الأنفال
আল-আনফাল
আয়াত ৭৫ · মাদানী · পারা ৯
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
یَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ الۡاَنۡفَالِ ؕ قُلِ الۡاَنۡفَالُ لِلّٰہِ وَالرَّسُوۡلِ ۚ فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَصۡلِحُوۡا ذَاتَ بَیۡنِکُمۡ ۪ وَاَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗۤ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ
(হে নবী!) লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দান)-এর এখতিয়ার আল্লাহ ও রাসূলের। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক শুধরে নাও। এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর, যদি তোমরা প্রকৃত মুমিন হও।
اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الَّذِیۡنَ اِذَا ذُکِرَ اللّٰہُ وَجِلَتۡ قُلُوۡبُہُمۡ وَاِذَا تُلِیَتۡ عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتُہٗ زَادَتۡہُمۡ اِیۡمَانًا وَّعَلٰی رَبِّہِمۡ یَتَوَکَّلُوۡنَ ۚۖ
মুমিন তো তারাই, (যাদের সামনে) আল্লাহকে স্মরণ করা হলে তাদের হৃদয় ভীত হয়, যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পড়া হয়, তখন তা তাদের ঈমানের উন্নতি সাধন করে এবং তারা তাদের প্রতিপালকের উপর ভরসা করে।
الَّذِیۡنَ یُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَمِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ یُنۡفِقُوۡنَ ؕ
যারা নামায কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি, তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে।
اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ حَقًّا ؕ لَہُمۡ دَرَجٰتٌ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ وَمَغۡفِرَۃٌ وَّرِزۡقٌ کَرِیۡمٌ ۚ
এরাই প্রকৃত মুমিন। তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে রয়েছে উচ্চ মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযক।
کَمَاۤ اَخۡرَجَکَ رَبُّکَ مِنۡۢ بَیۡتِکَ بِالۡحَقِّ ۪ وَاِنَّ فَرِیۡقًا مِّنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ لَکٰرِہُوۡنَ ۙ
(গনীমত বণ্টনের এ বিষয়টা সেই রকম), যেমন তোমার প্রতিপালক তোমাকে সত্যের জন্য নিজ ঘর থেকে বের করেছিলেন, অথচ মুমিনদের একটি দলের কাছে এ বিষয়টা অপছন্দ ছিল।
یُجَادِلُوۡنَکَ فِی الۡحَقِّ بَعۡدَمَا تَبَیَّنَ کَاَنَّمَا یُسَاقُوۡنَ اِلَی الۡمَوۡتِ وَہُمۡ یَنۡظُرُوۡنَ ؕ
সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও তারা তোমার সাথে সে বিষয়ে এমনভাবে বিতর্ক করছে, যেন তাদেরকে মৃত্যুর দিকে তাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তারা তা নিজ চোখে দেখতে পাচ্ছে।
وَاِذۡ یَعِدُکُمُ اللّٰہُ اِحۡدَی الطَّآئِفَتَیۡنِ اَنَّہَا لَکُمۡ وَتَوَدُّوۡنَ اَنَّ غَیۡرَ ذَاتِ الشَّوۡکَۃِ تَکُوۡنُ لَکُمۡ وَیُرِیۡدُ اللّٰہُ اَنۡ یُّحِقَّ الۡحَقَّ بِکَلِمٰتِہٖ وَیَقۡطَعَ دَابِرَ الۡکٰفِرِیۡنَ ۙ
(সেই সময়কে স্মরণ কর), যখন আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, দু’টি দলের মধ্যে কোন একদল তোমাদের আয়ত্তে আসবে। আর তোমাদের কামনা ছিল, নিষ্কণ্টক দলটি তোমাদের আওতাধীন হোক। আল্লাহ চাচ্ছিলেন, নিজ বিধানাবলী দ্বারা সত্যকে সত্যে পরিণত করে দেখাবেন এবং কাফেরদের মূলোচ্ছেদ করবেন।
لِیُحِقَّ الۡحَقَّ وَیُبۡطِلَ الۡبَاطِلَ وَلَوۡ کَرِہَ الۡمُجۡرِمُوۡنَ ۚ
এভাবে তিনি সত্যকে সত্য ও অসত্যকে অসত্যরূপে প্রমাণ করতে চান, তাতে অপরাধীদের (এটা) যতই অপছন্দ হোক।
اِذۡ تَسۡتَغِیۡثُوۡنَ رَبَّکُمۡ فَاسۡتَجَابَ لَکُمۡ اَنِّیۡ مُمِدُّکُمۡ بِاَلۡفٍ مِّنَ الۡمَلٰٓئِکَۃِ مُرۡدِفِیۡنَ
(স্মরণ কর), যখন তোমরা নিজ প্রতিপালকের কাছে ফরিয়াদ করেছিলে, তখন তিনি তোমাদের ফরিয়াদে সাড়া দিয়ে (বললেন), আমি তোমাদের সাহায্যার্থে এক হাজার ফিরিশতার একটি বাহিনী পাঠাচ্ছি, যারা একের পর এক আসবে।
وَمَا جَعَلَہُ اللّٰہُ اِلَّا بُشۡرٰی وَلِتَطۡمَئِنَّ بِہٖ قُلُوۡبُکُمۡ ۚ وَمَا النَّصۡرُ اِلَّا مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَزِیۡزٌ حَکِیۡمٌ ٪
এ প্রতিশ্রুতি আল্লাহ কেবল এজন্যই দিয়েছেন, যাতে এটা তোমাদের জন্য সুসংবাদ হয় এবং যাতে এর দ্বারা তোমাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে, আর সাহায্য তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা ক্ষমতাবান, প্রজ্ঞাময়।
اِذۡ یُغَشِّیۡکُمُ النُّعَاسَ اَمَنَۃً مِّنۡہُ وَیُنَزِّلُ عَلَیۡکُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ مَآءً لِّیُطَہِّرَکُمۡ بِہٖ وَیُذۡہِبَ عَنۡکُمۡ رِجۡزَ الشَّیۡطٰنِ وَلِیَرۡبِطَ عَلٰی قُلُوۡبِکُمۡ وَیُثَبِّتَ بِہِ الۡاَقۡدَامَ ؕ
