কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেবJanuary 5, 2026সুন্নত, বিবিধ, দু‘আ দুরূদ ও যিকির

Question

(১) আগুন জ্বালাতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম সম্পূর্ন বলা যাবে কি? নাকি শুধু বিসমিল্লাহ বলতে হবে? আগুন তো জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে, দেয়। ধ্বংস করে দেয়। এজন্য এতে ‘রহমান’ এবং ‘রাহীম’ শব্দ ব্যবহার করা যাবে কি-না?

(২) ঔষধ পান করতে বিসমিল্লাহি আল্লাহ শাফী, আল্লাহ মাফী, আল্লাহ কাফী বলতে হয় কি-না? বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বললে কোন অসুবিধা আছে কি-না? প্রমান সহ জানতে চাই?

(৩) এক ড্রাইভার বেতন পায় সর্বমোট ৪২০০ টাকা। ৪০জন ড্রাইভার একই কোম্পানীতে চাকুরী করে। এখন কথা হল, এই ব্যক্তি যদি অবৈধ পয়সা রোজগার না করে তাহলে বাকী ৩৯ জনের চাকুরী থাকবে না। অথবা নিজের চাকুরী থাকবে না। তার ওভার টাইমের জন্য কোন ভাতা দেয়া হয় না। আর বাকী সব ড্রাইভাররা অবৈধ পন্থায় প্রয়োজনীয় টাকা নিয়ে নেয়। এ অবস্থায় এই ড্রাইভারের করনীয় কি?

Answer

১. আগুন আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিশেষ নিয়ামত। এর মাধ্যমে মানুষের অসংখ্য জরুরত পুরা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে আগুন ছাড়া মানুষের জীবন চলাই মুশকিল। খনা-পিনা থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে। সুতরাং, এহেন গুরুত্বপূর্ন নিয়ামত ভোগ করার জন্য তা জ্বালানোর শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বলা দোষের কিছু নয়। বরং বলাটাই জরুরী। কারণ, কুরআনে কারীমে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন বিভিন্ন নিয়ামতের বর্ণনা করতে গিয়ে ঘোষণা করেন, “তোমরা যে আগুন প্রজ্জলিত কর সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? যা দ্বারা আগুন জ্বালাও তা কি তোমরা সৃষ্টি করেছ? না আমিই তার সৃষ্টিকর্তা” কে এই নিয়ামত দাতা? কে এই নিয়ন্ত্রনকর্তা”। তাছাড়া হাদীস শরীফে প্রত্যেক ভাল কাজের শুরুতেই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়ার নির্দেশ রয়েছে। সুতরাং, পূর্ন বিসমিল্লাহ পড়া যাবে।

(২) প্রশ্নে বর্ণিত দু‘আ কোন হাদীসের কিতাবে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। তবে এর মধ্যেমে আল্লাহ মাফী কথাটি সম্পূর্ন নিরর্থক। সুতরাং, এটা বলা যাবে না। অবশিষ্ট দু’টিতে এমন কোন খারাবীও নেই যে তা পড়া যাবে না। তেমনি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পূর্ন বলাতেও কোন অসুবিধা নেই। বরং বলাটাই শ্রেয়।

(৩) জীবিকা উপার্জনের বেলায় দু’টি মৌলিক নীতিমালার প্রতি ইসলাম বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছে। (ক) উপার্জিত রিযিক হালাল থেকে হবে। (খ) উপার্জনের পন্থাও হতে হবে বৈধ। কুরআনে কারীমে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন ইরশাদ করেন, হে মানব মণ্ডলী! তোমরা পৃথিবীর হালাল এবং পবিত্র বস্তু সামগ্রী ভক্ষণ করো। আর শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না; সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু”। সুতরাং, প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় করণীয় হলো, আল্লাহ তা‘আলার উপর ভরসা করে শুধু কোম্পানী কর্তৃক প্রদত্ত চাকুরীর জন্য নির্ধারিত বেতনের টাকা গ্রহণ করা। আর অবৈধভাবে এক পয়সাও গ্রহণ না করা। এভাবে যতদিন সম্ভব এখানে চাকুরী করা। এভাবে সম্ভব না হলে অন্যত্র সম্পূর্ন হালালভাবে বেশী বেতনে চাকুরীর সন্ধান করা। আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলে এর চেয়ে ভাল চাকুরীর ব্যবস্থা করতে পারেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, “যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য কোন রাস্তা খুলেই দেন এবং তার জন্য এমন স্থান থেকে রিযিকের ব্যবস্থা করেন যা তার কল্পনায়ও ছিল না।”