السجدة
আস-সাজদা
Ayah ৩০ · Meccan · Para ২১
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
الٓـمّٓ ۚ
আলিফ-লাম-মীম।
تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ لَا رَیۡبَ فِیۡہِ مِنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ
এটি রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে অবতীর্ণ কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই।
اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰىہُ ۚ بَلۡ ہُوَ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکَ لِتُنۡذِرَ قَوۡمًا مَّاۤ اَتٰہُمۡ مِّنۡ نَّذِیۡرٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ لَعَلَّہُمۡ یَہۡتَدُوۡنَ
লোকে কি বলে নবী নিজে এটা রচনা করে নিয়েছে? না, (হে নবী!) এটা তো সত্য, যা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এসেছে, যাতে তুমি এর মাধ্যমে সতর্ক কর এমন এক সম্প্রদায়কে, যাদের কাছে তোমার আগে কোন সতর্ককারী আসেনি, যাতে তারা সঠিক পথে এসে যায়।
اَللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَا فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ ؕ مَا لَکُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ مِنۡ وَّلِیٍّ وَّلَا شَفِیۡعٍ ؕ اَفَلَا تَتَذَکَّرُوۡنَ
আল্লাহ সেই সত্তা, যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এর মধ্যবর্তী যাবতীয় বস্তু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি আরশে ‘ইসতিওয়া’ গ্রহণ করেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক নেই এবং নেই কোন সুপারিশকারী। তারপরও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
یُدَبِّرُ الۡاَمۡرَ مِنَ السَّمَآءِ اِلَی الۡاَرۡضِ ثُمَّ یَعۡرُجُ اِلَیۡہِ فِیۡ یَوۡمٍ کَانَ مِقۡدَارُہٗۤ اَلۡفَ سَنَۃٍ مِّمَّا تَعُدُّوۡنَ
আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত প্রতিটি কাজের ব্যবস্থাপনা তিনি নিজেই করেন। তারপর সে কাজ এমন এক দিনে তার কাছে উপরে পৌঁছে, তোমাদের গণনা অনুযায়ী যার পরিমাণ হাজার বছর।
ذٰلِکَ عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ۙ
তিনি গুপ্ত ও প্রকাশ্য বস্তুর জ্ঞাতা। তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
الَّذِیۡۤ اَحۡسَنَ کُلَّ شَیۡءٍ خَلَقَہٗ وَبَدَاَ خَلۡقَ الۡاِنۡسَانِ مِنۡ طِیۡنٍ ۚ
তিনি যেসব বস্তু সৃষ্টি করেছেন, তার প্রত্যেকটিকে করেছেন সুন্দর। আর মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন কাদা হতে।
ثُمَّ جَعَلَ نَسۡلَہٗ مِنۡ سُلٰلَۃٍ مِّنۡ مَّآءٍ مَّہِیۡنٍ ۚ
অতঃপর তার বংশধারা চালু করেছেন নিঃসারিত তুচ্ছ পানি থেকে।
ثُمَّ سَوّٰىہُ وَنَفَخَ فِیۡہِ مِنۡ رُّوۡحِہٖ وَجَعَلَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَۃَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَشۡکُرُوۡنَ
তারপর তাকে ঠিকঠাক করত তার ভেতর নিজ রূহ ফুঁকে দিয়েছেন এবং (হে মানুষ!) তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন কান, চোখ ও অন্তর। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
وَقَالُوۡۤا ءَاِذَا ضَلَلۡنَا فِی الۡاَرۡضِ ءَاِنَّا لَفِیۡ خَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ۬ؕ بَلۡ ہُمۡ بِلِقَآیِٔ رَبِّہِمۡ کٰفِرُوۡنَ
তারা বলে, আমরা যখন মাটিতে মিশে হারিয়ে যাব, তখনও কি আমরা এক নতুন জন্ম লাভ করব? প্রকৃতপক্ষে তারা তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে মিলিত হওয়াকে অস্বীকার করে।
قُلۡ یَتَوَفّٰىکُمۡ مَّلَکُ الۡمَوۡتِ الَّذِیۡ وُکِّلَ بِکُمۡ ثُمَّ اِلٰی رَبِّکُمۡ تُرۡجَعُوۡنَ ٪
বলে দাও, মৃত্যুর যে ফেরেশতাকে তোমাদের জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে, সে তোমাদেরকে পুরোপুরি উসুল করে নেবে। তারপর তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