(স্মরণ কর), যখন তিনি নিজের পক্ষ হতে স্বস্তির জন্য তোমাদেরকে তন্দ্রাচ্ছন্ন করছিলেন এবং আকাশ থেকে তোমাদের উপর পানি বর্ষণ করছিলেন, তা দ্বারা তোমাদেরকে পবিত্র করার জন্য, তোমাদের থেকে শয়তানের আবিলতা দূর করার জন্য, তোমাদের অন্তরে দৃঢ়তা বাঁধার জন্য এবং তার মাধ্যমে (তোমাদের) পা স্থির রাখার জন্য।
اِذۡ یُوۡحِیۡ رَبُّکَ اِلَی الۡمَلٰٓئِکَۃِ اَنِّیۡ مَعَکُمۡ فَثَبِّتُوا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ؕ سَاُلۡقِیۡ فِیۡ قُلُوۡبِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوا الرُّعۡبَ فَاضۡرِبُوۡا فَوۡقَ الۡاَعۡنَاقِ وَاضۡرِبُوۡا مِنۡہُمۡ کُلَّ بَنَانٍ ؕ
(স্মরণ কর), যখন তোমার প্রতিপালক ফিরিশতাদেরকে ওহীর মাধ্যমে হুকুম দিলেন যে, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি। কাজেই তোমরা মুমিনদের পা স্থির রাখ, আমি কাফেরদের মনে ভীতি সঞ্চার করব। সুতরাং তোমরা তাদের ঘাড়ের উপর আঘাত কর এবং তাদের আঙ্গুলের জোড়াসমূহেও আঘাত কর।
ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ شَآقُّوا اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ ۚ وَمَنۡ یُّشَاقِقِ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ فَاِنَّ اللّٰہَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ
এটা এই কারণে যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতায় লিপ্ত হলে, আল্লাহর আযাব তো সুকঠিন।
ذٰلِکُمۡ فَذُوۡقُوۡہُ وَاَنَّ لِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابَ النَّارِ
সুতরাং এসবের মজা ভোগ কর। তাছাড়া কাফেদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের (আসল) শাস্তি।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا لَقِیۡتُمُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا زَحۡفًا فَلَا تُوَلُّوۡہُمُ الۡاَدۡبَارَ ۚ
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা হানাদার কাফিরদের মুখোমুখি হও, তখন তাদেরকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করো না।
وَمَنۡ یُّوَلِّہِمۡ یَوۡمَئِذٍ دُبُرَہٗۤ اِلَّا مُتَحَرِّفًا لِّقِتَالٍ اَوۡ مُتَحَیِّزًا اِلٰی فِئَۃٍ فَقَدۡ بَآءَ بِغَضَبٍ مِّنَ اللّٰہِ وَمَاۡوٰىہُ جَہَنَّمُ ؕ وَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ
যে ব্যক্তি সেদিন তাদেরকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে, যুদ্ধের জন্য কৌশল অবলম্বন অথবা নিজ দলে স্থানগ্রহণের উদ্দেশ্য ছাড়া, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্রোধ নিয়ে ফিরবে এবং তার ঠিকানা জাহান্নাম, আর তা অতি মন্দ ঠিকানা।
فَلَمۡ تَقۡتُلُوۡہُمۡ وَلٰکِنَّ اللّٰہَ قَتَلَہُمۡ ۪ وَمَا رَمَیۡتَ اِذۡ رَمَیۡتَ وَلٰکِنَّ اللّٰہَ رَمٰی ۚ وَلِیُبۡلِیَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ مِنۡہُ بَلَآءً حَسَنًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ
সুতরাং (হে মুসলিমগণ! প্রকৃতপক্ষে) তোমরা তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) হত্যা করনি; বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছিলেন এবং (হে নবী!) তুমি যখন (তাদের উপর মাটি) নিক্ষেপ করেছিলে, তখন তা তুমি নিক্ষেপ করনি; বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন আর (তা তোমাদের হাত দ্বারা করিয়েছিলেন) তার মাধ্যমে মুমিনদেরকে উত্তম প্রতিদান দেওয়ার জন্য। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল কিছুর শ্রোতা ও সবকিছুর জ্ঞাতা।
ذٰلِکُمۡ وَاَنَّ اللّٰہَ مُوۡہِنُ کَیۡدِ الۡکٰفِرِیۡنَ
তা তো রয়েছেই, তদুপরি আল্লাহ কাফেরদের চক্রান্ত দুর্বল করার ছিলেন।
اِنۡ تَسۡتَفۡتِحُوۡا فَقَدۡ جَآءَکُمُ الۡفَتۡحُ ۚ وَاِنۡ تَنۡتَہُوۡا فَہُوَ خَیۡرٌ لَّکُمۡ ۚ وَاِنۡ تَعُوۡدُوۡا نَعُدۡ ۚ وَلَنۡ تُغۡنِیَ عَنۡکُمۡ فِئَتُکُمۡ شَیۡئًا وَّلَوۡ کَثُرَتۡ ۙ وَاَنَّ اللّٰہَ مَعَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٪
(হে কাফেরগণ!) তোমরা যদি মীমাংসাই চেয়ে থাক, তবে মীমাংসা তো তোমাদের সামনে এসেই গেছে। এখন যদি তোমরা নিবৃত্ত হও, তবে তা তোমাদেরই পক্ষে কল্যাণকর হবে। আর যদি পুনরায় (সেই কাজই) কর (যা এ যাবৎ করছিলে), তবে আমরাও পুনরায় (তাই) করব (যেমনটা সদ্য করলাম) এবং তখন তোমাদের দল তোমাদের কোনও কাজে আসবে না, তার সংখ্যা যত বেশিই হোক। স্মরণ রেখ, আল্লাহ মুমিনদের সঙ্গে আছেন।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ وَلَا تَوَلَّوۡا عَنۡہُ وَاَنۡتُمۡ تَسۡمَعُوۡنَ ۚۖ
হে মুমিনগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং এর থেকে (অর্থাৎ আনুগত্য থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না, যখন তোমরা (আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশাবলী) শুনছ।
وَلَا تَکُوۡنُوۡا کَالَّذِیۡنَ قَالُوۡا سَمِعۡنَا وَہُمۡ لَا یَسۡمَعُوۡنَ
এবং তাদের মত হয়ো না, যারা বলে, আমরা শুনলাম কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা শোনে না।
