ص
সাদ
Ayah ৮৮ · Meccan · Para ২৩
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
صٓ وَالۡقُرۡاٰنِ ذِی الذِّکۡرِ ؕ
সোয়াদ, কসম উপদেশপূর্ণ কুরআনের।
بَلِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فِیۡ عِزَّۃٍ وَّشِقَاقٍ
যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা কেবল (এ কারণেই তা অবলম্বন করেছে যে, তারা) আত্মম্ভরিতা ও হঠকারিতায় লিপ্ত রয়েছে।
کَمۡ اَہۡلَکۡنَا مِنۡ قَبۡلِہِمۡ مِّنۡ قَرۡنٍ فَنَادَوۡا وَّلَاتَ حِیۡنَ مَنَاصٍ
আমি তাদের পূর্বে কত মানব গোষ্ঠীকেই ধ্বংস করেছি! তখন তারা আর্তচিৎকার করেছিল, কিন্তু তখন তো মুক্তি পাওয়ার সময়ই ছিল না।
وَعَجِبُوۡۤا اَنۡ جَآءَہُمۡ مُّنۡذِرٌ مِّنۡہُمۡ ۫ وَقَالَ الۡکٰفِرُوۡنَ ہٰذَا سٰحِرٌ کَذَّابٌ ۖۚ
তারা (কুরাইশ কাফেরগণ) এ কারণে বিস্ময়বোধ করছে যে, তাদের কাছে একজন সতর্ককারী এসেছে তাদেরই মধ্য হতে! এবং কাফেরগণ বলে, সে মিথ্যাচারী যাদুকর।
اَجَعَلَ الۡاٰلِہَۃَ اِلٰـہًا وَّاحِدًا ۚۖ اِنَّ ہٰذَا لَشَیۡءٌ عُجَابٌ
সে কি সমস্ত মাবুদকে এক মাবুদে পরিণত করেছে? এটা তো বড় আজব কথা!
وَانۡطَلَقَ الۡمَلَاُ مِنۡہُمۡ اَنِ امۡشُوۡا وَاصۡبِرُوۡا عَلٰۤی اٰلِہَتِکُمۡ ۚۖ اِنَّ ہٰذَا لَشَیۡءٌ یُّرَادُ ۖۚ
তাদের মধ্যকার নেতৃবর্গ এই বলে সরে পড়ল যে, চল এবং তোমাদের উপাস্যদের পূজায় অবিচলিত থাক। নিশ্চয়ই এটা এক উদ্দেশ্যমূলক বিষয়।
مَا سَمِعۡنَا بِہٰذَا فِی الۡمِلَّۃِ الۡاٰخِرَۃِ ۚۖ اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا اخۡتِلَاقٌ ۖۚ
আমরা তো অন্য ধর্মে এরূপ কথা শুনিনি। আসলে এটা এক মনগড়া কথা।
ءَاُنۡزِلَ عَلَیۡہِ الذِّکۡرُ مِنۡۢ بَیۡنِنَا ؕ بَلۡ ہُمۡ فِیۡ شَکٍّ مِّنۡ ذِکۡرِیۡ ۚ بَلۡ لَّمَّا یَذُوۡقُوۡا عَذَابِ ؕ
এই উপদেশ-বাণী আমাদের পরিবর্তে তার উপর নাযিল করা হল? বস্তুত তারা আমার উপদেশ সম্পর্কে সন্দেহে পতিত; বরং তারা এখনও পর্যন্ত আমার শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করেনি।
اَمۡ عِنۡدَہُمۡ خَزَآئِنُ رَحۡمَۃِ رَبِّکَ الۡعَزِیۡزِ الۡوَہَّابِ ۚ
তবে কি তাদের কাছে তোমার সেই রব্বের রহমতের ভাণ্ডারসমূহ রয়েছে যিনি ক্ষমতাময়, মহাদাতা?
