الرعد

الرعد

আর-রাদ

Ayah ৪৩ · Medinan · Para ১৩

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الٓـمّٓرٰ ۟ تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡکِتٰبِ ؕ وَالَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ الۡحَقُّ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ

আলিফ-লাফ-মীম-রা। এগুলো (আল্লাহর) কিতাবের আয়াত, (হে নবী!) তোমার প্রতি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা-কিছু নাযিল করা হয়েছে, তা সত্য কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনছে না।

اَللّٰہُ الَّذِیۡ رَفَعَ السَّمٰوٰتِ بِغَیۡرِ عَمَدٍ تَرَوۡنَہَا ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ وَسَخَّرَ الشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ ؕ کُلٌّ یَّجۡرِیۡ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ یُدَبِّرُ الۡاَمۡرَ یُفَصِّلُ الۡاٰیٰتِ لَعَلَّکُمۡ بِلِقَآءِ رَبِّکُمۡ تُوۡقِنُوۡنَ

তিনিই আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলীকে উঁচুতে স্থাপন করেছেন এমন স্তম্ভ ছাড়া, যা তোমরা দেখতে পাবে। অতঃপর তিনি আরশে ‘ইসতিওয়া’ গ্রহণ করেন। এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রতিটি বস্তু এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত আবর্তন করে। তিনি যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি এসব নিদর্শন সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পার যে, (একদিন) তোমাদেরকে স্বীয় প্রতিপালকের সঙ্গে মিলিত হতে হবে।

وَہُوَ الَّذِیۡ مَدَّ الۡاَرۡضَ وَجَعَلَ فِیۡہَا رَوَاسِیَ وَاَنۡہٰرًا ؕ وَمِنۡ کُلِّ الثَّمَرٰتِ جَعَلَ فِیۡہَا زَوۡجَیۡنِ اثۡنَیۡنِ یُغۡشِی الَّیۡلَ النَّہَارَ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ

তিনিই সেই সত্তা, যিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন, তাতে পাহাড় ও নদ-নদী সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে প্রত্যেক প্রকার ফল জোড়ায়-জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। তিনি দিনকে রাতের চাদরে আবৃত করেন। নিশ্চয়ই এসব বিষয়ের মধ্যে সেই সকল লোকের জন্য নিদর্শন আছে, যারা চিন্তা-ভাবনা করে।

وَفِی الۡاَرۡضِ قِطَعٌ مُّتَجٰوِرٰتٌ وَّجَنّٰتٌ مِّنۡ اَعۡنَابٍ وَّزَرۡعٌ وَّنَخِیۡلٌ صِنۡوَانٌ وَّغَیۡرُ صِنۡوَانٍ یُّسۡقٰی بِمَآءٍ وَّاحِدٍ ۟ وَنُفَضِّلُ بَعۡضَہَا عَلٰی بَعۡضٍ فِی الۡاُکُلِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ

আর পৃথিবীতে আছে বিভিন্ন ভূখণ্ড, যা পাশাপাশি অবস্থিত। আর আছে আঙ্গুরের বাগান শস্য ক্ষেত্র ও খেজুর গাছ, যার মধ্যে কতক একাধিক কা-বিশিষ্ট এবং কতক এক কা-বিশিষ্ট। সব একই পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয়। আমি স্বাদে তার কতককে কতকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এসব বিষয়ের মধ্যে সেই সকল লোকের জন্য নিদর্শন আছে, যারা বুদ্ধিকে কাজে লাগায়।

وَاِنۡ تَعۡجَبۡ فَعَجَبٌ قَوۡلُہُمۡ ءَاِذَا کُنَّا تُرٰبًا ءَاِنَّا لَفِیۡ خَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ۬ؕ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِرَبِّہِمۡ ۚ وَاُولٰٓئِکَ الۡاَغۡلٰلُ فِیۡۤ اَعۡنَاقِہِمۡ ۚ وَاُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ

(ওই কাফেরদের উপর) যদি তুমি বিস্মিত হও, তবে তাদের এ উক্তি (বাস্তবিকই) বিস্ময়ের ব্যাপার যে, আমরা মাটিতে পরিণত হওয়ার পরও কি সত্যি সত্যিই নতুনভাবে জীবন লাভ করব? এরাই তারা, যারা নিজেদের প্রতিপালক (এর শক্তি)কে অস্বীকার করে এবং এরাই তারা, যাদের গলদেশে লাগানো রয়েছে বেড়ি। তারা জাহান্নামবাসী, যাতে তারা সর্বদা থাকবে।

