الإسراء

الإسراء

আল-ইসরা

Ayah ১১১ · Meccan · Para ১৫

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

سُبۡحٰنَ الَّذِیۡۤ اَسۡرٰی بِعَبۡدِہٖ لَیۡلًا مِّنَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ اِلَی الۡمَسۡجِدِ الۡاَقۡصَا الَّذِیۡ بٰرَکۡنَا حَوۡلَہٗ لِنُرِیَہٗ مِنۡ اٰیٰتِنَا ؕ اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ

পবিত্র সেই সত্তা, যিনি নিজ বান্দাকে রাতারাতি মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যান, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখানোর জন্য। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর শ্রোতা এবং সব কিছুর জ্ঞাতা।

وَاٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ وَجَعَلۡنٰہُ ہُدًی لِّبَـنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اَلَّا تَتَّخِذُوۡا مِنۡ دُوۡنِیۡ وَکِیۡلًا ؕ

এবং আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং তাকে বনী ইসরাঈলের জন্য হিদায়াতের মাধ্যম বানিয়েছিলাম। আদেশ করেছিলাম, তোমরা আমার পরিবর্তে অন্য কাউকে কর্মবিধায়করূপে গ্রহণ করো না।

ذُرِّیَّۃَ مَنۡ حَمَلۡنَا مَعَ نُوۡحٍ ؕ اِنَّہٗ کَانَ عَبۡدًا شَکُوۡرًا

হে ওই সকল লোকের বংশধরগণ! যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম। সে ছিল খুবই শোকর গোজার বান্দা।

وَقَضَیۡنَاۤ اِلٰی بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ فِی الۡکِتٰبِ لَتُفۡسِدُنَّ فِی الۡاَرۡضِ مَرَّتَیۡنِ وَلَتَعۡلُنَّ عُلُوًّا کَبِیۡرًا

আমি কিতাবে মীমাংসা দান করে বনী ইসরাঈলকে অবহিত করেছিলাম, তোমরা পৃথিবীতে দু’বার বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং ঘোর অহংকার প্রদর্শন করবে।

فَاِذَا جَآءَ وَعۡدُ اُوۡلٰىہُمَا بَعَثۡنَا عَلَیۡکُمۡ عِبَادًا لَّنَاۤ اُولِیۡ بَاۡسٍ شَدِیۡدٍ فَجَاسُوۡا خِلٰلَ الدِّیَارِ ؕ وَکَانَ وَعۡدًا مَّفۡعُوۡلًا

সুতরাং যখন সেই ঘটনা দু’টির প্রথমটি সমুপস্থিত হল, তখন আমি তোমাদের উপর আমার এমন বান্দাদেরকে আধিপত্য দান করলাম, যারা ছিল প্রচণ্ড লড়াকু। তারা তোমাদের নগরে প্রবেশ করে ছড়িয়ে পড়ল। এটা ছিল এমন এক প্রতিশ্রুতি, যা কার্যকর হওয়ারই ছিল।

ثُمَّ رَدَدۡنَا لَکُمُ الۡکَرَّۃَ عَلَیۡہِمۡ وَاَمۡدَدۡنٰکُمۡ بِاَمۡوَالٍ وَّبَنِیۡنَ وَجَعَلۡنٰکُمۡ اَکۡثَرَ نَفِیۡرًا

তারপর আমি তোমাদেরকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তাদের উপর আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দিলাম এবং তোমাদের ধন-দৌলত ও সন্তান-সন্ততিতে বৃদ্ধি সাধন করলাম। আর তোমাদের লোকসংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি করলাম।

اِنۡ اَحۡسَنۡتُمۡ اَحۡسَنۡتُمۡ لِاَنۡفُسِکُمۡ ۟ وَاِنۡ اَسَاۡتُمۡ فَلَہَا ؕ فَاِذَا جَآءَ وَعۡدُ الۡاٰخِرَۃِ لِیَسُوۡٓءٗا وُجُوۡہَکُمۡ وَلِیَدۡخُلُوا الۡمَسۡجِدَ کَمَا دَخَلُوۡہُ اَوَّلَ مَرَّۃٍ وَّلِیُتَبِّرُوۡا مَا عَلَوۡا تَتۡبِیۡرًا

তোমরা সৎকর্ম করলে তা নিজেদেরই কল্যাণার্থে করবে আর যদি মন্দ কাজ কর, তাতেও নিজেদেরই অকল্যাণ হবে। অতঃপর যখন দ্বিতীয় ঘটনার নির্ধারিত কাল আসল, (তখন আমি তোমাদের উপর অপর শত্রু চাপিয়ে দিলাম,) যাতে তারা তোমাদের চেহারা বিকৃত করে দেয় এবং যাতে আগের বার তারা যেভাবে প্রবেশ করেছিল, এবারও সেভাবে মসজিদে প্রবেশ করে এবং যা-কিছুর উপর তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় তা মিসমার করে দেয়।

عَسٰی رَبُّکُمۡ اَنۡ یَّرۡحَمَکُمۡ ۚ وَاِنۡ عُدۡتُّمۡ عُدۡنَا ۘ وَجَعَلۡنَا جَہَنَّمَ لِلۡکٰفِرِیۡنَ حَصِیۡرًا

যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি দয়া করবেন, কিন্তু তোমরা যদি একই কাজের পুনরাবৃত্তি কর, তবে আমিও পুনরাবৃত্তি করব। আর আমি তো জাহান্নামকে কাফেরদের জন্য কারাগার বানিয়েই রেখেছি।

اِنَّ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنَ یَہۡدِیۡ لِلَّتِیۡ ہِیَ اَقۡوَمُ وَیُبَشِّرُ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ الَّذِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ الصّٰلِحٰتِ اَنَّ لَہُمۡ اَجۡرًا کَبِیۡرًا ۙ

বস্তুত এ কুরআন সেই পথ দেখায়, যা সর্বাপেক্ষা সরল আর যারা (এর প্রতি) ঈমান এনে সৎকর্ম করে, তাদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য আছে মহা প্রতিদান।

وَّاَنَّ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ اَعۡتَدۡنَا لَہُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا ٪

আর (সতর্ক করে দেয় যে,) যারা আখেরাতে বিশ্বাস রাখে না তাদের জন্য আমি যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।

وَیَدۡعُ الۡاِنۡسَانُ بِالشَّرِّ دُعَآءَہٗ بِالۡخَیۡرِ ؕ وَکَانَ الۡاِنۡسَانُ عَجُوۡلًا

মানুষ সেইভাবেই অমঙ্গল প্রার্থনা করে, যেভাবে তার মঙ্গল প্রার্থনা করা উচিত। বস্তুত মানুষ বড় ব্যস্তমতি।

وَجَعَلۡنَا الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ اٰیَتَیۡنِ فَمَحَوۡنَاۤ اٰیَۃَ الَّیۡلِ وَجَعَلۡنَاۤ اٰیَۃَ النَّہَارِ مُبۡصِرَۃً لِّتَبۡتَغُوۡا فَضۡلًا مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَلِتَعۡلَمُوۡا عَدَدَ السِّنِیۡنَ وَالۡحِسَابَ ؕ وَکُلَّ شَیۡءٍ فَصَّلۡنٰہُ تَفۡصِیۡلًا

আমি রাত ও দিনকে দু’টি নিদর্শনরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর রাতের নিদর্শনকে অন্ধকার করেছি আর দিনের নিদর্শনকে করেছি আলোকিত, যাতে তোমরা নিজ প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা বছর-সংখ্যা ও (মাসের) হিসাব জানতে পার। আমি সবকিছু পৃথক-পৃথকভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছি।

وَکُلَّ اِنۡسَانٍ اَلۡزَمۡنٰہُ طٰٓئِرَہٗ فِیۡ عُنُقِہٖ ؕ وَنُخۡرِجُ لَہٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ کِتٰبًا یَّلۡقٰىہُ مَنۡشُوۡرًا

আমি প্রত্যেক মানুষের (কাজের) পরিণাম তার গলদেশে সেঁটে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিন আমি (তার আমলনামা) লিপিবদ্ধরূপে তার সামনে বের করে দেব, যা সে উন্মুক্ত পাবে।

اِقۡرَاۡ کِتٰبَکَ ؕ  کَفٰی بِنَفۡسِکَ الۡیَوۡمَ عَلَیۡکَ حَسِیۡبًا ؕ

(বলা হবে) তুমি নিজ আমলনামা পড়। আজ তুমি নিজেই নিজের হিসাব নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

