Masail
100%

জবরদস্তি করে মেয়ের মাধ্যমে ছেলেকে তালাক দেয়া

Question

আমাদের এলাকায় একজন যুবক ছেলে ও একজন যুবতী মেয়ে ভালবাসা করে উভয়ে মিলে কাজী অফিসে গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু পরে যখন মেয়ের অভিভাবকরা জানতে পারলো, তখন তারা রাজী হল না, তারা মেয়েকে জোর-জবরদস্তি করে অন্য কাজীর নিকট গিয়ে তালাকে তাফবীয দিয়ে দেয়। প্রশ্ন হল তাদের এ বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে? আর মেয়ের অভিভাবকগণ জবরদস্তি করে মেয়ের মাধ্যমে ছেলেকে তালাক দিয়ে দিয়েছে, তা শুদ্ধ হয়েছে কি? উল্লেখ্য যে, এখনও ঐ মেয়ে ছেলের সাথে বন্ধনে আসতে চায়। কিন্তু মেয়ের অভিভাবকগণ আসতে দিতে চায় না। প্রশ্ন হল-যদি ঐ মেয়ে আসে, তাহলে ছেলের সাথে নতুনভাবে বিবাহ পড়াতে হবে কি-না?

Answer

প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় যদি যুবক-যুবতীর মধ্যে কুফূ বিদ্যমান থাকে, অর্থাৎ বংশগতভাবে এবং দীনদারী ও পেশাগত দিক দিয়ে ছেলে যদি মেয়ের থেকে নীচু না হয়, তাহলে পিতা-মাতা রাজী হোক, বা নারাজ হোক বিবাহ সহীহ হবে। তবে তা মেয়েটির জন্য নিতান্তই গর্হিত কাজ বিবেচিত হবে। তথাপি শরী‘আত পরিপন্হী কোন কারণ না থাকলে, এমতাবস্থায় পিতা-মাতা নারাজী প্রকাশ না করে বরং মেনে নেয়াই শ্রেয়। কারণ বালেগ হওয়ার সাথে সাথে বিবাহ দেয়া অভিভাবকের কর্তব্য ছিল। হাদীস শরীফে আছে- যখন সন্তান জন্মগ্রহণ করে, তখন পিতা-মাতার (বা অভিভাবকের) কর্তব্য হল- তার ভাল নাম রাখবে এবং ভালো আদব শিখাবে। অতঃপর যখন সে বালেগ হবে, তখন তার বিবাহের কাজ সম্পন্ন করবে। আর যদি বালেগ হওয়ার পরেও বিনা উযরে তাকে বিবাহ না করায়, তারপর ঐ সন্তান যদি এ সংক্রান্ত কোন গুণাহে লিপ্ত হয়, তাহলে ঐ গুণাহের অংশীদার সেই পিতা-মাতা বা অভিভাবকও হবে।

প্রশ্নে বর্ণিত মেয়ের পক্ষের লোকেরা মেয়ে দ্বারা তার স্বামীকে যে তালাক তাফবীয প্রদান করেছে, তা সহীহ হয়নি। কারণ- তালাকে তাফবীয পতিত হওয়ার জন্য যে শর্ত আছে, তা পাওয়া যায়নি। তাই এখন নতুনভাবে বিবাহ পড়াতে হবে না। তাকে নিয়ে ছেলে ঘর-সংসার করতে পারবে। তবে অভিভাবককে রাজী-খুশী করানো তাদের কর্তব্য। কিন্তু যদি মেয়ে তার চেয়ে নীচু বংশের ছেলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তাহলে অভিভাবকগণের অসম্মতিতে তাদের বিবাহ সহীহ হবে না। কাজেই সে অবস্থায় মেয়ের জন্য উক্ত ছেলের সাথে বিবাহ বিহীন ঘর-সংসার করা হারাম হবে।

[প্রমাণঃ ফাতাওয়া রহীমিয়া, ৫:২৫৭# ফাতাওয়া দারুল উলূম, ৮:১৮৫# ইমদাদুল মুফতীন, ৫৫১]

উল্লেখ্য, মেয়ের বিয়ে-শাদী সম্পর্কে শরী‘আতের নির্দেশ হল-মেয়ে নিজের মুরুব্বীগণকে বাদ দিয়ে ইচ্ছামত পছন্দের স্থানে বিবাহ বসবে না। এর খেলাপ করা তার জন্য মারাত্মক অপরাধ ও নিন্দনীয় কাজ। অপরদিকে মুরুব্বীগণকে বলা হয়েছে যে, তারা মেয়েকে বিয়ের ব্যাপারে তার পছন্দের বাইরে বাধ্য করবে না। বরং এমন ছেলের সাথে মেয়েকে বিবাহ দিবে যে ছেলের প্রতি মেয়েটি মনে-প্রাণে রাজী আছে। যদি এ ক্ষেত্রে অভিভাবকগণের বংশগত, দীনদারী ও পেশাগত কোন মানহানীর বিষয় না থাকে।

[প্রমাণঃ ফাতাওয়া রহীমিয়া, ৫:২৫৭ # ফাতাওয়া শামী ৩:৩১৭]