اِنَّ شَرَّ الدَّوَآبِّ عِنۡدَ اللّٰہِ الصُّمُّ الۡبُکۡمُ الَّذِیۡنَ لَا یَعۡقِلُوۡنَ
নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম জীব সেই বধির ও বোবা লোক, যারা বুদ্ধি কাজে লাগায় না।
وَلَوۡ عَلِمَ اللّٰہُ فِیۡہِمۡ خَیۡرًا لَّاَسۡمَعَہُمۡ ؕ وَلَوۡ اَسۡمَعَہُمۡ لَتَوَلَّوۡا وَّہُمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ
আল্লাহর যদি জানা থাকত তাদের মধ্যে কোন কল্যাণ আছে, তবে তিনি তাদেরকে অবশ্যই শোনার তাওফীক দিতেন, কিন্তু (তাদের মধ্যে যেহেতু কোন কল্যাণ নেই, তাই) তাদের শোনার তাওফীক দিলেও তারা মুখ ফিরিয়ে পালাবে।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اسۡتَجِیۡبُوۡا لِلّٰہِ وَلِلرَّسُوۡلِ اِذَا دَعَاکُمۡ لِمَا یُحۡیِیۡکُمۡ ۚ وَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ یَحُوۡلُ بَیۡنَ الۡمَرۡءِ وَقَلۡبِہٖ وَاَنَّہٗۤ اِلَیۡہِ تُحۡشَرُوۡنَ
হে মুমিনগণ! আল্লাহ ও রাসূলের দাওয়াত কবুল কর, যখন তিনি (রাসূল) তোমাদেরকে এমন বিষয়ের দিকে ডাকেন, যা তোমাদেরকে জীবন দান করে। জেনে রেখ, আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মধ্যে প্রতিবন্ধক হয়ে যান। আর তোমাদের সকলকে তারই কাছে (নিয়ে) জমা করা হবে।
وَاتَّقُوۡا فِتۡنَۃً لَّا تُصِیۡبَنَّ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مِنۡکُمۡ خَآصَّۃً ۚ وَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ
এবং সেই বিপর্যয়কে ভয় কর, যা বিশেষভাবে তোমাদের মধ্যে যারা জুলুম করে কেবল তাদেরকেই আক্রান্ত করবে না। জেনে রেখ, আল্লাহর আযাব সুকঠিন।
وَاذۡکُرُوۡۤا اِذۡ اَنۡتُمۡ قَلِیۡلٌ مُّسۡتَضۡعَفُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ تَخَافُوۡنَ اَنۡ یَّتَخَطَّفَکُمُ النَّاسُ فَاٰوٰىکُمۡ وَاَیَّدَکُمۡ بِنَصۡرِہٖ وَرَزَقَکُمۡ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ
এবং সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে, লোকে তোমাদেরকে তোমাদের দেশে দাবিয়ে রেখেছিল। তোমরা ভয় করতে, পাছে লোকে তোমাদেরকে অকস্মাৎ তুলে নিয়ে যায়। অতঃপর আল্লাহ তোমাদেরকে আশ্রয় দিলেন, তোমাদেরকে নিজ সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করলেন এবং তোমাদেরকে উৎকৃষ্ট জিনিসসমূহের রিযক দান করলেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় কর।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَخُوۡنُوا اللّٰہَ وَالرَّسُوۡلَ وَتَخُوۡنُوۡۤا اَمٰنٰتِکُمۡ وَاَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ
হে মুমিনগণ! আল্লাহ ও রাসূলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না এবং জেনে-শুনে নিজেদের আমানতের খেয়ানত করো না।
وَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّمَاۤ اَمۡوَالُکُمۡ وَاَوۡلَادُکُمۡ فِتۡنَۃٌ ۙ وَّاَنَّ اللّٰہَ عِنۡدَہٗۤ اَجۡرٌ عَظِیۡمٌ ٪
জেনে রেখ, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা। আর মহা পুরস্কার রয়েছে আল্লাহরই কাছে।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنۡ تَتَّقُوا اللّٰہَ یَجۡعَلۡ لَّکُمۡ فُرۡقَانًا وَّیُکَفِّرۡ عَنۡکُمۡ سَیِّاٰتِکُمۡ وَیَغۡفِرۡ لَکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ ذُو الۡفَضۡلِ الۡعَظِیۡمِ
হে মুমিনগণ! তোমরা যদি আল্লাহর সঙ্গে তাকওয়ার নীতি অবলম্বন কর, তবে তিনি তোমাদেরকে (সত্য ও মিথ্যার মধ্যে) পার্থক্য করার শক্তি দেবেন, তোমাদের পাপ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ মহা অনুগ্রহের মালিক।
وَاِذۡ یَمۡکُرُ بِکَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِیُثۡبِتُوۡکَ اَوۡ یَقۡتُلُوۡکَ اَوۡ یُخۡرِجُوۡکَ ؕ وَیَمۡکُرُوۡنَ وَیَمۡکُرُ اللّٰہُ ؕ وَاللّٰہُ خَیۡرُ الۡمٰکِرِیۡنَ
(হে নবী! সেই সময়কে স্মরণ কর), যখন কাফেরগণ তোমাকে বন্দী করা অথবা তোমাকে হত্যা করা কিংবা তোমাকে (দেশ থেকে) বহিষ্কার করার জন্য তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল। তারা তো নিজেদের ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছিল আর আল্লাহও নিজ কৌশল প্রয়োগ করছিলেন। বস্তুত আল্লাহ সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কৌশলকারী।
وَاِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتُنَا قَالُوۡا قَدۡ سَمِعۡنَا لَوۡ نَشَآءُ لَقُلۡنَا مِثۡلَ ہٰذَاۤ ۙ اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ
তাদের সামনে যখন আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন তারা বলে, (আচ্ছা) শুনলাম তো! ইচ্ছা করলে আমরাও এরূপ কথা বলতে পারি। এটা (কুরআন) পূর্ববর্তী লোকদের কল্পকাহিনী ছাড়া কিছু নয়।
وَاِذۡ قَالُوا اللّٰہُمَّ اِنۡ کَانَ ہٰذَا ہُوَ الۡحَقَّ مِنۡ عِنۡدِکَ فَاَمۡطِرۡ عَلَیۡنَا حِجَارَۃً مِّنَ السَّمَآءِ اَوِ ائۡتِنَا بِعَذَابٍ اَلِیۡمٍ