مَنِ اہۡتَدٰی فَاِنَّمَا یَہۡتَدِیۡ لِنَفۡسِہٖ ۚ وَمَنۡ ضَلَّ فَاِنَّمَا یَضِلُّ عَلَیۡہَا ؕ وَلَا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی ؕ وَمَا کُنَّا مُعَذِّبِیۡنَ حَتّٰی نَبۡعَثَ رَسُوۡلًا

যে ব্যক্তি সরল পথে চলে, সে তো সরল পথে চলে নিজ মঙ্গলের জন্যই আর যে ব্যক্তি ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করে, সে নিজের ক্ষতির জন্যই তা অবলম্বন করে। কোনও ভার বহনকারী অন্য কারও ভার বহন করবে না। আমি কখনও কাউকে শাস্তি দেই না, যতক্ষণ না (তার কাছে) কোন রাসূল পাঠাই।

وَاِذَاۤ اَرَدۡنَاۤ اَنۡ نُّہۡلِکَ قَرۡیَۃً اَمَرۡنَا مُتۡرَفِیۡہَا فَفَسَقُوۡا فِیۡہَا فَحَقَّ عَلَیۡہَا الۡقَوۡلُ فَدَمَّرۡنٰہَا تَدۡمِیۡرًا

যখন কোন জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি তখন তাদের বিত্তবান লোকদেরকে (ঈমান ও আনুগত্যের) হুকুম দেই, কিন্তু তারা তাতে নাফরমানী করে, ফলে তাদের সম্পর্কে কথা চূড়ান্ত হয়ে যায় এবং আমি তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলি।

وَکَمۡ اَہۡلَکۡنَا مِنَ الۡقُرُوۡنِ مِنۡۢ بَعۡدِ نُوۡحٍ ؕ وَکَفٰی بِرَبِّکَ بِذُنُوۡبِ عِبَادِہٖ خَبِیۡرًۢا بَصِیۡرًا

আমি নূহের পর কত মানবগোষ্ঠীকেই ধ্বংস করেছি! তোমার প্রতিপালক নিজ বান্দাদের পাপরাশি সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত, তিনি সবকিছু দেখছেন।

مَنۡ کَانَ یُرِیۡدُ الۡعَاجِلَۃَ عَجَّلۡنَا لَہٗ فِیۡہَا مَا نَشَآءُ لِمَنۡ نُّرِیۡدُ ثُمَّ جَعَلۡنَا لَہٗ جَہَنَّمَ ۚ یَصۡلٰىہَا مَذۡمُوۡمًا مَّدۡحُوۡرًا

কেউ দুনিয়ার নগদ লাভ কামনা করলে আমি যাকে ইচ্ছা, যতটুকু ইচ্ছা, এখানেই তাকে তা নগদ দিয়ে দেই। তারপর আমি তার জন্য জাহান্নাম রেখে দিয়েছি, যাতে সে লাঞ্ছিত ও বিতাড়িতরূপে প্রবেশ করবে।

وَمَنۡ اَرَادَ الۡاٰخِرَۃَ وَسَعٰی لَہَا سَعۡیَہَا وَہُوَ مُؤۡمِنٌ فَاُولٰٓئِکَ کَانَ سَعۡیُہُمۡ مَّشۡکُوۡرًا

আর যে ব্যক্তি আখেরাত (-এর লাভ) চায় এবং সেজন্য যথোচিতভাবে চেষ্টা করে, সে যদি মুমিন হয়, তবে এরূপ লোকের চেষ্টার পরিপূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হবে।

کُلًّا نُّمِدُّ ہٰۤؤُلَآءِ وَہٰۤؤُلَآءِ مِنۡ عَطَآءِ رَبِّکَ ؕ وَمَا کَانَ عَطَـآءُ رَبِّکَ مَحۡظُوۡرًا

(হে নবী! দুনিয়ায়) তোমার প্রতিপালকের দানের যে ব্যাপারটা, আমি তা দ্বারা এদেরকেও ধন্য করি এবং ওদেরকেও। (দুনিয়ায়) তোমার প্রতিপালকের দান কারও জন্যই রুদ্ধ নয়।

اُنۡظُرۡ کَیۡفَ فَضَّلۡنَا بَعۡضَہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ ؕ وَلَلۡاٰخِرَۃُ اَکۡبَرُ دَرَجٰتٍ وَّاَکۡبَرُ تَفۡضِیۡلًا

লক্ষ্য কর, আমি কিভাবে তাদের কতককে কতকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। নিশ্চিত জেন, আখেরাত মর্যাদার দিক থেকেও মহত্তর এবং মাহাত্ম্যের দিক থেকেও শ্রেষ্ঠতর।

لَا تَجۡعَلۡ مَعَ اللّٰہِ اِلٰـہًا اٰخَرَ فَتَقۡعُدَ مَذۡمُوۡمًا مَّخۡذُوۡلًا ٪

আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে মাবুদ বানিও না। অন্যথায় তুমি নিন্দাযোগ্য (ও) নিঃসহায় হয়ে পড়বে।

وَقَضٰی رَبُّکَ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّاۤ اِیَّاہُ وَبِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا ؕ اِمَّا یَبۡلُغَنَّ عِنۡدَکَ الۡکِبَرَ اَحَدُہُمَاۤ اَوۡ کِلٰہُمَا فَلَا تَقُلۡ لَّہُمَاۤ اُفٍّ وَّلَا تَنۡہَرۡہُمَا وَقُلۡ لَّہُمَا قَوۡلًا کَرِیۡمًا

তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো, পিতা-মাতার কোনও একজন কিংবা উভয়ে যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে উফ্ পর্যন্ত বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো।

وَاخۡفِضۡ لَہُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحۡمَۃِ وَقُلۡ رَّبِّ ارۡحَمۡہُمَا کَمَا رَبَّیٰنِیۡ صَغِیۡرًا ؕ

এবং তাদের প্রতি মমতাপূর্ণ আচরণের সাথে তাদের সামনে নিজেকে বিনয়াবনত করো এবং দু‘আ করো, হে আমার প্রতিপালক! তারা যেভাবে আমার শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছে, তেমনি আপনিও তাদের প্রতি রহমতের আচরণ করুন।

رَبُّکُمۡ اَعۡلَمُ بِمَا فِیۡ نُفُوۡسِکُمۡ ؕ اِنۡ تَکُوۡنُوۡا صٰلِحِیۡنَ فَاِنَّہٗ کَانَ لِلۡاَوَّابِیۡنَ غَفُوۡرًا

তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের অন্তরে কি আছে তা ভালো জানেন। তোমরা যদি নেককার হয়ে যাও, তবে যারা বেশি বেশি তার দিকে রুজু হয় তিনি তাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করেন।

وَاٰتِ ذَا الۡقُرۡبٰی حَقَّہٗ وَالۡمِسۡکِیۡنَ وَابۡنَ السَّبِیۡلِ وَلَا تُبَذِّرۡ تَبۡذِیۡرًا

আত্মীয়-স্বজনকে তাদের হক আদায় করো এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও (তাদের হক প্রদান করো)। আর নিজেদের অর্থ-সম্পদ অপ্রয়োজনীয় কাজে উড়াবে না।

اِنَّ الۡمُبَذِّرِیۡنَ کَانُوۡۤا اِخۡوَانَ الشَّیٰطِیۡنِ ؕ وَکَانَ الشَّیۡطٰنُ لِرَبِّہٖ کَفُوۡرًا

জেনে রেখ, যারা অপ্রয়োজনীয় কাজে অর্থ উড়ায়, তারা শয়তানের ভাই। আর শয়তান নিজ প্রতিপালকের ঘোর অকৃতজ্ঞ।

وَاِمَّا تُعۡرِضَنَّ عَنۡہُمُ ابۡتِغَآءَ رَحۡمَۃٍ مِّنۡ رَّبِّکَ تَرۡجُوۡہَا فَقُلۡ لَّہُمۡ قَوۡلًا مَّیۡسُوۡرًا

যদি কখনও তাদের (অর্থাৎ আত্মীয়-স্বজন, অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরদের) থেকে এ কারণে তোমার মুখ ফেরানোর দরকার হয় যে, তুমি তোমার প্রতিপালকের রহমতের প্রত্যাশায় রয়েছ, তবে সে ক্ষেত্রেও তাদের সাথে নম্রতার সাথে কথা বলো।

