ইস্তিখারার নামায

* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ইস্তিখারা করে সে ব্যর্থ হয় না, যে পরামর্শ করে সে লজ্জিত হয় না এবং যে মিতব্যয়ী হয় সে দরিদ্র হয় না। (কানযুল উম্মাল, হাদীস: ২১৫৩২)

হযরত জাবের রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যেভাবে কুরআনে কারীম শিক্ষা দিতেন সেভাবেই প্রতিটি বিষয়ে ইস্তিখারা (কল্যাণ কামনা) শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, তোমাদের কেউ যদি কোনো বিষয়ে চিন্তিত হয় তাহলে সে যেন দু’রাকাত নফল নামায আদায় করে এবং নিজের প্রয়োজনের কথা মনে রেখে নিম্মক্ত দু‘আ পড়ে। (সহীহ বুখারী, হাদীস:১১৬২)

ইস্তিখারার (কল্যাণ কামনা) নামাযের দু‘আ

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ وَاَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَاَسْاَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيْمِ فَاِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا اَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَا اَعْلَمُ وَاَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوْبِ اَللّٰهُمَّ اِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ اَنَّ هٰذَا الْاَمْرَ خَيْرٌ لِّـيْ فِيْ دِيْنِـيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ اَمْرِيْ فَاقْدُرْهُ لِيْ وَيَسِّرْهُ لِيْ ثُمَّ بَارِكْ لِيْ فِيْهِ وَاِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ اَنَّ هٰذَا الْاَمْرَ شَرٌّ لِّـيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ اَمْرِيْ فَاصْرِفْهُ عَنِّيْ وَاصْرِفْنِيْ عَنْهُ وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ اَرْضِنِيْ بِه

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তোমার ইলম (জ্ঞান) থেকে কল্যাণ কামনা করছি এবং তোমার শক্তি থেকে শক্তি কামনা করছি। তোমার কাছে তোমার মহা অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। নিশ্চয় তুমি সক্ষম আমি অক্ষম। তুমি জানো, আমি জানি না। তুমি অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী। হে আল্লাহ! যদি এই বিষয়টি আমার জন্য দীনের ক্ষেত্রে, পার্থিব ক্ষেত্রে এবং পরিণামের ক্ষেত্রে তুমি কল্যাণকর মনে করো, তাহলে আমাকে এ বিষয়ে শক্তি দাও, সহজ করে দাও এবং বরকত দাও।

আর যদি এই বিষয়টি আমার জন্য দীনের ক্ষেত্রে, পার্থিব ক্ষেত্রে এবং পরিণামের ক্ষেত্রে তুমি অকল্যাণকর মনে করো, তাহলে এ বিষয়টিকে আমার থেকে সরিয়ে রাখো এবং আমাকে এর থেকে সরিয়ে রাখো এবং আমাকে কল্যাণকর কাজের শক্তি দাও তা যেখানেই থাকুক। অতঃপর তাতে আমাকে সন্তুষ্ট করে দাও।

উল্লেখ্য, (هٰذَا الْاَمْرَ) বলার সময় মনের উদ্দেশ্যের প্রতি খেয়াল করবে।

বি. দ্র. এক হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কাজের ইচ্ছা করলে এই দু‘আ পড়তেন,

اَللّٰهُمَّ خِرْ لِيْ، وَاخْتَرْ لِيْ

অর্থ: হে আল্লাহ! আমার জন্য কল্যাণের ফায়সালা করো এবং কল্যাণকর বিষয় নির্বাচন করো। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস: ৩৫১৬)

* ইস্তিখারার পর স্বপ্নে কিছু দেখা জরুরী নয়; বরং যে দিকে মন ধাবিত হবে সেটাকেই পরামর্শক্রমে কল্যাণকর মনে করা উত্তম। উল্লেখ্য, শরী‘আতে পরামর্শের গুরুত্ব ইস্তিখারার চেয়ে অধিক।