জন্মনিয়ন্ত্রণ
Question
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নাজায়িয কেন? ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মনিয়ন্ত্রণের কোন পদ্ধতি আছে কি?
Answer
জন্মনিয়ন্ত্রণ শব্দটাই আপত্তিকর। কারণ মানুষের যখন মৃত্যু নিয়ন্ত্রণের অধিকার নেই। তখন জন্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার পাবে কোথা থেকে? বরং উভয়টাই আল্লাহ তা‘আলার একক নিয়ন্ত্রণে। প্রচলিত তথাকথিত জন্মনিয়ন্ত্রণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভাব-অনটন ও দরিদ্রতার ভয়ে এবং সুখী পরিবারে গড়ার লক্ষ্যে করে থাকে। অথচ এটা ইসলামী আকীদার সুস্পষ্ট পরিপন্থী। রিযিকদাতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আল্লাহ। সমস্ত মাখলূকের রিযিকের যিম্মাদারী তিনি নিজেই গ্রহণ করেছেন। তিনি এমন কোন নিয়ম নির্ধারণ করেননি যে, সন্তান কম থাকলে তাকে বেশী রিযিক দান করতে পারেন। জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রচলিত ধ্যান-ধারণা আল্লাহ রিযিক দাতা এ আকীদার পরিপন্থী এবং ঈমাণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, তোমরা সন্তানদেরকে দরিদ্রতার কারণে ধ্বংস করো না। আমি তোমাদেরও রিযিকের ব্যবস্থা করবো এবং তাদের জন্য রিযিকের ব্যবস্থা করবো। [সূরা আনআম ১৫১ ]
অপর আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেন, তোমরা সন্তানদেরকে দরিদ্রতার আগাম আশংকায় তোমাদের সন্তানদের ধ্বংস করো না। আমিই তাদের এবং তোমাদের রিযিকের ব্যবস্থা করবো। (সূরা বণী ইসরাঈল -৩১ ) তাছাড়া সন্তান বৃদ্ধি করা আখেরী উম্মতের উপর নবী সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ অসিয়্যত। এক হাদীসে হুজুর সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা এমন বংশের মেয়েদেরকে বিবাহ কর যে, বংশের মেয়েরা অধিক সন্তান জন্ম দেয়। কেননা, কিয়ামতের দিন আমি উম্মতের আধিক্যের দ্বারা গর্ব করবো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ অমান্য করে কিভাবে হাশরের ময়দানে তার সুপারিশ আশা করা যায়।
সুতরাং কুরআন ও হাদীসের ভাষ্য দ্বারা একথাই প্রমাণিত হল যে, প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ হারাম এবং নাজায়িয।
অতএব, কুরআন- হাদীসের প্রতি যার বিশ্বাস রয়েছে, সে কখনো কুরআন পরিপন্থী কোন কাজ করতে পারে না। তাছাড়া বাস্তবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ইসলামের দুশমনদের একটা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা মুসলমানদের সংখ্যাধিক্য শংকিত। তাই জনসংখ্যা বিস্ফোরণ লেবেলে তারা এক মুকাবিলা করতে চায়। তারা চায় মুসলিম সমাজে এ পদ্ধতির মাধ্যমে যিনা ব্যভিচারের জোয়ার দিয়ে তাদেরকে আল্লাহর আযাব ও গযবে নিক্ষিপ্ত করতে।
নবী সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগের আযল ও বর্তমানের পদ্ধতি এক জিনিস নয়। আযল তো নিশ্চিত কোন পদ্ধতি নয়। তদুপরি নবী ﷺ আযলকে কখনও পছন্দ করেননি। বরং তিনি ঘোষণা করেছেন। কোন মুসলমান এরূপ করে আমার ধারণা ছিল না। (মুসলিম শরীফ) কোন রিওয়ায়াতে আযলকে তিনি আরো বলেছেন, তোমরা যদি আযল না করো, তোমাদের কোন ক্ষতি তো হবে না। দুঃখের বিষয় অনেক সরকারী নামধারী আলেম সরকারী প্রচার মাধ্যমগুলোতে আযলের হাদীসের অর্থ বিকৃত করে এর দ্বারা প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ জায়িয প্রমাণিত করার ব্যর্থ প্রয়াস চালায় এবং জনসাধারণকে গোমরা করে।
তবে শর‘ঈ কোন উযর যেমন মুসলমান দ্বীনদার বিজ্ঞ ডাক্তারের মতে, দুর্বল মহিলার গর্ভধারণে যদি স্বাস্থ্য বেশী খারাপ হওয়ার প্রবল সম্ভবনা থাকে, তাহলে তখন সাময়িকভাবে গর্ভরোধ করা জায়িয রয়েছে। কিন্তু এমনভাবে করতে হবে, যাতে হারাম কাজের আশ্রয় নিতে না হয়। অথবা যদি স্ত্রীর কোন কারণে গর্ভধাণের ক্ষমতাই না থাকে, বরং গর্ভধারণের মৃত্যু আশংকা থাকে এবং স্থানীভাবে গর্ভরোধ ব্যতীত অন্য কোন উপায় না থাকে, তবে সেক্ষেত্রে মুসলিম দ্বীনদার ডাক্তারের পরামর্শে অপারেশেনের মাধমে বা অন্য কোন উপায় স্থায়ীভাবে গর্ভরোধ করতে পারবে।