ওয়াকফ বিহীন নির্মিত মসজিদে নামাজ আদায়
Question
আমাদের গ্রামে একটি মসজিদ আছে, যা প্রায় ৮০ বছর পূর্বে নির্মিত হয়েছে। সে মসজিদের জায়গায় অবস্থা নিম্নরূপঃ
দুই ভাই মিলে ৬ ডিসিমাল জমি গ্রামবাসীর ব্যবহারের জন্য দান করেন। তারপর সেই জায়গায় উভয় দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় মসজিদটি নির্মাণ করা হয় ও যথারীতি সেখানে নামায আদায় করা হয় এবং অদ্যাবধি সেই মসজিদেই ওয়াক্তিয়া ও জুমু‘আর নামায আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু সেই জায়গার কোন দলীল মসজিদের নামে নেই, বরং মালিকের নামে রেকর্ড আছে। আর মন্তব্যের কলামে মসজিদের নামে লেখা আছে। অতপর এক ভাইয়ের পুত্র অপর ভাইয়ের কন্যাদের নিকট থেকে ৩ ডিসিমাল জমি ক্রয়সূত্রে দলীল করে নিয়েছে এবং সে বর্তমানে উক্ত জমির দাবীদার। এমতাবস্থায় উক্ত মসজিদে ওয়াক্তিয়া ও জুমু‘আর নামায দুরস্ত হবে কি?
Answer
ওয়াকফ ও হিবা শুদ্ধ হওয়ার জন্য দলীল বা রেজিষ্ট্রির প্রয়োজন নেই, মৌখিক ভাবে ওয়াকফ করাই যথেষ্ট। এখানে যেহেতু দুই ভাই মিলে গ্রামবাসীর ব্যবহারের জন্য জমি দান করেছেন, তাই যে কোন হালাল কাজে সেটাকে ব্যবহার করার অধিকার তাদের আছে। তাই তারা যখন সর্বসম্মতিক্রমে মূল মালিকের অনুমোদনক্রমে ৮০ বছর যাবৎ এখানে মসজিদ নির্মাণ করে যথারীতি নামায আদায় করে আসছেন, তখন এটাই মসজিদ হিসাবে ওয়াকফ হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
সুতরাং, প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় মসজিদটি শর‘ঈ মসজিদ বলেই গণ্য হবে। এখানে নামায পড়তে কোন অসুবিধা নেই। এই জমির মালিকানা দাবী করা বা বিক্রি করা সবই অবৈধ। কেননা, ওয়াকফকৃত বস্তু বিক্রি করা জায়েয নয়।
এখন মূল মালিক বা তাদের অবর্তমানে ওয়ারিশদের কর্তব্য হচ্ছে, যেহেতু জমিটি শরী‘আতের দৃষ্টিতে মসজিদের নামে ওয়াকফ হয়ে গেছে, সুতরাং কাগজপত্র সেভাবে তৈরী করে আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করবে।
(প্রমাণঃ রাদ্দুল মুহতার ৪:৩৫৬, দুররে মুখতার ৪:৩৫৫/৩৫৭/৩৩৯, ফাতাওয়া আলমগীরী ২:৪৫৫, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১:৪৮৫, ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ৬:১৭০)