الأحقاف

الأحقاف

আল-আহকাফ

আয়াত ৩৫ · মক্কী · পারা ২৬

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

حٰمٓ ۚ

হা-মীম।

تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ مِنَ اللّٰہِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَکِیۡمِ

এ কিতাব নাযিল করা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ হতে, যিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

مَا خَلَقۡنَا السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَاۤ اِلَّا بِالۡحَقِّ وَاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا عَمَّاۤ اُنۡذِرُوۡا مُعۡرِضُوۡنَ

আমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দু’য়ের মাঝের বস্তুসমূহ সৃষ্টি করিনি যথাযথ উদ্দেশ্য ও সুনির্দিষ্ট মেয়াদ ছাড়া। যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা তাদেরকে যে বিষয় সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে, তা থেকে বিমুখ হয়ে আছে।

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ مَّا تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اَرُوۡنِیۡ مَاذَا خَلَقُوۡا مِنَ الۡاَرۡضِ اَمۡ لَہُمۡ شِرۡکٌ فِی السَّمٰوٰتِ ؕ اِیۡتُوۡنِیۡ بِکِتٰبٍ مِّنۡ قَبۡلِ ہٰذَاۤ اَوۡ اَثٰرَۃٍ مِّنۡ عِلۡمٍ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ

তুমি তাদেরকে বল, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ডাক, তাদের নিয়ে কি কখনও চিন্তা করেছ? আমাকে একটু দেখাও তো তারা পৃথিবীর কোন জিনিসটা সৃষ্টি করেছে? অথবা আকাশ- মণ্ডলীর (সৃজনের) মধ্যে তাদের কি কোন অংশ আছে? তোমরা এর পূর্বের কোন কিতাব বা জ্ঞানভিত্তিক কোন বর্ণনা থাকলে তা আমার সামনে নিয়ে এসো যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

وَمَنۡ اَضَلُّ مِمَّنۡ یَّدۡعُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَنۡ لَّا یَسۡتَجِیۡبُ لَہٗۤ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ وَہُمۡ عَنۡ دُعَآئِہِمۡ غٰفِلُوۡنَ

তার চেয়ে বড় পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহকে ছেড়ে এমন কাউকে (অর্থাৎ মনগড়া দেবতাকে) ডাকে, যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিতে সক্ষম নয় এবং তাদের ডাক সম্পর্কে তাদের খবর পর্যন্ত নেই।

وَاِذَا حُشِرَ النَّاسُ کَانُوۡا لَہُمۡ اَعۡدَآءً وَّکَانُوۡا بِعِبَادَتِہِمۡ کٰفِرِیۡنَ

এবং মানুষকে (হাশরের মাঠে) যখন একত্র করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং তারা তাদের ইবাদতকেই অস্বীকার করবে।

وَاِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ قَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِلۡحَقِّ لَمَّا جَآءَہُمۡ ۙ  ہٰذَا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ؕ

যখন তাদের সামনে আমার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে পড়া হয়, তখন কাফেরগণ তাদের কাছে সত্য পৌঁছে যাওয়ার পরও বলে, এটা তো পরিষ্কার যাদু।

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰىہُ ؕ قُلۡ اِنِ افۡتَرَیۡتُہٗ فَلَا تَمۡلِکُوۡنَ لِیۡ مِنَ اللّٰہِ شَیۡئًا ؕ ہُوَ اَعۡلَمُ بِمَا تُفِیۡضُوۡنَ فِیۡہِ ؕ کَفٰی بِہٖ شَہِیۡدًۢا بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکُمۡ ؕ وَہُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ

তাদের কথা কি এই যে, নবী তা নিজের পক্ষ থেকে রচনা করেছে? বলে দাও, আমি যদি এটা নিজের পক্ষ হতে রচনা করে থাকি, তবে আল্লাহর ধরা হতে তোমরা আমাকে কিছুমাত্র রক্ষা করতে পারবে না। তোমরা যেসব কথায় লিপ্ত আছ, তা তিনি ভালোভাবে জানেন। আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হওয়ার জন্য তিনিই যথেষ্ট এবং তিনিই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