وَلَا تَجۡعَلۡ یَدَکَ مَغۡلُوۡلَۃً اِلٰی عُنُقِکَ وَلَا تَبۡسُطۡہَا کُلَّ الۡبَسۡطِ فَتَقۡعُدَ مَلُوۡمًا مَّحۡسُوۡرًا

(কৃপণতাবশে) নিজের হাত ঘাড়ের সাথে বেঁধে রেখ না এবং (অপব্যয়ী হয়ে) তা সম্পূর্ণরূপে খুলে রেখ না, যদ্দরুণ তোমাকে নিন্দাযোগে ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়তে হবে।

اِنَّ رَبَّکَ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیَقۡدِرُ ؕ  اِنَّہٗ کَانَ بِعِبَادِہٖ خَبِیۡرًۢا بَصِیۡرًا ٪

বস্তুত তোমার প্রতিপালক যার জন্য ইচ্ছা করেন জীবিকা প্রশস্ত করে দেন এবং (যার জন্য ইচ্ছা) সংকুচিত করে দেন। জেনে রেখ, তিনি নিজ বান্দাদের অবস্থাদি সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তাদেরকে তিনি ভালোভাবে দেখছেন।

وَلَا تَقۡتُلُوۡۤا اَوۡلَادَکُمۡ خَشۡیَۃَ اِمۡلَاقٍ ؕ نَحۡنُ نَرۡزُقُہُمۡ وَاِیَّاکُمۡ ؕ اِنَّ قَتۡلَہُمۡ کَانَ خِطۡاً کَبِیۡرًا

দারিদ্র্যের ভয়ে নিজ সন্তানদেরকে হত্যা করো না। আমি তাদেরকেও রিযক দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয়ই তাদেরকে হত্যা করা গুরুতর অপরাধ।

وَلَا تَقۡرَبُوا الزِّنٰۤی اِنَّہٗ کَانَ فَاحِشَۃً ؕ وَسَآءَ سَبِیۡلًا

এবং ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীলতা ও বিপথগামিতা।

وَلَا تَقۡتُلُوا النَّفۡسَ الَّتِیۡ حَرَّمَ اللّٰہُ اِلَّا بِالۡحَقِّ ؕ وَمَنۡ قُتِلَ مَظۡلُوۡمًا فَقَدۡ جَعَلۡنَا لِوَلِیِّہٖ سُلۡطٰنًا فَلَا یُسۡرِفۡ فِّی الۡقَتۡلِ ؕ اِنَّہٗ کَانَ مَنۡصُوۡرًا

আল্লাহ যেই প্রাণকে মর্যাদা দান করেছেন তাকে হত্যা করো না, তবে (শরীয়ত অনুযায়ী) তোমরা তার অধিকার লাভ করলে ভিন্ন কথা। যাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়,আমি তার অলিকে (কিসাস গ্রহণের) অধিকার দিয়েছি। সুতরাং সে যেন হত্যাকার্যে সীমালংঘন না করে। নিশ্চয়ই সে এর উপযুক্ত যে, তার সাহায্য করা হবে।

وَلَا تَقۡرَبُوۡا مَالَ الۡیَتِیۡمِ اِلَّا بِالَّتِیۡ ہِیَ اَحۡسَنُ حَتّٰی یَبۡلُغَ اَشُدَّہٗ ۪ وَاَوۡفُوۡا بِالۡعَہۡدِ ۚ اِنَّ الۡعَہۡدَ کَانَ مَسۡـُٔوۡلًا

এবং ইয়াতীম যতক্ষণ না পরিপক্কতায় উপনীত হয়, তার সম্পদের কাছেও যেও না, তবে এমন পন্থায় যা (তার পক্ষে) উত্তম। আর অঙ্গীকার পূরণ করো। নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে (তোমাদের) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

وَاَوۡفُوا الۡکَیۡلَ اِذَا کِلۡتُمۡ وَزِنُوۡا بِالۡقِسۡطَاسِ الۡمُسۡتَقِیۡمِ ؕ ذٰلِکَ خَیۡرٌ وَّاَحۡسَنُ تَاۡوِیۡلًا

যখন পরিমাপ পাত্র দ্বারা কাউকে কোন জিনিস মেপে দাও, তখন পরিপূর্ণ মাপে দিও আর ওজন করার জন্য সঠিক দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করো। এ পন্থাই সঠিক এবং এরই পরিণাম উৎকৃষ্ট।

وَلَا تَقۡفُ مَا لَیۡسَ لَکَ بِہٖ عِلۡمٌ ؕ اِنَّ السَّمۡعَ وَالۡبَصَرَ وَالۡفُؤَادَ کُلُّ اُولٰٓئِکَ کَانَ عَنۡہُ مَسۡـُٔوۡلًا

যে বিষয়ে তোমার নিশ্চিত জ্ঞান নেই (তাকে সত্য মনে করে) তার পিছনে পড়ো না। জেনে রেখ, কান, চোখ ও অন্তর এর প্রতিটি সম্পর্কে (তোমাদেরকে) জিজ্ঞেস করা হবে।

وَلَا تَمۡشِ فِی الۡاَرۡضِ مَرَحًا ۚ اِنَّکَ لَنۡ تَخۡرِقَ الۡاَرۡضَ وَلَنۡ تَبۡلُغَ الۡجِبَالَ طُوۡلًا

ভূপৃষ্ঠে দম্ভভরে চলো না। তুমি তো ভূমিকে ফাটিয়ে ফেলতে পারবে না এবং উচ্চতায় পাহাড় পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না।

کُلُّ ذٰلِکَ کَانَ سَیِّئُہٗ عِنۡدَ رَبِّکَ مَکۡرُوۡہًا

এ সবই এমন মন্দ কাজ, যা তোমার প্রতিপালকের কাছে ঘৃণ্য।

ذٰلِکَ مِمَّاۤ اَوۡحٰۤی اِلَیۡکَ رَبُّکَ مِنَ الۡحِکۡمَۃِ ؕ وَلَا تَجۡعَلۡ مَعَ اللّٰہِ اِلٰـہًا اٰخَرَ فَتُلۡقٰی فِیۡ جَہَنَّمَ مَلُوۡمًا مَّدۡحُوۡرًا

(হে নবী!) এগুলো এমন হিকমতের কথা, যা তোমার প্রতিপালক ওহীর মাধ্যমে তোমার কাছে পৌঁছিয়েছেন এবং (হে মানুষ!) আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে মাবুদ বানিও না, অন্যথায় তুমি নিন্দিত ও ধিকৃত হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

اَفَاَصۡفٰىکُمۡ رَبُّکُمۡ بِالۡبَنِیۡنَ وَاتَّخَذَ مِنَ الۡمَلٰٓئِکَۃِ اِنَاثًا ؕ  اِنَّکُمۡ لَتَقُوۡلُوۡنَ قَوۡلًا عَظِیۡمًا ٪

তোমাদের প্রতিপালক পুত্র সন্তান দেওয়ার জন্য তোমাদেরকে বেছে নিয়েছেন আর নিজের জন্য বুঝি ফেরেশতাদেরকে কন্যারূপে গ্রহণ করেছেন? প্রকৃতপক্ষে তোমরা বড় গুরুতর কথা বলছ।

وَلَقَدۡ صَرَّفۡنَا فِیۡ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنِ لِیَذَّکَّرُوۡا ؕ وَمَا یَزِیۡدُہُمۡ اِلَّا نُفُوۡرًا

আমি এ কুরআনে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যাদান করেছি, যাতে মানুষ সচেতন হয়, কিন্তু এতে তাদের পলায়নপরতাই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

قُلۡ لَّوۡ کَانَ مَعَہٗۤ اٰلِـہَۃٌ کَمَا یَقُوۡلُوۡنَ اِذًا لَّابۡتَغَوۡا اِلٰی ذِی الۡعَرۡشِ سَبِیۡلًا

বলে দাও, আল্লাহর সঙ্গে যদি আরও ইলাহ থাকত, যেমন তোমরা বলছ তবে তারা আরশ-অধিপতি (প্রকৃত ইলাহের)-এর উপর প্রভাব বিস্তারের কোন পথ খুঁজত।

سُبۡحٰنَہٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یَقُوۡلُوۡنَ عُلُوًّا کَبِیۡرًا

বস্তুত তারা যেসব কথা বলে, তাঁর সত্তা তা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও সমুচ্চ।