اَمۡ لَہُمۡ مُّلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ۟ فَلۡیَرۡتَقُوۡا فِی الۡاَسۡبَابِ
নাকি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী সবকিছুর রাজত্ব তাদের হাতে? তা থাকলে তারা যেন রশি টানিয়ে উপরে আরোহণ করে।
جُنۡدٌ مَّا ہُنَالِکَ مَہۡزُوۡمٌ مِّنَ الۡاَحۡزَابِ
(তাদের অবস্থা তো এই যে,) তারা যেন বিরোধী দলসমূহের একটি বাহিনী, যারা ওখানেই পরাস্ত হবে।
کَذَّبَتۡ قَبۡلَہُمۡ قَوۡمُ نُوۡحٍ وَّعَادٌ وَّفِرۡعَوۡنُ ذُو الۡاَوۡتَادِ ۙ
তাদের আগে নূহের সম্প্রদায়, আদ জাতি এবং কীলকবিশিষ্ট ফির‘আউনও নবীগণকে মিথ্যাবাদী বলেছিল।
وَثَمُوۡدُ وَقَوۡمُ لُوۡطٍ وَّاَصۡحٰبُ لۡـَٔیۡکَۃِ ؕ اُولٰٓئِکَ الۡاَحۡزَابُ
এবং ছামূদ জাতি, লূতের সম্প্রদায় এবং আয়কাবাসীগণও। তারা ছিল বিরোধী দলসমূহের লোক।
اِنۡ کُلٌّ اِلَّا کَذَّبَ الرُّسُلَ فَحَقَّ عِقَابِ ٪
তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল না, যে রাসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলেনি। ফলে তাদের উপর আমার শাস্তি অবতীর্ণ হয়েছে যথাযথভাবে।
وَمَا یَنۡظُرُ ہٰۤؤُلَآءِ اِلَّا صَیۡحَۃً وَّاحِدَۃً مَّا لَہَا مِنۡ فَوَاقٍ
এবং তারাও (অর্থাৎ মক্কাবাসীগণ) এমন এক মহা নাদ-এর অপেক্ষা করছে, যাতে কোন বিরতি থাকবে না।
وَقَالُوۡا رَبَّنَا عَجِّلۡ لَّنَا قِطَّنَا قَبۡلَ یَوۡمِ الۡحِسَابِ
এবং তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! বিচার দিবসের আগেই আমাদের প্রাপ্য আমাদেরকে নগদ দিয়ে দিন।
اِصۡبِرۡ عَلٰی مَا یَقُوۡلُوۡنَ وَاذۡکُرۡ عَبۡدَنَا دَاوٗدَ ذَا الۡاَیۡدِ ۚ اِنَّہٗۤ اَوَّابٌ
(হে রাসূল!) তারা যা-কিছু বলে তাতে সবর কর এবং স্মরণ কর আমার বান্দা দাঊদ (আলাইহিস সালাম)কে, যে ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। নিশ্চয়ই সে ছিল অত্যন্ত আল্লাহ-অভিমুখী।
اِنَّا سَخَّرۡنَا الۡجِبَالَ مَعَہٗ یُسَبِّحۡنَ بِالۡعَشِیِّ وَالۡاِشۡرَاقِ ۙ
আমি পর্বতমালাকে নিয়োজিত করেছিলাম, যাতে তারা তার সঙ্গে সন্ধ্যাবেলা ও সূর্যোদয়কালে তাসবীহ পাঠ করে।
وَالطَّیۡرَ مَحۡشُوۡرَۃً ؕ کُلٌّ لَّہٗۤ اَوَّابٌ
এবং পাখিদেরকেও, যাদেরকে একত্র করে নেওয়া হত। তারা তার সঙ্গে মিলে আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত থাকত।
وَشَدَدۡنَا مُلۡکَہٗ وَاٰتَیۡنٰہُ الۡحِکۡمَۃَ وَفَصۡلَ الۡخِطَابِ
আমি তার রাজত্বকে করেছিলাম সুদৃঢ় এবং তাকে দান করেছিলাম জ্ঞানবত্তা ও মীমাংসাকর বাগ্মিতা।
وَہَلۡ اَتٰىکَ نَبَؤُا الۡخَصۡمِ ۘ اِذۡ تَسَوَّرُوا الۡمِحۡرَابَ ۙ
তোমার কাছে কি সেই মোকদ্দমাকারীদের সংবাদ পৌঁছেছে, যখন তারা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে ইবাদতখানায় প্রবেশ করেছিল?