وَلَوۡ تَرٰۤی اِذِ الۡمُجۡرِمُوۡنَ نَاکِسُوۡا رُءُوۡسِہِمۡ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ؕ رَبَّنَاۤ اَبۡصَرۡنَا وَسَمِعۡنَا فَارۡجِعۡنَا نَعۡمَلۡ صَالِحًا اِنَّا مُوۡقِنُوۡنَ
এবং হায়! তুমি যদি সেই দৃশ্য দেখতে, যখন অপরাধীরা নিজ প্রতিপালকের সামনে মাথা নুইয়ে (দাঁড়িয়ে) থাকবে (এবং বলবে!) হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা (এবার প্রকৃত বিষয়) দেখলাম ও শুনলাম। সুতরাং আমাদের পুনরায় (দুনিয়ায়) পাঠিয়ে দিন। তাহলে আমরা সৎকাজ করব। আমরা যথার্থ বিশ্বাসী হয়ে গিয়েছি।
وَلَوۡ شِئۡنَا لَاٰتَیۡنَا کُلَّ نَفۡسٍ ہُدٰىہَا وَلٰکِنۡ حَقَّ الۡقَوۡلُ مِنِّیۡ لَاَمۡلَـَٔنَّ جَہَنَّمَ مِنَ الۡجِنَّۃِ وَالنَّاسِ اَجۡمَعِیۡنَ
আমি চাইলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে (প্রথমেই) তার হেদায়াত দিয়ে দিতাম। কিন্তু আমার পক্ষ হতে কথা স্থিরীকৃত হয়ে গেছে যে, আমি জাহান্নামকে জিন ও মানব দ্বারা অবশ্যই ভরে ফেলব।
فَذُوۡقُوۡا بِمَا نَسِیۡتُمۡ لِقَآءَ یَوۡمِکُمۡ ہٰذَا ۚ اِنَّا نَسِیۡنٰکُمۡ وَذُوۡقُوۡا عَذَابَ الۡخُلۡدِ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ
এবার (জাহান্নামের) স্বাদ ভোগ কর, যেহেতু তোমরা তোমাদের এ দিনটি ভুলে গিয়েছিলে, আমিও তোমাদেরকে ভুলে গিয়েছি। তোমরা যা-কিছু করছিলে তার বিনিময়ে এখন স্থায়ী আযাবের স্বাদ ভোগ করতে থাক।
اِنَّمَا یُؤۡمِنُ بِاٰیٰتِنَا الَّذِیۡنَ اِذَا ذُکِّرُوۡا بِہَا خَرُّوۡا سُجَّدًا وَّسَبَّحُوۡا بِحَمۡدِ رَبِّہِمۡ وَہُمۡ لَا یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ ٛ
আমার আয়াতসমূহে তো ঈমান আনে কেবল তারা, যারা এর দ্বারা যখন উপদেশ প্রাপ্ত হয়, তখন সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং নিজ প্রতিপালকের সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ করে। আর তারা অহংকার করে না।
تَتَجَافٰی جُنُوۡبُہُمۡ عَنِ الۡمَضَاجِعِ یَدۡعُوۡنَ رَبَّہُمۡ خَوۡفًا وَّطَمَعًا ۫ وَّمِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ یُنۡفِقُوۡنَ
(রাতের বেলা) তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং তারা নিজ প্রতিপালককে ভয় ও আশার (মিশ্রিত অনুভূতির) সাথে ডাকে। আর আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে (সৎকাজে) ব্যয় করে।
فَلَا تَعۡلَمُ نَفۡسٌ مَّاۤ اُخۡفِیَ لَہُمۡ مِّنۡ قُرَّۃِ اَعۡیُنٍ ۚ جَزَآءًۢ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
সুতরাং কোন ব্যক্তি জানে না এরূপ লোকদের জন্য তাদের কর্মফল স্বরূপ চোখ জুড়ানোর কত কি উপকরণ লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
اَفَمَنۡ کَانَ مُؤۡمِنًا کَمَنۡ کَانَ فَاسِقًا ؕؔ لَا یَسۡتَوٗنَ
আচ্ছা বল তো, যে ব্যক্তি মুমিন, সে কি ওই ব্যক্তির মত হতে পারে, যে ফাসেক? (বলাবাহুল্য) তারা সমান হতে পারে না।
اَمَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَلَہُمۡ جَنّٰتُ الۡمَاۡوٰی ۫ نُزُلًۢا بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী বসবাসের উদ্যান, যা তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারে প্রাথমিক আতিথেয়তাস্বরূপ দেওয়া হবে।
وَاَمَّا الَّذِیۡنَ فَسَقُوۡا فَمَاۡوٰىہُمُ النَّارُ ؕ کُلَّمَاۤ اَرَادُوۡۤا اَنۡ یَّخۡرُجُوۡا مِنۡہَاۤ اُعِیۡدُوۡا فِیۡہَا وَقِیۡلَ لَہُمۡ ذُوۡقُوۡا عَذَابَ النَّارِ الَّذِیۡ کُنۡتُمۡ بِہٖ تُکَذِّبُوۡنَ
আর যারা অবাধ্যতা করেছে তাদের স্থায়ী আবাসন হল জাহান্নাম। যখনই তারা তা থেকে বের হতে চাবে, তাদেরকে তাতেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা আগুনের যে শাস্তিকে অস্বীকার করতে তার মজা ভোগ কর।