تُسَبِّحُ لَہُ السَّمٰوٰتُ السَّبۡعُ وَالۡاَرۡضُ وَمَنۡ فِیۡہِنَّ ؕ وَاِنۡ مِّنۡ شَیۡءٍ اِلَّا یُسَبِّحُ بِحَمۡدِہٖ وَلٰکِنۡ لَّا تَفۡقَہُوۡنَ تَسۡبِیۡحَہُمۡ ؕ اِنَّہٗ کَانَ حَلِیۡمًا غَفُوۡرًا

সাত আসমান ও যমীন এবং এদের অন্তর্ভুক্ত সমস্ত সৃষ্টি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করে, এমন কোন জিনিস নেই, যা তাঁর সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ করে না। কিন্তু তোমরা তাদের তাসবীহ বুঝতে পার না। বস্তুত তিনি পরম সহিষ্ণু, অতি ক্ষমাশীল।

وَاِذَا قَرَاۡتَ الۡقُرۡاٰنَ جَعَلۡنَا بَیۡنَکَ وَبَیۡنَ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ حِجَابًا مَّسۡتُوۡرًا ۙ

(হে নবী!) তুমি যখন কুরআন পড়, তখন আমি তোমার এবং যারা আখেরাতে ঈমান রাখে না তাদের মধ্যে এক অদৃশ্য পর্দা রেখে দেই।

وَّجَعَلۡنَا عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ اَکِنَّۃً اَنۡ یَّفۡقَہُوۡہُ وَفِیۡۤ اٰذَانِہِمۡ وَقۡرًا ؕ وَاِذَا ذَکَرۡتَ رَبَّکَ فِی الۡقُرۡاٰنِ وَحۡدَہٗ وَلَّوۡا عَلٰۤی اَدۡبَارِہِمۡ نُفُوۡرًا

আর আমি তাদের অন্তরের উপর আচ্ছাদন রেখে দিয়েছি, যাতে তারা তা বুঝতে না পারে এবং তাদের কানে বধিরতা সৃষ্টি করে দেই। আর তুমি যখন কুরআনে তোমার একমাত্র প্রতিপালকের উল্লেখ কর, তখন তারা বিতৃষ্ণাভরে পিছন ফিরিয়ে চলে যায়।

نَحۡنُ اَعۡلَمُ بِمَا یَسۡتَمِعُوۡنَ بِہٖۤ اِذۡ یَسۡتَمِعُوۡنَ اِلَیۡکَ وَاِذۡ ہُمۡ نَجۡوٰۤی اِذۡ یَقُوۡلُ الظّٰلِمُوۡنَ اِنۡ تَتَّبِعُوۡنَ اِلَّا رَجُلًا مَّسۡحُوۡرًا

তারা যখন তোমার কথা কান পেতে শোনে, তখন কেন শোনে তা আমি ভালো করে জানি এবং যখন তারা পরস্পরে কানাকানি করে, যখন জালেমগণ (তাদের স্বগোত্রীয় মুসলিমদেরকে) বলে, তোমরা তো কেবল একজন যাদুগ্রস্ত লোকের অনুসরণ করছ (তখন তাদের সে কথাও আমি ভালোভাবে জানি)।

اُنۡظُرۡ کَیۡفَ ضَرَبُوۡا لَکَ الۡاَمۡثَالَ فَضَلُّوۡا فَلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ سَبِیۡلًا

লক্ষ্য কর, তারা তোমার প্রতি কেমন (পরিহাসমূলক) দৃষ্টান্ত আরোপ করছে। তারা পথ হারিয়েছে সুতরাং তারা আর পথে আসতে পারবে না।

وَقَالُوۡۤا ءَاِذَا کُنَّا عِظَامًا وَّرُفَاتًا ءَاِنَّا لَمَبۡعُوۡثُوۡنَ خَلۡقًا جَدِیۡدًا

তারা বলে, আমরা যখন অস্থিতে পরিণত হব এবং চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাব, তারপরও কি আমরা নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হব?

قُلۡ کُوۡنُوۡا حِجَارَۃً اَوۡ حَدِیۡدًا ۙ

বলে দাও, তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে যাও!

اَوۡ خَلۡقًا مِّمَّا یَکۡبُرُ فِیۡ صُدُوۡرِکُمۡ ۚ فَسَیَقُوۡلُوۡنَ مَنۡ یُّعِیۡدُنَا ؕ قُلِ الَّذِیۡ فَطَرَکُمۡ اَوَّلَ مَرَّۃٍ ۚ فَسَیُنۡغِضُوۡنَ اِلَیۡکَ رُءُوۡسَہُمۡ وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہُوَ ؕ قُلۡ عَسٰۤی اَنۡ یَّکُوۡنَ قَرِیۡبًا

অথবা এমন কোন সৃষ্টি হয়ে যাও, যে সম্পর্কে তোমাদের মনের ভাবনা হল যে, তা (জীবিত করা) আরও কঠিন। (তবুও তোমাদেরকে ঠিকই জীবিত করা হবে)। অতঃপর তারা বলবে, কে আমাদেরকে পুনরায় জীবিত করবে? বলে দিও, তিনিই জীবিত করবেন, যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন। তারপর তারা তোমাদের সামনে মাথা নেড়ে-নেড়ে বলবে, এরূপ কখন হবে? বলে দিও, সম্ভবত সে সময়টি কাছেই এসে গেছে।

یَوۡمَ یَدۡعُوۡکُمۡ فَتَسۡتَجِیۡبُوۡنَ بِحَمۡدِہٖ وَتَظُنُّوۡنَ اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا قَلِیۡلًا ٪

যে দিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, তোমরা তাঁর প্রশংসারত হয়ে তাঁর হুকুম পালন করবে এবং তোমাদের মনে হবে (দুনিয়ায়) তোমরা অল্প কিছুকালই অবস্থান করেছিলে।

وَقُلۡ لِّعِبَادِیۡ یَقُوۡلُوا الَّتِیۡ ہِیَ اَحۡسَنُ ؕ اِنَّ الشَّیۡطٰنَ یَنۡزَغُ بَیۡنَہُمۡ ؕ اِنَّ الشَّیۡطٰنَ کَانَ لِلۡاِنۡسَانِ عَدُوًّا مُّبِیۡنًا

আমার (মুমিন) বান্দাদের বলে দাও, তারা যেন এমন কথাই বলে, যা উত্তম। নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টি করে। নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।

رَبُّکُمۡ اَعۡلَمُ بِکُمۡ ؕ اِنۡ یَّشَاۡ یَرۡحَمۡکُمۡ اَوۡ اِنۡ یَّشَاۡ یُعَذِّبۡکُمۡ ؕ وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ عَلَیۡہِمۡ وَکِیۡلًا

তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে ভালোভাবেই জানেন। তিনি চাইলে তোমাদের প্রতি দয়া করেন এবং চাইলে তোমাদেরকে শাস্তি দেন। (হে নবী!) আমি তোমাকে তাদের কাজকর্মের যিম্মাদার বানিয়ে পাঠাইনি।

وَرَبُّکَ اَعۡلَمُ بِمَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَلَقَدۡ فَضَّلۡنَا بَعۡضَ النَّبِیّٖنَ عَلٰی بَعۡضٍ وَّاٰتَیۡنَا دَاوٗدَ زَبُوۡرًا

যারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আছে, তোমার প্রতিপালক তাদেরকে ভালোভাবে জানেন। আমি কতক নবীকে কতক নবীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। আর আমি দাঊদকে যাবূর দিয়েছিলাম।

قُلِ ادۡعُوا الَّذِیۡنَ زَعَمۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ فَلَا یَمۡلِکُوۡنَ کَشۡفَ الضُّرِّ عَنۡکُمۡ وَلَا تَحۡوِیۡلًا

(যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য মাবুদ মানে, তাদেরকে) বলে দাও, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে মাবুদ মনে করেছ, তাদেরকে ডাক দিয়ে দেখ। তারা তোমাদের কোন কষ্ট দূর করতে পারবে না এবং তা পরিবর্তনও করতে পারবে না।

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ یَبۡتَغُوۡنَ اِلٰی رَبِّہِمُ الۡوَسِیۡلَۃَ اَیُّہُمۡ اَقۡرَبُ وَیَرۡجُوۡنَ رَحۡمَتَہٗ وَیَخَافُوۡنَ عَذَابَہٗ ؕ اِنَّ عَذَابَ رَبِّکَ کَانَ مَحۡذُوۡرًا

