Masail
100%

মহিলাদের জন্য বাই‘আত হওয়া

Question

মহিলাদের আত্নশুদ্ধির জন্য আল্লাহওয়ালাদের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক রাখা ও বাই‘আত হওয়ার হুকুম কি? বিস্তারিত জানতে চাই।

Answer

মানবজাতি তথা নর-নারী নিজের দিলকে দিলের রোগসমূহে হিংসা, লোভ, অহংকার ইত্যাদি থেকে পবিত্র করে উৎকৃষ্ট গুনসমূহ তথা আল্লাহর ভয়, ধৈর্য্য, অল্পে তুষ্টি ইত্যাদি গুন হাসিল করতঃ আল্লাহ তা‘আলার অনুগত বান্দা হওয়ার চেষ্টা করা ফরযে আইন। দিল থেকে রোগ সমূহ দূর করা তথা আত্নশুদ্ধি করানোও আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক নবী ﷺ কে প্রেরণের একটি মৌলিক উদ্দেশ্য। আর নবীর অবর্তমানে ওয়ারেসে নবী তথা খাঁটি আল্লাহওয়ালাগণ মানুষকে আত্নশুদ্ধি করানোর দায়িত্ব আঞ্জাম দিবেন।

অতএব নিজের আত্নশুদ্ধির জন্য খাঁটি আল্লাহওয়ালাদের সাথে নিয়মিত সম্পর্ক করে নিজের আন্তরের রোগের হালাত জানিয়ে তাদের পরামর্শ মত আমল করা নর-নারী সকলের উপর ফরযে আইন। আর হাতে হাত দিয়ে প্রচলিত বাইয়াত হওয়া জরুরী বিষয় নয়। তবে মহিলাদের জন্য পর্দা করা ফরয হওয়ার কারনে কোন আল্লাহওয়ালার সাথে সরাসরি দেখা-সাক্ষৎ করে পরামর্শ নেওয়া মাসআলা জিজ্ঞাস করা জায়িয নাই। মহিলাগন নিজের মাহরাম তথা স্বামী, পিতা, ছেলে ভাইয়ের মাধ্যমে আল্লাহওয়ালার কাছ থেকে পরামর্শ নিবেন এবং আত্নার রোগসমূহের কথা চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে পরামর্শ নিবে। এক্ষেত্রে ঐ চিঠির মধ্যে স্বামী বা মাহরামের দরস্তখত থাকাও জরুরী। ইচ্ছা করলে আল্লাহওয়ালাগন মহিলাদেরকে মৌখিকভাবে বা দরখাস্তের মধ্যে লেখিতভাবে বাইয়াতও করে নিতে পারেন এবং মুনাসেব মনে করলে পর্দার আড়াল থেকে কাপড় ধরেও বাইয়াত করা জায়িয।

উল্লেখ্য যে, পুরুষের উচিত তার অধীনস্ত মহিলাদের দ্বীনী তারাক্কীর ব্যাপারে ফিকির করা। এমনকি তার ঘরের কাজের লোকদের দ্বীনী ইলমের ব্যাপারে তাকে হাশরের ময়দানে জিজ্ঞাসা করা হবে। এই লক্ষ্যে হক্কানী আলেম ও আল্লাহওয়ালাদের মাসআলা-মাসাইল ও ওয়ায নসীহত থেকে কিতাবাদী তাদের পড়ানোর ও শোনানোর ব্যবস্থাকরা এবং মাঝে মাঝে আলেম উলেমা তথা আল্লাহওয়ালাদেরকে নিজ বাসায় এনে পর্দার আড়াল থেকে মহিলাদেরকে নসীহত শোনানোর ফিকির করা এবং কোন আল্লাহওয়ালার সাথে ইসলাহী সম্পর্ক করিয়ে দেয়া পুরুষদের দায়িত্ব।

এক্ষেত্রে যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে খাঁটি আল্লাহওয়ালার সাথে সম্পর্ক করার ব্যাবস্থা না করে বা অনুমতি না দেয় তাহলে সে অন্য মাহরাম তথা বাবা, ভাইয়ের মাধ্যমে আল্লাহয়ালার সাথে সম্পর্ক করবে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আজীবন আল্লাহকে পাওয়ার জন্য মেহনত করে যাবে। [প্রমাণঃ সূরা জুমু‘আ-৩, বুখারী শরীফ ১:২০, ২:১০৭১; তিরমিযী শরীফ ১:৩০০, ২:৯৭, ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ১৫:৯৪ বযলুল মাজহুদ ১৭:৪৯]