Masail
100%

নবীকে হাযির-নাযির ও ওলীদের কবরে যিন্দা মনে করার হুকুম

Question

আমি একটা মিলে চাকুরী করি। মিল মসজিদের ইমাম সাহেব এবং বাসার আশপাশের মসজিদের ইমামগণ এই আকীদা পোষণ করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাযির ও নাযির এবং নূরের তৈরী। যা আল্লাহ পাকের জাতি নূরের অংশ। খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহ. সহ সকল ওলীগণ স্বীয় কবরে যিন্দা। তাদেরকে যে মৃত বলবে, সে কাফের হবে। তাই আমি তাদের পিছে নামায পড়ি না। একাকী পড়ি। শুক্রবারও ডিউটি থাকে। অনেক দূরে গিয়েও জুমু’আ আদায় করা সম্ভব হয় না। এমতাবস্থায় উক্ত ইমামের পিছনেই জুমু’আর নামায আদায় করবো, নাকি একাকী যুহরের নামায আদায় করবো?

Answer

আপনার বর্ণনা মতে, উল্লেখিত আকীদা পোষণকারী ব্যক্তিরা নিঃসন্দেহে গুমরাহ এবং বিদ’আতী। আর বিদ’আতী লোকের পিছনে নামায পড়া মাকরূহে তাহরীমী। [প্রমাণঃ ফাতাওয়া দারুল উলূম ৩:২৪০, ২৪৫, ২৮০, # দুররে মুখতার ১:৫৬৬ # ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ২:৭৩]

তবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সরাসরি আলিমুল গাইব ও হাযির-নাযির মনে করা, তাকে নূরের তৈরী মনে করা এবং সে নূরকে আল্লাহ তাআলার জাতি নূরের অংশ মনে করা কুফরী আকীদার শামিল। এক্ষেত্রে এ ধরনের আকীদা পোষণকারী ব্যক্তিরা পিছনে নামায না পড়ে অন্য কোন মসজিদে গিয়ে নামায পড়তে হবে। অন্য মসজিদ অনেকদূরে হলেও সেখানে গিয়ে জুমু’আর নামায আদায় করতে হবে। যদি কোন দিন বিশেষ কোন কারণে দূরের মসজিদে গিয়ে জুমু‘আর নামায আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে একা একা যোহরের নামায আদায় করে নিবে। [প্রমাণঃ কিফায়াতুল মুফতী ১:১৬৪, # সূরা আল-আনআম ৫৯]