اِذۡ دَخَلُوۡا عَلٰی دَاوٗدَ فَفَزِعَ مِنۡہُمۡ قَالُوۡا لَا تَخَفۡ ۚ خَصۡمٰنِ بَغٰی بَعۡضُنَا عَلٰی بَعۡضٍ فَاحۡکُمۡ بَیۡنَنَا بِالۡحَقِّ وَلَا تُشۡطِطۡ وَاہۡدِنَاۤ اِلٰی سَوَآءِ الصِّرَاطِ
যখন তারা দাঊদের কাছে পৌঁছল, সে তাদের দেখে ঘাবড়ে গেল। তারা বলল, ভয় পাবেন না। আমরা বিবাদমান দু’টি পক্ষ। আমাদের একে অন্যের প্রতি জুলুম করেছে। সুতরাং আপনি আমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করে দিন এবং অবিচার করবেন না এবং আমাদেরকে সঠিক পথ-নির্দেশ করুন।
اِنَّ ہٰذَاۤ اَخِیۡ ۟ لَہٗ تِسۡعٌ وَّتِسۡعُوۡنَ نَعۡجَۃً وَّلِیَ نَعۡجَۃٌ وَّاحِدَۃٌ ۟ فَقَالَ اَکۡفِلۡنِیۡہَا وَعَزَّنِیۡ فِی الۡخِطَابِ
এ আমার ভাই। তার নিরানব্বইটি দুম্বা আছে। আর আমার আছে একটি মাত্র দুম্বা। সে বলছে, এটিও আমার যিম্মায় দিয়ে দাও এবং সে কথার জোরে আমাকে দুর্বল করে দিয়েছে।
قَالَ لَقَدۡ ظَلَمَکَ بِسُؤَالِ نَعۡجَتِکَ اِلٰی نِعَاجِہٖ ؕ وَاِنَّ کَثِیۡرًا مِّنَ الۡخُلَطَآءِ لَیَبۡغِیۡ بَعۡضُہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ اِلَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَقَلِیۡلٌ مَّا ہُمۡ ؕ وَظَنَّ دَاوٗدُ اَنَّمَا فَتَنّٰہُ فَاسۡتَغۡفَرَ رَبَّہٗ وَخَرَّ رَاکِعًا وَّاَنَابَ ٛ
দাঊদ বলল, সে তার দুম্বাদের সাথে মেলানোর জন্য তোমার দুম্বাটিকে দাবি করে নিশ্চয়ই তোমার উপর জুলুম করেছে। যাদের মধ্যে অংশীদারিত্ব থাকে, তাদের অনেকেই একে অন্যের প্রতি জুলুম করে থাকে। ব্যতিক্রম কেবল তারা, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে। কিন্তু তারা বড় কম। তখন দাঊদ উপলব্ধি করল যে, মূলত আমি তাকে পরীক্ষা করেছি। কাজেই সে তার প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়ল আর আল্লাহর অভিমুখী হল।
فَغَفَرۡنَا لَہٗ ذٰلِکَ ؕ وَاِنَّ لَہٗ عِنۡدَنَا لَزُلۡفٰی وَحُسۡنَ مَاٰبٍ
অনন্তর আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। প্রকৃতপক্ষে আমার কাছে রয়েছে তার বিশেষ নৈকট্য ও উত্তম ঠিকানা।
یٰدَاوٗدُ اِنَّا جَعَلۡنٰکَ خَلِیۡفَۃً فِی الۡاَرۡضِ فَاحۡکُمۡ بَیۡنَ النَّاسِ بِالۡحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الۡہَوٰی فَیُضِلَّکَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَضِلُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ لَہُمۡ عَذَابٌ شَدِیۡدٌۢ بِمَا نَسُوۡا یَوۡمَ الۡحِسَابِ ٪
হে দাঊদ! আমি পৃথিবীতে তোমাকে খলীফা বানিয়েছি। সুতরাং তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করো এবং খেয়াল-খুশীর অনুগামী হয়ো না। অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয় তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি, যেহেতু তারা হিসাব দিবসকে বিস্মৃত হয়েছিল।
وَمَا خَلَقۡنَا السَّمَآءَ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَا بَاطِلًا ؕ ذٰلِکَ ظَنُّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ۚ فَوَیۡلٌ لِّلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنَ النَّارِ ؕ
আমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এর মাঝখানে যা-কিছু আছে, তা নিরর্থক সৃষ্টি করিনি। এটা যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের ধারণা মাত্র। সুতরাং কাফেরদের জন্য রয়েছে ধ্বংস জাহান্নামরূপে।
اَمۡ نَجۡعَلُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ کَالۡمُفۡسِدِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ۫ اَمۡ نَجۡعَلُ الۡمُتَّقِیۡنَ کَالۡفُجَّارِ
যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আমি কি তাদেরকে সেই সব লোকের সমান গণ্য করব, যারা পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করে? না কি আমি মুত্তাকীদেরকে পাপাচারীদের সমান গণ্য করব?
کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰہُ اِلَیۡکَ مُبٰرَکٌ لِّیَدَّبَّرُوۡۤا اٰیٰتِہٖ وَلِیَتَذَکَّرَ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ
(হে রাসূল!) এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতের মধ্যে চিন্তা করে এবং যাতে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ উপদেশ গ্রহণ করে।
وَوَہَبۡنَا لِدَاوٗدَ سُلَیۡمٰنَ ؕ نِعۡمَ الۡعَبۡدُ ؕ اِنَّہٗۤ اَوَّابٌ ؕ
আমি দাঊদকে দান করলাম সুলাইমান (-এর মত পুত্র)। সে ছিল উত্তম বান্দা। নিশ্চয়ই সে ছিল অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী।
اِذۡ عُرِضَ عَلَیۡہِ بِالۡعَشِیِّ الصّٰفِنٰتُ الۡجِیَادُ ۙ
(সেই সময়টি স্মরণীয়) যখন সন্ধ্যাবেলা তার সামনে উৎকৃষ্ট প্রজাতির ভালো-ভালো ঘোড়া পেশ করা হল।
فَقَالَ اِنِّیۡۤ اَحۡبَبۡتُ حُبَّ الۡخَیۡرِ عَنۡ ذِکۡرِ رَبِّیۡ ۚ حَتّٰی تَوَارَتۡ بِالۡحِجَابِ ٝ
তখন সে বলল, আমি আমার প্রতিপালকের স্মরণার্থেই এই সম্পদকে ভালোবেসেছি। অবশেষে তা পর্দার আড়াল হয়ে গেল।
رُدُّوۡہَا عَلَیَّ ؕ فَطَفِقَ مَسۡحًۢا بِالسُّوۡقِ وَالۡاَعۡنَاقِ
(অনন্তর সে বলল,) ওগুলোকে আমার কাছে ফিরিয়ে আন। অতঃপর সে (তাদের) পায়ের গোছা ও ঘাড়ে হাত বুলাতে লাগল।
وَلَقَدۡ فَتَنَّا سُلَیۡمٰنَ وَاَلۡقَیۡنَا عَلٰی کُرۡسِیِّہٖ جَسَدًا ثُمَّ اَنَابَ
অবশ্যই আমি সুলাইমানকে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তার সিংহাসনে একটি ধড় এনে ফেলে দিয়েছিলাম। অনন্তর সে (আল্লাহর) অভিমুখী হল।
قَالَ رَبِّ اغۡفِرۡ لِیۡ وَہَبۡ لِیۡ مُلۡکًا لَّا یَنۡۢبَغِیۡ لِاَحَدٍ مِّنۡۢ بَعۡدِیۡ ۚ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡوَہَّابُ
সে বলতে লাগল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাকে এমন রাজত্ব দান কর, যা আমার পর অন্য কারও জন্য বাঞ্ছনীয় হবে না। নিশ্চয়ই তুমি মহাদাতা।
فَسَخَّرۡنَا لَہُ الرِّیۡحَ تَجۡرِیۡ بِاَمۡرِہٖ رُخَآءً حَیۡثُ اَصَابَ ۙ
সুতরাং আমি বাতাসকে তার অধীন করে দিলাম, যা তার আদেশে সে যেথায় চাইত মন্থর গতিতে বয়ে যেত।
وَالشَّیٰطِیۡنَ کُلَّ بَنَّآءٍ وَّغَوَّاصٍ ۙ
এবং দুষ্ট জিনদেরকেও তাঁর আজ্ঞাধীন করে দিয়েছিলাম, যার মধ্যে ছিল সব রকমের নির্মাতা ও ডুবুরি।
وَّاٰخَرِیۡنَ مُقَرَّنِیۡنَ فِی الۡاَصۡفَادِ
এবং এমন কিছু জিন্নকেও, যারা শিকলে বাঁধা ছিল।
ہٰذَا عَطَآؤُنَا فَامۡنُنۡ اَوۡ اَمۡسِکۡ بِغَیۡرِ حِسَابٍ
(তাকে বলেছিলাম) এসব আমার দান। চাইলে তুমি অনুগ্রহ করে কাউকে (এর থেকে) কিছু দান করতে পার অথবা নিজের কাছে রেখেও দিতে পার, কোন হিসাবের দায় ছাড়া।