তারা যাদেরকে ডাকে, তারা নিজেরাই তো এই লক্ষে তাদের প্রতিপালক পর্যন্ত পৌঁছার অছিলা সন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে আল্লাহর বেশি নিকটবর্তী হতে পারে এবং তারা তাঁর রহমতের আশা করে ও তাঁর আযাবকে ভয় করে। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকের আযাব এমন, যাকে ভয় করাই উচিত।

وَاِنۡ مِّنۡ قَرۡیَۃٍ اِلَّا نَحۡنُ مُہۡلِکُوۡہَا قَبۡلَ یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ اَوۡ مُعَذِّبُوۡہَا عَذَابًا شَدِیۡدًا ؕ کَانَ ذٰلِکَ فِی الۡکِتٰبِ مَسۡطُوۡرًا

এমন কোন জনপদ নেই, যাকে আমি কিয়ামতের আগে ধ্বংস করব না অথবা তাকে অন্য কোন কঠিন শাস্তি দেব না। একথা (তাকদীরের) কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।

وَمَا مَنَعَنَاۤ اَنۡ نُّرۡسِلَ بِالۡاٰیٰتِ اِلَّاۤ اَنۡ کَذَّبَ بِہَا الۡاَوَّلُوۡنَ ؕ وَاٰتَیۡنَا ثَمُوۡدَ النَّاقَۃَ مُبۡصِرَۃً فَظَلَمُوۡا بِہَا ؕ وَمَا نُرۡسِلُ بِالۡاٰیٰتِ اِلَّا تَخۡوِیۡفًا

(কাফেরদের ফরমায়েশী নিদর্শন) পাঠানো হতে আমাকে কেবল এ বিষয়টাই বিরত রেখেছে যে, পূর্ববর্তীগণ এরূপ নিদর্শন (দেখার পরও তা) অস্বীকার করেছিল। আমি ছামুদ জাতিকে উষ্ট্রী দিয়েছিলাম, যা চোখ খোলার জন্য যথেষ্ট ছিল, কিন্তু তারা তার প্রতি জুলুম করেছিল। আমি নিদর্শন পাঠাই ভয় দেখানোরই জন্য।

وَاِذۡ قُلۡنَا لَکَ اِنَّ رَبَّکَ اَحَاطَ بِالنَّاسِ ؕ  وَمَا جَعَلۡنَا الرُّءۡیَا الَّتِیۡۤ اَرَیۡنٰکَ اِلَّا فِتۡنَۃً لِّلنَّاسِ وَالشَّجَرَۃَ الۡمَلۡعُوۡنَۃَ فِی الۡقُرۡاٰنِ ؕ  وَنُخَوِّفُہُمۡ ۙ  فَمَا یَزِیۡدُہُمۡ اِلَّا طُغۡیَانًا کَبِیۡرًا ٪

(হে নবী!) সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন আমি বলেছিলাম, তোমার প্রতিপালক (নিজ জ্ঞান দ্বারা) সমস্ত মানুষকে পরিবেষ্টন করে আছেন। আর আমি তোমাকে যে দৃশ্য দেখিয়েছি, তাকে কাফেরদের জন্য কেবল পরীক্ষার বিষয়ই বানিয়েছি এবং কুরআনে বর্ণিত অভিশপ্ত বৃক্ষটিকেও। আমি তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছি, কিন্তু তাতে তাদের ঘোর অবাধ্যতাই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

وَاِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوۡۤا اِلَّاۤ اِبۡلِیۡسَ ؕ  قَالَ ءَاَسۡجُدُ لِمَنۡ خَلَقۡتَ طِیۡنًا ۚ

এবং সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, আদমকে সিজদা কর। তখন তারা সিজদা করল, কিন্তু ইবলীস করল না। সে বলল, আমি কি তাকে সিজদা করব, যাকে আপনি মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন?

قَالَ اَرَءَیۡتَکَ ہٰذَا الَّذِیۡ کَرَّمۡتَ عَلَیَّ ۫ لَئِنۡ اَخَّرۡتَنِ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ لَاَحۡتَنِکَنَّ ذُرِّیَّتَہٗۤ اِلَّا قَلِیۡلًا

সে বলতে লাগল, বলুন তো, এই কি সেই সৃষ্টি, যাকে আপনি আমার উপর মর্যাদা দান করেছেন! আপনি যদি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দেন, তবে আমি তার বংশধরদের মধ্যে অল্পসংখ্যক ছাড়া বাকি সকলের চোয়ালে লাগাম পরিয়ে দেব।

قَالَ اذۡہَبۡ فَمَنۡ تَبِعَکَ مِنۡہُمۡ فَاِنَّ جَہَنَّمَ جَزَآؤُکُمۡ جَزَآءً مَّوۡفُوۡرًا

আল্লাহ বললেন, যাও, তাদের মধ্যে যে-কেউ তোমার অনুগামী হবে, জাহান্নামই হবে তোমাদের সকলের শাস্তিপরিপূর্ণ শাস্তি।

وَاسۡتَفۡزِزۡ مَنِ اسۡتَطَعۡتَ مِنۡہُمۡ بِصَوۡتِکَ وَاَجۡلِبۡ عَلَیۡہِمۡ بِخَیۡلِکَ وَرَجِلِکَ وَشَارِکۡہُمۡ فِی الۡاَمۡوَالِ وَالۡاَوۡلَادِ وَعِدۡہُمۡ ؕ وَمَا یَعِدُہُمُ الشَّیۡطٰنُ اِلَّا غُرُوۡرًا

তাদের মধ্যে যার উপর তোমার ক্ষমতা চলে নিজ ডাক দ্বারা বিভ্রান্ত কর, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দ্বারা তাদের উপর চড়াও হও, তাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হয়ে যাও এবং তাদেরকে যত পার প্রতিশ্রুতি দাও। বস্তুত শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়।

اِنَّ عِبَادِیۡ لَیۡسَ لَکَ عَلَیۡہِمۡ سُلۡطٰنٌ ؕ وَکَفٰی بِرَبِّکَ وَکِیۡلًا

নিশ্চয়ই আমার যারা বান্দা, তাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা চলবে না। (তাদের) রক্ষকরূপে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।

رَبُّکُمُ الَّذِیۡ یُزۡجِیۡ لَکُمُ الۡفُلۡکَ فِی الۡبَحۡرِ لِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِہٖ ؕ اِنَّہٗ کَانَ بِکُمۡ رَحِیۡمًا

তিনিই তোমাদের প্রতিপালক, যিনি সাগরে তোমাদের জন্য নৌযান চালান, যাতে তোমরা তার অনুগ্রহ সন্ধান কর। তিনি তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।

وَاِذَا مَسَّکُمُ الضُّرُّ فِی الۡبَحۡرِ ضَلَّ مَنۡ تَدۡعُوۡنَ اِلَّاۤ اِیَّاہُ ۚ فَلَمَّا نَجّٰىکُمۡ اِلَی الۡبَرِّ اَعۡرَضۡتُمۡ ؕ وَکَانَ الۡاِنۡسَانُ کَفُوۡرًا

সাগরে যখন তোমাদের কোন বিপদ দেখা দেয়, তখন তোমরা যাদেরকে (অর্থাৎ যেই দেবতাদেরকে) ডাক তারা অন্তর্হিত হয়ে যায়, সঙ্গে থাকেন কেবল আল্লাহ। তিনি যখন তোমাদেরকে উদ্ধার করে স্থলে পৌঁছিয়ে দেন, অমনি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও। মানুষ ঘোর অকৃতজ্ঞ।

اَفَاَمِنۡتُمۡ اَنۡ یَّخۡسِفَ بِکُمۡ جَانِبَ الۡبَرِّ اَوۡ یُرۡسِلَ عَلَیۡکُمۡ حَاصِبًا ثُمَّ لَا تَجِدُوۡا لَکُمۡ وَکِیۡلًا ۙ

তবে কি তোমরা এর থেকে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আল্লাহ স্থলেরই কোথাও তোমাদেরকে ধসিয়ে দিতে পারেন অথবা তোমাদের প্রতি পাথরবর্ষী ঝড় পাঠাতে পারেন, তখন আর তোমরা নিজেদের কোন রক্ষাকর্তা পাবে না?

