুমি ছিলে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত।

وَیَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ تَرَی الَّذِیۡنَ کَذَبُوۡا عَلَی اللّٰہِ وُجُوۡہُہُمۡ مُّسۡوَدَّۃٌ ؕ اَلَیۡسَ فِیۡ جَہَنَّمَ مَثۡوًی لِّلۡمُتَکَبِّرِیۡنَ

কিয়ামতের দিন তুমি দেখবে, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল, তাদের চেহারা কালো হয়ে গেছে। এরূপ অহংকারীদের ঠিকানা কি জাহান্নামে নয়?

وَیُنَجِّی اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا بِمَفَازَتِہِمۡ ۫ لَا یَمَسُّہُمُ السُّوۡٓءُ وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ

যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদেরকে মুক্তি দেবেন তাদের আমলসহ। কোন কষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করবে না এবং তাদের থাকবে না কোন দুঃখ।

اَللّٰہُ خَالِقُ کُلِّ شَیۡءٍ ۫ وَّہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ وَّکِیۡلٌ

আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সমস্ত কিছুর রক্ষক।

لَہٗ مَقَالِیۡدُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِاٰیٰتِ اللّٰہِ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ ٪

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কুঞ্জিরাশি তাঁরই নিকট। যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।

قُلۡ اَفَغَیۡرَ اللّٰہِ تَاۡمُرُوۡٓنِّیۡۤ اَعۡبُدُ اَیُّہَا الۡجٰہِلُوۡنَ

বলে দাও, হে অজ্ঞ ব্যক্তিরা! তারপরও কি তোমরা আমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করতে বল?

وَلَقَدۡ اُوۡحِیَ اِلَیۡکَ وَاِلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکَ ۚ لَئِنۡ اَشۡرَکۡتَ لَیَحۡبَطَنَّ عَمَلُکَ وَلَتَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ

নিশ্চয়ই তোমাকে এবং তোমার পূর্বের নবীগণকে ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তুমি যদি শিরক কর, তবে নির্ঘাত তোমার সমস্ত কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

بَلِ اللّٰہَ فَاعۡبُدۡ وَکُنۡ مِّنَ الشّٰکِرِیۡنَ

বরং তুমি আল্লাহরই ইবাদত কর এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত থাক।

وَمَا قَدَرُوا اللّٰہَ حَقَّ قَدۡرِہٖ ٭ۖ وَالۡاَرۡضُ جَمِیۡعًا قَبۡضَتُہٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ وَالسَّمٰوٰتُ مَطۡوِیّٰتٌۢ بِیَمِیۡنِہٖ ؕ سُبۡحٰنَہٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ

তারা আল্লাহকে মর্যাদা দেয়নি তাঁর যথোচিত মর্যাদা, অথচ কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তার মুঠোর ভেতর এবং আকাশমণ্ডলী গুটানো অবস্থায় থাকবে তার ডান হাতে। তিনি পবিত্র এবং তারা যে শিরক করে তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।

وَنُفِخَ فِی الصُّوۡرِ فَصَعِقَ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا مَنۡ شَآءَ اللّٰہُ ؕ ثُمَّ نُفِخَ فِیۡہِ اُخۡرٰی فَاِذَا ہُمۡ قِیَامٌ یَّنۡظُرُوۡنَ

এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। ফলে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করবেন সে ছাড়া আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে সকলেই মূর্ছিত হয়ে পড়বে। তারপর তাতে দ্বিতীয় ফুঁক দেওয়া হবে, অমনি তারা দ-ায়মান হয়ে তাকিয়ে থাকবে।

وَاَشۡرَقَتِ الۡاَرۡضُ بِنُوۡرِ رَبِّہَا وَوُضِعَ الۡکِتٰبُ وَجِایۡٓءَ بِالنَّبِیّٖنَ وَالشُّہَدَآءِ وَقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ بِالۡحَقِّ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ

এবং পৃথিবী নিজ প্রতিপালকের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে, আমলনামা সামনে রেখে দেওয়া হবে এবং নবীগণকে ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে আর মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করা হবে। তাদের উপর কোন জুলুম করা হবে না।