(একটা সময় ছিল) যখন তারা বলেছিল, হে আল্লাহ! এই কুরআনই যদি আপনার পক্ষ হতে আগত সত্য হয়ে থাকে, তবে আমাদের প্রতি আকাশ থেকে পাথর-বৃষ্টি বর্ষণ করুন অথবা আমাদের প্রতি কোন মর্মন্তুদ শাস্তি নিক্ষেপ করুন।
وَمَا کَانَ اللّٰہُ لِیُعَذِّبَہُمۡ وَاَنۡتَ فِیۡہِمۡ ؕ وَمَا کَانَ اللّٰہُ مُعَذِّبَہُمۡ وَہُمۡ یَسۡتَغۡفِرُوۡنَ
এবং (হে নবী!) আল্লাহ এমন নন যে, তুমি তাদের মধ্যে বর্তমান থাকা অবস্থায় তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং তিনি এমনও নন যে, তারা ইস্তিগফারে রত থাকা অবস্থায় তাদেরকে শাস্তি দেবেন।
وَمَا لَہُمۡ اَلَّا یُعَذِّبَہُمُ اللّٰہُ وَہُمۡ یَصُدُّوۡنَ عَنِ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ وَمَا کَانُوۡۤا اَوۡلِیَآءَہٗ ؕ اِنۡ اَوۡلِیَآؤُہٗۤ اِلَّا الۡمُتَّقُوۡنَ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ
আর তাদের কী-বা গুণ আছে যে, আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেবেন না, অথচ তারা (মানুষকে) মসজিদুল হারামে যেতে বাধা দেয়, যদিও তারা তার মুতাওয়াল্লী নয়। মুত্তাকীগণ ছাড়া অন্য কোনও লোক তার মুতাওয়াল্লী হতেও পারে না। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক (এ কথা) জানে না।
وَمَا کَانَ صَلَاتُہُمۡ عِنۡدَ الۡبَیۡتِ اِلَّا مُکَآءً وَّتَصۡدِیَۃً ؕ فَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ بِمَا کُنۡتُمۡ تَکۡفُرُوۡنَ
বাইতুল্লাহর নিকট তাদের নামায শিস দেওয়া ও তালি বাজানো ছাড়া কিছুই নয়। সুতরাং (হে কাফেরগণ!) তোমরা যে কুফরী করতে, তজ্জন্য এখন শাস্তি ভোগ কর।
اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا یُنۡفِقُوۡنَ اَمۡوَالَہُمۡ لِیَصُدُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ فَسَیُنۡفِقُوۡنَہَا ثُمَّ تَکُوۡنُ عَلَیۡہِمۡ حَسۡرَۃً ثُمَّ یُغۡلَبُوۡنَ ۬ؕ وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِلٰی جَہَنَّمَ یُحۡشَرُوۡنَ ۙ
যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা আল্লাহর পথে (মানুষকে) বাঁধা দেওয়ার জন্য নিজেদের অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে। এর পরিণাম হবে এই যে, তারা অর্থ-সম্পদ ব্যয় করতে থাকবে, অতঃপর সেসব তাদের মনস্তাপের কারণ হয়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত তারা পরাভূত হবে। আর যারা কুফরী করে, তাদেরকে (আখিরাতে) জাহান্নামে নিয়ে একত্র করা হবে।
لِیَمِیۡزَ اللّٰہُ الۡخَبِیۡثَ مِنَ الطَّیِّبِ وَیَجۡعَلَ الۡخَبِیۡثَ بَعۡضَہٗ عَلٰی بَعۡضٍ فَیَرۡکُمَہٗ جَمِیۡعًا فَیَجۡعَلَہٗ فِیۡ جَہَنَّمَ ؕ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ ٪
আর তা এই জন্য যে, আল্লাহ অপবিত্র (লোকদের)কে পবিত্র (লোকদের) থেকে পৃথক করে দেবেন এবং এক অপবিত্রকে অপর অপবিত্রের উপর রেখে তাদের সকলকে স্তূপীকৃত করবেন, অতঃপর সেই স্তূপকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। এরাই সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত।
قُلۡ لِّلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِنۡ یَّنۡتَہُوۡا یُغۡفَرۡ لَہُمۡ مَّا قَدۡ سَلَفَ ۚ وَاِنۡ یَّعُوۡدُوۡا فَقَدۡ مَضَتۡ سُنَّتُ الۡاَوَّلِیۡنَ
(হে নবী!) যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তাদেরকে বলে দাও, তারা যদি নিবৃত্ত হয়, তবে অতীতে যা-কিছু হয়েছে তাদেরকে তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে। কিন্তু তারা যদি পুনরায় (সে কাজই) করে, তবে পূর্ববর্তী লোকদের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে তা তো (তাদের সামনে) গত হয়েছেই।
وَقَاتِلُوۡہُمۡ حَتّٰی لَا تَکُوۡنَ فِتۡنَۃٌ وَّیَکُوۡنَ الدِّیۡنُ کُلُّہٗ لِلّٰہِ ۚ فَاِنِ انۡتَہَوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ بِمَا یَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ
(হে মুসলিমগণ!) তোমরা কাফেরদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাক, যাবৎ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং দীন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর হয়ে যায়। অতঃপর তারা যদি নিবৃত্ত হয়, তবে আল্লাহ তো তাদের কার্যাবলী সম্যক দেখছেন।
وَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ مَوۡلٰىکُمۡ ؕ نِعۡمَ الۡمَوۡلٰی وَنِعۡمَ النَّصِیۡرُ
তারা যদি মুখ ফিরিয়ে রাখে, তবে জেনে রেখ, আল্লাহই তোমাদের অভিভাবক কত উত্তম অভিভাবক তিনি এবং কত উত্তম সাহায্যকারী।
وَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّمَا غَنِمۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَاَنَّ لِلّٰہِ خُمُسَہٗ وَلِلرَّسُوۡلِ وَلِذِی الۡقُرۡبٰی وَالۡیَتٰمٰی وَالۡمَسٰکِیۡنِ وَابۡنِ السَّبِیۡلِ ۙ اِنۡ کُنۡتُمۡ اٰمَنۡتُمۡ بِاللّٰہِ وَمَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلٰی عَبۡدِنَا یَوۡمَ الۡفُرۡقَانِ یَوۡمَ الۡتَقَی الۡجَمۡعٰنِ ؕ وَاللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ
(হে মুসলিমগণ!) জেনে রাখ, তোমরা যা-কিছু গনীমত অর্জন কর, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ, রাসূল, (তাঁর) আত্মীয়বর্গ, ইয়াতীম, মিসকীন ও মুসাফিরদের প্রাপ্য (যা আদায় করা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য)যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও সেই বিষয়ের প্রতি ঈমান রাখ, যা আমি নিজ বান্দার উপর মীমাংসার দিন অবতীর্ণ করেছি যে দিন দু’ দল পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।
اِذۡ اَنۡتُمۡ بِالۡعُدۡوَۃِ الدُّنۡیَا وَہُمۡ بِالۡعُدۡوَۃِ الۡقُصۡوٰی وَالرَّکۡبُ اَسۡفَلَ مِنۡکُمۡ ؕ وَلَوۡ تَوَاعَدۡتُّمۡ لَاخۡتَلَفۡتُمۡ فِی الۡمِیۡعٰدِ ۙ وَلٰکِنۡ لِّیَقۡضِیَ اللّٰہُ اَمۡرًا کَانَ مَفۡعُوۡلًا ۬ۙ لِّیَہۡلِکَ مَنۡ ہَلَکَ عَنۡۢ بَیِّنَۃٍ وَّیَحۡیٰی مَنۡ حَیَّ عَنۡۢ بَیِّنَۃٍ ؕ وَاِنَّ اللّٰہَ لَسَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ ۙ
(স্মরণ কর), যখন তোমরা (উপত্যকার) নিকটবর্তী প্রান্তে ছিলে এবং তারা ছিল দূরবর্তী প্রান্তে, আর কাফেলা ছিল তোমাদের অপেক্ষা নিচের দিকে। তোমরা যদি (আগে থেকেই) পারস্পরিক আলোচনাক্রমে (যুদ্ধের) সময় নির্ধারণ করতে চাইতে, তবে সময় নির্ধারণের ব্যাপারে তোমাদের মধ্যে অবশ্যই মতভেদ দেখা দিত। কিন্তু (পূর্ব সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে এজন্য ঘটেছে), যাতে যে বিষয়টা ঘটবার ছিল আল্লাহ তা সম্পন্ন করে দেখান। ফলে যার ধ্বংস হওয়ার, সে সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখেই ধ্বংস হয় আর যার জীবিত থাকার, সেও সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখেই জীবিত থাকে।, আল্লাহ সবকিছুর শ্রোতা ও সব কিছুর জ্ঞাতা।
اِذۡ یُرِیۡکَہُمُ اللّٰہُ فِیۡ مَنَامِکَ قَلِیۡلًا ؕ وَلَوۡ اَرٰىکَہُمۡ کَثِیۡرًا لَّفَشِلۡتُمۡ وَلَتَنَازَعۡتُمۡ فِی الۡاَمۡرِ وَلٰکِنَّ اللّٰہَ سَلَّمَ ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ
(হে নবী! স্মরণ কর), যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নে তাদের (অর্থাৎ শত্রুদের) সংখ্যা কম দেখাচ্ছিলেন। তোমাকে যদি তাদের সংখ্যা বেশি দেখাতেন, তবে (হে মুসলিমগণ!) তোমরা সাহস হারাতে এবং এ বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হত, কিন্তু আল্লাহ (তোমাদেরকে তা থেকে) রক্ষা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের গুপ্ত কথাসমূহও ভালোভাবে জানেন।
وَاِذۡ یُرِیۡکُمُوۡہُمۡ اِذِ الۡتَقَیۡتُمۡ فِیۡۤ اَعۡیُنِکُمۡ قَلِیۡلًا وَّیُقَلِّلُکُمۡ فِیۡۤ اَعۡیُنِہِمۡ لِیَقۡضِیَ اللّٰہُ اَمۡرًا کَانَ مَفۡعُوۡلًا ؕ وَاِلَی اللّٰہِ تُرۡجَعُ الۡاُمُوۡرُ ٪
এবং (সেই সময়কে স্মরণ কর), যখন তোমরা একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিলে, তখন আল্লাহ তোমাদের চোখে তাদের সংখ্যা অল্প দেখাচ্ছিলেন এবং তাদের চোখে তোমাদেরকে অল্প দেখাচ্ছিলেন, যাতে যে কাজ সংঘটিত হওয়ার ছিল, আল্লাহ তা সম্পন্ন করে দেখান। যাবতীয় বিষয় আল্লাহরই দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا لَقِیۡتُمۡ فِئَۃً فَاثۡبُتُوۡا وَاذۡکُرُوا اللّٰہَ کَثِیۡرًا لَّعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ۚ
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন দলের সম্মুখীন হবে, তখন অবিচলিত থাকবে এবং আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন কর।
وَاَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ وَلَا تَنَازَعُوۡا فَتَفۡشَلُوۡا وَتَذۡہَبَ رِیۡحُکُمۡ وَاصۡبِرُوۡا ؕ اِنَّ اللّٰہَ مَعَ الصّٰبِرِیۡنَ ۚ
এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে এবং পরস্পরে কলহ করবে না, অন্যথায় তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের হাওয়া (প্রভাব) বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্য ধারণ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে।
وَلَا تَکُوۡنُوۡا کَالَّذِیۡنَ خَرَجُوۡا مِنۡ دِیَارِہِمۡ بَطَرًا وَّرِئَآءَ النَّاسِ وَیَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا یَعۡمَلُوۡنَ مُحِیۡطٌ
তোমরা তাদের মত হবে না, যারা নিজ গৃহ থেকে দম্ভভরে এবং মানুষকে (নিজেদের ঠাটবাট) দেখাতে দেখাতে বের হয়েছিল এবং তারা (অন্যদেরকে) আল্লাহর পথে বাধা দিত। আল্লাহ মানুষের সমস্ত কর্ম (নিজ জ্ঞান দ্বারা) পরিবেষ্টন করে আছেন।
وَاِذۡ زَیَّنَ لَہُمُ الشَّیۡطٰنُ اَعۡمَالَہُمۡ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَکُمُ الۡیَوۡمَ مِنَ النَّاسِ وَاِنِّیۡ جَارٌ لَّکُمۡ ۚ فَلَمَّا تَرَآءَتِ الۡفِئَتٰنِ نَکَصَ عَلٰی عَقِبَیۡہِ وَقَالَ اِنِّیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّنۡکُمۡ اِنِّیۡۤ اَرٰی مَا لَا تَرَوۡنَ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اللّٰہَ ؕ وَاللّٰہُ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ٪