اَمۡ اَمِنۡتُمۡ اَنۡ یُّعِیۡدَکُمۡ فِیۡہِ تَارَۃً اُخۡرٰی فَیُرۡسِلَ عَلَیۡکُمۡ قَاصِفًا مِّنَ الرِّیۡحِ فَیُغۡرِقَکُمۡ بِمَا کَفَرۡتُمۡ ۙ ثُمَّ لَا تَجِدُوۡا لَکُمۡ عَلَیۡنَا بِہٖ تَبِیۡعًا

না কি তোমরা এর থেকেও নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, তিনি তোমাদেরকে আবার তাতেই (অর্থাৎ সাগরে) নিয়ে যেতে পারেন, তারপর তোমাদের প্রতি প্রবল ঝঞ্ঝাবায়ু পাঠিয়ে অকৃতজ্ঞতার শাস্তি-স্বরূপ তোমাদেরকে ডুবিয়ে দেবেন, যখন তোমরা এমন কাউকে পাবে না, যে এ ব্যাপারে আমার পিছনে লাগতে পারে।

وَلَقَدۡ کَرَّمۡنَا بَنِیۡۤ اٰدَمَ وَحَمَلۡنٰہُمۡ فِی الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ وَرَزَقۡنٰہُمۡ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ وَفَضَّلۡنٰہُمۡ عَلٰی کَثِیۡرٍ مِّمَّنۡ خَلَقۡنَا تَفۡضِیۡلًا ٪

বাস্তবিকপক্ষে আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং স্থলে ও জলে তাদের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করেছি, তাদেরকে উত্তম রিযক দান করেছি এবং আমার বহু মাখলুকের উপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।

یَوۡمَ نَدۡعُوۡا کُلَّ اُنَاسٍۭ بِاِمَامِہِمۡ ۚ فَمَنۡ اُوۡتِیَ کِتٰبَہٗ بِیَمِیۡنِہٖ فَاُولٰٓئِکَ یَقۡرَءُوۡنَ کِتٰبَہُمۡ وَلَا یُظۡلَمُوۡنَ فَتِیۡلًا

সেই দিনকে স্মরণ কর, যখন আমি সমস্ত মানুষকে তাদের আমলনামাসহ ডাকব। তারপর যাদেরকে তাদের আমলনামা দেওয়া হবে ডান হাতে, তারা তাদের আমলনামা পড়বে এবং তাদের প্রতি সুতা পরিমাণও জুলুম করা হবে না।

وَمَنۡ کَانَ فِیۡ ہٰذِہٖۤ اَعۡمٰی فَہُوَ فِی الۡاٰخِرَۃِ اَعۡمٰی وَاَضَلُّ سَبِیۡلًا

আর যে ব্যক্তি দুনিয়ায় অন্ধ হয়ে থেকেছে সে আখেরাতেও অন্ধ এবং অধিকতর পথভ্রষ্ট থাকবে।

وَاِنۡ کَادُوۡا لَیَفۡتِنُوۡنَکَ عَنِ الَّذِیۡۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ لِتَفۡتَرِیَ عَلَیۡنَا غَیۡرَہٗ ٭ۖ وَاِذًا لَّاتَّخَذُوۡکَ خَلِیۡلًا

(হে নবী!) আমি তোমার কাছে যে ওহী পাঠিয়েছি, কাফেরগণ তোমাকে তা থেকে বিচ্যুত করার উপক্রম করছিল, যাতে তুমি এর পরিবর্তে অন্য কোন কথা রচনা করে আমার নামে পেশ কর। সেক্ষেত্রে তারা তোমাকে অবশ্যই নিজেদের পরম বন্ধু বানিয়ে নিত।

وَلَوۡلَاۤ اَنۡ ثَبَّتۡنٰکَ لَقَدۡ کِدۡتَّ تَرۡکَنُ اِلَیۡہِمۡ شَیۡئًا قَلِیۡلًا ٭ۙ

আমি যদি তোমাকে অবিচলিত না রাখতাম, তবে তুমিও তাদের দিকে খানিকটা ঝুঁকে পড়ার উপক্রম করতে।

اِذًا لَّاَذَقۡنٰکَ ضِعۡفَ الۡحَیٰوۃِ وَضِعۡفَ الۡمَمَاتِ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَکَ عَلَیۡنَا نَصِیۡرًا

আর তা হলে আমি দুনিয়ায়ও তোমাকে দ্বিগুণ শাস্তি দিতাম এবং মৃত্যুর পরও দ্বিগুণ। অতঃপর আমার বিরুদ্ধে তুমি কোন সাহায্যকারী পেতে না।

وَاِنۡ کَادُوۡا لَیَسۡتَفِزُّوۡنَکَ مِنَ الۡاَرۡضِ لِیُخۡرِجُوۡکَ مِنۡہَا وَاِذًا لَّا یَلۡبَثُوۡنَ خِلٰفَکَ اِلَّا قَلِیۡلًا

তাছাড়া তারা এই ভূমি (মক্কা) থেকে তোমাদেরকে উচ্ছেদ করার ফিকিরে আছে, যাতে তোমাদেরকে এখান থেকে বের করে দিতে পারে। আর সে রকম হলে তোমার পর তারাও এখানে বেশি দিন থাকতে পারবে না।

سُنَّۃَ مَنۡ قَدۡ اَرۡسَلۡنَا قَبۡلَکَ مِنۡ رُّسُلِنَا وَلَا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحۡوِیۡلًا ٪

এটা আমার নিয়ম, যা আমি তোমার পূর্বে আমার যে রাসূলগণকে পাঠিয়েছিলাম, তাদের ক্ষেত্রে অবলম্বন করেছিলাম। তুমি আমার নিয়মে কোন পরিবর্তন পাবে না।

اَقِمِ الصَّلٰوۃَ لِدُلُوۡکِ الشَّمۡسِ اِلٰی غَسَقِ الَّیۡلِ وَقُرۡاٰنَ الۡفَجۡرِ ؕ اِنَّ قُرۡاٰنَ الۡفَجۡرِ کَانَ مَشۡہُوۡدًا

(হে নবী!) সূর্য হেলার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম কর এবং ফজরের সময় কুরআন পাঠে যত্নবান থাক। স্মরণ রেখ, ফজরের তিলাওয়াতে ঘটে থাকে সমাবেশ।

وَمِنَ الَّیۡلِ فَتَہَجَّدۡ بِہٖ نَافِلَۃً لَّکَ ٭ۖ عَسٰۤی اَنۡ یَّبۡعَثَکَ رَبُّکَ مَقَامًا مَّحۡمُوۡدًا

রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়বে, যা তোমার জন্য এক অতিরিক্ত ইবাদত। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে ‘মাকামে মাহমুদ’-এ পৌঁছাবেন।

وَقُلۡ رَّبِّ اَدۡخِلۡنِیۡ مُدۡخَلَ صِدۡقٍ وَّاَخۡرِجۡنِیۡ مُخۡرَجَ صِدۡقٍ وَّاجۡعَلۡ لِّیۡ مِنۡ لَّدُنۡکَ سُلۡطٰنًا نَّصِیۡرًا

এবং দু‘আ কর ‘হে প্রতিপালক! আমাকে যেখানে প্রবেশ করাবে, কল্যাণের সাথে প্রবেশ করিও এবং যেখান থেকে বের করবে কল্যাণের সাথে বের করো এবং আমাকে তোমার নিকট থেকে বিশেষভাবে এমন ক্ষমতা দান করো, যার সাথে (তোমার) সাহায্য থাকবে।

وَقُلۡ جَآءَ الۡحَقُّ وَزَہَقَ الۡبَاطِلُ ؕ اِنَّ الۡبَاطِلَ کَانَ زَہُوۡقًا

এবং বল, সত্য এসে গেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, নিশ্চয়ই মিথ্যা এমন জিনিস, যা বিলুপ্ত হওয়ারই।

وَنُنَزِّلُ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ مَا ہُوَ شِفَآءٌ وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۙ وَلَا یَزِیۡدُ الظّٰلِمِیۡنَ اِلَّا خَسَارًا

আমি নাযিল করছি এমন কুরআন, যা মুমিনদের পক্ষে শেফা ও রহমত। তবে জালেমদের ক্ষেত্রে এর দ্বারা ক্ষতি ছাড়া অন্য কিছু বৃদ্ধি হয় না।

وَاِذَاۤ اَنۡعَمۡنَا عَلَی الۡاِنۡسَانِ اَعۡرَضَ وَنَاٰ بِجَانِبِہٖ ۚ وَاِذَا مَسَّہُ الشَّرُّ کَانَ یَــُٔوۡسًا

