الحاقة
আল-হাক্কা
আয়াত ৫২ · মক্কী · পারা ২৯
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
اَلۡحَآقَّۃُ ۙ
অবশ্যম্ভাবী সত্য!
مَا الۡحَآقَّۃُ ۚ
কি সেই অবশ্যম্ভাবী সত্য?
وَمَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا الۡحَآقَّۃُ ؕ
তোমার কি জানা আছে সেই অবশ্যম্ভাবী সত্য কী?
کَذَّبَتۡ ثَمُوۡدُ وَعَادٌۢ بِالۡقَارِعَۃِ
আদ ও ছামূদ জাতি সেই প্রকম্পিতকারী (সত্য)কে অস্বীকার করেছিল।
فَاَمَّا ثَمُوۡدُ فَاُہۡلِکُوۡا بِالطَّاغِیَۃِ
সুতরাং ছামূদ জাতি(-এর বৃত্তান্ত হল), তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল (মহানাদ-এর) ভীষণ বিপর্যয় দ্বারা।
وَاَمَّا عَادٌ فَاُہۡلِکُوۡا بِرِیۡحٍ صَرۡصَرٍ عَاتِیَۃٍ ۙ
আর আদ জাতি (এর বৃত্তান্ত হল), তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এমন প্রচণ্ড ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা
سَخَّرَہَا عَلَیۡہِمۡ سَبۡعَ لَیَالٍ وَّثَمٰنِیَۃَ اَیَّامٍ ۙ حُسُوۡمًا ۙ فَتَرَی الۡقَوۡمَ فِیۡہَا صَرۡعٰی ۙ کَاَنَّہُمۡ اَعۡجَازُ نَخۡلٍ خَاوِیَۃٍ ۚ
যা আল্লাহ তাদের উপর প্রবাহিত রেখেছিলেন (একটানা) সাত রাত, আট দিন বিরামহীনভাবে। তখন তুমি (সেখানে থাকলে) দেখতে পেতে তারা সেখানে লুটিয়ে পড়ে আছে ফাঁপা খেজুর কাণ্ডের মত।
فَہَلۡ تَرٰی لَہُمۡ مِّنۡۢ بَاقِیَۃٍ
এখন কি তুমি তাদের কাউকে অবশিষ্ট দেখতে পাও?
وَجَآءَ فِرۡعَوۡنُ وَمَنۡ قَبۡلَہٗ وَالۡمُؤۡتَفِکٰتُ بِالۡخَاطِئَۃِ ۚ
ফির‘আউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং (লূত আলাইহিস সালামের) উল্টে যাওয়া জনপদও লিপ্ত হয়েছিল অপরাধে
فَعَصَوۡا رَسُوۡلَ رَبِّہِمۡ فَاَخَذَہُمۡ اَخۡذَۃً رَّابِیَۃً
তারা তাদের প্রতিপালকের রাসূলের অবাধ্যতা করেছিল। ফলে তিনি তাদেরকে কঠোরভাবে পাকড়াও করলেন।
اِنَّا لَمَّا طَغَا الۡمَآءُ حَمَلۡنٰکُمۡ فِی الۡجَارِیَۃِ ۙ
যখন পানি নিয়ন্ত্রণহারা হয়ে গিয়েছিল, তখন আমি তোমাদেরকে আরোহণ করিয়েছিলাম নৌযানে,
لِنَجۡعَلَہَا لَکُمۡ تَذۡکِرَۃً وَّتَعِیَہَاۤ اُذُنٌ وَّاعِیَۃٌ
এই ঘটনাকে তোমাদের জন্য শিক্ষণীয় বানানোর জন্য এবং যাতে এটা (শুনে) সংরক্ষণ করে সংরক্ষণকারী কান।
فَاِذَا نُفِخَ فِی الصُّوۡرِ نَفۡخَۃٌ وَّاحِدَۃٌ ۙ
অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে একটি মাত্র ফুঁ,