وَیَسۡتَعۡجِلُوۡنَکَ بِالسَّیِّئَۃِ قَبۡلَ الۡحَسَنَۃِ وَقَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِمُ الۡمَثُلٰتُ ؕ وَاِنَّ رَبَّکَ لَذُوۡ مَغۡفِرَۃٍ لِّلنَّاسِ عَلٰی ظُلۡمِہِمۡ ۚ وَاِنَّ رَبَّکَ لَشَدِیۡدُ الۡعِقَابِ

তারা ভালো অবস্থার (কাল শেষ হওয়ার) আগে মন্দ অবস্থার জন্য তাড়াহুড়া করছে। অথচ তাদের পূর্বে এরূপ লাঞ্ছনাকর শাস্তির বহু ঘটনা গত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মানুষের সীমালংঘন সত্ত্বেও তাদের প্রতি তোমার প্রতিপালক ক্ষমাপ্রবণ এবং এটাও সত্য যে, তার শাস্তি বড় কঠিন।

وَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡہِ اٰیَۃٌ مِّنۡ رَّبِّہٖ ؕ  اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مُنۡذِرٌ وَّلِکُلِّ قَوۡمٍ ہَادٍ ٪

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা বলে, আচ্ছা! তার উপর (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর) তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে কোন মুজিযা কেন অবতীর্ণ করা হল না? (হে নবী!) প্রকৃত ব্যাপার এই যে, তুমি তো কেবল (বিপদ সম্পর্কে) সতর্ককারী। প্রত্যেক জাতির জন্যই হিদায়াতের পথ দেখানোর কেউ না কেউ ছিল।

اَللّٰہُ یَعۡلَمُ مَا تَحۡمِلُ کُلُّ اُنۡثٰی وَمَا تَغِیۡضُ الۡاَرۡحَامُ وَمَا تَزۡدَادُ ؕ وَکُلُّ شَیۡءٍ عِنۡدَہٗ بِمِقۡدَارٍ

প্রত্যেক নারী যে গর্ভ ধারণ করে আল্লাহ তা জানেন এবং মাতৃগর্ভে যা কমে ও বাড়ে তাও এবং তার নিকট প্রত্যেক জিনিসের এক নির্দিষ্ট পরিমাণ আছে।

عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ الۡکَبِیۡرُ الۡمُتَعَالِ

তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সব কিছুই জানেন। তাঁর সত্তা অনেক বড়, তাঁর মর্যাদা অতি উচ্চ।

سَوَآءٌ مِّنۡکُمۡ مَّنۡ اَسَرَّ الۡقَوۡلَ وَمَنۡ جَہَرَ بِہٖ وَمَنۡ ہُوَ مُسۡتَخۡفٍۭ بِالَّیۡلِ وَسَارِبٌۢ بِالنَّہَارِ

তোমাদের মধ্যে কেউ চুপিসারে কথা বলুক বা উচ্চস্বরে, কেউ রাতের বেলা আত্মগোপন করুক বা দিনের বেলা চলাফেরা করুক, তারা সকলে (আল্লাহর জ্ঞানে) সমান।

لَہٗ مُعَقِّبٰتٌ مِّنۡۢ بَیۡنِ یَدَیۡہِ وَمِنۡ خَلۡفِہٖ یَحۡفَظُوۡنَہٗ مِنۡ اَمۡرِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یُغَیِّرُ مَا بِقَوۡمٍ حَتّٰی یُغَیِّرُوۡا مَا بِاَنۡفُسِہِمۡ ؕ وَاِذَاۤ اَرَادَ اللّٰہُ بِقَوۡمٍ سُوۡٓءًا فَلَا مَرَدَّ لَہٗ ۚ وَمَا لَہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ مِنۡ وَّالٍ

প্রত্যেকের সামনে পিছনে এমন প্রহরী (ফেরেশতা) নিযুক্ত আছে, যারা আল্লাহর নির্দেশে পালাক্রমে তার হেফাজত করে। জেনে রেখ, আল্লাহ কোনও জাতির অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আল্লাহ যখন কোন জাতির উপর কোন বিপদ আনার ইচ্ছা করেন, তখন তা রদ করা সম্ভব নয়। আর তিনি ছাড়া তাদের কোন রক্ষাকর্তা থাকতে পারে না।

ہُوَ الَّذِیۡ یُرِیۡکُمُ الۡبَرۡقَ خَوۡفًا وَّطَمَعًا وَّیُنۡشِیٴُ السَّحَابَ الثِّقَالَ ۚ

তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে বিজলীর চমক দেখান, যা দ্বারা তোমাদের (বজ্রপাতের) ভীতি দেখা দেয় এবং (বৃষ্টির) আশাও সঞ্চার হয় এবং তিনিই পানিবাহী মেঘ সৃষ্টি করেন।

وَیُسَبِّحُ الرَّعۡدُ بِحَمۡدِہٖ وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ مِنۡ خِیۡفَتِہٖ ۚ  وَیُرۡسِلُ الصَّوَاعِقَ فَیُصِیۡبُ بِہَا مَنۡ یَّشَآءُ وَہُمۡ یُجَادِلُوۡنَ فِی اللّٰہِ ۚ  وَہُوَ شَدِیۡدُ الۡمِحَالِ ؕ

বজ্র তাঁরই তাসবীহ ও হামদ জ্ঞাপন করে এবং তাঁর ভয়ে ফেরেশতাগণও (তাসবীহরত রয়েছে)। তিনিই গর্জমান বিজলী পাঠান তারপর যার উপর ইচ্ছা তাকে বিপদরূপে পতিত করেন। আর তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) অবস্থা এই যে, তারা আল্লাহ সম্বন্ধেই তর্ক-বিতর্ক করছে, অথচ তাঁর শক্তি অতি প্রচণ্ড।

لَہٗ دَعۡوَۃُ الۡحَقِّ ؕ وَالَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖ لَا یَسۡتَجِیۡبُوۡنَ لَہُمۡ بِشَیۡءٍ اِلَّا کَبَاسِطِ کَفَّیۡہِ اِلَی الۡمَآءِ لِیَبۡلُغَ فَاہُ وَمَا ہُوَ بِبَالِغِہٖ ؕ وَمَا دُعَآءُ الۡکٰفِرِیۡنَ اِلَّا فِیۡ ضَلٰلٍ

তাঁরই কাছে দু‘আ করা যথার্থ। তারা তাঁকে ছেড়ে যাদেরকে (অর্থাৎ যেই দেব-দেবীদেরকে) ডাকে তারা তাদের দু‘আর কোনও জবাব দেয় না। তাদের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মত, যে পানির দিকে দু’হাত বাড়িয়ে আশা করে তা আপনিই তার মুখে পৌঁছে যাবে, অথচ তা কখনও নিজে-নিজে তার মুখে পৌঁছতে পারে না। আর (দেব-দেবীদের কাছে) কাফেরদের দু‘আ করার ফল এ ছাড়া আর কিছুই নয় যে, তা শুধু বৃথাই যাবে।

وَلِلّٰہِ یَسۡجُدُ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ طَوۡعًا وَّکَرۡہًا وَّظِلٰلُہُمۡ بِالۡغُدُوِّ وَالۡاٰصَالِ ٛ

আর আল্লাহকেই সিজদা করে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টি, কেউ তো স্বেচ্ছায় এবং কেউ বাধ্য হয়ে। তাদের ছায়াও সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর সামনে সিজদায় লুটায়।

قُلۡ مَنۡ رَّبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ قُلِ اللّٰہُ ؕ قُلۡ اَفَاتَّخَذۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ لَا یَمۡلِکُوۡنَ لِاَنۡفُسِہِمۡ نَفۡعًا وَّلَا ضَرًّا ؕ قُلۡ ہَلۡ یَسۡتَوِی الۡاَعۡمٰی وَالۡبَصِیۡرُ ۬ۙ اَمۡ ہَلۡ تَسۡتَوِی الظُّلُمٰتُ وَالنُّوۡرُ ۬ۚ اَمۡ جَعَلُوۡا لِلّٰہِ شُرَکَآءَ خَلَقُوۡا کَخَلۡقِہٖ فَتَشَابَہَ الۡخَلۡقُ عَلَیۡہِمۡ ؕ قُلِ اللّٰہُ خَالِقُ کُلِّ شَیۡءٍ وَّہُوَ الۡوَاحِدُ الۡقَہَّارُ

(হে নবী! কাফেরদেরকে) বল, কে তিনি, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালন করেন? বল, আল্লাহ! বল, তবুও তোমরা তাঁকে ছেড়ে এমন সব অভিভাবক গ্রহণ করলে, যাদের খোদ নিজেদেরও কোন উপকার সাধনের ক্ষমতা নেই এবং অপকার সাধনেরও না? বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? অথবা অন্ধকার ও আলো কি একই রকম হতে পারে? না-কি তারা আল্লাহর এমন সব শরীক সাব্যস্ত করেছে, যারা আল্লাহ যেমন সৃষ্টি করেন সে রকম কিছু সৃষ্টি করেছে, ফলে তাদের কাছে উভয়ের সৃষ্টিকার্য একই রকম মনে হচ্ছে? (কেউ যদি এ বিভ্রান্তির শিকার হয়ে থাকে, তবে তাকে) বলে দাও, কেবল আল্লাহই সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি একাই এমন যে, তাঁর ক্ষমতা সবকিছুতে ব্যাপ্ত।

اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَالَتۡ اَوۡدِیَۃٌۢ بِقَدَرِہَا فَاحۡتَمَلَ السَّیۡلُ زَبَدًا رَّابِیًا ؕ  وَمِمَّا یُوۡقِدُوۡنَ عَلَیۡہِ فِی النَّارِ ابۡتِغَآءَ حِلۡیَۃٍ اَوۡ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِّثۡلُہٗ ؕ  کَذٰلِکَ یَضۡرِبُ اللّٰہُ الۡحَقَّ وَالۡبَاطِلَ ۬ؕ  فَاَمَّا الزَّبَدُ فَیَذۡہَبُ جُفَآءً ۚ  وَاَمَّا مَا یَنۡفَعُ النَّاسَ فَیَمۡکُثُ فِی الۡاَرۡضِ ؕ  کَذٰلِکَ یَضۡرِبُ اللّٰہُ الۡاَمۡثَالَ ؕ

তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, ফলে নদীনালা আপন-আপন সামর্থ্য অনুযায়ী প্লাবিত হয়েছে, তারপর পানির ধারা স্ফীত ফেনাসমূহ উপরিভাগে তুলে এনেছে। এ রকমের ফেনা সেই সময়ও ওঠে, যখন লোকে অলংকার বা পাত্র তৈরির উদ্দেশ্যে আগুনে ধাতু উত্তপ্ত করে। আল্লাহ এভাবেই সত্য ও মিথ্যার দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন যে, (উভয় প্রকারে) যা ফেনা, তা তো বাইরে পড়ে নিঃশেষ হয়ে যায় আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিতে থেকে যায়। এ রকমেরই দৃষ্টান্ত আল্লাহ বর্ণনা করে থাকেন।

لِلَّذِیۡنَ اسۡتَجَابُوۡا لِرَبِّہِمُ الۡحُسۡنٰی ؕؔ  وَالَّذِیۡنَ لَمۡ یَسۡتَجِیۡبُوۡا لَہٗ لَوۡ اَنَّ لَہُمۡ مَّا فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا وَّمِثۡلَہٗ مَعَہٗ لَافۡتَدَوۡا بِہٖ ؕ  اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ سُوۡٓءُ الۡحِسَابِ ۬ۙ  وَمَاۡوٰىہُمۡ جَہَنَّمُ ؕ  وَبِئۡسَ الۡمِہَادُ ٪

মঙ্গল তাদেরই জন্য, যারা তাদের প্রতিপালকের ডাকে সাড়া দিয়েছে। আর যারা তার ডাকে সাড়া দেয়নি, তাদের কাছে যদি দুনিয়ার সমস্ত জিনিসও থাকে এবং তার সমপরিমাণ আরও, তবে তারা (কিয়ামতের দিন) নিজেদের প্রাণ রক্ষার্থে তা সবই দিতে প্রস্তুত হয়ে যাবে। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন হিসাব এবং তাদের ঠিকানা জাহান্নাম; তা বড় মন্দ ঠিকানা।

اَفَمَنۡ یَّعۡلَمُ اَنَّمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ الۡحَقُّ کَمَنۡ ہُوَ اَعۡمٰی ؕ  اِنَّمَا یَتَذَکَّرُ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ ۙ

যে ব্যক্তি নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে যে, তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা সত্য, সে কি ওই ব্যক্তির মত হতে পারে, যে অন্ধ? বস্তুত উপদেশ কেবল তারাই গ্রহণ করে, যারা বোধ-বুদ্ধির অধিকারী,

الَّذِیۡنَ یُوۡفُوۡنَ بِعَہۡدِ اللّٰہِ وَلَا یَنۡقُضُوۡنَ الۡمِیۡثَاقَ ۙ

(অর্থাৎ) সেই সকল লোক, যারা আল্লাহকে প্রদত্ত অঙ্গীকার রক্ষা করে এবং চুক্তির বিপরীত কাজ করে না।

وَالَّذِیۡنَ یَصِلُوۡنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰہُ بِہٖۤ اَنۡ یُّوۡصَلَ وَیَخۡشَوۡنَ رَبَّہُمۡ وَیَخَافُوۡنَ سُوۡٓءَ الۡحِسَابِ ؕ

এবং আল্লাহ যে সম্পর্ক বজায় রাখতে আদেশ করেছেন, তারা তা বজায় রাখে, নিজেদের প্রতিপালককে ভয় করে এবং ভয় রাখে কঠিন হিসাবের।

وَالَّذِیۡنَ صَبَرُوا ابۡتِغَآءَ وَجۡہِ رَبِّہِمۡ وَاَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَاَنۡفَقُوۡا مِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ سِرًّا وَّعَلَانِیَۃً وَّیَدۡرَءُوۡنَ بِالۡحَسَنَۃِ السَّیِّئَۃَ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عُقۡبَی الدَّارِ ۙ

এবং তারা সেই সকল লোক, যারা নিজ প্রতিপালকের সন্তুষ্টিবিধানের উদ্দেশ্যে সবর অবলম্বন করেছে, নামায কায়েম করেছে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে এবং তারা দুর্ব্যবহারকে প্রতিরোধ করে সদ্ব্যবহার দ্বারা। প্রকৃত নিবাসে উৎকৃষ্ট পরিণাম তাদেরই জন্য।

جَنّٰتُ عَدۡنٍ یَّدۡخُلُوۡنَہَا وَمَنۡ صَلَحَ مِنۡ اٰبَآئِہِمۡ وَاَزۡوَاجِہِمۡ وَذُرِّیّٰتِہِمۡ وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ یَدۡخُلُوۡنَ عَلَیۡہِمۡ مِّنۡ کُلِّ بَابٍ ۚ

(অর্থাৎ) স্থায়ীভাবে অবস্থানের সেই উদ্যানসমূহ, যার ভেতর তারা নিজেরাও প্রবেশ করবে এবং তাদের বাপ-দাদাগণ, স্ত্রীগণ ও সন্তানদের মধ্যে যারা নেককার হবে, তারাও। আর (তাদের অভ্যর্থনার জন্য) ফেরেশতাগণ তাদের নিকট প্রত্যেক দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে (আর বলতে থাকবে-)

سَلٰمٌ عَلَیۡکُمۡ بِمَا صَبَرۡتُمۡ فَنِعۡمَ عُقۡبَی الدَّارِ ؕ

তোমরা (দুনিয়ায়) যে সবর অবলম্বন করেছিলে, তার বদৌলতে এখন তোমাদের প্রতি কেবল শান্তিই বর্ষিত হবে এবং (তোমাদের) প্রকৃত নিবাসে এটা কতই না উৎকৃষ্ট পরিণাম।

وَالَّذِیۡنَ یَنۡقُضُوۡنَ عَہۡدَ اللّٰہِ مِنۡۢ بَعۡدِ مِیۡثَاقِہٖ وَیَقۡطَعُوۡنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰہُ بِہٖۤ اَنۡ یُّوۡصَلَ وَیُفۡسِدُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ۙ اُولٰٓئِکَ لَہُمُ اللَّعۡنَۃُ وَلَہُمۡ سُوۡٓءُ الدَّارِ

(অপর দিকে) যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকারে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, আল্লাহ যে সম্পর্ক বজায় রাখার হুকুম দিয়েছেন তা ছিন্ন করে এবং যমীনে অশান্তি বিস্তার করে, তাদের জন্য রয়েছে লানত এবং প্রকৃত নিবাসে নিকৃষ্ট পরিণাম তাদেরই জন্য।

اَللّٰہُ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیَقۡدِرُ ؕ  وَفَرِحُوۡا بِالۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ؕ  وَمَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا فِی الۡاٰخِرَۃِ اِلَّا مَتَاعٌ ٪

আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন তার রিযক প্রশস্ত করে দেন এবং (যার জন্য ইচ্ছা) সংকীর্ণ করে দেন। তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) পার্থিব জীবনেই মগ্ন, অথচ আখেরাতের তুলনায় পার্থিব জীবন মামুলি পুঁজির বেশি কিছু নয়।

وَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡہِ اٰیَۃٌ مِّنۡ رَّبِّہٖ ؕ  قُلۡ اِنَّ اللّٰہَ یُضِلُّ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَہۡدِیۡۤ اِلَیۡہِ مَنۡ اَنَابَ ۖۚ

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা বলে, তার প্রতি (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি) তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ করা হল না কেন? বলে দাও, আল্লাহ যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন আর তিনি তাঁর পথে কেবল তাদেরকেই আনয়ন করেন, যারা তাঁর দিকে রুজু হয়।

اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَتَطۡمَئِنُّ قُلُوۡبُہُمۡ بِذِکۡرِ اللّٰہِ ؕ  اَلَا بِذِکۡرِ اللّٰہِ تَطۡمَئِنُّ الۡقُلُوۡبُ ؕ

এরা সেই সব লোক, যার ঈমান এনেছে এবং যাদের অন্তর আল্লাহর যিকিরে প্রশান্তি লাভ করে। স্মরণ রেখ, কেবল আল্লাহর যিকিরেই অন্তরে প্রশান্তি লাভ হয়।

اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ طُوۡبٰی لَہُمۡ وَحُسۡنُ مَاٰبٍ

(মোটকথা) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে মঙ্গলময়তা এবং উৎকৃষ্ট পরিণাম।

کَذٰلِکَ اَرۡسَلۡنٰکَ فِیۡۤ اُمَّۃٍ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہَاۤ اُمَمٌ لِّتَتۡلُوَا۠ عَلَیۡہِمُ الَّذِیۡۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ وَہُمۡ یَکۡفُرُوۡنَ بِالرَّحۡمٰنِ ؕ قُلۡ ہُوَ رَبِّیۡ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ عَلَیۡہِ تَوَکَّلۡتُ وَاِلَیۡہِ مَتَابِ

(হে নবী! যেমন অন্য নবীগণকে পাঠানো হয়েছিল) তেমনি আমি তোমাকে এমন এক জাতির কাছে রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছি, যার পূর্বে বহু জাতি গত হয়েছে, যাতে আমি তোমার প্রতি ওহীর মাধ্যমে যে কিতাব নাযিল করেছি তা পড়ে তাদেরকে শোনাও। অথচ তারা এমন এক সত্তার অকৃতজ্ঞতা করে যিনি সকলের প্রতি দয়াবান। বলে দাও, তিনি আমার প্রতিপালক। তিনি ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়। তাঁরই উপর আমি নির্ভর করেছি এবং তাঁরই কাছে আমাকে ফিরে যেতে হবে।

وَلَوۡ اَنَّ قُرۡاٰنًا سُیِّرَتۡ بِہِ الۡجِبَالُ اَوۡ قُطِّعَتۡ بِہِ الۡاَرۡضُ اَوۡ کُلِّمَ بِہِ الۡمَوۡتٰی ؕ  بَلۡ لِّلّٰہِ الۡاَمۡرُ جَمِیۡعًا ؕ  اَفَلَمۡ یَایۡـَٔسِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنۡ لَّوۡ یَشَآءُ اللّٰہُ لَہَدَی النَّاسَ جَمِیۡعًا ؕ  وَلَا یَزَالُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا تُصِیۡبُہُمۡ بِمَا صَنَعُوۡا قَارِعَۃٌ اَوۡ تَحُلُّ قَرِیۡبًا مِّنۡ دَارِہِمۡ حَتّٰی یَاۡتِیَ وَعۡدُ اللّٰہِ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَا یُخۡلِفُ الۡمِیۡعَادَ ٪

যদি এমন কোনও কুরআনও নাযিল হত, যা দ্বারা পাহাড়কে আপন স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া যেত বা তার দ্বারা পৃথিবীকে বিদীর্ণ করা যেত (ফলে তা থেকে নদী প্রবাহিত হত) কিংবা তার মাধ্যমে মৃতের সাথে কথা বলা সম্ভব হত (তবুও এরা ঈমান আনত না)। প্রকৃতপক্ষে এসব কিছুই আল্লাহর এখতিয়ারাধীন। তবুও কি মুমিনগণ একথা চিন্তা করে নিজেদের মনকে ভারমুক্ত করল না যে, আল্লাহ চাইলে সমস্ত মানুষকে (জোরপূর্বক) সৎপথে পরিচালিত করতেন? যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তাদের উপর তাদের কৃতকর্মের কারণে সর্বদা কোনও না কোনও গর্জমান বিপদ পতিত হতে থাকবে অথবা তা নিপতিত হতে থাকবে তাদের বসতির আশেপাশে কোথাও, যাবত না (একদিন) আল্লাহর প্রতিশ্রুতি এসে পূর্ণ হয়ে যায়। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।

وَلَقَدِ اسۡتُہۡزِیٴَ بِرُسُلٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَاَمۡلَیۡتُ لِلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ثُمَّ اَخَذۡتُہُمۡ ۟ فَکَیۡفَ کَانَ عِقَابِ

(হে নবী!) বস্তুত তোমার পূর্বের নবীগণকেও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়েছিল এবং এরূপ কাফেরদেরকেও আমি অবকাশ দিয়েছিলাম, কিন্তু কিছুকাল পর আমি তাদেরকে পাকড়াও করি। সুতরাং দেখে নাও কেমন ছিল আমার শাস্তি!

اَفَمَنۡ ہُوَ قَآئِمٌ عَلٰی کُلِّ نَفۡسٍۭ بِمَا کَسَبَتۡ ۚ وَجَعَلُوۡا لِلّٰہِ شُرَکَآءَ ؕ قُلۡ سَمُّوۡہُمۡ ؕ اَمۡ تُنَبِّـُٔوۡنَہٗ بِمَا لَا یَعۡلَمُ فِی الۡاَرۡضِ اَمۡ بِظَاہِرٍ مِّنَ الۡقَوۡلِ ؕ بَلۡ زُیِّنَ لِلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مَکۡرُہُمۡ وَصُدُّوۡا عَنِ السَّبِیۡلِ ؕ وَمَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ ہَادٍ

আচ্ছা বল তো, একদিকে রয়েছেন সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেকের প্রতিটি কাজ পর্যবেক্ষণ করেন আর অন্যদিকে তারা কি না আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত করেছে? বল, একটু তাদের (অর্থাৎ আল্লাহর শরীকদের) নাম বল তো। (যদি কোন নাম বল) তবে কি আল্লাহকে এমন কোন অস্তিত্ব সম্পর্কে অবহিত করবে, যা সারা পৃথিবীর কোথাও আছে বলে তিনি জানেন না? না কি কেবল মুখেই এমন নাম বলবে আসলে যার কোন বাস্তবতা নেই? প্রকৃতপক্ষে কাফেরদের কাছে তাদের ছলনামূলক আচরণ বড় চমৎকার মনে হয়। আর (এভাবে) তাদের হিদায়াতের পথে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি হয়ে গেছে। মূলত আল্লাহ যাকে বিভ্রান্তির ভেতর ফেলে রাখেন, সে এমন কাউকে পাবে না, যে তাকে সৎপথে আনয়ন করবে।

لَہُمۡ عَذَابٌ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَلَعَذَابُ الۡاٰخِرَۃِ اَشَقُّ ۚ وَمَا لَہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ مِنۡ وَّاقٍ

তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনেও শাস্তি রয়েছে আর আখেরাতের শাস্তি নিঃসন্দেহে অনেক বেশি কঠিন হবে। এমন কেউ নেই, যে তাদেরকে আল্লাহ (-এর শাস্তি) থেকে বাঁচাতে পারবে।

مَثَلُ الۡجَنَّۃِ الَّتِیۡ وُعِدَ الۡمُتَّقُوۡنَ ؕ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ؕ اُکُلُہَا دَآئِمٌ وَّظِلُّہَا ؕ تِلۡکَ عُقۡبَی الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا ٭ۖ وَّعُقۡبَی الۡکٰفِرِیۡنَ النَّارُ

(অপর দিকে) মুত্তাকীদের জন্য যে জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছে তার তলদেশে নহর প্রবাহিত রয়েছে, তার ফল সতত সজীব এবং তার ছায়াও। এটা সেই সকল লোকের পরিণাম, যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে। আর কাফেরদের পরিণাম তো জাহান্নামের আগুন।

وَالَّذِیۡنَ اٰتَیۡنٰہُمُ الۡکِتٰبَ یَفۡرَحُوۡنَ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ وَمِنَ الۡاَحۡزَابِ مَنۡ یُّنۡکِرُ بَعۡضَہٗ ؕ قُلۡ اِنَّمَاۤ اُمِرۡتُ اَنۡ اَعۡبُدَ اللّٰہَ وَلَاۤ اُشۡرِکَ بِہٖ ؕ اِلَیۡہِ اَدۡعُوۡا وَاِلَیۡہِ مَاٰبِ

(হে নবী!) আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা তোমার প্রতি যে কালাম নাযিল করা হয়েছে, তা শুনে আনন্দিত হয়। আবার তাদেরই কোন কোন দল এমন, যারা এর কিছু কথা মানতে অস্বীকার করে। বল, আমাকে তো এই আদেশ করা হয়েছে যে, আমি আল্লাহর ইবাদত করব এবং প্রভুত্বে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করব না। এ কথারই আমি দাওয়াত দিয়ে থাকি আর তারই (অর্থাৎ আল্লাহরই) দিকে আমাকে ফিরে যেতে হবে।

وَکَذٰلِکَ اَنۡزَلۡنٰہُ حُکۡمًا عَرَبِیًّا ؕ  وَلَئِنِ اتَّبَعۡتَ اَہۡوَآءَہُمۡ بَعۡدَمَا جَآءَکَ مِنَ الۡعِلۡمِ ۙ  مَا لَکَ مِنَ اللّٰہِ مِنۡ وَّلِیٍّ وَّلَا وَاقٍ ٪

আর এভাবেই আমি একে (অর্থাৎ কুরআনকে) আরবী ভাষায় এক নির্দেশপত্র রূপে নাযিল করেছি। (হে নবী!) তোমার নিকট যে জ্ঞান এসেছে, তারপরও যদি তুমি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ কর, তবে আল্লাহর বিপরীতে তোমার কোনও সাহায্যকারী ও রক্ষক থাকবে না।

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا رُسُلًا مِّنۡ قَبۡلِکَ وَجَعَلۡنَا لَہُمۡ اَزۡوَاجًا وَّذُرِّیَّۃً ؕ وَمَا کَانَ لِرَسُوۡلٍ اَنۡ یَّاۡتِیَ بِاٰیَۃٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ لِکُلِّ اَجَلٍ کِتَابٌ

বস্তুত তোমার আগেও আমি বহু রাসূল পাঠিয়েছি এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তানাদি দিয়েছি। কোনও রাসূলেরই এ এখতিয়ার ছিল না যে, সে আল্লাহর হুকুম ছাড়া একটি মাত্র আয়াতও হাজির করবে। প্রত্যেক কালের জন্য পৃথক কিতাব দেওয়া হয়েছে।

یَمۡحُوا اللّٰہُ مَا یَشَآءُ وَیُثۡبِتُ ۚۖ وَعِنۡدَہٗۤ اُمُّ الۡکِتٰبِ

আল্লাহ যা চান (অর্থাৎ যে বিধানকে ইচ্ছা করেন) রহিত করে দেন এবং যা চান বলবৎ রাখেন। সমস্ত কিতাবের যা মূল, তা তাঁরই কাছে।

وَاِنۡ مَّا نُرِیَنَّکَ بَعۡضَ الَّذِیۡ نَعِدُہُمۡ اَوۡ نَتَوَفَّیَنَّکَ فَاِنَّمَا عَلَیۡکَ الۡبَلٰغُ وَعَلَیۡنَا الۡحِسَابُ

আমি তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যে বিষয়ের শাসানি দেই, তার অংশবিশেষ আমি তোমাকে (তোমার জীবদ্দশায়ই) দেখিয়ে দেই অথবা (তার আগেই) তোমাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেই, সর্বাবস্থায় তোমার দায়িত্ব তো কেবল বার্তা পৌঁছানো। আর হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আমার।

اَوَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّا نَاۡتِی الۡاَرۡضَ نَنۡقُصُہَا مِنۡ اَطۡرَافِہَا ؕ وَاللّٰہُ یَحۡکُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُکۡمِہٖ ؕ وَہُوَ سَرِیۡعُ الۡحِسَابِ

তারা কি এ বিষয়টা লক্ষ্য করে না যে, আমি তাদের ভূমি চারদিক থেকে সংকীর্ণ করে আনছি? প্রতিটি আদেশ আল্লাহই দান করেন। এমন কেউ নেই যে, তার আদেশ রদ করতে পারে। তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

وَقَدۡ مَکَرَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ فَلِلّٰہِ الۡمَکۡرُ جَمِیۡعًا ؕ یَعۡلَمُ مَا تَکۡسِبُ کُلُّ نَفۡسٍ ؕ وَسَیَعۡلَمُ الۡکُفّٰرُ لِمَنۡ عُقۡبَی الدَّارِ

তাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে, তারাও চাল চেলেছিল, কিন্তু আল্লাহরই যত চাল কার্যকর হয়। প্রত্যেক ব্যক্তি যা-কিছু করে, সবই তিনি জানেন। কাফেরগণ শীঘ্রই জানতে পারবে প্রকৃত নিবাসের উৎকৃষ্ট পরিণাম কার ভাগে পড়ে।

وَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَسۡتَ مُرۡسَلًا ؕ  قُلۡ کَفٰی بِاللّٰہِ شَہِیۡدًۢا بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکُمۡ ۙ  وَمَنۡ عِنۡدَہٗ عِلۡمُ الۡکِتٰبِ ٪

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা বলে, তুমি রাসূল নও। বলে দাও, আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষীরূপে আল্লাহ এবং প্রত্যেক ওই ব্যক্তি যথেষ্ট, যার কাছে কিতাবের জ্ঞান আছে।