এক সন্তানের নামে জমি রেজিষ্ট্রী করা

Question

আমার পিতা তাঁর ৮ কাঠা জমির মধ্য থেকে আমাকে ৭.৫০ কাঠা জমি রেজিষ্ট্রী করে দান করেছেন। জমি দান করার এ ব্যাপারটি আমার চার বোন ও এক ভাই জানত না। পরে দুই বোনের কাছে জিজ্ঞেস করে জানা গেছে পিতার সম্পত্তির উপর তাদের কোন দাবী নেই। অন্য আর কারো সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করা হয়নি। উল্লেখ্য যে আমার ভাই পিতা-মাতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তি। তদুপরি ধর্মের প্রতি তার কোন আগ্রহ নেই। এমনকি মায়ের মৃত্যুর পরও পিতার কোন দেখাশোনা করছে না। এখন উপরোক্ত দানের ব্যাপারে শরী‘আতের হুকুম কি? বা তা না-জায়িজ হলে করণীয় কি?

Answer

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার পিতা যদি তার জমি আপনাকে সম্পুর্ণরূপে হাওলা করে দিয়ে থাকেন অর্থাৎ তিনি যদি তার অন্যান্য জমি থেকে পৃথক করে কিছু জমি আপনার দখলে দিয়ে দেন, যার দখল আপনি বুঝে নিয়েছেন, তাহলে এক্ষেত্রে আপনি উক্ত জমির মালিক হয়ে গিয়েছেন। যদিও আপনার পিতা অন্যদেরকে বঞ্চিত করার কারণে গুনাহগার হবেন। এখন যদি ভুল সংশোধন করতে চান, তাহলে আপনার নিজের নামের অংশ ছেড়ে দিয়ে পিতার সম্পূর্ণ জমি থেকে সকলের অংশ সমান করে দিতে হবে। এর দ্বারা তিনি গুনাহ থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা যায়।

অর্থাৎ যদি আপনার পিতার এ জমি ছাড়া অন্য জমি না থাকে তাহলে সে সেক্ষেত্রে আপনার পিতাকে গুনাহ থেকে মুক্তি দানের জন্য আপনার উচিত, আপনাকে দেয়া জমি ও পিতার অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ভাই-বোনদেরকে মীরাছ হিসেবে ভাগ করে দেয়া।

পক্ষান্তরে যদি তিনি আপনাকে শুধুমাত্র রেজিষ্ট্রি করে দিয়ে থাকেন এবং আপনাকে বুঝিয়ে না দেন অথবা আপনি দানপত্র বুঝে নিয়ে তা নিজের দখলে এখনও নেননি, তাহলে এক্ষেত্রে আপনার পিতার হেবা শুদ্ধ হয়নি বিধায় তিনি ইচ্ছা করলে উক্ত জমি আপনার নিকট থেকে ফিরিয়ে নিয়ে সকলকে সমান ভাগে বন্টন করে দিতে পারেন এবং ইচ্ছা করলে আপনাকে সহ কাউকে নাও দিতে পারেন। কাউকে না দিলে সেক্ষেত্রে তার মৃত্যুর পর মীরাছ হিসেবে যে যা পাবে, সেটা তার অংশ হবে, হেবা হবে না। বরং মীরাছ হবে এবং এক্ষেত্রে ছেলেরা মেয়েদের দ্বিগুণ পাবে।

প্রকাশ থাকে যে, আপনার দুই বোন যেভাবে দাবী-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে এভাবে দাবী-দাওয়া ছাড়া হয় না। তাই দাবী ত্যাগ করা প্রমাণিত হওয়ার জন্য উত্তম হল, প্রথমে তাদেরকে জমির মালিক সম্পূর্ণভাবে বানিয়ে দিতে হবে। তারপর তারা ইচ্ছা করলে আপনাকে তার থেকে কিছু হাদিয়া দিতে পারেন, নাও দিতে পারেন। যদি হাদিয়া দেন, তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি উক্ত জমির মালিক হবেন আর তখন তাদের দাবী-দাওয়া ত্যাগ করা পূর্ণভাবে প্রমাণিত হবে, অন্যথায় নয়। [প্রমাণঃ আদ-দুররুল মুখতার ৫:৬৯৬ ও ৭০৪, #খুলসাতুল ফাতাওয়া ৪:৪০০, #বাহরুর রায়িক ৭:২৮৮, #ফাতাওয়া রাহীমিয়া ২:২৫৯, #আহসানুল ফাতাওয়া, ৭:২৫৬]