وَاِنَّ لَہٗ عِنۡدَنَا لَزُلۡفٰی وَحُسۡنَ مَاٰبٍ ٪
বস্তুত আমার কাছে তার রয়েছে বিশেষ নৈকট্য ও উত্তম ঠিকানা।
وَاذۡکُرۡ عَبۡدَنَاۤ اَیُّوۡبَ ۘ اِذۡ نَادٰی رَبَّہٗۤ اَنِّیۡ مَسَّنِیَ الشَّیۡطٰنُ بِنُصۡبٍ وَّعَذَابٍ ؕ
আমার বান্দা আয়্যূবকে স্মরণ কর, যখন সে নিজ প্রতিপালককে ডেকে বলেছিল, শয়তান আমাকে দুঃখ ও কষ্টে জড়িয়েছে।
اُرۡکُضۡ بِرِجۡلِکَ ۚ ہٰذَا مُغۡتَسَلٌۢ بَارِدٌ وَّشَرَابٌ
(আমি তাকে বললাম) তুমি তোমার পা দ্বারা মাটিতে আঘাত কর। নাও, এই তো গোসলের ঠাণ্ডা পানি, এবং পানীয়।
وَوَہَبۡنَا لَہٗۤ اَہۡلَہٗ وَمِثۡلَہُمۡ مَّعَہُمۡ رَحۡمَۃً مِّنَّا وَذِکۡرٰی لِاُولِی الۡاَلۡبَابِ
এবং (এভাবে) আমি তাকে দান করলাম তার পরিবারবর্গ এবং তাদের সাথে অনুরূপ আরও তার প্রতি আমার রহমত এবং বোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য উপদেশস্বরূপ।
وَخُذۡ بِیَدِکَ ضِغۡثًا فَاضۡرِبۡ بِّہٖ وَلَا تَحۡنَثۡ ؕ اِنَّا وَجَدۡنٰہُ صَابِرًا ؕ نِعۡمَ الۡعَبۡدُ ؕ اِنَّہٗۤ اَوَّابٌ
(আমি তাকে আরও বললাম) তোমার হাতে এক মুঠো তৃণ নাও এবং তা দ্বারা আঘাত কর আর শপথ ভঙ্গ করো না। বস্তুত আমি তাকে পেয়েছি একজন সবরকারী। সে ছিল অতি উত্তম বান্দা। প্রকৃতপক্ষে সে ছিল অত্যন্ত আল্লাহ-অভিমুখী।
وَاذۡکُرۡ عِبٰدَنَاۤ اِبۡرٰہِیۡمَ وَاِسۡحٰقَ وَیَعۡقُوۡبَ اُولِی الۡاَیۡدِیۡ وَالۡاَبۡصَارِ
আমার বান্দা ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবের কথা স্মরণ কর, যারা (সৎকর্মশীল) হাত ও (দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন) চোখের অধিকারী ছিল।
اِنَّاۤ اَخۡلَصۡنٰہُمۡ بِخَالِصَۃٍ ذِکۡرَی الدَّارِ ۚ
আমি একটি বিশেষ গুণের জন্য তাদেরকে বেছে নিয়েছিলাম। তা ছিল (আখেরাতের) প্রকৃত নিবাসের স্মরণ।
وَاِنَّہُمۡ عِنۡدَنَا لَمِنَ الۡمُصۡطَفَیۡنَ الۡاَخۡیَارِ ؕ
প্রকৃতপক্ষে তারা ছিল আমার কাছে মনোনীত, উত্তম লোকদের অন্তর্ভুক্ত।
وَاذۡکُرۡ اِسۡمٰعِیۡلَ وَالۡیَسَعَ وَذَا الۡکِفۡلِ ؕ وَکُلٌّ مِّنَ الۡاَخۡیَارِ ؕ
এবং স্মরণ কর ইসমাঈল, আল- ইয়াসা ও যুল-কিফলকে। তারা সকলে ছিল উত্তম ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত।
ہٰذَا ذِکۡرٌ ؕ وَاِنَّ لِلۡمُتَّقِیۡنَ لَحُسۡنَ مَاٰبٍ ۙ
এসব হল উপদেশ-বাণী। নিশ্চয়ই যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের জন্য রয়েছে উৎকৃষ্ট ঠিকানা
جَنّٰتِ عَدۡنٍ مُّفَتَّحَۃً لَّہُمُ الۡاَبۡوَابُ ۚ
অর্থাৎ স্থায়ী বসবাসের জান্নাত, যার দরজাসমূহ তাদের জন্য সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত থাকবে।