قُلۡ مَا کُنۡتُ بِدۡعًا مِّنَ الرُّسُلِ وَمَاۤ اَدۡرِیۡ مَا یُفۡعَلُ بِیۡ وَلَا بِکُمۡ ؕ اِنۡ اَتَّبِعُ اِلَّا مَا یُوۡحٰۤی اِلَیَّ وَمَاۤ اَنَا اِلَّا نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ

বল, আমি রাসূলগণের মধ্যে অভিনব নই। আমি জানি না আমার সঙ্গে কী আচরণ করা হবে এবং এটাও (জানি) না যে, তোমাদের সঙ্গে কী আচরণ করা হবে। আমি তো কেবল আমার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হয়, তারই অনুসরণ করি। আর আমি তো কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ کَانَ مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ وَکَفَرۡتُمۡ بِہٖ وَشَہِدَ شَاہِدٌ مِّنۡۢ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ عَلٰی مِثۡلِہٖ فَاٰمَنَ وَاسۡتَکۡبَرۡتُمۡ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ٪

বল, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি এটা (অর্থাৎ কুরআন) আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় আর তোমরা তাকে অস্বীকার কর। অন্যদিকে বনী ইসরাঈলের কোন সাক্ষী এ রকম বিষয়ের পক্ষে সাক্ষ্য দেয় এবং সে তার প্রতি ঈমানও আনে আর তোমরা নিজেদের অহমিকায় লিপ্ত থাক (তবে এটা কি মারাত্মক অবিচার হবে না?)। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন না।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَوۡ کَانَ خَیۡرًا مَّا سَبَقُوۡنَاۤ اِلَیۡہِ ؕ وَاِذۡ لَمۡ یَہۡتَدُوۡا بِہٖ فَسَیَقُوۡلُوۡنَ ہٰذَاۤ اِفۡکٌ قَدِیۡمٌ

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা মুমিনদের সম্পর্কে বলে, এটা (ঈমান আনয়ন) যদি ভালো কিছু হত, তবে তারা এর প্রতি আমাদের চেয়ে অগ্রগামী হতে পারত না এবং কাফেরগণ যখন এর দ্বারা নিজেরা হেদায়াত লাভ করল না, তখন তো এটাই বলবে যে, এটা সেই পুরানো দিনের মিথ্যা।

وَمِنۡ قَبۡلِہٖ کِتٰبُ مُوۡسٰۤی اِمَامًا وَّرَحۡمَۃً ؕ  وَہٰذَا کِتٰبٌ مُّصَدِّقٌ لِّسَانًا عَرَبِیًّا لِّیُنۡذِرَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ٭ۖ  وَبُشۡرٰی لِلۡمُحۡسِنِیۡنَ ۚ

এর আগে মূসার কিতাব এসেছে পথপ্রদর্শক ও রহমত হয়ে। আর এটা (অর্থাৎ কুরআন) আরবী ভাষায় অবতীর্ণ কিতাব, যা তাকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়, যাতে এটা জালেমদেরকে সতর্ক করে এবং সৎকর্মশীলদের জন্য হয় সুসংবাদ।

اِنَّ الَّذِیۡنَ قَالُوۡا رَبُّنَا اللّٰہُ ثُمَّ اسۡتَقَامُوۡا فَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ۚ

নিশ্চয়ই যারা বলেছে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, তারপর এতে অবিচল থেকেছে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।

اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ۚ جَزَآءًۢ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ

তারা হবে জান্নাতবাসী। সেখানে তারা থাকবে সর্বদা। তারা যা করত তার প্রতিদানস্বরূপ।

وَوَصَّیۡنَا الۡاِنۡسَانَ بِوَالِدَیۡہِ اِحۡسٰنًا ؕ حَمَلَتۡہُ اُمُّہٗ کُرۡہًا وَّوَضَعَتۡہُ کُرۡہًا ؕ وَحَمۡلُہٗ وَفِصٰلُہٗ ثَلٰثُوۡنَ شَہۡرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ اَشُدَّہٗ وَبَلَغَ اَرۡبَعِیۡنَ سَنَۃً ۙ قَالَ رَبِّ اَوۡزِعۡنِیۡۤ اَنۡ اَشۡکُرَ نِعۡمَتَکَ الَّتِیۡۤ اَنۡعَمۡتَ عَلَیَّ وَعَلٰی وَالِدَیَّ وَاَنۡ اَعۡمَلَ صَالِحًا تَرۡضٰہُ وَاَصۡلِحۡ لِیۡ فِیۡ ذُرِّیَّتِیۡ ۚؕ اِنِّیۡ تُبۡتُ اِلَیۡکَ وَاِنِّیۡ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ

আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করার হুকুম দিয়েছি। তার মা তাকে অতি কষ্টের সাথে (গর্ভে) ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে তাকে প্রসব করেছে। তাকে (গর্ভে) ধারণ ও দুধ ছাড়ানোর মেয়াদ হয় ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন তাঁর পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছে এবং চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হয়, তখন বলে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তাওফীক দান করুন, যেন আপনি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে যে নি‘আমত দিয়েছেন তার শোকর আদায় করতে পারি এবং এমন সৎকর্ম করতে পারি, যাতে আপনি খুশী হন এবং আমার জন্য আমার সন্তানদেরকেও (সেই) যোগ্যতা দান করুন। আমি আপনার কাছে তাওবা করছি এবং আমি আনুগত্য প্রকাশকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ نَتَقَبَّلُ عَنۡہُمۡ اَحۡسَنَ مَا عَمِلُوۡا وَنَتَجَاوَزُ عَنۡ سَیِّاٰتِہِمۡ فِیۡۤ اَصۡحٰبِ الۡجَنَّۃِ ؕ وَعۡدَ الصِّدۡقِ الَّذِیۡ کَانُوۡا یُوۡعَدُوۡنَ

এরাই তারা, আমি যাদের উৎকৃষ্ট কাজসমূহ কবুল করব এবং তাদের মন্দ কাজসমূহ ক্ষমা করব। (ফলে) তারা জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাদেরকে যে সত্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত তার বদৌলতে।

وَالَّذِیۡ قَالَ لِوَالِدَیۡہِ اُفٍّ لَّکُمَاۤ اَتَعِدٰنِنِیۡۤ اَنۡ اُخۡرَجَ وَقَدۡ خَلَتِ الۡقُرُوۡنُ مِنۡ قَبۡلِیۡ ۚ وَہُمَا یَسۡتَغِیۡثٰنِ اللّٰہَ وَیۡلَکَ اٰمِنۡ ٭ۖ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ ۚۖ فَیَقُوۡلُ مَا ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ

অপর এক ব্যক্তি এমন, যে তার পিতা-মাতাকে বলল, আফসোস তোমাদের প্রতি! তোমরা কি আমাকে এই প্রতিশ্রুতি দাও যে, আমাকে জীবিত করে কবর থেকে ওঠানো হবে, অথচ আমার আগে বহু মানবগোষ্ঠী গত হয়েছে? পিতা-মাতা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে (এবং পুত্রকে বলে,) আফসোস তোর প্রতি! ঈমান আন। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তখন সে বলে, প্রকৃতপক্ষে এসব পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত হয়ে আসা উপকথা ছাড়া কিছুই নয়।

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ حَقَّ عَلَیۡہِمُ الۡقَوۡلُ فِیۡۤ اُمَمٍ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ مِّنَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ ؕ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا خٰسِرِیۡنَ

এরাই তারা, যাদের সম্পর্কে তাদের পূর্বে গত জিন ও মানব জাতিসমূহের মত (শাস্তির) বাণী চূড়ান্ত হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

وَلِکُلٍّ دَرَجٰتٌ مِّمَّا عَمِلُوۡا ۚ وَلِیُوَفِّیَہُمۡ اَعۡمَالَہُمۡ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ

আপন কৃতকর্মের কারণে প্রত্যেক (দল)-এর রয়েছে বিভিন্ন স্তর এবং তা এই জন্য যে, আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের পুরোপুরি প্রতিফল দেবেন এবং তাদের প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।