এবং (সেই সময়ও উল্লেখযোগ্য) যখন শয়তান তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) কাজকর্মকে তাদের দৃষ্টিতে শোভনীয় করে তুলেছিল এবং বলেছিল, আজ মানুষের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারে। আর আমিই তোমাদের রক্ষক। অতঃপর যখন উভয় দল পরস্পর মুখোমুখি হল, তখন সে পিছন দিকে সরে পড়ল এবং বলল, তোমাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি এমন কিছু দেখছি যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ না। আমি আল্লাহকে ভয় করছি এবং আল্লাহর শাস্তি অতি কঠোর।
اِذۡ یَقُوۡلُ الۡمُنٰفِقُوۡنَ وَالَّذِیۡنَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ مَّرَضٌ غَرَّہٰۤؤُ لَآءِ دِیۡنُہُمۡ ؕ وَمَنۡ یَّتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰہِ فَاِنَّ اللّٰہَ عَزِیۡزٌ حَکِیۡمٌ
(স্মরণ কর), মুনাফিক ও যাদের অন্তরে ব্যাধি ছিল, তারা যখন বলছিল, তাদের (অর্থাৎ মুসলিমদের) দীন তাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে। অথচ কেউ আল্লাহর উপর ভরসা করলে, আল্লাহ তো পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
وَلَوۡ تَرٰۤی اِذۡ یَتَوَفَّی الَّذِیۡنَ کَفَرُوا ۙ الۡمَلٰٓئِکَۃُ یَضۡرِبُوۡنَ وُجُوۡہَہُمۡ وَاَدۡبَارَہُمۡ ۚ وَذُوۡقُوۡا عَذَابَ الۡحَرِیۡقِ
তুমি যদি দেখতে, ফিরিশতাগণ কাফেরদের চেহারা ও পিঠে আঘাত করে করে তাদের প্রাণ হরণ করছিল (আর বলছিল), এবার তোমরা জ্বলার মজাও ভোগ কর (তাহলে চমৎকার দৃশ্য দেখতে পেতে)।
ذٰلِکَ بِمَا قَدَّمَتۡ اَیۡدِیۡکُمۡ وَاَنَّ اللّٰہَ لَیۡسَ بِظَلَّامٍ لِّلۡعَبِیۡدِ ۙ
এসব, তোমরা নিজ হাতে যা সামনে পাঠিয়েছিলে তার প্রতিফল। আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি জুলুমকারী নন।
کَدَاۡبِ اٰلِ فِرۡعَوۡنَ ۙ وَالَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ کَفَرُوۡا بِاٰیٰتِ اللّٰہِ فَاَخَذَہُمُ اللّٰہُ بِذُنُوۡبِہِمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ قَوِیٌّ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ
(তাদের অবস্থা ঠিক সেই রকমই হয়েছে) যেমন ফির‘আউনের সম্প্রদায় ও তাদের পূর্ববর্তী লোকদের অবস্থা হয়েছিল। তারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের পাপাচারের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি শক্তিমান এবং তার শাস্তি অতি কঠোর।
ذٰلِکَ بِاَنَّ اللّٰہَ لَمۡ یَکُ مُغَیِّرًا نِّعۡمَۃً اَنۡعَمَہَا عَلٰی قَوۡمٍ حَتّٰی یُغَیِّرُوۡا مَا بِاَنۡفُسِہِمۡ ۙ وَاَنَّ اللّٰہَ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ ۙ
তা এ কারণে যে, আল্লাহ কোনও সম্প্রদায়কে যে নিয়ামত দান করেন, তা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে ফেলে। আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন।
کَدَاۡبِ اٰلِ فِرۡعَوۡنَ ۙ وَالَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِ رَبِّہِمۡ فَاَہۡلَکۡنٰہُمۡ بِذُنُوۡبِہِمۡ وَاَغۡرَقۡنَاۤ اٰلَ فِرۡعَوۡنَ ۚ وَکُلٌّ کَانُوۡا ظٰلِمِیۡنَ
(এ বিষয়েও তাদের অবস্থা) ফির‘আউনের সম্প্রদায় ও তাদের পূর্ববর্তী লোকদের অবস্থার মত। তারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল, ফলে তাদের পাপাচারের কারণে তাদেরকে ধ্বংস করে দেই এবং ফির‘আউনের সম্প্রদায়কে করি নিমজ্জিত। তারা সকলেই ছিল জালেম।
اِنَّ شَرَّ الدَّوَآبِّ عِنۡدَ اللّٰہِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فَہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ۖۚ
নিশ্চয়ই (ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী প্রাণীদের মধ্যে) আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট জীব হল তারা যারা কুফর অবলম্বন করেছে, যে কারণে তারা ঈমান আনয়ন করছে না।
اَلَّذِیۡنَ عٰہَدۡتَّ مِنۡہُمۡ ثُمَّ یَنۡقُضُوۡنَ عَہۡدَہُمۡ فِیۡ کُلِّ مَرَّۃٍ وَّہُمۡ لَا یَتَّقُوۡنَ
(তারা) সেই সকল লোক, যাদের থেকে তুমি প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলে। তা সত্ত্বেও তারা প্রতিবার নিজ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং তারা বিন্দুমাত্র ভয়করে না।
فَاِمَّا تَثۡقَفَنَّہُمۡ فِی الۡحَرۡبِ فَشَرِّدۡ بِہِمۡ مَّنۡ خَلۡفَہُمۡ لَعَلَّہُمۡ یَذَّکَّرُوۡنَ
সুতরাং যুদ্ধকালে যদি তুমি তাদেরকে নাগালে পাও, তবে (তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে) তাদের মাধ্যমে তাদের পশ্চাদ্বর্তীদেরকেও বিক্ষিপ্ত করে ফেলবে, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।
وَاِمَّا تَخَافَنَّ مِنۡ قَوۡمٍ خِیَانَۃً فَانۡۢبِذۡ اِلَیۡہِمۡ عَلٰی سَوَآءٍ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یُحِبُّ الۡخَآئِنِیۡنَ ٪