مُتَّکِـِٕیۡنَ فِیۡہَا یَدۡعُوۡنَ فِیۡہَا بِفَاکِہَۃٍ کَثِیۡرَۃٍ وَّشَرَابٍ
সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসে বহু ফলমূল ও পানীয়ের ফরমায়েশ করবে।
وَعِنۡدَہُمۡ قٰصِرٰتُ الطَّرۡفِ اَتۡرَابٌ
আর তাদের কাছে থাকবে এমন সমবয়স্কা নারী, যাদের দৃষ্টি (আপন-আপন স্বামীতে) নিবদ্ধ থাকবে।
ہٰذَا مَا تُوۡعَدُوۡنَ لِیَوۡمِ الۡحِسَابِ ؓ
এটাই তাই (অর্থাৎ নি‘আমতপূর্ণ জীবন), হিসাব দিবসের জন্য তোমাদেরকে যার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
اِنَّ ہٰذَا لَرِزۡقُنَا مَا لَہٗ مِنۡ نَّفَادٍ ۚۖ
নিশ্চয়ই এটা আমার এমন দান, যা কখনও নিঃশেষ হবে না।
ہٰذَا ؕ وَاِنَّ لِلطّٰغِیۡنَ لَشَرَّ مَاٰبٍ ۙ
একদিকে তো এই। (অন্যদিকে) যারা অবাধ্য নিশ্চয়ই তাদের জন্য আছে নিকৃষ্ট ঠিকানা।
جَہَنَّمَ ۚ یَصۡلَوۡنَہَا ۚ فَبِئۡسَ الۡمِہَادُ
অর্থাৎ জাহান্নাম, যাতে তারা প্রবেশ করবে। অতঃপর তা হবে তাদের নিকৃষ্ট বিছানা।
ہٰذَا ۙ فَلۡیَذُوۡقُوۡہُ حَمِیۡمٌ وَّغَسَّاقٌ ۙ
এই হচ্ছে গরম পানি ও পুঁজ! সুতরাং তারা এর স্বাদ গ্রহণ করুক।
وَّاٰخَرُ مِنۡ شَکۡلِہٖۤ اَزۡوَاجٌ ؕ
আরও আছে অনুরূপ বিভিন্ন রকমের শাস্তির ব্যবস্থা।
ہٰذَا فَوۡجٌ مُّقۡتَحِمٌ مَّعَکُمۡ ۚ لَا مَرۡحَبًۢا بِہِمۡ ؕ اِنَّہُمۡ صَالُوا النَّارِ
(যখন তারা তাদের অনুগামীদেরকে আসতে দেখবে, তখন তারা একে অপরকে বলবে,) এই আরেকটি দল, যারা তোমাদের সঙ্গে প্রবেশ করেছে। তাদের জন্য অভিনন্দন নেই। এরা সকলেই আগুনে জ্বলবে।
قَالُوۡا بَلۡ اَنۡتُمۡ ۟ لَا مَرۡحَبًۢا بِکُمۡ ؕ اَنۡتُمۡ قَدَّمۡتُمُوۡہُ لَنَا ۚ فَبِئۡسَ الۡقَرَارُ
তারা (আগমনকারীরা) বলবে, না, বরং অভিনন্দন নেই তোমাদের জন্য। তোমরাই তো আমাদের সম্মুখে এ মুসিবত নিয়ে এসেছ। কত নিকৃষ্ট থাকার জায়গা এটি।
قَالُوۡا رَبَّنَا مَنۡ قَدَّمَ لَنَا ہٰذَا فَزِدۡہُ عَذَابًا ضِعۡفًا فِی النَّارِ
(তারপর তারা আল্লাহ তাআলাকে বলবে,) হে আমাদের প্রতিপালক! যে ব্যক্তিই আমাদের সামনে এ মুসিবত এনেছে তাকে জাহান্নামে দ্বিগুণ শাস্তি দিন।
وَقَالُوۡا مَا لَنَا لَا نَرٰی رِجَالًا کُنَّا نَعُدُّہُمۡ مِّنَ الۡاَشۡرَارِ ؕ
এবং তারা (একে অপরকে) বলবে, কী ব্যাপার! আমরা যাদেরকে মন্দ লোকদের মধ্যে গণ্য করতাম, সেই লোকগুলোকে যে (জাহান্নামে) দেখতে পাচ্ছি না?
اَتَّخَذۡنٰہُمۡ سِخۡرِیًّا اَمۡ زَاغَتۡ عَنۡہُمُ الۡاَبۡصَارُ
আমরা কি তবে তাদেরকে (অন্যায়ভাবে) ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র বানিয়েছিলাম, নাকি তাদেরকে দেখার ব্যাপারে আমাদের চোখের বিচ্যুতি ঘটেছে?
اِنَّ ذٰلِکَ لَحَقٌّ تَخَاصُمُ اَہۡلِ النَّارِ ٪
জাহান্নামবাসীদের এই বাক-বিতণ্ডা। এটা নির্ঘাত সত্য।
قُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا مُنۡذِرٌ ٭ۖ وَّمَا مِنۡ اِلٰہٍ اِلَّا اللّٰہُ الۡوَاحِدُ الۡقَہَّارُ ۚ
(হে রাসূল!) বলে দাও, আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র। আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়, যিনি এক, সকলের উপর প্রবল।
رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا الۡعَزِیۡزُ الۡغَفَّارُ
যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর মালিক, যার ক্ষমতা সবকিছু জুড়ে ব্যাপ্ত, যিনি অতি ক্ষমাশীল।
قُلۡ ہُوَ نَبَؤٌا عَظِیۡمٌ ۙ
বলে দাও, এটা এক মহা (সত্যের) সংবাদ।
اَنۡتُمۡ عَنۡہُ مُعۡرِضُوۡنَ
যা থেকে তোমরা মুখ ফিরিয়ে রেখেছ।
مَا کَانَ لِیَ مِنۡ عِلۡمٍۭ بِالۡمَلَاِ الۡاَعۡلٰۤی اِذۡ یَخۡتَصِمُوۡنَ
ঊর্ধ্বজগতে তারা (অর্থাৎ ফেরেশতাগণ) যখন সওয়াল-জওয়াব করছিল, সে সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান ছিল না,
اِنۡ یُّوۡحٰۤی اِلَیَّ اِلَّاۤ اَنَّمَاۤ اَنَا نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ
আমার কাছে ওহী আসে কেবল এজন্য যে, আমি একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
اِذۡ قَالَ رَبُّکَ لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اِنِّیۡ خَالِقٌۢ بَشَرًا مِّنۡ طِیۡنٍ
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন, আমি কাদা দ্বারা এক মানুষ সৃষ্টি করতে চাই।
فَاِذَا سَوَّیۡتُہٗ وَنَفَخۡتُ فِیۡہِ مِنۡ رُّوۡحِیۡ فَقَعُوۡا لَہٗ سٰجِدِیۡنَ
আমি যখন তাকে সম্পূর্ণরূপে তৈরি করে ফেলব এবং তার ভেতর আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার সামনে সিজদায় পড়ে যেও।
فَسَجَدَ الۡمَلٰٓئِکَۃُ کُلُّہُمۡ اَجۡمَعُوۡنَ ۙ
অতঃপর সমস্ত ফেরেশতাই তো সিজদা করল
اِلَّاۤ اِبۡلِیۡسَ ؕ اِسۡتَکۡبَرَ وَکَانَ مِنَ الۡکٰفِرِیۡنَ
কিন্তু ইবলীস করল না। সে অহংকার করল এবং কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
قَالَ یٰۤاِبۡلِیۡسُ مَا مَنَعَکَ اَنۡ تَسۡجُدَ لِمَا خَلَقۡتُ بِیَدَیَّ ؕ اَسۡتَکۡبَرۡتَ اَمۡ کُنۡتَ مِنَ الۡعَالِیۡنَ
আল্লাহ বললেন, হে ইবলিস! আমি যাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি, তাকে সিজদা করতে কোন জিনিস তোমাকে বাধা দিল? তুমি কি অহংকার করলে, নাকি তুমি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন কিছু?
قَالَ اَنَا خَیۡرٌ مِّنۡہُ ؕ خَلَقۡتَنِیۡ مِنۡ نَّارٍ وَّخَلَقۡتَہٗ مِنۡ طِیۡنٍ
সে বলল, আমি তার (অর্থাৎ আদম) চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদা দ্বারা।
قَالَ فَاخۡرُجۡ مِنۡہَا فَاِنَّکَ رَجِیۡمٌ ۚۖ
আল্লাহ বললেন, তুই এখান থেকে বের হয়ে যা। কেননা তুই বিতাড়িত।
وَّاِنَّ عَلَیۡکَ لَعۡنَتِیۡۤ اِلٰی یَوۡمِ الدِّیۡنِ
নিশ্চিতভাবে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তোর প্রতি থাকল আমার লানত।
قَالَ رَبِّ فَاَنۡظِرۡنِیۡۤ اِلٰی یَوۡمِ یُبۡعَثُوۡنَ
সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! তাহলে আপনি আমাকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন, যে দিন মানুষকে পুনর্জীবিত করা হবে।
قَالَ فَاِنَّکَ مِنَ الۡمُنۡظَرِیۡنَ ۙ
আল্লাহ বললেন, তথাস্তু, তোকে অবকাশ প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হল।
اِلٰی یَوۡمِ الۡوَقۡتِ الۡمَعۡلُوۡمِ
(কিন্তু) নির্দিষ্ট একটা সময় পর্যন্ত।
قَالَ فَبِعِزَّتِکَ لَاُغۡوِیَنَّہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ
সে বলল, তবে আপনার ক্ষমতার শপথ! আমি তাদের সকলকে বিপথগামী করে ছাড়ব।
اِلَّا عِبَادَکَ مِنۡہُمُ الۡمُخۡلَصِیۡنَ
তবে তাদের মধ্যকার আপনার মনোনীত বান্দাদের ছাড়া।
قَالَ فَالۡحَقُّ ۫ وَالۡحَقَّ اَقُوۡلُ ۚ
আল্লাহ বললেন, তবে সত্য কথা হল আর আমি তো সত্যই বলে থাকি
لَاَمۡلَـَٔنَّ جَہَنَّمَ مِنۡکَ وَمِمَّنۡ تَبِعَکَ مِنۡہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ
আমি তোকে দ্বারা আর তাদের মধ্যে যারা তোর অনুগামী হবে তাদের সকলের দ্বারা জাহান্নাম ভরে ফেলব।
قُلۡ مَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ وَّمَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُتَکَلِّفِیۡنَ
(হে রাসূল! মানুষকে) বল, আমি এর (ইসলামের দাওয়াতের) কারণে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না এবং আমি ভনিতাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।
اِنۡ ہُوَ اِلَّا ذِکۡرٌ لِّلۡعٰلَمِیۡنَ
এটা তো জগদ্বাসীদের জন্য এক উপদেশ মাত্র।
وَلَتَعۡلَمُنَّ نَبَاَہٗ بَعۡدَ حِیۡنٍ ٪
এবং কিছুকাল পরেই তোমরা এর সংবাদ জানতে পারবে।