18

ভূমিকা

আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতে দুটি রাস্তা চালু করেছেন, একটি হিদায়াত এবং জান্নাতের রাস্তা। আর অপরটি গোমরাহী এবং জাহান্নামের রাস্তা। পবিত্র কুরআনে পাকে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

إِنَّا هَدَيْنَاهُ السَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرًا وَإِمَّا كَفُورًا

অর্থঃ আর আমি তাকে [মানুষকে] পথ দেখিয়েছি, হয়তো সে কৃতজ্ঞ হয়েছে, অথবা অকৃতজ্ঞ । [সূরা দাহর; ৩]

এ দুনিয়া হলো দারুল ইমতেহান, তথা পরিক্ষার জায়গা। এখানে বান্দা থেকে পরিক্ষা নেওয়া হবে যে, আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী চলে, না কি শয়তানের হুকুম অনুযায়ী চলে। এরপরের জগত হলো বারযাখের জগত, যেটা মূলত ওয়েটিং রুম। ট্রেন স্টেশনে আমি যদি ফার্স্ট ক্লাসের টিকিট ক্রয় করি, তবে আমার জন্য ফার্স্ট ক্লাস ওয়েটিং রুম থাকবে, সেকেন্ড ক্লাসের টিকিট ক্রয় করলে ওয়েটিং রুমও সেকেন্ড ক্লাসের হবে, তেমনি যে দুনিয়াতে ভালো আমল করে যাবে, তার কবরের যিন্দেগীও ততটা আরামাদায়ক হবে। যার আমল খারাপ হবে, তার কবরের যিন্দেগীও কষ্টের হবে। আলমে বারযাখের পর আসবে ফলাফল প্রকাশের দিন। সেখানে আল্লাহ তা‘আলা বান্দার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করবেন।

فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ

অর্থঃ (কেয়ামতের দিবসের দিন) একদল বেহেশতে দাখিল হবে, আর একদল দোজখে দাখিল হবে। [সূরা শুরা: ৭]

দুনিয়ার এ পরীক্ষার হলে যেন মানুষ উত্তীর্ণ হতে পারে- এ জন্য আল্লাহ তা‘আলা লক্ষাধিক নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। ‘আসবাবের’ উপর যে গলদ ইয়াকীন মানুষের অন্তরে পয়দা হয়েছে, তা দূর করে সবকিছু আল্লাহ থেকেই হয়, তার ইয়াকীন ও বিশ্বাস সৃষ্টি করার জন্য আম্বিয়া আ. মানুষের দিলের উপর মেহনত করেছেন। কেননা, আসবাবের ইয়াকীন হলো শয়তানের রাস্তা, জাহান্নামের রাস্তা। আর আল্লাহ থেকে হওয়ার ইয়াকীন হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির রাস্তা, জান্নাতের রাস্তা। আপনি-আমি দেখছি যে, পিয়ন টাকা দিয়ে যাচ্ছে, আসলে পিয়ন টাকা দিচ্ছে না, বরং আপনার-আমার আত্মীয় যে বিদেশে থাকে, সে টাকা পাঠাচ্ছে। তেমনি যমীন, চাকুরী, ব্যবসা সব আল্লাহর পিয়ন। মূলত আল্লাহ দিচ্ছেন। এক পিয়ন নষ্ট হয়ে গেলে পেরেশানীর কিছু নেই, আল্লাহর আরো অনেক পিয়ন আছে, আল্লাহ তা‘আলা সেই পিয়নদের মাধ্যমে দিয়ে রিযিক দিবেন।

দিল হলো দেহের রাজা, রাজা ঠিক হয়ে গেলে প্রজা ঠিক হয়ে যায়। হাদীসে পাকে নবীজি ﷺ এ কারণেই বলেছেন,

ألا وإن في الجسد مضغة: إذا صلحت صلح الجسد كله، وإذا فسدت فسد الجسد كله، ألا وهي القلب "

অর্থঃ নিশ্চয় শরীরে একটি গোশতের টুকরা রয়েছে, যদি তা ঠিক হয়ে যায়, তবে পুরো শরীর ঠিক হয়ে যাবে। আর যদি তা নষ্ট হয়ে যায়, তবে সম্পূর্ণ শরীরই নষ্ট হয়ে যাবে। আর তা হলো “কলব” [অন্তর]। [বুখারী; হা.নং ৫২]

আখেরী নবী ﷺ সাহাবায়ে কেরামের দিলের উপর মেহনত করেছেন, সাহাবায়ে কেরামের দিল তৈরি হয়ে গেছে। ফলে যখন মদ হারাম হওয়ার ঘোষণা হয়েছে, তখন মদীনার অলি গলিতে মদের বন্যা বয়ে গেছে। কোনো সেনাবাহিনীর দরকার হয়নি, ডান্ডা-লাঠিরও দরকার হয়নি। নবীজির মেহনতের কারণে সাহাবায়ে কেরামের দিল তৈরি হয়ে গিয়েছিলো, ফলে আল্লাহর হুকুম মানাও তাদের জন্য সহজ হয়ে গিয়েছিলো। তো সারকথা হলো নবীওয়ালা মেহনতের মূল হলো মানুষের দিলের উপর মেহনত করা।