মৌলবাদ শব্দের অর্থ
Question
‘মৌলবাদ’ শব্দের অর্থ কি? মৌলবাদী কারা? এক শ্রেণীর লোক মৌলবাদ শব্দকে গালী হিসাবে ব্যবহার করছে, তার তাৎপর্য কি?
Answer
‘মৌলবাদ’ শব্দের অর্থ কোন ধর্মের মূলভিত্তি ও আদর্শকে নিগুঢ় অনুসন্ধান করে তা যথানুরূপ অনুসরণে সচেষ্ট হওয়া। যারা সচেষ্ট হয়, তাদেরকে বলে ‘মৌলবাদী’। যদি সেই অনুসৃত ধর্ম ইসলাম হয়, তবে বলা হয় ‘মুসলিম মৌলবাদী’। যদি খৃষ্টান হয়, তবে খৃষ্টান মৌলবাদী। এরূপ ইয়াহুদী মৌলবাদী, হিন্দু মৌলবাদী, মুশরিক মৌলবাদী প্রভৃতি। তবে ‘মুসলিম মৌলবাদী’ ব্যতিত অন্য সকল মৌলবাদী পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী। কারণ মুশরিকদের নিকট কোন আসমানী কিতাব নেই। আর ইয়াহুদ-নাসারাদের নিকট আসমানী কিতাব থাকলেও তারা নিজেরা তা পরিবর্তন করে ফেলেছে।
শিকড় হচ্ছে গাছের আহার সংগ্রাহক মূল অংশ। শিকড় যত দিন বেঁচে থাকে, ততদিন গোটা গাছ বেঁচে থাকে। শিকড় না বাঁচলে, গাছ বাঁচে না। গাছের শাখা-প্রশাখা আর পত্র-পল্লবের সব বাহাদুরীর তখন মৃত্যু ঘটে। তদ্রুপভাবে মৌলবাদীরা হচ্ছেন আদর্শের মূল শিকড় বা ধর্মকে কঠোরভাবে ধারনকারী। মুসলিম মৌলবাদী বলতে সহীহ ইসলামের অনুসারী মুসলমানদের মূল ও প্রকৃত দলকেই বুঝায়। তাদের ধর্মীয় আকায়িদ এমন, যা ছাড়া ইসলামের অস্তিত্ব পর্যন্ত কামনা করা যায় না। ইসলামের মূল ধরে থাকার কারনে তারা মৌলবাদী খিতাবের অধিকারী। তাদের মৌল ঈমান রয়েছে লা-শরীক আল্লাহর প্রতি, ফেরেশতাদের প্রতি, আসমানী কিতাব সমূহের প্রতি, রাসূলগনের প্রতি, পরকালের প্রতি, তাকদীরের প্রতি এবং মৃত্যুর পরে পুনরুত্থানের প্রতি। তাছাড়াও ইসলামের সকল হুকুম-আহকাম তারা যথাযথ পালন করে। শরী‘আতের পূর্ন পাবন্দী ছাড়া মৌলবাদী মুসলমান হওয়া যায় না। নিজেদেরকে মুসলমান দাবি করা সত্ত্বেও যাদের আমল নড়বড়ে, নামায মন চাইলে পড়ে বা পড়ে না, রোযা ইচ্ছা হলে রাখে বা রাখে না, মাঝে মাঝে ইসলামের জন্য উৎসাহিত হয়ে যায়, আবার অন্য সময় বিধর্মী-বেদ্বীনদের অনুসরণ- অনুকরণেও তৎপর। তারা কখনো মৌলবাদী হতে পারে না। মৌলবাদী মুসলমান অর্থ খাটি প্রকৃত মুসলমান ধর্মের জন্য যাদের সবকিছু। আর অমৌলবাদী মুসলমান অর্থ সুযোগ সন্ধানী নড়বড়ে মুসলমান। মৌলবাদী মুসলমানদের জন্য পরকালীন নাজাত সুনিশ্চিত। কিন্তু অমৌলবাদী মুসলমান নাজাত পেতে চাইলে তাদের মৌলবাদী মুসলমান হতে হবে। অন্যথায় তাদের নাজাত সুদূর পরাহত।
উল্লেখ্য যে, মুসলমানদেরকে মূল থেকে সরানোর চক্রান্ত করে ‘মৌলবাদী’ শব্দটি বিধর্মী শত্রুরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গালি হিসাবে গ্রহণ করেছে। প্রকৃত ধর্মপালনকে ব্যঙ্গরূপে ‘মৌলবাদ’ আখ্যা দিয়ে মানুষের অন্তরে এ শব্দটির প্রতি ঘৃণা জন্মানোর গভীর ষড়যন্ত্রে তাঁরা লিপ্ত। যাতে এ শব্দটির প্রয়োগ থেকে বাঁচতে গিয়ে মুসলমান ধর্ম-কর্ম ভাগ করে ফেলে, (নাউযুবিল্লাহ)। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে ‘মৌলবাদ’ শব্দের প্রথম প্রচারক হলো, বি.বি.সি ও ভয়েস অব আমেরিকা। এ প্রচার মাধ্যম দু’টি কোন দেশের মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রনাধীন হওয়ার কারনে খৃষ্টান জগতের ফাণ্ডামেনটালিজম বা মৌলবাদ শব্দটি তাদের কাছে পরিচিত।
বর্তমানে এর দ্বারা তারা বিশেষ মতের অনুসারী লোকদের গালি দিয়ে থাকে। কিন্তু শব্দের অর্থের সাথে তাদের এ গালির কনোই মিল নেই। কারন, মুসলমানদেরকে এ শব্দ দ্বারা গালি দেয়া হতে পারে না। দিলে গালি হয় না, বরং প্রশংসা হয়। যেমন, কাউকে ‘নীতিবাদী’ বললে গালি হয় না, বরং প্রশংসা হয়। অবশ্য কোন অমুসলিমদের ব্যাপারে এ শব্দ ব্যবহার করলে, তা শব্দের অবাস্তব প্রয়োগ হবে। যেমন- চোরকে ‘সাধু’ বলা।
মোদ্দাকথা, ‘মৌলবাদ’ বা ‘মৌলবাদী’ কোন গালির শব্দ নয়। তা হচ্ছে উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা। বস্তুত আমাদের দেশের যারা মৌলবাদী শব্দদ্বয় গালি হিসাবে ব্যবহার করছে, তারা আসলে বে-ওয়াকুফ, মৌলবাদের অর্থই জানে না। তারা যদি মৌলবাদের প্রকৃত অর্থ জানতো, তাহলে তারা কখনও ভুলেও ঐ সম্মানজনক শব্দ দ্বারা কাউকে ঘায়েল করতে ব্যর্থ চেষ্টা করতো না। বাস্তবিকই পরিতাপের বিষয় যে, মৌলবাদী হওয়াটা যখন বিশ্বে খাটি ও নিখুঁত হওয়ার সার্টিফিকেট হিসাবে বিবেচিত, তখন বাংলাদেশে এক শ্রেণীর সাম্রাজ্যবাদী মুলুকের ভক্ত লোকেরা মুসলিম বিদ্বেষীদের অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে মৌলবাদের অর্থ না বুঝে ইসলামের মৌলনীতির অনুসারীদের ‘মৌলবাদী’ বলে গালি দিচ্ছে। আর এর মাধ্যমে তারা বিদেশী প্রভুদের মনোরঞ্জন ব্যাপৃত। দেশের আদর্শের স্বার্থে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের স্বার্থে তাদের এ জাতীয় বোকামীর কাণ্ড ছেড়ে দেয়া উচিত।