وَوُفِّیَتۡ کُلُّ نَفۡسٍ مَّا عَمِلَتۡ وَہُوَ اَعۡلَمُ بِمَا یَفۡعَلُوۡنَ ٪

প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হবে। আর তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ পরিপূর্ণ জ্ঞাত।

وَسِیۡقَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِلٰی جَہَنَّمَ زُمَرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوۡہَا فُتِحَتۡ اَبۡوَابُہَا وَقَالَ لَہُمۡ خَزَنَتُہَاۤ اَلَمۡ یَاۡتِکُمۡ رُسُلٌ مِّنۡکُمۡ یَتۡلُوۡنَ عَلَیۡکُمۡ اٰیٰتِ رَبِّکُمۡ وَیُنۡذِرُوۡنَکُمۡ لِقَآءَ یَوۡمِکُمۡ ہٰذَا ؕ قَالُوۡا بَلٰی وَلٰکِنۡ حَقَّتۡ کَلِمَۃُ الۡعَذَابِ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ

যারা কুফর অবলম্বন করেছিল তাদেরকে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নেওয়া হবে দলে দলে। যখন তারা তার নিকট পৌঁছবে, তার দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং তার রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের কাছে কি তোমাদের নিজেদের মধ্য হতে রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহ পড়ে শোনাত এবং তোমাদেরকে এই দিনের সাক্ষাত সম্পর্কে সতর্ক করত? তারা বলবে নিশ্চয়ই এসেছিল, কিন্তু কাফেরদের প্রতি শাস্তির কথা বাস্তবায়িত হয়ে গেছে।

قِیۡلَ ادۡخُلُوۡۤا اَبۡوَابَ جَہَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ۚ فَبِئۡسَ مَثۡوَی الۡمُتَکَبِّرِیۡنَ

বলা হবে, জাহান্নামের দরজাসমূহে প্রবেশ কর তাতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য। যারা অহমিকা প্রদর্শন করে তাদের ঠিকানা কত মন্দ!

وَسِیۡقَ الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا رَبَّہُمۡ اِلَی الۡجَنَّۃِ زُمَرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوۡہَا وَفُتِحَتۡ اَبۡوَابُہَا وَقَالَ لَہُمۡ خَزَنَتُہَا سَلٰمٌ عَلَیۡکُمۡ طِبۡتُمۡ فَادۡخُلُوۡہَا خٰلِدِیۡنَ

আর যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে চলেছে, তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা সেখানে পৌঁছবে এবং তাদের জন্য তার দরজাসমূহ পূর্ব হতেই উন্মুক্ত থাকবে (তখন বড় আনন্দঘন দৃশ্য হবে)। তার রক্ষীগণ তাদেরকে বলবে, আপনাদের প্রতি সালাম। আপনারা সুখী থাকুন। আপনারা এতে প্রবেশ করুন স্থায়ীভাবে থাকার জন্য।

وَقَالُوا الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ صَدَقَنَا وَعۡدَہٗ وَاَوۡرَثَنَا الۡاَرۡضَ نَتَبَوَّاُ مِنَ الۡجَنَّۃِ حَیۡثُ نَشَآءُ ۚ فَنِعۡمَ اَجۡرُ الۡعٰمِلِیۡنَ

তারা (অর্থাৎ জান্নাতবাসীগণ) বলবে, সমস্ত শোকর আল্লাহর, যিনি আমাদের সঙ্গে নিজ ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন এবং আমাদেরকে (জান্নাতের) ভূমির এমন অধিকারী বানিয়েছেন যে, আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা হয় ঠিকানা বানাতে পারি। সুতরাং সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কত উত্তম!

وَتَرَی الۡمَلٰٓئِکَۃَ حَآفِّیۡنَ مِنۡ حَوۡلِ الۡعَرۡشِ یُسَبِّحُوۡنَ بِحَمۡدِ رَبِّہِمۡ ۚ  وَقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ بِالۡحَقِّ وَقِیۡلَ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٪

তুমি ফেরেশতাদেরকে দেখতে পাবে, তারা আরশের চারপাশ ঘিরে তাদের প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাঁর তাসবীহ পাঠ করছে এবং মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করে দেওয়া হবে আর বলা হবে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।