التحريم
আত-তাহরীম
আয়াত ১২ · মাদানী · পারা ২৮
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَاۤ اَحَلَّ اللّٰہُ لَکَ ۚ تَبۡتَغِیۡ مَرۡضَاتَ اَزۡوَاجِکَ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
হে নবী! আল্লাহ যে জিনিস তোমার জন্য হালাল করেছেন, তুমি নিজ স্ত্রীদেরকে খুশী করার জন্য তা হারাম করছ কেন? আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
قَدۡ فَرَضَ اللّٰہُ لَکُمۡ تَحِلَّۃَ اَیۡمَانِکُمۡ ۚ وَاللّٰہُ مَوۡلٰىکُمۡ ۚ وَہُوَ الۡعَلِیۡمُ الۡحَکِیۡمُ
আল্লাহ তোমাদের কসম থেকে মুক্তি লাভের ব্যবস্থা দান করেছেন। আল্লাহ তোমাদের অভিভাবক। তিনিই সর্বজ্ঞ, পরিপূর্ণ হেকমতের মালিক।
وَاِذۡ اَسَرَّ النَّبِیُّ اِلٰی بَعۡضِ اَزۡوَاجِہٖ حَدِیۡثًا ۚ فَلَمَّا نَبَّاَتۡ بِہٖ وَاَظۡہَرَہُ اللّٰہُ عَلَیۡہِ عَرَّفَ بَعۡضَہٗ وَاَعۡرَضَ عَنۡۢ بَعۡضٍ ۚ فَلَمَّا نَبَّاَہَا بِہٖ قَالَتۡ مَنۡ اَنۡۢبَاَکَ ہٰذَا ؕ قَالَ نَبَّاَنِیَ الۡعَلِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ
এবং স্মরণ কর, যখন নবী তার কোন এক স্ত্রীকে গোপনে একটি কথা বলেছিল। তারপর সেই স্ত্রী যখন সে কথা (অন্য কাউকে) বলে দিল এবং আল্লাহ তা নবীর কাছে প্রকাশ করে দিলেন, তখন সে তার কিছু অংশ জানাল এবং কিছু এড়িয়ে গেল। যখন নবী তা তার সেই স্ত্রীকে জানাল, তখন সে বলতে লাগল, আপনাকে একথা কে জানাল? নবী বলল, আমাকে জানিয়েছেন তিনি, যিনি সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবগত।
اِنۡ تَتُوۡبَاۤ اِلَی اللّٰہِ فَقَدۡ صَغَتۡ قُلُوۡبُکُمَا ۚ وَاِنۡ تَظٰہَرَا عَلَیۡہِ فَاِنَّ اللّٰہَ ہُوَ مَوۡلٰىہُ وَجِبۡرِیۡلُ وَصَالِحُ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ بَعۡدَ ذٰلِکَ ظَہِیۡرٌ
(হে নবী পত্নীগণ!) তোমরা যদি আল্লাহর কাছে তাওবা কর (তবে তাই হবে উচিত কাজ), কেননা তোমাদের অন্তর ঝুঁকে পড়েছে। কিন্তু তোমরা যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর, তবে (জেনে রেখ) তার সঙ্গী আল্লাহ, জিবরাঈল ও সৎকর্মশীল মুমিনগণ। তাছাড়া ফেরেশতাগণ তার সাহায্যকারী।
عَسٰی رَبُّہٗۤ اِنۡ طَلَّقَکُنَّ اَنۡ یُّبۡدِلَہٗۤ اَزۡوَاجًا خَیۡرًا مِّنۡکُنَّ مُسۡلِمٰتٍ مُّؤۡمِنٰتٍ قٰنِتٰتٍ تٰٓئِبٰتٍ عٰبِدٰتٍ سٰٓئِحٰتٍ ثَیِّبٰتٍ وَّاَبۡکَارًا
সে যদি তোমাদের সকলকে তালাক দিয়ে দেয়, তবে তার প্রতিপালক তোমাদের পরিবর্তে শীঘ্রই তাকে দিতে পারেন এমন স্ত্রী, যারা হবে তোমাদের চেয়ে উত্তম, মুসলিম, মুমিন, অনুগত, তাওবাকারী, ইবাদতগোজার, রোযাদার, পূর্ববিবাহিতা বা কুমারী।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا قُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ وَاَہۡلِیۡکُمۡ نَارًا وَّقُوۡدُہَا النَّاسُ وَالۡحِجَارَۃُ عَلَیۡہَا مَلٰٓئِکَۃٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا یَعۡصُوۡنَ اللّٰہَ مَاۤ اَمَرَہُمۡ وَیَفۡعَلُوۡنَ مَا یُؤۡمَرُوۡنَ
হে মুমিনগণ! নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে রক্ষা কর সেই আগুন থেকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। তাতে নিয়োজিত আছে কঠোর স্বভাব, কঠিন হৃদয় ফেরেশতাগণ, যারা আল্লাহর কোন হুকুমে তাঁর অবাধ্যতা করে না এবং সেটাই করে, যার নির্দেশ তাদেরকে দেওয়া হয়।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَا تَعۡتَذِرُوا الۡیَوۡمَ ؕ اِنَّمَا تُجۡزَوۡنَ مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٪
হে কাফেরগণ! আজ তোমরা অজুহাত দেখিও না। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেওয়া হচ্ছে।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا تُوۡبُوۡۤا اِلَی اللّٰہِ تَوۡبَۃً نَّصُوۡحًا ؕ عَسٰی رَبُّکُمۡ اَنۡ یُّکَفِّرَ عَنۡکُمۡ سَیِّاٰتِکُمۡ وَیُدۡخِلَکُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ۙ یَوۡمَ لَا یُخۡزِی اللّٰہُ النَّبِیَّ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَہٗ ۚ نُوۡرُہُمۡ یَسۡعٰی بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَبِاَیۡمَانِہِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَاۤ اَتۡمِمۡ لَنَا نُوۡرَنَا وَاغۡفِرۡ لَنَا ۚ اِنَّکَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ
হে মুমিনগণ! আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা কর। অসম্ভব নয় যে, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের পাপসমূহ তোমাদের থেকে মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমন উদ্যানে প্রবেশ করাবেন, যার নিচে নহর বহমান থাকবে, সেই দিন, যে দিন আল্লাহ নবীকে এবং তাঁর সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও তাদের ডান পাশে ধাবিত হবে। তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য এ আলোকে পরিপূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ جَاہِدِ الۡکُفَّارَ وَالۡمُنٰفِقِیۡنَ وَاغۡلُظۡ عَلَیۡہِمۡ ؕ وَمَاۡوٰىہُمۡ جَہَنَّمُ ؕ وَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ
হে নবী! কাফের ও মুনাফেকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে যাও। তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। তা অতি মন্দ ঠিকানা।
ضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا لِّلَّذِیۡنَ کَفَرُوا امۡرَاَتَ نُوۡحٍ وَّامۡرَاَتَ لُوۡطٍ ؕ کَانَتَا تَحۡتَ عَبۡدَیۡنِ مِنۡ عِبَادِنَا صَالِحَیۡنِ فَخَانَتٰہُمَا فَلَمۡ یُغۡنِیَا عَنۡہُمَا مِنَ اللّٰہِ شَیۡئًا وَّقِیۡلَ ادۡخُلَا النَّارَ مَعَ الدّٰخِلِیۡنَ
যারা কুফর অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত পেশ করছেন। তারা আমার অত্যন্ত নেককার দু’জন বান্দার বিবাহাধীন ছিল। অতঃপর তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ফলে আল্লাহর বিরুদ্ধে তারা তাদের কোন কাজে আসল না এবং তাদেরকে (অর্থাৎ স্ত্রী দু’জনকে) বলা হল, অন্যান্য প্রবেশকারীদের সাথে তোমরাও জাহান্নামে প্রবেশ কর।
وَضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوا امۡرَاَتَ فِرۡعَوۡنَ ۘ اِذۡ قَالَتۡ رَبِّ ابۡنِ لِیۡ عِنۡدَکَ بَیۡتًا فِی الۡجَنَّۃِ وَنَجِّنِیۡ مِنۡ فِرۡعَوۡنَ وَعَمَلِہٖ وَنَجِّنِیۡ مِنَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ ۙ
আর আল্লাহ মুমিনদের জন্য পেশ করছেন ফির‘আউন-পত্নীর দৃষ্টান্ত, যখন সে বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার জন্য আপনার কাছে জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করুন এবং আমাকে ফির‘আউন ও তার কর্ম হতে মুক্তি দিন। আর আমাকে নাজাত দিন জালেম সম্প্রদায় হতে।
وَمَرۡیَمَ ابۡنَتَ عِمۡرٰنَ الَّتِیۡۤ اَحۡصَنَتۡ فَرۡجَہَا فَنَفَخۡنَا فِیۡہِ مِنۡ رُّوۡحِنَا وَصَدَّقَتۡ بِکَلِمٰتِ رَبِّہَا وَکُتُبِہٖ وَکَانَتۡ مِنَ الۡقٰنِتِیۡنَ ٪
তাছাড়া ইমরান কন্যা মারয়ামকেও (দৃষ্টান্ত রূপে পেশ করছেন), যে তার সতীত্ব রক্ষা করেছিল। ফলে আমি তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিলাম। আর সে নিজ প্রতিপালকের বাণী ও তার কিতাবসমূহকে সত্য বলে স্বীকার করেছিল এবং সে ছিল আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত।