সিনেমা না দেখার কসম খাওয়া

Question

কোন ব্যক্তি দশ বছর আগে ইমান-আমলকে মজবুত করার জন্য নিজে নিজেই বলেছিল যে, সে এর কখনো সিনেমা দেখবে না। যদি দেখে তাহলে সে কাফির। কিন্তু সে তার কথা ঠিক রাখতে পারেনি। মাঝে ছবি দেখে ফেলেছে। এখনো মাঝে-মাঝে সে সিনেমা দেখে, এ সম্পর্কে শরী‘আতের বিধান জানতে ইচ্ছুক।

Answer

ঐ ব্যক্তি, যে সিনেমা দেখলে কাফির হয়ে যাবে, এ কথা বলার পরও সিনেমা দেখছে এবং তার পরেও সে এখনো মাঝে মাঝে সিনেমা দেখে। এ সমস্যার সমাধান তার নিয়্যাত ও আকীদার উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, যদি বাস্তবেই সে কাফির হয়ে যাবে, এরূপ আকীদা পোষণ করে উক্ত কথা নিজে ভঙ্গ করে সেই অন্যায় করে থাকে, তাহলে তার ঈমান চলে যাবে।

সেক্ষেত্রে খালিস অন্তরে তাওবা করতঃ ঈমান আনয়ন করতে হবে ও বিবাহ দোহরাতে হবে। আর যদি সত্যিই কাফির হয়ে যাবে, এমন আকীদা রেখে বলে না থাকে, বরং কেবল কসমের নিয়্যতে বলে থাকে, তাহলে কসমের কাফফারা দিতে হবে এবং সিনেমা দেখার কারনে যে কবীরা গুনাহ হয়েছে, সে জন্য আল্লাহর নিকট তাওবা করতে হবে। আর কসমের কাফফারা হচ্ছে, দশজন মিসকিনকে দু’বেলা খানা খাওয়ানো বা দশজন মিসকিনকে এক জোড়া করে পোষাক দান করা। আর উভয়টা থেকে অপারগ হলে বিরতিহীন ভাবে তিনটি রোযা রাখা।

উল্লেখ্য যে, সিনেমা দেখা সম্পূর্নরূপে নাজায়িয, হারাম ও কবীরা গুনাহ। দুনিয়া ও আখেরাত উভয় দিক দিয়েই এর মধ্যে বহু ক্ষতি রয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজে হাজারো রকম অপকর্ম ও গুনাহের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে গিয়ে পুরো সমাজটা ধ্বংস হয়ে যায়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য এর থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য কর্তব্য। [সূরা মায়িদাহ ৮৯, আদ-দুররুল মুখতার ৩:৭১৪, বাদায়ি ৩:৮,তাতারখানিয়া ৪:৪২২, আহসানুল ফাতাওয়া ৫:৪৯৯, ফাতাওয়া দারুল উলূম ১২:৩৪, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ৫:৯০, নিযামুল ফাতাওয়া ২:৯৯]