তুমি যদি কোনও সম্প্রদায়ের পক্ষ হতে বিশ্বাসঘাতকতার আশঙ্কা কর, তবে তুমিও (সে চুক্তি) সরাসরিভাবে তাদের দিকে ছুঁড়ে মার। স্মরণ রেখ, আল্লাহ বিশ্বাস ভঙ্গকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
وَلَا یَحۡسَبَنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا سَبَقُوۡا ؕ اِنَّہُمۡ لَا یُعۡجِزُوۡنَ
কাফেরগণ যেন কিছুতেই মনে না করে যে, তারা পরিত্রাণ পেয়ে গেছে। এটা তো নিশ্চিত কথা যে, তারা (আল্লাহকে) ব্যর্থ করতে পারবে না।
وَاَعِدُّوۡا لَہُمۡ مَّا اسۡتَطَعۡتُمۡ مِّنۡ قُوَّۃٍ وَّمِنۡ رِّبَاطِ الۡخَیۡلِ تُرۡہِبُوۡنَ بِہٖ عَدُوَّ اللّٰہِ وَعَدُوَّکُمۡ وَاٰخَرِیۡنَ مِنۡ دُوۡنِہِمۡ ۚ لَا تَعۡلَمُوۡنَہُمۡ ۚ اَللّٰہُ یَعۡلَمُہُمۡ ؕ وَمَا تُنۡفِقُوۡا مِنۡ شَیۡءٍ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ یُوَفَّ اِلَیۡکُمۡ وَاَنۡتُمۡ لَا تُظۡلَمُوۡنَ
(হে মুসলিমগণ!) তোমরা তাদের (মুকাবিলার) জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ব-ছাউনি প্রস্তুত কর, যা দ্বারা তোমরা আল্লাহর শত্রু ও নিজেদের (বর্তমান) শত্রুদেরকে সন্ত্রস্ত করে রাখবে এবং তাদের ছাড়া সেই সব লোককেও, যাদেরকে তোমরা এখনও জান না; (কিন্তু) আল্লাহ তাদেরকে জানেন। তোমরা আল্লাহর পথে যা-কিছু ব্যয় করবে, তা তোমাদেরকে পরিপূর্ণরূপে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।
وَاِنۡ جَنَحُوۡا لِلسَّلۡمِ فَاجۡنَحۡ لَہَا وَتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰہِ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ
আর তারা যদি সন্ধির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে তুমিও সে দিকে ঝুঁকে পড়বে এবং আল্লাহর উপর নির্ভর করবে। নিশ্চয়ই তিনি সকল কথা শোনেন, সকল কিছু জানেন।
وَاِنۡ یُّرِیۡدُوۡۤا اَنۡ یَّخۡدَعُوۡکَ فَاِنَّ حَسۡبَکَ اللّٰہُ ؕ ہُوَ الَّذِیۡۤ اَیَّدَکَ بِنَصۡرِہٖ وَبِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۙ
তারা যদি তোমাকে ধোঁকা দিতে চায়, তবে আল্লাহই তোমার জন্য যথেষ্ট। তিনিই তোমাকে শক্তিশালী করেছেন নিজ সাহায্যে এবং মুমিনদের দ্বারা।
وَاَلَّفَ بَیۡنَ قُلُوۡبِہِمۡ ؕ لَوۡ اَنۡفَقۡتَ مَا فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا مَّاۤ اَلَّفۡتَ بَیۡنَ قُلُوۡبِہِمۡ وَلٰکِنَّ اللّٰہَ اَلَّفَ بَیۡنَہُمۡ ؕ اِنَّہٗ عَزِیۡزٌ حَکِیۡمٌ
এবং তিনি তাদের হৃদয়ে পরস্পরের প্রতি সম্প্রীতি সৃষ্টি করেছেন। তুমি যদি পৃথিবীর যাবতীয় সম্পদও ব্যয় করতে, তবে তাদের হৃদয়ে সম্প্রীতি সৃষ্টি করতে পারতে না। কিন্তু তিনি তাদের অন্তরসমূহে প্রীতি স্থাপন করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ حَسۡبُکَ اللّٰہُ وَمَنِ اتَّبَعَکَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٪
হে নবী! তোমার জন্য আল্লাহ এবং যে সকল মুমিন তোমার অনুসরণ করেছে তারাই যথেষ্ট।
یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ حَرِّضِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ عَلَی الۡقِتَالِ ؕ اِنۡ یَّکُنۡ مِّنۡکُمۡ عِشۡرُوۡنَ صٰبِرُوۡنَ یَغۡلِبُوۡا مِائَتَیۡنِ ۚ وَاِنۡ یَّکُنۡ مِّنۡکُمۡ مِّائَۃٌ یَّغۡلِبُوۡۤا اَلۡفًا مِّنَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِاَنَّہُمۡ قَوۡمٌ لَّا یَفۡقَہُوۡنَ
হে নবী! মুমিনদেরকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে যদি বিশজন ধৈর্যশীল লোক থাকে, তবে তারা দু’শ জনের উপর জয়ী হবে। তোমাদের যদি একশ’ জন থাকে, তবে তারা এক হাজার কাফেরের উপর জয়ী হবে। কেননা তারা এমন এক সম্প্রদায়, যারা বুঝ-সমঝ রাখে না।
اَلۡـٰٔنَ خَفَّفَ اللّٰہُ عَنۡکُمۡ وَعَلِمَ اَنَّ فِیۡکُمۡ ضَعۡفًا ؕ فَاِنۡ یَّکُنۡ مِّنۡکُمۡ مِّائَۃٌ صَابِرَۃٌ یَّغۡلِبُوۡا مِائَتَیۡنِ ۚ وَاِنۡ یَّکُنۡ مِّنۡکُمۡ اَلۡفٌ یَّغۡلِبُوۡۤا اَلۡفَیۡنِ بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ وَاللّٰہُ مَعَ الصّٰبِرِیۡنَ
এখন আল্লাহ তোমাদের ভার লাঘব করলেন। তিনি জানেন, তোমাদের মধ্যে কিছু দুর্বলতা আছে। সুতরাং (এখন বিধান এই যে,) তোমাদের মধ্যে যদি একশ’ জন ধৈর্যশীল থাকে, তবে তারা দু’শ জনের উপর জয়ী হবে; আর যদি তোমাদের মধ্যে এক হাজার জন থাকে, তবে তারা আল্লাহর হুকুমে দু’ হাজার জনের উপর জয়ী হবে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।
مَا کَانَ لِنَبِیٍّ اَنۡ یَّکُوۡنَ لَہٗۤ اَسۡرٰی حَتّٰی یُثۡخِنَ فِی الۡاَرۡضِ ؕ تُرِیۡدُوۡنَ عَرَضَ الدُّنۡیَا ٭ۖ وَاللّٰہُ یُرِیۡدُ الۡاٰخِرَۃَ ؕ وَاللّٰہُ عَزِیۡزٌ حَکِیۡمٌ
কোনও নবীর পক্ষে এটা শোভনীয় নয় যে, সে যমীনে যতক্ষণ পর্যন্ত (শত্রুদের) রক্ত ব্যাপকভাবে প্রবাহিত না করবে (যাতে তাদের প্রভাব সম্পূর্ণরূপে খতম হয়ে যায়), ততক্ষণ পর্যন্ত তার কাছে কয়েদী থাকবে। তোমরা দুনিয়ার সম্পদ কামনা কর আর আল্লাহ (তোমাদের জন্য) আখিরাত (-এর কল্যাণ) চান। আল্লাহ পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