وَّحُمِلَتِ الۡاَرۡضُ وَالۡجِبَالُ فَدُکَّتَا دَکَّۃً وَّاحِدَۃً ۙ
এবং পৃথিবী ও পর্বতসমূহকে উত্তোলিত করে একই আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলা হবে,
فَیَوۡمَئِذٍ وَّقَعَتِ الۡوَاقِعَۃُ ۙ
সেই দিন ঘটবে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা।
وَانۡشَقَّتِ السَّمَآءُ فَہِیَ یَوۡمَئِذٍ وَّاہِیَۃٌ ۙ
এবং আকাশ ফেটে যাবে আর সেদিন তা সম্পূর্ণ জীর্ণ হয়ে যাবে
وَّالۡمَلَکُ عَلٰۤی اَرۡجَآئِہَا ؕ وَیَحۡمِلُ عَرۡشَ رَبِّکَ فَوۡقَہُمۡ یَوۡمَئِذٍ ثَمٰنِیَۃٌ ؕ
এবং ফেরেশতাগণ থাকবে তার কিনারায় এবং তোমার প্রতিপালকের আরশ সে দিন আটজন ফেরেশতা তাদের উপরে বহন করে রাখবে।
یَوۡمَئِذٍ تُعۡرَضُوۡنَ لَا تَخۡفٰی مِنۡکُمۡ خَافِیَۃٌ
সে দিন তোমাদের হাজিরা হবে এমনভাবে যে, তোমাদের কোন গুপ্ত বিষয় গোপন থাকবে না।
فَاَمَّا مَنۡ اُوۡتِیَ کِتٰبَہٗ بِیَمِیۡنِہٖ ۙ فَیَقُوۡلُ ہَآؤُمُ اقۡرَءُوۡا کِتٰبِیَہۡ ۚ
অতঃপর যাকে আমলনামা দেওয়া হবে তার ডান হাতে, সে বলবে, হে লোকজন! এই যে আমার আমলনামা, তোমরা পড়ে দেখ।
اِنِّیۡ ظَنَنۡتُ اَنِّیۡ مُلٰقٍ حِسَابِیَہۡ ۚ
আমি আগেই বিশ্বাস করেছিলাম আমাকে অবশ্যই হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।
فَہُوَ فِیۡ عِیۡشَۃٍ رَّاضِیَۃٍ ۙ
সুতরাং সে থাকবে মনঃপুত জীবনে।
فِیۡ جَنَّۃٍ عَالِیَۃٍ ۙ
সেই সমুন্নত জান্নাতে
قُطُوۡفُہَا دَانِیَۃٌ
যার ফল থাকবে ঝুঁকে (নিকটবর্তী)।
کُلُوۡا وَاشۡرَبُوۡا ہَنِیۡٓـئًۢا بِمَاۤ اَسۡلَفۡتُمۡ فِی الۡاَیَّامِ الۡخَالِیَۃِ
(বলা হবে) তোমরা বিগত দিনগুলোতে যেসব কাজ করেছিলে, তার বিনিময়ে খাও ও পান কর স্বাচ্ছন্দ্যে।
وَاَمَّا مَنۡ اُوۡتِیَ کِتٰبَہٗ بِشِمَالِہٖ ۬ۙ فَیَقُوۡلُ یٰلَیۡتَنِیۡ لَمۡ اُوۡتَ کِتٰبِیَہۡ ۚ
আর সেই ব্যক্তি, যার আমলনামা দেওয়া হবে তার বাম হাতে; সে বলবে, আহা! আমাকে যদি আমলনামা দেওয়াই না হত!
وَلَمۡ اَدۡرِ مَا حِسَابِیَہۡ ۚ
আর আমি জানতেই না পারতাম, আমার হিসাব কী?
یٰلَیۡتَہَا کَانَتِ الۡقَاضِیَۃَ ۚ
আহা! মৃত্যুতেই যদি আমার সব শেষ হয়ে যেত!
مَاۤ اَغۡنٰی عَنِّیۡ مَالِیَہۡ ۚ
আমার অর্থ-সম্পদ আমার কোন কাজে আসল না!
ہَلَکَ عَنِّیۡ سُلۡطٰنِیَہۡ ۚ
আমার থেকে আমার সব ক্ষমতা লুপ্ত হয়ে গেল!