وَیَوۡمَ یُعۡرَضُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا عَلَی النَّارِ ؕ  اَذۡہَبۡتُمۡ طَیِّبٰتِکُمۡ فِیۡ حَیَاتِکُمُ الدُّنۡیَا وَاسۡتَمۡتَعۡتُمۡ بِہَا ۚ  فَالۡیَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ عَذَابَ الۡہُوۡنِ بِمَا کُنۡتُمۡ تَسۡتَکۡبِرُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ وَبِمَا کُنۡتُمۡ تَفۡسُقُوۡنَ ٪

এবং সেই দিনকে স্মরণ রেখ, যে দিন কাফেরদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হবে (এবং বলা হবে,) তোমরা নিজেদের অংশের উৎকৃষ্ট জিনিসসমূহ পার্থিব জীবনে (ভোগ করে) নিঃশেষ করে ফেলেছ এবং তা বেজায় ভোগ করেছ। সুতরাং আজ বিনিময়রূপে তোমরা পাবে লাঞ্ছনাকর শাস্তি, যেহেতু তোমরা পৃথিবীতে নাহক গৌরব করতে এবং যেহেতু তোমরা নাফরমানি করতে।

وَاذۡکُرۡ اَخَا عَادٍ ؕ اِذۡ اَنۡذَرَ قَوۡمَہٗ بِالۡاَحۡقَافِ وَقَدۡ خَلَتِ النُّذُرُ مِنۡۢ بَیۡنِ یَدَیۡہِ وَمِنۡ خَلۡفِہٖۤ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّا اللّٰہَ ؕ اِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ

এবং আদ জাতির ভাই (হযরত হুদ আলাইহিস সালাম)-এর বৃত্তান্ত উল্লেখ কর, যখন সে তার সম্প্রদায়কে আঁকা-বাঁকা টিলাময় ভূমিতে সতর্ক করেছিল এবং এ রকম সতর্ককারী গত হয়েছিল তার আগেও এবং তার পরেও (সে তাদেরকে বলেছিল) যে, আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত করো না। আমি তোমাদের জন্য ভয় করছি এক মহা দিবসের শাস্তির।

قَالُوۡۤا اَجِئۡتَنَا لِتَاۡفِکَنَا عَنۡ اٰلِہَتِنَا ۚ فَاۡتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ

তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যই এসেছ যে, আমাদেরকে আমাদের উপাস্যদের থেকে বিমুখ করে দেবে? আচ্ছা তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ তা নিয়ে এসো।

قَالَ اِنَّمَا الۡعِلۡمُ عِنۡدَ اللّٰہِ ۫ۖ وَاُبَلِّغُکُمۡ مَّاۤ اُرۡسِلۡتُ بِہٖ وَلٰکِنِّیۡۤ اَرٰىکُمۡ قَوۡمًا تَجۡہَلُوۡنَ

সে বলল, (সে আযাব কখন আসবে এর) যথাযথ জ্ঞান তো আল্লাহরই কাছে। আমাকে যে বার্তা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমি তো তোমাদের কাছে তাই পৌঁছাচ্ছি। তবে আমি দেখছি তোমরা এক অজ্ঞ সম্প্রদায় (-এর মত কথাবার্তা বলছ)।

فَلَمَّا رَاَوۡہُ عَارِضًا مُّسۡتَقۡبِلَ اَوۡدِیَتِہِمۡ ۙ  قَالُوۡا ہٰذَا عَارِضٌ مُّمۡطِرُنَا ؕ  بَلۡ ہُوَ مَا اسۡتَعۡجَلۡتُمۡ بِہٖ ؕ  رِیۡحٌ فِیۡہَا عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ۙ

অতঃপর তারা যখন তাকে (অর্থাৎ আযাবকে) একটি মেঘখণ্ড রূপে তাদের উপত্যকার দিকে এগিয়ে আসতে দেখল, তখন তারা বলল, এটা মেঘ, যা আমাদেরকে বৃষ্টি দেবে।’ না, বরং এটাই সেই জিনিস, যার জন্য তোমরা তাড়াহুড়া করছিলে, এক ঝড়ো হাওয়া, যার মধ্যে আছে যন্ত্রণাময় শাস্তি।