لَوۡلَا کِتٰبٌ مِّنَ اللّٰہِ سَبَقَ لَمَسَّکُمۡ فِیۡمَاۤ اَخَذۡتُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ
যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে লিখিত এক বিধান পূর্বে না থাকত, তবে তোমরা যে পথ অবলম্বন করেছ সে কারণে তোমাদের উপর বড় কোন শাস্তি আপতিত হত।
فَکُلُوۡا مِمَّا غَنِمۡتُمۡ حَلٰلًا طَیِّبًا ۫ۖ وَّاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٪
সুতরাং তোমরা যে গনীমত অর্জন করেছ, তা ভোগ কর বৈধ উত্তম সম্পদরূপে এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ قُلۡ لِّمَنۡ فِیۡۤ اَیۡدِیۡکُمۡ مِّنَ الۡاَسۡرٰۤی ۙ اِنۡ یَّعۡلَمِ اللّٰہُ فِیۡ قُلُوۡبِکُمۡ خَیۡرًا یُّؤۡتِکُمۡ خَیۡرًا مِّمَّاۤ اُخِذَ مِنۡکُمۡ وَیَغۡفِرۡ لَکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
হে নবী! তোমাদের হাতে যে সকল বন্দী আছে (এবং যারা ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে), তাদেরকে বলে দাও, আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ভালো কিছু দেখলে তোমাদের থেকে যে সম্পদ (ফিদয়ারূপে) নেওয়া হয়েছে, তোমাদেরকে তা অপেক্ষা উত্তম কিছু দান করবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَاِنۡ یُّرِیۡدُوۡا خِیَانَتَکَ فَقَدۡ خَانُوا اللّٰہَ مِنۡ قَبۡلُ فَاَمۡکَنَ مِنۡہُمۡ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ
(হে নবী!) তারা যদি তোমার সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গের ইচ্ছা করে থাকে, তবে তারা তো ইতঃপূর্বে আল্লাহর সঙ্গেও বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে, যার পরিণামে আল্লাহ তাদেরকে (তোমাদের) আয়ত্তাধীন করেছেন। বস্তুত আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَہَاجَرُوۡا وَجٰہَدُوۡا بِاَمۡوَالِہِمۡ وَاَنۡفُسِہِمۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَالَّذِیۡنَ اٰوَوۡا وَّنَصَرُوۡۤا اُولٰٓئِکَ بَعۡضُہُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ؕ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَلَمۡ یُہَاجِرُوۡا مَا لَکُمۡ مِّنۡ وَّلَایَتِہِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ حَتّٰی یُہَاجِرُوۡا ۚ وَاِنِ اسۡتَنۡصَرُوۡکُمۡ فِی الدِّیۡنِ فَعَلَیۡکُمُ النَّصۡرُ اِلَّا عَلٰی قَوۡمٍۭ بَیۡنَکُمۡ وَبَیۡنَہُمۡ مِّیۡثَاقٌ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ
যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের মাল ও জান দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা (তাদেরকে মদীনায়) আশ্রয় দিয়েছে ও (তাদের) সাহায্য করেছে, তারা পরস্পরে একে অন্যের অলি-ওয়ারিশ। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরত করেনি, হিজরত না করা পর্যন্ত তাদের সাথে তোমাদের উত্তরাধিকারের কোনও সম্পর্ক নেই। হাঁ দীনের কারণে তারা তোমাদের সাহায্য চাইলে (তাদেরকে) সাহায্য করা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য, অবশ্য (সে সাহায্য) যদি এমন কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হয়, যাদের সঙ্গে তোমাদের কোন চুক্তি আছে, (তবে নয়)। তোমরা যা-কিছু কর আল্লাহ তা ভালোভাবে দেখেন।
وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بَعۡضُہُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ؕ اِلَّا تَفۡعَلُوۡہُ تَکُنۡ فِتۡنَۃٌ فِی الۡاَرۡضِ وَفَسَادٌ کَبِیۡرٌ ؕ
যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা পরস্পরে একে অন্যের অলি-ওয়ারিশ। তোমরা যদি এরূপ না কর, তবে পৃথিবীতে ফিতনা ও মহা বিপর্যয় দেখা দেবে।
وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَہَاجَرُوۡا وَجٰہَدُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَالَّذِیۡنَ اٰوَوۡا وَّنَصَرُوۡۤا اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ حَقًّا ؕ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّرِزۡقٌ کَرِیۡمٌ
যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে আর যারা (তাদেরকে) আশ্রয় দিয়েছে ও (তাদের) সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মুমিন। তাদের জন্য রয়েছে মাগফিরাত ও (জান্নাতের) সম্মানজনক রিযিক।
وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡۢ بَعۡدُ وَہَاجَرُوۡا وَجٰہَدُوۡا مَعَکُمۡ فَاُولٰٓئِکَ مِنۡکُمۡ ؕ وَاُولُوا الۡاَرۡحَامِ بَعۡضُہُمۡ اَوۡلٰی بِبَعۡضٍ فِیۡ کِتٰبِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ٪
যারা পরে ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে ও তোমাদের সাথে জিহাদ করেছে, তারাও তোমাদের অন্তর্ভুক্ত। আর (তাদের মধ্যে) যারা (পুরানো মুহাজিরদের) আত্মীয়, আল্লাহর কিতাবে তারা একে-অন্যের (মীরাছের ব্যাপারে অন্যদের অপেক্ষা) বেশি হকদার। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখেন।