কবরের উপর ঘর নির্মাণ
Question
আমি বিগত প্রায় দশ বছর পূর্বে তিনটি কবর বিশিষ্ট একখন্ড জমা ক্রয় করি। অতঃপর জেনে বুঝেই তার চারিপার্শ্বে বসবাসের জন্য ঘর নির্মাণ করি। বর্তমানে কবরগুলো অন্যান্য ঘরের মধ্যখানেই অবস্থিত। কবরের স্থলেও একটি ঘর তৈরী হয়েছে। উপরে ছাদও হয়ে গেছে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আমার পরিবার নানান ধরনের বালা-মুসবিতে দিন কাটাচ্ছে। তাই সকলের ধারণা, কবরগুলো জন্যই এমন ঘটছে। এখন সকলের মত কবরটা স্থানান্তরিত করার। তাই কবরটি খনন করে লাশের অবশিষ্টাংশ সরিয়ে ফেলা এবং কবর অবস্থিত ঘরের ছাদের উপর অন্য কোন ঘর করা যাবে কিনা?
Answer
বর্ণনানুযায়ী উক্ত কবরগুলো ওয়াকফকৃত গোরস্থানে নয়, বরং ব্যক্তি মালিকানার মধ্যে। আর ব্যক্তি মালিকানার মধ্যে কোন কারণে কবর দেয়া হলে, কবরগুলো মুর্দা যখন মাটির সাথে একদম মিশে যায়, অর্থাৎ ১০/১২ বছর পর কবরগুলো সমান করে তার উপর চাষাবাদ বা ঘর-বাড়ী তৈরী করা জায়েয আছে। তাতে কবরের কোন অসম্মান প্রদর্শন করা হয় না। সুতরাং আপনার জন্য কবর খনন করে লাশের অবশিষ্টাংশ স্থানান্তর করার দরকার হবে না। কেননা, কবর বহুদিনের পুরনো হওয়ার তাতে আপনার ঘর নির্মাণ বৈধ হয়েছে, এবং এখন আপনি দ্বিতীয় তলা নির্মাণ করতে পারেন।
উল্লেখ্য, এই কবরের কারণেই সন্তানদের অসুখ-বিসুখ হচ্ছে, এটা আপনাদের একটি অমূলক ধারণা মাত্র। এর কোন বাস্তবতা নেই। সুতরাং, এর জন্য কবর স্থানান্তর করা। জায়েয হবে না।
সন্তানদের অসুস্থতা ও বালা-মুসীবতের বিভিন্ন কারণ হতে পারে। নিজ গুনাহের কারণে বা কোন অন্যায়ের জন্যও হতে পারে। তাই নিজেদের আমলের মুহাসাবা করুন এবং বেশী বেশী তাওবা ইস্তিগফার করুন, সাথে সাথে কিছু দান সাদকাহ করুন। আশা করা যায়, আল্লাহ এ পেরেশানী থেকে মুক্তি দিবেন। এটা মর্তবা বুলন্দীর জন্যও হতে পারে। সুতরাং, ইবাদত বন্দেগী একটু বেশী করে করুন, ইনশাআল্লাহ পেরেশানী দূর হয়ে যাবে। (প্রমাণঃ শামী ২:২৩৩, হিন্দীয়াহ ১:১৬৭, বাহরুর রায়িক ২:১৯৫, মাহমূদিয়া ৭:২৩৭/ ৬:১৯৭/ ৬:১৯৮)