মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জমি নিজ ভোগ করা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেবJanuary 4, 2026কসম ও মান্নত

Question

জনৈক ব্যক্তি মসজিদের নামে কিছু জমি ওয়াকফ করে দেয়ার পরও প্রায় ১৫/২০ বছর যাবত সেই জমি নিজে ভোগ করছে। অতচ ওয়াকফ নামায় লেখা আছে- এই জমির আয় ব্যয় সবই মসজিদ ফান্ডে জমা হবে। তবে ওয়াকফ নামায় নির্দিষ্ট কোন মসজিদের নাম উল্লেখ নেই। এখন প্রশ্ন হল মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত জমি নিজে ভোগ করতে পারবে কি?

Answer

মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত জমি ওয়াকফকারী ব্যক্তি নিজে ব্যবহার করতে পারবে না। তেমনিভাবে উক্ত জমির উৎপাদিত ফসল অথবা উক্ত জমি হতে অর্জিত সম্পদও নিজে খরচ করতে পারবে না। এতোদিন যা খরচ করেছে, তা বছর বছর ধরে ওয়াকফ সম্পত্তি আত্মসাৎ ও আল্লাহর ঘর মসজিদের সম্পত্তি আত্মসাৎ ও অবৈধ ভোগ করার কারণে অগণিত গুণাহে কবীরা বলে গণ্য হবে। (আল্লাহ তা‘আলা এমন জঘন্য পাপাচার হতে পানাহ দিন) এই জমি সম্পূর্ণভাবে মসজিদের হক। এর যাবতীয় আয় মসজিদের কাজেই ব্যয় করতে হবে। অতএব, বিগত ১৫/২০ বৎসরের আত্মসাৎকৃত সম্পদের ক্ষতিপূরণ মসজিদে ফিরিয়ে দেয়া ব্যতীত আত্মসাৎকারীর মুক্তির আর কোন পথ নেই।

উল্লেখ্য যে, ওয়াকফ দলিলে নির্দিষ্ট কোন মসজিদের নাম উল্লেখ না থাকলেও কোন অসুবিধা নেই। ওয়াকফকারী যে মসজিদের নিয়্যত করেছে বা বলেছে, সেই মসজিদের নামেই ওয়াকফ গ্রহণযোগ্য হবে। আর যদি কোন নির্দিষ্ট মসজিদের নিয়্যত না করে থাকে এবং মুখেও উল্লেখ না করে থাকে, তাহলে নিজের মহল্লার মসজিদে বা অন্য কোন মসজিদে এর আয় থেকে খরচ করা যাবে।

আরো উল্লেখ্য যে, উক্ত ব্যক্তির এত বড় খিয়ানত ধরা পড়ার পর মহল্লার গণ্য-মান্য ও ক্ষমতাসীনদের কর্তব্য হচ্ছে, তাকে সরিয়ে তার জায়গায় আমানতদার, সৎ, দায়িত্ব সচেতন কাউকে মুতাওয়াল্লী নিয়োগ করা এবং পূর্বে আত্মসাৎকৃত সকল অর্থ তার কাছ থেকে উদ্ধার করে মসজিদের কাজে ব্যয় করা।

উল্লেখ্য, উক্ত ব্যক্তি ওয়াকফ নামায় যদি একথাও লিখে থাকে যে, এ সম্পত্তি আমি মসজিদের জন্য ওয়াকফ করলাম। কিন্তু আমি যত দিন বেঁচে আছি, এর আয় আমি ভোগ করবো এবং আমার মৃত্যুর পর এ সম্পত্তির সমুদয় আয় মসজিদ পাবে। এ ধরনের কথা উল্লেখ থাকলে, তার জীবদ্দশায় ঐ সম্পত্তি ভোগ করা তার জন্য জায়েয হবে এবং ওয়াকফও সহীহ হবে। সেই পন্থায় তার মৃত্যুর পর সেই সম্পত্তি মসজিদে ব্যয় হবে। (প্রমাণঃ ফাতাওয়া শামী ৪:৩৫২, ৩৮০ আহসানুল ফাতাওয়া ৬:৪১৪, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ৬: ১৭৪)