আমি মানুষকে যখন কোন নি‘আমত দেই, তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও পাশ কাটিয়ে যায়। আর যদি কোন অনিষ্ট তাকে স্পর্শ করে তবে সে সম্পূর্ণ হতাশ হয়ে পড়ে।

قُلۡ کُلٌّ یَّعۡمَلُ عَلٰی شَاکِلَتِہٖ ؕ  فَرَبُّکُمۡ اَعۡلَمُ بِمَنۡ ہُوَ اَہۡدٰی سَبِیۡلًا ٪

বলে দাও, প্রত্যেকে নিজ-নিজ পন্থায় কাজ করছে, কে বেশি সঠিক পথে তা তোমার প্রতিপালকই ভালো জানেন।

وَیَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ الرُّوۡحِ ؕ قُلِ الرُّوۡحُ مِنۡ اَمۡرِ رَبِّیۡ وَمَاۤ اُوۡتِیۡتُمۡ مِّنَ الۡعِلۡمِ اِلَّا قَلِیۡلًا

(হে নবী!) তারা তোমাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, রূহ আমার প্রতিপালকের হুকুমঘটিত। তোমাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে সামান্যমাত্র।

وَلَئِنۡ شِئۡنَا لَنَذۡہَبَنَّ بِالَّذِیۡۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَکَ بِہٖ عَلَیۡنَا وَکِیۡلًا ۙ

আমি ইচ্ছা করলে তোমার কাছে যে ওহী পাঠিয়েছি, তা সবই প্রত্যাহার করতে পারতাম, তারপর তুমি তা ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে কোন সাহায্যকারীও পেতে না।

اِلَّا رَحۡمَۃً مِّنۡ رَّبِّکَ ؕ اِنَّ فَضۡلَہٗ کَانَ عَلَیۡکَ کَبِیۡرًا

কিন্তু তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে এটা এক রহমত (যে, ওহীর ধারা চালু আছে)। বস্তুত তোমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ সুবিপুল।

قُلۡ لَّئِنِ اجۡتَمَعَتِ الۡاِنۡسُ وَالۡجِنُّ عَلٰۤی اَنۡ یَّاۡتُوۡا بِمِثۡلِ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنِ لَا یَاۡتُوۡنَ بِمِثۡلِہٖ وَلَوۡ کَانَ بَعۡضُہُمۡ لِبَعۡضٍ ظَہِیۡرًا

বলে দাও, এই কুরআনের মত বাণী তৈরি করে আনার জন্য যদি সমস্ত মানুষ ও জিন একত্র হয়ে যায়, তবুও তারা এ রকম কিছু আনতে পারবে না, তাতে তারা একে অন্যের যতই সাহায্য করুক।

وَلَقَدۡ صَرَّفۡنَا لِلنَّاسِ فِیۡ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنِ مِنۡ کُلِّ مَثَلٍ ۫ فَاَبٰۤی اَکۡثَرُ النَّاسِ اِلَّا کُفُوۡرًا

আমি মানুষের কল্যাণার্থে এ কুরআনে সর্বপ্রকার শিক্ষণীয় বিষয় নানাভাবে বর্ণনা করেছি, তা সত্ত্বেও অধিকাংশ লোক অস্বীকৃতি ছাড়া অন্য কিছুতে রাজি নয়।

وَقَالُوۡا لَنۡ نُّؤۡمِنَ لَکَ حَتّٰی تَفۡجُرَ لَنَا مِنَ الۡاَرۡضِ یَنۡۢبُوۡعًا ۙ

তারা বলে, আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার প্রতি ঈমান আনব না, যতক্ষণ না তুমি ভূমি থেকে আমাদের জন্য এক প্রস্রবণ বের করে দেবে।

اَوۡ تَکُوۡنَ لَکَ جَنَّۃٌ مِّنۡ نَّخِیۡلٍ وَّعِنَبٍ فَتُفَجِّرَ الۡاَنۡہٰرَ خِلٰلَہَا تَفۡجِیۡرًا ۙ

অথবা তোমার জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের একটি বাগান হয়ে যাবে এবং তুমি তার ফাঁকে-ফাঁকে মাটি ফেড়ে নদী-নালা প্রবাহিত করে দেবে।

اَوۡ تُسۡقِطَ السَّمَآءَ کَمَا زَعَمۡتَ عَلَیۡنَا کِسَفًا اَوۡ تَاۡتِیَ بِاللّٰہِ وَالۡمَلٰٓئِکَۃِ قَبِیۡلًا ۙ

অথবা তুমি যেমন দাবী করে থাক, আকাশকে খণ্ড-বিখণ্ড করে আমাদের উপর ফেলে দেবে কিংবা আল্লাহ ও ফিরিশতাগণকে আমাদের সামনা-সামনি নিয়ে আসবে।

اَوۡ یَکُوۡنَ لَکَ بَیۡتٌ مِّنۡ زُخۡرُفٍ اَوۡ تَرۡقٰی فِی السَّمَآءِ ؕ  وَلَنۡ نُّؤۡمِنَ لِرُقِیِّکَ حَتّٰی تُنَزِّلَ عَلَیۡنَا کِتٰبًا نَّقۡرَؤُہٗ ؕ  قُلۡ سُبۡحَانَ رَبِّیۡ ہَلۡ کُنۡتُ اِلَّا بَشَرًا رَّسُوۡلًا ٪

অথবা তোমার জন্য একটি সোনার ঘর হয়ে যাবে অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে, কিন্তু আমরা তোমার আকাশে আরোহণকেও ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না তুমি আমাদের প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করবে, যা আমরা পড়তে পারব। (হে নবী!) বলে দাও, আমার প্রতিপালক পবিত্র। আমি তো একজন মানুষ মাত্র, যাকে রাসূল করে পাঠানো হয়েছে।

وَمَا مَنَعَ النَّاسَ اَنۡ یُّؤۡمِنُوۡۤا اِذۡ جَآءَہُمُ الۡہُدٰۤی اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوۡۤا اَبَعَثَ اللّٰہُ بَشَرًا رَّسُوۡلًا

যখন তাদের কাছে হিদায়াতের বার্তা আসল তখন তাদেরকে কেবল এ বিষয়টাই ঈমান আনতে বাধা দিয়েছিল যে, তারা বলত, আল্লাহ কি একজন মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন?

قُلۡ لَّوۡ کَانَ فِی الۡاَرۡضِ مَلٰٓئِکَۃٌ یَّمۡشُوۡنَ مُطۡمَئِنِّیۡنَ لَنَزَّلۡنَا عَلَیۡہِمۡ مِّنَ السَّمَآءِ مَلَکًا رَّسُوۡلًا

বলে দাও, পৃথিবীতে যদি ফিরিশতাগণ নিশ্চিন্তে বিচরণ করত, তবে আমি নিশ্চয়ই কোন ফিরিশতাকে তাদের কাছে রাসূল করে পাঠাতাম।

قُلۡ کَفٰی بِاللّٰہِ شَہِیۡدًۢا بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکُمۡ ؕ اِنَّہٗ کَانَ بِعِبَادِہٖ خَبِیۡرًۢا بَصِیۡرًا

বল, আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হওয়ার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নিশ্চয়ই তিনি নিজ বান্দাদের সম্পর্কে পরিপূর্ণরূপে অবগত, তিনি সবকিছু দেখছেন।

وَمَنۡ یَّہۡدِ اللّٰہُ فَہُوَ الۡمُہۡتَدِ ۚ وَمَنۡ یُّضۡلِلۡ فَلَنۡ تَجِدَ لَہُمۡ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِہٖ ؕ وَنَحۡشُرُہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ عَلٰی وُجُوۡہِہِمۡ عُمۡیًا وَّبُکۡمًا وَّصُمًّا ؕ مَاۡوٰىہُمۡ جَہَنَّمُ ؕ کُلَّمَا خَبَتۡ زِدۡنٰہُمۡ سَعِیۡرًا

আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন সেই সঠিক পথপ্রাপ্ত হয়ে থাকে। আর যাকে তিনি বিপথগামী করেন, তার জন্য তুমি কিছুতেই তাকে ছাড়া অন্য কোন সাহায্যকারী পাবে না। কিয়ামতের দিন তাদেরকে অন্ধ, বোবা ও বধিররূপে মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায় সমবেত করব। তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। যখনই তার আগুন স্তিমিত হতে শুরু করবে অমনি আমি তা আরও বেশি উত্তপ্ত করে দেব।

ذٰلِکَ جَزَآؤُہُمۡ بِاَنَّہُمۡ کَفَرُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَقَالُوۡۤا ءَاِذَا کُنَّا عِظَامًا وَّرُفَاتًا ءَاِنَّا لَمَبۡعُوۡثُوۡنَ خَلۡقًا جَدِیۡدًا

এটাই তাদের শাস্তি। কেননা তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিল এবং বলেছিল, আমরা যখন (মরে) অস্থিতে পরিণত হব ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাব, তারপরও আমাদেরকে নতুনভাবে জীবিত করে ওঠানো হবে?

اَوَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّ اللّٰہَ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ قَادِرٌ عَلٰۤی اَنۡ یَّخۡلُقَ مِثۡلَہُمۡ وَجَعَلَ لَہُمۡ اَجَلًا لَّا رَیۡبَ فِیۡہِ ؕ فَاَبَی الظّٰلِمُوۡنَ اِلَّا کُفُوۡرًا

তারা কি বুঝতে পারল না যে, যেই আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের মত মানুষ পুনরায় সৃষ্টি করতেও সক্ষম? তিনি তাদের জন্য স্থির করে রেখেছেন এমন এক কাল, যার (আসার) মধ্যে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তথাপি জালেমগণ অস্বীকৃতি ছাড়া অন্য কিছুতে সম্মত নয়।

قُلۡ لَّوۡ اَنۡتُمۡ تَمۡلِکُوۡنَ خَزَآئِنَ رَحۡمَۃِ رَبِّیۡۤ اِذًا لَّاَمۡسَکۡتُمۡ خَشۡیَۃَ الۡاِنۡفَاقِ ؕ  وَکَانَ الۡاِنۡسَانُ قَتُوۡرًا ٪

(হে নবী! কাফেরদেরকে) বলে দাও, আমার প্রতিপালকের রহমতের ভাণ্ডার যদি তোমাদের এখতিয়ারাধীন থাকত, তবে খরচ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তোমরা অবশ্যই হাত বন্ধ করে রাখতে। মানুষ বড়ই সংকীর্ণমনা।

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسٰی تِسۡعَ اٰیٰتٍۭ بَیِّنٰتٍ فَسۡـَٔلۡ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اِذۡ جَآءَہُمۡ فَقَالَ لَہٗ فِرۡعَوۡنُ اِنِّیۡ لَاَظُنُّکَ یٰمُوۡسٰی مَسۡحُوۡرًا

আমি মূসাকে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছিলাম। বনী ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করে দেখ, সে যখন তাদের কাছে আসল, তখন ফির‘আউন তাকে বলেছিল, হে মূসা! তোমার সম্পর্কে তো আমার ধারণা কেউ তোমাকে যাদু করেছে।

قَالَ لَقَدۡ عَلِمۡتَ مَاۤ اَنۡزَلَ ہٰۤؤُلَآءِ اِلَّا رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ بَصَآئِرَ ۚ وَاِنِّیۡ لَاَظُنُّکَ یٰفِرۡعَوۡنُ مَثۡبُوۡرًا

মূসা বলল, তুমি ভালো করেই জান, এসব নিদর্শন অন্য কেউ নয়; বরং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালকই সুস্পষ্ট উপলব্ধি সৃষ্টির জন্য অবতীর্ণ করেছেন। আর হে ফির‘আউন! তোমার সম্পর্কে তো আমার ধারণা তোমার ধ্বংস আসন্ন।

فَاَرَادَ اَنۡ یَّسۡتَفِزَّہُمۡ مِّنَ الۡاَرۡضِ فَاَغۡرَقۡنٰہُ وَمَنۡ مَّعَہٗ جَمِیۡعًا ۙ

তারপর ফির‘আউন সংকল্প করেছিল, তাদেরকে (অর্থাৎ বনী ইসরাঈলকে) সে দেশ থেকে উচ্ছেদ করবে, কিন্তু আমি তাকে এবং সঙ্গীগণকে সকলকে নিমজ্জিত করলাম।

وَّقُلۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِہٖ لِبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اسۡکُنُوا الۡاَرۡضَ فَاِذَا جَآءَ وَعۡدُ الۡاٰخِرَۃِ جِئۡنَا بِکُمۡ لَفِیۡفًا ؕ

তারপর বনী ইসরাঈলকে বললাম, তোমরা ভূ-পৃষ্ঠে বসবাস কর, তারপর যখন আখেরাতের ওয়াদা পূরণের সময় এসে যাবে, তখন আমি তোমাদের সকলকে একত্র করে উপস্থিত করব।

وَبِالۡحَقِّ اَنۡزَلۡنٰہُ وَبِالۡحَقِّ نَزَلَ ؕ  وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا مُبَشِّرًا وَّنَذِیۡرًا ۘ

আমি এ কুরআনকে সত্যসহই নাযল করেছি এবং সত্যসহই এটা অবতীর্ণ হয়েছে। (হে নবী!) আমি তোমাকে কেবল একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপেই পাঠিয়েছি।

وَقُرۡاٰنًا فَرَقۡنٰہُ لِتَقۡرَاَہٗ عَلَی النَّاسِ عَلٰی مُکۡثٍ وَّنَزَّلۡنٰہُ تَنۡزِیۡلًا

আমি কুরআনকে আলাদা আলাদা অংশ করে দিয়েছি, যাতে তুমি তা মানুষের সামনে থেমে থেমে পড়তে পার আর আমি এটা নাযিল করেছি অল্প-অল্প করে।

قُلۡ اٰمِنُوۡا بِہٖۤ اَوۡ لَا تُؤۡمِنُوۡا ؕ  اِنَّ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ مِنۡ قَبۡلِہٖۤ اِذَا یُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ یَخِرُّوۡنَ لِلۡاَذۡقَانِ سُجَّدًا ۙ

(কাফেরদেরকে) বলে দাও, তোমরা এতে ঈমান আন বা নাই আন, যাদেরকে এর আগে জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল, তাদের সামনে যখন (কুরআন) পড়া হয় তখন তারা থুতনি ফেলে সিজদায় পড়ে যায়।

وَّیَقُوۡلُوۡنَ سُبۡحٰنَ رَبِّنَاۤ اِنۡ کَانَ وَعۡدُ رَبِّنَا لَمَفۡعُوۡلًا

এবং বলে, আমাদের প্রতিপালক পবিত্র, নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা বাস্তবায়িত হয়েই থাকে।

وَیَخِرُّوۡنَ لِلۡاَذۡقَانِ یَبۡکُوۡنَ وَیَزِیۡدُہُمۡ خُشُوۡعًا ٛ

এবং তারা কাঁদতে কাঁদতে থুতনির উপর লুটিয়ে পড়ে এবং এটা (অর্থাৎ কুরআন) তাদের অন্তরের বিনয় আরও বৃদ্ধি করে।

قُلِ ادۡعُوا اللّٰہَ اَوِ ادۡعُوا الرَّحۡمٰنَ ؕ اَیًّا مَّا تَدۡعُوۡا فَلَہُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰی ۚ وَلَا تَجۡہَرۡ بِصَلَاتِکَ وَلَا تُخَافِتۡ بِہَا وَابۡتَغِ بَیۡنَ ذٰلِکَ سَبِیۡلًا

বলে দাও, তোমরা আল্লাহকে ডাক বা রহমানকে ডাক, যে নামেই তোমরা (আল্লাহকে) ডাক, (একই কথা। কেননা) সমস্ত সুন্দর নাম তো তাঁরই। তুমি নিজের নামায বেশি উঁচু স্বরে পড়বে না এবং অতি নিচু স্বরেও নয়; বরং উভয়ের মাঝামাঝি পন্থা অবলম্বন করবে।

وَقُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ لَمۡ یَتَّخِذۡ وَلَدًا وَّلَمۡ یَکُنۡ لَّہٗ شَرِیۡکٌ فِی الۡمُلۡکِ وَلَمۡ یَکُنۡ لَّہٗ وَلِیٌّ مِّنَ الذُّلِّ وَکَبِّرۡہُ تَکۡبِیۡرًا ٪

বল, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর রাজত্বে কোন অংশীদার নেই এবং অক্ষমতা হতে রক্ষার জন্য তাঁর কোন অভিভাবকের প্রয়োজন নেই। তাঁর মহিমা বর্ণনা কর, ঠিক যেভাবে তাঁর মহিমা বর্ণনা করা উচিত।