ছাত্রাবস্থায় বাই‘আত হওয়া
Question
ছাত্রাবস্থায় ছাত্রদের জন্য বাই‘আত হওয়ার অনুমতি আছে কিনা? শুনেছি দেওবন্দের আকাবিরগন (মুরব্বীগন) নাকি ছাত্রাবস্থায় বাই‘আত হওয়ার অনুমতি দিতেন না। বাস্তবে কি তাই?
Answer
আত্নশুদ্ধি প্রত্যেক বালেগ মুসলমানের জন্য ফরয। বিশেষ করে ইলমে দ্বীন অন্বেষণকারীদের জন্য একান্ত জরুরী। আর একথা অনস্বীকার্য যে, নিজে নিজের আত্নশুদ্ধি করা সম্ভব নয়। বরং কোন হক্কানী পীরের সাথে ইসলাহি সম্পর্ক স্থাপন করে অন্তরের রোগের অবস্থা জানিয়ে তার বাতানো পথে চলে আত্নার পরিশুদ্ধি করতে হয়। ইহা অত্যন্ত সুক্ষ্ম বিষয়। কোন অবস্থায়ই আত্নার চিকিৎসা তার ডাক্তার ছাড়া একা সম্ভব নয়। অপরদিকে শরীরে ক্যানসার এখন আর তার চিকিৎসা হবে কয়েক বছর পরে এটা কোন অবস্থাতেই সঠিক নিয়ম নয়। বরং মারাত্নক ভুল। এতে রোগীই মারা যাবে। এক্ষেত্রে কর্তব্য হল তৎক্ষণাত চিকিৎসা করা।
সুতারং ছাত্রাবস্থায় প্রত্যেক ছাত্রকে নিজ নিজ আত্নার পরিশুদ্ধি করতে যত্নবান হতে হবে। এক্ষেত্রে মুনাসেব হলো ইজাযত প্রাপ্ত নিজের কোন কামেল উস্তাদের নিকট নিজের অবস্থা জানিয়ে তার পরামর্শে চলা। এতে ফায়দা বেশি হয়। তবে নিজের উস্তাদগনের মধ্যে বা সংশ্লিষ্ট মাদরাসার মধ্যে এ ধরনের শাইখ না থাকলে নিকটে অবস্থানরত শাইখের মধ্যে যার প্রতি মনের বেশি আকর্ষণ হয়, তার সাথে ইসলাহী সম্পর্ক কায়েম করে ইসলাহ শুরু করে দেবে। যদি ফায়দা হতে থাকে ভবিষ্যতে কখনো বাই‘আত বা মুরীদ হওয়ার দরখাস্ত করতে পারে। যদিও তা জরুরী নয়।
পীরের প্রদত্ব ওযীফা পালন করতে গেলে লেখা পড়ার ক্ষেত্রে একাগ্রতার স্থলে মন দ্বিমুখী হয়ে পড়ে এবং পড়া লেখায় ক্ষতি থেকে পারে। এ জন্য আকাবিরগন ছাত্রদের আত্নশুদ্ধির ব্যাপারে ইসলাহ করতেন কিন্তু যিকির ও অযীফা দিতেন না।
হ্যাঁ! যারা দরসী ইলম থেকে ফারিগ হয়ে যেত তাদেরকে যিকির-শোগল দিতেন। ছাত্রদের যিকির শোগল না দেওয়ার দরুন অনেকে মনে করেছে যে, ছাত্রদেরকে ইসলাহী সম্পর্কেরই ইজাযত দেয়া হতো না। এটা মূলতঃ মানুষের ভুল ধরনা। কারন একজন ছাত্রের মধ্যে কুদৃষ্টির অভ্যাস, হিংসা, লোভ, অহংকার সহ অনেক রুহানী রোগ থাকে। সে রোগসহ সহীহ ইলম, আমল হাসিল করা সম্ভব নয়সুতরাং এ অবস্থায় যদি তাকে ছাত্রাবস্থায় আত্নশুদ্ধি নিষেধ করা হয়, তাহলে সে কিভাবে বাআমল আলেম ও সহীহ নায়েবে রাসূল হবে? আদৌ তা সম্ভব নয়। এজন্য প্রত্যেকের ছায়াবস্থায়ই আত্নার রোগের চিকিৎসা করা কর্তব্য। [প্রমাণঃ মাহমুদিয়া ১৫/৮৮, ৮৯ আল ইলমু ওয়ালউলামা: ১৯১,১৯২]