এনজিও কর্তৃক পরিচালিত স্কুলে চাকুরী করে বেতন গ্রহণ

Question

অমুসলিমদের সাহায্যপ্রাপ্ত এনজিও কর্তৃক পরিচালিত কোন স্কুলে শিক্ষক হিসাবে চাকুরী করে বেতন গ্রহণ করা কি জায়িয হবে?

Answer

অমুসলিমদের সাহায্যপ্রাপ্ত এনজিওদের কার্যকলাপ সম্পূর্নরূপে ইসলাম, মুসলমান ও দেশের স্বাধীনতা পরিপন্থী। তাদের সর্বাত্নক প্রচেষ্টা হচ্ছে, এদেশের শিশু-কিশোর ও মা-বোনদের ইমান-আকীদা বিনষ্ট করা। তাদের প্রচলিত স্কুলও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যও এক ও অভিন্ন। সুতরাং,অমুসলিমদের সাহায্যপ্রাপ্ত এনজিও কর্তৃক কোন স্কুলে মুসলমানদের চাকুরি করা বৈধ নয়। কারণ, এতে মুসলমানদের ইমান-আকীদা বিনষ্ট করার ক্ষেত্রে অমুসলিমদেরকে সাহায্য করা হয়ে থাকে। অথচ আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন,

“গুনাহ ও যুলুমের কাজে তোমরা একে অপরকে সাহায্য করো না এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক। অবশ্যই আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা”।

তাছাড়া এনজিও কর্তৃক পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহের লেনদেন যুলুম ও সুদভিত্তিক। তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এদেশের জনগণের ইমান-আকীদা আমল-আখলাক বিনষ্ট করা। সুতরাং, শরী‘আতের বিধান অনুযায়ী সেখানে চাকুরি করা জায়িয নয়। কুরান-হাদীসের বহু স্থানে সুদের ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে। হাদীস শরীফে জাবের রা. থেকে বর্নিত হয়েছে, “যে ব্যক্তি সুদ প্রদান করে এবং গ্রহণ করে কিংবা সুদ সংক্রান্ত লেনদেনের উকীল বা স্বাক্ষী হয় অথবা সুদ লিপিবদ্ধ করে এদের সকলের প্রতি রাসূলে আকরাম ﷺ অভিশাপ করেছেন এবং বলেছেন, “এরা সকলেই মূল গুনাহের সমানভাবে অংশীদার”। (মিশকাত শরীফ ২৪৪)

এর দ্বারা বুঝা যায় গুনাহের কাজে সাহায্য করা কিংবা তাতে অংশগ্রহণ করা বৈধ নয়। অন্য এক হাদীসে বর্নিত হয়েছে, সুদের (গুনাহের) সত্তরটি স্তর আছে। তন্মধ্য থেকে সর্ব নিম্নস্তরের গুনাহ হচ্ছে, মায়ের সাথে যিনা করার সমতুল্য।

অপর একটি হাদীসে ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহর নিকট সুদের একটি দিরহাম ছত্রিশ বার যিনা করার থেকেও নিকৃষ্টতর। সুতরাং, যে মুসলমানের অন্তরে কুরআন ও হাদীসের প্রতি বিন্দুমাত্র গুরুত্ব আছে, সে কখনো এসব প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতে পারে না। [ফাতাওয়া রাহীমিয়া ২:১৯৪]