خُذُوۡہُ فَغُلُّوۡہُ ۙ
(এরূপ ব্যক্তি সম্পর্কে হুকুম দেওয়া হবে) ধর ওকে এবং ওর গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও।
ثُمَّ الۡجَحِیۡمَ صَلُّوۡہُ ۙ
তারপর ওকে জাহান্নামে নিক্ষেপ কর।
ثُمَّ فِیۡ سِلۡسِلَۃٍ ذَرۡعُہَا سَبۡعُوۡنَ ذِرَاعًا فَاسۡلُکُوۡہُ ؕ
তারপর ওকে এমন শিকলে গেঁথে দাও, যার পরিমাণ হবে সত্তর হাত।
اِنَّہٗ کَانَ لَا یُؤۡمِنُ بِاللّٰہِ الۡعَظِیۡمِ ۙ
সে মহান আল্লাহর উপর ঈমান রাখত না।
وَلَا یَحُضُّ عَلٰی طَعَامِ الۡمِسۡکِیۡنِ ؕ
এবং গরীবকে খাদ্য দানে উৎসাহ দিত না।
فَلَیۡسَ لَہُ الۡیَوۡمَ ہٰہُنَا حَمِیۡمٌ ۙ
সুতরাং আজ এখানে তার নাই কোন বন্ধু
وَّلَا طَعَامٌ اِلَّا مِنۡ غِسۡلِیۡنٍ ۙ
এবং না কোন খাদ্য গিসলীন ছাড়া
لَّا یَاۡکُلُہٗۤ اِلَّا الۡخَاطِـُٔوۡنَ ٪
যা পাপিষ্ঠরা ছাড়া কেউ খাবে না।
فَلَاۤ اُقۡسِمُ بِمَا تُبۡصِرُوۡنَ ۙ
আমি কসম করছি তোমরা যা দেখছ তার
وَمَا لَا تُبۡصِرُوۡنَ ۙ
এবং তোমরা যা দেখছ না তারও,
اِنَّہٗ لَقَوۡلُ رَسُوۡلٍ کَرِیۡمٍ ۚۙ
এটা (অর্থাৎ কুরআন) এক সম্মানিত বার্তা বাহকের বাণী
وَّمَا ہُوَ بِقَوۡلِ شَاعِرٍ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تُؤۡمِنُوۡنَ ۙ
এটা কোন কবির বাণী নয়, (কিন্তু) তোমরা অল্পই ঈমান আন
وَلَا بِقَوۡلِ کَاہِنٍ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَذَکَّرُوۡنَ ؕ
এবং না কোন অতীন্দ্রিয়বাদীর বাণী, (কিন্তু) তোমরা অল্পই শিক্ষা গ্রহণ কর।
تَنۡزِیۡلٌ مِّنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ
এ বাণী অবতীর্ণ করা হচ্ছে জগত-সমূহের প্রতিপালকের পক্ষ হতে।
وَلَوۡ تَقَوَّلَ عَلَیۡنَا بَعۡضَ الۡاَقَاوِیۡلِ ۙ
আর যদি সে (অর্থাৎ রাসূল কথার কথা) কোন (মিথ্যা) বাণী রচনা করে আমার প্রতি আরোপ করত
لَاَخَذۡنَا مِنۡہُ بِالۡیَمِیۡنِ ۙ
তবে আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম
ثُمَّ لَقَطَعۡنَا مِنۡہُ الۡوَتِیۡنَ ۫ۖ
তারপর তার জীবন-ধমনি কেটে দিতাম।
فَمَا مِنۡکُمۡ مِّنۡ اَحَدٍ عَنۡہُ حٰجِزِیۡنَ
তখন তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারত না।
وَاِنَّہٗ لَتَذۡکِرَۃٌ لِّلۡمُتَّقِیۡنَ
নিশ্চয়ই এটা মুত্তাকীদের জন্য এক উপদেশবাণী।
وَاِنَّا لَنَعۡلَمُ اَنَّ مِنۡکُمۡ مُّکَذِّبِیۡنَ
আমি ভালো করে জানি তোমাদের মধ্যে কিছু লোক অবিশ্বাসীও আছে।
وَاِنَّہٗ لَحَسۡرَۃٌ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ
এবং এটা (অর্থাৎ কুরআন) এরূপ কাফেরদের জন্য আক্ষেপের কারণ।
وَاِنَّہٗ لَحَقُّ الۡیَقِیۡنِ
এবং এটাই নিশ্চিত সত্য বাণী।
فَسَبِّحۡ بِاسۡمِ رَبِّکَ الۡعَظِیۡمِ ٪
সুতরাং তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ঘোষণা কর।