تُدَمِّرُ کُلَّ شَیۡءٍۭ بِاَمۡرِ رَبِّہَا فَاَصۡبَحُوۡا لَا یُرٰۤی اِلَّا مَسٰکِنُہُمۡ ؕ کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡقَوۡمَ الۡمُجۡرِمِیۡنَ

যা তার প্রতিপালকের হুকুমে সবকিছু তছনছ করে ফেলবে। অনন্তর তারা এমন হয়ে গেল যে, তাদের আবাসস্থল ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। অপরাধী সম্প্রদায়কে আমি এ রকমই শাস্তি দিয়ে থাকি।

وَلَقَدۡ مَکَّنّٰہُمۡ فِیۡمَاۤ اِنۡ مَّکَّنّٰکُمۡ فِیۡہِ وَجَعَلۡنَا لَہُمۡ سَمۡعًا وَّاَبۡصَارًا وَّاَفۡـِٕدَۃً ۫ۖ  فَمَاۤ اَغۡنٰی عَنۡہُمۡ سَمۡعُہُمۡ وَلَاۤ اَبۡصَارُہُمۡ وَلَاۤ اَفۡـِٕدَتُہُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ اِذۡ کَانُوۡا یَجۡحَدُوۡنَ ۙ  بِاٰیٰتِ اللّٰہِ وَحَاقَ بِہِمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٪

এবং (হে আরববাসী!) আমি তাদেরকে এমন বিষয়ে ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যার ক্ষমতা তোমাদেরকে দেইনি এবং আমি তাদেরকে কান, চোখ ও হৃদয় সবকিছুই দিয়েছিলাম, কিন্তু না তাদের কান ও চোখ তাদের কোন উপকারে আসল আর না তাদের হৃদয়, যেহেতু তারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করত। আর তারা যে জিনিস নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তাই তাদেরকে পরিবেষ্টন করল।

وَلَقَدۡ اَہۡلَکۡنَا مَا حَوۡلَکُمۡ مِّنَ الۡقُرٰی وَصَرَّفۡنَا الۡاٰیٰتِ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ

আমি তোমাদের আশপাশের অন্যান্য জনপদকেও ধ্বংস করেছি। আমি বিভিন্ন রকমের নিদর্শন (তাদের) সামনে এনেছিলাম, যাতে তারা ফিরে আসে।

فَلَوۡلَا نَصَرَہُمُ الَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ قُرۡبَانًا اٰلِـہَۃً ؕ بَلۡ ضَلُّوۡا عَنۡہُمۡ ۚ وَذٰلِکَ اِفۡکُہُمۡ وَمَا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ

তারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে আল্লাহ ছাড়া যেসব জিনিসকে মাবুদরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা তাদের সাহায্য করল না কেন? বরং তারা সব তাদের থেকে অন্তর্হিত হয়ে গেল। বস্তুত এটা ছিল তাদের মিথ্যা অপবাদ এবং যা তারা রচনা করেছিল।

وَاِذۡ صَرَفۡنَاۤ اِلَیۡکَ نَفَرًا مِّنَ الۡجِنِّ یَسۡتَمِعُوۡنَ الۡقُرۡاٰنَ ۚ فَلَمَّا حَضَرُوۡہُ قَالُوۡۤا اَنۡصِتُوۡا ۚ فَلَمَّا قُضِیَ وَلَّوۡا اِلٰی قَوۡمِہِمۡ مُّنۡذِرِیۡنَ

এবং (হে রাসূল!) স্মরণ কর, যখন আমি এক দল জিনকে কুরআন শোনার জন্য তোমার অভিমুখী করে দিয়েছিলাম। যখন তারা সেখানে পৌঁছল, (একে অন্যকে) বলল, চুপ কর। তা পড়া হয়ে গেলে তারা আপন সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেল সতর্ককারীরূপে।

قَالُوۡا یٰقَوۡمَنَاۤ اِنَّا سَمِعۡنَا کِتٰبًا اُنۡزِلَ مِنۡۢ بَعۡدِ مُوۡسٰی مُصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیۡہِ یَہۡدِیۡۤ اِلَی الۡحَقِّ وَاِلٰی طَرِیۡقٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ

তারা বলল, হে আমাদের কওম! নিশ্চয়ই জেনে রেখ, আমরা এমন এক কিতাব (-এর পাঠ) শুনেছি, যা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর পর অবতীর্ণ হয়েছে, তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সমর্থকরূপে, যা পথ-নির্দেশ করে সত্যের ও সরল পথের।

یٰقَوۡمَنَاۤ اَجِیۡبُوۡا دَاعِیَ اللّٰہِ وَاٰمِنُوۡا بِہٖ یَغۡفِرۡ لَکُمۡ مِّنۡ ذُنُوۡبِکُمۡ وَیُجِرۡکُمۡ مِّنۡ عَذَابٍ اَلِیۡمٍ

হে আমাদের কওম! আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দাও ও তার প্রতি ঈমান আন। আল্লাহ তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে রক্ষা করবেন এক যন্ত্রণাময় শাস্তি থেকে।

وَمَنۡ لَّا یُجِبۡ دَاعِیَ اللّٰہِ فَلَیۡسَ بِمُعۡجِزٍ فِی الۡاَرۡضِ وَلَیۡسَ لَہٗ مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءُ ؕ اُولٰٓئِکَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ

যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেবে না, সে পৃথিবীর কোথাও গিয়ে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না এবং আল্লাহ ছাড়া সে কোনও রকমের অভিভাবকও পাবে না। এরূপ লোক সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত।

اَوَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّ اللّٰہَ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَلَمۡ یَعۡیَ بِخَلۡقِہِنَّ بِقٰدِرٍ عَلٰۤی اَنۡ یُّحۡیِۦَ الۡمَوۡتٰی ؕ بَلٰۤی اِنَّہٗ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ

তারা কি অনুধাবন করেনি যে, যেই আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এসবের সৃজনে তাঁর বিন্দুমাত্র ক্লান্তি দেখা দেয়নি, তিনি নিঃসন্দেহে মৃতদেরকে জীবিত করতে সক্ষম? কেনইবা হবেন না? নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান।

وَیَوۡمَ یُعۡرَضُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا عَلَی النَّارِ ؕ اَلَیۡسَ ہٰذَا بِالۡحَقِّ ؕ قَالُوۡا بَلٰی وَرَبِّنَا ؕ قَالَ فَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ بِمَا کُنۡتُمۡ تَکۡفُرُوۡنَ

যে দিন কাফেরদেরকে আগুনের সামনে উপস্থিত করা হবে, (সে দিন তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে,) এটা (অর্থাৎ জাহান্নাম) কি সত্য নয়? তারা বলবে, আমাদের প্রতিপালকের শপথ! এটা বাস্তবিকই সত্য। আল্লাহ বলবেন, তাহলে তোমরা যে কুফর অবলম্বন করেছিলে তার বিনিময়ে শাস্তি ভোগ কর।

فَاصۡبِرۡ کَمَا صَبَرَ اُولُوا الۡعَزۡمِ مِنَ الرُّسُلِ وَلَا تَسۡتَعۡجِلۡ لَّہُمۡ ؕ  کَاَنَّہُمۡ یَوۡمَ یَرَوۡنَ مَا یُوۡعَدُوۡنَ ۙ  لَمۡ یَلۡبَثُوۡۤا اِلَّا سَاعَۃً مِّنۡ نَّہَارٍ ؕ  بَلٰغٌ ۚ  فَہَلۡ یُہۡلَکُ اِلَّا الۡقَوۡمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ٪

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি সবর অবলম্বন কর, যেমন সবর অবলম্বন করেছিল দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ এবং তুমি তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) বিষয়ে তাড়াহুড়া করো না। তাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে, তা যে দিন তারা দেখবে, সে দিন (তাদের মনে হবে) তারা যেন (দুনিয়ায়) দিনের এক মুহূর্তের বেশি অবস্থান করেনি। এটাই সেই বার্তা, যা পৌঁছিয়ে দেওয়া হল। অতঃপর ধ্বংস তো হবে কেবল এমন সব লোক, যারা অবাধ্য।