খোদায়ী ষাঁড় মাদরাসার ছাত্রদের খাওয়ানো

মুফতী মনসূরুল হক সাহেবJanuary 4, 2026কুরবানী ও আক্বিকা, মসজিদ মাদরাসা, কসম ও মান্নত

Question

আমাদের অঞ্চলের বিভিন্ন লোক খোদার নামে ষাঁড় ছেড়ে দেয় এবং এটাকে খোদায়ী ষাঁড় বলে। এ ষাঁড় নির্দ্বিধায় মানুষের জমির ফসল খেয়ে বেড়ায়। অবশেষে বৃদ্ধ হয়ে একদিন মারা যায়। উল্লেখ্য যে, ষাঁড় দ্বারা মানুষের উপকারের পরিবর্তে ক্ষতিই সাধিত হয়। এ ধরণের ষাঁড় মাদরাসার লিল্লাহ বোর্ডিং এর ছাত্রদেরকে জবাই করে খাওয়ানো জায়েয হবে কি-না?

Answer

আল্লাহর নামে ষাঁড়, গরু, ছাগল ইত্যাদি পশু ছেড়ে দেয়ার যে প্রথা প্রচলিত আছে, তা শরী‘আত সম্মত নয়। বরং তা নাজায়েয ও হারাম। কেউ যদি আল্লাহর নামে গরু, ছাগল ইত্যাদি ছাড়ার মান্নত করে থাকে, তাহলে তা পুরা করাও জরুরী নয়। কেননা, এ মান্নতই জায়েয হয়নি। সুতরাং, কেউ যদি এ জাতীয় গরু, ছাগল আল্লাহর নামে ছেড়ে দেয় তাহলে সে গুনাহগার হবে। তবে উক্ত পশুর মালিক সেই ব্যক্তিই থাকবে। এভাবে ছেড়ে দেওয়ার দরুণ মালিকানা বাতিল হবে না।

এখানে যেহেতু আল্লাহর নামে ছেড়ে দেয়ার পরও মালিকানা বাতিল হচ্ছে না, তাই মালিকের অনুমতি ব্যতিত কেউ তা জবাই করে খেতে পারবে না এবং কোন মাদরাসার ছাত্রদেরকেও তা জবাই করে খাওয়ানো জায়েয হবে না। বরং এ ধরণের পশুর উপর মালিকের একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণে সে তা নিজেও ভক্ষন করতে পারবে, অথবা জবাই করে অন্যদেরকেও খাওয়াতে পারবে। কিংবা কোন মাদরাসায় দানও করতে পারবে। অর্থাৎ মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে তা যে কোন বৈধ খাতে ব্যবহার করতে পারবে।

উল্লেখ্য যে, কেউ যদি আল্লাহর নামে গরু ছাগল ছেড়ে দেয় এবং সেই গরু, ছাগল মানুষের ফসলাদি নষ্ট করে তাহলে জমির মালিক বিচার-সালিসের মাধ্যমে সেই ব্যক্তি থেকে তার ক্ষতিপূরণ আদায় করেত পারবে। আর জনগণও তার ব্যাপারে যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। কেননা, সে গরু, ছাগল আল্লাহর নামে ছেড়ে দিয়ে ফসলাদি নষ্ট করেছে এবং শরী‘আত বিরোধী কাজ করেছে। (প্রমাণঃ আদ দুররুল মুখতার ৩:৭৩৫, বাদায়িয়ুস সানায়ি ৫:৮২, ফাতাওয়া সুলতানিয়া ৪:৪১০, ফাতাওয়া দারুল উলূম ১২:১৩০)