কাফির-ফাসিকের পোশাক পরিধান করা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেবAugust 14, 2025সুন্নত, পোশাক পরিচ্ছদ

Question

কাফির-ফাসিকেদের পোশাক পরিধান কি কবীরাহ গুনাহ? জনৈক ব্যক্তি বলেন, “ইসলামে কোন নির্দিষ্ট পোশাক নেই”। এ কথাটি কি ঠিক, যদি ইসলামী পোশাক থাকে, তাহলে তা কি? তিনি আরো বলেন, কুরআন ও হাদীসে নির্দিষ্ট কোন পোশাকের কোন কথা উল্লেখ্য নেই। এ উক্তি কতটুকু সত্য?

Answer

যেসব পোশাক শুধু কাফিররাই তাদের ধর্মীয় রীতির ভিত্তিতে পরিধান করে থাকে, তা মুসলমানদের জন্য পরা হারাম ও কবীরাহ গুনাহ। যেমন টাই, পৈতা ইত্যাদি।

“ইসলাম ধর্মে কোন নির্দিষ্ট পোশাক নেই”- এ কথাটি ঠিক নয়। তবে ইসলাম ধর্ম পোশাকের ব্যাপারে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করেছে। এ জন্যই তো শরী‘আত এ কথা বলে না যে, শুধু নির্দিষ্ট কোন পোশাক পরতে হবে। বরং, মানুষের অভ্যাস, অবস্থা এবং স্থান-কাল ভেদে পোশাকের মধ্যে পার্থক্য হয়ে থাকে। অবশ্য এ পার্থক্যটি লাগামহীনভাবে যেরূপ ইচ্ছা সেরূপ করা যাবে না। তাই শরী‘আতের সেই উসুলগুলো নিম্নরূপ

(১) পরিপূর্ণভাবে সতর ঢাকা পরিমাণ কাপড় হওয়া। যেহেতু ছোট কাপড় বা পাতলা কাপড় দিয়ে সতর ঢাকা যায় না, তাই এ ধরনের কাপড় পরিধান করা জায়েয নয়।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন-“হে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের সতর আবৃত করে এবং অবতীর্ণ করেছি সাজ- সজ্জার বস্তু। (সূরা আরাফঃ ২৬)

উক্ত আয়াতে يوارى سواتكم দ্বারা সতর ঢাকার কথা বলা হয়েছে। আর সতর ঢাকাই কাপড় পরিধানের আসল উদ্দেশ্য। তাই এ ধরনের পোশাক যা পরিধান করা সত্ত্বেও পুরুষ অথবা মহিলার সতর ঢাকে না, তা শরী‘আতের দৃষ্টিতে পোশাক বলে গণ্য হবে না, যদিও তা সুন্দর হয়। এমনিভাবে পাতলা কাপড় যা দ্বারা সতর ঢাকা যায় না অথবা আটঁসাটঁ কাপড় যা দ্বারা সতরের পরিপূর্ণ আকৃতি বুঝা যায়, এসব কাপড় পরিধান করা হারাম ও নাজায়েয। (তাকমিলায়ে ফাতহুল মুলহিম শরহে মুসলিম-৪:৮৮)

(২) শরী‘আতের পরিপন্থী ও শরী‘আত পরিপন্থী পদ্ধতিতে পোশাক পরিধান করা জায়েয নয়। তাই পুরুষের জন্য টাখনুর নীচে কোন কাপড় পরিধান করা, রেশমী কাপড় পরিধান করা, স্বর্ণের কোন অলংকার পরিধান করা, পুরুষেদের জন্য মহিলার পোশাক এবং মহিলার জন্য পুরুষের পোশাক পরিধান করা জায়েয নয়। পুরুষের জন্য কুসুমী রঙ এবং সম্পূর্ণ লাল রং এর পোশাক পরিধান করাও নিষিদ্ধি। এ প্রসঙ্গে আবূ হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত যে, প্রিয়নবী ﷺ ইরশাদ করেন- “লুঙ্গি (অথবা অন্য কোন কাপড়) টাখনুর নীচের যে অংশটুকুতে পরিধান করবে, সে অংশটুকু জাহান্নামে যাবে। (মিশকাত শরীফ-৩৭৩ পৃঃ)

তাছাড়া রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য রেশমী কাপড় এবং স্বর্ণকে হারাম করা হয়েছে এবং তা মহিলাদের জন্য হালাল করে দেয়া হয়েছে”। (তিরমিযী শরীফ-১:৩০২)

ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ লানত করেছেন- ঐ সমস্ত পুরুষের উপর, যারা (বেশ-ভূষায়) মহিলাগণের সামঞ্জস্যতা অবলম্বন করে এবং সমস্ত মহিলাগনের উপর, যারা পুরুষের সামঞ্জস্যতা অবলম্বন করে। (মুখতাসারুত তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ১৯৪ পৃষ্ঠা)

(৩) বিধর্মীদের সাথে সামঞ্জস্য না হওয়া। এ প্রসঙ্গে ﷺ ইরশাদ করেন- “যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে”।

তিনি আরো বলেন-“তোমার (বেশ-ভূষায়) বিধর্মীদের বিরোধিতা কর, দাঁড়ি লম্বা রাখ এবং মোচ ছোট রাখ। (বুখারী শরীফ ২:৮৭৫)

(৪) লোক দেখানো ও অহংকারের নিয়্যতে কাপড় পরিধান না করা।

এ প্রসঙ্গে ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, “রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন- হালাল বস্তু থেকে যা ইচ্ছা তা খাও এবং জায়েয পোশাক থেকে যা ইচ্ছা পরিধান কর, কিন্তু দু’টি জিনিস যেন তোমাকে ভুলের মধ্যে না ফেলে দেয়, আর সে দু’টি জিনিস হচ্ছে (১) অতিরিক্ত খরচ করা (২) রিয়া ও অহংকার করা। (বুখারী শরীফ-২:৮৬০)