কউমী মাদরাসার তালিবে ইলমদের আত্নশুদ্ধিও উস্তাদের যিম্মাদারী

মুফতী মনসূরুল হক সাহেবJanuary 5, 2026আত্মশুদ্ধি, উলামা তোলাবা, বিবিধ

Question

পূর্নাঙ্গ কওমী মাদরাসার মধ্যে তালিবে ইলমদের কি কি বিষয় শিক্ষা দেয়া জরুরী। ছাত্রদের আত্নশুদ্ধি উস্তাদের যিম্মাদারি কি-না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

Answer

জবাবঃ কউমী মাদরাসার পরিচালকগণ মুসলিম জাতির বিভিন্ন প্রকার সহযোগিতা গ্রহনের কারনে তারা এ মর্মে জাতির নিকট ওয়াদাবদ্ধ যে, তারা জাতিকে খালেস নায়েবে রাসূল তৈরী করে উপহার দিবেন, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার তৈরীর কোন ওয়াদা জাতির সাথে তাদের নাই। সুতরাং হযরত আম্বিয়ায়ে কিরাম যে সিফাতের মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করে গেছেন এদিকটা সামনে রাখতে হবে এবং তারই ভিক্তিতে তালিবে ইলমদের তৈরী করতে হবে। দুনিয়াতে তামাম আম্বিয়া কিরাম আ. তিনটি কাজের মাধ্যমে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীনকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। (১) আল্লাহ তা`আলা প্রদত্ত দ্বীনের দাওয়াত ও তাবলীগ (২) তালীম তথা দীনের আহকামের আমলী নমুনা সহ শিক্ষা প্রদান করা,(৩) তাযকিয়া তথা মানবাত্মার পরিশুদ্ধি।

এই একই উদ্দেশ্যেই আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাল্লামের আগমন। বর্তমান কওমী মাদরাসার সুত্র রাসূল ﷺ এর মক্কী জীবনে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষালয় ‘দারে আরকাম’-এর সাথে সম্পৃক্ত, কাজেই বর্তমান কওমী মাদরাসাগুলোতেও উক্ত তিনটি বিষয় থাকা অপরিহার্য। অর্থাৎ দ্বীনের আহকাম সমূহের হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে দাওয়াত ও তাবলীগের প্রশিক্ষণ দেওয়া,এবং পাঠ্য অবস্থায় তাদেরকে স্বীয় আত্নার পরশুদ্ধির প্রতিও যত্নবান করে তুলা আর এই দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক আসাতিযায়ে কিরামের। কারণ আসাতিযায়ে কিরাম নবী ﷺ-এর নায়েব। নবী ﷺ যেরূপ সাহাবায়ে কিরামকে উপরোক্ত বিষয় সমূহে পারদর্শী এবং নমুনা রূপে গড়ে তুলেছেন, নায়েবে রাসূল আসাতিযায়ে কিরামকেও হুবহু সেই নমুনার উপর ছাত্রদেরকে গড়ে তুলতে হবে।

তাছাড়া তালিবে ইলমারও যেহেতু ভবিষ্যতে নবী ﷺ এর নায়েব হতে যাচ্ছে সেহেতু তাদেরকেও নবী ﷺ এর যিম্মায় অর্পিত কাজগুলো শিখিয়ে পুরাপরি নায়েবে রাসূল ﷺ বানানোর চেষ্টা করতে হবে। যাতে করে অযোগ্যতা ও অদক্ষতার দরুন কর্মজীবনে তারা দ্বীনের যথাযত খেদমত ও জনগনের তা’লীম-ভবিষ্যতে ব্যর্থ ও অযোগ্য প্রমাণিত না হন।

হাকীমুল উম্মত মজাদ্দিদে মিল্লাত হযরত মাওলানা শাহ আশরাফ আলী থানভী রহ. থেকে ‘আল ইলমু ওয়াল উলামা’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, হাদীসে এসেছে,

كلكم راع و كلكم مسئول عن رعيته

এর আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, আমাদেরকে (উস্তাদ মহোদয়) এ ব্যপারে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, তালিবে ইলমের পাশাপাশি আমলে কতটুকু অগ্রগতি অর্জনে যত্নবান ছিলেন । কেননা আপনারা তাদের নেগরান বা যিম্মাদার,আর ছাত্ররা আপনাদের অধীনস্থ। সুতরাং তাদেরকে শুধু সবক পড়িয়ে ক্ষান্ত হয়ে যাওযা জায়িয হবে না? আর আমলের পরিপক্বতার জন্য আত্নশুদ্ধির তথা ইখলাস, সবর, শোকর এবং রিয়া, হিংসা, অহংকার ইত্যাদি দূর করা অপরিহার্য। সুতরাং যে মাদরাসায় উল্লেখিত তিন বিষয়ে উস্তাদ ও ছাত্রগণ মেহনত করবে, সেটাই পূর্নাঙ্গ কওমী ও দেওবন্দি মাদরাসা। আর যেখনে এর কোন কোনটা আছে, কোন কোনটা নেই সেটাকে পূর্নাঙ্গ কওমী বা দেওবন্দী মাদরাসা বলা যায় না। [প্রমাণঃ সূরা বাকারা-১২৯, ১৫১, আলে ইমরানঃ ১৬৪, জুমু‘আ ৩, তিরমীযী শরীফ ১/২৯৯, আল ইলমু ওয়াল উলামা ১০৫,১২৫,১২৭]