ইজতেহাদ মানা
Question
ইমাম মালেক ,ইমাম শাফেয়ী বা ইমাম আহমদ হাম্বল এরা সকলেই মুজতাহিদ ছিলেন এরা সকলেই ইজতিহাদ করেছেন। আপনারা বলে থাকেন যে কোন একজনকে মানা ওয়াজীব। একসাথে কয়েকজনকে মানা যাবে,না তাই আপনারা ইমাম আবু হানিফা ছাড়া অন্য কারু ইজতেহাদ অনুসরণ করেন না। তাহলে মুজতাহিদ হিসাবে ইমাম মাহদি ও ঈসা (আঃ) এর ইজতেহাদ মানবেন কেমন করে ?
Answer
আপনার প্রশ্নটি অস্পষ্ট। বা প্রশ্নটি সঠিকভাবে করতে সঠিক শব্দচয়ন করতে পারেননি। আপনার প্রশ্নটি এমন হতে পারে যে, এক মাযহাব অনুসারীদের জন্য যদি অন্য মাযহাব মানা জায়েজই না হয়, তাহলে ইমাম মাহদী ও ঈসা আলাইহিস সালাম আসলে হানাফী মাযহাবের অনুসারীগণ তাদের অনুসরণ কিভাবে করবেন?
এটা প্রশ্ন হতে পারে, কিন্তু মুজতাহিদ হিসেবে ইমাম মাহদী ও ঈসা আলাইহিস সালামের ইজতিহাদ মানবেন কেমন করে এটা কোন প্রশ্নই হয় না। কারণ, মুজতাহিদের জন্য অন্য মুজতাহিদের ইজতিহাদী মাসআলা অনুসরণ জায়েজ নয়।
আমাদের প্রকাশিত মাযহাব বিষয়ক প্রশ্নোত্তর এবং প্রবন্ধগুলো পড়লে এবং আমাদের প্রকাশিত ভিডিওগুলো দেখলে আপনি এ প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যেতেন।
আমরা পরিস্কার বলি যে, যে এলাকায় যে মুজতাহিদের ইজতিহাদকৃত মাসআলা প্রচলিত হবে, সে এলাকায় ইজতিহাদী মাসআলায় উক্ত ইমামের ইজতিহাদকৃত মাসআলার উপরই আমল করতে হবে। ভিন্ন আমল চালু করে ফিতনা সৃষ্টি করা যাবে না।
কুরআনে কারীমে এরই নির্দেশনা এসেছে। যেমন সূরা নিসার ৫৯ নং আয়াতে পরিস্কার নির্দেশ এসেছে যে, তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর তথা মুজতাহিদের আনুগত্য কর।
সুতরাং ইমাম মাহদী এবং ঈসা আলাইহিস সালামের মত মুজতাহিদ আসার আগ পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায়, রাষ্ট্রে যে মাযহাব প্রচলিত, সেই মাযহাব অনুপাতে ইজতিহাদী মাসআলায় আমল চলবে।
তারপর, তারা যখন আসবেন, তখন যেহেতু নতুন মুজতাহিদ এসেছেন, সেই হিসেবে তার অনুসরণ করাই হবে কুরআনী নির্দেশনা মান্য করা। তাই ইজতিহাদী মাসআলায় তাদের অনুসরণ করা হবে।
এখানে দুই মাযহাব মানার প্রশ্নই আসবে না। কারণ, তখন মাযহাবই থাকবে একটি। অন্য মাযহাবের প্রয়োজনীয়তাই আর বাকি থাকবে না।