কুশলাদি জিজ্ঞাসার জবাবে অসুস্থ ব্যক্তিরও ভাল আছি বলা
Question
বাংলা বেহেস্তী জেওরের সপ্তম খণ্ডের ৩৭৩ পৃষ্ঠায় ৯৫ নং হাদীসে এবং দাকায়িকুল আখবারের ৪১নং পৃষ্ঠায় বর্নিত হাদীসের সারমর্ম এই, মুসলমানদের দুনিয়ার জীবনে দুঃখ-কষ্ট, বিপদাপদ ও শোক- তাপ প্রভৃতিতে ধৈর্যধারণ করতে পারলে, গুনাহ মাফ হয় ও পরকালে অনেক উচ্চ মর্যাদা পাওয়া যায়। এখন আমার জিজ্ঞাসা, আমি প্রায় সময়ই অসুস্থ থাকি। অতএব, এমতাবস্থায় যদি আমাকে কেউ জিজ্ঞাসা করে যে, তোমার শরীর কেমন? আমি বললাম, বেশী ভাল না। তবে কি আমি অধৈর্যধারণকারীর অন্তুর্ভুক্ত গণ্য হব? আর যদি বলি ভাল আছি। তবে কি আমি মিথ্যাবাদি হবো?
Answer
আপনার অসুখ থাকা অবস্থায় যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে যে, আপনার শরীর কেমন? উত্তরে যদি আপনি বলেন যে, বেশী ভাল না, তাহলেও আপনি ধৈর্যধারণকারীর মধ্যে গণ্য হবেন। কারন, এখানে আসল অবস্থাটা আপনি বলে দিচ্ছেন। যাতে করে ঐ ব্যক্তি আপনার সুস্থতার ব্যপারে কোন পরামর্শ দিতে পারে বা আপনার সুস্থতার জন্য আল্লাহর দরবারে দু‘আ করবে। তবে আপনার অন্তরে সব সময় অসুখে গুনাহ মাফ ও রহমত প্রাপ্তির সান্ত্বনা এবং আপনি এজন্য কোন সময় হা-হুতাশ করবেন না। এটাই আপনার ধৈর্যের প্রমাণ। মোদ্দাকথা, শরীরের বাস্তব অবস্থা বলার কারনে আপনি ধৈর্যশীলদের কাতার থেকে খারিজ হবেন না। হ্যাঁ, অসুস্থতার কারনে যদি আল্লাহ তা‘আলার বিরুদ্ধে কোনরূপ অভিযোগ করেন, তাহলে ধৈর্যশীলদের কাতার থেকে খারিজ হয়ে যাবেন। মুমিনের দায়িত্ব হচ্ছে, সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় আল্লাহর শুকর আদায় করা। আর যদি আপনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, মোটামুটি ভালই আছি। তবুও আপনি মিথ্যাবাদী হবেন না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে এর চেয়েও মারাত্নক অসুখ দিতে পারতেন। সেই তুলনায় আপনি নিশ্চয়ই ভাল আছেন। অতএব, এ কথাটা মিথ্যা নয়।