লা মাযহাবীদের ইমামতিতে নামায আদায় করা
Question
অনেক সময় আহলে হাদীস নামীয় লা-মাযহাবীদের মসজিদে নামায পড়ার প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে তাদের মসজিদে লা মাযহাবী ইমামের পিছনে নামায পড়লে তা সহীহ হবে কি?
Answer
বর্তমান যামানার অধিকাংশ লা মাযহাবীরা চার মাযহাবের ইমামদের ব্যাপারে অনেক বাড়াবাড়ী করে থাকে। এমনকি তাদেরকে গালি গালাজ করতেও দ্বিধাবোধ করে না এবং তাকলীদ করাকে শিরক বলে, আর মাযহাবের অনুসারীদেরকে মুশরিক বলে অভিহিত করে থাকে। অথচ মজার বিষয় হল, তারা যেসব হাদীসের বরাত দিয়ে কথা বলে সেসব হাদীস গ্রন্থের লেখকের প্রত্যেকেই কোন না কোন মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। এমনি ভাবে যাদের লিখিত কষ্টি পাথর বা উসুলের ভিত্তিতে তারা হাদীস সহীহ হওয়া না হওয়ার ফায়সালা করে থাকে তারাও সকলে মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। হার যামানার লা মাযহাবীদের দাবী অনুযায়ী ঐ সব মুহাদ্দিসীনগণ মুশরিক প্রমাণিত হন। (নাউযুবিল্লাহ) এসব কারণে তারা ফাসেক ও গোমরাহ।
আর ফাসেক ব্যক্তির ইমামতি করা এবং তার পিছনে ইক্তিদা করা উভয়ই মাকরূহ। তাছাড়া অনেক সময় তাদের নামায কোন মাযহাব মতেই সহীহ হয় না। এই হিসাবেও তাদের পিছনে ইক্তিদা করা সহীহ হবে না। অবশ্য যদি নিশ্চিত রূপে জানা যায় যে, কোন লা মাযহাবী মাযহাবের ইমামদের মাসআলার প্রতি খেয়াল রেখে সেই অনুযায়ী নামায পড়ায় যাতে করে ইমামদের বর্ণনা অনুযায়ী নামায নষ্ট না হয়, তাহলে তার পিছনে ইক্তিদা জায়েয আছে। তবে বর্তমান যুগে যেহেতু এই ধরনের লা মাযহাবী পাওয়া দুষ্কর সেজন্য একান্ত অপারগতা ছাড়া তাদের পিছনে নামায না পড়াই উত্তম। (আহসানুল ফাতাওয়া-৩-২৮২)