চার নিয়মের যৌতুক
Question
আমাদের এলাকায় যৌতুক মোটামুটি চার নিয়মে নেয়া হয়।
প্রথমঃ যৌতুক চুক্তি করে নেয়া। যেমন, মেয়ের পক্ষ থেকে নগদ টাকা, ফ্রিজ, টিভি ইত্যাদি মোটকথা ঘর সাজাতে যা লাগে সবই এর অন্তর্ভুক্ত। এসব কিছু ছেলের পক্ষ, মেয়ের পক্ষ থেকে চুক্তি করে নিয়ে থাকে।
দ্বিতীয় নিয়মঃ যৌতুক চুক্তি ছাড়া নেয়া। যেমন, ছেলের পক্ষ বলে দেয়, যৌতুকের ব্যাপারে আমাদের দাবী নাই। আপনারা খুশি হয়ে যা দেন। যেহেতু আমরা আপনাদের মেয়ে নিচ্ছি তাই কিছু দিলে আপনাদের মেয়েরই থাকবে।
তৃতীয় নিয়মঃ ছেলে পক্ষ বলে থাকে আমরা কোন যৌতুক চাই না। কিন্তু মনে মনে পাওয়ার জন্য আশায় থাকে। আর কিছু দিলেও ফেরৎ দেয় না।
চতুর্থ নিয়মঃ খাওয়া চুক্তি। যেমন, ছেলের পক্ষ থেকে মেয়ের পক্ষকে বলে, আমাদের ১০০ থেকে ২০০ লোক খাওয়াতে হবে।
উপরে উল্লেখিত নিয়মগুলো জায়িয কি-না? যদি জায়িয না হয়ে থাকে তাদের জন্য তাওবা করার পদ্ধতি কি? বিস্তারিত জানানোর জন্য অনুরোধ রইল।
Answer
ইসলামী শরী‘আতে বিবাহ অত্যন্ত সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, যখন বান্দা বিবাহ করল তখন যেন তার দ্বীন অর্ধেক পরিপূর্ণ হল। এখন সে যেন অবশিষ্ট অর্ধেকের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে। এর গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে আরো অনেক হাদীস রয়েছে। কিন্তু আমরা গুরুত্বপূর্ণ এই ইবাদতকে বিদ‘আত, রুসুমাত (কুসংস্কার) অপব্যয়, অডিও, ভিডিও, বেপর্দা, গান-বাদ্য ও বিভিন্ন ধরনের গুনাহের কাজ দ্বারা বিকৃত করে ফেলছি।
যার কারণে বিবাহ শাদী আমাদের জন্য বিশেষ করে মেয়ের পিতার জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিবাহের কুসংস্কার সমূহের মধ্যে যৌতুকের প্রথা অন্যতম। প্রশ্নে বর্ণিত যৌতুকের চার নিয়মের ইসলামী বিধান নিম্মরূপ।
(১) যৌতুক চুক্তি করে নেয়া অর্থাৎ ছেলের পক্ষ মেয়ের পক্ষ থেকে নগদ টাকা, ফ্রিজ, টিভি, ঘর সাজানোর আসবাবপত্র ইত্যাদি চুক্তি করে নেয়া নাজায়িয ও হারাম।
(২) যৌতুক চুক্তি ছাড়া নেয়া যেমন, ছেলের পক্ষ মেয়ের পক্ষকে বলে থাকে যে, আমাদের কোন দাবী নেই যা কিছু দিবেন তা আপনাদের মেয়েরই থাকবে। এটাও এক রকমের চাওয়া। সুতরাং, মনকে অন্যের মালের লোভ থেকে পাক করে শুধু এতটুকু বলা ঠিক যে, আমাদের কোন দাবী নাই এবং আমরা যৌতুক নিতেই রাযী নই। এমতাবস্থায় মেয়েকে যা কিছু দিবে তাতো হালাল হবেই এবং ছেলেকে যা কিছু দিবে তাও জায়িয ও হালাল হবে। তবে যা দিবেন আপনাদের মেয়ের থাকবে, এটা বলবে না; কারণ এর মধ্যে চাওয়া আছে।
(৩) ছেলের পক্ষ মুখে বলে আমরা কোন যৌতুক চাইনা, কিন্তু মনে মনে আশায় থাকে। এমতাবস্থায়ও যৌতুক না নেয়া চাই। কারণ কারো মালের আশায় থাকার পর তা পাওয়া গেলে তার মধ্যে বরকত হয় না। আশায় না থেকে যদি কিছু পাওয়া যায় তাহলে তার মধ্যে বরকত হয়। তবে বিবাহের অনুষ্ঠানে দেয়া-নেয়া বদ-রুসুম। বিবাহ-শাদী হওয়ার পর সুযোগমত দিতে ও নিতে পারে।
(৪) খাওয়ার চুক্তি যেমন, ছেলের পক্ষ বলে থাকে, আমাদের দেড়শ/দু’শ লোক খাওয়াতে হবে- এটাও নাজায়িয ও হারাম। কারণ, শরী‘আতে বর যাত্রীদের খাওয়ানোর ব্যাপারে কোন হুকুম নেই। আমাদের দেশে প্রচলিত নিয়ম আছে, বরের সাথে দেড়শ/ দু’শ বরযাত্রী যাবে, তাদের উন্নতমানের খানা পিনার ইন্তিজাম মেয়ের পিতাকে করতে হবে; মেয়ের পিতার সামর্থ্য থাকে বা না থাকে, মেয়ের পিতা প্রথা হিসেবে ঋণ করে বা জমি বন্ধক রেখে তাদের খানা-পিনার ইন্তিজাম করে থাকে। এটা সম্পূর্ণ জুলুম এবং এভাবে অন্যের মাল খাওয়া জায়িয নয়। সঠিক নিয়ম হলো, বরের সাথে পরামর্শদাতা হিসাবে দুই-এক জন লোক যাবে। মেয়ের পিতা সামর্থ অনুযায়ী তাদের মেহমানদারী করবে। এতে কোন অসুবিধা নেই। অন্য সকল মেহমান ও আত্মীয়গণ বিবাহ পড়ানোর পর বাড়ীতে চলে যাবে।
আর যারা মেয়ের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করে যৌতুক নিয়েছে তাদের তাওবা করার পদ্ধতি হল, যৌতুকের নামে যা কিছু নিয়েছে তা ফিরিয়ে দিয়ে বা অন্য যে ভাবেই হোক তাদেরকে খুশি করে মাফ নিয়ে নিবে। এবং এ রকম নাজায়িয কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দরবারে তাওবা করবে।
[প্রমাণঃ মিশকাত শরীফ, ২৫৫ #ইসলামী শাদী ১৮৮ #আপকে মাসাইল আওর উনকা হল৫:১৩৭]