وَلَنُذِیۡقَنَّہُمۡ مِّنَ الۡعَذَابِ الۡاَدۡنٰی دُوۡنَ الۡعَذَابِ الۡاَکۡبَرِ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ
এবং সেই বড় শাস্তির আগে আমি তাদেরকে অবশ্যই লঘু শাস্তির স্বাদও গ্রহণ করাব। হয়ত তারা ফিরে আসবে।
وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنۡ ذُکِّرَ بِاٰیٰتِ رَبِّہٖ ثُمَّ اَعۡرَضَ عَنۡہَا ؕ اِنَّا مِنَ الۡمُجۡرِمِیۡنَ مُنۡتَقِمُوۡنَ ٪
সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালেম আর কে হতে পারে, যাকে তার প্রতিপালকের আয়াতসমূহ দ্বারা নসীহত করা হয়েছে আর সে তা হতে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমি অবশ্যই এরূপ জালেমদের থেকে বদলা নিয়ে ছাড়ব।
وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ فَلَا تَکُنۡ فِیۡ مِرۡیَۃٍ مِّنۡ لِّقَآئِہٖ وَجَعَلۡنٰہُ ہُدًی لِّبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ۚ
নিশ্চয়ই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম। সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তার সাক্ষাত সম্পর্কে কোন সন্দেহে থেকো না। আমি সে কিতাবকে বনী ইসরাঈলের জন্য বানিয়েছিলাম পথ-নির্দেশ।
وَجَعَلۡنَا مِنۡہُمۡ اَئِمَّۃً یَّہۡدُوۡنَ بِاَمۡرِنَا لَمَّا صَبَرُوۡا ۟ؕ وَکَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا یُوۡقِنُوۡنَ
আর আমি তাদের মধ্যে কিছু লোককে, যখন তারা সবর করল, এমন নেতা বানিয়ে দিলাম, যারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে পথ প্রদর্শন করত এবং তারা আমার আয়াতসমূহে গভীর বিশ্বাস রাখত।
اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ یَفۡصِلُ بَیۡنَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فِیۡمَا کَانُوۡا فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ
নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে সেই সব বিষয়ে মীমাংসা করে দেবেন, যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করছিল।
اَوَلَمۡ یَہۡدِ لَہُمۡ کَمۡ اَہۡلَکۡنَا مِنۡ قَبۡلِہِمۡ مِّنَ الۡقُرُوۡنِ یَمۡشُوۡنَ فِیۡ مَسٰکِنِہِمۡ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ ؕ اَفَلَا یَسۡمَعُوۡنَ
তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) কি কোন পথ-নির্দেশ লাভ করেনি এ বিষয় দ্বারা যে, তাদের পূর্বে আমি কত মানব গোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদের বাসভূমি দিয়ে তারা চলাফেরা করে থাকে? নিশ্চয়ই এর মধ্যে তাদের জন্য আছে বহু নিদর্শন। তবে কি তারা শোনে না?
اَوَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّا نَسُوۡقُ الۡمَآءَ اِلَی الۡاَرۡضِ الۡجُرُزِ فَنُخۡرِجُ بِہٖ زَرۡعًا تَاۡکُلُ مِنۡہُ اَنۡعَامُہُمۡ وَاَنۡفُسُہُمۡ ؕ اَفَلَا یُبۡصِرُوۡنَ ؓ
তারা কি দেখে না আমি উষর ভূমির দিকে পানি টেনে নিয়ে যাই তারপর তা দ্বারা উদগত করি শস্য, যা থেকে খায় তাদের গবাদি পশু এবং তারা নিজেরাও? তবে কি তারা কিছু উপলব্ধি করতে পারে না?
وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡفَتۡحُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ
তারা বলে, তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে (বল,) এ মীমাংসা কবে হবে?
قُلۡ یَوۡمَ الۡفَتۡحِ لَا یَنۡفَعُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِیۡمَانُہُمۡ وَلَا ہُمۡ یُنۡظَرُوۡنَ
বলে দাও, যে দিন মীমাংসা হবে, সে দিন অস্বীকারকারীর জন্য তাদের ঈমান আনয়ন কোন উপকারে আসবে না এবং তাদেরকে কোন অবকাশও দেওয়া হবে না।
فَاَعۡرِضۡ عَنۡہُمۡ وَانۡتَظِرۡ اِنَّہُمۡ مُّنۡتَظِرُوۡنَ ٪
সুতরাং (হে নবী!) তুমি তাদেরকে অগ্রাহ্য কর এবং অপেক্ষা কর। তারাও অপেক্ষমান রয়েছে।